নৌকার প্রার্থী হতে রবিবার ফরম নিচ্ছে সাকিব-মাশরাফি! আওয়ামীলীগ ও তাদের স্বজনরা নিশ্চিত করেছে।

0
1316

নানা জল্পনাকল্পনা আর বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম নিচ্ছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য।

এরই মধ্যে মাশরাফির একজন স্বজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাকিবের পক্ষ থেকে কেউ না জানালেও আওয়ামী লীগের নেতারা আবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার থেকে দলের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফরম বিক্রি শুরু করে ক্ষমতাসীন দল। আজকালকের মধ্যে দুই ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে ফরম নেবেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। সেটি রবিবার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

মাশরাফি তার নিজের এলাকা নড়াইল-২ আসনের জন্য ফরম নেবেন বলে নিশ্চিত করেছে তার একজন বন্ধু। তিনি বলেন, ‘আগামী কাল আসবেন মাশরাফি’।

মাশরাফির কাছ থেকেই সাকিবের মনোনয়ন ফরম নেয়ার বিষয়টি জেনেছেন তার ওই বন্ধু। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার কোন আসন থেকে প্রার্থী হতে চান, সেই বিষয়টি জানাতে পারেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিকদেরকে। তিনি জানান, দুই তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। তারা জানিয়েছেন, রবিবার আসবেন তারা ফরম নিতে।

মাশরাফি ও সাবিকের ভোটে অংশ নেয়ার বিষয়টি গত ২৯ মে প্রকাশ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মুহূর্তে রাজনীতিতে নেমে ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে নানা কথা উঠার পর দুই দিন পর ওবায়দুল কাদের জানান বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে। তবে তিনি সে সময় এটিও জানান, এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় চমক থাকবে।

কাদের সেদিন বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই সেলিব্রেটিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাদেরও একটা আকাঙ্ক্ষা থাকে; তারা দেশের জন্য সম্মান এনেছে।’

সুত্রঃ ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ রবিবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনবেন মাশরাফি এবং সাকিব


জনীতিতে আসছেন দেশের ক্রিকেটের দুই তারকা। শুধু রাজনীতি-ই নয়, ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। এজন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনতে রবিবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে যাবেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাশরাফি ও সাকিব রবিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে মনোনয়ন ফরম কিনতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তারা ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেছিলেন। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাশরাফির বাড়ি নড়াইল ও সাকিব আল হাসানের মাগুরায়।

এর আগে, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান নির্বাচন করতে পারেন বলে ৩০ মে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সে সময় তিনি বলেছেন, তারা যদি নির্বাচনে আসেন, তাহলে তাদের ভোট দেবেন।

সুত্রঃ আরোটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে নির্বাচনে সবার জন্য কি সমান সুযোগ হচ্ছে?: ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

আটক না করার প্রতিশ্রুতির পরও সারাদেশে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সমাবেশে বাধাও দেয়া হচ্ছে৷ অন্যদিকে একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাচন পর্যবেক্ষকের নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে৷

বিকল্পধারার সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)-র বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় একটি দলীয় সমাবেশে থাকার কথা ছিল৷ তিনি ওই সমাবেশে ওই এলাকায় সংসদ নির্বাচনে তার দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি৷ হেলিকপ্টারযোগে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল তার৷ কিন্তু সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি না দেয়ায় তিনি যেতে পারেননি৷ এই ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বি চৌধুরী বলেন, ‘‘এটা নিশ্চিত যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার এই জনসভা বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছে৷ আমরা সরকারের এই গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি৷ এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের প্রতিশ্রুতির পরিষ্কার বরখেলাপ৷’’

অভিযোগ আছে, ওই আসনে জাতীয়পার্টিরও একজন প্রার্থী আছেন৷ তাকে সুবিধা করে দিতেই সরকারকে প্রভাবিত করে এরশাদ সিভিল এভিয়েশনের মাধ্যমে এই কাজ করিয়েছেন৷ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন৷

বি চৌধুরী’র প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গির আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমেও খবর প্রকাশ হয়েছে যে, কী কারণে হেলিকপ্টার ওড়ার অমুমতি দেয়া হয়নি৷ এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিপরীত আচরণ৷ সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবারের ওই জনসভা হলেও বি চৌধুরী সাহেবসহ ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা যেতে পারেননি৷’’

