ঋণ জালিয়াতির টাকা বিদেশে পাচার

0
241

বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তদন্ত করছে * টাকা পাচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ * অর্থ ফেরানোর সুযোগ আছে, উদ্যোগ নেই

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় এসব অর্থ পাচার করেছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ৪৬ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, প্যাসিফিক গ্রুপ ৭৩০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা, ইমাম গ্রুপ ৮৮ কোটি টাকা পাচার করেছে।

এছাড়া আমদানির পণ্য দেশে না এনে, আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে, রফতানির মূল্য দেশে না এনে, শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির নামে এসব অর্থ পাচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, টাকা পাচারের ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে। বর্তমানে এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো সংস্থার তদন্তে অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়লে তা আরও সুনির্দিষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও মাঠে নামে।

পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বিএফআইইউ ও দুদকে পাঠাতে হয়। তারা সেগুলো আরও বিশদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, টাকা পাচারকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে বেছে নিয়েছে। আমদানি-রফতানি দুইভাবেই টাকা পাচার হচ্ছে। এর মানে, এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে কাজ করছে না। যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতি রক্তশূন্য হয়ে যাবে।

বিএফআইইউ’র এক কর্মকর্তা বলেন, তারা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে টাকা পাচারের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘটনা তদন্ত হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে।

সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এর মধ্যে তারা যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড থেকে ৬৫ কোটি টাকার একটি এলসির দেনা শোধের নামে পাচার করেছে।

সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে। পণ্য দেশে না আসায় দেনা শোধ করছিল না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দায়, সে কারণে ব্যাংকের ইমেজের স্বার্থে পরিশোধ করতেই হবে। এ কারণে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই সময়ে সোনালী ব্যাংক ইউকে’কে দেনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশ মোতাবেক ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবির এ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দুদক তদন্ত করছে।

৫টি ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর পুরোটাই তারা বিদেশে পাচার করেছে। ওই টাকায় দুবাইয়ে তারা হোটেল ব্যবসা করছে বলে তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এর মধ্যে তারা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা আরও তদন্ত করছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে তাদের পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বিএফআইইউ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে তথ্য চাইতে হলে বিএফআইইউর তদন্তে তা প্রমাণিত হতে হয়। এর ভিত্তিতে বিএফআইইউ বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে পারে। কিন্তু বিএফআইইউ থেকে সে রকম জোরালো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

প্যাসিফিক গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের গ্যারান্টিতে বেসরকারি খাতের ১২টি ব্যাংক থেকে সিটিসেল ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্যাসিফিক মোটরস নিয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে ১৬টি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাচার করা হয়েছে ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। শান্তিনগর শাখা থেকে তুলনামূলকভাবে কম পাচার হয়েছে। ছোট ছোট এলসির মাধ্যমে এই টাকা পাচার হয়।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার গ্রাহক রিয়াজুল ইসলাম দুবাইভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছেন শাহরিয়ার খান জয়।

তিনি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর ছোট ভাই পান্নার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ কারণে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে ফাইল তৈরির কাজ পড়ত জয়ের ওপর।

যেসব ফাইল জয়ের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি ওইগুলোর ঋণ দ্রুত পর্ষদে পাস হয়ে যেত। এমনই একটি প্রকল্পের বন্ধকি জমির প্রকৃত মূল্য আড়াই কোটি টাকা।
ব্যাংকে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। ঋণের পুরো টাকাই বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের একই শাখা থেকে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য লোন এগেনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্টি (এলটিআর) সুবিধা নেয়। কথা ছিল ওই অর্থে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করবেন।

ওই অর্থে তিনি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন এমন কোনো তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে তিনি ওইসব ঋণও পরিশোধ করেননি। এ খাতে তার বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোএখন দুদক থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে কয়েকটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে পাচার হয়েছে ২২২ কোটি টাকা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই প্রথম সোনালী ব্যাংক নিজে বাদী হয়ে তার কোনো ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য চট্টগ্রামের চারটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় এলসি খোলে। এসব এলসির বিপরীতে ১৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু দেশে কোনো শিল্পের কাঁচামাল আসেনি। যেসব কনটেইনারে এসব এলসির বিপরীতে পণ্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শিল্পের কাঁচামালের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ইটের গুঁড়া, আবর্জনাময় বালি, বিভিন্ন পণ্যের পোড়া অংশের ছাই, গুঁড়া পাথর ও সিমেন্টের ব্লক।

চট্টগ্রামের এবি অ্যান্ড ডি কর্পোরেশন, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, এসআর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএল স্টিল, এলএসআই, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ও সেবা এন্টারপ্রাইজের নামে এলসিগুলো খোলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, যেহেতু ব্যাংকের মাধ্যমে দেনা শোধ করা হয়েছে, কিন্তু পণ্য আসেনি- এর মানে হচ্ছে ওই সব টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি এখন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে তদন্ত হচ্ছে।

