রাতে সিল মারা কোন ধরণের জনগণের ম্যান্ডেট?

0
377

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। জনগণ ভোট দিতে না পারায় নতুন সরকারের প্রতি তাদের কোনো সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বলা যায়- বর্তমান সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। র‌্যাব-পুলিশ আর বিজিবির সেল্টারে এখন দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থা আসেনি। সার্ক মানবাধিকার সংস্থা নামে ভুয়া একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষন করেছিল। নির্বাচনের পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময়ে কথিত এই পর্যবেক্ষক সংস্থাটি দাবি করেছিল নির্বাচন খুব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আর তাদের দেয়া এই বক্তব্যকে পুজি করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করছে।

তবে টাকায় কেনা কথিত এই সংস্থাটিই এখন বলছে যে, তাদের পর্যবেক্ষণ সটিক ছিল না। নির্বাচন নিয়ে তারা যে তথ্য দিয়েছিল সেটা ভুল ছিল। আসলে রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখা হয়েছিল। তারা আসলে সব জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি।

এখন, এই সংস্থাটিও মত পাল্টানোর পর সরকারের দাবির পক্ষে কথা বলার আর কেউ থাকলো না।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো-দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও দেশের সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে এক সুরে গান গেয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাতো প্রতিদিনই জনগণ তাদেরকে বিপুলভোটে বিজয়ী করেছে বলে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। এত বড় ভোট ডাকাতির পরও জনগণের ভোটে নাকি তারা বিজয়ী হয়েছেন এই বলে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে গত শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে।

নির্বাচনের পর জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে শেখ হাসিনা মিথ্যাচারের সেই পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে বলেছেন, জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। তাই তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের নাকি অনেকেই তাদের টেলিভিশন বন্ধ করে রেখেছিল। আবার অনেকে ভাষণের কিছু কথা শুনার পর টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও চলছে কঠোর সমালোচনা। টিভি টকশোগুলোতে সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরাও। শেখ হাসিনার ভাষণের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক দলগুলোও।

সবার একটিই্ প্রশ্ন, একজন প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে মিথ্যাচার করেন কিভাবে? রাতে সিল মেরে যিনি এটাকে জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে দাবি করতে পারেন, অসত্য কথা বলার দিক থেকে তাকে পেছনে ফেলার মতো কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমান বিশ্বে নেই।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দালাল পর্যবেক্ষকদেরও হাতে রাখতে পারলো না আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বার যেন তেনভাবে ক্ষমতায় এসে নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের জালিয়াতিকে আড়াল করার জন্য কুটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন আদায়েরও চেষ্টা করছে। কিন্তু তারপরও ছিদ্রপথ দিয়ে যেন অনেক কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে হাতে থাকা জিনিষগুলোও যেন আর আওয়ামী লীগের হাতে থাকছে না। এজন্যই প্রবাদে বলে চোরের ১০ দিন আর গেরস্থের একদিন।

আজ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী নীতি নির্ধারক মহলে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এবারের নির্বাচনের আগে থেকেই দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকদেরকে নিয়োগ করার ব্যপারে নির্বাচন কমিশন নানা ধরনের অযাচিত বিধি নিষেধ আরোপ করে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ নির্বাচনী পর্যবেক্ষকসহ আমাদের দেশের অনেক পরিচিত মুখও নির্বাচন কভার করার সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে পর্যবেক্ষকদেরকে মুর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেয়ার পর থেকে অনেকের মনেই তখন নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।

তাই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভয়াবহ জালিয়াতিকে লুকোনোর জন্য নির্বাচনের পরদিনই গণভবনে আওয়ামী লীগের দেশীয় ও বিদেশ থেকে ভাড়া করে আনা পর্যবেক্ষকদেরকে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সম্মেলনে দালাল পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে স্বীকৃতিও আদায় করা হয়। সেগুলো সরকারের দালাল মিডিয়াগুলো আবার বেশ ফলাও করে প্রচারও করে। কিন্তু সব গোমর ফাঁস হয়ে গেছে এবার। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেই পর্যবেক্ষকদেরকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার করে যাতে পর্যবেক্ষকরা আগের অবস্থান থেকে পল্টি মারেন। তারা অবলীলায় স্বীকারও করলেন যে, আমাদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে, আসলে নির্বাচন সুষ্ঠূ হয়নি।

পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসা পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচন নিয়ে এখন ভিন্ন কথা বলছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, যতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে তারা সেসময়ে মন্তব্য করছিলেন তাঁরা, এখন বলছেন নির্বাচন ততটা সুষ্ঠু হয়নি।

