ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়া হবে: আ হ ম মুস্তফা কামাল

0
170

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।

রোববার জাতীয় সংসদে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে একইদিন আহসানুল হক টিটুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা ও শক্তিশালী হলেও পুঁজিবাজার এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হবে।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, সারা বিশ্বেই ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। দেশে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন কার্যকর না থাকায় ব্যাংকে প্রবেশ করলে সেখান থেকে বের হওয়ার পথ ছিল না। তাই আমরা আইনগুলো কার্যকর করে সেই আইনি প্রক্রিয়ায় সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে এখান থেকে মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা করব।

তিনি বলেন, এটা স্বতঃসিদ্ধ, আমরা সবাই জানি ব্যাংকিং খাত যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে, যদি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে এবং আর যদি নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে আমরা অর্থনীতির গতিশীলতা থেকে বিচ্যুত হব। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা ব্যাংক খাতগুলোর ‘রেট অব ইন্টারেস্ট’ কমাব। সুদের হার কমানো না গেলে নন-পারফর্মিং লোন কমবে না।

নন-পারফর্মিং লোন বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন তখনই বেড়ে যায় যখন লোন নিয়ে তারা পরিশোধ করতে পারেন না। নন-পারফর্মিং লোন হওয়ার কারণে সুদের হার অনেক বেশি হয়। যখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না তখন সেখানে সঙ্গত কারণেই খেলাপি হয়ে যায়। আর সেগুলোকে যদি পরিষ্কার না করি তাহলে এগুলো আরও খারাপ হয়ে যাবে। এ জন্য সুদের হার মোটামুটি সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসছি। এটা নিয়ে আসতে পারলেই আমরা সফল হব। আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। শিল্পকারখানাগুলো বেঁচে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার স্বার্থে কাজটি করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন।

তিনি বলেন, সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়ে দিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না। তবে আবার সবাইকে মাফও করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই অ্যাকশন নিতে হবে। আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি আমাদের ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে আর ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে যায় আর নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায় তাহলে আমরা আমাদের অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা সেখান থেকেও বিচ্যুত হব। রেট অব ইন্টারেস্ট আমরা কমাব। আর যদি রেট অব ইন্টারেস্ট কমানো না যায় তাহলে নন-পারফর্মিং লোন কখনও কমবে না। নন-পারফর্মিং লোন তখনই হয় যখন ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না। নন-পারফর্মিং লোন হওয়ার কারণটিই হচ্ছে রেট অব ইন্টারেস্ট ইজ টু মাচ হাই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘গরিব মানুষ’ বলে বৃদ্ধকে মসজিদ থেকে বের করে দিল প্রভাবশালীরা!


বরগুনার বেতাগী উপজেলায় মসজিদের মধ্যে বসে এক বৃদ্ধ মুসল্লিকে মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পওয়া গেছে।

শুক্রবার বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর ছোপখালী গ্রামে মোল্লা কান্দা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ শুরু হওয়ার পূর্ব মূহুর্তে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, লাল মিয়া (৫৫) নামক এক বৃদ্ধ মুসল্লিকে একই গ্রামের প্রভাবশালী মো. গনি মল্লিক ও তার ভাই আবদুল বারেক মল্লিক মসজিদের মধ্যে বসে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতিত মুসল্লি মো. লাল মিয়া বলেন, মসজিদে নামাজ শুরু হওয়ার পূর্বে মসজিদের উন্নয়ন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে তারাবিহ নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইমাম রাখার প্রসঙ্গে আমি কথা বললে গনি মল্লিক আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তিনি বলেন, গনি মল্লিক আমাকে ধাক্কা দেয় এবং মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। গনি মল্লিক আমাকে বলেন- ‘তুই গরিব মানুষ মসজিদের ব্যাপারে কথা বলতে আও ক্যা।’

গনি মোল্লা বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমন তর্ক চলাকলে তার ভাই বারেক মল্লিক এসে আমাকে চর, থাপ্পর ও ধাক্কা দিতে শুরু করেন। কিছু সময় এমন চলার পরে অন্যান্য মুসল্লিরা তাকে শান্ত করেন। একই সঙ্গে বারেক মল্লিক আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন- তুই যেন এই মসজিদে আর নামাজের জন্য না আসিস।

