দুই হাসপাতালের কেনাকাটায় ১২ কোটি লোপাট, অস্তিত্ব নেই ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের!

0
280
সদর হাসপাতালে ১০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল নেই

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের জন্য ১৭ কোটি টাকার কেনাকাটায় প্রায় ১২ কোটিই লোপাট হয়েছে। পণ্য সরবরাহ ছাড়াই জাল স্বাক্ষরে বিল তুলে নিয়েছে এর সঙ্গে জড়িত চক্রটি। জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৭ কোটি টাকা দামের একটি সফটওয়্যার এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। কাগজে-কলমে এসব কেনা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ যন্ত্রপাতির কোনো হদিস নেই। ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ১০ কোটি টাকার পণ্যের মধ্যে সন্ধান মেলেনি প্রায় ৫ কোটি টাকার পণ্যের। সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকাই লোপাট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্র যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই এ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা মূল্যমানের ‘পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের একটি সফটওয়্যার কেনা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে বিল জমা দিলে ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষর করেন।

গত এপ্রিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি সেখানে পরিদর্শনে গেলে এই সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্ব পায়নি।

একজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি সফটওয়্যার দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী। এমনকি এটি কেন কেনা হয়েছে, কীভাবে ব্যবহার করা হবে- সে বিষয়েও বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের এ সফটওয়্যারটি সাধারণত যে কোনো ধরনের ডিজিটাল ইমেজিং মেশিনে ছবি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি মেশিনে এটি ব্যবহার করলে দেশে বা দেশের বাইরে চিকিৎসার্থে গেলে নির্দিষ্ট রোগীর রিপোর্ট ও ইমেজ সেখানে পাওয়া যাবে। তবে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি।

এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সিটিস্ক্যান বা এমআরআই মেশিনে এ ধরনের সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকে। তাই আলাদা করে কেনার প্রয়োজন নেই।

এ ধরনের মেশিন আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিএসিএস সফটওয়্যারের বাজারমূল্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য এক থেকে সোয়া কোটি টাকা।

তারা জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে দামে এই সফটওয়্যার কিনেছে সেই দামে একটি সাধারণ এমআরআই মেশিন এবং এর সঙ্গে দুই থেকে তিন কোটি যোগ করলে একটি আধুনিক প্রযুক্তির এমআরআই মেশিন কেনা সম্ভব।

এত দামে এ ধরনের সফটওয়্যার কেনার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী যুগান্তরকে বলেন, এটি আধুনিক প্রযুক্তির সফটওয়্যার। এটি সংযুক্ত হলে হাসপাতালের সব ডিজিটাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ছবি সংরক্ষিত থাকবে।

রাজধানী ঢাকার কোনো সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলেও সাতক্ষীরায় তিনি কেন এ সফটওয়্যার কিনলেন- জানতে চাইলে ডা. শাহজাহান বলেন, এটা ওপরের নির্দেশে কেনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের জন্য কেনা হবে। এটা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হল কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই ওপর থেকে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, অধিদফতর থেকে কোনো কিছুই কেনা হয় না। সবসময়ই স্থানীয় পর্যায়ে অর্থাৎ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে যে ক্রয় প্রস্তাব আসে তার পরিপ্রেক্ষিতেই মালামাল কেনা হয়ে থাকে।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় দশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। দুটি আলাদা বিলে এ টাকা পরিশোধ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান। একটি বিলে ১৬ আইটেমের ৩৬টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩টি আইটেমের ২০টি যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যার দাম এক কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। বাকি যন্ত্রপাতির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অপর বিলে ৩টি আইটেমের ৯টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। এর প্রত্যেকটির দাম ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সর্বাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের দাম ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিটি মেশিন কিনতে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চারটি মেশিনে সরকারের গচ্চা গেছে ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড ৪ডি মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা; অথচ ১ কোটি টাকায় আধুনিক প্রযুক্তির উন্নত মানের মেশিন কেনা সম্ভব। সেদিক থেকে এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

একইভাবে এনেসথেশিয়া মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা; যার প্রকৃত মূল্য ২২ লাখ টাকা, দুটি মেশিনের দাম পড়ে ৪৪ লাখ টাকা। এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। ১৮টি নেবুলাইজার মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা। অথচ ভালো মানের নেবুলাইজার মেশিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দামে কেনা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি মেশিন সাড়ে ৫ হাজার টাকা হলেও এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় বিলে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় ৫ কোটি টাকাই বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

কেনাকাটার বিষয়ে কথা বলার জন্য সাতক্ষীরা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বর্তমানে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হয়, সাতক্ষীরায় তার সাবেক কর্মস্থলে গিয়েও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু কোনোভাবেই তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে মালামাল সরবরাহের আগেই বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদার। তাই মন্ত্রণালয় থেকে যখন পরিদর্শক দল এসেছে তারা যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পায়নি। তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার কিছু কিছু করে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, ডা. তৌহিদুর রহমান কাউকে না জানিয়েই এসব কেনাকাটার তালিকা প্রস্তুত করেন। বিভাগীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের নাম ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। কেনাকাটা সম্পন্ন হলে বিল দেয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অসুস্থ অবস্থায় ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এসব চিকিৎসক হাসপাতালে তাকে দেখতে গেলে তাদের দিয়ে কৌশলে বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গত ৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে ফিরে তারা কর্তৃপক্ষ বরাবর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে ভারি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যান থেকে মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭২টি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে ৪,৯৯,৬০,০০০ টাকা এবং ৪,৯৯,৫০,০৫০ টাকার দুটি বিল পরিশোধ করা হয়। ওই টেন্ডার ও বিল পরিশোধ সম্পন্ন হয় ভূতপূর্ব সিভিল সার্জন, সাতক্ষীরা ডা. তৌহিদুর রহমানের সময়। হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যানের তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বিল পরিশোধের জন্য ব্যয় মঞ্জুরি প্রদান করেন।

প্রথম বিলের মাধ্যমে ৪টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ১টি ওটি লাইট ক্রয় করা হয়। যা বাক্সবন্দি অবস্থায় সিভিল সার্জন অফিসের বারান্দায় পাওয়া যায়। প্রতিটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ক্রয়মূল্য ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