কানাডার তানিয়া ফস্টার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভোটের পরদিন গণভবনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অনুষ্ঠানে তানিয়া বলেছিলেন, ‘নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক হয়েছে। তবে তিনি এখন বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, তখন তিনি সবকিছু একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলেন।

একই রকম মনোভাব নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুস সালামেরও (৭৫)। তিনি বলেছেন, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরেছেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে নতুন ভোট হওয়া উচিত।’ আবদুস সালাম বলেন, ‘এখন আমি সবকিছু জানতে পেরেছি এবং বলতে পারি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।’

সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যোগাযোগ আছে বলে অভিযোগ আছে। সংগঠনটির উপদেষ্টা কমিটিতে আছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুই সাংসদ। এ ছাড়া নাম ও লোগোতে মিল থাকলেও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সঙ্গে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের কোনো সম্পর্কই নেই। সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন কানাডা, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েকজন পর্যবেক্ষক নিয়ে আসে। ওই দলেই ছিলেন তানিয়া ফস্টার। ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন এবং তার পরদিন ওই পর্যবেক্ষকেরা সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।

তানিয়া ফস্টার বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের যোগসূত্র রয়েছে বা সংগঠনটি যে সার্কের কেউ নয়, তা তিনি জানতেন না। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি। আমার মনে হচ্ছে সবকিছু আমি একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলাম।’

তানিয়া আরও বলেন, ‘আমরা কেবল ঢাকার নয়টি ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলাম, তারপরও আমাদের প্রতিবেদন যে এভাবে ওরা কাজে লাগােেব, তা বুঝতে পারিনি। আমরা অপেক্ষাকৃত প্রতিকূল এলাকাগুলোয় যাইনি।’

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় টিআইবি। নির্বাচনের দিন ৪৭ আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট; ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা; ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল; ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা; ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট; ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা; ২০টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা; ২২টিতে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া; ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জয়ের ব্যাখ্যাই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ ‘ভোট ডাকাতি’ করে জিতেছে


নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং বিরোধীদের ভরাডুবি নিয়ে শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, তার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই প্রমাণ করে শেখ হাসিনা ‘ভোট ডাকাতি’ করে জিতেছেন।

“কেন তিনি (শেখ হাসিনা) এই ব্যাখ্যা দিলেন? নির্বাচনে জিতলে তো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার এই ব্যাখ্যা দেওয়াটাই প্রমাণ করে তিনি জনগণের ভোটে জেতেননি। ভোট ডাকাতি করে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছেন।”

“তার কথায় যথেষ্ট মিথ্যাচার আছে, জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে।”

বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে আহ্বান শেখ হাসিনা তার ভাষণে জানিয়েছেন – সে প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব ঐক্যের ডাক এখন অর্থহীন।

‘কার সাথে ঐক্য?’

“কার সাথে ঐক্য? জনগণই তো এখন তাদের সাথে নেই। আওয়ামী লীগ এখন গণ-বিচ্ছিন্ন।”

জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণে শেখ হাসিনা বিরোধীদের সংসদে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিরোধীদের যৌক্তিক সমস্ত দাবি তিনি বিবেচনা করবেন।

এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। সংসদে শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা আবারো নাকচ করে দিয়েছেন। “গৃহপালিত একটি বিরোধী দল তো তিনি বানিয়েছেন। জাতির সাথে একটি মর্মান্তিক প্রতারণা করা হয়েছে।”

“তার এ ধরণের আশ্বাস জাতি আর বিশ্বাস করে বলে আমি মনে করিনা। কারণ ইতিপূর্বে যে সব প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন একটিও তিনি রাখেননি।”

“নির্বাচনের আগে তিনি কথা দিয়েছিলেন তপসিল ঘোষণার পর কোনো গ্রেপ্তার হবেনা, হয়রানি হবেনা। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু কোনোটাই সত্যি ছিলনা…প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ, প্রশাসনকে বলা হয়েছে নৌকার পক্ষে ভোট আনতে হবে…কী করে জাতি আর তার কথায় বিশ্বাস করবে?”