তিনি জানান, ‘‘বি চৌধুরী বলেছেন কোনোক্রমেই ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এ ধরনের ঘটনা হলে আমরা নিশ্চিতভাবে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো৷’’

এদিকে বিএনপি অভিযোগ করছে, সংলাপে কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও তা মানা হচ্ছে না৷ মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী৷

তিনি বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘‘ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তিন দিনে ২২০০ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷’’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নতুন করে মামলা ও গ্রেপ্তার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমনকি রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি৷’’ তিনি জানান, ‘‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, বিভিন্ন জেলা, পৌরসভাসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন৷’’

রাজশাহীতে পুলিশ ঐক্যফ্রন্টের শুক্রবারের সমাবেশের অনুমতি ১২টি শর্তে সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে দেয়া হয়েছে৷

রাজশাহী বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘সমাবেশ যাতে সফল না হয়, সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বাধা দেয়া হয়৷ পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে যৌথ মহড়া দেয়৷ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়৷ মাইকিং চলাকালে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে নেয়া হয়৷’’

রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘‘সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে৷ তারা প্রচার মাইকের সঙ্গে থাকা পোস্টার, ব্যানার খুলে নিয়েছে৷ নেতা-কর্মীরা যাতে বাইরের জেলাগুলো থেকে না আসতে পারে ,তার জন্য রাজশাহীগামী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷’’

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু শুক্রবার বিকালে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও ধরপাকড়, গায়েবি মামলা, হয়রানি কিছুই বন্ধ হয়নি৷ হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনছে না, অথবা বন্ধের কোনো নির্দেশ তারা পাননি৷ আজকে (শুক্রবার) রাজশাহীর সমাবেশেও নানা ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে৷ তারপরও মানুষের ঢল নেমেছে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়৷ আমরা তফসিল পিছাতে বলেছিলাম৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা শোনেনি৷’’

ড. কামাল হোসেন শারীরীক অসুস্থতার কারণে রাজশাহীর সমাবেশে যাননি৷

অধিকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিবন্ধন বাতিল:

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিবন্ধন বাতিল করেছে৷ নির্বাচন কমিশন বলেছে, ‘‘নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো সংস্থাটিকে সংবিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত হতে হবে৷ অধিকারের (নিবন্ধন নং-১৪) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ এর ৬(২) উপধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্টানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো৷’’

এর জবাবে অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, এই নির্বাচন কমিশন সরকারের পরামর্শে চলে৷ আর সরকারের পরামর্শেই আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিবন্ধন বাতিল করেছে৷ এই কমিশন যে নিরপেক্ষ না এবং সাকারের পক্ষে কাজ করছে, এ নিয়ে আমরা একাধিক রিপোর্ট দিয়েছি৷ সেইসব রিপোর্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আমরা করেছি৷ আর সে কারণেই হয়তো আমাদের পর্যবেক্ষক নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘এর আগে আমরা একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি৷ এনজিও ব্যুরো আমাদের আবেদন বাতিল করেনি৷ পেন্ডিং রেখেছে৷ নিয়ম হলো বাতিল না করা হলে পর্যবেক্ষণে বাধা নেই৷ নির্বাচন কমিশন আমাদের তাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতিও দিয়েছিল৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমাদের নিবন্ধন বাতিলের আগে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি৷’’ তিনি জানান, ‘‘আমরা এই কমিশনের কাছে কোনো আপিল করব না৷ নিবন্ধন ফিরে পেতে আমরা আমাদের মত পদক্ষেপ নেবো৷ আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি জানাবো৷’’

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১১৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে৷ সেখানে অধিকারের নামও ছিল৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা।

আরও পড়ুনঃ সরকার ও ইসির ফাঁদ ছিন্ন ভিন্ন করে আমাদেরকে বিজয়ী হতেই হবেঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

রাজশাহীর জনসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দাবি করেছেন সরকারের ইশারায় তলবিবাহক নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করে এমন একটা ফাঁদ পেতেছে, যাতে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী।

শুক্রবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় পর্যায়ের জনসভায় নেতারা এই দাবি করেন।

জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায় করতে হবে।

মির্জা ফখরুল উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনার উপস্থিত হয়েছেন। পথে পথে বাধা অতিক্রম করে আপনারা গণতন্ত্রের জন্য এসেছেন। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আজকে প্রশ্ন, গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। আমাদের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে কিনা, তা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এই স্বৈরাচার সরকার আটকে রেখেছে। তিনি অসুস্থ, হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে তাঁকে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তারা পুলিশ দিয়ে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে মানুষকে গণতন্ত্রের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মধ্যে এক্য গড়ে বাংলাদেশের মুক্তি জন্য লড়াই করছি। সে জন্য আমরা সংলাপে বসেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি।

ফখরুল বলেন, সব জাতীয় নেতারা আমরা এক হয়েছি। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য। কারণ গণতন্ত্র মানে দেশনেত্রী, দেশনেত্রী মানে গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য, এই দেশের জন্য নিজের সারাটা জীবন উজার করে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। অল্প বয়সে নিজের স্বামীকে হারিয়েছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান? আপনারা কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চান? আপনারা কি ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চান? এ সময় সবাই হাত তুলে ফখরুলের সঙ্গে চাই চাই বলে আওয়াজ তুলেন।

তফসিল ও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে এখনো বলব, তফসিল পিছিয়ে দেন। তফসিল বদলান। আমরা আন্দোলন করছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে। আর আপনারা এমন একটা ফাঁদ পেতেছেন, যাতে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। ওই ফাঁদ, ওই বেড়াজাল, ওই অত্যাচার ছিন্ন ভিন্ন করে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

জনসভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে। আমরা যাতে নির্বাচনে না যেতে পারি, দেশের ৯০ ভাগ ভোটারকে বাদ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে বাদ দিয়ে, সাত দফা না মেনে নির্বাচন বাংলাদেশে হতে পারে না।’

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি বলতে খালেদা জিয়া। তাই, খালেদা জিয়াকে আর বন্দি করে রাখা সম্ভব নয়।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ আমরা করব কিনা। এটা এখনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। তবে একটা সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে হয়েছে, সেটা হলো বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজকের জনসভায় যোগ দিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে তিনি জনসভায় মুঠোফোনে বক্তব্য দিয়েছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টা এসএম আকরাম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও মো. শাহজাহান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির রাজশাহী বিভঅগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীতে এটি চতুর্থ সমাবেশ। এর আগে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় জনসভা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। ২৩ ডিসেম্বর রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সুত্রঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্ট রাজশাহীতে জনসভা করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেঃ ওবায়দুল কাদের

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিভাবে জনসভা করলো সেটাই একটা বিরাট প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা তারা করতে পারে না। এই জনসভার মাধ্যমে তারা নির্বাচনী আচরণবিধি বা আইন সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’তে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) তাদের যে শর্তে অনুমোদন দিয়েছে তা তারা মানেনি। তারা তো তাদের বক্তব্যে আন্দোলনের কথা বলেছে, নির্বাচনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তাদের ৭ দফা দাবি না মানলে তারা আন্দোলনে যাবে। তফসিল ঘোষণার পর এই অবস্থায় এ রকম জনসভা করে, এরকম বক্তব্য কি তারা দিতে পারে? প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার বক্তব্যে নির্বাচনের আচরণবিধি সম্পর্কে যে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, এটা কি তার লঙ্ঘন নয়? এ প্রশ্নটাই সিইসি’র কাছে রেখে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, তারা আন্দোলন করতে পারবে না। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা, চট্টগ্রাম সব জায়গায় দেখা গেছে তারা নির্বাচনমুখী ও সমাবেশে আন্দোলনবিমুখ জনগণ। তাদের আন্দোলনের ভাঙা হাত জমছে না। এটাই সর্বশেষ রাজশাহীর সমাবেশ থেকে প্রমাণ হলো।

৭ দফা দাবি মেনে না নিলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অপেক্ষা করুন ৩০ তারিখ পর্যন্ত। তলে তলে তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আর সামনে দিয়ে ফাঁকা আওয়াজ তুলছে। যদি কিছু আদায় করে নিতে পারে এই আশায়।

মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন-আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, এনামুল হক, হাবিবুর রহমান সিরাজ, শাহ আলম মুরাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া প্রার্থনা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত রয়েছেন।

সুত্রঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here