ইমাম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই খেলাপি। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ইমাম ট্রেডার্সকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এর ১০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে এবং ৭৫ কোটি টাকা এলটিআর। এসব ঋণের টাকায় পণ্য আমদানি করার কথা। বাস্তবে বেশির ভাগ পণ্যই দেশে আসেনি। এসব অর্থও বিদেশে পাচার হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ জনগণকে নিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তায় নেমে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি


একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর হতাশায় ন্যুব্জ হয়ে পড়া বিএনপি ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। গত দুই মেয়াদে সরকারের ‘নিপীড়নমূলক আচরণ’ বিবেচনায় এনে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন রোডম্যাপে পথ চলতে চায় দলটি। এই পথ দীর্ঘ হলেও মাথা ঠাণ্ডাই রাখতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের চিন্তা অনুযায়ী- আগামীতে আন্দোলনের ধরনে পরিবর্তন আসবে। দলের নেতৃত্বকেও শক্তিশালী কাঠামো দেয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আন্দোলনের আগে দেখতে হবে তাদের সংগঠন ঠিক আছে কি না। পরিস্থিতি অনুকূল কি না। কারণ বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মী আসামি। ১ লাখ মামলা। ১ হাজারের ওপরে নেতাকর্মী জেলে আছেন। এই পরিস্থিতিতে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। অনেকে নব্বইয়ের আন্দোলনের কথা বলেন। কিন্তু ১৯৯০ আর ২০১৯ এক না, এটা মাথায় রাখতে হবে। সে সময় এমন ভয়াবহ সরকার ছিল না। চরম নির্যাতনকারী সরকার ছিল না। তখন নির্বিচারে গুম, খুন, গুলি হতো না।

হতাশা কাটিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিএনপি নানামুখী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশজুড়ে সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব দিয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি। দীর্ঘ দিন ধরে মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে এখন প্রাণের সঞ্চার করতে চায় হাইকমান্ড।

পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। কাউন্সিলের আগে তাদের মূল কাজ হচ্ছে জেলা কমিটিগুলো হালনাগাদ করা। এগুলো প্রায় শেষের দিকে। পুরোপুরি সম্পন্ন হলেই কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হবে। এগুলো শেষ হলে কাউন্সিলের প্রস্তুতি এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে।

জানা গেছে, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এরই মধ্যে ৩৩টির বেশি জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৪৮টি জেলার কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। বেশ কয়েকটি জেলার নতুন কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। জেলা কমিটিগুলোকে দ্রুত উপজেলা ও পৌর কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ দিকে চলতি মাস থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠের কর্মসূচি বেগবান করতে চায় বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ হবে। বিগত সময়ে হরতাল অবরোধের কর্মসূচি দিয়ে বিপর্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার ওই ধরনের কোনো কর্মসূচি না দিয়েই সফলতা পেতে চায় দলটি। আন্দোলনের সাথে যাতে সরাসরি জনগণ সম্পৃক্ত হয় সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী ছক সাজানো হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুর আন্দোলনে রাজপথ উত্তপ্ত করা সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করে গণ-অভ্যুত্থান ঘটানোই দলটির পরবর্তী পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর আন্দোলনের ধরনের পরিবর্তন আনার বিষযটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মতে, একসময় সরকারকে চাপে ফেলার আন্দোলন হিসেবে শুধু হরতাল অবরোধকেই ভাবা হতো। কিন্তু সময় পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষ আর ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি চায় না। তবে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায়। কিন্তু পরিকল্পিত কোনো কর্মসূচি, কার্যকরী দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে আন্দোলন সফল হচ্ছে না। তাই জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণ যাতে সম্পৃক্ত হয় তেমন নতুন ধরনের কর্মসূচি দেবে বিএনপি।

জানা গেছে, সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির দুর্বল কর্মসূচি দলের অনেক নেতাকর্মীই ভালোভাবে নেননি। মধ্যসারির কয়েকজন নেতা সিনিয়র নেতাদের সরাসরি বলেছে, এই ইস্যুতে বিএনপির কঠোর কর্মসূচি দেয়া উচিত ছিল। বিএনপির কর্মসূচির সাথে সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হতো। জবাবে সিনিয়র নেতারা তাদের জানিয়েছেন এ ব্যাপারে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন দলের হাইকমান্ডও। কিন্তু আন্দোলনের জন্য সংগঠন গুছিয়ে আনার একেবারে শেষ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না বিবেচনায় দুর্বল কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে কার্যকরী বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ার কথা এখনো ভাবা হচ্ছে।

