কানের পর্দা ফাটিয়ে দফতরিকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা পুলিশের!

0
101

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দফতরি-কাম-নৈশপ্রহরীকে মারধোর করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সোমবার এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যা*নের শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি মো. উবায়দুল্লাহ।

এর আগে রোববার রাতে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে গিয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও মো. রেজাউল কবিরের কাছে অভিযোগ দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নির্যা*নের শিকার ওই দফতরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া অভিযোগ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানা এসআই জামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ পুলিশ সদস্য। তারা বিদ্যালয়ের দফতরির কক্ষে দরজায় টোকা দেয়।

পরে বশির নামে কেউ আছে কিনা জানতে চায়। কেউ নেই বলার পরও তারা ওবায়দুল্লাহর পকেটে হাত দেয়। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার বলে বাচ্চু নামে কেউ আছে কি না। এরপর উবায়দুল্লাকে স্কুলের সব শ্রেণির দরজা খুলতে বলেন এসআই জামিরুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় পুলিশ দল।

কক্ষগুলোতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে পুনরায় আবার উবায়দুল্লাহকে নিয়ে তার থাকার কক্ষটিতে আসে। এ সময় আবার তারা পকেট চেক করতে গিয়ে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবেলট কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়।

এরপর এসআই জামিরুল তাকে বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করছ, আর কোথায় কোথায় ইয়াবা আছে বল।’

এর আগে বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষে ঘুরে দেখার সময় একটি কক্ষে নামাজের জন্যে ম্যাডামদের রাখা হিজাব ও কাপড় দেখে এসআই তাকে বলেন, ‘তুই নারীর ব্যবসাও করছ।’ শিশু শ্রেণিকক্ষে শিশুদের বসার জন্যে রাখা চাটাই দেখে তিনি বলেন, ‘এখানে আড্ডা দেছ, নারীর ব্যবসা করছ।’

এসব বলেই তাকে দুই কানে এবং মাথায় এলোপাতারি বেধড়ক মারধর করতে থাকেন এসআই। এরপর হাতকড়া পড়িয়ে বাচ্চুকে বের করার জন্য বলেন। এই সময় উবায়দুল্লাহ সঙ্গে থাকা তার ভাতিজাকেও আটক করে পুলিশ।

উবায়দুল্লাহর হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসআই জামিরুল এবার টাকা দাবি করেন তার কাছে। টাকার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু তালেবকে ফোন দেয়ানো হয় উবায়দুল্লাহ মোবাইল থেকে।

আবু তালেব সেখানে এসে উবায়দুল্লাহ পিতা ক্বারী নূরুল ইসলামকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। এই টাকা নিয়ে এসআই জামিরুল সেখান থেকে চলে যান।

এর আগে উবায়দুল্লাহ পিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং এই বিষয়ে কাউকে কিছু বললে উবায়দুল্লাহকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে বলে হু*কি দেয়। উবায়দুল্লাহকে পরদিন প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হয়।

উবায়দুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, তিনি এখন কানে শুনছেন না।

তার চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, ওবায়দুল্লাহ কানের আঘাত গুরুত্বর। প্রচণ্ড আঘাতে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে।

বিষয়টি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর রাতে জেলা পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যান অভিযোগ নিয়ে।

এই ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন অভিযোগটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, তাদেরকে বলেছি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে। জামিরুলের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতানোর আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। ‘ধরো-খাও-ছাড়ো’ এই অভিযোগে সে জেলাজুড়ে আলোচিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খান আর তার বাড়ি একই জেলায় এবং কখনো কখনো এই র্শীষ কর্মকর্তা তার আত্মীয় হয় এই পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছে সে। এছাড়া সাবেক এই পুলিশ সুপারের স্ত্রী উম্মে সালমা মুন্নির দোহাই দিয়ে এই সব অপর্কম চালিয়ে আসছিলেন।

তবে এসআই মো. জামিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

তবে তার অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে জানান, আমি চট্রগ্রামে আছি, বিষয়টি জেনেছি, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মন্ত্রী-মেয়রদের কোনো লজ্জা-শরম নেই, বেহায়া : মির্জা ফখরুল