দ্বিতীয় বিলের মাধ্যমে মোট ১৬ ধরনের ৩৬টি মেশিনের মূল্য পরিশোধ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে ১টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ১টি কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, ১৬টি নেবুলাইজার মেশিন, ১টি সাকশন মেশিন ব্যতীত অন্য কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।

যেসব মেশিন পাওয়া যায়নি তার মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এনেসথেশিয়া মেশিন উইথ ভেন্টিলেটর, হট এয়ার ওভেন, ইনকিউবেটর, সেন্টিফিউগেল মেশিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইনস্ট্র–মেন্ট সেট, অপথালমস্কোপি, স্লিট ল্যাম্প, রেটিনোস্কপ, ডেন্টাল এক্সেসরিজ সেট, ব্লাড কালেকশন মনিটর, ওয়াটার বাথ। এসব মেশিনপত্রের মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধমে ক্রয়কৃত পণ্য বুঝে নিতে একটি সার্ভে কমিটি করা হয়। যার সদস্য হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. আসাদুজ্জামান এবং সার্জারি বিভাগের ডা. শরিফুল ইসলাম। ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতি তারা চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন লিখে স্বাক্ষর করেন বিলে।

পরিদর্শন কমিটি তাদের কাছে এসব যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব জানতে চাইলে তারা ৩ জনই ব্যাপারটি জানেন না বলে পরিদর্শন টিমকে জানান। পাশাপাশি তারা জানান, বিলে তাদের স্বাক্ষর জাল করে কেউ বসিয়েছে। এ ক্রয় সংক্রান্ত কোনো কিছুই জানেন না এবং এ ধরনের কোনো কাগজেও তারা স্বাক্ষর করেননি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের কেনাকাটা সংক্রান্ত জটিলতার এ বিষয়টি তিনি জানেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিদর্শন কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেই আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তবে ছাড় পাবে না।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অধিশাখা) বেগম জাকিয়া সুলতানা বলেন, সাতক্ষীরার এ বিষয়টিসহ আরও এমন একাধিক বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌সংসারে অভাব: লিচু খেতে চাওয়াই দুই শিশুকে গলাটিপে হত্যা করলো বাবা

সংসারে অভাব-অনাটন, সামনে ঈদ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতে পারছিলেন না নিরাপত্তাপ্রহরী বাবা শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে দুই শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু চিকিৎসককে না পেয়ে লঞ্চ টার্মিনালে শিশুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন শফিকুল। হঠাৎ চার বছরের ছোট মেয়েটির লিচু খাওয়ার আবদার। পকেটে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। এমন পরিস্থিতে ক্ষোভ-অভিমানে প্রথমে ছোট মেয়ে তাইবা, পরে সঙ্গে থাকা ১১ বছরের শিশু তাইনকে গলাটিপে হত্যা করেন তাদের বাবা।

শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ তার কার্যালয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে এসব তথ্য জানান। গত শুক্রবার রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে বাথরুম থেকে দুই শিশু তাইন (১১) ও তাইবার (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটকের পর শফিকুল ইসলাম পুলিশের কাছে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নরসিংদীতে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুম থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে শিবপুর নিয়ে আসেন শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় সে তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার ছোট মেয়ে লিচু খেতে চান। কিন্তু কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তার ওপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত শূন্য হয়ে যান। পরে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনো মামলা দায়ের করেনি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান এসপি মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। তিনি একেকবার একক রকম কথা বলছেন।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌কট্টর হিন্দুবাদী পীযূষকে বাঁচাতে পরিবর্তনডটকম বন্ধ করলো আওয়ামীলীগ সরকার!

দেশের জনপ্রিয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তনডটকম সাইটটি ব্লক করে দিয়েছে সরকার। প্রথম দিকে পরিবর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছিল-প্রশাসনের সঙ্গে একটি নিউজ নিয়ে তাদের একটু ঝামেলা হয়েছে। এনিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের কথা হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেছে, সাইটটি বন্ধের মূল কারণ অভিনেতা পীযূষের সেই কথিত জঙ্গি বিরোধী বিজ্ঞাপন নিয়ে করা একটি নিউজ।

এদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথিত জঙ্গি বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচারের পর সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কঠিন চাপে পড়ে পীযূষ। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে যে, গণমাধ্যমে আমরা এই বিজ্ঞাপন দেইনি। এই নামে আমাদের সংগঠন আছে কিন্তু বিজ্ঞাপনটি আমরা দেইনি।

এরপরই পরিবর্তনডটকম একটি নিউজ করেছিল যে, বিজ্ঞাপনটি গণমাধ্যমে দিল কে? এই নিউজ করার পরই কঠিন চাপে পড়ে যায় সেই সব জাতীয় দৈনিকগুলো যারা বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেছিল। এরপর বিজ্ঞাপন দাতার নাম প্রকাশ না করার জন্য পত্রিকাগুলোকে চাপ দেয়া হয়।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুষন্ধানে জানা গেছে, কথিত জঙ্গি বিরোধী এই বিজ্ঞাপন প্রচারে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা শফিকুর রহমান ও সাবান মাহমুদসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত। তারা এই বিজ্ঞাপন থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছেন। নিউজটি ডিলেট করার জন্য তারা পরিবর্তনডটকমকে অনেক চাপ সৃষ্টিও করেছেন। কিন্তু পরিবর্তন কর্তৃপক্ষ নিউজটি ডিলেট না করায় সরকারকে দিয়ে তারা সাইটটি ব্লক করে দিয়েছে।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, যেসব জাতীয় দৈনিকগুলো পীযূষের এই বিজ্ঞাপন ছেপেছিল পরিবর্তন বন্ধের পেছনে তাদের হাতও রয়েছে। তারাও সাইটটি বন্ধের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, সরকার পীযূষকে বাঁচাতে জনপ্রিয় একটি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দিয়ে নোংরা খেলা শুরু করেছে। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য যেখানে শাস্তি হওয়ার কথা ছিল পীযূষের, সেখানে সরকার তাকে বাঁচাতে অন্যায়ভাবে একটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। এটা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌পীযূষের বিতর্কিত বিজ্ঞাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বন্ধ পরিবর্তন ডটকম

