রোহিঙ্গাদের জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে! (ভিডিওসহ)

0
65

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জাল পর্যটন ভিসা সরবরাহে জড়িত থাকার দায়ে ক্যানবেরাভিত্তিক বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ছয়টি অভিযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সংস্থা এসবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাল ভিসাসহ অন্তত ২০ রোহিঙ্গাকে আটক করার পর অস্ট্রেলিয়ায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে বলে এসবিএসের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় গত ছয় বছর ধরে অবস্থান করা রোহিঙ্গা শরণার্থী ফারুক কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে বসবাস করা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ মিশন থেকে পর্যটন ভিসা নিয়ে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ভ্রমণ করেন।

ভিডিওঃ  ‘ভুয়া টুরিস্ট ভিসা ইস্যুর অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু জাল ভিসার অভিযোগে আরও কয়েক যাত্রীসহ তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশ। পরের দিনই বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আমান উল্লাহ এসবিএসকে বলেন, তিনি একটি ভিসার জন্য সাড়ে তিনশ ডলার দিয়েছেন। কিন্তু তাকে জাল ভিসা দেয়া হয়েছে।

আমান বলেন, জলা ভিসার খবর শুনে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। সেখানে হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি শামিমা পারভিন আমাকে বলেন, আমারটিও জাল ছিল। নতুন একটি ভিসা পেতে এ বিষয়ে পুলিশকে রিপোর্ট করতে হবে বলে তিনি আমাকে জানান।

এ বিষয়ে ঢাকায় এক অভিবাসন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তারা জাল ভিসাসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করেছেন। তবে সঠিক সংখ্যাটি বলতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ক্যানবেরায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর পর জলা ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়েছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ক্যানবেরার উডেন পুলিশ স্টেশনে ছয়টি অভিযোগ করা হয়েছে।

এসবিএসকে দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ তারা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ এলেই আমাদের কোনো কর্মকর্তা এতে জড়িত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। যদিও সিডনি ও মেলবোর্ন থেকে আমরা কিছু এজেন্টের নাম পেয়েছি। এ সংক্রান্ত নথিধারীদের ওপর বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন পাইনি। আমাদের কর্তৃপক্ষের তথ্যউপাত্তের ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সুফিউর রহমান বলেন, গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বরে জাল ভিসা ইস্যু করার ব্যাপারে শামিমা পারভিন তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

সুত্রঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রোহিঙ্গাদের জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত একদল রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ ভ্রমণে জাল ভিসা দেওয়া নিয়ে ক্যানবেরায় বাংলাদেশের হাই কমিশনের এক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ।

বাংলাদেশ দূতাবাসের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ভ্রমণে আসার জন্য তিনি অর্থের বিনিময়ে ভুয়া পর্যটন ভিসা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত।

এরকম ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করার পর বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরতও পাঠিয়েছে ঢাকার কর্মকর্তারা।

অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস গণমাধ্যমে প্রকাশ, বাংলাদেশে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় যে ওই রোহিঙ্গারা জাল ভিসা নিয়ে দেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন। পরে তাদেরকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়। এরকম ভুক্তভোগী কয়েকজন রোহিঙ্গা অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে তারা।

গত মাসে এরকম অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গাকে ঢাকায় বিমানবন্দরে আটক করা হয় যারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছিলেন। এদের অনেকেরই পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন।

এসবিএস’র খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ হাই কমিশনে একজন কর্মকর্তা ভিসা পেতে সহায়তা করতে পারেন এমন কথা তারা অন্য রোহিঙ্গাদের মুখ থেকেই শুনেছিলেন। এর পরই তারা বাংলাদেশের ভিসা নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী এই রোহিঙ্গাদের বলা হয় যে ভিসা পেতে তাদেরকে ভ্রমণের কাগজপত্রসহ ৩৫০ ডলার করে তার বাড়ির ঠিকানায় পাঠাতে হবে।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইফুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তারা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না যে ক্যানবেরায় দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের ভিসা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত।

ফারুক নামের এক রোহিঙ্গার নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসা পেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাকে ঢুকতে দেয়নি। গত ছয় বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ফারুক গত বছর ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন। তিনি ভেবেছিলেন দূতাবাস থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জাল ভিসা সন্দেহে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুধু ফারুক নয়, এরকম অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গাকে সম্প্রতি আটক করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ২০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা বলেন যে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা ভিসা নিয়েছিলেন।

সুত্রঃ ‌The Daily Star

আরও পড়ুনঃ রোহিঙ্গা জাল ভিসা, অভিযোগ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে!

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জাল পর্যটন ভিসা সরবরাহে জড়িত থাকার দায়ে ক্যানবেরাভিত্তিক বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ছয়টি অভিযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সংস্থা এসবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাল ভিসাসহ অন্তত ২০ রোহিঙ্গাকে আটক করার পর অস্ট্রেলিয়ায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে বলে এসবিএসের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় গত ছয় বছর ধরে অবস্থান করা রোহিঙ্গা শরণার্থী ফারুক কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে বসবাস করা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ মিশন থেকে পর্যটন ভিসা নিয়ে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ভ্রমণ করেন।

কিন্তু জাল ভিসার অভিযোগে আরও কয়েক যাত্রীসহ তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশ। পরের দিনই বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আমান উল্লাহ এসবিএসকে বলেন, তিনি একটি ভিসার জন্য সাড়ে তিনশ ডলার দিয়েছেন। কিন্তু তাকে জাল ভিসা দেয়া হয়েছে।

আমান বলেন, জলা ভিসার খবর শুনে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। সেখানে হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি শামিমা পারভিন আমাকে বলেন, আমারটিও জাল ছিল। নতুন একটি ভিসা পেতে এ বিষয়ে পুলিশকে রিপোর্ট করতে হবে বলে তিনি আমাকে জানান।

এ বিষয়ে ঢাকায় এক অভিবাসন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তারা জাল ভিসাসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করেছেন। তবে সঠিক সংখ্যাটি বলতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ক্যানবেরায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর পর জলা ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়েছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ক্যানবেরার উডেন পুলিশ স্টেশনে ছয়টি অভিযোগ করা হয়েছে।

এসবিএসকে দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ তারা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ এলেই আমাদের কোনো কর্মকর্তা এতে জড়িত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। যদিও সিডনি ও মেলবোর্ন থেকে আমরা কিছু এজেন্টের নাম পেয়েছি। এ সংক্রান্ত নথিধারীদের ওপর বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন পাইনি। আমাদের কর্তৃপক্ষের তথ্যউপাত্তের ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সুফিউর রহমান বলেন, গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বরে জাল ভিসা ইস্যু করার ব্যাপারে শামিমা পারভিন তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

সুত্রঃ ‌banginews

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here