মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে ভূমধ্যসাগরে ‘মরণখেলা’

0
182

মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে নানা পথ ঘুরে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা লিবিয়ার ত্রিপোলি পৌঁছেন। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগরের ভয়ঙ্কর পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছতে হয় ইউরোপে। তাদের অনেকেরই তিউনেসিয়ার উপকূলে সলিল সমাধি হয়।

জীবন-মৃত্যুর এই সংকটকে মানব পাচারকারীচক্র ‘গেইম’ নামকরণ করেছে। কারণ কিছু নৌকা উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছে। অনেকগুলো ডুবে যায় যাত্রী নিয়ে। এমন দোলাচলে এমন যাত্রাকে ‘গেইম’ মানে খেলা হিসেবে দেখে পাচারকারী চক্র। ত্রিপোলিতে মানবপাচারকারী চক্রগুলো গেইম নামের টর্চার সেলও খুলে বসেছে।

সেই ‘গেইম’ ঘরে নির্যাতন চালিয়ে দেশের স্বজনদের কাছ থেকে লুটে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ। অবৈধভাবে ইউরোপে পাচারকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন মানবপাচারকারীকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান তারা। র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানবপাচারকারী বাংলাদেশি এসব চক্রের মূলহোতা হিসেবে কাজ করেন কথিত গুডলাক ভাই ওরফে নাসির উদ্দিন।

লিবিয়ার ত্রিপলিতে বসে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার চক্রের শতাধিক সদস্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানবপাচার করে আসছেন। আর এতে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। গুডলাক চক্রের অপর দুই ভাইও এর সদস্য। গুডলাকের মেঝ ভাই মঞ্জুর ইসলাম ও ছোটভাই রিপন। গুডলাক ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। এ চক্রের ঢাকায় থাকা সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব।

অবশ্য চক্রের কয়েক সদস্যকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার কথা জানায় একটি সংস্থা। এমন অন্তত ১৫টি চক্রের খপ্পরে পড়ে ইউরোপযাত্রার স্বপ্ন থমকে যায় সাগরের জলে ডুবে। অবৈধপথে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে কখনো ঠাঁই মেলে জঙ্গলে তো কখনো প্রাণ যাচ্ছে তুষারপাতে। বাংলাদেশিদের এমন করুণ পরিণতির বিষয়টি দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হলে নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

তবে চক্রের নিচের এবং মধ্যম পর্যায়ের কিছু সদস্য ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত মূলহোতারা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই চক্রের নামে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও শরিয়তপুরের নড়িয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। এই মামলা দুটির সূত্র ধরে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব জানায়, পৃথক আরেকটি চক্রের হোতা হলেন মিরাজ হাওলাদার। মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ লিবায়ায় বসে চক্রটির মাধ্যমে ইউরোপ পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ লুটে নিচ্ছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে লিবায়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে অসংখ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

দূতাবাস ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও এ বিষয়টি অবহিত করেছে। মানবপাচারকারী চক্রগুলো ইউরোপে পাঠাতে তিনটি রুট ব্যবহার করে। প্রথমটি হলো বাংলাদেশ থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়ায়। দ্বিতীয়ত, ভারত-ইস্তাম্বুল-লিবিয়া। তৃতীয় পথ হলো বাংলাদেশ হয়ে দুবাই-জর্ডান-লিবিয়া। ভিকটিমরা ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থানরত গুডলাক ভাইসহ তার চক্রের সদস্যরা তাদের গ্রহণ করে। ত্রিপলি থেকে শুরু হয় ভয়ঙ্কর সাগরযাত্রা। আর তার আগেই সেখানে বসে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের অর্থ। অর্থ না দিলে তাদের ওপর চালানা হয় অমানুষিক নির্যাতন।

র‌্যাব জানায়, ভূমধ্যসাগরের তিউনেশিয়া উপকূল হয়ে ইতালি প্রবেশই থাকে তাদের মূল টার্গেট। এছাড়া ইউরোপের অন্য দেশও তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ইউরোপগামী কিছু জাহাজও অনেক সময় তাদের তুলে নিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা। অনেক সময় তিউনেশিয়ার পাশের মাল্টার কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ে আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই মেলে। র‌্যাবের তদন্ত সূত্র জানায়, এই চক্রের অনেক সদস্যই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

শিগগিরই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, ‘এই চক্রের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত। আমরা পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে সবাইকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছি।’ এর আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যাওয়ার খবর বহু পুরনো। বর্তমানে এই যাত্রায় শামিল হয়েছে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এদিকে মানব পাচারের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রাণালয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তথ্য বলছে, লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এত মৃত্যু, ভয়, ক্ষুধাকে পেছনে ফেলে এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ অভিবাসী প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই মিছিলে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। সর্বশেষ ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন ৩৯ বাংলাদেশি। তাদের একজন সিলেটের বিশ^নাথ উপজেলার রামপাশার নওধার গ্রামের তরুণ রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন।