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থান থেকে ‘পরিবর্তন ডটকম’ দেখা গেলেও বন্ধ করে দেবার কারণে বাংলাদেশ থেকে সাইটটিতে প্রবেশ করা যাচেছ না।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের নামে ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য শনাক্তকরণ’ বিষয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে প্রতিবেদন করার জের ধরে গত রোববার সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয় নিয়ে গবেষণা করা সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল।

তবে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ বলেছে, বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের সাথে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

পরিবর্তন ডটকম বন্ধ করার সপ্তাহ দুই আগে কবি হেনরি স্বপন এবং আরও দুই মানবাধিকার কর্মীকে তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রোববারের সভায় তথ্য প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবাধিকার কর্মী এবং কবিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদ পীর ফজলুর রহমান।

বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন অবিলম্বে পরিবর্তন ডটকমসহ গত ১০ বছরে যে কয়টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম সরকার বন্ধ করেছে সেগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

‘পরিবর্তন ডটকম’ কেন বন্ধ করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বুধবার বেনারকে বলেন, “যেটা জানি তা হলো, সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন বন্ধ করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারব না।”

গত ১২ মে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্রে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর নামে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। এতে মুসলিমদের সাধারণ কিছু আচরণবিধিকে জঙ্গিবাদী আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর চারদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রীতির আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞাপনটি তাঁরা দেননি। এর প্রেক্ষিতে পরিবর্তন ডটকম ‘পীযূষরা দেননি, বিজ্ঞাপনটা দিলো কে?’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। তারপর থেকেই গণমাধ্যমটিতে আর প্রবেশ করতে পারছেন না বাংলাদেশের পাঠকেরা।

চেয়ারম্যান বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা সাইট বন্ধ করে থাকি।”

পরিবর্তন ডটকমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান বুধবার বেনারকে বলেন, “রোববার বেলা ১১টার দিকে আমাদের সাইট ব্লক করা হয়। কারণ জানতে আমরা বিটিআরসি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন বন্ধ করা হলো তা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনি।”

সরকার-বিরোধী সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন—বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন— ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী এবং মহাসচিব শহীদুল ইসলাম বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৫টি এবং ২০১৪ সালে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৫৪টি সংবাদমাধ্যম ব্লক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকার অব্যাহতভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের যে অপকৌশল গ্রহণ করেছে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”

অবিলম্বে পরিবর্তন ডটকমসসহ এর আগে বন্ধ করা সকল গণমাধ্যম খুলে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর দৃশ্য-অদৃশ্য সব ধরনের খড়্গ তুলে নেওয়ার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়াকে তাঁরা ‘স্বৈরাচারী ও হঠকারী’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ মার্চ মাসে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরা ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় সরকার।

কেন বন্ধ করা হলো?

গত ১২ মে দেশের প্রধান দুই দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান প্রধান সংবাদপত্রে ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি শনাক্তকরণ নিয়ামকসমূহ’ শিরোনামে একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপনটি সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামক একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে প্রকাশিত হয়। এই সংগঠনের নামে প্রায় প্রতি সপ্তাহে আলোচনা সভা, সেমিনার বা গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপ্যাধ্যায়।

ওই বিজ্ঞাপনে অন্যান্য বিষয় ছাড়াও বলা হয়, ‘হঠাৎ করে দাঁড়ি রাখা এবং টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করা’ জঙ্গিবাদের লক্ষণ। বিষয়টি জঙ্গিবাদ হলেও বিজ্ঞাপনটিতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।

বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। গত ১৬ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজ্ঞাপনটির সাথে তাঁর সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানান।

বুধবারও তিনি বেনারকে বলেন, “এই বিজ্ঞাপনের সাথে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আমাদের সংগঠন সম্পর্কে জাতিকে বিভ্রান্ত করার একটি নীল নকশা ছাড়া আর কিছু না।”

তবে গবেষক তাসনিম খলিল তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, পরিবর্তন ডটকম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সম্প্রীতি বাংলাদেশের বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি যদি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর সংগঠন না দিয়ে থাকেন, তাহলে এতগুলো পত্রিকায় টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপনটি কে দিয়েছে?”

তাসনিম খলিল বলেন, “শুনেছি এই প্রশ্নটি করার কারণেই বাংলাদেশে পরিবর্তন ডটকমে ওয়েবসাইটের একসেস বন্ধ করেছে বিটিআরসি।”

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

বরিশালে কবি হেনরি স্বপন, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল কাইয়ুম ও ইমতিয়াজ মাহমুদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বাতিলকৃত ৫৭ ধারায় তিন মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় পার্টি সাংসদ পীর ফজলুর রহমান।

সভা শেষে তিনি বেনারকে বলেন, “আজকের সভায় আমি বলেছি, হেনরি স্বপনসহ তিন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষ ব্যথিত হয়েছে। ৫৭ ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশে একটি সংবেদনশীল বিষয়। এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ভালো কথা নয়। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে পুলিশকে সচেতন থাকতে হবে।

কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বেনারকে বলেন, পীর ফজলুর এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তবে জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

সভা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।

উৎসঃ ‌‌বেনার নিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭টা তলা শেষ করে আসেন: প্রতিবন্ধীকে মোস্তাফা জব্বার


আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭ তলা শেষ করেন, তারপরে ১৮ তলায় আসবেন কামরুল নামের এক প্রতিবন্ধী মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের আবেদন জানালে এমনটা জবাব দেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সম্প্রতি ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কাওরান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে। নিজের অভাব গুছাতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রাম থেকে হুইলচেয়ারে চেপে এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কামরুল। কিন্তু মন্ত্রীর এমন উত্তরে আবার গ্লানি আর হতাশা নিয়ে ফিরলেন তিনি।

বাংলা ডট রিপোর্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বাংলার ওয়েব সাইটটির বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংবাদের পাঠকদের জন্য রিপোর্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

