যুবরাজ সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে: সিআইএ

0
699
মোহাম্মাদ বিন সালমান (বামে) ও খালিদ বিন সালমান (ডানে) - ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক: সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানই দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

শুক্রবার মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’- এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সিআইএ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোহাম্মাদ বিন সালমানই খাশোগিকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে।

অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন খাশোগি।হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, সিআইএ যেসব তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ছোট ভাই ও আমেরিকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে খাশোগির টেলিফোনালাপ।

ওই ফোনালাপে খালিদ খাশোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গিয়ে সৌদি কনস্যুলেট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন এবং এই নিশ্চয়তা দেন যে, তার কোনো ক্ষতি হবে না।

কিন্তু খাশোগি সেখানে গিয়ে নিহত হন এবং এর দু’দিন পরই খালিদ বিন সালমান আমেরিকা থেকে তড়িঘড়ি করে সৌদি আরবে ফিরে যান। তাকে আর ওয়াশিংটনে ফেরত পাঠানো হয়নি বরং অন্য কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে করা একটি ফোনকলও আমলে নিয়েছে সিআইএ। ওই ফোনকলে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘাতক দলের সদস্য মাহের মুতরেব জানান, অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

সুত্রঃ আরটিএনএন
আরও পড়ুনঃ খাসোগির হত্যাকারীদের তুরস্কের মাটিতেই বিচার করতে হবে: তুরস্ক


আঙ্কারা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় ১৫ সদস্যের যে দলটি জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই তুরস্কের মাটিতে হতে হবে।

ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলি রিয়াদের তৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় চাভুসওগ্লু এ মন্তব্য করেন। সৌদি কৌঁসুলি খাসোগি হত্যার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। খবর পার্স টুডের।

এ সম্পর্কে চাভুসওগ্লু বলেন, ‘সৌদি আরবের দেয়া বিবৃতিকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি তবে তা যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শেয়ার করেছে। কিন্তু আমরা আগেই জেনেছি যে, এ হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং খাসোগিকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়। তারা কীভাবে খাসোগিকে হত্যা করবে এবং তার মৃতদেহ নষ্ট করবে তাও পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এজন্য বিশেষ কিছু যন্ত্রপাতি আনা হয়েছিল সৌদি কন্স্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়ে।’

সৌদি সরকারি কৌঁসুলি গতকাল স্বীকার করেছেন যে, জামাল খাসোগিকে জীবিত ধরে আনার জন্য সৌদি আরব থেকে একটি দল তুরস্কে যায় কিন্তু তারা সেখানে তাকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করেছে।

তবে এ ঘটনা সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান কিছু জানেন না বলে সরকারি কৌঁসুলির মুখপাত্র দাবি করেছেন।

উৎসঃ আরটিএনএন
আরও পড়ুনঃ খাসোগি হত্যার নির্দেশ আসলে কে দিয়েছিলেন?


সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলি বলছেন, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নন।

এই কর্মকর্তাটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল খাসোগিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার। তিনি আরো বলেন, খাসোগির সাথে ধস্তাধস্তি হবার পর তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দেয়া হয়। খবর বিবিসির।

গত ২রা অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খুন হন ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন সমালোচক জামাল খাসোগি।

সরকারি কৌসুলি এই হত্যার ঘটনায় ১১জনকে অভিযুক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছেন। মামলাটি একটি আদালতে পাঠানো হয়েছে, এবং একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আরও দশজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

রিয়াদে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিং এ ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর সালান বিন রাজিহ সালান বলেছেন, খাসোগির মৃত্যুর পর তার দেহ দূতাবাসের ভেতর খণ্ড খণ্ড করে ফেলা হয়।

এরপর তার দেহের বিভিন্ন অংশ কনস্যুলেটের বাইরে স্থানীয় একজন সহযোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়, জানান ওই মুখপাত্র।

সেই সহযোগীর একটি স্কেচ তৈরি করা হয়েছে এবং দেহাবশেষের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হত্যার দায়ে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের কারো নাম পরিচয় প্রকাশ করেননি সালান ।

তবে তিনি জানান, তদন্তে জানা গেছে যে ব্যক্তি খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনিই দলটির মধ্যে আলোচনাকারী হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করছিলেন।

