যেমন ছিল রাজনীতিতে শতভাগ সফল খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনের ফলাফল!

0
136
১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। খবর: বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। খালেদা জিয়া নিজ দলের নেতৃত্বে যেমন দিয়েছেন, তেমনি নির্বাচনের মাঠেও তার সাফল্য শতভাগ।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ।

গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

নির্বাচনে খালেদা জিয়া কখনোই পরাজিত হননি।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সেটি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিতর্ক চলছিল।

কিন্তু তারপরেও বিএনপির তরফ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন।

এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি।

সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।

এসব আসন হচ্ছে – ফেনী ১. বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি।

খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা 

আরও পড়ুনঃ ঢাকার ২০টি আসনে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেনি!

ঢাকার ২০টি আসনে বিএনপির একাধিক বিকল্প প্রার্থী রেখে দলীয় মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ে অধিকাংশ বিকল্পই বাদ পড়েছে।

এছাড়া কয়েকটি আসনে মূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তবে ঢাকার এ ২০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রায় সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রোববার সকালে ঢাকা বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে বিএনপির মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এছাড়া ১টিতে ঐক্যফণ্টের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি।

এদিকে ঢাকার ১৬টিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এবং ৩টিতে মহাজোটের প্রার্থীর মনোয়নয়ন বৈধ হয়েছে। নৌকার মার্কার কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাদ যায়নি।

ঢাকা-১ আসনে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান আবু আশফাক এবং সাবেক ছাত্রনেত্রী ফাহিমা হোসাইন জুবলি দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির এই দুই প্রার্থীকেই বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির এমপি সালমা ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমান উল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিতের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নসরুল হামিদ বিপুর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৪ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র তানভীর আহমেদ রবীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোঘণা করা হয়েছে। এ আসনে মাহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (জাতীয় পার্টি) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির নবী উল্লাহ নবীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনের আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় কারণে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে সকালে বাতিল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় আবার তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ আসনে বিএনপির কাজী আবুল বাশার ও জাতীয় ঐক্যফন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী (গণফোরাম) ও আহমেদ আলী শেখ (গণফোরাম) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া কাজী মনোওয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), কাজী ফিরোজ রশিদ (জাতীয় পার্টি), কাজী সালমা সুলতানা (জাসদ), সৈয়দ নাজমুল হুদা (জেপি), ববি হাজ্জাজ (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), মোহাম্মদ আখতার হোসেন (এনপিপি) ও আবু তাহের হোসেন (সিপিবি) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির নাসিমা আক্তার কল্পনার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নাজমুল হোসেনের মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাজী সেলিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঐক্যফ্যন্টের শরিক গণফোরামের মোস্তফা মহসীন মন্টুর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-৮ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেননের মনোনয়পত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রশিদ হাবীবের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির আবদুল মান্নান ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিমের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপসের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির শামীম আরা বেগম ও এজিএম শামসুল হকের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের একেএম রহমত উল্লাহ এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), মোজাম্মেল হক বীরপ্রতীক (গণফোরাম), শরীফ মো. মিরাজ হোসেন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), মিজানুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), এস এম ফয়সাল চিশতী (জাতীয় পার্টি), মেহেদী মাসুদ (বিএনএফ), আব্দুল বাতেন (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সাইফুল আলম নিরবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান কামালের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-১৩ আসনে আবদুস সালাম ও আতাউর রহমান ঢালি এবং সাবেক কমিশনার আতিকুর রহমান মতিনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাদেক খানের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির আবু বক্কর সিদ্দিকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসলামুল হক, জাতীয় পার্টির মুস্তাকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমানে কারাবন্দী মামুন হাসান ও দলটির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। একইভাবে এ আসনে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল ড. সফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদারের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঋণখেলাপির অভিযোগে ঢাকা-১৬ আসেন বিএনপি প্রার্থী একে মোয়াজ্জেম হোসেন ও আহসান উল্লাহ হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আসনে আওয়ামী লীগের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

এছাড়া এ আসনে আরো ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল করা প্রার্থীরা হলেন— খন্দকার ফরিদুল আকবর গণফোরাম (ঋণখেলাপি), আমানত হোসেন (জাতীয় পার্টি), ইসমাইল হোসেন (স্বতন্ত্র) (ভুয়া ভোটার স্বাক্ষর)।

এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মো. সিদ্দিকুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আলী আহম্মেদ (জাকের পার্টি), ফরিদ উদ্দিন শেখ (এনপিপি), নাইমা খালেদ মনিকা (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)।

ঢাকা- ১৭ আসনে বিএনপিও রুহুল আলম চৌধূরীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে শওকত আজিজের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির এএইচএম এরশাদ, বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, আওয়ামী লীগ নেতা নায়ক ফারুকের মনোনয়ন সকালে বাতিল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় আবার তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপির আরেক প্রার্থী আ ন হ আকতার হোসেনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মো. আনোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল মোমেন (বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট), এসএম শাহজাদ (জাগপা), মাসুম বিল্লাহ (এনপিপি), রফিকুল ইসলাম (পিডিপি), আমিন আহমেদ আফসারী (গণফোরাম), শেখ শহিদুজ্জামান (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট -বিএনএফ), রেজাউল ইসলাম স্বপন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), আতিকুর রহমান নাজিম (বিএনএফ)।

ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খানের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ঘোষিত পূন:তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিন ছিল, আজ ২ ডিসেম্বর বাছাই শেষ হলো । আগামীয় ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

উৎসঃ বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ এরশাদের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও রহস্য!

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অন্তরালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তিনি অসুস্থ। কয়েক দফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও থাকছেন অন্তরালে। নেতাকর্মীরা দেখা পাচ্ছেন না। কথা বলতে পারছেন না। পার্টির সিদ্ধান্ত কারা নিচ্ছেন, কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাও জানতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ শুক্রবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি।

বাসায় ফেরার পর পার্টি মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন, এরশাদ সুস্থ আছেন। তিনি শিগগির নির্বাচনের মাঠে নামবেন।

তবে সহসা তার দৃশ্যপটে আসার লক্ষণ দেখছেন না নেতাকর্মীরা। তারা প্রশ্ন তুলছেন পার্টি চেয়ারম্যান তবে কি স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হয়ে আছেন। নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দলীয় সূত্রের দাবি স্বাভাবিক অবস্থায় এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এরশাদ এভাবে অন্তরালে থাকতে পারেন না। অদৃশ্য কারণে তিনি হয়তো এমন অবস্থান নিয়েছেন।

জাপা চেয়ারম্যান সর্বশেষ ২০শে নভেম্বর পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা থাকলেও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। ওই অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেছিলেন দলীয় মনোনয়ন দেয়ার এখতিয়ার কেবলমাত্র তার। যেকোনো জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তও তিনিই নেবেন। তার বক্তব্য দেয়ার পর দলে আলোচনা ছিল এরশাদ নির্বাচনী জোটে অংশ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করতে যাচ্ছেন কিনা? তার এ বক্তব্য দেয়ার পর তিনি ফের হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই সময় এরশাদের অবস্থা গুরুতর দাবি করে সিঙ্গাপুর নেয়ার আলোচনা চলছিল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বিষয়ে বলেছিলেন, এরশাদ সাহেব গুরুতর অসুস্থ, তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হতে পারে। পরে অবশ্য জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছিলেন, পার্টি চেয়ারম্যান সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাকে আর সিঙ্গাপুর নেয়া লাগবে না।

সর্বশেষ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর এরশাদ নেতাকর্মীদের থেকে অন্তরালে থাকায় নতুন করে রহস্য দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করলেও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হচ্ছে না। দলের সিনিয়র নেতারও সেখানে যাচ্ছেন না। নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে কোনো বার্তাও পাচ্ছে না। এরশাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন এমন নেতারা প্রেসিডেন্ট পার্কে যাচ্ছেন না খুব একটা।

পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের অবস্থান নিয়েও রহস্য দেখা দিয়েছে। এরশাদ কর্তৃক পার্টির একমাত্র মুখপাত্র নিয়োগ পাওয়ার পর তিনিও অনেকটা কোণঠাসা অবস্থানে আছেন। সর্বশেষ গতকাল পটুয়াখালী-১ আসনে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নে বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠার পর নানাভাবে তা সামলানোর চেষ্টা করেছেন হাওলাদার। সবশেষ নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তিনি এখন নতুন চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। পার্টি সূত্র বলছে, যে কারণে এরশাদ রহস্য অবস্থানে আছেন একই কারণে হাওলাদারও চাপে পড়েছেন। পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকেও দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে না। দলের হাল হকিকত সম্পর্কে তিনি তেমনটা ওয়াকিবহালও নন।

তফসিল ঘোষণার আগে তৎপরতা থাকলেও এখন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও আছেন নীরব ভূমিকায়। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের এমন অবস্থানে সারা দেশের নেতাকর্মীরা দিকভ্রান্ত। এখন পর্যন্ত জানা যায়নি কতোটি আসনে জাপা নির্বাচন করছে। এককভাবে নাকি মহাজোটগতভাবে নির্বাচন হচ্ছে এটিও খুব জোরালোভাবে স্পষ্ট করেননি নেতারা। শুধু বলছেন, জাতীয় পার্টি মহাজোটের সঙ্গী হয়েই নির্বাচন করছে। এখন আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই গণহারে মনোনয়ন বাতিল!

আসন্ন একাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে সারাদেশে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র ছাচাই বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি। বাতিল হওয়া এসব মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮০টি হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের এমন সব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে যারা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৩টি আসনের মনোনয়নপত্র, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, রেজা কিবরিয়া, গোলাম মাওলা রনি, মীর নাছির, মোর্শেদ খান, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বিএনপি, জামায়াত, গণফোরামের বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন।

এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে ইসির কর্মকর্তারা নিয়ম কানুন মানেন নি বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মনোনয়নপত্রের সংযুক্ত করে দেয়া নথিপত্র গায়েব করে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা ৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া আয়কর রিটার্নের সনদ গায়েব করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।চট্টগ্রামে সরকারের মন্ত্রী ও জাপা নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ইশারায় মীর নাছির ও তার ছেলের মনোনয়ন বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুর ও নীলফামারীতে ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে জামায়াতের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সকল মহলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ইতিমধ্যে বিএনপিও অভিযোগ করেছে যে সরকারের মাস্টার প্লানের আলোকেই নির্বাচন কমিশন এসব করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষও বলছেন, গণহারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের গণহারে মনোনয়ন বাতিল পূর্ব পরিকল্পিত।তফসিল ঘোষণার পর সরকার মনে করছিল দেশের বৃহত্তর এই রাজনৈতিক জোট নির্বাচনে অংশ নেবে না।কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই চরম বেকায়দায় পড়ে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে শেখ হাসিনা জানতে পেরেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ নির্বাচনে থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে আর কোনো ভাবেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না। তাই শুরু থেকেই মামলা, হামলা, খুন, হত্যা, গুম, অপহরণ ও গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকার বিরোধী জোটকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ৮০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলও সরকারের এই কৌশলেরই অংশ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ঢাকা-১৫ আসনে : বিএনপি-জামায়াত ঐক্যবদ্ধ, আওয়ামী লীগে কোন্দল

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪, ১৩,১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (মিরপুর-কাফরুল) নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসন। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি পূর্বে ঢাকা-১১ থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলই একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি। ঢাকার এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের কোন্দল সবচেয়ে বেশি। আর বিএনপি-জামায়াতসহ ২৩ দল এ আসনটি উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।

ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, ২৩ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান। তবে বার্ধক্য, সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার, মনিপুর স্কুলে ভর্তিবাণিজ্য, নির্বাচনী এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে কামাল আহমেদ মজুমদারের বিকল্প প্রার্থী চাচ্ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। ফলে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী কাজ করে আসছিলেন। এরা হলেন- মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। কিন্তু এদের মধ্যে কেউ মনোনয়ন পাননি। ফলে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চরম কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। কামাল মজুমদারের বয়স বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব প্রার্থীদের কেউ তাকে মানতে পারছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, এ আসনের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম কৃক ১৮ বছর কমিশনার ছিলেন। কয়েক বছর ধরে এমপি মনোনয়নের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিন্তু এবারও মাহমুদা বেগম কৃক মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের আরেক শক্তিশালী প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় এবার তিনি প্রকাশ্যে বিরোধীতায় নেমেছেন।

এদিকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরে নিরবে কাজ করে আসছেন জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত বহু চিকিৎসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ মীর কাসেম আলী এই এলাকার সম্ভাব প্রার্থী ছিলেন। তিনি বহু সমাজ সেবামূলক কাজ করেছেন মিরপুর-কাফরুলের এই এলাকায়। এছাড়া দলটির ‘জাতীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড’ অনেক আগেই তাকে ওই আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ দিন থেকেই ডা: শফিকুর রহমান মিরপুর-কাফরুল এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বলছেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার জন্যই কাজ করবেন তারা। এই আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ ২৩ দলীয় জোটের নেতাদের অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ফলে বিজয় নিশ্চিত করতে আগে থেকে মাঠ গোছানোই আছে তাদের।

জানতে চাইলে কামাল আহমেদ মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে আছি। এলাকার অবকাঠামো এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নিরলস পরিশ্রম করছি। আবার নির্বাচিত হলে এ আসনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।

ডা: শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি ব্যাপক উন্নয়ন ও একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন তিনি। ডা: শফিকুর বলেন, মিরপুর-কাফরুল এলাকায় অসংখ্য কলকারখানা, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কুটির শিল্প, গার্মেন্টস শিল্পসহ অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতঃপূর্বে এ এলাকার উন্নয়ন কর্মকা-ে সফল উদ্যোক্তা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী অনেক অবদান রেখেছেন। এ সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব। তিনি বলেন, এলাকাটিতে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চলছে। এ জন্য এলাকার টেকসই উন্নয়নে একজন সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে ধর্মীয় পার্থক্য কারো অধিকার খর্ব করে না, একই সাথে কোনো ধর্মের অনুসারীদের হস্তক্ষেপ কিংবা কোনো জোর-জুলুম করার অধিকার কোনো ধর্ম দেয়নি। এ জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

কাফরুল থানা বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন জিল্লু বলেন, এখানে যদি সুষ্ঠু একটা নির্বাচন দেয়া হয় তাহলে ২৩ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সমর্থিত প্রার্থী অনেক ভোটে জয়ী হবে। এখানে দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে কাজ করব আমরা।

ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪০ হাজার ৫২৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ১০৪ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৬৫ হাজার ৪২৪ জন। সর্বশেষ নির্বাচনে এই আসনে ভোট কেন্দ্র ছিল ১২৯টি।

নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পর প্রথম ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ড. কামাল হোসেনকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির হারুন রশিদ মোল্লা। ১৯৯৬ সালে বিএনপির এখলাস উদ্দিন মোল্লাকে হারিয়ে এমপি হন আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদার। ২০০১ সালে এমপি হন বিএনপির এসএ খালেক। আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালে ঢাকা-১৫ থেকে বিএনপির উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খানকে হারান কামাল মজুমদার। সবশেষ ২০১৪ সালের ভোটে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এখলাস মোল্লা। কামাল মজুমদারের কাছে তিনি ২৭ হাজার ভোটে হেরে যান।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেল যেসব যুদ্ধাপরাধী

কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও বাস্তবে আওয়ামী লীগ কতটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে? রাজনীতির ময়দানে ঘুরে ফিরে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে আমাদের সামনে।

যুগ যুগ ধরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে আসলেও আওয়ামী লীগ বরাবরই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে বিএনপি জামায়াতের দিকে। কিন্তু এর বাস্তবতা কতটুকু?

বাস্তবতা হল এই যে, আওয়ামী লীগ মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই অস্ত্র ব্যবহার করে। যার কোন ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামীতে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা অথবা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিতর্কিত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের সন্তানরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে কিনা- এই অযৌক্তিক বিতর্ক সৃষ্টির পেছনে যারা, চলুন দেখে নেয়া যাক সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যেই কতজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তান রয়েছে!