তখন সবেমাত্র ডিগ্রি (পাস কোর্স) শেষ করেছেন কামরুল হাসান। এরপরই ক্রনিক মায়োপ্যাথি রোগে আক্রান্ত হন তিনি। রোগে অচল হয়ে যায় তার দুটি পা। হাতেও এর কিছুটা প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে পরিবারের বোঝা হয়ে ওঠেন কামরুল। বাড়তে থাকে গ্লানি, ব্যর্থতা। হুইলচেয়ারে শুরু হয় তার পথচলা। এ অবস্থায় কেটে গেছে কামরুলের প্রায় ১০ বছর।

কিছু একটা করতে হবে, এই তাড়না সারাক্ষণেই কাজ করতে থাকে কামরুলের মনে। সম্প্রতি ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৯’ সম্পর্কে টেলিভিশন থেকে জানতে পারেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কামরুল সিদ্ধান্ত নেন, রাজধানীর কাওরান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলন থেকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানবেন এবং চেষ্টা করবেন, কাজের জন্য ভালো একটা প্লাটফর্ম পাওয়ার। কাজের মাধ্যমে দূর করবেন সব সীমাবদ্ধতা।

তাই টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রাম থেকে হুইলচেয়ারে চেপে একাই রওনা দেন কামরুল হাসান। এই দুঃসাহসিক যাত্রা শেষে দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথমদিন গতকাল রবিবার (২১ এপ্রিল) কামরুল হাজির হন পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ের এই সম্মেলনে। আজ সোমবার (২২ এপ্রিল) সম্মেলনের শেষদিন দুপুরে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেছেন। তবে পূর্ণতায় নয়, শূন্যতা ও গ্লানি নিয়ে শুরু হয়েছে তার দুঃসাহসিক-অনিশ্চিত বাড়ির উদ্দেশে রওনা। তবে রওনার আগে শূন্যতা, গ্লানির কথা জানিয়ে গেছেন প্রতিবন্ধী কামরুল হাসান। সেই সঙ্গে তার গ্লানির কিছুটা ধরা পড়েছে অনুসন্ধানিতে।

এই আয়োজনের অংশ হিসেবে রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় এক সেমিনার। তাতে অংশ নেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা। সেমিনার শুরুর আগ মুহূর্তে স্টেজে থাকা মন্ত্রীসহ অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত সেমিনারে আগতদের একাংশ। এমন সময় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে হাজির হুইলচেয়ারে বসা কামরুল হাসান। সাধারণ মানুষের সহায়তায় মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন মোস্তাফা জব্বারের।

কামরুল হাসানকে এ সময় স্টেজ থেকে মোস্তাফা জব্বার জানান, তিনি সেমিনারে এসেছেন। সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। তার দপ্তরে যেন পরবর্তী সময়ে কামরুল দেখা করে।

এ সময় কামরুল হাসান বাংলা’কে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মানুষ, ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানবার আইছিলাম। মন্ত্রী স্যার অফিসে যাইতে কইল। অফিসে যোগাযোগ কেমনে করমু, আমারে কী যাইবার দিব? আমারে একটু হেল্প করেন। সারাদিন জার্নি কইরা কালিহাতী থেইকা আইছি।’

কামরুল আরও বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়-ইনকাম হয়, অর্থ উপার্জন হয়। আমি আমার জীবনের মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারি না। আমার বাৎসরিক ইনকাম প্রতিবন্ধী ভাতা ৮ হাজার টাকা। আমি বিএ পাস লোক। ভাবছিলাম কোনো জবঠব, ফ্রিল্যান্সিংয়ের রাস্তা দেখাইয়া দেয়, সেজন্য আসছিলাম।’

এরপর সেমিনার শুরু হয়ে গেলে ঠাঁয় বসে থাকেন কামরুল। টানা চার ঘণ্টা চলে সেমিনার। রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে শেষ হলে মোস্তাফা জব্বার যেদিক দিয়ে নামবেন, সেদিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন কামরুল। তার উদ্দেশ্য, দপ্তরে দেখা করার জন্য মোস্তাফা জব্বারের ভিজিটিং কার্ড নেয়া।

কামরুল আবার মনোযোগ আকর্ষণ করায় স্টেজ থেকে মোস্তাফা জব্বার নামার আগেই এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমান।

ফারহানা এ রহমানকে কামরুল জানান, তিনি বিল্ডিং ডিজাইনের অটোক্র্যাটের কাজ জানেন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর্মজীবন গড়তে চান। এ সময় ফারহানা বলেন, ‘আপনি আমাকে ফোন দিলেই হবে। আমি আপনাকে বলে দেব, কোথায় আপনি ট্রেনিং করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে তো আপনাকে কিছু শিখতে হবে। না শিখলে আপনি কাজ করবেন কীভাবে। সেটার ডিটেইল কে বলবে আপনাকে, তার সঙ্গে আপনাকে আমি যোগাযোগ করিয়ে দেব।’

পরক্ষণেই মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার স্টেজ থেকে নেমে যাওয়ার সময় একটু জোরে কামরুল হাসান বলে ওঠেন, ‘স্যার, আমি অফিসে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতাম। একটু ভিজিটিং কার্ড যদি দিয়ে যেতেন।’

মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের প্রশ্ন, ‘আমার সাথে কী বিষয়ে, আপনি কীসে কাজ করেন?’ কামরুলের উত্তর, ‘আমি একটু ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটু ধারণা…।’

এবার মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে মন্ত্রী যদি আপনাকে ধারণা দিয়ে দেয়, তাহলে বাকি লোক কী কারণে আছে? ফ্রিল্যান্সিং করবেন, আমার এখানে চারটা ডিপার্টমেন্ট আছে। ওদের সাথে কথা বইলা, পরে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন। আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭ তলা শেষ করেন, তারপরে ১৮ তলায় আসবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আইডিয়া তো আমি দেব না। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আইডিয়া দেবে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্ট। প্রজেক্টে যোগাযোগ করেন।’