বাবার নাম ইলিয়াস আলী। পরিবারের সবার ছোট ছেলে তিনি। সিলেট সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নওধার গ্রামের পার্শ্ববর্তী বৈরাগী বাজারে খোকনের বড় ভাই রেজাউল ইসলাম রাজুর ‘ফিজা এন্ড কোম্পানি’ নামে একটি ব্যবসা রয়েছে। যেখানে খোকন ও তার বাবা বেশিরভাগ সময়ই বসতেন। প্রায় ৬ মাস আগে বৈরাগী বাজারের পার্শ্ববর্তী কাঠলীপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিক তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খোকনকে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। মাত্র আট লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর কথা তার ফাঁদে পড়েন খোকন। কিন্তু সবার আদরের খোকনকে পাঠাতে চাননি তার পরিবার।

পরে তার জোরাজুরিতে রাজি হয় পরিবার। এখনো পরিবার জানে না কি ঘটেছে খোকনের ভাগ্যে। খোকনের মতো আরও অন্তত ৫ তরুণ ইউরোযাত্রার ওই নৌকার যাত্রী ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এআইজি মো. সোহেল রানা আমাদের সময়কে বলেন, ‘মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলগাঁও এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো এনামুল হক তালুকদার, মোহাম্মদ আক্কাস মাতুব্বর ও আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া। গ্রেপ্তারকৃত এই তিনজনকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌রাজধানীতে ৮০ ভাগ হোটেলে খাওয়ানো হয় মৃত মুরগীর চিকেন গ্রিল এবং শর্মা


রাজধানীর কাওরানবাজার, কাপ্তানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন মুরগী আসে কয়েক লাখ। পরিবহণ এবং তাপমাত্রার কারণে প্রতিদিনই মারা যায় কয়েক হাজার মুরগী । মৃত মুরগিগুলো ফেলে দেয়ার কথা থাকলেও কখনোই ডাস্টবিনে মৃত মুরগী দেখা যায় না। তাহলে কোথায় যায় মরে যাওয়া সেই মুরগীগুলো। মাই টিভি

রাত আনুমানিক চারটায় রাজধানীর কাওরানবাজার সংলগ্ন সড়কে গাড়ি থেকে মুরগী নিয়ে যাওয়ার পর পড়ে থাকা মৃত মুরগীগুলো সংগ্রহ করে এক যুবক। রাজধানীর অন্য একটি বাজারের চিত্রে দেখা যায় দুই তিনজন লোক ঘুরছে মৃত মুরগীর সন্ধানে। রাতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় পড়ে থাকা অসংখ্য মৃত মুরগী ।

কাওরানবাজারের সকালের দৃশ্যে দেখা যায়, ঝুঁড়ি থেকে মুরগী বের করে বিক্রি করছে এক যুবক। জিবিত মুরগীর দাম যেখানে দের থেকে দু’শ টাকা সেখানে এই মুরগীর দাম শুনলেই বোঝা যায় জীবিত নাকি মৃত মুরগী।

এক মুরগী বিক্রেতা বলেন, মুরগীর দাম ৮০ টাকা কেজি। এখন মুরগীর দাম কম তাই এই দামে বিক্রি করি।

মৃত মুরগী সংগ্রহকারি এক মহিলা বলেন, এগুলো নিয়ে বিক্রি করি। মানুষ এগুলো খায় ১০ টাকা ২০ টাকা ভাগা দিয়ে বিক্রি করি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ড্রামেই পাওয়া যায় তিনটি মৃত মুরগী । প্রতিটি দোকান সূত্রে জানা যায় প্রতিদিন এক দোকানে গড়ে ৫টি করে মুরগী মারা গেলে এক কাওরানবাজারেই মারা যায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মুরগী । রাজধানীর সব বাজার মিলে তা দাঁড়ায় কয়েক হাজার।

এসব মৃত মুরগী কোথায় ফেলা হয় জানতে চাইলে মুরগী ব্যবসায়ীরা বলেন, এগুলো ডাষ্টবিনে ফেলা হবে। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসে নিয়ে যাবে। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০টি মুরগী ডাষ্টবিনে ফেলা হয়।

ডাষ্টবিন তদারককারিরা বলেন, এখানে কোনো মরা মুরগী আসে না। পা চামড়া এই সব আসে।

আসলে মৃত মুরগীগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে মাছের খাবার হিসেবে। বাজার থেকে সংগ্রহ করা এসব মৃত মুরগী এছাড়াও ব্যবহার হচ্ছে রাজধানীর বেশ কিছু সংখ্যক রেষ্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের চিকেন গ্রিল এবং শর্মা খাওয়ার আগে অতিরিক্ত শক্ত, অতিরিক্ত ঝাঁল, জিরার ঘ্রাণ এবং হাড়ের ভিতরে মজ্জগুলো কালো এগুলো লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে খাওয়ানো হচ্ছে মৃত মুরগী; এমন তথ্যই জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর কাপ্তন বাজার এবং কাওরানবাজার মুরগী ব্যবসায়ী এবং এই বাজারগুলোর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী বাজারগুলোতে প্রতিনিয়ত কয়েক বাজার মৃত মুরগী ফেলা হয় ডাষ্টবিনগুলোতে। কিন্তু বাজারের নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ডাষ্টবিনে কখনোই দেখা যায় না মৃত মুরগী।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার নিজেদের লোকদের টাকা লুটের সুযোগ করে দিতেই ধানের মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করেছে


