সিম কার্ডের মতো হ্যান্ডসেটও নিবন্ধন করতে হবে

0
337

মোবাইলের সিম কার্ডের মত হ্যান্ডসেটও নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)।

মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধ কমাতে এবং হ্যান্ডসেট চুরি, অবৈধ আমদানি ও নকল হ্যান্ডসেট বিক্রিও বন্ধে এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার

বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বিবিসিকে জানান, এতে অবৈধভাবে আমদানি, চুরি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ করা যাবে। গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। মোবাইল ফোনের হিসাব রাখা যাবে। সবশেষে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে যে হ্যান্ডসেটগুলো বৈধভাবে আমদানি হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে যে মোবাইলগুলো অ্যাসেমব্লিং করা হচ্ছে বা উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোর ১৫ ডিজিটের স্বতন্ত্র আইএমইআই নম্বর নিয়ে একটি বৈধ ফোনের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এতে মানুষ যখন মোবাইল ফোন কিনতে যাবেন তখন তারা সেই সেটটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন যে তাদের সেটটি বৈধ নাকি অবৈধ।

এছাড়া বিটিআরসি তাদের ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (ইআইআর) খসড়া নির্দেশনা- ইআইআর তৈরি করবে। যার আওতায় দেশের প্রতিটি সক্রিয় সেটকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

এরই মধ্যে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির ইআইআর যাচাই করে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ২৪ পাতার একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিটিআরসি। প্রতিবেদনটি যাচাইয়ের জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সেখানে যদি কোন সংশোধনের প্রয়োজন তাহলে সেটা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদনটি বিটিআরসির কমিশনে পাঠানো হবে। খসড়া নির্দেশনাটিকে চূড়ান্ত হলে প্রত্যেক অপারেটরকে তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রতিটি সক্রিয় হ্যান্ড-সেটের ডাটাবেজ তৈরির সময় বেঁধে দেয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ে গ্রাহকদের হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য কোথাও যেতে হবেনা। নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি সেটে সক্রিয় করলেই সেটটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে।

ওই সেটে যদি দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করতে হয় তাহলে সেটাও অবশ্যই একই নামে নিবন্ধিত সিম হতে হবে। এছাড়া কারও যদি একাধিক সেট থাকে তাহলে তিনি দ্বিতীয় সেটটিতে যে নামের সিমটি সক্রিয় করবেন, সেই নামেই সেটটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে। তখন ওই সেটে অন্য নামের কোন সিম চলবেনা। অর্থাৎ একটি সেট একজনের নামেই নিবন্ধিত হবে। এভাবে একেকটি অপারেটরের আলাদা ডাটাবেজ সম্পন্ন হবে।

সুত্রঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ: মজুরি কাঠামো সংশোধনের পরেও কেন সন্তুষ্ট নয় শ্রমিকরা?

পোশাক শ্রমিকদের প্রায় সব গ্রেডের মজুরী সংশোধনের ঘোষণা দেয়ার পরও তা মানছেন না পোশাক শ্রমিকেরা। সোমবার আবারো বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।

আশুলিয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ ছেড়ে বের হয়ে গেছেন। সকাল আটটা থেকে ঢাকা টাঙ্গাইল-মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। খবর বিবিসির।

কিছু কারখানার মালিক ভাংচুরের আশংকায় নিজেরাই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। আশুলিয়ায় কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলে যা বোঝা গেলো সংশোধিত মজুরীতে কয়েকশ টাকা বাড়লেও সেটি দেয়া হচ্ছে মূলত খাবার ও যাতায়াত ভাতা হিসেবে দেয়া হচ্ছে আলাদা করে। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি সেটি মুল বেতনের সাথে একসাথে দেয়া হোক।

কেন সন্তুষ্ট নয় শ্রমিকরা?
আশুলিয়ায় ডেবোনেয়ার গ্রুপের শ্রমিকদের একজন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলছিলেন, ‘যে টাকা সরকার বাড়িয়েছে সেটি আমাদের বেসিক বেতনের সাথে অ্যডজাস্ট কইরা দেক। তা না করে তারা এটা আলাদা করে খাবার ও যাতায়াতের সাথে দিচ্ছে। বেসিকের পরিমাণ বাড়লে আমার ওভারটাইমের হার বাড়বে।’