উপ-গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আহমেদ আল আসিরি তাকে ইস্তাম্বুলে পাঠিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল খাসোগিকে তার স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে সৌদি আরবে ফিরে যেতে বাধ্য করা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সৌদি যুবরাজ এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। বাদশাহ সালমানের পুত্র এবং কার্যত সৌদি আরবের শাসনকাজ পরিচালনাকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার কোনরকম সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এ ধরনের একটি ঘটনা সম্পর্কে যুবরাজ মোহাম্মদ কিছুই জানতেন না তেমনটি হওয়া খুবই অসম্ভব। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন – সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটরের কিছু বক্তব্য সন্তোষজনক নয়।

তিনি বলেন, ওরা বলছে যে খাসোগি তাদের বাধা দিয়েছিলেন বলে তাকে হত্যা করা হয়, কিন্তু এ খুন আসলে ছিল পুর্বপরিকল্পিত।

‘তার পর তারা বলছে তার দেহ কেটে টুকরো করা হয়েছিল, কিন্তু এটা আপনাআপনি হয় নি। তাকে হত্যা এবং মৃতদেহ টুকরো করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোক আগে থেকেই আনা হয়েছিল।

তুর্কি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে – খুনের কয়েক ঘন্টা আগে যে ১৫ জন সৌদি এজেন্ট ইস্তাম্বুল এসেছিল – তাদের সাথে হাড় কাটার করাত ছিল, এবং তাদের একজন ছিলেন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত একজন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেপ এরদোগান বলেছেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ যেটি বলুক না কেন, খাসোগি হত্যার নির্দেশ সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এসেছে’ – তবে তিনি বিশ্বাস করেন যুবরাজ সালমান সেটি করেননি।

অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ খাসোগিকে ‘টার্গেট করে নৃশংসভাবে হত্যা’ করার অভিযোগে ১৭ সৌদি কর্মকর্তার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বলা হয়, তাদেরকে তাদের ‘কর্মকাণ্ডের পরিণাম ভোগ করতে হবে’।

যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন যুবরাজ সালমানের সাবেক একজন উপদেষ্টা সউদ আল-কাহতানি আছেন। তিনি এ ঘটনার ‘পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন’ বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

কাহতানির ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান সৌদি মুখপাত্র, তবে জেনারেল আসিরির ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

অবস্য দুজনের একজন হচ্ছেন মাহের মুতরেব – যিনি ‘অপারেশনের সমন্বয় এবং তা কার্যকর করেছিলেন’। অপরজন হচ্ছেন ইস্তাম্বুলের কনসাল-জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবি।

সুত্রঃ আরটিএনএন
আরও পড়ুনঃ ইসরাইলি বর্বর হামলায় গাজা উপত্যকা এখন মরুভূমি, ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি


গাজা উপত্যকায় হামাসের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরাইলের ব্যাপক বোমা হামলা করার মধ্য দিয়ে ইসরাইল এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের মধ্যকার আরেকটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিকদের হামাসের রকেট হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাস কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আল-আকসা টিভি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজা শহরে অবস্থিত আল-আকসা টিভি ভবনের পাশের ভবনে বসবাস করা আবু আয়মান লেমজেনি বলেন, ‘এটি অনেকটা ভূমিকম্পের মত মনে হয়েছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে, এখানে পূর্ব থেকে থাকা দোকান পাট, ঔষধের দোকান, সরকারি দপ্তর, এমনকি বড় বড় বিল্ডিংগুলোর অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে।’

গাজার অধিবাসী জামাল মর্তুজা বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছে। গত রাতে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারি নি।’

সুরক্ষিত আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। গাজার আরেক অধিবাসী মোহাম্মদ আবুউদ বলেন, ‘যখনই আমরা আকাশে মিসাইল দেখতে পেয়েছিলাম, আমরা তড়িঘড়ি করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছি। আমরা সাধারণ নাগরিক। আমাদের কাছে কোনো ধরনের বন্দুক বা রকেট নেই।’

এদিকে ইসরাইলের সমুদ্র নিকটবর্তী শহর আসকেলোনের ১২৮,০০০ অধিবাসী হামাস কর্তৃক নিক্ষেপিত মহুর্মুহু রকেট হামলার মধ্য দিয়ে তাদের রাত কাটিয়েছেন।

ইসরাইলের নাগরিক তিন সন্তানের জনক মেইর ইদরি তার পরিবারসহ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা ট্রমায় আক্রান্ত হয়েছি, এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