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়া গুরুত্ব দেয়ায় মানুষ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারছে। না হলে এই সরকার গুজব বলে উড়িয়ে দিত। আসলে মন্ত্রী ও মেয়রদের কোনো লজ্জা-শরম নেই। এক কথায় বলা যায় বেহায়া। এরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই এদের উদ্দেশ্য থাকে জনগণের টাকা লুট করার। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, আজকের পত্রিকায়ও আছে, গতকাল রোববার এক হাজার ৭৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শুধু ঢাকায়। আর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজারের ওপরে। অথচ মন্ত্রী যিনি দায়িত্বে আছেন, এমনকি মেয়র সাহেবরা কী বলেছেন, সেটা রিপিট করতে চাই না। আসলে এদের কোনো লজ্জা নেই। এরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই তাদের জবাবদিহিতা নেই। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং জনগণের অর্থকে লুণ্ঠন করা। সংসদ তো এখন কিছুই নেই। ওখানে তথাকথিত তাদের পছন্দমতো একটা বিরোধী দল দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এই সরকার একেবারেই গণবিরোধী। জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। কিন্তু সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করছে। সেই দুর্নীতির টাকা দিয়ে দেশের বাইরে বাড়িঘর করছে। সেখানে থাকার ব্যবস্থা করছে। এটাই হলো বাস্তবতা। এই সরকার মানুষের স্বার্থবিরোধী সরকার। তারা মানুষের ন্যূনতম অধিকারকে লুণ্ঠন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, কয়েকদিন আগে জেনেভায় মানবাধিকারের ওপরে নির্যাতনবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ একটি কনভেনশন হয়েছে। বর্তমান সরকার ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ক্ষমতায়, কিন্তু সেখানে কোনো জবাবদিহি করেনি। কনভেনশনে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশকে ডেকে এ দেশে যে নির্যা*ন হয়, সে সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য কী জানতে চেয়েছিল। সেখানে আমাদের আইনমন্ত্রী অবলীলায় মিথ্যা কথা বলেছেন। আইনমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো গুম-খু*র ঘটনা তার জানা নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে পত্রিকায় দেখছি একজন সিনিয়র সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান গুম হয়ে গেছেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এমপি ছিলেন ইলিয়াস আলী। চৌধুরী আলম কমিশনার ছিলেন। তাদের এখন পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। আমাদের ছাত্রদল, ‍যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা এমন দেশে বাস করছি, যেখানে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

সময় উপযোগী কর্মসূচি নেয়ায় এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপিসহ সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আইনমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন : ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন


জাতিসঙ্ঘের একটি সভায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে মিথ্যাচার ও গুম-খুনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সঠিত তথ্য না দেয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শপথ ভঙ্গ হয়েছে এবং এ কারণে তার স্বপদে থাকার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে রোববার সুপ্রিম কোর্টে আইন, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি তোলেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতিসঙ্ঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির (কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার) সভায় যে বক্তব্য ও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার সাথে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির কোন মিল নেই। তিনি অবাস্তব বক্তব্য প্রদান করেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মিথ্যাচার করেছেন। আমি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে কাগজে কলমে দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার লেখা বইয়ে ও কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনে বলেছেন, সরকারের পক্ষে সরকারের কথায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় না দেয়ায় তাকে জোরপূর্বক অসুস্থ বানিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য ও প্রধান বিচারপতির আসন থেকে পদত্যাগে রাষ্ট্র কর্তৃক বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়াও বিচারকরা যেন সরকারের কথায় রায় দেয় এরই উদ্দেশ্যে বিচারকদের মনে ভীতি সঞ্চারের অভিপ্রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

যে দেশের একজন প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পায় না সে দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু প্রশ্নবিদ্ধ তা দেশের মানুষের জানা আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রসঙ্গে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, ‘পুলিশ বিভাগ সরকারের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে এদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত মর্মে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। তাই জেনেভায় দেয়া তার বক্তব্য সত্যের অপলাপ এবং শপথ ভঙ্গের শামিল। তাই তার (আইনমন্ত্রী) পদে থাকার আর কোন অধিকার নেই।’

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মশার জন্য মানুষ মরার ওষুধ আনছে সরকার!