তিনি আরও বলছেন, ‘মনে করেন আমাদের ওভারটাইমের হার আছে ৪০ টাকা বা ৩০ টাকা। বেসিকের সাথে দিলে ওভারটাইমের হার আসে ৫০ টাকা।’

শ্রমিকেরা নতুন ঘোষিত সমন্বিত কাঠামোতে খুশি নন বলে জানান। তারা বলছেন, ২০ থেকে দুই বা আড়াই শত টাকায় তাদের জীবনের এমন কোন পরিবর্তন তারা আনতে পারবেন না।

এই খাতে শ্রমিকের বেশিরভাগই ওভারটাইমের বাড়তি আয়ের উপর নির্ভরশীল। যেসব শ্রমিকের সাথে কথা হচ্ছিলো তারা কেউই নাম পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

তাদের একজন বলছেন, ‘যা বাড়াইছে এতেও আমাদের কিছু হবে না। কারণ গার্মেন্টসে যখনই বেতন বাড়ানোর কথা সরকার বললো, বলার পরই আমাদের বাসা ভাড়া বাড়াইছে এক টানে ৩০০ টাকা। কাচা তরকারি সহ সব যাবতীয় জিনিসের দাম বাড়াইয়া দিছে। রাত্র ১০ টা পর্যন্ত ওভারটাইম করেও আমি সব মিলাইয়া মাত্র পাই ১০ হাজার।’

‘এখন ছেলের পড়াশুনার খরচ দেবো? নাকি ২৮শ টাকা বাসা ভাড়া দেবো? তাহলে আমরা খাবো কি? দেশে পাঠাবো কি?’

আক্ষেপের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল প্রতি বছর সকল প্রাতিষ্ঠানিক পেশার মতই পোশাক খাতে পাঁচ শতাংশ হারে মুল বেতন বা বেসিক বেতন বাড়ার কথা। যা সাধারণত ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বাড়ানো হয়।

সেটি এবার দেয়া হচ্ছে না। সেই অংকটি যোগ হলে সরকার ঘোষিত কাঠামোর সাথে আরও কিছু টাকা যোগ হতো বলে জানালেন শ্রমিক নেতারা।

অন্যদিকে বেসিক বা মুল বেতন বাড়লে ঈদ বোনাস, ছুটি-কালীন টাকা, সার্ভিস বেনিফিটও তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এমনিতেই বাড়ত।

সার্ভিস বেনিফিট হল পাঁচ বছর চাকরী করলে চাকরী ছাড়ার সময় প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি মাসের অর্ধেক বেতন দেয়ার নিয়ম।

এছাড়া নারীদের মাতৃকালীন চার মাসের বেসিক দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সেটিও তারা কম পাবে। পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই সিংহভাগ।

পোশাক মালিকেরা খুব সূক্ষ্মভাবে এভাবে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। এসব বিষয়ে শ্রমিক নেতারাও আজ সরাসরি কথা বলতে সাহস করছেন না।

কী পরিবর্তন হয়েছে বেতন গ্রেডে?

গত বছর সেপ্টেম্বরে পোশাক খাতে শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল ৫১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি। কিন্তু দেখা গেছে যে মূলত প্রথম ধাপের শ্রমিক সপ্তম গ্রেডে যারা আছেন তাদের বেতন বেড়েছে ৫৩০০ টাকা থেকে ৮০০০।

নতুন কাঠামোতে হেলপার গ্রেড ছাড়া অন্যদের বেতন খুব সামান্য বেড়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন শ্রমিকরা।

তৃতীয় গ্রেডের মুল বেতন বরং ৪১ টাকার মতো কমে গিয়েছিলো। সেটিকে ঘিরে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার নানা কারখানার শ্রমিকেরা দফায় দফায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।

এর প্রেক্ষিতে সব পক্ষের একটি পর্যালোচনা কমিটি তৈরি করে সরকার। যে কমিটি কয়েকটি জরুরী বৈঠকের পর মাত্র সোমবার সন্ধ্যায় নতুন একটি মজুরী তালিকা প্রকাশ করা হয়। যাতে সেখানে উপস্থিত সকল শ্রমিক নেতারা সাক্ষর করেছেন।