তখন রাত ৯টা বেজে গেছে। এত রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়ারও কোনো উপায় নেই। আগত সাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, আশপাশেই একটা মসজিদ আছে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সেখানেই রাতটা কাটিয়ে দেবেন। দু’জন ব্যক্তি তাকে নিয়ে রাত ৯টার পরে মসজিদের উদ্দেশে রওনা দেন।

পরদিন (আজ সোমবার) বাড়ি চলে যাওয়ার সময় রাতের দুঃসহ স্মৃতির কথা জানান বাংলা’কে জানান প্রতিবন্ধী কামরুল। তিনি বলেন, ‘কালকে রাত্রে যা হইছে, রাস্তায় রাত কাটানো। খোলা আকাশের নিচে। এইটার আর পুনরাবৃত্তি আর জীবনে কখনো করতে দিতে চাই না। এ রকম দুঃসাহসিক সাহস আর দেখাতে চাই না।’

তিনি জানান, মসজিদে ওঠার জন্য কয়েক ধাপ উপরে উঠতে হয়। কিন্তু তার পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি। কথা বলার সময় চোখ লালচে রাঙা হয়ে যাওয়া কামরুল বলেন, ‘রাতে একবার ঝটকা আইছিল, বাতাস। তখন খুব খারাপ লাগছিল। বাতাসে ধুলায়-ঠুলায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। আমার ঢাকায় আসার আর কোনো ইচ্ছা নাই।’

১০ বছরের প্রতিবন্ধী জীবনে অনেক আশ্বাস পেয়েছেন কামরুল। কিন্তু আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। বেসিসের কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাসেও তার ভরসা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা করছিলাম, এখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিমু। কিন্তু পারলাম না। গতকাল মোস্তাফা জব্বার বললেন, মন্ত্রী হয়ে আমি তোমাকে ফ্রিল্যান্সিং শিখামু নাকি।’ কথাটা বলার পর কয়েক সেকেন্ড ধরে হাসলেন কামরুল।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ডট রিপোর্ট

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকদের নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে মির্জা ফখরুলের নিন্দা


কৃষকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের ন্যায্য দাবির কথা কানেও নিচ্ছে না। বরং সরকারের একজন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কৃষকদের এই বিক্ষোভকে ‘স্যাবোটেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‘কৃষকদের বাস্তব এই সেন্টিমেন্টকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতার এহেন মন্তব্যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এদেশের কৃষকদের বর্তমানে যে দুরাবস্থা তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা।

তিনি বলেন, খাদ্য শস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে কৃষকের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। দেশের কৃষককুল তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বহু স্থানে ধানের জমিতে আগুন দিয়ে রাস্তায় ধান ফেলে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যে বিশেষ করে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬২ লাখ টন। অথচ এই সময়ে সরকারি চ্যানেলে বা ব্যবস্থায় খাদ্য শস্য আমদানি হয়েছে ৯৭.৭ লাখ মে. টন, যার মধ্যে চাল ৩৮.৯ লাখ মে. টন এবং গম ৫৮.৮ লাখ মে. টন।

তিনি বলেন, একই সময়ে বেসরকারি চ্যানেলে খাদ্য আমদানির পরিমাণ ৮৩.৮ লাখ মে. টন; যার মধ্যে চাল ৩০.১ লাখ মে. টন এবং গম ৫৩.৭ লাখ মে. টন

‘অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারিভাবে মোট খাদ্যশস্যের আমদানি ছিল (২০১৭-১৮) ১৮১.৫ লাখ মে. টন, এর মধ্যে চাল আমদানির পরিমাণ ৬৯ লাখ মে. টন। (সূত্র-বাংলাদেশ ইকোনোমিক রিভিউ ২০১৭-১৮)। গত ১০ মাসে ৩ লাখ ৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে ৯৭ হাজার টন চাল। (সূত্র-দৈনিক প্রথম আলো ১৭ মে ২০১৯ ও ২৩ মে ২০১৯)।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ধান/চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ী চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে চালকল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক তার জমিতে উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে কেজি প্রতি লোকসান গুনছে ১০/১২ টাকা। (সূত্র-২৩.৫.২০১৯ প্রথম আলো)।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের উৎপাদনকে হিসেবে নিলে বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ২ কোটি মে. টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬.৫ শতাংশ। আমাদের দাবি ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করা হোক। এতে বেশি পরিমাণ কৃষককে সহায়তা দেয়া যাবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপিঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এই খেলাপিঋণ গ্রহীতাদের জন্য সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে। যদিও এই ছাড় মহামান্য হাইকোর্ট আটকে দিয়েছে।

‘সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছেন। অথচ এই খেলাপিঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মে. টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা উপকৃত হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও অদূরদর্শীতার কারণে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি আজ ধ্বংসের মুখে। বারবার গরীব কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রমিক লীগের খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদকে ৩০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার


রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে জাতীয় শ্রমিক লীগের খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহষ্পতিবার রাতে খিলগাঁও থানার ছাহেরুনবাগ এলাকা থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্যে খিলগাঁওয়েরই নবীনবাগ এলাকা থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় নূর মোহাম্মদের গাড়িচালক মো. মাসুদ মিয়াকেও। জব্দ করা হয় নূরের নিশান পেট্রোল জিপটি (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ঘ-০২-২১৪৮)।

অভিযানে অংশ নেওয়া খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বৃহষ্পতিবার রাতে বিপুল ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ ও তার গাড়িচালককে গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, শ্রমিক লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ ছিলেন গরীব পরিবারের সন্তান। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি। তার বাবা ছিলেন রিকশাচালক; এখন রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ আইসক্রিম গলিতে খুলেছেন রিকশা গ্যারেজের ব্যবসা। এলাকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিশে এক সময় হেরোইন-ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন নূর। এই নেশা থেকে একসময় তিনি জড়িয়ে পড়েন হেরোইন, ফেন্সিডিল ও গাঁজার ব্যবসায়। অল্প সময়ের মধ্যেই খিলগাঁওয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর খেতাব অর্জন করেন এই নূর মোহাম্মদ।