তিনি বলেন, আমি এমন অপমানের জন্য আইনের আশ্রয় নিব।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার মসজিদে রমজান মাসে ইমাম রাখার ব্যপারে আলোচনা করা হলে তর্কাতর্কি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মুসুল্লি জব্বার মোল্লা ও কুদ্দুস মোল্লা বলেন, মসজিদের মধ্যে মারামারি হয়নি তবে ধাক্কাধাক্কি করেছে। আর গনি মল্লিক খুব নোংরা ভাষায় কথা বলেছে অসুস্থ ও বৃদ্ধ লাল মিয়াকে। এমনটা করা তার ঠিক হয়নি। আমরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করবো।

এ ব্যাপারে বেতাগী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কাউন্সিলে মূলমঞ্চে বসিয়ে পরের দিনই মোকাব্বিরকে শোকজ নোটিশ


দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাদশ জাতীয় সংসদে সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে দলটি।

রোববার গণফোরামের নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দলের সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া পার্টির প্যাড ব্যবহার করে নিজ স্বাক্ষরে স্পিকারকে চিঠি পাঠানো এবং শপথ নেয়ার কারণে মোকাব্বির খান দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তাকে এই নোটিশ দেয়া হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম পথিক আরও বলেন, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্বাক্ষরে ডাকযোগে শনিবার এই কারণ দর্শানোর নোটিশ মোকাব্বির খানকে পাঠানো হয়। তিনি শপথ নিয়ে দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী ও সিদ্ধান্ত বিরোধী কাজ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব ১০ দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল মোকাব্বির খানকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেয় গণফোরাম।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন মোকাব্বির খান। গত ১ এপ্রিল বেলা ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে শপথ বাক্য পাঠ করেন। ৪ এপ্রিল মোকাব্বির খান মতিঝিলে ড. কামালের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ড. কামাল।

ওই ঘটনার দেড় মাসের মাথায় শুক্রবার সকালে ড. কামালের সঙ্গেই কাউন্সিল ভেন্যুতে প্রবেশ করেন মোকাব্বির খান। দলের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যর জায়গা হয় মূল মঞ্চেই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেই: সংসদে অর্থমন্ত্রী


দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত খারাপ পর্যায় রয়েছে,বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার জন্য যা যা করার তাই করা হবে।

রোববার জাতীয় সংসদে আহসানুল হক টিটুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হয়, তার প্রতিফলনটা আমরা দেখতে পাই পুঁজিবাজারে। পৃথিবীর সারা দেশেই এভাবে পুঁজিবাজার আর অর্থনীতি সম্পৃক্ত থাকে। আমাদের দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙা ও শক্তিশালী। কয়েক দিন আগে আইএমএফের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। সেখানেও তারা আমাদের গতিশীলতা দেখে তারা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। সে সময় আরও যারা মিটিং করেছেন তারা সবাই বলেছেন, বাংলাদেশকে অনুসরণ করার জন্য।

তিনি বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়া থমকে যাবে, যদি আমাদের পুঁজিবাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। আমি বলব, পুঁজিবাজারটি এখন নিয়ন্ত্রণে নাই। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নাই, এটা বলব না। তবে পুঁজিবাজারে যেসব সমস্যা আছে এরই মধ্যে আমরা চিহ্নিত করেছি। সবগুলোই এক এক করে সমাধান দেব।

এ সময় প্রশ্নকারীকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে পারি, সরকার অর্থনৈতিক এলাকায় যেমনিভাবে চিন্তা করে, তেমনি পুঁজিবাজার নিয়েও ততটা যত্নশীল। আমি নিজেও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সবাইকে নিয়ে এক দুই দফা মিটিং করেছি, আরও মিটিং করব। মিটিং করে পুঁজিবাজারকে আর ১০টি দেশে যেভাবে চলে সেইভাবেই চালাবার জন্য চেষ্টা করব। আমাদের বিচ্যুতিগুলো অবশ্যই দূর করব।

আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে কি না এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে। কতটা থাকবে সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য যাই কিছু করার প্রয়োজন তাই ব্যবস্থা করব।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাংবাদিকরা নজিরবিহীন নির্যাতনের শিকার : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের উপর এ সরকারের আমলে এত নির্যাতন হয়েছে যে বিগত সকল সরকারের আমল যোগ করেও এত নির্যাতনের নজির পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, এরকম জালিম সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না।

আজ রোববার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন কতৃক আয়োজিত বার্ষিক কাউন্সিল-২০১৮ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ইভিএম নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যায় না। মানুষকে জোর করেও সরকার ভোট কেন্দ্রে নিতে পারছে না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ভালোর জন্য বলছি, মজলুমের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন। তিনি বলেন, জুলুম করে কোন সরকার ক্ষমা পায়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, দিন দিন বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষ বাহিরে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেলেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশের এই অস্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর মাধ্যমে দেশকে বসবাস যোগ্য করে তুলতে হবে।

এসময় তিনি উপস্থিত সবাইকে দুনিয়ার পাশাপাশি আখেরাতের কামিয়াবি লাভের লক্ষ্যে কুরআন-হাদিসের আলোকে চলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে: মির্জা ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকট আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের(একাংশ) বার্ষিক সাধারণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে তার মৃত্যু হোক। সে জন্য তার সঠিক চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী এই সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত হয়ে মানবেতন জীবন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রের জন্য, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আমরা ১৯৭২ সাল থেকে সংগ্রাম করে আসছি। এই সংগ্রামে সাংবাদিকদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।অনেক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এই সময়ে এসে সাংবাদিকদের ওপর খড়গ আরও বেড়েছে, নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংস করে একটি গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্র ত্বরান্বিত করতে চায়, তারা কতটা ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী সেটি ভাববার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করছি তারা আরাম আয়েশে আছি এটি যারা মনে করছেন তারা ভুল করছেন।আমাদেরও ত্যাগ আছে।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, কবি আবদুল হাই শিকদার, এম আবদুল্লাহ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আমার শপথের খবর শুধু ভিত্তিহীনই নয়, এক কথায় রাবিশঃ উকিল আবদুস সাত্তার


শপথের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমার শপথ নেয়ার বিষয়ে পত্রপত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, তা কেবল ভিত্তিহীনই নয়, এক কথায় রাবিশ।’

শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন ধরে। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির টিকিটে জয়ী জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার পর এ গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, আমি শপথ নেব কী নেব না আমিই জানি না। অথচ আমাকে নিয়ে সংবাদ ছাপা হচ্ছে যে, আমি শপথ নিচ্ছি। বিষয়টি ভিত্তিহীন।

আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ ধরে সভা চলছে। র‌্যাব অফিসাররা খবর পাঠাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে যেন আমি দেখা করি। এটা ভালোর জন্য, নাকি খারাপের জন্য তা জানি না। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিকল্প কিছু নেই। তাকে মুক্তির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। বিএনপি আরও শক্তিশালী দল হবে। গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, এমএ খালেক, তগদির হোসেন জসিম, মোস্তাক মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হাতের ১০টি নখই উপড়ে ফেললো বিএসএফ, কত উদাসীন হবে সরকার?


আসিফ নজরুল

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ বাংলাদেশি এক তরুণের হাতের ১০টি আঙুলেরই নখ উপড়ে ফেলে পাশবিক কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের ‘উদাসীনতা’র কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।

নিজের ফেজবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তিনি লিখেছেন- ‘বাংলাদেশের এক যুবকের সবগুলো নখ উপড়ে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এই পৈশাচিক আচরণের আগেও আরো অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দিনের পর দিন সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষকে খুন করছে, রক্তাক্ত করছে ভারতের বাহিনী। এর কোন প্রতিকার করতে পারেনি সরকার। এমনকি অনেক সময় উপযুক্ত প্রতিবাদ পর্য্ন্ত করতে ব্যর্থ্ হয়েছে তারা।

আমি বুঝিনা নিজ দেশের মানুষের জীবন আর মর্যাদার প্রতি এমন উদাসীন্য কিভাবে দেখাতে পারে একটা সরকার? কিভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নীচু চোখে দেখা আর নির্বিচারে সীমান্তে হত্যা করা একটি রাষ্ট্রকে বন্ধুরাষ্ট্র বলে বলে বিগলিত হয়ে থাকতে পারে?

আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, অবৈধ সীমান্ত পারাপার হলে গ্রেফতার করা যায়, বিচার করা যায়। কিন্তু কোনভাবে কাউকে খুন করা যায় না, কারো নখ উপড়ানোর মতো পৈশাচিক আচরণ করা যায়না। আন্তর্জাতিক আইনে এসব গুরুতর অপরাধ।

নিজ দেশের মানুষের প্রতি মমত্ব থাকলে আর নিজ দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করা উচিৎ ছিল সরকারের। উচিত ছিল প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এসব আচরণ তুলে ধরা।

অবৈধভাবে এদেশে ভারতীয়দের থাকা ও চাকরী করার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়েও সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ অবিলম্বে।’

প্রসঙ্গত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নওগাঁর সীমান্তবর্তী ভারতের মালদা জেলার রাঙামাটি ক্যাম্পে মো. আজিম উদ্দিন নামে বাংলাদেশি এক তরুণের হাতের ১০টি আঙুলেরই নখ উপড়ে নিয়ে পাশবিক কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। ওই অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় তিন দিন তাকে আটকে রাখা হয়।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ জানিয়েছে, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই তরুণকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজিমের বাড়ি সাপাহার উপজেলার সীমান্তবর্তী তুলসিডাঙ্গা দক্ষিণ পাতারি গ্রামে।

ফিরিয়ে আনার পর তাকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘তার পরনের টি-শার্ট ও লুঙ্গি রক্তে ভিজে ছিল। উপড়ানো নখ ছাড়াও তার প্রায় সারা শরীরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

আসিফ নজরুল একজন বাংলাদেশী লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। টিভি টক শো ও তার কলামে সাহসী রাজনীতি বিশ্লেষণের জন্য তিনি বিশেষভাবে খ্যাত। তিনি দশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা। রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে ১৯৯১ সালে আসিফ নজরুল একটি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা বিচিত্রায় কাজ করতেন। বাংলাদেশ সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যর্থ স্বাধীনতা সবার জন্য কলঙ্ক : ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন


দেশে বিরোধী দলের রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণেই ভোটের অধিকার হারানো মানুষ রাজপথে নামছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এম হাফিজ উদ্দিন খান। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি কুলসিত হতে হতে সর্বশেষ পর্যায়ে চলে গেছে। গণতন্ত্রের প্রথম যে শর্ত সেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন আর দেশে নেই। গণতন্ত্রের এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে গণআন্দোলন প্রয়োজন। গণআন্দোলনের প্রয়োজন, কিন্তু নের্তৃত্বে ব্যর্থতায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঘরে বসে রয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দি ঢাকা ফোরাম’ আয়োজিত গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বলেন, ব্যর্থ স্বাধীনতা সবার জন্যই কলঙ্ক। জেলখানায় বসে ভোট ডাকাতির খবর শুনেছি। ১৭ কোটি মানুষকে ভীতির মধ্যে রেখে দেশে চলছে এখন মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদীর সরকার। তাদের কাছে মিথ্যাই সত্য, দুর্নীতিই সততা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বেম গোলটেবিল বৈঠকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, স্বাধীন দেশের সরকার হবে জনগণের অধিকার রক্ষার সুশাসন। নির্বাচন হবে বৈধতার ভিত্তিতে। কিন্তু জেলে থেকে আমাকে শুনতে হলো ভোট ডাকাতির কাহিনী। দেশে ভোটের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে। ভোট ডাকাতি করতে পুলিশি শক্তির অপব্যবহার করা হয়েছে। জনগণ এখন প্রশাসনের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ১৭ কোটি মানুষ অন্যায় অবিচারের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। দেশের রাষ্ট্রীয় শক্তির ভয়ভীতির আতঙ্কে আমরা রয়েছি।

