হাসপাতালগুলোতে রোগি আছে ডাক্তার নেই

0
104

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয় সহকারী অধ্যাপক ডা. জাবেদকে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিপ্তরের হাসপাতাল শাখার ডিপিএম হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিনেও ওই মেডিকেলে যোগদান করেননি। সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচীপ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রভাবশালী এই নেতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হুংকার দিয়ে বলছেন- তিনি কখনোই শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজে যোগ দিবেন না।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয় নিউরোলজীর চিকিৎসক ডা. আব্দুল হাইকে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ডা. আব্দুল হাই বরিশাল মেডিকেলে যোগদান করেননি। স্বাচিপের পরিচয় দানকারী প্রভাবশালী এই চিকিৎসক বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ইবনে সিনা মেডিকেলে কাজ করছেন।

শুধু ডা. আব্দুল হাই বা ডা. জাবেদই নন; দীর্ঘদিন থেকেই রেওয়াজ হিসেবে চালু আছে চিকিৎসকদের ঢাকার বাইরের জেলায় থাকা সম্ভব নয়। আর সেটা যদিও হয় ক্ষমতাসীন দলের চিকিৎসকদের সংগঠনের কেউ, তাহলেতো কথাই নেই।

এদিকে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ঢাকার বাাইরে থাকলেও অধিকাংশ চিকিৎসকই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তারা ঢাকাতে অবস্থান করে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিজস্ব চেম্বারে বড় অঙ্কের ‘ফি’ নিয়ে প্রেসক্রিপশনে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ও ওষুধ লিখে চিকিৎসা বাণিজ্য করছেন। আবার অনেক চিকিৎসক আছেন যারা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। যদিও অনেক দক্ষ চিকিৎসক সরকার দলীয় চিকিৎসকদের যাতাকলে পড়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময়ের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় চিকিৎসক-নার্সদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষোভ এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কর্মস্থলে না থাকলে এবং সেবা না দিলে চিকিৎসক ও নার্সদের ওএসডি করা হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। একই সঙ্গে বদলি করা চিকিৎসক যদি কাজে যোগ না দেয়, তবে ওএসডি করে তাদের সরিয়ে দেওয়ারও কথা বলেছেন। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দায়িত্ব নিয়েও জেলা-উপজেলা চিকিৎসকদের রাখতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলেছেন। সরকারের দিকে থেকে বিভিন্ন সময় এ নিয়ে কঠোর বার্তা দেয়া হলেও তাতে দৃশ্যমান কোন লাভ এখনো পর্যন্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক স্বীকার করেছেন যে তাদের অনেক সহকর্মী বদলি ঠেকানোর জন্য রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন।

যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের কারসাজি চলে সর্বত্র। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কথাই ধরুন, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় এখন স্বাস্থ্য খাতের ভাগ্যবিধাতা তারাই। গত ১০ বছরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পরে দেশের স্বাস্থ্য খাত। তবে গত ৫ বছরে তা ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। সদ্য বিদায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ দায় এড়াতে পারেন না। প্রায়শই বক্তব্যে ন্যায়ের কথা বললেও তিনি স্বাস্থ্য খাতের প্রত্যেকটি স্থানে দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেছেন। একই সঙ্গে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, দরপত্রের কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ চিকিৎসাখাত নিয়ে এক ধরণের বাণিজ্যে মেতে উঠেছিলেন। এক্ষেত্রে যোগ্য-অযোগ্য, ন্যয়-অন্যায় দেখেননি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। আর তাই প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগও বারবার ভেস্তে গেছে। যদিও ওই সময়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও মোহাম্মদ নাসিমের প্রভাবে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেননি।

রোগীদের সেবা দেয়া ডাক্তারদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য। অথচ অনেক ডাক্তারেরই এই দায়িত্ব-কর্তব্যে মনোযোগ নেই। এমনকি চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরদিনই, গতকাল দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে দেখা গেছে সেই পুরনো চিত্রই।