১। (ফরিদপুর– ৩) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন:

ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেন। “দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

২। (চাঁদপুর ১) মহিউদ্দীন খান আলমগীর:

চাঁদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

৩। (ময়মনসিংহ ৬) অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন:

ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ঐ মাসেরই ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে ২০১২ সালের ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

৪। (রংপুর ৫) এইচ এন আশিকুর রহমান:

রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

৫। (গোপালগঞ্জ ১) লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান:

পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

৬। সৈয়দ জাফরউল্লাহ:

আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

৭। (ঢাকা-২) অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম:

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

৮। (বরগুনা-২) শওকত হাচানুর রহমান:

বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অথচ তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা খলিলুর রহমান বরগুনায় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

৯। (সিলেট ০৩) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস:

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিন সুরমার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক স্মারক গ্রন্থ। সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক সেই গ্রন্থে সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটিতে আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা শেখ মুজিব সরকারের আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১০। (জামালপুর-৩): মির্জা আজম:

জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮১ সালের সংস্করণ)” বইয়ে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আ. লীগের এমপি মন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য- জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে্র যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধীতার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা মুখে ফেনা তোলে সেই আ. লীগেরই বাস্তব অবস্থা হলো এই। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এত দহরম মহরম সম্পর্ক থাকার পরেও আওয়ামী লীগ তার বিরোধী পক্ষকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তকমা লাগাতে একটুও দেরি করে না।

মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই আওয়ামী লীগ বার বার মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনে। আর এদিকে জনগণকে ব্যস্ত রেখে বাস্তবায়ন করে ভিনদেশী আধিপত্যবাদীদের এজেন্ডা। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের সে মুখোশ উন্মোচিত। এখন শুধু জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জয়নুল আবেদিন ফারুককে পেটানো সেই আলোচিত হারুন নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মো. হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নোটিশে হারুনসহ আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তার বদলির খবর জানিয়েছে। তাদের বদলির ব্যাপারে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন অনাপত্তি জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুককে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় পিটিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন হারুন। এবার নারায়ণগঞ্জের সদ্য সাবেক হওয়া এসপি আনিসুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

অন্যদিকে আনিসুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আজাদ মিয়াকে গাজীপুর নগরীর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আনিসুর রহমানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে আসার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে এআইজি করা হয়েছিল। জোটের অভিযোগ ছিল- এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি। সে কারণে তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই তার জায়গায় বদলি হয়ে আসলেন হারুন অর রশীদ।

২০১৬ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচনের সময় গাজীপুরে এসপি হারুনের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনের সময় কিছুদিনের জন্য তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাকে আবার সেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সময়ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছিল এসপি হারুনের বিরুদ্ধে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তুলে বলা হয়েছিল, তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। নির্বচন কমিশন থেকে তখন তাকে পরোনা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করার জন্যও বলা হয়েছিল।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সারাদেশে ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল, রক্ষা পাননি হেভিয়েটরাও

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের দিনে সারাদেশে ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান, রেজা কিবরিয়া, সাবেরা সুলতানা মুন্নী ও গোলাম মাওলা রনিসহ বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতারাও রক্ষা পাননি।

গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৩০০ আসনের জন্য ৩,০৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে। এর মধ্যে এক চতুর্থাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেল। মামলায় সাজা, খেলাপি ঋণসহ মনোনয়নপত্রে নানা অসঙ্গতির কারণে এদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিলের শুনানির পর তাদের প্রার্থিতার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে নির্বাচন কমিশন।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো তাদের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও রয়েছেন। তার তিনটি মনোনয়নের সবগুলোই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন।

দুর্নীতি মামলায় সাজা পাওয়ায় ‘ঢাকা-২’ আসনে বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৪ এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনের মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন।

এদিকে, রাজশাহী-১ আসনের জন্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই আসনে আরও ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির হয়ে পটুয়াখালী-৩ এর জন্যে গোলাম মওলা রনির মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় নিজের স্বাক্ষর দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বিএনপি প্রার্থী রনির মনোনয়ন বাতিল করে দেন।

২০০৮ সালে রনি আওয়ামী লীগের হয়ে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

গণফোরামের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এছাড়াও, হলফনামায় স্বাক্ষর নেই- এমন অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেয়া চৌধুরীর মনোনয়নও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here