খিলগাঁওয়ের ছিনতাই, ফুটপাত চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটেরও হোতা নূর। চাঁদাবাজি ও মাদকের কারবার রীতিমতো আলাদিনের চেরাগ এনে দিয়েছে তার হাতে। আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দরিদ্র পরিবার থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক নূর মোহাম্মদ। গড়েছেন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। অনেক টাকা আর ক্ষমতা হাতে এলেও সন্ত্রাসের অপবাদ তার পিছু ছাড়েনি। তাই অপরাধীর তকমা কাটাতে তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন রাজনৈতিক পদ-পদবী। এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও থানা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

খিলগাঁওয়ের আইসক্রিম গলি এলাকাই ‘সৃষ্টি’ নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন নূর মোহাম্মদ। মূলত এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই খিলগাঁওয়ে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মাদক ব্যবসা, জুয়া ও নারী ঘটিত অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগে অবশ্য গত বছর ‘সৃষ্টি’ নামে তার ওই মাদক নিরাময় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

ওই সময় পালিয়ে বাঁচলেও মাদকের কারবার ছাড়তে পারেননি নূর মোহাম্মদ। রাজনৈতিক পদকে ঢাল বানিয়ে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়া বিশাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেদার চালিয়ে আসছিলেন কারবার। সিন্ডিকেটের কর্মীরা মোটরসাইকেল ও ভ্রাম্যমাণভাবে বিকিকিনি করলেও শ্রমিক লীগের এই নেতা ইয়াবা বেঁচতেন নামি-দামি গাড়িতে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন ক্ষমতাধর এই শ্রমিক লীগ নেতা।

পুলিশ জানায়, মাদকের এই মামলা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নূর মোহম্মদের বিরুদ্ধে ছিনতাই-মাদকের আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া খিলগাঁও ভূঁইয়াপাড়ার মিয়া হত্যাকাণ্ড মামলার আসামিও তিনি।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে সরকারঃ মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে সরকার ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে সে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। এসময় তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি ও নিঃশর্ত মুক্তি চান।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ শিকার করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই তিনি রাজনীতি ও ক্ষমতায় এসেছেন।

শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দীন সরকার,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার ডায়বেটিস কন্ট্রোলে নেই, এমনকি ইনসুলিন নেয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তিনি বলেন, চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি যা হওয়ার কথা ছিলো তাই হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী এতদিন বাম হাত নাড়াতে পারতো না, এখন ডান হাতও নাড়াতে পারছে না। সাহায্য ছাড়া তিনি বেড থেকে উঠতে পারছে না। তার মাশেল পেশীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে সে মামলায় তিনি জামিন পেতে পারেন। কিন্তু সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে আটকে রাখা মানে দেশের সব ভালকে আটকে রাখাঃ শামসুজ্জামান দুদু


বিএন‌পির চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে জে‌লে আট‌কে রাখা মা‌নে দে‌শে যা কিছু ভা‌লো আ‌ছে সব আট‌কি‌য়ে রাখা বলে মন্তব্য করেছেন বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদ‌লের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরী কৃষকদল আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, সারাবিশ্বের রাজনীতিতে গণতন্ত্রকামী, দুর্নীতিবিরোধী, সর্বব্যাপী মেহনতী মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। এদেশে তিনি স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি‌লেন। গণতন্ত্রকামী সেই নেত্রীকে তথাকথিত দুর্নীতি মামলার নামে তথাকথিত বিচারের মাধ্যমে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। তাঁকে জেলখানায় আটকে রাখা মানে বাংলাদেশের যা কিছু ভালো তা জেলখানায় আটকে রাখা। তাঁকে আটকে রাখা মানে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতাকে আটকে রাখা।’

বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে জেল থে‌কে মুক্ত করা ছাড়া দে‌শের কৃষ‌কের , শ্র‌মি‌কের মেহন‌তি মানু‌ষের স্বার্থ রক্ষা হ‌বে না মন্তব্য ক‌রে সা‌বেক ছাত্রদ‌লের এই সভাপ‌তি ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকের, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা যদি করতে হয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হয়। তাহলে প্রথম কাজ হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা। সেই জেল মুক্তি আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার জন্য জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কাজ করছে। কৃষকের স্বার্থে শ্রমিকের স্বার্থে মেহনতী মানুষের স্বার্থে কাজ করছে।’

‌দে‌শের জনগ‌নের প্র‌তি আহ্বান জা‌নি‌য়ে বিএন‌পির এই নেতা ব‌লেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক, একনায়কতন্ত্রিক সরকার শাসন করছে। সেই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট, কৃষক-শ্রমিকসহ সকলকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। এবং স্বৈরতান্ত্রিক এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। এটি আমাদের কৃষক দলের আহ্বান।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এল রহমানের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সম্পাদক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, নাজিম উদ্দিন মাষ্টার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসকে সাদী, নাসির হাজারী, আলিম হোসেন, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মোজাম্মেল হক মিন্টু, আবদুর রাজি, এম জাহাঙ্গীর আলম শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌হঠাৎ বাংলাদেশের দুইটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল আওয়ামীলীগ সরকার বন্ধ করে দিল কেন?


সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে কমপক্ষে দুটি জনপ্রিয় সংবাদ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন ও ক্ষমতাসীনদের যৌক্তিক সমালোচনা করায় বন্ধ করা হয়েছে এই পোর্টাল দুটি।

গত ১৯ মে পরিবর্তন ডট কম প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু ২২মে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকার কর্তৃক বাংলা রিপোর্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হঠাৎ কেন এই ওয়েব সাইট বন্ধের তোড়জোড়?