সুত্র মতে, সকাল ৯টার মধ্যে চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকার কথা সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। এখানে ১৩ জন চিকিৎসকের বদলে পাওয়া যায় মাত্র ৩ জনকে। চৌহালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ১০ টা পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র একজন চিকিৎসককে। কামারখন্দেও ৯ জনের পরিবর্তে ছিলেন মাত্র ২ জন। খাবার সরবরাহ ও ওষুধ সংকটের অভিযোগও করছেন রোগী ও স্বজনরা। নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হননি চিকিৎসকরা। ৩ জন দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও আছেন ২ জন।

বরিশালে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে রোগীর দীর্ঘলাইন থাকলেও চিকিৎসকরা দেরিতে আসেন কর্মস্থলে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন ৫ জন, দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে সকালে ৩ জনকে পাওয়া যায়। নেই আবাসিক চিকিৎসকও।

গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা নিয়ে যারা আন্দোলন করেন তাদের অভিযোগ হচ্ছে, বড় শহরগুলোর বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ কম থাকায় চিকিৎসকরা সেদিকে যেতে অনাগ্রহী।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, ভালো আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার কথা বলে অনেক ডাক্তার ‘অজুহাত’ তুলে ধরছেন। ডা. চৌধুরী বলেন, ঢাকা নগরী ডাক্তারদের যানজটে পরিনত হয়েছে। অন্য সরকারী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ঢাকার বাইরে কাজ করতে পারেন তাহলে ডাক্তাররা পারবেন না কেন? তিনি বলেন, সে জন্য একটি সুনির্দ্দিষ্ট পদ্ধতি গড়ে তোলা দরকার যাতে একটি নির্দ্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডাক্তারা গ্রামীণ এলাকায় কাজ করতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ এহতেশামুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিভিল সার্জনদের অবহেলার কারণেই চিকিৎসকরা গ্রামে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বিএমএ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ অবান্তর। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের নাগালে পৌঁছানোর জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। যাদের দায়িত্ব পালন করার কথা তারা পালন না করে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামে না থাকার কারণে গ্রামে যেতে চায় না চিকিৎসকরা। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, গ্রাম হবে শহর। এটা বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সূত্র মতে, যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যায়, সেই দলই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বাগ্যবিধাতা। স্বাচিপ ও বিএমএ’র ব্যনারে চলে তাদের সকল কর্মকান্ড। আর সেই সুযোগে ডাক্তাররা তাদের ইচ্ছেমাফিক সবকিছু পরিচালনা করেন। প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন রাজধানীতে অবস্থান করা থেকে শুরু করে নানা ধরনের অনিয়মে চিকিৎসকরা জড়িয়ে পড়ছেন। যদিও চিকিৎসকদের রাজনীতির মারাত্মক প্রভাবে প্রায়শই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য, রোগী ভর্তি, চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি-পদোন্নতি অনেককিছুতেই রাজনীতি সরকারি হাসপাতালে। এই রাজনীতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, মাঝেমধ্যেই ডাক্তার-কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত করছেন। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন। তবে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে সরকারি দলের ডাক্তারদের মধ্যে। বিরোধী দলের ডাক্তাররা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় সরকারি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে হাসপাতালগুলোতে। বিএনপির শাসনামলে এই কালচার ছিল ছাত্রদল করা ডাক্তারদের মধ্যে। রাজনীতির সাথে জড়িত ডাক্তাররা রোগী এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রায়শই দুর্ব্যবহারও করেন।

ক্ষমতার দাপটে গ্রামের হাসপাতাগুলোতেও দিনের পর দিন চরম ডাক্তার সংকট থাকছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গ্রামীণ চিকিৎসাব্যবস্থা। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সেখানকার রোগীদের। গ্রামের হাসপাতালে শহর থেকে বদলি করলেই অনেক ডাক্তার স্বাচিপের প্রভাব খাটিয়ে বদলি ঠেকান অথবা মাসের পর মাস শহরে থাকেন আর বেতন নেন গ্রামের ওই হাসপাতাল থেকে। ফলে ছোটোখাটো অপারেশন হলেই ডাক্তার পান না রোগীরা। চলে আসতে হচ্ছে শহরের বড়ো হাসপাতালে। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তেমনি পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