উৎসঃ ‌বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ ‘নির্বাচনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে’


ওয়াশিংটন থেকে বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কারচুপি, ভয়প্রদর্শন এবং সহিংসতার যেসব কর্মকান্ড ঘটেছে তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। আর নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ পুর্নব্যক্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা আবারো স্পষ্ট করে জানান দিলেন ইউএসএআইডি’র পরিচালক মার্ক গ্রিন।

বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও উঠে আসে রোহিঙ্গা, জুলহাস মান্নান হত্যাকান্ডসহ দ্বি-পাক্ষিক অংশীদারিত্বের অন্যান্য বিষয়গুলো। বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র টম ব্যাবিংটন বিবৃতির একটি কপি জাস্ট নিউজকে প্রেরণ করেন।

মার্কের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চলমান সংকট এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় মানবাধিকার বিষয়ক পরবর্তী সম্মেলন নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেবার জন্য বৈঠকে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যেসব কারচুপির ঘটনাগুলো ঘটেছে, হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা হয়েছে সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে উদ্বেগের বিষয়টি জানান দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক সময়কার প্রভাবশালী সদস্য মার্ক গ্রিন।

ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানের বিচার নিশ্চিতের তাগাদা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মার্ক গ্রিন তিন বছর আগে ঢাকায় নির্মমভাবে নিহত ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের তাগিদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, নাগরিক বান্ধব সরকার, সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করেন মার্ক গ্রিন।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ হাসিনাকে দেয়া ট্রাম্পের চিঠির সত্যতা মিলেনি!


যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মর্মে সরকারি তরফে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বয়ং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের নিকট চিঠির কপি বিলাচ্ছেন। বাংলাদেশের কোনো কোনো মিডিয়া পররাষ্ট্র দফতরের বরাত দিয়ে চিঠি প্রদানের খবর প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জাস্ট নিউজের তরফে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কয়েকদফা যোগাযোগ করেও ট্রাম্পের চিঠি পাঠানোর খবরের সত্যতা মিলেনি।

‘শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন’- একটি সংবাদ বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে সে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিতে জাস্ট নিউজের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নয়েল ক্লে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউএসআইডি’র পরিচালক মার্ক গ্রিনের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকের অবস্থানের কথা তোলে ধরে বিবৃতির কপি পূনরায় প্রেরণ করেন এবং এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন।

চিঠির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পূনরায় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দেয়া যে কোনো চিঠির বিষয়ে হোয়াইট হাউসে খোঁজ নিতে হবে।’

ট্রাম্পের চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা চিঠির বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে যে চিঠিটি নিয়ে সংবাদ তৈরি করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এটি চলতি মাসের ১৮ তারিখে ইস্যু করা। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একরকমের ধুম্রজাল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্ক গ্রিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের সঙ্গে করা বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগে পুর্নব্যক্ত করেছিলেন। নির্বাচনে কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট দেশটির হাতে রয়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ আ’লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে : মির্জা ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোন নির্বাচনই হয়নি। এটা ছিল জাতির সাথে প্রহসন ও নিষ্ঠুর তামাশা। একটি দল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও থেকে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার পথে বগুড়া শহরতলীর একটি হোটেলে বগুড়া সদর আসনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে জনগণের সাথে তামাশা করে আওয়ামী লীগ আজ গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের পর তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই আগামীতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নেতাকর্মীদের মুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে লড়াই সংগ্রাম করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে পড়েছে। এর আগে দেশ এতটা সংকটে কখনো পড়েছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থায় মানুষের মনে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই মানুষ আজ বলছে, এদেশ আজ প্রজাতন্ত্র না একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় চলছে।

তিনি বলেন, এ সরকার ভালো কিছু বিশ্বাস করে না। তাই তারা নির্বাচন ব্যবস্থা কলংকিত করেছে। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। এ নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আবারো নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এ সরকারের কারনে দেশে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি নাই। আমার নিজ এলাকায় নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে কর্মীদের মারপিট করার পর এখন দোকানপাট দখল করা হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেও আমাকে বগুড়া সদর আসনে বিপুলভোটে নির্বাচিত করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে বগুড়া জেলাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেনও উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান ও রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বিএনপি নেতা আলী আজগর হেনা, লাভলী রহমান, শহর সভাপতি মাহবুবর রহমান বকুল, সদর উপজেলা সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ডাক্তার মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, অধ্যাপক ডাক্তার শাহ মোঃ শাহজাহান আলী, মাহবুব আলম শাহীন, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, পরিমল চন্দ্র দাস, সহিদ উন নবী ছালাম, রফিকুল ইসলাম, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, অ্যাডভোকেট সৈয়দ জহুরুল আলম, নাজমা আক্তার, শাহাবুল আলম পিপলু, ছামুছুল হক রোমান, মাহবুব হাসান লেমন প্রমুখ।

সুত্রঃ ‌ নয়া দিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here