সরকার স্বীকার না করলেও সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। এডিস মশার কামড়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। যদিও সরকার এ মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করছে না। এই এডিস মশা নিয়ে যখন সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে তখনও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও ছলচাতুরি করে যাচ্ছে সরকার। নকল ওষুধ দিয়ে এতদিন এডিস মশা মারার অভিনয়ও করেছে সরকার।

এদিকে, সর্বোচ্চ আদালত ভাল ওষুধ আনার নির্দেশ দেয়ার পরও এনিয়ে সরকার দুই নাম্বারী করে যাচ্ছে। আদালত ও জনগণের সমালোচনার মুখে বিদেশ থেকে ওষুদের নমুনা আনলেও সেটা দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী মশা মরছে না।

শুক্রবার মশা নিধনে নতুন ওষুধের মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে তিনটি খাঁচার প্রতিটিতে ৫০টি করে মশা রেখে পরীক্ষা চালানো হয়। আধা ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে খাঁচাগুলোয় যথাক্রমে ২২, ২৬ ও ১৮ শতাংশ মশা মারা গেছে। ‘বায়ার করপোরেশন’ কোম্পানির এই মশার ওষুধের ৩০ মিনিট পরীক্ষা শেষে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ মশা মারা গেছে।

কিন্তু ভারতের কলকাতা থেকে আসা গবেষক দলের সদস্য শুভ দে সাংবাদিকদের বলেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ মশকনিধনে কার্যকর। ভারতীয় এই গবেষকের দাবি নিয়ে নগরভবনের কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ সংশয় দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বলেছেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ কার্যকর হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভারতীয় এই গবেষক দলের নিশ্চয় ওই কোম্পানির সঙ্গে কোনো লিংক আছে। যার কারণে তারা কোম্পানির পক্ষে সাফাই গাইছে।

অপরদিকে, আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এডিস মশা মারতে সরকার এখন এমন ওষুধের কথা চিন্তা করছে যা মানুষ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সরূপ।

জানা গেছে, সরকার বিদেশ থেকে যে চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলোর দুটি জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ না হওয়ায় ‘প্রত্যাহার’ করে নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। আর একটি ওষুধ পরিবেশসম্মত না হওয়ায় এক যুগ আগে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। এছাড়া একটি ওষুধ নিয়ে বিতর্কের কথা জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের জন্য গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কীটনাশক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সভায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী ৪-৫টি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কোন কোন ওষুধ কেনা হবে সেটা চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি নির্দেশে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যার মধ্যে দুইটি ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় থাইল্যান্ড সরকার এগুলো প্রত্যাহার করে। আর বিপিএল লিমিটেড কোম্পানির ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ইসি’ কীটনাশকটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাতিল হওয়া কীটনাশকের তালিকায় রয়েছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলায় ২০০৭ সালের দিকে এর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে সংস্থাটি। এর সিরিয়াল নং এপি-৬৮। এর আগে ২০০৩ সালের দিকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন মশা নিধনে এই ওষুধটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে বাতিল হওয়া এই ওষুধটিও কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ওষুধগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, প্রিমিফোস-মিথাইল ৫০% ইসি নিয়ে একটু কথাবার্তা রয়েছে। তারা কি এটাও তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছে? আর ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ই সি’ যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিষিদ্ধ করে থাকে তাহলে সেদিন যে মিটিং হয়েছিল সেখানে তাদের পরিচালকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন বিষয়টি অবহিত করলেন না? যদি নিষিদ্ধ করা হয়, কী কারণে করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন না? তাদের তো মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে, তারা সরকারকে গাইড করবে। সেখানে গিয়ে কেন মুখ বন্ধ করে ছিলেন?’

তিনি বলেন, ‘আমিও ওই কমিটির সদস্য। সেই মিটিংয়ে তো নির্দিষ্ট কোনও ওষুধের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ৪ থেকে ৫টি ওষুধ রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাতে একটিতে সমস্যা হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সিটি করপোরেশন এই তালিকা কোথায় পেলো?’

আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন ও মান নিয়ন্ত্রণ) কৃষিবিদ এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সরকারের হাই পজিশন থেকে হয়েছে। তাই কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।’

এই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকেও বুঝা যায় যে, মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে কিংবা কীটত¦ত্ত্ববিদদের মতামতের আলোকে ওষুধ কেনা হচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু লোক তাদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে মূলত ওষুধ কেনার চেষ্টা করছে। এখানে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থই বেশি দেখছে তারা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এবার ডেঙ্গুর পর ধেয়ে আসছে ভয়ানক ইকুইন ভাইরাস


বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহামারী হিসেবে ভয় ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু মশা। এডিস মশার আক্রমণে যখন পৃথিবী আতঙ্কিত তখনই খবর এসেছে নতুন আরেক ভয়ানক ভাইরাসের খবর।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (ইইই) নামে পরিচিত একটি মশাবাহিত ভাইরাস নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে। এবিষয়ে সতর্কতা দিয়েছে ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

মার্কিন বার্তা সংস্থা ‘সিএনএন’এর খবরে বলা হয়েছে এই খবর। তারা বলছে, পরীক্ষাধীন অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি মুরগির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ইইইভি ইতিবাচক উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সংক্রামিত মশার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর ফলে মানুষের মস্তিষ্ক সংক্রমিত হতে এবং ফুলে যেতে পারে।

পরীক্ষাগারে মুরগিগুলোর মাংসে ওয়েস্ট নেইল ভাইরাস এবং ইইই-এর উপস্থিতি জানতে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। তাদের রক্ত থেকে রোগগুলোর উপস্থিতি জানা যায়। তবে, এই প্রাণীটির শরীরে এমন ভাইরাসের প্রভাব না পরলেও মানুষের শরীরে তীব্র প্রভাব পরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অরেঞ্জ কাউন্টিতে পরীক্ষাধীন মুরগির মাংস পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরে মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ ‘মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার’ কথা নিশ্চিত। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো (সিডিসি) জানিয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মানুষের মধ্যে ইইই ভাইরাস আক্রান্তের মাত্র সাতটি প্রতিবেদন পাওয়া যেতো। যা এখন বাড়ছে।’

মুরগির পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়াতে এই রোগ মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। সিডিসির মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মারা যায়। আর যারা বেঁচে থাকেন তাদের অনেকেরই সারাজীবন স্নায়ুতান্ত্রিক বা স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে বাঁচতে হয়।

এই রোগের লক্ষণ ও উপশম কী?

ইইই ভাইরাসবাহী মশার কামড়ের ৪-১০ দিনের মধ্যে মানুষের শরীরে এই রোগের লক্ষণগুলি তৈরি করে বলে সিডিসি জানায়। আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুর মতোই লক্ষণ গুলো দেখা দেয়। প্রথমে মাথা ব্যথা, অত্যধিক জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বমি হয়।

অবস্থা বেগতিক হলে কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে অস্থিরত্ব দেখা দেয়, খিঁচুনি উঠতে পারে এবং এমনকি কেউ কেউ কোমায় চলে যেতে পারে।

পুরো গ্রীষ্মজুড়ে মশা জনবহুল এলাকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এডিস মশার মতো এই মশাও বাড়ির আশেপাশের নর্দমা, কিংবা পরিত্যক্ত জলাশয়ে জন্মায়। কর্তৃপক্ষ এই সময়টাতে মানুষকে মশার কামড় খাওয়া থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশ কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং ঘরের দরজা জানালায় ভাল করে পর্দা দিয়ে আটকে রাখাতে হবে। আটলান্টিক ও গালফ সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ইইই ভাইরাস পরিচিত এক রোগ।

এমন ভাইরাস আক্রান্তের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। সিডিসি বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর নয় এবং কার্যকর কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধও আবিষ্কার হয়নি।

মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু সহায়ক থেরাপির মাধ্যমে চিকিত্সা দেয়া হয়, যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি, শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা, আইভি তরল এবং অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উৎসঃ মানবকণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে এক স্বৈরাচারের বিদায়, গদিতে বসা আরেক স্বৈরাচারের


শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির শাসন ছাড়া আর কিছুনা। এমন স্বৈরতান্ত্রিক চিন্তা এরশাদের মাথাতেও আসেনি।বাংলাদেশে একনায়কের বিদায় হয়েছে। আর সে বিদায়ের পর ক্ষমতার গদি আঁকড়ে আছে আরেক একনায়ক।

এশিয়ান টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর হালচাল নিয়ে এমনি সোজাসাপ্টা অভিমত ব্যক্ত করেছেন জন কনারস। “এস বাংলাদেশ বুরাইজ ওয়ান ডিকটেটর, এনাদর হোল্ডস ফার্ম,” শিরোনামের এই সম্পাদকীয়টি প্রকাশিত হয় ৩১ জুলাই। জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য তার ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো:

১৯৮০ পরবর্তী দশকে যে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশ শাসন করেছেন গত ১৪ জুলাই তিনি ইন্তিকাল করেছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিরক্তিকর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সদ্য যৌবনে পা রাখা দেশটির সবচাইতে বিতর্কিত শাসনামল ছিলো সেটা। বাংলাদেশিরা তার বিদায়ে পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবে কীভাবে একজন স্বৈরশাসন চালিয়েছিলো আর পরবর্তীতে কীভাবে সে রাজনীতির ছায়ায় পালিত হলো। এরশাদের এই রাজনৈতিক প্রভাবকে আজো খেলো হিসাবেই দেখা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির হিসেব-নিকেশে একমাত্র স্বৈরশাসকে হিসেবে যাকে দেখা হয় তিনি হলেন এরশাদ।

অতীতের যারা সাক্ষী তারা ১৯৮২ সালে সাবেক এই ক্ষমতাধর শাসকের (এরশাদ) মার্শাল ল জারিকে উঠতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের নকশা মনে করেন। তরুণ বাংলাদেশিরা তাকে শুধুমাত্র একজন সুবিধাবাদী হিসেবেই চিনে। অধিকন্তু এরশাদ ছিলেন স্বৈরশাসক, স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এরশাদকে আমরা যেভাবেই স্মরণ করিনা কেন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির হিসেবে তাকে কিছুতেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। অন্ততপক্ষে তিনি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনাকে যেভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন সেটার জন্য হলেও তাকে মনে রাখতে হয়। ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একের পর এক যতো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে তাতে এরশাদের কল-কাঠি নাড়ায় শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ উপকৃত হয়েছে। সেই ফলের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে দলটি ভালো একটা বিজয় পেয়েছে!

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাইরের দিক থেকে সবার প্রত্যাশা ছিলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উপায় এবং পন্থাগুলো বিকশিত হবে। দেশ স্থিতিশীল হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তবায়ন। এরকম স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি এরশাদের মাথাতেও আসেনি।

প্রধান সব বিরোধীদলগুলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো। ২০১৮ সালেও স্পষ্টত অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে যেটাকে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে “প্রহসন”।

ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য হাসিনাকে কোনো অভ্যুত্থান করতে হয়না। কিন্তু বিরোধীদলকে শেষ করে দেবার যে নির্ভার পন্থা তিনি বেছে নিয়েছেন তাতে করে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকাশের আশা অংকুরে মরে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ভোটে অংশ নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে দলটির হাজারো নেতা-কর্মী আর নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের দিনেও ৪০ এর বেশী প্রার্থী নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো।

হাসিনা সরকারের অধীনে রাজনৈতিক বিরোধী কর্মী এবং সমালোচকদের সহিংসভাবে দমন করা হয়। আইনের ইচ্ছামতো বদল করে সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং শিল্পীদের আটকে এবং জেলে পুরা হয়। বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বাহানা করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবহার করে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে হাজারো মানুষকে। রাজপথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

যারা অনলাইনে সরকার, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের যারা সমালোচনা করে তাদের আটক করতেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে ফেসবুকে এবং আল-জাজিরায় মানবাধিকার লংঘন নিয়ে কথা বলার অপরাধে সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী শহীদুল আলমকে ১০৭ দিন জেলে থাকতে হয়েছে।

