নুসরাতের শ্লীলতাহানি: রিমান্ড শেষে অধ্যক্ষ সিরাজ কারাগারে

0
197

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহার রাফিকে শ্লীলতাহানির মামলায় পিবিআইয়ের কাছে ২ দিনের রিমান্ডে থাকা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার সন্ধ্যায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, ১৭ জুন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দুই দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। একইদিন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দয়ের করেন। পরে সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর থেকে ওই মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে সিরাজের লোকজন। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের তিন তলার ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামালা দায়ের করেন।

পরে ৩০ মে মামলার এজহারভুক্ত ৮ আসামিসহ ১৬ জনকে দায়ী করে চার্জশিট দেয় পিবিআই।

নুসরাত হত্যা জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে জবানবন্দি দেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশকাণ্ডের পর এবার রেলকাণ্ড! সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও


পাবনার রূপপুরে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের গ্রীন সিটির বালিশ কেলেংকারির পর এবার সামনে এসেছে রেলের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামত কেলেংকারির তথ্য। রূপপুরের বালিশ কেলেংকারিতে সারাদেশে ক্ষোভের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বালিশ কাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকারও। যদিও ইজ্জত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরের সেই প্রকৌশলীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেছেন।

সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও। বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সবাই নিজের মতো করেই ভোগ করছেন সরকারি সম্পত্তি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাসা, বাংলো, সড়ক, অফিস ভবন মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।

ইদানিং চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পরই আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জিএমের দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী। বিপুল অঙ্কের এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জেরে রেল অঙ্গনে শুরু হয় তোলপাড়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ যায় মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে। এ ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল সরাসরি জড়িত।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ মে গঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ শেখ নাইমুল হককে। কমিটির অপর সদস্য বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের যে ঠিকাদার যত বেশি ঘুষ দিতে পারেন, সেই ঠিকাদার তত বেশি কাজ পান। এর পর কাজে নয়-ছয় করে টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদাররা। মেরামত কাজে বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় করে বিল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নজির রয়েছে কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, সিআরবি এলাকায় রেলের ভিআইপি রেস্ট হাউস মেরামতের জন্য কয়েকটি ধাপে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাজ বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছেন মৌখিক নির্দেশে। একই ঠিকাদারকে সব কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম ঘুষও নিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চতুর্থ শ্রেণির এই কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় এখন পুরো রেল মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আর ২৮ লাখ টাকার বাসা মেরামত কেলেংকারি নিউজ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এখন এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। অনেকেই বলছেন-বালিশ কেলেংকারির পর এখন বাসা মেরামত কেলেংকারি শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, দেশে বাস্তবে উন্নয়ন না হলেও দুর্নীতি-লুটপাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের আর উন্নয়ন দরকার নেই। সম্প্রতি বাজেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ইফা ডিজি সামীম আফজাল দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন!


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্দান্ত প্রতাপে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। একসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দারোয়ান-পিয়ন সবাই তার গুণকীর্তনে মগ্ন থাকত। দল বেঁধে আশপাশে ঘুরঘুর করত। ইফা কর্মকর্তা কিংবা আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে তার এক ধমকে পিনপতন নীরবতা নেমে আসত গোটা সভাকক্ষে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের দোকানের পিলার ভেঙে দোকান সম্প্রসারণের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি ইফা’র এক পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে মতবিরোধ হয় তার। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে ইফা পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে মহাপরিচালককে শোকজ করা হয়।

সম্পর্কের অবনতির জেরে ইফা মহাপরিচালক পদত্যাগ করছেন- এমন গুঞ্জনও ওঠে। গত শনিবার সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইফা কার্যালয়ে পদত্যাগ করতে যান! এ সময় তিনি ইফা’র ৫০টি ফাইল সঙ্গে করে নিয়ে আসতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের সচিব বাধা দেন। বাধার মুখে তিনি ফাইল রেখে চলে আসেন। এরপর আর অফিসে আসেননি সামীম মোহাম্মদ আফজাল।

যে সামীম আফজালের একটু অনুগ্রহ পেতে ইফা’র সবাই মুখিয়ে থাকতেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ তার পাশে নেই। খোদ ইফা’র কর্মকর্তারাই এখন ফাঁস করছেন মহাপরিচালকের নজিরবিহীন দুর্নীতির অজানা নানা তথ্য। তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দৈনিক-ভিত্তিতে শত শত কর্মচারী নিয়োগ, অন্যের দ্বারা বই লিখিয়ে লাখ লাখ টাকার রয়্যালিটি গ্রহণ, বিনা কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহারসহ নানা অনিয়মের তথ্য এখন বেরিয়ে আসছে।