যে গ্রেডটির শ্রমিকদের বেতন নিয়ে সবচাইতে আপত্তি উঠেছিলো সেই তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ২০১৩ সালে ছিল ৬৮০৫ ছিল।

২০১৮ সালে ঘোষিত কাঠামোতে ঠিক হয়েছিলো ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা। এখন নতুন সমন্বিত কাঠামোতে তার সাথে আড়াইশ টাকার মতো যুক্ত হবে।

দ্বিতীয় গ্রেডে যারা আছেন তাদের ৭৮৬ টাকা সংশোধন হচ্ছে। সবচাইতে সিনিয়র যারা অর্থাৎ প্রথম গ্রেডে সাড়ে সাতশোর টাকার মতো যুক্ত হবে। সাত নম্বর গ্রেড ছাড়া বাকি সবার মোট বেতন কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।

সর্বনিম্ন গ্রেডে সবমিলিয়ে বেতন হল আট হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ গ্রেডে ১৮, ২৫৭ টাকা।

এখন সর্বশেষ সমন্বিত কাঠামোতেও তাদের খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে করছেন শ্রমিকরা।

সুত্রঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে নিহত ছাত্রদলনেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

নির্বাচনের দিন নিহত ছাত্রদলনেতা সায়েমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সিলেটে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

সফরকারী টিমে আছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।

সোমবার সকাল পৌনে ১২ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গিয়ে পৌঁছান তারা।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দুপুরে সিলেটের বালাগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েমের বাড়িতে যাবেন। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করবেন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিকেলে তাদের ঢাকায় ফিরার কথা রয়েছে।

এ সফরের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাদের পূর্বঘোষিত তিন দফা কর্মসূচি শুরু করলেন। ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাও পরিদর্শন করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতাদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান থাকার কারণে তিনি সিলেট যাননি। অন্যরা শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত ও সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েমের বাড়িতে যাবেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চলাকালে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে (সিলেট-৩) বালাগঞ্জ উপজেলার আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল নিহত হন।

সুত্রঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সিলেট পৌঁছেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

ভোটের দিন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম নিহত হওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে ও তার স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেটে পৌঁছেছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তারা। এ সময় বিমানবন্দরে দলীয় নেতারা স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সফরকারী টিমে রয়েছেন- গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা প্রথমে হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করবেন।

পরে দুপুরে ভোটের দিন নিহত বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন নেতারা। রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের মুখপাত্র ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাহের চৌধুরী শামীম।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৩০ জানুয়ারি ভোটের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ওই দিন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সুহেলকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে ও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নেতাদের এ সফর।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চলাকালে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে (সিলেট-৩) বালাগঞ্জ উপজেলার আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা নিহত হন।

সুত্রঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ তথ্য গোপনের মামলায় আব্বাস দম্পতির আট সপ্তাহের আগাম জামিন

নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার সকালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আগাম জামিন দেয়।

এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে আট সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।

রবিবার এ তিনটি মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মির্জা আব্বাস দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান বলেন, নয়াপল্টনের তিন মামলায় মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে আট সপ্তাহের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সকালে বিএনপির এ দুই নেতা হাইকোর্টে এসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কক্ষে অবস্থান করেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি গাড়ি। এ ঘটনায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বেশ কিছু বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে তিনটি মামলা করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় পাঁচজন কর্মকর্তা ও দুজন আনসারসহ আহত হয়েছেন ২৩ পুলিশ সদস্য। পল্টন থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলায় অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুত্রঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় আ’লীগ এমপির দুঃখ প্রকাশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবহন শ্রমিকদের কাছে চাঁদা চাওয়া ও দুই নেতাকে মারধরের ঘটনায় সরকারদলীয় এমপি দিদারুল আলম শ্রমিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে শ্রমিকরা।