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার নিজেদের লোকদের টাকা লুটের সুযোগ করে দিতেই ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রী বলেছেন, কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ থাকলেও ধানের দাম বাড়ানোর সুযোগ আপাতত সরকারের হাতে নেই।’ আগের রাতের ভোটের সরকারের মন্ত্রীর কাছ থেকে এরকম গণবিরোধী বক্তব্য ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকরীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। ধানের ন্যয্য মূল্য না থাকায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি, জয়পুরহাট, নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষক পাকা ধান ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতিমন ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জামিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে ২ হাজার টাকা।

রিজভী বলেন, পুঁজিপতিরা তো বিশাল ঋণ মওকুফ পাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে খাচ্ছে, মেগা প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা অসহায় কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না বরং ন্যায্য মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকি টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা, মিল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়ছে না। তিনি বলেন, কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা, দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে। কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। পৃথিবীর সকল দেশে কৃষকরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আগামী ২১ মে মঙ্গলবার বিএনপি’র উদ্যোগে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং ২৩ মে বৃহস্পতিবার সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটে-বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌খেজুর, জোস ও পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে ভয়ংকর কৌশলে অজ্ঞানপার্টি সদস্যরা


ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক দল গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির ৬৫ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অজ্ঞান পার্টির একজন সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খেজুরের ভেতরে ওষুধের গুড়ো ভরে একজনের কাছে রাখা হয়। তারপর মহাজন বলে দেয় একজনকে টার্গেট করে আমাদের বলে তার পিছু নিতে, সে যে গাড়িতে উঠবে সেই গাড়িতে উঠি আমরা।’

জানা যায়, স্নায়ুর চাপ কমানো, অনিদ্রাসহ নানা সমস্যায় ব্যবহৃত চেতনাশক ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হয় অবৈধ উপায়ে। তারপর সেগুলোকে গুড়ো করে মিশিয়ে দেওয়া হয় খেজুরের সঙ্গে। কখনো চেতনানাশক ওষুধের সঙ্গে কাগজ পোড়ানো ছাই মিশিয়ে তৈরি করা বিশেষ এক ধরনের হালুয়া। খুব সাধারণ এই কৌশলই অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় মানুষের মৃত্যুর কারণ। মানুষের থেকে টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নিতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা এই পন্থা বেছে নিয়েছে।

গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম। তিনি জানান, ঈদের আগে এসব চক্রের তৎপরতা বাড়বে এমন তথ্য পেয়েছেন তারা। যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় এরা বারবার জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেট-শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে সখ্যতা স্থাপন করে। এরপর তাদের অপর সদস্যরা টার্গেট করা ব্যক্তি ও তাদের সদস্যকে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্যের আমন্ত্রণ জানান। টার্গেট করা ব্যক্তি রাজি হলে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য তাকে খাওয়ায় এবং নিজেদের সদস্যরা সাধারণ খাবার গ্রহণ করে। খাদ্য দ্রব্য গ্রহণের পর টার্গেট করা ব্যক্তি অচেতন হলে তারা তার মূল্যবান দ্রব্যাদি নিয়ে দ্রুত চলে যান। এ ক্ষেত্রে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে খেজুর, চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, ক্রিম জাতীয় বিস্কিট ইত্যাদি ব্যবহার করে।

এ ছাড়া তারা অভিনব কৌশল হিসেবে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞান করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে নিকট আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফোন করে বলে, ‘সে আমাদের নিকট আটক আছে। তাকে মুক্ত করতে বিকাশ বা অন্যকোনো মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।’ আত্মীয়-স্বজন ভিকটিমকে মুক্ত করতে টাকা পাঠালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা টাকা নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা সংবিধান পরিপন্থী : জমির উদ্দিন সরকার


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরুপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। তিনি বলেন , বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা প্রদানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসাপূরণ এবং শুধু মাত্র বেগম জিয়াকে হয়রানি ও বিপর্যস্ত করার জন্য। এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, মানবাধিকার সংস্থা এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারগুলোর পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মামলা কে সাক্ষ্য প্রমাণহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান,বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম,বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিনতির দিক ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ,নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে তার নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবণা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী -এমপিদের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছে, যা শুধু অমানবিকই নয় সরকারের নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। সরকার দলীয় মন্ত্রী ও নেতাদের নিষ্ঠুর রসিকতা একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের লোকজন শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং সাম্প্রতিককালে সরকার নিয়োজিত চিকিৎসকদল তার স্বাস্থ্য বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তাতে এক বছর পূর্বে ব্যক্ত সকল অনুমান ও শংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ফলে সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সাম্প্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ও পূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণা এখন প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির চিত্রই ক্রমাগত ফুটে উঠছে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী ইতিহাসের সেরা দুর্নীতিঃ ২ কোটি টাকার বালিশ