ভোটাধিকারের দাবি নাগরিকত্বের দাবি। ভোটাধিকার রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা দলীয় রাজনীতির ব্যর্থতা নয়, আমাদের স্বাধীনতার ব্যর্থতা। স্বাধীনতার অর্থ স্বাধীনভাবে সরকার গঠনের স্বাধীনতা, দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার। স্বাধীনতা জনগণের সরকারের নয়। সরকারের থাকতে হবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব্ পালনের দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোট নড়বড়ে অবস্থায় বিচার ব্যবস্থাকে কোনোভাবে ধরে রেখেছে। নিম্ন আদালতের জজ-বিচারকদের চাপের মুখে রাখতে সরকারের অসুবিধা হচ্ছে না। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই অহরহ ফোন করেন জজ-ম্যাজিস্টেটদের কারণীয় নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। জনগণের সুবিচার পাবার অহয়াত্বের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে।

অপরদিকে আইনমন্ত্রী বলছেন বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই দুর্নীতিপরায়ণরা পার পাচ্ছে। সরকার এতো সাধু হলে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় থাকতে হতো না। পুলিশি মামলা দিতে সরকারকে আইনের কথা ভাবতে হয় না। সরকারই আইন। জামিন না পেলেই লক্ষ্য হাসিল। তিনি বলেন, ভয়-ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা আতঙ্কের মধ্যে জনসমস্টিকে রাখা স্বাধীনতা নয়। দেশে চলছে মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদীদের সরকার। সরকার পরিচালনায় সেই গোষ্ঠীই প্রভাবশালী যারাই জনগণকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করতে সাহায্য করছে। তাদের কাছে মিথ্যাই সত্য, দুর্নীতিই সততা। তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। জিডিপি কেন্দ্রীক উন্নয়নের বড় বড় দাবির সমর্থনে তথ্য প্রকাশে সরকারের অস্বীকৃতি বোধগম্য। তিনি বলেন, জনগনের ভোট হরন করে যে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হয় সে সরকারের ব্যর্থতার কথা, গণ-ভীতির কথা অন্যদের বলতে হয় না। জনগণের ভোটাধিকার অস্বীকার করাই সরকারের চরম ব্যর্থতার স্বীকৃতি।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, দেশে ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে তা কলংকজনক নির্বাচন। ডাকসুতেও একই কায়দায় নির্বাচন হয়েছে। দেশের গুটিকতক এর প্রতিবাদ করলেও আমরা এর প্রতিবাদ করতে পারিনি। মূলত মানুষের মনে এখন ভয় ঢুকে গেছে। টকশোতে সত্য কথা বললে এখন আর তারা ডাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এখন তেমন কোন আভাস দেখা যাচ্ছে না। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেটা হচ্ছে না। তবে সুদানে যেভাবে ৩০ বছর পর পরিবর্তন এসেছে আমাদের দেশে ১৫ বছরের শাসন চলছে। আরো হয়তো ১৫ বছর পর পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য গণআন্দোলন প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষ এক সময় অনেক প্রতিবাদী ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষের সেই প্রতিবাদী মনোভাব এখন কোথায় গেল? মানুষ কি নির্জিব হয়ে গেল?

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সামষ্টিক সূচকের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন দেখানো হচ্ছে। কিন্ত দিনকে দিন মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েই চলেছে। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের মানুষ উন্নয়নের সুবিধা থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণ এখন জনগণ নয় পুঁজিই ক্ষমতার উৎস হয়ে গেছে। দেশে সুশাসন নেই, জবাবদিহিতার প্রচন্ড অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। ভোটধিকার এখন ক্ষমতা ও অর্থের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেশের এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়ন এর পথে এগিয়ে যেতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। মানুষ এখন ভয়ে কথা বলতে পারে না।

ঢাকা ফোরামের এই গোলটেবিলে বক্তৃতা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. আনু মুহাম্মদ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ফখরুল আযম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ তিতুমীর, ড. জামাল খান, মাহমুদ জামিল, ঢাকা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফিনান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, ঢাকা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এফ এ শামীম আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ আজীজ, সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. মাজহারুল হক প্রমুখ। #

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌শপথের নামে দালাল-মীরজাফরদের ইতিহাস ক্ষমা করবে না: শামসুজ্জামান দুদু


দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে বিএনপির নির্বাচিত যেসব সংসদ সদস্য শপথ নিচ্ছেন ইতিহাসের পাতায় তারা একদিন মীরজাফর হিসেবে চিহ্নিত হবেন ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিকে ফ্যাসাদে ফেলতে সংসদ সদস্যদের জোর করে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছে বর্তমান সরকার। আর এই শপথের নামে বিএনপির যারা দালালি করছেন সেইসব দালাল-মীরজাফরদের ইতিহাস কোনোদিন ক্ষমা করবে না।’