আসন্ন কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির সাথে জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই আন্দোলন শুরু হবে। এর মধ্যে নিরাপদ সড়ক, গুম-খুন-ধর্ষণ নির্মূলে ব্যবস্থা নেয়ার দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, নগরীতে যানজট, জলজটের বিষয়গুলো আসবে।

বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলন ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন হবে না। তবে যেই আন্দোলনে ফল পাওয়া যাবে না তেমন কর্মসূচিতে বিএনপি যেতে চায় না। আন্দোলনে সফল হতে হলে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য দীর্ঘ ক্ষোভ বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উৎসঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বর্ষায় রাজধানীবাসীর জলাবদ্ধতার তিক্ত অভিজ্ঞতা ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে কি?

বর্ষায় রাজধানীবাসীর তিক্ত এক অভিজ্ঞতার নাম জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। এবার সে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ঢাকাবাসী। নগরীর বড়-ছোট সড়ক থেকে অলিগলিগুলোতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই সঙ্গে ড্রেন থেকে আবর্জনা উঠে সয়লাব হয় পুরো সড়ক, অলিগলি।

আষাঢ়ের শেষপ্রান্তে এসে শুক্রবার (১২ জুলাই, ২৮ আষাঢ়) রাজধানীতে ৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রায় দিনব্যাপী থেমে থেমে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে আরামবাগ, মতিঝিল, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শান্তিনগর, ইস্কাটন, মগবাজার, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ মিরপুরের বেশির ভাগ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে বৃষ্টির পানি।

কোথাও কোথাও হাঁটুপানি মাড়িয়ে আবার কোথাও রিকশায় পারাপার করতে হয় সাধারণ মানুষকে। ফলে এবার পুরোদমের বর্ষায় ব্যাপকভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে রাজধানীবাসীকে- এমন ধারণা অনেকের।

তবে এবারের বর্ষায় রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে সেবা সংস্থাগুলো।

ঢাকা ওয়াসা বলছে, রাজধানীর ১৫টি খালের ২০ কিলোমিটার ও ৩০০ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া চারটি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ড্রেনগুলো পরিষ্কার করছে। তবে দুই সিটি কর্পোরেশন বলছে, ওয়াসাকে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্পের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে এবারও নগরীতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থেকে যাবে।

রাজধানীবাসীকে জলজট থেকে মুক্তি দিতে ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা ওয়াসা। ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন নামের প্রকল্পের সময় এক বছর পার হলেও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ১৬টি খাল উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, শেরেবাংলা নগর, দারুসসালাম, মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, বিমানবন্দর এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, শঙ্কর, জিগাতলা, রায়েরবাজার এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করাই ওই প্রকল্পের প্রধান কাজ। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত বিদ্যমান খালগুলো খনন ও প্রশস্ত করে তীর উন্নয়ন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে খালের দুই তীরের পরিবেশ উন্নত করাও ছিল এ কাজের অংশ।

এদিকে ডিএসসিসি সংশ্লিষ্টরা সম্প্রতি তাদের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে জানতে পারেন যে, ঢাকা ওয়াসার ড্রেনের কারণে ডিএসসিসি এলাকার ৩০টি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে ১৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অথচ এ নিয়ে ঢাকা ওয়াসা এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, আমাদের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখেছি, ঢাকা ওয়াসার ড্রেনগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তাদের ড্রেনের কারণে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়, আমরা তার একটা তালিকা করে ঢাকা ওয়াসাকে দিয়েছি।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ৩০০ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনের পরিষ্কার কাজ চলছে। ২৪৯ কিলোমিটার পরিষ্কার হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত হলে চারটি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, এবারের বর্ষায় রাজধানীতে যেন জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য গত বছর ১৭টি খালের ৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়। পানি যেন দ্রুত ড্রেন দিয়ে চলে যেতে পারে, এজন্য ৩০০ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। রাস্তার পানি যেন দ্রুত ড্রেনে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ৭০০টি ক্যাচপিট (নালার ওপরের ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা) পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন বলেন, রাজধানীতে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এদিকে সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসনে কালশী থেকে বাউনিয়া খাল পর্যন্ত বাইপাস পাইপ ড্রেন সংযোগ কাজের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। কালশী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কালশী থেকে বাউনিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,১৮৮ মিটার দীর্ঘ বাইপাস পাইপ ড্রেন সংযোগ কাজের উদ্বোধন করা হয়।

অন্যদিকে ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, তাদের এলাকায় পানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫১টি স্লুইস গেট রয়েছে। এসব গেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া দুর্ভোগ নিরসনে জলাবদ্ধতা-প্রবণ এলাকায় অস্থায়ী পাম্প বসাতে ঢাকা ওয়াসাকে সুপারিশ করেছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