স্বাচিপের মহাসচিব প্রফেসর ডা. এমএ আজিজ বলেন, স্বাচিপের ডাক্তারদের কারণে হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি বা ক্ষতি হচ্ছে না। বরং তারা নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিয়ে রোগীদের সুস্থ করার পাশাপাশি রোগীদের কল্যাণের কথাই সবসময় চিন্তা করেন।

ডাক্তারদের নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর রেজিস্ট্রার ডা. জাহেদুল হক বসুনিয়া বলেন, রোগীদের ক্ষতি হয় এমন যে কোনো অপরাধের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তারা সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।#

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা


গত ১০ বছরে (২০০৬ থেকে ২০১৫) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জিএফআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ সালে দেশ থেকে পাচার হয়েছিল ৮৯৭ কোটি ডলার। এই হিসাবে ২০১৪ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে পাচারের পরিমাণ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে এক দশকে পাচারের পরিমাণ ৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

সংস্থাটি বলছে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ ভাগই পাচার হয়েছে নানা কৌশলে। আর পাচারকৃত টাকার বড় অংশই গেছে আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত দাম গোপন করার মাধ্যমে।

বিশ্বজুড়ে অর্থপাচার নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি-জিএফআই। সোমবার প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ১৪৮ উন্নয়নশীল দেশের টাকা পাচারের চিত্র।

তবে জিএফআই এর দেওয়া অর্থ পাচারের তথ্যকে পুরোপুরি স্বীকার করতে নারাজ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

তিনি বলেন, ‘জিএফআই পাচারের যে তথ্য দেয় তা পুরোপুরি সত্য নয়। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রেটি বা জিএফআই অর্থ পাচারের যে তথ্য দেয় তা যে পুরোপুরি সত্য, তা আমরা স্বীকার করি না।’

জিএফআই এর প্রতিবেদন অনুসারে, টাকার অংকের দিক দিয়ে ২০১৫ সালে অর্থপাচারে শীর্ষ ৩০ দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জিএফআই বলছে, টাকা পাচারের এ প্রবণতা টেকসই উন্নয়নের বড় বাধা।

জিএফআই’র হিসাবে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেট ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই অর্থবছরের মোট বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা ১০ বছরে পাচার হয়েছে।

জিএফআই বলছে, এটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত পাচারের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। পাচারের পাশাপাশি, ২০১৫ সালে অবৈধভাবে দেশে ২৮০ কোটি ডলার আসার তথ্যও দিয়েছে জিএফআই।

এর আগে গত জুনে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৭’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমেছে। সুইস ব্যাংকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা (১ সুইস ফ্রাঁ = সাড়ে ৮৪ টাকা হিসাবে)। আগের বছর ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ (৫ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা)। সুইস ব্যাংকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

উৎসঃ ‌গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি

আরও পড়ুনঃ ‘এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে আ.লীগের বড় ক্ষতি হয়েছে’


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে আওয়ামী লীগকে জেতানো হয়েছে, তাতে বঙ্গবন্ধুর সম্মানের প্রতি আঘাত করা হয়েছে। যারা এই কাজে জড়িত ছিলেন, তারা কেউ আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খী না। এতে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