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ই মে দাড়ি রাখা, টাখনুর উপরে কাপড় পরাসহ জঙ্গি সনাক্তে ২৩টি লক্ষণ দেখিয়ে একটি বিজ্ঞাপন জাতীয় দৈনিকে ফলাও ভাবে প্রচার করে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ১৬ মে তিনি বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তখন পীযূষের এই মন্তব্যে পরিবর্তন ডট কম‘পীযূষরা দেননি, বিজ্ঞাপনটা দিলো কে?’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে এরপর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় জনপ্রিয় এই ওয়েব সাইটটি। এছাড়া একই ঘটনায় নতুন দিগন্ত নামে একটি ওয়েব সাইট হ্যাক করার প্রচেষ্টা চালায় সরকার ।

এদিকে ২২ই মে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাংলা ডট রিপোর্ট ওয়েব সাইটটি। ঐদিন ‘গ্লানি নিয়ে বিপিও সামিট থেকে ফিরলেন প্রতিবন্ধী কামরুল’ শিরোনামে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও প্রতিবন্ধী কমরুলের কিছু কথোপকথন একটি প্রতিবেদন পকাশ করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সাংবাদিককে ফোন করে সংবাদটি সরিয়ে ফেলার জন্য হুমকি দেয় মোস্তফা জব্বার। এরপর ব্যর্থ হয়ে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়।

আলজাজিরার সাক্ষাতকারে বাংলা রিপোর্টার সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু বলেন, আমাদের প্রতিবেদক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারপর ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরানোর জন্য হুমকি দেয় মন্ত্রী। আমরা সেই সংবাদটি সরিয়ে না নিলে ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আমাদের বিশ্বাস যে এটি সেই মন্ত্রীর আদেশে বন্ধ হয়ে করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, আওয়ামী লীগ সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা ও সত্য প্রকাশ করায় প্রধান বিরোধী দলের পোর্টালসহ ৫৪টি নিউজ পোর্টাল এবং ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গত মার্চ মাসে আল জাজিরার ওয়েবসাইটে তিনজন ব্যক্তির গুমের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে সিনিয়র নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকারে পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আল জাজিরার ঐ একই প্রতিবেদনের অনুবাদ প্রচার করায় বন্ধ করে দেয়া হয় নিউজ বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট ‘জবান’।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। চাহিদা অনুয়ায়ী চিকিৎসাও পাচ্ছেন না। ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোন কিছু খেতেও পারছেন না। কিন্তু এতো কিছুর পরও মনোবলের দিক দিয়ে বিন্দু মাত্র টলানো যাচ্ছে না রাজপথের আন্দোলনে আপসহীন নেত্রীর খেতাব পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

২০১৪ সালে যে কারণে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। নিজের শারীরিক অসুস্থতা, কারাবন্দি, দলে নেতাদের নানা নাটকীয় সিদ্ধান্তসহ এতো প্রতিক‚লতার মধ্যেও সেই একই কথাতেই অবিচল রয়েছেন তিনি। নিজের নীতিবিরোধী কোনো প্রস্তাবেই রাজী করানো যাচ্ছে না তাকে।
গত ১৪ এপ্রিল দলের সিনিয়র তিন নেতাকে সরাসরি না করে দিয়েছেন নিজের প্যারোলে মুক্তি ও নির্বাচিত এমপিদের শপথের বিষয়ে। এবার উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দলের নেতাদের প্রতি। দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতাদের নাটকীয় সব সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়লেও প্রেরণা খুঁজছেন বেগম জিয়ার অনড়-আপসহীন মনোবলেই।

নির্দলীয় সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই দাবিতে ওই সরকারের বাকীটা সময় আন্দোলন চালিয়ে গেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি কারাবন্দি হওয়ার আগ পর্যন্তও একই কথা বলে গেছেন। দলটির নেতারাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন নির্দলীয় সরকার ও বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেবেন না এবং শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে তারা যাবেন না।

কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। নির্বাচনের আগের দিন রাতে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে দলটির সিনিয়র নেতারা। নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির এমপিরা শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাবে না জানিয়ে বছরের শুরুর দিকে উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাদের বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু নানা নাটকীয়তায় গতমাসে বিএনপি মহাসচিব ছাড়া বাকীরা সংসদে গিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় সেই আসন শূণ্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সংসদে শপথ নেয়ায় বিস্মিত হন দলটির নেতাকর্মীরা।

তবে সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের এক সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেবে বিএনপি। একইসাথে বগুড়ার উপনির্বাচনেও অংশ নেবে দলটি। দলের এমন সিদ্ধান্তে সিনিয়র নেতাদের অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন। ক্ষোভ নিরসনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকও ডাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এই উপ-নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করার জন্য দলের একটি মনোনয়ন ফরম বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কাছে পাঠানো হয়। তিনি এই ফরমে স্বাক্ষর না করেই ফিরিয়ে দেন এবং নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদে যাওয়া এবং দলটির এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে মত ছিল না বিএনপি চেয়ারপারসনের। কারণ এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও তার কাছ থেকে আসে। দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকে মনে করেন বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের পর যেখানে দল উপজেলা নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে বর্জন করেছে। সেখানে দলের মহাসচিবের শূণ্য আসনে অংশগ্রহণ করা ঠিক নয়।

বিএনপি স‚ত্র জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী বিএনপি চেয়াপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র দেখেই ক্ষুব্ধ হন।

ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিলো? আমি তো কিছুই জানি না। আমাকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি? এদিকে খালেদা জিয়া সম্মত না হওয়ায় এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে আগ্রহী নন, সেখানে দল যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই বগুড়া নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার বলেন, বেগম জিয়ার কাছে মনোনয়নপত্র পাঠানো হলেও তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। তিনি নির্বাচনে করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। শায়রুল কবির খান বলেন, বগুড়ার নেতাদের দাবির মুখে খালেদা জিয়ার নামে ফরম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ম্যাডাম ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অসম্মতি জানায়। এ কারণে বাকী চারজনের মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন।

এদিকে সপ্তাহখানেক ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠিক হবে কি-না জানতে চান। তবে সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। যদিও দলের গুরুত্বপ‚র্ণ এক নেতার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। সে অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেন। খালেদা জিয়াসহ দলের ৫ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

উৎসঃ ‌‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি : সাখাওয়াত হোসেন


সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি। এর ফলে সংক্রামকের মতো উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে করায়ত্ত করে ফেলা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘কোন দলের কেমন ইশহেতার’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগের রাতে কেউ ভোট না দিতে পারে সেজন্য ভোট সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হওয়া দরকার এবং ভোটের দিন সকালেই ব্যালট বক্স কেন্দ্রে পাঠানো দরকার।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা মনে করি, আইন-কানুন সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের পর্যালোচনা করে দেখা দরকার, আইন-কানুন সঠিকভাবে প্রণয়ন হচ্ছে কি-না, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর কি-না এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে কি-না।

তিনি বলেন, আমাদের শাসন-ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তাই শাসন-ব্যবস্থা ঠিক করা তথা রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রদর্শন করবেন, যাতে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়।

ড. হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়েও আমরা অনেকটা স্বাধীনভাবে লিখেছি, এরশাদের সময়ে আমরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছি। অথচ আজকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না, নানান ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়। আজকে নির্বাচনের ওপর আমরা অনেক জোর দিচ্ছি। অথচ আমাদের দলগুলোর মধ্যেই গণতন্ত্র নেই। আর দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকলে সংসদে কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে?