রাজনৈতিক রসিকতার ছলে বহুল ব্যবহৃত বাক্য ‘নালিশ করে কী পেলেন’? ‘বালিশ’! নালিশ করে যদি সত্যিই বালিশ পান তাহলে সত্যিই আপনি ভাগ্যবান। তবে সে বালিশ হতে হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের গ্রিন টিসি হাউজিং প্রকল্পের। কারণ, তাদের ব্যবহৃত এক একটি বালিশের মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা। অবিশ্বাস্য তুলতুলে নরম বালিশ! অকল্পনীয় মনে হচ্ছে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গ্রিন সিটি প্রকল্পটির ফ্ল্যাটে ব্যবহারের জন্য বালিশ ও আসবাসপত্র কেনা এবং ভবনে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এই তথ্য। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই এই দামে বাজার থেকে ‘কেনাকাটা’ করা হয়েছে। প্রকল্পে শুধু বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি। প্রতিটি বালিশের মূল্য ৫৯৫৭ টাকা। এগুলো আবার ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ করা হয়েছে ৯৩১ টাকা। এতে খরচ হয় মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (কেপিআই) কেনাকাটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ মহামান্য প্রেসিডেন্ট কি ৬ হাজার টাকার বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমান? শুধু কি তাই! প্রকল্পের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি মাসে পান প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার বেতন পান প্রায় ৭৪ হাজার টাকা। মালী বেতন পান প্রায় ৮০ হাজার টাকা। মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৬ মে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ইনকিলাবকে বলেন, এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তা তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই-প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এ ধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কেনাকাটা নিয়ে ঘটেছে অকল্পনীয় সমুদ্রচুরির ঘটনা। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা আর তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখে সবাই হতবাক! সরকারি অর্থের এমন বেহিসাবি সাগরচুরি কারবারে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বইছে ঝড়। কেউ কেউ কৌতুক করে বলছেন, বাহুবলি সিনেমার নায়কও বাংলাদেশে আসছেন, বালিশ তোলার কাজ করতে। অনেকে আবার বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাত ব্যবসায়ী। তিনি যদি খবর পান বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠায় এত টাকা, তাহলে তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেন। কেউ লিছেছেন দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উচিত বিসিএসের পড়াশোনা বাদ দিয়ে বালিশ তোলার কাজ খোঁজা। কেউ লিখেছেন, উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার, বাগানের মালীর লোভনীয় পদের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া উচিত। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সরকারি অর্থের হরিলুট হচ্ছে, এটা বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী এটা একেবারেই মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মরতদের ফ্ল্যাটের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় এবং তা ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচে একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যাক। এসব পণ্য ক্রয় করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিটি বালিশ কেনায় খরচ পড়েছে ৫৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি বিছানা কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৯৮৬ টাকা। আর ফ্ল্যাটে ওঠানোর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। চাদর ও বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি করে। প্রতিটি খাট কেনায় খরচ হয়েছে ৪৩৩৫৭ টাকা। আর ওঠানোর ব্যয় ১০৭৭৩ টাকা। সর্বমোট খাট কেনা হয়েছে ১১০টি। একটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনার খরচ পড়েছে ৭৭৪৭ টাকা। আর ওই চুলা ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৩১৩ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। রুম পরিষ্কারের একটি মেশিন কিনতে সংশ্লিষ্টরা খরচ দেখিয়েছে ১২০১৮ টাকা। আর ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি ইলেকট্রিক আয়রন কিনতে খরচ পড়েছে ৪১৫৪ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। টেলিভিশন প্রতিটির দাম ৮৬৯৬০ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ৭৬৩৮ টাকা। টেলিভিশন কেনা হয়েছে ১১০টি। সেগুলো রাখার জন্য আবার কেবিনেট করা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে। ফ্রিজের দাম দেখানো হয়েছে প্রতিটি ৯৪২৫০ টাকা। আর ওঠাতে খরচ পড়েছে ১২৫২১ টাকা। ওয়ারড্রোব প্রতিটি কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯৮৫৮ টাকা। ওঠাতে খরচ পড়েছে ১৭৪৯৯ টাকা। মাইক্রোওয়েভ প্রতিটি কেনায় ব্যয় ৩৮২৭৪ টাকা। খরচ হয়েছে ৬৮৪০ টাকা। প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা করে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের প্রতিটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়। ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে।

সরকারি টাকার এই রেকর্ড লুটপাটে নাম এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর। ওই পল্লীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা ৮টি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া ৯টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে দাম আর ওঠানোর ওই রেকর্ড। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন নিয়ম মেনেই কেনাকাটা করা হয়েছে।

চলুন জেনে নিই এই প্রকল্পে কর্মরতদের বেতন কাঠামো। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন এজন্য আরো ২ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে তিনি পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা। অথচ বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনী আর মালীর বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা।

একইভাবে উপপ্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্যসব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরো কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ সংক্রান্ত উন্নয় প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন; যা সচিবের বেতনের প্রায় ৯ গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাতা সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। তা তো পরিষ্কার। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। দেখেন সংসদে যে কাজগুলো করার কথা সেগুলো হচ্ছে কি না। দেশে আইনের শাসন আছে কি না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। পার্লামেন্টের কমিটিগুলোকে অ্যাক্টিভ করতে হবে। যে পার্লামেন্টে বিরোধী দল থাকে না, সে পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। পার্লামেন্টে কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। ওয়াকআউট হয় না, কোনো প্রশ্ন হয় না, নিয়ম, অনিয়ম নিয়ে কথা হয় না। তাহলে তো এমন অবস্থা হবেই। সরকারের উচিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এত উন্নয়ন এভাবে না করে টেকসই উন্নয়ন করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এমন দুর্নীতির ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অন্ত্যত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করলে উন্নয়নের রোল মডেল খুঁজে পাওয়া যাবে না: আ স ম আবদুর রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সরকার এপ্রিল মাসে ধান কেনার কথা থাকলেও তা না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকরীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। পৃথিবীর সকল দেশে কৃষকরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকরা লস করে। ক্ষোভে দুঃখে কৃষক পাকা ধান ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে এর পরিণতি ভয়াবহ। মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করতে হবে।

