আবার আসছে শেখ মুজিবের সেই বাকশাল?

0
350

হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে শেখ মুজিবের সেই বাকশাল। দীর্ঘদিন ধরেই এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে গালি দিতে গিয়ে যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন, তার মধ্যে একটি হলো বাকশালী। দীর্ঘ ৪৫ বছর শেখ হাসিনা এখন আবার নতুন করে সেই বাকশালের ফজিলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছেন। এখনো সেই বাকশাল থাকলে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা যেতো বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা।

হঠাৎ করেই শেখ হাসিনা বাকশাশের বিষয়টিকে কেন সামনে নিয়ে আসলেন? এনিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন, শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার দিকেই এগুচ্ছেন শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে তিনি তার বাবার সেই বাকশাল গঠনের বিষয়টি হয়তো চিন্তা করছেন। যেই কারণে ইদানিং প্রায় প্রতিদিনই সভা সমাবেশে তিনি বাকশালের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন।

তবে, বাকশালের বিষয়টিকে কিন্তু শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই আলোচনায় আনেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরই শেখ হাসিনার মাথায় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চিন্তা আসে। এরপর থেকেই বিরোধীদলকে দমন পীড়নের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠে শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বার্ষিক রিপোর্টে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে, সরকার ক্রমেই ‘কর্তৃত্বপরায়ণ’ হয়ে উঠছে। ৩০ ডিসেম্বরের আরেকটি ভোটডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা এখন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো-শেখ হাসিনা বাকশালের পক্ষে এখন যেসব যুক্তি দেখাচ্ছেন সেগুলো কি আসলে সঠিক? ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাকশালী শাসন শুরু হয়েছিল। সেদিন জাতীয় সংসদের মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা ও নির্দেশে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। সংশোধনীর আগে পর্যন্ত শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সংশোধনী পাস করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সে ছিল এক বিচিত্র অবস্থা। চতুর্থ সংশোধনীর ফলে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়, রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তিত হয় এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে একটি মাত্র দল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সংশোধনীর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব ২৪ ফেব্রুয়ারি একমাত্র দল বাকশাল গঠন করেন। তার নির্দেশে তাকেই চেয়ারম্যান করে বাকশালের ১১৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় ৬ জুন। সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়ে যায় ১৬ জুন।

সেই বাকশাল গঠনের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে অনেক যুক্তিই দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ শেখ মুজিব নাকি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছিলেন!

কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। যে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র যুক্তি দেখানো হয় তার জন্য দায়ী ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বব্যাপী দুর্নীতি, কালোবাজারি ও চোরাচালানসহ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা, সরকারের রাজনৈতিক নির্যাতন ও হত্যাকা- এবং সবশেষে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বাকশাল প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদে দেয়া শেখ মুজিবের ভাষণেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

অথচ, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দরকার যখন ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নতুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান কিংবা জরুরি ভিত্তিতে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করা, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব তখন উল্টো রাজনৈতিক আন্দোলন ও সরকার বিরোধিতার সকল পথ বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রথমে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে এগিয়েছিলেন বাকশালের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার পথে।

সমগ্র এই প্রক্রিয়া ও কর্মকান্ডের একমাত্র উদ্যোক্তা, নির্দেশদাতা, নিয়ন্ত্রক ও লাভবান ব্যক্তি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। সর্বময় ক্ষমতাও তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ বলা হলেও বাকশাল বাস্তবে আওয়ামী লীগেরই নামান্তর মাত্র ছিল। কারণ, বাকশাল বলতে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বোঝানো হয়েছিল, ‘আওয়ামী লীগ’ নামটিকে বাদ দেয়া হয়নি! অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে যদি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মিত্র দুই দল ন্যাপ (মোজাফফর) এবং সিপিবির শোচনীয় পরিণতির উল্লেখ করা হয়। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই দল দুটি সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে এসেছে, ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে দল দুটিকে নিয়ে শেখ মুজিব ‘ত্রিদলীয় ঐক্যজোট’ও গঠন করেছিলেন। কিন্তু বাকশালের ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেতৃত্বের অবস্থান পাননি এমনকি ‘কমরেড’ মনি সিংহ এবং অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো দলীয় প্রধানরাও।

ওদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীকে ১৯৭৪ সালের জুন থেকে সন্তোষে গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধী অন্য নেতারা ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, কয়েকজন পালিয়ে বিদেশেও চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের যুক্তিকে রাজনৈতিক অসততা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

যেসব ব্যর্থতার কারণে শেখ মুজিব বাকশাল গঠন করেছিলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার শাসনামলেও দেশে তা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কার্যত এখন দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। র‌্যাব, পুলিশ আর সেনাবাহিনী ছাড়া শেখ হাসিনার সরকারকে আর কেউ সমর্থন দিচ্ছে না। শুধু ক্ষমতা ধরে রাখতেই শেখ হাসিনা এখন কথিত জাতীয় ঐক্যের নামে তার বাবার সেই বাকশাল গঠনের কথা চিন্তা করছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ আনিসুলের অসমাপ্ত পোড়ার কাজ সমাপ্ত করছেন আতিকুল!