গতকাল রোববার বেলা ২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের মধ্যস্থতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়। বৈঠকে পরিবহন নেতাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য দিদারুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ফেডারেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় গত বৃহস্পতিবারের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। সে কারণে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ, আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার পক্ষ থেকে আজ সোম ও মঙ্গলবার পরিবহন ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত বহস্পতিবার রাতে কাট্টলীতে দিদারুল আলম এমপির বাসায় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহামদ ও সীতাকুণ্ডের ৮ নম্বর রুটে চলাচলকারী হিউম্যান হ্যলার মালিক সমিতির নেতাদের ডাকা হয়। সেখানে দিদারুল আলম মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম ও শ্রমিক নেতা অলি আহামদকে ৮ নম্বর রুটের গাড়ি পরিচালনা এবং সমিতির নিয়ন্ত্রণ তার বরাবরে লিখিতভাবে ছেড়ে দিতে বলেন। না হলে প্রতি মাসে তাকে দুই লাখ টাকা করে দিতে হবে বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে পরিবহন নেতা মুছা বলেছিলেন, রাজি না হওয়ায় সংসদ সদস্য নিজেই খোরশেদ আলমকে বেধড়ক মারধর করেন এবং গালিগালাজ করেন। সে সময় থামাতে গিয়ে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক অলি আহামদও মারধরের শিকার হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে ওই সংসদ সদস্যের পদত্যাগও দাবি করেন।

সুত্রঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ স্থায়ী কমিটির ফাঁকা পদ বিএনপির নিষ্ক্রিয়তার কারণ

বিএনপির স্থবিরতার প্রধান কারণ স্থায়ী কমিটির ফাঁকা পদ।বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির মধ্যে দুটি পদ ঘোষণার সময়ই ফাঁকা ছিল।বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে ৫টি পদ ফাঁকা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয় এবং মামলা-হামলাসহ নানা কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত দল পুনর্গঠন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির ফাঁকা পদ পূরণের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।

হাত দিতে হবে তৃণমূলেও। সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার দাবি করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ঘোষণার সময়ই ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে ৫টি পদ ফাঁকা।

লে. জে. মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের শিলংয়ে আছেন।

দলটির ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির বেগম সরোয়ারি রহমান, হারুনার রশিদ খান মুন্নু, ফজলুর রহমান পটলসহ সাতজন মারা গেছেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, এএসএম আবদুল হালিম, এসএম জহুরুল ইসলাম, আবদুর রশিদ সরকার, ডা. আবদুল বায়েজ ভুইয়া, ডা. আবদুল কুদ্দুস, সৈয়দ আলমগীর, একেএম আমিনুল হকসহ অনেকেই নিষ্ক্রিয়।

বিএনপির ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। ইনাম আহমেদ চৌধুরী দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিচারপতি টিএইচ খান বয়সের ভারে ন্যুব্জ, সাদেক হোসেন খোকা দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দীর্ঘদিন দেশের বাইরে। আবদুস সালাম পিন্টু আছেন কারাগারে।

ড. ওসমান ফারুকও দেশের বাইরে। এ ছাড়া মোর্শেদ খান, হারুন আল রশিদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ আরও কয়েকজন অসুস্থতাসহ নানা কারণে নিষ্ক্রিয়।

নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি কমিটি ঘোষণার পরই ফাঁকা।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এ সহযোগী সংগঠনটির কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ। অভিভাবক না থাকায় নতুন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাই আন্দোলনের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল কাক্সিক্ষত সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ।

নির্বাহী কমিটির সাতটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের মধ্যে ২টি ফাঁকা। সহ-যুববিষয়ক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদটি এখনও ফাঁকা।

এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ মণ্ডল দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

সাত যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে তিনজনই কারাগারে আছেন। দশ সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে চারজন কারাগারে। সম্পাদকদের মধ্যে অনেকেই নিষ্ক্রিয়।

উপ-কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা নিয়ে কোনো টু শব্দ নেই দলটিতে। এ ব্যাপারে কয়েকজনকে চিঠি দেয়া হলেও পরে চেয়ারপারসনের কাছে নানা অভিযোগ আসতে থাকে।

নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যদের উপ-কমিটিতে রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ কমিটির ঘোষণা থমকে যায়।

কেন্দ্রীয় কমিটির এত পদ ফাঁকা থাকার পরও এগুলো দ্রুত পূরণে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই।