ধানের ন্যয্য মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জেএসডি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জেএসডি সভাপতি এসব কথা বলেন।

দলের সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন মো. সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, অ্যাড. সৈয়দ ফাতেমা হেনা প্রমুখ।

আ স ম আবদুর রব আরও বলেন, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। পুঁজিপতিরা ব্যাপক ঋণ মওকুফ পাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। মেঘা প্রকল্পের নামে অপচয় হচ্ছে। অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না।

এ সময় তিনি একদিকে চাল রপ্তানি করা অপরদিকে আমদানি করার এ ভানুমতির খেল বন্ধ করার দাবি জানান। বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করতে হবে। এদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে উন্নয়নের রোল মডেল খুঁজেও পাওয়া যাবে না। দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। একই সঙ্গে তিনি পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি, মজুরি কমিশন ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চায় ২০ দল


বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচন্ড চাপে। দলের তৃণমূল নেতারা চান চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে দ্রুত রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার আন্দোলনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিতে পারেননি। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। সম্প্রতি ২০ দলীয় জোটের সভায় শরিক দলগুলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতারা প্রতীকী অনশন, মানববন্ধন, সেমিনার, বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করতে বৈঠক করা ছাড়া রাজপথে কোনো আন্দোলন করতে পারেননি কিংবা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করেননি। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ না হলে মামলা হবে, এমন ধারণা দলটিকে রাজপথ থেকে দলীয় কার্যালয়ে আবদ্ধ করে ফেলেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করতে চায় ২০ দলীয় জোট।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ঠেকাতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার মুক্তির জন্য এলডিপি সারা দেশে জনমত গড়ে তুলবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন। কার্যত গোটা দেশই আজ বন্দি। তাই খালেদা জিয়া এবং বন্দি দেশটাকে মুক্ত করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব নয়। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। নেতাদের বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপি যাচ্ছে না কেন? এর জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই দলের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কোনোভাবেই আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করতে পারি না। চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে কারাবন্দি। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে তিনি কারাবন্দী হন। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি পথে হাঁটছে বিএনপি। তবে এতে তারা খুব একটা সফল হতে পারছে না। আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও জোরদার হচ্ছে না। দলের নেতারা অনেক সময় আইনি ও আন্দোলন দুটো পথেই অগ্রসর হওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কাক্সিক্ষত ফল পায়নি বিএনপি।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশ নিয়ে বিএনপির ভরাডুবির পর দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি আবার জোরালো হয়। তার মুক্তির জন্য বিএনপির সর্বস্তরে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি ওঠে। তবে বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা মনে করেন, আইনি পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেনও। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সরকার চাইলেই কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের কাছে কাকুতি-মিনতি করে বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে না। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামই বেগম জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ। আর আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে নেমে জেল-জুলুমের ভয় করলে চলবে না। আন্দোলন করতে গেলে জেল আসবে, জুলুম আসবে। এসব মোকাবেলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদন্ড দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদনের রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার নামে আরো ৩২টি মামলা রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌‘হট টকে’র পর পদত্যা‌গের ঘোষণা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের


ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের টিএস‌সি‌তে ছাত্রলী‌গের পদব‌ঞ্চিত‌দের সা‌থে বৈঠককা‌লে উত্তেজনার এক পর্যা‌য়ে ছাত্রলীগ নেত্রী বিএম লি‌পি আক্তার‌কে মারধ‌রের অ‌ভি‌যোগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরু‌দ্ধে। ত‌বে মারধ‌রের বিষয়টি অস্বীকার করে উচ্চবাচ্যের (হট টক) কথা বলে চা‌লি‌য়ে দিয়েছেন তি‌নি। পরে আবার একই ঘটনার জেরে রাজু ভাস্ক‌র্যের পাদদেশে এ‌সে আ‌ন্দোলনকারী‌দের স‌রি ব‌লেন রাব্বানী। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে গি‌য়ে পদত্যা‌গের ঘোষণা দি‌বেন বলেও জানান তি‌নি।

শ‌নিবার দিব‌াগত রাত দেড়টা থে‌কে সা‌ড়ে ৩টার দি‌কে এসব ঘটনা ঘটে।

ভুক্ত‌ভোগীরা জানান, টিএস‌সি‌তে আ‌ন্দোলনকারী‌দের সা‌থে আ‌লোচনায় ব‌সেন ছাত্রলী‌গের সভা‌পিত শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এসময় উচ্চবা‌চ্যের এক পর্যা‌য়ে লি‌পির ওপর চড়াও হন গোলাম রাব্বানী। পূর্ব থে‌কেই বেফাঁস মন্ত‌ব্যের কার‌ণে লি‌পির প্র‌তি ক্ষোভ ছিল রাব্বানীর। প‌রে দ্বিতীয় দফায় তাকে মারধর ক‌রেন তি‌নি। এ সময় তার সা‌থে থাকা নেতাকর্মীরা হাম‌লে প‌রে আ‌ন্দোলনকারী তথা পদব‌ঞ্চিত নেতাকর্মী‌দের ওপর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় অন্তত ৬ জন আহত হন। এ‌দের ম‌ধ্যে বিশ্ব‌বিদ্যালয় শাখার সা‌বেক নেতার ঘা‌ড়ের হাড় ভে‌ঙে যায়। হামলার সময় সাধারণ গোলাম রাব্বানী ও তার অনুসারী‌দের নিবৃত্ত করার চেষ্টা ক‌রেন সভা‌পিত রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