সবচাইতে অন্যায় আচরণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বিএনপি এবং তার নেতাকর্মীদের। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবদনের প্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে দ্বিগুণ করে সেটা ১০ বছর বানানো হয়েছে। গত বছরের শুরু দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়। এটাকে ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করার কৌশল বলেছেন সমালোচকরা। আর শেষমেষ সে বুদ্ধিই কাজে লাগানো হলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, “২০১৮ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে যেটা খোলাখুলিভাবে দৃশ্যমান হলো তা হলো সরকার শক্ত হাতের ভয় দেখিয়ে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।”

“সরকারের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্ত মতপ্রকাশ, আইনের স্বাধীনতা এবং গতিশীল সুশীল সমাজকে স্বীকৃতি দেয়া।”

হাসিনার সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে বৈধতা দিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বুলি কপচায়।

হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনে অস্থিরতা ক্রমশ বড়ছে। আর সেটা এখনকার জন্য যেমন, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্যও একটা ঝুঁকি। তার সরকার যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছে সেটা একটা ঝুঁকি হিসেবে থেকেই যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমে আসে তখন থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় সরকার।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় বাংলাদেশের অংশীদার যারা রয়েছে তাদের উচিত সরকারের এসব নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা।

শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে কঠোর হস্তে নির্যাতন করে তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে। এতোকিছু করেও তিনি জাতিসংঘ থেকে “চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ” পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। পরিবেশ নিয়ে সংবিধান ধারা সংশোধন করার কারণে জাতিসংঘ যখন তাকে স্পষ্টত পুরস্কৃত করছে ঠিক সেই সময়টাতেই গণতন্ত্র সুরক্ষার প্রতি তার যে অবজ্ঞা সে বিষয়টি কিন্তু দৃষ্টিসীমার বাইরে ফসকে যাচ্ছে।

যখন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং হংকংয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা নিয়ে কথা হয় তখন কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবনতির বিষয়টি নিয়ে কথা হয়না। ভালো পরিবেশে রাজনীতি থেকে মানুষ কী প্রত্যাশা করতে পারে -এরশাদের মৃত্যু সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ময়দানে নাহমাদুহু বলে ওয়াজ শুরু করবেন।’


‘সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ওয়াজের ময়দানে গিয়ে নাহমাদুহু বলে তার ওয়াজ শুরু করবেন।’ গোলাম মাওলা রনিকে এক আওয়ামীলীগ সমর্থক সাঈদী বক্তের ফোনকল।

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে তিনি পটুয়াখালীর স্থানীয় এক বন্ধুর ছেলের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিচে পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

“আজকের এই পবিত্র দিনে একটি পবিত্র স্থানে বসে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে এই মাত্র আমি যা শুনলাম তাতে আমার অন্তর শীতল হয়ে গেলো ! বর্তমানে জীবিত আছেন এমন চারটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজন্মের মন মস্তিষ্কে জনাব সাঈদী কিভাবে ঢুকে পড়েছেন তার বাস্তব প্রমান পাওয়ার পর মনে হলো – জনাব সাঈদী হয়তো এই যুগের মুজাদ্দেদ এবং জমিনে জান্নাতি মানুষের জীবন্ত প্রতিরূপ !

উপরোক্ত বিষয়টি খুলে বলার পূর্বে প্রতি শুক্রবারে আমার জীবন যাত্রা নিয়ে কিছু বলে নেই ! দিনটিতে আমি রোজা রাখি এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে মসজিদে চলে আসি ! সারাদিন এই পবিত্র গৃহে থাকি এবং মাগরিব অথবা এশা পড়ে বাসায় যাই ! এই আট-নয় ঘন্টা সময়ে আমি সাধারণত কোনো ফোন রিসিভ করিনা ! কিন্তু আজ একটা ফোন কেন জানি রিসিভ করলাম !

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটি ইতস্তত কণ্ঠ জানতে চাইলেন আমি গোলাম মাওলা রনি কিনা ? তার পর ফোনকর্তা তার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে জানালেন যে, তিনি নবম শ্রেণীতে পড়েন ! তার বাবার নাম কাম্বার এবং ফুফার নাম নুরুল হুদা যিনি বর্তমানের সিইসি !