স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের অভিযোগ

ডিজি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তার ভায়েরা-ভাই সৈয়দ শাহ এমরান এখানে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১০ বছরে ডিজি তার অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনকে অন্যায়, অনিয়ম ও অবৈধভাবে এখানে চাকরি দেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সহকারী পরিচালক পদে ডিজির আপন বোনের মেয়ে ফাহমিদা বেগম (বর্তমানে কক্সবাজারের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত), মহিলা কো-অর্ডিনেটর অফিসার পদে আরেক বোনের মেয়ে সিরাজুম মুনীরা (বর্তমানে দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের মহিলা শাখায় কর্মরত), সহকারী পরিচালক পদে আপন ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি), বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম পদে আপন বোনের ছেলে মাওলানা এহসানুল হক, উৎপাদন ব্যবস্থাপক পদে ভাইয়ের ছেলে মো. শাহ আলম (বর্তমানে চট্টগ্রামে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত), প্রকাশনা কর্মকর্তা পদে আরেক ভাইয়ের ছেলে মো. রেজোয়ানুল হক (বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানায় উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত), হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে আরেক ভাইয়ের ছেলে মো. মিসবাহ উদ্দিন (৫৬০ মডেল মসজিদ প্রকল্পে কর্মরত), আর্টিস্ট পদে শ্যালিকা ফারজিমা মিজান শরমীন (বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানায় কর্মরত), সহকারী পরিচালক পদে ভায়েরার ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (বর্তমানে প্রশাসন বিভাগে কর্মরত), সহকারী পরিচালক পদে বন্ধুর মেয়ে সৈয়দ সাবিহা ইসলাম (বর্তমানে প্রশাসন বিভাগে কর্মরত), সহকারী পরিচালক পদে আরেক আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুন (বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানায় উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত), সহকারী পরিচালক পদে আরেক আত্মীয় ইলিয়াস পারভেজ (মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে কর্মরত), ডিজির ছেলে অনিকের গৃহশিক্ষক আতিয়ার রহমানকে প্রোগ্রাম অফিসার পদে (ইসলামিক মিশন প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত) নিয়োগ প্রদান করেন। এগুলো সবই প্রথম শ্রেণির পদ।

এছাড়া ভাইয়ের ছেলে মো. রাসেল মিয়াকে ইসলামিক মিশনের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদে, আপন ভাইয়ের ছেলে মুনিমকে এলডিএ পদে, মাহমুদকে এলডিএ পদে, মাহমুদের স্ত্রীকে ল্যাব-টেক পদে, রতনকে ফিল্ড সুপারভাইজার পদে, ফয়সালকে হিসাবরক্ষক পদে, আনোয়ারুল আজিমকে উচ্চমান সহকারী এবং আনোয়ারুল হককে গবেষণা সহকারী পদে নিয়োগ দেয়। এসব নিয়োগে কোনো নিয়মনীতি কিংবা মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়নি।

এছাড়া ডিজির ঘনিষ্ঠ পরিচালক মু. হারুনুর রশিদের (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) ছেলে নাজমুস সাকিবকে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে (বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় সহকারী পরিচালক পদে), ডিজির ঘনিষ্ঠ পরিচালক তাহের হোসেনের স্ত্রীর বোনের মেয়ে সাহিনা আক্তারকে সহকারী পরিচালক পদে (বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত), পীরভাই জালাল আহমদের স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে প্রোগ্রাম অফিসার পদে (কেন্দ্রীয় অর্থ ও হিসাব বিভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত), ডিজির ঘনিষ্ঠ পরিচালক এ বি এম শফিকুল ইসলামের আত্মীয় হোমায়রা আক্তারকে পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে (পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত) নিয়োগ দেন।

আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়োগ দিতে তিনি কোনো বিধি-বিধানের ধার ধারেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরম জালিয়াতিরও আশ্রয় নেন। যেমন- আর্টিস্ট পদে কর্মরত ডিজির শ্যালিকা ফারজিমা মিজান শরমিনের চাকরির আবেদনেরই কোনো যোগ্যতা ছিল না। ওই পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর। অথচ তার চারুকলার কোনো ডিগ্রি নাই। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে কর্মরত ডিজির ভাতিজা মো. মিসবাহ উদ্দিনের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়, অথচ তাকে ঢাকা জেলার কোটায় চাকরি দেয়া হয়েছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম পদে কর্মরত ডিজির ভাগ্নে মাওলানা এহসানুল হকের চাকরি লাভের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নাই। এ বিষয়ে হাইকোর্টেও মামলা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানায় উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ডিজির ভাতিজা মো. রেজোয়ানুল হককে প্রকাশনা কর্মকর্তা পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই পদে যোগ্যপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাসির উদ্দিন শেখকে বাদ দিয়ে নম্বর বাড়িয়ে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ডিজির ভাগনী ফাহমিদা বেগম লিখিত পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের মধ্যে পান ৩০। কিন্তু ২৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় তিনি পান ২৭ নম্বর। ডিজি মামার কারণে ফাহমিদা বেগম ২০১০ সালের জুন মাসে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ‘সহকারী সম্পাদক’ পদে চাকরি পান। তিনি যে পদে নিয়োগ পান তা সৃজিত কোনো পদ নয়। মনগড়া ও পারস্পরিক যোগসাজশে তাকে চাকরি দেয়া হয়েছে।

ডিজির ভাতিজা মো. শাহ আলমকে ‘উৎপাদন ব্যবস্থাপক’ পদে চাকরি দেয়া হয়েছে। অথচ ইতোপূর্বে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেসে ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদে দৈনিক ভিত্তিতে চাকরি করেছেন। উৎপাদন ব্যবস্থাপক পদে বয়সসীমা চাওয়া হয় ৩০ বছর। কিন্তু এসএসসির সনদ অনুযায়ী শাহ আলমের বয়স তার চেয়ে বেশি। তার শিক্ষার সনদে ঘষামাজার চিহ্ন পাওয়া যায়।

নিয়ম বহির্ভূতভাবে দৈনিক-ভিত্তিতে ৬/৭শ কর্মচারী নিয়োগ

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে দৈনিক-ভিত্তিতে ৬০০-৭০০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল। আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, পদ রক্ষা, আত্মীয়করণ ইত্যাদির জন্য তিনি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দৈনিক-ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে তাদের নিয়মিতকরণ করা হয়। যদিও দৈনিক-ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার কোনো বিধি-বিধান নেই।

ডিজির পীরকে অবৈধভাবে ১৪ লাখ টাকা প্রদান

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল নারিন্দার মশুরীখোলা দরবারের পীর শাহ মোহাম্মদ আহছানুজ্জামানের মুরিদ। ‘বোগদাদী কায়দা’ নামে একটি আমপারা শাহ মোহাম্মদ আহসানুজ্জামানের নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ থেকে ছাপা হয়। ওই বইয়ের রয়্যালিটি বাবদ তাকে ১৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ বোগদাদী কায়দা সুপ্রাচীন কাল থেকে এ উপমহাদেশে কুরআন শরীফ শেখার জন্য পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এটার লেখক শাহ আহসানুজ্জামান নন। অথচ ডিজি তার পীর শাহ আহছানুজ্জামানের নামে লাখ লাখ বোগদাদী কায়দা ছেপে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যকে দিয়ে বই লিখিয়ে লাখ লাখ টাকা রয়্যালিটি গ্রহণ

মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে সামীম মোহাম্মদ আফজালের নিজ নামে কোনো বই ছিল না। কিন্তু ইফার ডিজির দায়িত্ব নেয়ার পর তার নামে ২৫টির অধিক বই বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি বইও তিনি নিজে লেখেননি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও নুরুল ইসলাম মানিক অধিকাংশ বই লিখে দিয়েছেন। অন্যের লেখা বই ডিজি নিজের নামে ছাপিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে লাখ লাখ টাকার রয়্যালিটি গ্রহণ করেছেন।

প্রেসের মেশিন ক্রয়ে সোয়া কোটি টাকা লোপাট

২০১০ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেসের জন্য এক কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও মাত্র ৪৫ লাখ টাকায় মেশিন কেনা হয়। এক্ষেত্রে প্রায় সোয়া কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ফাইলে দেখানো হয়েছে হাইডেলবার্গ জার্মানির মেশিন কিন্তু বাস্তবে কেনা হয়েছে চায়না মেশিন। দুর্নীতির টাকা ডিজিসহ তার ঘনিষ্ঠ পরিচালক হারুনুর রশিদ, তাহের হোসেন, সাহাবউদ্দিন খান ও হালিম হোসেন খান ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রেসকে অবৈধভাবে ৭০ লাখ টাকা প্রদান

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেস দেশের প্রথম শ্রেণির ছাপাখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখান থেকে লাখ লাখ পবিত্র কুরআনুল করীম ছাপানো হয়। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছাপাখানার উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও শুধুমাত্র পদ রক্ষার জন্য সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রেস থেকে অবৈধভাবে ৭০ লাখ টাকার কুরআনুল করীম ছাপানো হয়।