উৎসঃ জাগো নিউজ

আরও পড়ুনঃ মাঠে নামছে বিএনপি, ২০ জুলাই লালদীঘির সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ফাইল ছবি

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আগামী ২০ জুলাই লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বর কিংবা কাজীর দেউড়ি মোড়ের এই সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) মহানগর বিএনপির নাসিমন ভবন কার্যালয় চত্বরে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ সভা হয়। সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুকসহ চট্টগ্রামের জেলাগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য বিএনপি ও অঙ্গদলের থানা, ওয়ার্ড অংঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়াও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ এটা জানে যে সরকার একটা ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে সামনের দিকে চলতে চাচ্ছে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করা ছাড়া এই ভয়ভীতির পরিবেশ থেকে বের হওয়া যাবে না, গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া যাবে না, বাকস্বাধীনতা পাওয়া যাবে না, আইনের শাসন ফিরে পাওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা মানে গণতন্ত্রকে বেঁধে রাখা। তিনি মুক্ত থাকলে দেশে ভোট চুরির নির্বাচন হতে পারবে না। তাঁর মুক্তির দাবিতে ২০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপ-দফর সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করতে প্রথমে লালদীঘি মাঠ চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা চলায় পরবর্তীতে কাজীর দেউরী মোড় কিংবা লালদীঘির পাড় সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই দুটি স্থানের যেকোন একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে নগর পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ওবায়দুল কাদেরের ছোট মুখে এত বড় কথা মানায় না: সেলিমা রহমান

ফাইল ছবি

সাহস থাকলে বিএনপি তাদের নেত্রীকে আন্দোলন করে বের করে আনুক’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করে আনবো। কিন্তু আপনাদের মুখে বড় কথা মানায় না। কারণ আপনারা নির্বাচন করেন নাই। যদি আপনাদের সাহস থাকতো তাহলে আপনারা ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্বাচন করতেন না। আপনাদের জনগণের উপর আস্থা থাকলে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন করতেন। সেটা করবেন না কারণ আপনারা জানেন জনগণের কাছ থেকে আপনারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র মিশন আয়োজিত সংগঠনটির ২০১৯ সালের কাউন্সিল উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা আজ অনেক কথা বলছেন। অথচ বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছেন। সে কারণে আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। দুই বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত এর হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, কেন এটা হচ্ছে কারণ এখন দেশে কোন বিচার নাই, কোন বিচার ব্যবস্থা নাই- আজকে সম্পূর্ণ বিচার ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কোন জজ আজকে নিরপেক্ষভাবে রায় দিতে পারছেন না।

সম্প্রতি পাবনার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাবনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে রায় দেয়া হয়েছে এটি সম্পূর্ণভাবে হাস্যকর। ২৫ বছর আগের ঘটনা, যে ঘটনায় কেউ আহত হয়নি কারো গায়ে একটু আছর পর্যন্ত লাগেনি অথচ সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় সরকার মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, তিনি অসুস্থ, সেই অসুস্থ অবস্থায় তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তারা বেগম জিয়াকে ভয় পায় তারা জানে যদি বেগম জিয়া বাইরে থাকেন সমগ্র দেশের জনগণ তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে- মানুষের ঢল নামবে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, সরকার ছাত্র সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সে কারণে ২০ থেকে ২৫ বছরের ছেলেরা আজকে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়েছে। আজকে বরগুনায় ০০৭ নামে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে- এদেরকে তৈরি করেছে কারা? এদের পেছনে রয়েছে বড় বড় রাজনৈতিক শক্তি ধর ব্যক্তিরা।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন।

উৎসঃ পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ সাগরে ৭ দিন ভাসতে থাকা ভারতের জেলে বাংলাদেশি নাবিকের হাতে উদ্ধার, দুনিয়া তোলপাড়!

হলদিয়া থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত ৬০০ কি.মি. ভেসে আসেন ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ৷ এ সময় শুধু বৃষ্টির পানিতে তিনি তৃষ্ণা মেটান৷

সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিরা খুন হলেও বঙ্গোপসাগরে সাত দিন ধরে ভাসতে থাকা পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ দাসকে উদ্ধার করে বাংলাদেশি নাবিক মহানুভবতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে গেছে। টানা সাত দিন তিনি বঙ্গোপসাগরে ভেসে ছিলেন৷ কুতুবদিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি এখন সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাহাজে থাকা কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের জাহাজ এমভি জাওয়াদের ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা এই উদ্ধারে নিযুক্ত ছিলেন৷ হলদিয়া থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ভেসে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ দাস৷ ৭ দিন ভেসে থাকার সময় শুধুমাত্র বৃষ্টির জল খেয়েই তিনি তৃষ্ণা মেটান৷