আবারো প্রতিহিংসার আগুনে সর্বশান্ত করে দিলো গুলশান-১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরকে। সব কিছু হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসেছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের পাশে বসে তারা এখন কান্না আহাজারি করছেন। নি:শ্ব ব্যবসায়ীদের আর্তচিৎকারে শুধু গুলশান নয়, পুরো ঢাকা শহরের বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছে। তাদের একটাই কথা-আমরা এখন কি করবো? আমাদের চলার জন্য এখন আর কিছুই বাকী নেই। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ভোররাতে কেন বার বার আগুন লাগছে? এ আগুন পরিকল্পিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই গুলশানের এই মার্কেটটি নিয়ে চক্রান্ত করে আসছে। ভাগ বাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্য তারা এটিকে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন করে শপিং মল করার চেষ্টা করে আসছে। এই চক্রের মূলহোতা হলেন বাড্ডার আওয়ামী লীগ নেতাও ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতা তালাল রেজভী। প্রথম থেকেই তাদের এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ঢাকা উত্তরের প্রথম মেয়র আনিসুল হক। পকিল্পনা বাস্তবায়ন করতেই তারা ২০১৭ সালে ভোররাতে গান পাউডার দিয়ে মার্কেটে আগুন লাগিয়েছিল। গান পাউডারের পরিমাণ এতই ছিল যে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছিল।

ওই আগুনে কয়েকশ ব্যবসায়ী একেবারে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা তখন সরাসরি আগুনের জন্য মেয়র আনিসুল হকসহ ব্যবসায়ী নেতাদেরকে দোষারোপ করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আতিকুল ইসলাম মেয়র হওয়ার পর ওই মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী যারা আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, তারা কাঁচাবাজার ও মার্কেটটি ভেঙ্গে একটি বড় শপিং মল করার প্রস্তাব দেন। মেয়র আতিকুলও তাদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। কিন্তু মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এতে রাজি হচ্ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতা তালাল রিজভীসহ অন্যরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই শনিবার ভোরে আবারো আগুনে পুড়িয়ে দেয় মার্কেটটি।

আগুন যে পরিকল্পিত ছিল এটার প্রমাণ মিলেছে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্য থেকেই। আগুন লাগার পর ঘটনা স্থলে এসে হানিফ বলেছেন, যেকোনো মূল্যে এটিকে ভেঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল করতে হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা বলছেন, তালাল রিজভীরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। এর সঙ্গে মেয়র আতিকুলও জড়িত আছেন। তাদের টার্গেট হলো এখানে একটি বড় শপিং মল করে বাণিজ্য করা।

এনিয়ে আজ অনেকেই বলছেন যে, মেয়র আনিসুল হক পুড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন আতিকুল ইসলাম এসে তার সমাপ্তি ঘটাচ্ছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ স্মার্টফোন দিয়ে কি আগুন নেভানো যায়?

হাসান রূহী

অগ্নিকান্ডের কাছে রাজধানীর মানুষগুলো কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে তা বিশেষভাবে কোনো বিশ্লেষণের দাবি রাখে না। পুরান ঢাকার নিমতলী কিংবা চকবাজার থেকে শুরু করে অভিজাত বনানী পর্যন্ত আমাদের যে অভিজ্ঞতা, তা সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া বা বিপদগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে যে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে এসে হাজারও পেশায় যুক্ত হয় মানুষ। কিন্তু সেই মানুষকে নিরাপদ কাজের পরিবেশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। গতকাল বনানীর এফ আর টাওয়ার যদি আরও একটি রানা প্লাজা, তাজরীন কিংবা স্পেকট্রাম হতো তবে তার ভয়াবহতা দেখে হাহুতাশ করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিল না। সরকারি সংস্থার দেয়া তথ্য মতে এফ আর টাওয়ারে মৃতের সংখ্যা ২৫। বাস্তবিক অর্থে তা কতজন আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করতেই হয় যে, বড় ধরনের বিপদ থেকে তিনি আমাদের হেফাজত করেছেন। ২২ তলা এই টাওয়ার ভেঙে পড়লে কিংবা পুরোটাতেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে এ সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