শনিবার (২৭ এপ্রিল) নোয়াখালী ধর্মপুর হাজিরহাট হাই স্কুল মাঠে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল নোয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতার আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে রে‌খে‌ছে সরকার। মনে রাখতে হবে- দেশনেত্রীকে বন্দী করে রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতন্ত্রকে কবর দেয়া, স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা।’

ছাত্রদ‌লের সা‌বেক এ সভাপ‌তি ব‌লেন, ‘সর্বস্তরের মানুষ এটি জানে যে, বর্তমান সরকার নির্বাচিত সরকার না। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন তারা ২৯ তারিখে ক‌রে‌ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কা‌ছে লজ্জায় ফেলে দিয়েছ। এই নির্বাচন গণতন্ত্রকে, স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, একাত্তরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে। অতএব আজ যদি দেশে আবারও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে রাজনীতির ময়দানে। আর সেই রাজনীতির ময়দানে স্বৈরাচার সরকারের পরাজয় ত্বরান্বিত করতে হলে নিজেদের সংগঠনকে আরও বেশি শাণিত করতে হবে। সেজন্য কৃষকদলের আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দকে শপথ নিতে হবে।’

‌বিএন‌পির এই শীর্ষ নেতা আরও ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকের জন্য তাদের সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কৃষকের ৫ হাজার ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা ও তাদের মেয়েদের একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার। সেজন্য দেশের জনগণ বেগম জিয়াকে ভালবাসেন। জনগণ বেশি ভা‌লোবা‌সে ব‌লেই বর্তমান অবৈধ সরকার খা‌লেদা জিয়া‌কে হিংসা ক‌রে, তাঁকে এত ভয় পায়।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই প্যারোলের নামে নতুন ফাঁদ পাততে চাইছে সরকার। বেগম জিয়াকে অপমান করার জন্যই সরকারও বারবার এই প্যারোলের কথা বলছে।’

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য, তেল, সারের দাম কমানোর ব্যবস্থা করা হবে ব‌লেও জনগণকে আশ্বস্ত করেন দুদু।

নোয়াখালী জেলা কৃষকদলের আহ্বায় রবিউল হাসান পলাশের সভাপতিত্বে কৃষক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিএনপির আরেক ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শাজাহান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নেয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা মো. জামাল উদ্দিন খান মিলন, অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ, এস কে সাদী, মাইনুল ইসলাম, লায়ন মো. আক্তার হোসেন সেন্টু, আলমগীর চৌধুরী, প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌৩০ ডিসেম্বরের পর‘এখন সব মরে গেছে, কোনো আন্দোলন প্রতিবাদ নেই’


গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির পর দেশের সুশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, ‘দুঃখজনক, এর কোনো প্রতিবাদ নেই। আমরা কেউ মাঠে নামি নাই। বাঙালিরা এত প্রতিবাদী ছিল। বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তরে কত প্রতিবাদ করেছে এই বাঙালি। এখন সব মরে গেছে কেন, বুঝতে পারলাম না।’

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক গোলটেবিল বৈঠকে হাফিজ উদ্দিন খান এসব কথা বলেন। দি ঢাকা ফোরাম নামের একটি সংগঠন ‘গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র হয় না। তবে গণতন্ত্রের শুরুটা হয় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন সুবিধা সবাই পাচ্ছে না। বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের যে স্লোগান চলছে, ষাটের দশকে পাকিস্তান আমলেও তা ছিল। কিন্তু সে উন্নয়ন সবাইকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে এসেছে উল্লেখ করে সাবেক এই গভর্নর বলেন, এই খাতে ঋণ প্রবাহ কমে ১২ শতাংশ নেমে এসেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এটি ১৬ শতাংশ ছিল। বড় বড় বিনিয়োগ করতে গিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবহেলা করা হচ্ছে। তারা যথেষ্ট ব্যাংক ঋণ পায় না বললেই চলে। বড় বড় ঋণ পুঁজিপতিদের দখলে।

শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯০-এর দশকে শেয়ারবাজারে যে কেলেঙ্কারি ঘটেছিল সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্র ও সরকার সেই শিক্ষা নেয়নি বলেই ২০১০ সালে কেলেঙ্কারি হয়। তার ধারাবাহিকতা এখনো আছে। কারা, কীভাবে এর সঙ্গে জড়িত, তা সরকার জানে। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র সংকুচিত হলে পুঁজির অসম বিকাশ ঘটে। আর এই কারণেই এ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীরা। কারণ, পুঁজিই এখন ক্ষমতার উৎস, জনগণ নয়। এতে জনগণের স্বার্থ সেই অর্থে গুরুত্ব পায় না। যার ফলে জবাবদিহি নেই, সুশাসনও নেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান উন্নয়নের ধরনে জবাবদিহির অভাব ও স্বচ্ছতার অভাব আছে। সড়ক, রেলপথে বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এর কারণ, যারা নীতিনির্ধারক তারাই এসব প্রকল্পের পেছনে আছেন। এসব প্রকল্প ব্যয়ের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, দোষী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার তৎপর। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার অতটা তৎপর নয়।

জনগণ প্রশাসনের কাছে অসহায় বলে মন্তব্য করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। সব অন্যায় অবিচারের কাছে আমরা ১৭ কোটি লোক অসহায় হয়ে আছি। দেশে সরকার থাকবে আর সুশাসন থাকবে না, এটা হতে পারে না। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই এ রকম বিনা ভোটের একটা সরকার, লজ্জাও পায় না। ভোটাধিকার না থাকলে নাগরিকত্বও থাকে না।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকার ডাকাত সরকার। ৩০ ডিসেম্বর ডাকাতি করে ভোট নিয়েছে। আবার বলছে, উন্নয়ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। যে জিডিপিতে সমতা নেই তাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। এটা লুটেরাদের উন্নয়ন।’

বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‌গুম খুনের অভিযোগ না নিলে বুঝতে হবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি জড়িত : আনু মুহাম্মদ


তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, গুম আর খুনের ঘটনায় পুলিশ, র‌্যাব যদি অভিযোগ গ্রহণ না করেন তাহলে বুঝতে হবে তারাই এর সাথে জড়িত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের গুম আর খুনের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি জড়িত। অথচ সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে। এই সরকার মিথ্যার উপর ভর করে চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত গুম ও গণতন্ত্রের অব্যাহত সংকট শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে উচ্চ পদের প্রত্যেকেই গুম খুন নিয়ে অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে। গুম পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন, র‌্যাবের পোশাক পড়েই তুলে নিয়ে পরে গুম করা হচ্ছে । এর জবাবে যদিও র‌্যাব বলছে, কালো পোশাক নাকি গুলিস্তানেও পাওয়া যায়। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই কালো পোশাকের বিক্রেতাকে র‌্যাব ধরছে না কেন?

তিনি আরো বলেন, জনগনের করের টাকা নিয়ে সেই জনগনের সাথেই হাসিঠাট্টা করছে প্রশাসনের লোকজন। গুম হওয়া সদস্যের পরিবারের লোকজন যদি থানায় গিয়ে জিডি বা মামলা করতে চান, কিংবা র‌্যাবের খাতায় অভিযোগ দিতে চান আর সেখানে র‌্যাব বা পুলিশ যদি অভিযোগ না দিয়ে উল্টো হয়রানি করেন তাহলে বুঝতে হবে এসবের সাথে তারাই জড়িত।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণের মনে এখন প্রশ্ন এটাই কি আওয়ামী লীগের দিন বদল ? পুলিশ র‌্যাব এখন সারা দেশে আটক বাণিজ্য শুরু করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ১৯৭৩/৭৪ সালেও একটি শ্লোগান ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। এখন সেই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিও পাচ্ছে না জনগন। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, উন্নয়নের মানে কি প্রতিদিন একজন গুম করা ? উন্নয়নের মানে কি সকালে দুপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু খবর পাওয়া ? উন্নয়নের মানে কি পাহাড়ে আর সমতলে অস্তিরতা তৈরি করা ?