কাম্বার আমার বহু পুরোনো বন্ধু ! কিন্তু গত কুড়ি বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই ! কাম্বারদের পুরো পরিবার কট্টর আওয়ামীলীগ এবং তারা বেশ ধনী এবং অভিজাত ! কাম্বারের ছেলে জানালেন যে, তিনি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র এবং আওয়ামীলীগ করেন ! নিয়মিত নামাজ পড়েন – কোরান তেলাওয়াত করেন এবং ইসলামের নিয়ম কানুন কঠোর ভাবে অনুসরণ করেন!

ভিডিওঃ ‘আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে গোলাম মাওলা রনির চমৎকার মূল্যায়নের সেই ভিডিও! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আমার বন্ধু পুত্র আমাকে জানালেন যে , জনাব দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজ শুনেই তিনি ধর্ম কর্মে একনিষ্ঠ হয়েছেন ! সম্প্রতি সাঈদী সাহেব কে নিয়ে আমার দেয়া একটি বক্তব্য তিনি ইউ টিউবে দেখার পর কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আমাকে ফোন করেছেন !

আল্লাহর দ্বীনের অনুরক্ত সম্মানিত কিশোরটি ফোনে আমার সঙ্গে কথা শেষ করার পূর্বে কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন যে , তিনি বিশ্বাস করেন – সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ওয়াজের ময়দানে গিয়ে নাহমাদুহু বলে তার ওয়াজ শুরু করবেন !

ছেলেটির কথা শুনে আমি কিছুক্ষন বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম ! তারপর এই স্টেটাস লিখতে শুরু করলাম ! আল্লাহর দরবারে বন্ধু পুত্রের জন্য দোআ চাই এবং তার মনের আকুতিটি যেন কবুল হয় সেই জন্যও দোআ করছি ! আমিন !”

উৎসঃ সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ ‌জেল থেকে আল্লামা সাঈদীঃ ’আমি আবার ফিরে আসবো কোরআনের ময়দানে। ইনশাআল্লাহ’

কারাবন্দি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে তার ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদী (ফাইল ছবি)

মাসুদ সাঈদী

“আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হাফিজাহুল্লাহর (আমার হৃদয়ে সঞ্চিত সবটুকুন ভালবাসা যার পবিত্র দু’পায়ে নিবেদিত) সাথে দেখা করতে আজ আমরা তার পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কারাগারে গিয়েছিলাম।

সাক্ষাতে জন্য আবেদন করার পর কারা কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩ ঘন্টা গেটের বাইরে বসিয়ে রেখেছিল আমাদের। আজ বৃষ্টিও হয়েছে বেশ কিছুটা সময়। বৃষ্টির মধ্যেই বসে থাকতে হয়েছে আমাদের। সকালে নাস্তা করে বেরিয়েছিলাম, এর মাঝে আর কিছুই খাওয়া হয়নি। এমনিতে আমি ডায়াবেটিসের রুগী। বেশী সময় না খেয়ে থাকলে শরীর কেঁপে ওঠে, দূর্বল লাগে। আমাদের সাথে ঘরের বাচ্চারাও থাকে, বসে থাকতে থাকতে তারাও এক সময় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে, ছটফট করতে থাকে। এভাবে প্রায় প্রতি সাক্ষাতে আমাদেরকে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ যে কি তৃপ্তি পান তা আমার মতো অযোগ্য এক ব্যক্তির মাথায় আজো ঢুকলো না। এমন আচরণ করাটা কি ‘উপরের নির্দেশ’ নাকি তাদের চাকুরী বাঁচানো (!) না চাকুরীতে প্রমোশনের কোন ফর্মুলা (?) তা আমার জানা নেই।

অবশেষে দেখা করার ডাক এলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আব্বার মায়াবী চেহারাখানি দেখে মূহুর্তেই সব কষ্ট ভুলে গেলাম। দেখা করতে ঢুকেই আরেক পেরেশানীতে পরলাম। খালি হাতের ঘড়ি দেখছি। এই বুঝি কেউ একজন এসে বলবে, ‘স্যার উঠুন, আপনাদের সাক্ষাতের সময় শেষ।’ মাথার ভেতর খালি ঘুরপাক খাচ্ছে ‘৩০ মিনিট’, ‘৩০ মিনিট।’ আমাদের সাক্ষাতের সময় যে মাত্র ৩০ মিনিট !!