রোববার দিবাগত রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক টকশোতে তিনি একথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, সবাই দেখেছে বৃষ্টি হয়েছে। পানি শুকিয়ে গেছে বলে বৃষ্টি হয়নি বলা যায়, কিন্তু সেটি মানুষকে বিশ্বাস করানো যায় না। যত কথাই বলি না কেনো, কোটি কোটি মানুষের চোখকে ফাঁকি দেয়া যায় না। প্রশাসন যেভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে কাজ করেছে, সেটি না করলেও চলতো।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমি ছিলাম লাঙ্গলের প্রার্থী। সেজন্য আমাকে হ্যালমেট আর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরেই নির্বাচন করতে হয়েছে। ২৫ বছর পরে এবার নির্বাচনে এসেছিলাম। আমার নির্বাচনী আসনের ও আশে-পাশের প্রায় সবাই জানে আমার গ্রহণযোগ্যতা কী রকম। মানুষের স্বতস্ফূর্ততা দেখে আমি ধরে নিয়েছিলাম, আওয়ামী লীগ বিএনপি একসঙ্গে কাজ করলেও আমি জিততাম।

অফিসার অর্ডার দিয়ে বলেছেন, কীভাবে কী করতে হবে। অফিসার একজন, কিন্তু অর্ডার মান্য করছেন একশ’ জন। ওই একশ’ জন তো জানে কিভাবে অন্যায় হয়েছে। যেভাবেই হোক, যারা এতে জড়িত, তারা কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রীর শুভাকাঙ্খী নয় বলে মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সহজেই ইলেকশনে জিততো বলেও মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির এই নেতা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় ক্ষতি করা হয়েছে এবং এতে করে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এই মেয়র। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলো, টোটাল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সেজন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।

উৎসঃ ‌দেশ জনতা

আরও পড়ুনঃ কলঙ্কজনক পথেই আওয়ামী লী‌গের বিজয়: বাম জোট


আওয়ামী লীগের অতি বিজয় ঘৃণ্য ও কলঙ্কজনক পথে অর্জিত হয়েছে ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন বাম গণতান্ত্রিক জো‌টের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হো‌সেন মা‌নিক মিয়া হ‌লে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ‘নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির নির্বাচন: গণশুনানীর অভিজ্ঞতা নাগরিক সমাজের ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলশ্রুতিতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। পৃথিবীর দুইশোটি দেশের মধ্যে পঞ্চাশটি দেশে গণতন্ত্র আছে। বাকিগুলোতে স্বৈরতন্ত্র চলছে। বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মিছিলে ঢুকে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি অবস্থায় নিহত হন। কেউ বলতে পারবে না কোন নির্বাচনে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভয় এবং লোভ ব্যবহার করে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গদের দুর্নীতিগ্রস্থ করেছে। তিনি এ ধরণের দুর্নীতিগ্রস্থ নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর জন্য সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অতি বিজয় অর্জিত হয়েছে ঘৃণ্য ও কলঙ্কজনক পন্থায়। বাংলাদেশ অন্ধকার পথে প্রবেশ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটাতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে পূর্ব পরিকল্পিত পদ্ধতিতে নির্বাচনে অতি বিজয় অর্জন করেছে। ব্যাংক মালিক আর পোশাক কারখানা মালিকদের সমিতির প্রত্যক্ষ মদদে, আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের সহযোগিতায় জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের এ বিজয়।’

তিনি বলেন, ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিজয়ী সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে শেয়ারবাজার লুটেরাকে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা করেছে। বিদেশিদের সাথে মিলে জ্বালানি খাতে লুটপাটকারীকে করা হয়েছে জ্বালানি উপদেষ্টা। এ দিয়েই বোঝা যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেমন হবে।’

তিনি বাম জোটের নেতা-কর্মীদের ভোট ডাকাত সরকার এবং তাদের জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন সহিংসতা অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে। কিন্তু সহিংসতা চলেছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই। এ হচ্ছে প্রলম্বিত সহিংসতা। ভয় ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে নির্বাচিত হওয়ার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করেছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।’

সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দাবি করে জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে বাম জোটের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আহ্বায়ক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। গত সংসদ নির্বাচনে বাম জোটের উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জোনায়েদ সাকি, জলি তালুকদার, শম্পা বসু প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রে‌কিং‌নিউজ

আরও পড়ুনঃ শিশুকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদিন


লক্ষ্মীপুরে মোহাম্মদ নূর (১২) নামে এক শিশুকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম জয়নাল আবেদিন। তিনি সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