ভিডিওঃ

বুধবার (১০ জুলাই) বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকা ওই ব্যক্তিকে জাহাজের ক্যাপ্টেন দেখতে পান৷ এরপর জাহাজটি তার কাছে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট ফেলা হয়৷ কিন্তু প্রবল স্রোতে তিনি কিছু ধরতে পারেননি৷ অনেকটা দূরে ভেসে যান৷ পরে কোনওরকমে লাইফ জ্যাকেটটা ধরতে পারেন৷ ততক্ষণ জাহাজটি ওই ব্যক্তির পিছনেই ছিল৷ প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে তাকে ফের পাওয়া যায়। এরপর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা৷ বাংলা জানা থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলতে সুবিধা হয়েছে৷

রবীন্দ্রনাথ দাস জানিয়েছেন, হলদিয়ার অদূরে বাংলাদেশ ভারত সমুদ্র সীমান্তের কাছে তিনি মাছ ধরছিলেন৷ হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়লে ফিশিং বোট উলটে যায়। বোটের ভেতর ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন ছিটকে পড়েন। বাকি ৫ জন ছিল তাদের খবর অজানা। ৩ জন একসাথে ভেসে গিয়েছিলেন৷ এদের মধ্যে ২ জন তলিয়ে গিয়েছেন৷ বেঁচে যান রবীন্দ্রনাথ৷

সীমান্তে যখন দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা-করলো বিএসএফ ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশি নাবিকদের এমন মানবতাবাদী আচরণ বিএসএফ কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলবে বলে মনে করেন কুটনীতিবিদরা।

উৎসঃ পূর্ব-পশ্চিম

আরও পড়ুনঃ তিস্তার পর এবার আত্রাই নদীর পানি নিয়ে মমতার বাংলাদেশবিরোধী চাল

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকেছে এমন তিন-চারটি অভিন্ন নদীর ওপর বাংলাদেশ যাতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে না পারে, সেজন্য দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ঢাকার সঙ্গে অবিলম্বে বৈঠকে বসে যাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়, কেন্দ্রকে চিঠি লিখে সেই দাবিই জানিয়েছেন তিনি।

এই নদীগুলো হলো, আত্রাই (আত্রেয়ী), টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও তুলাই। এসব নদী তাদের গতিপথের একটা পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে আত্রাই নদীটিকে বালুরঘাট শহরের জীবনরেখা বলেও ধরা হয়।

তবে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অনেকেই মনে করছেন, তিস্তা চুক্তির বিরোধিতার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানকে আরও কঠোর করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই মমতা ব্যানার্জি এই চাল দিয়েছেন।

আত্রাইসহ এসব নদী থেকে বাংলাদেশ পানি টেনে নিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে গত মঙ্গলবারেই (৯ জুলাই)। সেদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে নির্বাচিত বিধায়ক নর্মদাচন্দ্র রায় সভায় বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এই নদীগুলোতে বাংলাদেশ নানা ধরনের স্থায়ী ও অস্থায়ী বাঁধ বসিয়ে জল সরিয়ে নিচ্ছে। পরে দেখা যাচ্ছে, বর্ষার পর চাষের জন্য যখন এসব নদীর জল সবচেয়ে বেশি দরকার, তখন আর পশ্চিমবঙ্গের চাষিরা সেচের কোনও জলই পাচ্ছেন না।’

এর ফলে গোটা জেলায় সেচ ও পানীয় জলের সরবরাহ ভেঙে পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে বিধানসভায় সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রীরাই। কিন্তু বাংলাদেশ এবং পানি যেহেতু মমতা ব্যানার্জির ‘প্রিয়’ বিষয়, তাই রাজ্যের সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই তখন বলতে ওঠেন।

মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আত্রাই থেকে বাংলাদেশ যে অন্যায়ভাবে জল সরিয়ে নিচ্ছে সে কথা আমি বহুবার দিল্লিকে জানিয়েছি। বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিষয়, ফলে ভারত সরকারকেই এখানে দায়িত্ব নিতে হবে। ঢাকার সঙ্গে তাদের কথা বলতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিষয়টিকে তারা খুব ক্যাজুয়ালি নিচ্ছে। এভাবে নিলে চলবে না। আমি আবারও তাদের বৈঠকে বসতে তাগাদা দেবো।’

যেমন কথা তেমন কাজ। বস্তুত এর পরদিনই ( বুধবার, ১০ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে আত্রাইসহ এই নদীগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের কথা বলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের সেচ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, চিঠির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি স্যাটেলাইট ছবির প্রতিলিপিও জুড়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘ওই উপগ্রহ-চিত্রে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, আত্রাইয়ের উজানে বাংলাদেশ বাঁধের মতো কাঠামো তৈরি করেছে– যার মাধ্যমে নদীর জল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল সভাপতি ও বালুরঘাটের সাবেক এমপি অর্পিতা ঘোষও বলছিলেন, ‘আত্রাই আসলে খুব ইউনিক একটি নদী। ভারতে উৎস হলেও তারপর সেটা বাংলাদেশে ঢুকেছে, পরে আবার ভারতে ঢুকেছে। পুরো বালুরঘাট শহর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এই নদীটির ওপর।’