হামলার শিকার হ‌য়ে প‌রে রাজু ভাস্ক‌র্যে অনশ‌নে ব‌সেন আ‌ন্দোলনকারীরা। শেষ খবর পাওয়া (সকাল ৯টা) পর্যন্ত তারা সেখা‌নে অবস্থান কর‌তে‌ছিল।

ভুক্ত‌ভোগীরা জানান, যারা সে‌দিন মধুর কে‌ন্টি‌নে হামলা ক‌রে‌ছে টিএস‌সি‌তেও ফের হামলা ক‌রেছে তারা। জান‌তে চাই‌লে নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে মে‌য়ে‌দের এক‌টি হল শাখা ছাত্রলী‌গের সাধারণ সম্পাদক নয়া দিগন্ত‌কে ব‌লেন, যেখা‌নে সাধারণ সম্পাদক আঙুল তো‌লেন সেখা‌নে তার অনুসারী তো আ‌রো উস্কানী পান। আর এখা‌নে খোদ সাধারণ সম্পাদক মারধর ক‌রে‌ছেন তাহ‌লে তার অনুসারীরা কি কর‌তে পা‌রে বু‌ঝে দে‌খেন।

এ‌দি‌কে, হামলার ঘটনার প‌রে রাত তিনটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে পদবঞ্চিতদের বুঝিয়ে অনশন থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তবে পদবঞ্চিতরা তাদের কথা গ্রাহ্য ক‌রেন‌নি। সংগঠ‌নের স‌র্বোচ্চ অ‌ভিভাবক শেখ হা‌সিনার সা‌থে কথা ব‌লবেন ব‌লেও জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার কা‌ছে সরাস‌রি অ‌ভি‌যোগ দি‌তে চান তারা। এ সময় তারা শোভন রাব্বানী‌কে সেখান থে‌কে চ‌লে যেতে বলেন। এ সময় গোলাম রাব্বানী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরি। তোমরা চলে যাও। আমি কাল নেত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, একটু ঝা‌মেলা হ‌য়ে‌ছে, ত‌বে এখন কিছু বলতে চা‌চ্ছি না।

প‌রে গণমাধ্যম‌কে দেয়া বক্ত‌ব্যে মারধ‌রের বিষয়‌টি অস্বীকার ক‌রেন গোলাম রাব্বানী। তি‌নি বলেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। কথা বলতে গিয়ে ‘হট টক’ হয়েছিল।

আ‌ন্দোলনকারী‌দের এ‌জেন্ডাধারী আখ্যা দি‌য়ে তি‌নি ব‌লেন, বিশেষ সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী পদবঞ্চিতরা এসব করছেন।

উৎসঃ ‌‌Nayadiganta

আরও পড়ুনঃ ‌আদালত থেকে নাসিমকে ডাকল না, আমি বললে কোর্টে দাঁড় করাবে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

টাকার বিনিময়ে কোর্ট-কাচারী কেনা যায়- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দুই দিন আগে নাসিম বলেছেন, কোর্ট-কাচারী নাকি টাকা দিয়ে কেনা যায়। কিন্তু বিচারপতি তা শোনেও নি, পড়েও নি। এটা আদালত অবমাননা হলো না? কোর্ট-কাচারী টাকায় কেনা যায় তার জানা আছে। এ কথা বলার পরেও আদালত থেকে কেউ কিছু বললো না। নাসিম সাহেবেকে ডাকলো না। একথা যদি আমি বলি তাহলে আদালতে নিয়ে দাঁড় করাবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা জানি দানবের বিরুদ্ধে মানববন্ধন যথেষ্ট নয়। রাজপথে আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আপোসহীন নেত্রীর কর্মী হিসেবে রাস্তায় দাঁড়াতে পারি, রাস্তার মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে অবশ্যই এ সরকারের যত শক্তিই থাকুক, খালেদা জিয়াকে তারা জেলে আটক রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, সে কারণে আমাদের সকল নেতাকর্মীর একটি অঙ্গীকার থাকতে হবে, জেল জুলুম যাই হোক, আমরা নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যে কোনো ধরনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকবো। এ অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি যখন সরকার লক্ষ্য করতে পারবে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত হবে। শুধুমাত্র আকুতি মিনতি অথবা মানবতার কথা বলে, অসুস্থতার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর হৃদয় কখনও টলবে না। কারণ যার হৃদয় নেই, তার কাছে আবেদন নিবেদন অগ্রাহ্য হবে এটাই স্বাভাবিক। সে কারণে বলছি, আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, সর্বশেষ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর একটি উক্তি নির্মম পরিহাস ও মানবতার প্রতি কটাক্ষ। একজন বৃদ্ধা বলা যায়, যার বয়স ৭৩ এর উপরে, তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ অবস্থায় নির্জন কারাগারে বসবাস করছেন। তাকে নিয়ে মশকরা করে তিনি পায়েশ খান। পায়েশ খাওয়াটা অপরাধ বা বিলাসের বিষয় না। এটা মানবতার সাথে অশোভন আচরণ পর্যায়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির কোনো বাধা নেই। একমাত্র বাঁধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, যে দৃষ্টান্ত আপনি স্থাপন করবেন সেই দৃষ্টান্ত ভোগ করার জন্য ভবিষ্যতে প্রস্তুত থাকবেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনি জেলে গিয়েছিলেন এবং আপনার সঙ্গে অশোভন আচরণ করার কারণে কঠোর এবং কঠিন ভাষায় সেদিন বেগম খালেদা জিয়ার নিন্দা করেছিলেন। আপনার পক্ষে কথা বলেছিল। সেদিন ব্যক্তিগতভাবে আমি কমপক্ষে ১৭ বার আপনার মুক্তি চেয়েছি। খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ওয়ান ইলেভেনকে গণতন্ত্রের ওপর হানা, আক্রমণ মনে করেছি। সেই কারণে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং তাদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তার নিন্দা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে আপনি কী করছেন? ক্ষমতায় আসার পরে বেমালুম ভুলে গেছেন। আগামীতে আপনার যদি কোনো বিপর্যয় হয় আপনার মুক্তি চাওয়ার জন্য মানুষ তো দূরের কথা, কোনো পশুপাখিও পাওয়া যাবে না।