ইমামদের সামনে ব্যালে নৃত্য প্রদর্শন

২০১০ সালে এক অনুষ্ঠানে ব্যালে নৃত্য প্রদর্শন করে ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইসলাম ধর্মের অপমান করেন। এর বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তার পদত্যাগও দাবি করা হয়। ওই সময়ে কৌশলে তিনি রক্ষাপান।

বিনা কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাসপেন্ড

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো কারণ ছাড়াই বহু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাসপেন্ড করা হয়। সর্বশেষ তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধুপরিষদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন শাখার আহ্বায়ক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে গত ৩ জুন কোনো কারণ ছাড়াই সাসপেন্ড করেন। পরবর্তীতে ধর্ম মন্ত্রণালয় তার এ অবৈধ বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে। সেখান থেকে মূলত তার পদত্যাগের দাবিতে মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সোচ্চার হন। এছাড়া তিনি ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আফজাল উদ্দিন ও পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারসহ অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামান্য অজুহাতে সাসপেন্ড করেন। ফলে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অবর্ণনীয় দুঃখৎ-কষ্ট নেমে আসে।

১০ পদে নিয়োগে মহাজালিয়াতি!

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১০টি পদে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। ওই নিয়োগে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। জানা যায়, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সিলেকশন কমিটির একটা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং যথারীতি কার্যবিবরণী প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু নিয়োগে প্রক্রিয়ার প্রতিটি পরতে পরতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকায় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন সচিব ড. আলফাজ হোসেন রেজুলেশনে সই করেননি। অথচ নিয়োগ কমিটির সকল সদস্য রেজুলেশনে সই করেন। দুর্নীতিবাজগণ এ নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। পরবর্তীতে ড. আলফাজ হোসেনকে ছুটি দেখিয়ে তার লিভ-সাবস্টিটিউট হিসেবে ফাউন্ডেশনের প্রভাবশালী পরিচালক তাহের হোসেনকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর সিলেকশন কমিটির আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায়ও একটি রেজুলেশন হয়। সেখানে দেখা যায় যে, একটি নিয়োগের বিপরীতে দুটি রেজুলেশন গৃহীত হয়। যা মহাজালিয়াতি, অনিয়ম ও অন্যায় বলে মন্তব্য করেন ইফার একাধিক কর্মকর্তা।

ওই দুটি রেজুলেশন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকাশনা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পাওয়া মো. রেযোয়ানুল আলম ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভার রেজুলেশনে মৌখিক পরীক্ষায় ১২ পান কিন্তু ২৬ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সভার রেজুলেশনের মৌখিক পরীক্ষায় ১৬ নম্বর দেখানো হয়।

আর্টিস্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ফারজীমা মিজান শরমীন প্রথম রেজুলেশনে মৌখিক পরীক্ষায় ১৫ পান কিন্তু পরের সভার রেজুলেশনের মৌখিক পরীক্ষায় ১৭ নম্বর দেখানো হয়। একইভাবে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মো. নাজমুস সাকিব আগে ও পরের সভার রেজুলেশনে মৌখিক পরীক্ষায় ১৮ ও ১১ নম্বর দেখানো হয়।

এভাবে দুটি রেজুলেশনে প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরে ব্যাপক গড়মিল দেখা যায়। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নেয়ার জন্য মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রয়োজন মোতাবেক কম-বেশি করা হয়। এ নিয়োগে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্যপ্রার্থী থাকার পরও এ কোটা থেকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এমন এক চাকরিপ্রার্থী নাসির উদ্দিন শেখ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রকাশনা কর্মকর্তা পদে তার নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে প্রকাশনা কর্মকর্তা পদে ডিজিরি ভাতিজা রেজোয়ানুল হককে নিয়োগ দেয়া হয়।

আর্টিস্ট পদে চারুকলা থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর কথা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ফারজীমা মিজান শরমীনের চারুকলার কোনো ডিগ্রি নেই। তিনি কম্পিউটার গ্রাফিক্স-এর ওপর একটি কোর্স করেছেন মাত্র। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের শ্যালিকা হওয়ায় তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মো. নাজমুস সাকিব ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কোটায় চাকরি পান। তার পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রভাবশালী সাবেক পরিচালক মু. হারুনুর রশিদ। কিন্তু তার মুক্তিযোদ্ধার সনদ ভুয়া। প্রভাবশালী ডিজির সহায়তায় এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ইফা’র ডিজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সামীম মোহাম্মদ আফজাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে- এমন কথা বলে প্রভাব খাটাতেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দুদকও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইফা মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। পরিচয় জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত তার ঘনিষ্টজনদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেকায়দায় পড়লে হাতি, চামচিকায় মারে লাথি’ প্রবাদের মতো অবস্থা হয়েছে এখন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সামীম মোহাম্মদ আফজালের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়ে এখন যারা তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরছেন তারা কি নিজেরা ধোয়া তুলসী পাতা?