‘এখন ভারতের সঙ্গে কোনও কথা না বলেই বাংলাদেশ তাদের অংশে এই নদীটির ওপর বাঁধ বসিয়ে জল টেনে নিচ্ছে— আমাদের আপত্তি এখানেই। ফলে বালুরঘাটে এসে আত্রাই শুকিয়ে যাচ্ছে’, বলছিলেন তিনি।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা অবশ্য জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের অভিযোগ নিশ্চয়ই আমরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো, বাংলাদেশের কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চাইবো। তবে সত্যি বলতে কী, আত্রাই-পুনর্ভবার ওপর বাংলাদেশ বাঁধ দিয়েছে কিনা, দিলেও জল সরানো হচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য আমাদের হাতে নেই।’

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য মনে করেন, ‘এটা জল নিয়ে মমতা ব্যানার্জির আর একটি রাজনৈতিক চাল।’

‘এর আগেও তিনি তোর্সা-জলঢাকা, এসব নদীর জল দিয়ে তিস্তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এখন আত্রাই-পুনর্ভবা নিয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করতে চাইছেন, জলের ইস্যুতে তিনি রাজ্যের স্বার্থে কোনও আপস করবেন না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তার এসব চালাকি বুঝে গেছেন’, বলছিলেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রেও বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক বহু বছর ধরে হয়নি। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ন হলে এ ধরনের বিষয়গুলোর মীমাংসা যে কঠিন, সেটা তারাও মেনে নিচ্ছেন।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ কোটি টাকার প্রকল্পে আ’লীগ নেতার চাঁদা দাবি, না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান

মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো

বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের ৫৬ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দেখা না করলে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান।

বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন খানকে মোবাইল ফোনে এমন হুমকি দেয়ার অডিও সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট ও ঢাকায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

অডিওটিতে মানোয়ার হোসেন খানকে প্রিন্স সদরুজ্জামান বলেন, আপনার পিডি, ডিপিডি বারবার বলার পরও সেলিমের (সামসুল আলম সেলিম, সিলেট জেলার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি) সঙ্গে দেখা করল না, আমার এখন একটিই পথ খোলা- সেটা কাজ বন্ধ করে দেয়া। উন্নয়ন দরকার নেই, টাকা ফেরত যাক।

যদিও প্রিন্স সদরুজ্জামান যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, কাজ যাতে ভালো হয় সেই পরামর্শ নেয়ার জন্য দেখা করতে বলেছি, অন্য কোনো কারণে নয়। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মুজিবর রহমান বলেন, তারা কি কারণে দেখা করতে বলেছেন তা সবারই জানা থাকার কথা। কোনোভাবেই তাদের কোনো অনৈতিক চাঁদা দাবি মেটাব না। এই অডিওটির বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের প্রধান প্রকৌশলীও জানেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বেতার সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের আধুনিকায়নে ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী একটি ডরমেটরি ও একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামসহ বেশকিছু কাজ শুরু করে বাংলাদেশ বেতার প্রকৌশল বিভাগ। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রকৌশল বিভাগের ঢাকা কার্যালয়ের মুজিবর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিছু কাজ শুরু করার পর বারবার পিডিকে দেখা করার জন্য বলেন প্রিন্স সদরুজ্জামান। দেখা না করায় সম্প্রতি তিনি সিলেটের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।

যা হুবহু তুলে ধরা হল- ‘কি অবস্থা আমি তো ভারত থেকে এসে শুনলাম আপনার পিডি সেলিমের সঙ্গে দেখা করল না, সে তো এসে সেলিমের সঙ্গে বসার কথা ছিল। আমি তো তাকে স্ট্রেইট বলেছিলাম, সিলেটে এসে সেলিমের সঙ্গে দেখা করে কাজ শুরু করার জন্য। এখন সে যদি এসব করে তাহলে উন্নয়নের দরকার নেই, কাজ বন্ধ থাকুক। উন্নয়ন তো আমরাই আনছি, উন্নয়ন দরকার নেই, এগুলো বন্ধ রাখেন।’ এ সময় মানোয়ার খান বলেন, কাজ বন্ধ করতে পারবেন না। আমাকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় প্রিন্স বলেন, ‘স্ট্রেইট আমাদের কথা বলেন যে তারা বলেছে- পিডি ডিপিডি দেখা না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’ এ সময় প্রিন্সকে বলতে শোনা যায়, ‘বারবার কথা বলার পরও সে যদি না শুনে, তার মানে সে চোর। এখানে চুরি চলবে না।’ এ সময় প্রিন্স আরও বলেন, ‘ঢাকায় জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী এসেছিলেন, তার পাশেই বসা ছিলাম। আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে ছিল; কিন্তু নানাদিক চিন্তা করে বলিনি।’