চাল আমদানির সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, আজকে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হয়। আবার সরকার বলে খাদ্যে চাল উদ্বৃত্ত। আর কৃষকরা দাম পায় না। দাম না পাওয়ায় আজকে ধানে আগুন, কৃষকের ধানে আগুন, মনে আগুন। কোনদিন তারা রাস্তায় আগুন দেবে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আজকে যারা ব্যাংকের টাকা মেরে খায়, তাদেরকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আর যারা কৃষিঋণ নেয়, তাদেরকে জেলে ঢুকানো হচ্ছে। এই বৈষম্যের কারণে বোঝা যায় আপনার (প্রধানমন্ত্রী) অর্থনীতি লুটপাটের অর্থনীতি। লুটপাট করে দেশের টাকা বিদেশে জমছে। দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই। অচিরেই অভাববোধ দৃশ্যমান হবে, অর্থের সঙ্কটে প্রত্যেকটা পরিবার ভুগবে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌’চাল আমদানি সরকারের কারসাজি’


চাল আমদানি সরকারের কারসাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেছেন, ‘যেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলা হয়, সেখানে আমদানির প্রশ্নই আসে না। কিন্তু আজকে এ সরকার চাল আমদানি করছে। এটা সরকারের কারসাজি। দেশের কৃষকদের মূল্য দিতে হবে, তাদের উৎপাদনের মূল্য দিতে হবে। শ্রমিকদের মজুরি দিতে হবে। আজকে আমাদের মৌলিক শিল্পগুলোকে রক্ষা করতে হবে।’

শনিবার (১৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী পাটকল শ্রমিক দলের আয়োজনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত চাল বিদেশে রফতানির পরিকল্পনা করছে সরকার’- খাদ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নোমান বলেন, ‘যেখানে সরকার আমদানি করছে সেখানে উদ্বৃত্ত হয় কী করে। আসলে দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। ব্যাংক লুটপাট হচ্ছে। এদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা পাচার হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না


সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ অবস্থায় বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে তার চিকিৎসা করানো জরুরি। অবিলম্বে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে বিএনপি।

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির নেতারা এ কথা বলেন। কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

এই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান। দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচ- ব্যথা রয়েছে। স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগছেন। মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত ?অসুস্থ।

তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মেনে নেওয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ। এক প্রশ্নে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ তার চিকিৎসা দরকার।

এ জন্য তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌এই সরকার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে সংবিধান লঙ্গন করছেঃ তৈমুর আলম খন্দকার


এই সরকার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে সংবিধান লঙ্গন করছে বলে মন্তব্যে করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্যে করেন।

তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এ দেশে স্থিতিশিল অবস্থা ফিরে আসবেনা। এই সরকার মানবাধিকার ও মানবিক মুল্যেবোধ পদদলিত করেছে। যারা সরকারী দল বা সরকারের সমর্থক তারাই রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেছে। আর যারা বিরোধীদল করে বা সরকারের সমর্থক না তাদের কোন চাকুরি ও প্রমোশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তৈমুর আলম খন্দকার আরো বলেন, এখন জনগণের দায়িত্ব এ দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। কারন এ দেশে গনতন্ত্র নাই। এক দলীয় শাসনে পরিচালিত হচ্ছে দেশ।

কয়েক দিন আগে রূপগঞ্জ সদর এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর মামলা করে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওলামাদল নেতা সামসুর রহমান খাঁন বেনু, যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম প্রধান, খন্দকার আলাল, হাফিজুর রহমান পিন্টু, মহিলালীগ নেত্রী পারভিন বেগম, অ্যাড. সামাদ মোল্লা, যুবদল নেতা সালাউদ্দিন, অ্যাড. আজিজুর রহমান মোল্লা, আফজাল হোসেন, ইদরিস আলীসহ আরো অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)।