তবে দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারক জানান, শিগগির এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তা হাইকমান্ডকে অবহিত করবেন।

কারাগারে থাকা দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পেলেই শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নানা কারণেই কমিটির ফাঁকা পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

দল পুনর্গঠনের চেয়ে মামলা-হামলা নিয়েই আমাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদ পূরণসহ যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ আছে সেগুলো পুনর্গঠনে দ্রুতই উদ্যোগ নেয়া হবে।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল পুনর্গঠনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির নির্বাচনে ফল বিপর্যয় হয়েছে- এটার সঙ্গে আমি একমত নই।

নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

সেখানে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমাদের কি করার আছে? আমরা কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে এ দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না। সরকার পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন গণআন্দোলন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্বের জন্য দলকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন পুনর্গঠন।

কেন্দ্রীয় কমিটির মতোই বেহাল দশা ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু তা ঘোষণার আগেই কারাগারে যান তিনি। এরপর আর সে কাজে হাত দেয়া হয়নি। একই অবস্থা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের।

গত বছর ১৬ জানুয়ারি রাতে সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক মাসের সময় বেঁধে দেয়া হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি এবং আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ে তা ঘোষণা করা হবে।

একই পরিস্থিতি মহিলা দলের ক্ষেত্রেও। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হয়।

কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থমকে যায় ঘোষণা। এ ছাড়া কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ অন্য সংগঠনগুলোরও একই অবস্থা।

সুত্রঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ : ড. কামালের শর্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আবানো সংলাপে বসার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কী নিয়ে এই সংলাপ তা জানতে চেয়েছেন গণফোরামের নেতা ড. কামাল হোসেন।

বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ” প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেব এব্যাপারে।”

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংলাপের আমন্ত্রণ এলে তাতে সাড়া দেবেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নীতিগতভাবে আমি একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করবো। কিন্তু সেটা জানতে হবে কী প্রেক্ষাপটে এটার আয়োজন করা হচ্ছে, কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, গতকাল দলের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই সংলাপের কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল তাদের সঙ্গে আবারো সংলাপ হবে।

নির্বাচনের আগে ঐ সংলাপে অংশ নিয়েছিল বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ আরো বহু দল। ঐ সংলাপের সময়েই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করে।

বিবিসির বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সরকারের একজন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে। সেই লক্ষ্যেই তিনি কিন্তু ৭০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন নির্বাচনের আগে। তখন শুধু রাজনীতি নয়, দেশ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ভুলে যাননি, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার আগ্রহ যে তাঁর আছে, সেই বিষয়টাই এখানে পরিস্ফুটিত হয়েছে।”

কী কথা হতে পারে সংলাপে

যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যোগ দেন, সেখানে কী জানাবেন তাঁকে? এ প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল হোসেন বিবিসিকে বলেন, সেখানে অবশ্যই নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হবে।

তিনি বলেন, “সংলাপের প্রস্তাব আসলে প্রথমে আমরা জানতে চাইবো যে কী বিষয় নিয়ে হবে। তারপর আমাদের কমিটির বৈঠক হবে। ওখানে বসে আমরা আমরা আলোচনা করে সুচিন্তিত উত্তর দেব।”

ড. কামাল হোসেন বলেন, সংলাপে যোগ দেয়া বা না দেয়ার সিদ্ধান্তটি তারা প্রথম নিজ দল গণফোরাম থেকেই নেবেন। বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার একটা পার্থক্য রয়েছে। কাজেই যে কোন প্রস্তাবের ব্যাপারে এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের চেয়ে এখন তিনি গণফোরামকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কীনা, এ প্রশ্নের জবাবে ডঃ কামাল হোসেন বলেন, “এটা তো সবসময় দিতে হয়। নিজের পার্টিকে গুরুত্ব দিয়ে তার পর তো ঐক্য ফ্রন্ট।”

যদি বিএনপি এই সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন কী গণফোরাম সংলাপ যাবে? এর উত্তরে ডঃ কামাল হোসেন বলেন, এটা একদম স্পেকুলেট করা উচিৎ নয়। এটা যখন ঘটবে তখন আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”

সুত্রঃ ‌নয়া দিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here