পরিবারের সবার সাথে আব্বা হাসি মুখে কথা বলছিলেন। আর আমি আব্বার মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এমন একজন মানুষকে কেমন করে ‘ওরা’ গত ৯টি বছর ধরে আটকে রেখেছে!! আহারে! এই মানুষটি যদি বাইরে থাকতেন, তাহলে তার তাফসীর শুনে গত ৯ বছরে অন্তত: ৯জন মানুষতো ইসলাম গ্রহন করতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো নামাজী হতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো সুদ ঘুষ ছেড়ে দিতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো জেনা ব্যভিচার ছেড়ে দিতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো কোরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কর্মী হতো !! হায় আফসোস!

তবে আলহামদুলিল্লাহ, ৯ বছর ধরে আটকে রেখে শত মানসিক যন্ত্রনা দিয়েও আমার বাবা আল্লামা সাঈদীর মানসিক দৃঢ়তায় এক চুল পরিমানও চিড় ধরাতে পারেনি ‘ওরা।’ তিনি যেন ধৈর্যের এক পিরামিড। শত কষ্টের মাঝেও তিনি কোরআনের ময়দানে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন।

আজো কথা প্রসংগে আবারো দৃঢ়কন্ঠে আব্বা ঘোষনা করলেন, ’আমি আবার ফিরে আসবো কোরআনের ময়দানে ইনশাআল্লাহ, কোটি জনতাকে আবার শোনাবো কোরআনের শাশ্বত বাণী, ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশেই একদিন উড়বে ইসলামের পতাকা।’

দৃপ্ত কন্ঠে আব্বার কথাগুলো শুনে আমরা চোখের পানি ফেলেছি। আর চোখের পানি দিয়ে দাড়ি ভিজিয়ে বলেছি, ‘ওগো আরশের মালিক, ওগো আহকামুল হাকিমীন! তুমি কাশিমপুর কারাগারের ছোট্ট এই রুমে বসা তোমার গোলামদের আহাজারি কবুল করো। আমাদের চোখের পানি কবুল করো। আমরা মজলুম, আমাদের হাতগুলোকে তুমি খালি হাতে ফিরিয়ে দিওনা।’

চোখের পানি শুকাতে না শুকাতে উঠে দাঁড়াতে হলো। একজন কারারক্ষী এসে জানালেন সাক্ষাতের সময় শেষ। সাক্ষাতের এই ‘৩০ মিনিট’ কি আরেকটু দীর্ঘ হতে পারতো না !! ঘড়ির কাটাটা কি আরেকটু ধীরে ঘুরতে পারতো না !!

আব্বার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলাম চোখ মুছতে মুছতেই, কিন্তু হৃদয়টা ভরে আছে নিদারুন এক প্রশান্তিতে। ঐ মায়াবী চেহারাটা দেখেছি যে! ঐ পবিত্র হাতে চুমু খেয়েছি যে!”

গ্রেফতারের কয়েক বছর আগে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে তার ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদী (ফাইল ছবি)

Masood Sayedee – মাসুদ সাঈদী

পুনশ্চ ::

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে আপনাদের ভালবাসার ’সাঈদী’ আপনাদের দোয়ায় ভালো আছেন।

দেশ বিদেশের যারা আব্বার কাছে সালাম জানিয়েছিলেন আপনাদের সকলের সালাম আমি তার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আব্বাও আপনাদের সকলকে সালাম জানিয়েছেন। আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন, ভাল রাখেন। তাকে হেফাজতে রাখেন। তার নেক হায়াত দারাজ করেন। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ওয়াল জালাল তাকে যেন আবারো কোরআনের ময়দানে ফিরিয়ে দেন।

উৎসঃ আল্লামা সাঈদীর ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here