ইদরি বলেন, ‘আমরা সরকারের নিকটে আমাদের সন্তানদের সঠিক এবং নিরাপদভাবে বড় করার নিশ্চয়তা চেয়েছি। এটি আমাদের খুবই প্রয়োজনীয় একটি নাগরিক অধিকার।’

তবে মেইরি ইদরি ছাড়াও ইসরাইলের অন্যান্য নাগরিকরা ‘হামাস ধ্বংস হোক’ এই বার্তা বয়ে বেড়ান। গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামি এই দলের সাথে ইসরাইল ২০০৮ সাল থেকে অন্তত তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়েছে।

হামাস এবং ইসরাইলের মধ্যকার ২০১৪ সালের যুদ্ধে গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ বিল্ডিং ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং এগুলোর অধিকাংশই এখনো পর্যন্ত পুনঃনির্মাণ করা হয় নি।

চলতি মাসের ১৩ তারিখ মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলি হামলায় গাজা শহরের ব্যস্ততম রাস্তাঘাটগুলো একেবারে মরুভূমি সদৃশ হয়ে যায়। গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে বসবাস করা মোহাম্মদ বুলবুল জানান, ‘আমরা ২০১৪ সালের যুদ্ধ এখনো ভুলতে পারিনি। জনগণ যুদ্ধ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। যথেষ্ট হয়েছে।’

সূত্রঃ আরব নিউজ ডট কম
আরও পড়ুনঃ খাশোগি হত্যা: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ১৭ সৌদি কর্মকর্তার ওপর


ওয়িশিংটন: সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা ১৭ সৌদি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়।

এদের মধ্যে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৌদি আল কাহতানি ও সৌদি কাউন্সেল জেনারেল মোহাম্মদ আলোতায়িবিও রয়েছেন।

সৌদি আরবের প্রধান প্রসিকিউটর খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ সন্দেহাজনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ করার পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট’র।।

‘গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস একাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’ এর আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হবে।

মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে এ আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে থাকে।

২ অক্টোবর বিয়ের কাগজপত্র আনতে তুরস্কের ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গেলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় অন্যদের মধ্যে আছেন, কাহতানির সহযোগী মাহের মুতারেব। এ বছর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে রাষ্ট্রীয় সফরকালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মুতারেবকে ছবিতে দেখা গেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মিউচিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা একজন সাংবাদিককে টার্গেট করে খুন করেছে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের পরিণতি ভোগ করতেই হবে।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি আরব একাধিকবার তাদের বিবৃতি পাল্টেছে। সবশেষে সৌদি আরব এ হত্যা পরিকল্পিত ছিল বলেও স্বীকার করে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন ঘটনাটি আসলেই কি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। এ হত্যায় দায়ী প্রত্যেককেই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

সুত্রঃ আরটিএনএন
আরও পড়ুনঃ খাশোগি হত্যা: মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ৫ সৌদি কর্মকর্তা


সৌদি আরবের প্রসিকিউটর বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার দায়ে সৌদি আরবের পাঁচ সরকারি কর্মকর্তা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি।

ওই প্রতিবেদনে সৌদি আরবের প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাশোগির খুনের সঙ্গে জড়িত ওই পাঁচজনের সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে। খবর এএফপি’র।

সৌদি রাজ-পরিবারের সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সৌদি আরবের প্রসিকিউটর এক বিবৃতিতে জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজার ঘোষণা দিয়েছেন।

স্বেচ্ছা নির্বাসিত এই সাংবাদিককে কীভাবে হত্যা করা হয়, সেসম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছিল প্রসিকিউটরের কার্যালয়। এতে বলা হয়, প্রথমে শ্বাসরোধে তাকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। তবে তার মরদেহ কোথায় রয়েছে সেব্যাপারে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত জানায়নি সৌদি।

প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর কনস্যুলেটের বাইরে তুর্কি এক এজেন্টের কাছে সাংবাদিক খাশোগির খণ্ডিত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে খুনের ব্যাপারে যুবরাজ বিন সালমান কোনো তথ্যই জানতেন না বলে ওই মুখপাত্র দাবি করেন।

সৌদি গোয়েন্দাবাহিনীর উপ-প্রধান জেনারেল আহমেদ আল আসিরিই কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দেন বলে ওই মুখপাত্র বলেন।

খুনের সঙ্গে অভিযুক্ত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২১ জন কর্মকর্তা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহের জন্য ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন খাশোগি।