দেশের নির্বাচনও এখন গুমের মধ্যে পড়ে গেছে এমন মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, গুম খুনের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা রাখবো। কষ্ট হলেও গুম হওয়া পরিবারের ডাকে সাড়া দেব। আরো বেশি মানুষকে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে ভূমিকা রাখতে কাজ করবো।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বিদেশি গণমাধ্যমে পেন্সিলে আঁকা খালেদা জিয়ার কারাজীবন! ( ছবি সহ )


কথিত দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন। এবার তার সেই কারাজীবন নিয়ে পেনসিলের আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম বেনার নিউজ।

খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দিয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার কোনো আলোকচিত্র কিংবা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

শারীরিক দুর্বলতার জন্য মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

বেনার নিউজ দাবি করছে, বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে স্কেচ তৈরি করেছেন ইলাস্ট্রেটর রেবেল পেপার।

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হচ্ছেন একমাত্র খালেদা জিয়া। একসময় সেখানে কয়েক হাজার বন্দি ছিলেন। কারাগারে তার পাশের কক্ষেই থাকেন তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা।

২০১৮ সালে তারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এর বছর দুয়েক আগে ২০১৬ সালে সেটি খালি করে বন্দিদের একটি নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কারাগারে প্রশাসনিক ভবনের প্রথম ফ্লোরেই খালেদা জিয়ার থাকার জায়গা। তিনি ১০ ফুট লম্বা ও আট ফুট চওড়া একটি কক্ষে থাকেন।

কারাগারটি একজন সাবেক উপপরিদর্শক বেনার নিউজকে বলেন, সেখানে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে একটি টেবিল, দুটি চেয়ার দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি গ্লাস, পিরিচ, চিরুনি, টুথব্রাশ, টুথপ্লেট, সাবান ও শ্যাম্পুসহ অন্যান্য জিনিসও রয়েছে তার জন্য।

২০১৮ সালের জুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে খুবই নোংরা পরিবেশে রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারটি পরিত্যক্ত। এতে বড় বড় ইঁদুর থাকে।

তিনি বলেন, আপনারা শুনে অবাক হবেন, খালেদা জিয়া যে কক্ষে থাকেন, সেই কক্ষটিতে একটি বিড়াল ইঁদুর শিকার করেছে।

কিছু কছু বিরোধী নেতা অভিযোগ করেন, কক্ষটিতে পোকামাকড়ের উপদ্রুব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। খালেদা জিয়াকে বিশেষ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাকে খাট, বিছানা, বালিশ, ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে।

‘কিন্তু সেখানে কীটপতঙ্গের উপদ্রব কেমনে হয়? কক্ষটি খুবই পরিচ্ছন্ন।’

খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব নিয়ে বিএনপির নেতারা রাজনীতি করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কারাকর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

প্রতিদিনের রুটিন অনুসারে খালেদা ফল দিয়ে সকালের নাস্তা করেন এবং পত্রিকা পড়েন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে স্বাভাবিক সুপ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারাকর্মকর্তা বেনার নিউজকে বলেন, তিনি পেঁপে ও অন্যান্য ফলের জুস পছন্দ করেন। আমাদের দেয়া ফল তিনি খাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে তার পছন্দ অনুসারে একটি পত্রিকা দেয়া হয়। এ ছাড়া কারাকক্ষে তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

সরকার কারাগারের ভেতর বিশেষ জজ আদালত বসিয়েছেন। যেটা তার কক্ষ থেকে খুব দূরে নয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলার শুনানির সময় তাকে আনা হয়।

হুইলচেয়ারে বসে তিনি যখন আদালতে যান, তখন দুই নারী পুলিশ থাকে তার সঙ্গে। মাঝে মাঝে তিনি শুনানিতে আসতে অস্বীকার করেন।

গত ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় তাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন- খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার মতো নয়। কাজেই স্বাস্থ্যের জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করেই তাকে বেঁচে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিস ও হাঁটুতে সমস্যা আছে। তার পেশি সক্রিয় রাখতে আমরা দুজন ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেয়া হয়।

‘এ ছাড়া তার মেডিকেল চেকআপের জন্য একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক তার রক্তচাপ, রক্তের শর্করার রেকর্ড রাখেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here