সে যাইহোক, আজ কলম ধরেছি উৎসুক জনতার উদ্দেশ্যে। যারা কিছু ঘটার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এটি একটি মানবিক স্বভাব। কোন বিপদাপদ কিংবা দুর্যোগ-দূর্ঘটনার খবর শুনে ছুটে যাওয়া সম্পূর্ণ একটি মানবিক ব্যাপার। এতে দোষের কিছুই দেখি না। কিন্তু ছুটে যাওয়ার উদ্দেশ্য যদি হয় ফেসবুক লাইভ করা, ছবি, ভিডিও ধারণ কিংবা সেলফি তোলা, তাহলে তো অবশ্যই দোষের কিছু আছে।

মিডিয়ার উপর দখলদার সরকারের কড়া নজরদারির কারণে সামাজিক মাধ্যম আমাদের দেশের জনগণের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এমন অনেক তথ্য ও খবর রয়েছে যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঠিকই ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণে গণমাধ্যম ওই ইস্যুটি আর এড়িয়ে যেতে না পেরে খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এই ভাইরাল হওয়া যদি কারও নেশায় পরিণত হয়, অথবা মানবিক দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি করে তাহলে তার ফলাফল হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।

এই শিশুর কাছে শিক্ষা নিক উৎসুক জনতা

বনানী এফ আর টাওয়ার অগ্নিকান্ডের অনেক মর্মান্তিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অত্যন্ত মর্মপীড়াদায়ক ছবি ও ভিডিওর ভীড়ে কিছু ছবি দেখে যথেষ্ট হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। দূর্ঘটনা ঘটলে দূর্গত মানুষের সহায়তা করতে যদি ছুটে যাওয়া যায় তবে এরচেয়ে মহৎ কিছু আর হতে পারে না। কিন্তু কেউ যদি দূর্ঘটনার খবর শুনে ফটোসেশন, মিডিয়া কভারেজ, কিংবা ফেসবুক লাইভ দিতে ছুটে যান তাহলে তা মানবতার সাথে এক নির্মম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। ছবিতে দেখলাম বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের হাতগুলো উঁচু করে রেখেছেন। কিন্তু সে হাতগুলো সাহায্যের হাত ছিল না। তাতে দেখা যাচ্ছিল শত শত স্মার্টফোন। ছোটবেলায় গ্রামে কোথাও আগুন লাগার খবর পেলে গ্রামের মানুষকে দেখতাম যে যা পেরেছে তাই নিয়ে ছুটে যেত। বালতি, কলস, ঘড়া, ঘটি, দা, কাচি, খোন্তা… মোট কথা যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া যাকে বলে। কিন্তু একি! সভ্যতায় ঘেরা শহরে মানুষ ছুটে এসেছে ঠিক, সবার হাতে একই জিনিস, স্মার্টফোন। স্মার্টফোন দিয়ে কি আগুন নেভানো যায়? তবে কেন এই অদ্ভূত আচরণ!

সবাই যে একই কাজ করেছে তা বলবো না। কিছু বিবেকবান তরুণকে দেখেছি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলস কাজ করে যেতে। ছোট্ট একটি শিশুকেও দেখেছি জীবনের সকল শক্তি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের হোসপাইপের ছিদ্র হয়ে যাওয়া অংশ চেপে ধরতে। আরও অনেকেই অনেকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। তাদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আগুন নেভাতে স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন পানি, বালু। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বনানীর আগুন নেভাতে যখন হিমশিম অবস্থা। বারবার শেষ হয়ে যাচ্ছিল পানি। উৎসুক মানুষের ভীড় ঠেলে যাতায়াতে বেগ পেতে হচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স ও পানির গাড়িগুলোকে। ঠিক সে সময়ে যারা তারুণ্য ভরা হাত উচিয়ে স্মার্টফোন ধারণ করেছেন, তারা যদি এক বোতল করে পানি নিয়ে এসে পানির গাড়ির ট্যাংকে ঢেলে দিতেন কতই না ভালো হতো! যদি তারা আশে পাশে কোথাও থেকে শক্ত কাপড় বা ত্রিপল সংগ্রহ করে সবাই মিলে লাফিয়ে পড়া মানুষগুলোকে বাঁচাতে এগিয়ে যেতে পারতেন তবে হয়তো বেঁচে যেতে পারতো আরও কয়েকটি প্রাণ।

দূর্ঘটনার খবর সকলকে জানানোর দরকার। সাহায্য চাওয়া দরকার। যখন গণমাধ্যম সরাসরি লাইভ টেলিকাস্ট করছে, তখন উৎসুক জনতার লাইভ করার যৌক্তিকতা খুবই নগণ্য। তাই আসুন দূর্ঘটনা দেখলে স্মার্টফোন নয়, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমরা এগিয়ে আসি। মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য।

লেখকঃ ‌হাসান রূহী (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here