গতকাল রোববার বিকেলে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের বাবলা তলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি একই এলাকার মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে। তার মা মালেকা বেগম ভিক্ষা করে সংসার চালান বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের বাবলা তলা এলাকার একটি প্রতিবন্ধী শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ এনে নূরকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা জয়নালসহ কয়েকজন নূরকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিশুটির মা মালেকা বেগম অভিযোগ করেন, তিনি সকালে ভিক্ষা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেলে বাড়িতে ফিরে শুনতে পান জয়নালসহ কয়েকজন নূরকে পিটিয়ে আহত করেছে। পরে পুলিশ এসে নূরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। পরে তিনি থানায় গিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু ছেলের চিকিৎসা করার জন্য তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। জয়নালসহ তার লোকজন তাকে বের হতে বাধা দিচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুজ্জামান বেগ বাবলু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছি।’

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ আবারও বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলল


দুজনকে গুলি করে হত্যার সাত দিন পর এবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মো. বাবু (২১) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সোমবার বিকালে এবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ও জগদল সীমান্তের ৩৭৩/ ২-এস পিলারের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে। তার লাশ কাঁটাতারে ঝুলছিল।

নিহত বাবু হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউপির মরাধার গ্রামের একরামুল হকের ছেলে।

এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাণীশংকৈল থানা ওসি আবদুল মান্নান।

এর আগে ফেলানীর লাশও কাটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের পানিপথ এলাকার নারায়ণ চন্দ্রের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছিল বাবু। কাজ শেষে সোমবার বিকালে বাড়ি ফেরার পথে বাংলাদেশের ধর্মগড় ও জগদল সীমান্তের ৩৭৩/ ২-এস পিলারের বিপরীতে ভারতের শ্রীপুর বিএসএফের জওয়ানরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ওই যুবক মারা যান। তার লাশ সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছিল।

বিজিবির ঠাকুরগাঁও-৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর জেনেছি। তবে এ বিষয়ে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্তে জাহাঙ্গীর আলম (২১) বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এর চার দিন পর হরিপুর উপজেলার মিনাপুর সীমান্তে মো. জেনারুল হক (২২) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ জওয়ান অমীয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।

কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে উঠে এলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দাবির মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। বিএসএফের বিশেষ আদালতে মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের উচ্চ আদালতে রিট করেন বাবা নুরুল ইসলাম। এখনও মামলাটি বিচারাধীন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডান্ডা বেড়ি পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় বিএনপির নেতা


প্যারোলে ৩ ঘন্টার জন্য মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় শরিক হলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজি মুহিতুল হোসেন যত্ন। তবে হাত পায়ে ডান্ডা বেড়ি পরা অবস্থায়।

সোমবার সকালে কাজি মুহিতুলকে কারাগার থেকে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে তার মায়ের জানাজায় নিয়ে আসে পুলিশ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আওয়ামী লীগের অফিস পোড়ানোর অভিযোগে লামা থানায় তার বিরুদ্ধে দ্রত বিচার আইনে মমালা দায়ের করা হয়। পরে তাকে পুলিশ জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার তার মা শহরের বালাঘাটাস্থ নিজ বাসায় ৮২ বছর বয়েসে মারা যান।

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে কাজি মহিতুল হোসেন যত্নকে ৩ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি জানাজায় ডান্ডা বেড়ি পরা অবস্থায় অংশ নেন। তবে ডান্ডা বেড়ি পরা অবস্থায় জানাজায় অংশ নেয়ার এ দৃশ্যে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে বিকালে তার জামিন হয়েছে বলে জানান বিএনপির নেতারা। বান্দরবান কারাগারের জেলার দিদারুল আলম জানান নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নির্দেশেই কাজি যত্নকে ডান্ডা বেড়ি পরিয়ে জানাজায় নিয়ে আসা হয়েছে।

উৎসঃ ‌জাস্টনিউজ

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here