এরপর মানোয়ার খান কিছু কথা বলার পর প্রিন্স বলেন, ‘এসব বললে সোজা ওপর মহলে বলে আঞ্চলিক প্রকৌশলী আর পিডিকে বদলাতে বলব। এসব লোক দিয়ে এখানে কাজ হবে না।’ এ সময় মানোয়ার খানকে বলতে শোনা যায়, তিনি কাজ করছেন না, কাজ মনিটরিং করছেন পিডি ও ডিপিডি। প্রিন্স বলেন, ‘আমি কাজ বন্ধ করলে আপনার পিডির বাপও কাজ করতে পারবে না এবং আমি আসলে একদম কাজ বন্ধ করে দিব, আমার আর কোনো রাস্তা নেই। আপনিই দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেলিমের সঙ্গে পিডিকে বসিয়ে দিবেন।’ এসব বিষয়ে প্রায় ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড কথা হয় প্রিন্স সদরুজ্জামান ও মানোয়ার হোসেন খানের। এই অডিও ক্লিপটি এখন যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা দফতর ও বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ বিষয়ে প্রিন্স সদরুজ্জামান বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু কাজ সঠিকভাবে করার জন্যই তাদের সঙ্গে বসার কথা বলেছি। পিডি যাতে সার্বক্ষণিক সিলেটে থেকে কাজটি করেন এসব পরামর্শ দেয়ার জন্য। কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, কাজ যদি ভালো না হয়, তাহলে তো বন্ধ করে দেয়াই ভালো।

এ বিষয়ে মানোয়ার হোসেন খান বলেন, তার সঙ্গে কথা হয়েছে, কি বিষয়ে কথা হয়েছে তা তো অডিওতেই আছে, এর বেশি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। কথা হয় প্রকল্প পরিচালক মুজিবর রহমানের সঙ্গে, তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে থেকেই আমাকে বারবার তাদের সঙ্গে বসতে বলা হচ্ছে। সামসুল আলম সেলিমের সঙ্গে কথাও বলেছি, কিন্তু তারপরও সেলিম আমাকে বলেছে তাদের সঙ্গে বসতে।

কেন বসতে বলেছে জানতে চাইলে মুজিবর রহমান বলেন, সেটা তো অনুমানই করতে পারেন কেন বসতে বলেছে। কোনোভাবেই অনৈতিক চাঁদা দাবিতে আমি সায় দেব না। তিনি আরও বলেন, এই অডিওটি এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।

তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। এদিকে সামসুল আলম সেলিমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন তার সঙ্গে পিডির কথা হয়েছে। কিন্তু শুধু কাজটি ভালোভাবে করার জন্যই বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বসার কথা তিনি বলেননি বলে দাবি করেন।
প্রিন্স সদরুজ্জামান কেন তার সঙ্গে বসার জন্য পিডিকে বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সামসুল আলম সেলিম বলেন, এটা আমি জানি না, আমার সঙ্গে প্রিন্সের কোনো সম্পর্কই নেই।

মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা প্রিন্স সদরুজ্জামানের কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকির বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এমন কথাবার্তার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ যমুনা টিভি

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, মানুষের কথা চিন্তা করে বাড়াইনিঃ শেখ হাসিনা


শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাসের দাম যেটা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি।৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিরাট অংকের ভর্তুকি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরববরাহ করছি। যারা এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে এখন মিশ্রিত গ্যাসের জন্য যে খরচ পড়ছে তার পুরোটা জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রি-পেইড মিটারের চিন্তা করছি, যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