সেহেরির সময়ে ঢাবির রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তারকে ডেকে নিয়ে তার উপরে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি! ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জেরে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই পদবঞ্চিত।

এ ঘটনায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হামলার শিকার নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ভিডিওঃ  ‘সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তারা অভিযোগ করেন, রোকেয়া হল ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক সারজিয়া শারমিন চম্পা ও কেন্দ্রীয় সংসদের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদারকে মারধর করেন গোলাম রাব্বানী। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে তারা বসেছিলেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাব্বানী ভাই লিপি, সম্পা ও তিলোত্তমা আপুর গায়ে হাত তোলেন। আমরা এর নিন্দা জানাই।

এ হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন লাঞ্ছিত নেত্রীরা ও পদবঞ্চিতরা। তিনি বলেন, আমরা এখন রাজুতে (রাজু ভাস্কর্য) অবস্থান নিয়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই। আর কতদিন এভাবে মার খেতে হবে ছাত্রলীগের মেয়েদের।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতাসহ সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে

চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকা এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং নানা রকম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যা নারী নির্যাতন এবং কর্মস্থলে পরিবেশ লংঘনের শামিল বলে জানা গেছে। নারীদের সঙ্গে তিনি কুৎসিত অরুচিকর আচরণ করছেন বলে সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া একাধিক নারী সংবাদ পাঠিকা অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়তে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতা। এরা সবাই জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা। যারা বাদ পড়েছেন তারা বলেছেন যে, আমরা নারী নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, যৌন হয়রা্নির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। অথচ চ্যানেল আইয়ে শাইখ সিরাজ যা করছেন তার বিচারের কি হবে? সেটারও তদন্ত হওয়া উচিত। নারীদের এক হওয়া উচিত। এটারও বিচার হওয়া উচিত। শাইখ সিরাজের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চ্যানেল আই এখন অনিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার কারাগার বদল সরকারের ষড়যন্ত্র: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার উদ্যোগ সরকারের একটি অংশের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত ‍অসুস্থ।তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।এটি মেনে নেয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ।

‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’, বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ড হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগকে কথা শোনানোর ব্যবস্থা করব: মির্জা আব্বাস


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আন্দোলন না করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কিনা সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে দেশবাসীর


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে দেশবাসীর।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

বালিশের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসংঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০ তলা ও ৮টি ১৬ তলা ভবন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ২০ তলা ৮টি ভবন ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৯টি ভবনে তৈরি হয়েছে ৯৬৬টি ফ্ল্যাট।

সেই ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০ তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

ওই ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রো ওয়েভ কেনা হয়েছে। সেসব আসবাবের ক্রয় মূল্য ও সেগুলোকে ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে।

এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি খাট ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকায় কিনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। আর প্রতিটি খাট ওপরে ওঠানের পেছনে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, আর তা ওঠাতে খরচ হয় ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকায় ক্রয় করা প্রতিটি সেন্টার টেবিল ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট ক্রয় করা হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, আর প্রতিটি ডাইনিং টেবিল ওঠানোর খরচ দেখনো হয় ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা।

একেকটি ওয়ারড্রব কিনে ফ্ল্যাটে ওঠাতে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

৩৩০টি মেট্রেস ও তোশকের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিটি তোশক ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়ে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা করে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বালিশের ক্রয়মূল্য ও এসব বালিশ ওপরে তুলতে যে খরচ হয়েছে সে বিষয়টি।

নথিপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে। মোট ১৩২০টি বালিশ কেনার পর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা।

সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। ’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিষয়ে এখনও জানতে পারিনি। বিষয়টির দ্রুত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ : আসিফ নজরুল


বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মওলানা ভাসানীদের আমলে আমরা ছিলাম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাধীন জাতি। এখন আমরা স্বাধীনতার নামে লেজ গুটিয়ে রাখা, মাথা গুটিয়ে রাখা একটা দাস জাতিতে পরিণত হয়েছি। এটা আমরা নদীর পানির দিকে এবং বিভিন্ন সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আসলে আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ।

শুক্রবার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে জামালপুর জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিনিয়ত সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ১০০ টাকার প্রকল্প যখন এক হাজার টাকার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ভ্যাটের টাকা ও আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে এই সরকার কি নয়-ছয় করছে এবং দুর্নীতিমূলক কাজ করছে।

যখন ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার আগের রাতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তখন আমার সত্যিই মনে হয়, আজকে মাওলানা ভাসানীর মত একজন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি স্টংলি বলতে পারতেন, ‘খামস’। যার খামস শুনে ভয় পেত- দেশ প্রেমিকহীন অত্যাচারী মানুষ। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা চলতে, ‘‘বাইরের মানুষের কাছে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ’। এই অবস্থায় আমাদের দেশে একজন বাঘের প্রয়োজন ছিল, যিনি দেশের মানুষের জন্য মহামানব আর বাইরের মানুষের কাছে বাঘের মত। মূলত মাওলানা ভাসানী ছিলেন প্রচন্ড দেশ প্রেমিক, জনবান্ধব ও প্রচন্ড সৎ একজন মানুষ। কোন ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, ভাষানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নঈম জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রশীদ বাবু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here