তারা বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের পিলার ভাঙার ঘটনায় যে পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তিনি নিজেও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একসময় তিনি ছিলেন ডিজির খুব কাছের লোক। ইফা ডিজির দুর্নীতির তদন্ত হলে বহু কর্মকর্তার নাম আসবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌জাগো নিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কতদিন টিকবে আওয়ামী লীগ?: মির্জা ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের বিপ্লবী মানসিকতা ও দৃঢ় মনোবল তৈরির উদ্দেশে বলেন, বিএনপি আবারও ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবে। তবে সে দিন দূরে নয়।

তিনি বলেন, বন্দুক, পিস্তল আর রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কতদিন টিকে থাকবে আওয়ামী লীগ? জনস্রোত তৈরি হলেই ভেসে যাবে দুঃশাসনের জগদ্দল এই পাথর!

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত একটি স্কুল মাঠে কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কোমর ভাঙা কমিশন। মেরুদণ্ডহীন এই নির্বাচন কমিশন সরকারের কেবলমাত্র আজ্ঞাবহ ও তাবেদারের জন্য গঠিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের ফরমায়েশে চলছে বর্তমান কমিশন। ফখরুল এই কমিশনকে পরিবর্তন করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রিত। সরকারের ফরমায়েশে জামিন ও রায় দিচ্ছে। এই নির্দেশনা আসছে আইন মন্ত্রণালয় থেকে। সে নির্দেশনায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক করে রেখেছে অবৈধ এই সরকার।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রাজিউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, কৃষকদলের সভাপতি আনেয়ারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান তুহিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।

পৈতৃক নিবাস ঠাকুরগাঁওয়ে চার দিনের সফরের এসে বধুবার ঠাকুরগাঁও ছাড়লেন মির্জা ফখরুল। তিনি চার দিনে জেলা ও উপজেলার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করেন। নির্বাচন পরবর্তী কর্মীদের হতাশা কাটাতে তিনি তার জেলায় এই সফর করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ইতিহাসের দুই স্বৈরাচারঃ ইসলামপন্থী, দেশপ্রেমী নেতাদের নির্মূলই যাদের মূল টার্গেট!


মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, বাংলাদেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত সংসদ (ভিডিও সহ)


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং সংসদের বৈধতা নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ অধিবেশন।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় এমন উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নির্ধারিত ১০ মিনিটের বক্তৃতায় তিন দফায় বাধার সম্মুখিন হন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এই সংসদের কেউ বলতে পারবেন জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত? কেউ বলতে পারবেন না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা হই হই করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে সংসদ উত্তপ্ত হয়।

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এই সংসদে আসার আগে সংসদ নেতা বলেছিলেন আমাদের কথা বলতে দেবেন। কিন্তু আমার প্রথম বক্তৃতার দুই মিনিটের এক মিনিটও শান্তিমতো কথা বলতে পারিনি। একই ঘটনা আজকেও।

কথা শুরু করার ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় তার বক্তৃতা থামিয়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, এমন কথা বলবেন না যাতে বিরোধী পক্ষ উত্তেজিত হয়।

পুনরায় বক্তব্য শুরু করে বলেন, আমরা কথা বলতে পারছি না। কোনো গণতন্ত্রের কথা বলছি। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের দলের কথা বলবে।

প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে কথা বলব? পুরো ১০ মিনিটের বক্তৃতায় কয়েক সেকেন্ড শুধু সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন।

তার সেই আলোচনায় বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। সরকারের সক্ষমতা দিন দিন কমছে।

নির্বাচন কমিশনে ব্যয় বাড়ানোয় সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফারহানা বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কি নির্বাচন তারা করেছে?

‘আমার একটা কথায় পুরো সংসদ উত্তপ্ত। কলামের পর কলাম লেখা হয়। এই সংসদে যারা আছেন, তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক তারা জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন? তারা নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন।’

বক্তৃতার ৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে আবারও বাঁধা প্রদান করা হয়। এভাবেই তার ১০ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করেন।

পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে ও সংসদীয় ভাষার বাইরে যে কথাগুলো বলেছেন তার সবকথা সংসদীয় প্রসিডিউর থেকে এক্সপাঞ্জ করা হল।

এই কথা বলার পর বিএনপির সবাই অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য আবার অধিবেশনে ফেরেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here