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। সুদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে ফেলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নামছে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কি জনগণের দাবিগুলোকে সামনে নিয়ে মানুষকে সংগঠিত করে তুলতে পারছে? এই অবস্থার উত্তরণে আমি মনে করি, জনগণকে ক্ষমতায়িত করে তুলতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনু্ষ্ঠানে জনকল্যাণমূখী রাজনীতি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে আমাদের তরুণরা ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি তুলেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, রাষ্ট্র মেরামতের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সংস্কার প্রস্তাবে ১৯টি বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

সুজনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ড. সিআর আবরার, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা, আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই; ঐটা ভারতের ঘটনাঃ মাহবুব-উল আলম হানিফ


আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এখনও থামেনি। সুযোগ পেলেই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। সর্বশেষ তারা ধানক্ষেতে আগুন দেয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই। বাংলাদেশ কৃষকের ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার যে ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। ভারতের পাঞ্জাবের একটি গমক্ষেতে অনেক আগে আগুন দেয়া হয়েছিল। সেই আগুনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছিলেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার। তিনি তার রোপণকৃত ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেছিলেন।

টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার।

ঘটনাটি সত্য এবং সারাদেশে আলোচিত হয়েছিল। এরপর সারা দেশে এইরকম প্রতিবাদের একাধিক ঘটনা ঘটে। কিন্তু আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ঘটনাটি অস্বীকার করে।

হানিফ আরো বলেন, আর জুটমিল শ্রমিকদের কীভাবে খুলনার একজন বিএনপি নেতা উসকিয়ে দিয়েছেন তা সবার জানা রয়েছে।

ধানক্ষেতে আগুন লাগার অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে এবং পাটকল শ্রমিকদের যারা উসকিয়ে দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

হানিফ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশে আজ নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গ্রামে-গঞ্জে নারীরা আজ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফল হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বে আসছেন।’ এসবই শেখ হাসিনার অবদান। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে সব নেতাকর্মীকে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপিকা সুলতানা সফির সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাবেক নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের নেত্রী জাকিয়া হাসান, ফজিলাতুনন্নেসা ইন্দিরা ও যুব মহিলা লীগের সভাপাতি নাজমা আক্তার প্রমুখ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

উৎসঃ ‌‌বাসস

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের ধান কাটার ঘোষণায় আতঙ্কে কৃষকরা


খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, দখল-বাণিজ্য ও পদপদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে ছাত্রলীগ। তাই এসব সমালোচনা থেকে মুক্তি ও দুর্নাম গোছাতে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের ভাষায়-ধান কাটার জন্য কৃষকরা মজুর পাচ্ছে না আর পেলেও বেশি মজুরী দিতে হচ্ছে। তাই কৃষকদের এই সংকটে সারাদেশে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এই ঘোষণা নিশ্চয় প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, আসলে এটাকেই বলে মানবসেবা। আর একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার গুরুত্বই আলাদা। কিন্তু সমস্যা হলো আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে। ছাত্রীগের অতীত কর্মকাণ্ডে এমন কোনো রেকর্ড নেই যে তারা মানুষের সেবা করতে গিয়ে কোনো অপকর্ম করেনি। সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, জমি দখল করেছে, টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে এমন ঘটনা অসংখ্য আছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন দুর্যোগ সময়ে ত্রাণ সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সরকারি কোষাগারের মালামাল নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছে। গরিবদের জন্য বরাদ্দ দুম্বার গোস্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আছে।

তাই এসব কারণে, ছাত্রলীগের এই ধান কাটার ঘোষণায় শুধু শিক্ষাঙ্গন বা রাজনৈতিক অঙ্গন নয় কৃষকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটানার পর কৃষকদের মধ্যে বড় একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধান কাটার পর আবার সেই ধান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে যেতে পারে। অথবা পকেট খরচের কথা বলে ধানের একটি অংশও তারা নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্খা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত? কাদেরকে শেখ হাসিনার তদন্তের নির্দেশ!


ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ, কৃষকরা কেন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না -সেটা নিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের মাঝে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। উল্টো তারা এখন সেই কৃষককেই সন্দেহ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এই তদন্তের নির্দেশনার কথা জানান।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনও চাইবে না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী, কৃষকবান্ধব সরকার কখনও করবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখানে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, এর বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি


২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপির অভিযোগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে অসন্তোষ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মঙ্গলবার বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওমেন ও হাউজ অ্যাপ্রিসিয়েসন কমিটির চেয়ারপারসন নিতা সুই ম্যালনিকফ লাউয়ি।

স্টেইট, ফরেন অপারেশন এবং রিলিটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল-২০২০ শিরোনামে উত্থাপিত বিলের ১১১ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ বিলটি পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটিতে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকায় সুরক্ষায় সরকারের সমর্থন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কি কাজ করছে এ বিষয়ে বিল পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএসএআইডির শীর্ষকর্তাকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক, চিংড়ি ও মৎস শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে অর্থছাড়ের বিষয়ে বিলে নির্দেশ দেয়া হয়। বিলটি এ মাসের মধ্যেই পাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএসআইডির মাধ্যমে যে অর্থ সাহায্য বাংলাদেশে বরাদ্দ ছিল তা ব্যাপক হারে কমে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here