গত ১১ জুন শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২১ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস হয়। এছাড়াও ৭টি বিল পাস হয়্ বাজেটের ওপর ২৬৯ জন সদসপ্রায় ৫৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা তার সমাপনী বক্তব্যে বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত করেছেন। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পুণতা অর্জনসহ নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে।এরপর আবার কলো অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন ৯৯ ভাগ আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি। এবার আমর ৯৪ ভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। সেটা আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি। তিনি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করতে পারবো। তিনি দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ৭২.৮বছর এবং নারীর ৭৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, খাদ্যে ভেজালের কথাও শুনতে হচ্ছে। তারপরও গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, আর্থসামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। ভারতে গ্যাসের দাম নাকি কমানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেনো হলো তা ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের চাহিদার কারণে আমাদের প্রাকৃতি গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে যেখানে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অথচ এই গ্যাস খাতে প্রতিবছর সরকারকে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে দাম যেটা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম যেখানে পড়ে ৬১.১২ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ৯.৮১ টাকা অথ্যাৎ ৫১.৩২ টাকা সরকার আর্থিক সহায়তা করছে। এই হিসেবে এখনো বছরে ১৯ হাজার ১০ কোটি টাকা ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন পেট্রোবাংলা ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। দামতো আরো বাড়ানো যেতো, কিন্তু আমরা বাড়াইনি মানুষের কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাকৃতি গ্যাস অপ্রতুল । ফলে এলএনজির সংমিশ্রন করে গ্যাস দিতে হয়। এতে খরচের ব্যাপার আছে।

গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা গ্যাস অনুসন্ধ্যান অব্যাহত রেখেছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গ্যাস রপ্তানীর প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রাখার পর যদি থাকে তাহলে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে আমার কত গ্যাস আছে। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো মুচলেকা নিতে চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই রাজনীতি করি না। আমি মুচলেকা দেইনি, খালেদা জিয়া দিয়েছিল। সেজন্য সেবার আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আবারো বলেন, এখানে আমাদের আমাদে খরচটাতো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের এনার্জি ছাড়াতো চলবে না। খরচের পুরোটাইতো জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত, সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দামের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরতো ভারতের তুলনায় দাম অনেক কম। শুধুমাত্র সিএনপি আমাদের ৪৩ টাকা আর ভারতে ৪৪ রুপিজ তাহলে ভারতে দাম কমলো কিভাবে? তারাও কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। আগে শিল্প মালিকরা বলেছেন, আমাদের আগে গ্যাস দেন, যত টাকা লাগে দেবো। এখন গ্যাস দেয়ার পর যারা আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, বিদ্যুতেও আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেটার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা। সেটাতো আমরা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। এভাবে বিরাট অংকের ভতূর্কি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। ফলে গ্যাসের ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা প্রিপ্রেইট মিটারের চিন্তা করছি যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

শেখ হাসিনা চাকুরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে ২৩ বছরে একজন শিক্ষাজীবন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবার পরীক্ষা দিতে পারে। পৃথিবীর কোন দেশে এতো বার পরীক্ষা দিতে পারে না। তিনি শিক্ষাখাতে সরকারি ভতুর্কির কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে শিক্ষাখাতে এতো ভর্তুিক দেয় না। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথাপিছু শিক্ষার্থীদের ভতুকি প্রদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এক সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া কিছু ছিল না। এখন সেটা হয় না। আস্তে আস্তে এই পরিবেশ আমরা আরো উন্নত করতে পারবো। তিনি কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ভিসির বাসায় যে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা এর আগে দেখিনি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বিচার করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে যত টাকা লাগে আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের ওপর অত্যাচার হচ্চে। কথায় কথায় মানুষ খুন করা হচ্ছে। এগুলো মিডিয়ায় আসে। পত্রিকায় খবর আসার পর এসব অপরাধ আরো বৃদ্ধি পায়। আমি আশা করবো যারা এসব অপরাধ করে তাদের ছবি যেন দেখানো ও প্রকাশ করা হয় বার বার যাতে অন্যরাও এই ধরণের অপরাধ করতে সাহস না পায়। আর আইনটা আরো কঠোর করার দরকার। পুরুষরা এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রসঙ্গে বলেন, এসব মশা ভদ্র জায়গায় থাকে। স্বচ্ছ পানিতে এগুলো জম্মায় বাড়ির আঙ্গিনা, টব, এসির পানি সব পরিস্কার রাখতে হবে যাতে পানি না জমায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে দেশকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবো আমরা। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বিচারপতিদের মনে ভীতি সঞ্চয়ের জন্য সিনহার বিরুদ্ধে মামলা: ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ,এম,মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সরকার দুদকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে স্বাধীন বিচার বিভাগের গায়ে কালিমা লেপন করেছে। গতকাল সুপ্রিম কোটের এনেক্সে ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর মামলাগুলোর রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যেন স্বাধীনভাবে রায় প্রদান করতে না পারে সেলক্ষ্যে বিচারপতিদের মনে ভীতি সঞ্চর সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার/রাষ্ট্রযন্ত্র প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা দায়েরের বিষয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নেয়ার আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্বের সূত্রপাত হয়। এছাড়া, ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কিছু পর্যবেক্ষণকে ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতা এবং সংসদ ও মন্ত্রীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় সংসদ ও এর বাইরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া হয়। সরকারি দলের অনেক নেতা তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দেন।

এছাড়া, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে চাওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হন।

উৎসঃ মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here