শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

0
19716
তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতাসহ সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে

চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকা এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং নানা রকম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যা নারী নির্যাতন এবং কর্মস্থলে পরিবেশ লংঘনের শামিল বলে জানা গেছে। নারীদের সঙ্গে তিনি কুৎসিত অরুচিকর আচরণ করছেন বলে সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া একাধিক নারী সংবাদ পাঠিকা অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়তে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতা। এরা সবাই জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা। যারা বাদ পড়েছেন তারা বলেছেন যে, আমরা নারী নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, যৌন হয়রা্নির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। অথচ চ্যানেল আইয়ে শাইখ সিরাজ যা করছেন তার বিচারের কি হবে? সেটারও তদন্ত হওয়া উচিত। নারীদের এক হওয়া উচিত। এটারও বিচার হওয়া উচিত। শাইখ সিরাজের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চ্যানেল আই এখন অনিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুনঃ ‌কলেজ শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দীন গ্রেফতার


নকলে বাধা দেয়ায় পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের এক প্রভাষককে মারধরের ঘটনায় ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুদ্দীন জুন্নুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টায় পাবনা শহর থেকে তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার সামসুদ্দীন জুন্নুন পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া মহল্লার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বেলা ১২টার দিকে পাবনা শহর থেকে জুন্নুনকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবার রাতে এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি সজল ও শাফিন নামে দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে দুজন পরীক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করছিল। এ সময় ওই কক্ষের পরীক্ষা পরিদর্শক প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে তাদের খাতা কেড়ে নেন।

এর জেরে ১২ মে দুপুরে শিক্ষক মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন যুবক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার পিঠে লাথিও মারা হয়।

৩৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, কলেজের একজন প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতার ইন্ধনে তার ওপর হামলা হয়েছে।হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি-লাথিসহ বেদম মারপিট করে। মারধরের ভিডিওটি সিসিটিভির মাধ্যমে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পাথরঘাটায় হরিণের মাথাসহ ৫ মণ মাংস জব্দ


বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বনফুল আবাসনসংলগ্ন একটি ছোট খাল থেকে দুটি মাথা ও দুটি চামড়াসহ প্রায় ৫ মণ হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে। এসময় হরিণ ধরার ফাঁদসহ একটি ছোট ট্রলার আটক করা হয়।ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৮টি হরিণ জবাই করা হয়েছে।

শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বনবিভাগের চরলাঠিমারা বিটের কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান খান সোহাগের নেতৃত্বে অভিযানে এসব জব্দ করা হয়।জব্দ করা ট্রলারের মাঝি মো. ইলিয়াস।সে কোস্টগার্ডের ট্রলার চালায়।

বিট কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান খান সোহাগ জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী চরলাঠিমারা বনফুল আবাসনসংলগ্ন একটি ছোট খালে হরিণের মাংস নিয়ে অবস্থান করছিলেন পাচারকারীরা।এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে ট্রলারের কাছে যান।তাদের দেখে ট্রলারের লোকজন পালিয়ে যান।

পরে বনবিভাগের খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস ও ট্রলার জব্দ করে। তাৎক্ষণিকভাবে পাথরঘাটা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে হাজির হন।

তাদের উপস্থিতিতে দুটি চামড়া, দুটি মাথা থাকলেও প্রায় পাঁচ মণ হরিণের মাংসসহ ৩০টি রান পাওয়া যায়।

ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৮টি জীবিত হরিণ জবাই করা হয়েছিল।

বিট কর্মকর্তা আরও জানান, কোস্টগার্ডের মাঝি মো. ইলিয়াসের বাবা আবদুর রহমান সিকদার এলাকায় হরিণ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত। ওই ট্রলারটি আবদুর রহমান সিকদারের বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।এ ব্যাপারে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দুই বস্তা হরিণ ধরা ফাঁদসহ ট্রলারটি বনবিভাগের জিম্মায় রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিদের্শনা পেলে মাংসগুলো মাটি চাপা দেয়া হবে বলে জানান ওই বিট কর্মকর্তা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগকে কথা শোনানোর ব্যবস্থা করব: মির্জা আব্বাস


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আন্দোলন না করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কিনা সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হাসপাতালে খালেদা জিয়া পায়েশ নয়, জাউ খাচ্ছেন: ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে পায়েশ নয় জাউ খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন।’ দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করেছেন তা নজিরবিহীন। এধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে; যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনো রকম জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।

‘অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।’