সুত্রঃ আরটিএনএন
আরও পড়ুনঃ খাসোগি হত্যাকাণ্ড: অডিও বার্তায় বিন সালমানের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইএ


সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা একটি অডিও বার্তা বিশ্লেষণ করে এটি বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের কাছ থেকেই এসেছে। বার্তা সংস্থা ওয়াশিংটন পোস্টের একজন সাংবাদিক তেমনটিই মনে করেন।

এর পূর্বে তুরস্ক থেকে জানানো হয়েছে যে, অডিও বার্তাটি বিভিন্ন পশ্চিমা মিত্রদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং সে অডিও বার্তায় ‘তোমার বসকে বল’ এমন একটি বার্তা ছিল। আর এই শব্দগুলোকেই খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সাথে বিন সালমানের জড়িত থাকার বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে বলে তুরস্কের দাবী

যদিও বিন সালমানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু বার্তা সংস্থা নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ‘তোমার বস’ এই শব্দ দ্বারা বিন সালমানকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করছেন।

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যাকারী ১৫ সদস্যের ঘাতক দলের একজন মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব, যিনি সে সময় একটি ফোন কল করেছিলেন এবং আরবীতে ‘তোমার বস’ এই শব্দটি উল্লেখ করে খাসোগি হত্যাকাণ্ড সফল হয়েছে বলে অপর প্রান্তের একজনকে আশ্বস্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা শব্দগুলো বিশ্লেষণ করে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সাথে বিন সালমানের জড়িত থাকার কথা মোটামুটি নিশ্চিত বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন।

ব্রুস রিদেল নামের সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি অভিযুক্ত করার মত একটি শক্ত প্রমাণ।’

ফোন কলটি যিনি করেছেন তিনি সৌদির একজন কূটনৈতিক এবং বিন সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও আরবি ভাষার থেকে ভাষান্তর করার সময় শব্দের হেরফের হতে পারে কিন্তু মুতরেব স্পষ্টতই বলতে চেয়েছেন যে, ‘কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।’

এদিকে চলতি মাসের ১০ তারিখে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ অডিও বার্তার অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের নিকটে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এরদোগান বলেন, ‘তারা এই অডিও বার্তাটি শুনেছেন এবং তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন।’

১৩ নভেম্বর কানাডার প্রধানমন্ত্রী সরকারিভাবেই স্বীকার করেছেন যে, তার দেশের গোয়েন্দারা অডিও বার্তাটি শুনেছেন। তবে তিনি অডিওটি নিজে শুনে দেখেননি বরং তাকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

এর পূর্বে সৌদি কনস্যুলেটে ১৫ জনের একটি ঘাতক দল কর্তৃক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হলেও এই প্রথম তুর্কি গোয়েন্দারা বিন সালমানের দপ্তরের সাথে ঘাতকদের যোগাযোগের কোনো অডিও বার্তা প্রকাশ করল।

খাসোগি নিহত হওয়ার ওই ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে বিন সালমানের দপ্তরে অন্তত চারটি ফোন কল করা হয়েছে বলেও তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এবং তা বিন সালমানের জড়িত থাকার দিকে ইঙ্গিত করে বলেও তাদের বিশ্বাস।

যদিও বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে কিন্তু যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার উপদেষ্টা জন বোল্টন চলতি মাসের ১৪ তারিখে বলেছেন, অডিও বার্তাটি সৌদি কনস্যুলেট থেকে ধারণ করা হলেও তা বিন সালমানের সাথে ঘাতকদের যোগাযোগের সূত্রের সাথে গাঁথা নয়।

অনেকেই ধারণা করেন যে, যেমনটি ইয়েমেনের যুদ্ধ বিন সালমানের অগোচরে হচ্ছে না ঠিক তেমন করেই সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি হত্যাকাণ্ডটি বিন সালমানের অগোচরে ঘটা অসম্ভব একটি ব্যাপার।

যদিও বিন সালমানের নাম অডিও বার্তাটিতে সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি কিন্তু খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সময়কার পরিস্থিতির সাথে মেলালে তাতে বিন সালমানের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

বিন সালমান একজনকে তার ঘনিষ্ঠতা দিয়েছেন এবং তিনি খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পরে টেলিফোন বার্তায় বলছেন –‘তোমার বসকে জানাও’ এর মাধ্যমে হত্যাকারী সম্পর্কে বিন সালমান ছাড়া আর কারো দিকে আঙ্গুল তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ মিডেলইস্ট মনিটর ডট কম।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here