জমির উদ্দিন সরকার আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শুন্যতা দেখা দিয়েছে; যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তিনি বলেন, এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি (খালেদা জিয়া) বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

‘সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে তার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেগম জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য একজন বন্দির মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এ বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেন জমির উদ্দিন সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কিছু নেতা চান না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ


বিএনপিতে কিছু নেতা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

শুক্রবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে এলডিপির ইফতার মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কারণ কিছু ব্যক্তি চায় না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক।

কারও নাম উল্লেখ না করে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেয়াল যদি নিচু হয়, ছাগল লাফ দিয়ে অনেক সময় দেয়ালের উপরে উঠে যায়। তখন পাশে হয়ত মালিক দাঁড়িয়ে থাকেন। দেখা যায় অনেক সময় ছাগলের উচ্চতা মালিকের উচ্চতা থেকে অনেক বেশি হয়। ফলে ছাগল মনে করে হয়ত আমি মালিকের থেকে বেশি উঁচু। এ ধরনের রাজনীতিতে অনেক ছাগল আছে। আর ছাগলগুলো মনে করে খালেদা জিয়ার থেকেও তারা বড় নেতা। সুতরাং খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হলে অনেকের অসুবিধা হতে পারে।

২০ দলের শরিক এলডিপি প্রধান আরও বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হবে। কারণ আমরা মনে-প্রাণে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের পরিচালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শওকত মাহমুদ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত; ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতের আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এমএম আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) জাফরুল্লাহ লাহরী, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মো. ফরিদউদ্দিন, জমিয়তের মহিউদ্দিন ইকরাম, বিএমএলের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, আবু মহি মুসা, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিপির ক্বারী আবু তাহের প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের দুদু


গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিজের অধিকার যদি অর্জন করতে হয় তাহলে ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গণতন্ত্রের আন্দোলন বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে এখন একাকার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে ন্যায়ের সংগ্রামে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালি থাকুক না কেন তারা সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের মেহমান খানা রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় বিকেলে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ স্পেন শাখার উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রোজাদারদের জন্য দেশীয় ইফতারি ও পরিবেশন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজন্ম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেন বলে আজকে তাকে অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করেছে। এ সরকার ক্ষমতা দখলকারী সরকার, যারা ভোটের নামে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। এই সরকারকে যদি ক্ষমতা থেকে অপসারণ না করা সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র বিপন্ন হবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান ঝন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা জাকিরুল ইসলাম জাকি’র পরিচালনায় বক্তব্য দেন অলইউরোপ সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশন’র আহবায়ক আবু জাফর রাসেল, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক ফখরুল হাসান, এমদাদ হাওলাদার, ব্যবসায়ী সমিতি স্পেনের সভাপতি আবুল হোসেন, কমিউনিটি নেতা আবু সায়েম, আব্দুল মুত্তাকিন মুজাক্কির, আব্দুল মুত্তালিব বাবুল, জেন্স শিপার, হুমায়ূন কবির রিগ্যান, জাকির চৌধুরী, মাঈনুদ্দীন, আল মামুন, আরাফাত হোসেন, আবু বক্কর, আমিনুল ইসলাম, আকতার হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে দেশবাসীর


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে দেশবাসীর।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

বালিশের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসংঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০ তলা ও ৮টি ১৬ তলা ভবন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ২০ তলা ৮টি ভবন ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৯টি ভবনে তৈরি হয়েছে ৯৬৬টি ফ্ল্যাট।

সেই ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০ তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

ওই ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রো ওয়েভ কেনা হয়েছে। সেসব আসবাবের ক্রয় মূল্য ও সেগুলোকে ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে।

এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি খাট ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকায় কিনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। আর প্রতিটি খাট ওপরে ওঠানের পেছনে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, আর তা ওঠাতে খরচ হয় ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকায় ক্রয় করা প্রতিটি সেন্টার টেবিল ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট ক্রয় করা হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, আর প্রতিটি ডাইনিং টেবিল ওঠানোর খরচ দেখনো হয় ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা।

একেকটি ওয়ারড্রব কিনে ফ্ল্যাটে ওঠাতে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

৩৩০টি মেট্রেস ও তোশকের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিটি তোশক ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়ে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা করে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বালিশের ক্রয়মূল্য ও এসব বালিশ ওপরে তুলতে যে খরচ হয়েছে সে বিষয়টি।

নথিপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে। মোট ১৩২০টি বালিশ কেনার পর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা।

সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। ’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিষয়ে এখনও জানতে পারিনি। বিষয়টির দ্রুত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জাতির প্রয়োজনেই ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠা: আবদুল্লাহ আল নোমান


একাদশ নির্বাচনের আগে জাতির প্রয়োজনে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো বিভেদ নেই উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছে। তাই বলে আমাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব কর্মসূচি এক হবে বিষয়টি তেমন নয়।

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সারা দেশের পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। রাস্তায় নামার পরও এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের কোনো কথা হচ্ছে না। কিন্তু সরকার কী করছে, যারা ব্যাংক লুট করেছে, যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের অর্থ, ঋণ- সবকিছু স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখছে। এই সরকার গরিব, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী মানুষের সরকার নয়। আমরা চাই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হোক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে— বিষয়টি ঠিক নয়। বরং এটি থেকে আপনাদের প্রশংসা করা উচিত, বিএনপির সঙ্গে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা আছে। শেখ হাসিনার মতো মুখের ওপরে ধমক দিয়ে এখানে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় না।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নাসিম সাহেবের মতো লোক বললেন— ‘পয়সা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়, এমনকি বিচার-আদালত কেনা যায়।’ আজকে আদালত অবমাননা নিয়ে হাইকোর্ট পারে না একটি রুল দিতে? অথচ খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে খুব বীরত্ব দেখাতে পারে।

তিনি বলেন, নাসিম সাহেব যখন স্বীকারই করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দল থেকে পদত্যাগ করে একটা দৃষ্টান্ত দেখান যে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে আমি পদত্যাগ করলাম।

আওয়ামী লীগের আগের মর্যাদা নেই উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের যে আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই আওয়ামী লীগ যায় না। সেই আওয়ামী লীগের একটা সম্মান ছিল, গৌরব ছিল, মর্যাদাবোধ ছিল।’

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নদীপথে আবহাওয়া খারাপ হয়। তখন নৌযানগুলো যেন বিভ্রান্ত না হয়, তার জন্য মোহনাগুলোতে লাইট হাউস (বাতিঘর) থাকে। যেখান থেকে সিগন্যাল দেয়া হয় এই পথে না, আপনি ওই পথে যাবেন। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেব ছিলেন জাতির জন্য তেমনই একজন মানুষ।’

স্মরণসভায় শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ : আসিফ নজরুল


বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মওলানা ভাসানীদের আমলে আমরা ছিলাম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাধীন জাতি। এখন আমরা স্বাধীনতার নামে লেজ গুটিয়ে রাখা, মাথা গুটিয়ে রাখা একটা দাস জাতিতে পরিণত হয়েছি। এটা আমরা নদীর পানির দিকে এবং বিভিন্ন সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আসলে আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ।

শুক্রবার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে জামালপুর জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিনিয়ত সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ১০০ টাকার প্রকল্প যখন এক হাজার টাকার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ভ্যাটের টাকা ও আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে এই সরকার কি নয়-ছয় করছে এবং দুর্নীতিমূলক কাজ করছে।

যখন ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার আগের রাতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তখন আমার সত্যিই মনে হয়, আজকে মাওলানা ভাসানীর মত একজন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি স্টংলি বলতে পারতেন, ‘খামস’। যার খামস শুনে ভয় পেত- দেশ প্রেমিকহীন অত্যাচারী মানুষ। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা চলতে, ‘‘বাইরের মানুষের কাছে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ’। এই অবস্থায় আমাদের দেশে একজন বাঘের প্রয়োজন ছিল, যিনি দেশের মানুষের জন্য মহামানব আর বাইরের মানুষের কাছে বাঘের মত। মূলত মাওলানা ভাসানী ছিলেন প্রচন্ড দেশ প্রেমিক, জনবান্ধব ও প্রচন্ড সৎ একজন মানুষ। কোন ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, ভাষানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নঈম জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রশীদ বাবু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার মুক্ত মতের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাচ্ছে: এইচআরডব্লিউ


বাংলাদেশ সরকার নতুন করে মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘সাধারণত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কথা বললে বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

যাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- মানবাধিকারকর্মী আব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট কবি হেনরী স্বপন, আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ।

এদের তিনজনকেই তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিতর্কিত আইসিটি অ্যাক্ট বা তথ্য প্রযুক্তি আইনটি ২০১৮ সালে পাশ করা হয়।’’

আইনজীবী, কবি কিংবা মানবাধিকারকর্মীদের তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার করার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে শিগগিরই এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান এবং মুক্ত মত প্রকাশে বাধা দেয়ার আইন পরিবর্তন করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ১১ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় বরিশালের কবি হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খ্রিষ্টান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ১৫ মে ঠিক একই আইনের মামলায় আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিভায় প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ অনুমোদিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে এই আইনের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই আইন প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপনের পর যেসব সমালোচনা হয়েছিল, বিভিন্ন বৈঠকে যেসব নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করা হয়েছিল, সরকার কার্যত সেগুলো আমলে নেয়নি।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌উন্নয়নের কাজে ঘুমানোর জন্য তোশকের দাম ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা!


আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের এ হিসাব তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩৩০টি বালিশের ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে কাছাকাছি ব্যয়। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে।

সরকারি টাকায় এমন আকাশছোঁয়া দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে তৈরি হয়েছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য এগারোটি ২০তলা এবং আটটি ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে আটটি ২০ তলা ও একটি ১৬ তলা ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬ তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেক্ট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকায়। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০ তলা ওই ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা দরে ১১০টি টেলিভিশন কেনা হয়েছে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। টেলিভিশনগুলো ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ১১০টি ফ্রিজ কিনতে খরচ হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে সাত হাজার টাকা। সেগুলোর প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকা দরে কেনা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। প্রতিটি কেটলি ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনার পর তার প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৩৩০টি বিছানার চাদরের প্রত্যেকটি ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে কেনা একটি কনফারেন্স টেবিল ভবনে ওঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১০ টাকা। এর একেকটি চেয়ার ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। ৪৫ হাজার ৭৯১ টাকা দরে কেনা মিনি কেবিনেটের প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা। ৩৩০টি বেডসাইট টেবিলের প্রত্যেকটি কিনতে খরচ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৬ টাকা। আর প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০১ টাকা।

এছাড়া, ৩৫ হাজার ৭৫৭ টাকা করে ৩৩০টি ড্রেসিং টেবিল কিনে প্রতিটি ভবনে ওঠাতে আট হাজার ৯১১ টাকা করে ব্যয় করা হয়েছে। আয়রন টেবিল ২০ হাজার ৪৫৮ টাকা দরে কিনে প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টাকা। ৮ হাজার ৩১৩ টাকা দরে মিনি সেন্টার টেবিল কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৪ টাকা করে। এছাড়া ৪০ হাজার ৮৯৩ টাকা দরে ডিভাইন কিনে প্রতিটি ফ্ল্যাটে তুলতে পাঁচ হাজার ৩৯৬ টাকা করে ব্যয় দেখানো হয়েছে। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

তবে দেশরূপান্তরের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই এসব কেনাকাটা করা হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই খোঁজখবর না নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয়াদি দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

উৎসঃ ‌‌দেশরূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পয়সায় আইন-আদালত কেনা যায়, তবে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: নাসিমকে আলাল


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘পয়সা হলে যদি আইন-আদালত সবকিছু কিনে ফেলা যায় তবে আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল-এর উদ্যোগে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপল‌ক্ষে কৃষক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাসিমকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল বুধবার প্রেসক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘এদেশে পয়সা দিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কেনা যায়। এমন কি আইনজীবী, আদালত পর্যন্ত কিনে ফেলা যায়। যেহেতু টাকার বিনিময়ে অনেক কিছুই কিনে ফেলা যায় তাই বলতে চাই, ধর্ষণের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল করে দ্রুত বিচার করুন। তাহলে দেখবেন এইসব অপরাধ কমে গেছে। কারণ এইসব অপরাধীরা বিএনপি-জামাতের চেয়েও ভয়ঙ্কর।’

আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতার এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘উনার (নাসিম) বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়- বর্তমানে দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা কতটা নাজুক। ঢাকাইয়া ভাষায় বলতে হয়- গণতন্ত্র পড়েছে মাইনকা চিপায়। এই মাইনকা চিপা হতে আমরা কেউ বেরোতে পারছি না।’

আলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা যখন যা খুশি বলছেন। উল্টাপাল্টা কথা বলে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছেন। সরকারের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন হাতিরঝিলের উপর দিয়ে যাই মনে হয় প্যারিস দিয়ে যাচ্ছি। আরেক মন্ত্রীর কাছে কুড়িল ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় নাকি লসঅ্যাঞ্জেলসের কথা মনে হয়। রানা প্লাজা ধসে পড়লে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বলেন এটা নাকি বিএনপি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা নই শুধু, গোটা দেশ জাতি এখন এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং কৃষক দলের সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, জামাল উদ্দীন খান মিলন, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here