রমজানে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় যা রাখবেন

0
611

রোজার মাসের খাবার অন্যান্য মাস থেকে একটু আলাদা হওয়া উচিত। যতটা সম্ভব সহজপাচ্য ও স্বাভাবিক খাবারই খাওয়া উচিত। কিন্তু সারা দিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারে মুখরোচক অনেক কিছুই খেতে ইচ্ছে করে। এ সময় ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার খেলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ, আলসার, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

তাই সুস্থ শরীরে ও দেহের ওজন না বাড়িয়ে পুরো রোজার মাস ভালো থাকার জন্য একটা ব্যালেন্স ডায়েট বা সুষম খাবারের দরকার। দৈনিক চাহিদার প্রতি লক্ষ রেখেই এ সময় খাদ্য নির্বাচন করা দরকার।

এবারের রোজা হচ্ছে প্রচণ্ড গরমের সময়ে। তাই শরীরকে হাইড্রেট রাখতে প্রচুর পানি, মৌসুমি ফল ও সবজির জুস বা স্মুদি এ ধরনের তরল, ঠাণ্ডা খাবার ও আঁশজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা খাবার না খেয়ে প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জি নেয়াই ভালো।

এই মাসে চা, কফি পানের মাত্রা কমাতে হবে। তা না হলে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত তৈলাক্ত খাবার বেশি খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তাই এসব যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।

এ সময় অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। তৈলাক্ত খাবার খেলে লিপিড প্রোফাইল খারাপ হয়ে যেতে পারে, মানে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে। যারা রোজায় চর্বিজাতীয় খাবার মেনে চলবেন, তারা এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এমনকি যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, এ নিয়ম মেনে চললে তারা ভালো হয়ে যেতে পারেন।

খাবার পরিমিত খেলে রোজায় সুস্থ থাকা যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, তারা অবশ্যই খাবার গ্রহণে সচেতন থাকবেন। কারণ যাদের কিডনি রোগ বা গেটে বাত (ইউরিক অ্যাসিড) আছে, তাদের ডালজাতীয় খাবার পরিমাণে খুব কম খাওয়া বা একেবারেই না খাওয়া উচিত।

রোজার সময় অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। এটি সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণের জন্য হয়। তাই তারা চাইলে রোজ ইফতারে দই-চিড়া খেতে পারেন। কারণ দই রয়েছে প্রোবাওটিক, যা পেটের গাট ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে।

এখন যেহেতু গ্রীষ্মকাল, সেহেতু এই সময়কে ফলের জন্য মধুমাস বলা হয়ে থাকে। তাই মৌসুমি ফল খেলে রোজায় হাইড্রেটেড থাকা যাবে খুব সহজেই। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় রোজায় না খেয়ে প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জি নেয়াই শ্রেয়। চিনির পরিবর্তে মধু খেলে উপকার বেশি পাবেন। যারা ডায়াবেটিকসের রোগী তাদের খাবার গ্রহণ এবং ইনসুলিন ব্যবহারে সচেতন থাকবেন।

যারা অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি তাদেরও খাবার ব্যালান্স করতে হবে। তাদের যেহেতু এসিডিটির সমস্যা থাকতে পারে, সেহেতু তারা এই সময় সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করবেন আর প্রচুর পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করবেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে খেতে হবে।

এই সময়ে খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাবেন, যা আপনার হজমে সহায়ক হবে। ইফতার ও সাহরিতে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন। গ্লাস গুনে পানি খেতে অসুবিধা হলে সমপরিমাণ পানি বোতলে ভরে রাখুন এবং ইফতার থেকে সাহরির সময়ের মধ্যে তার পুরোটা পান করুন।

দিনভর রোজা রাখায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই তৎক্ষণাৎ শক্তির জোগান দিতে সক্ষম এমন খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। এমন খাবারের মধ্যে আছে- আঙুর, খেজুর, ফলের রস। এগুলো যেমন শরীরে সহজে শক্তি আহরণে কাজে লাগে, তেমনি শরীরের পানি ও খনিজের প্রয়োজনও মেটায়। মিষ্টি শরবত, মিষ্টান্নজাতীয় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার বর্জন করা ভালো।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রোজায় প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, কী করবেন?


গরমে সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরে পানিশূন্যতার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতারে শরবতের সঙ্গে খেতে পারেন ইসুবগুলের ভুসি।

ইসুবগুলের ভুসি আপনার প্রস্রাব হলুদ ও জ্বালাপোড়া, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, আমাশয় ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ইসুবগুলের ভুসির রয়েছে বেশ স্বাস্থ্যসম্মত উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী। তাই প্রতিদিনের ইফতারের আয়োজনে ইসুবগুলের ভুসি রাখতে পারেন শরবতে।

আসুন জেনে নেই রোজায় কেন খাবেন ইসুবগুলের ভুসি?

কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে ৫-১০ গ্রাম ইসুবগুল নিয়ে এক কাপ ঠাণ্ডা বা হালকা গরম পানিতে আধঘণ্টা ভিজিয়ে তাতে দু-তিন চামচ চিনি মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে বা রাতে শোয়ার আগে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

পাইলস

কোষ্ঠবদ্ধতা পাইলসের প্রধান কারণ। তাই পাইলসের রোগীদের নিত্যদিনের ওষুধ এই ইসুবগুল। প্রতি রাতে পানিতে এক টিপ ইসুবগুলের ভুসি দিয়ে খেয়ে শুতে যাওয়া অভ্যাস করলে উপকার পাওয়া যায়।

আমাশয়

যারা আমাশয়ে ভুগছেন, তাদের জন্যও ইসুবগুল ভালো। ইসুবগুল আমাশয়ের জীবাণু ধ্বংস করতে পারবে না, তবে বের করে দিতে পারবে। আমাশয়ের রোগীরা সকালে ও রাতে একবার শরবতের সঙ্গে খাবেন।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

কোলেস্টেরল ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন কমাতে চাইলে ইসুবগুলের ভুসি খান। পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটা এক দারুণ পথ্য।

ডায়েরিয়া

ডায়েরিয়া উপশমে বেশ উপকারে আসে ইসুবগুল ভুসি। এজন্য ৭-২০ গ্রাম ভুসি দিনে দুবার খাওয়া যেতে পারে।

প্রস্রাব হলুদ ও জ্বালাপোড়া

যে কোনো কারণে প্রস্রাব হলুদ হয়ে জ্বালাপোড়া হলে সকালে এক গ্লাস ও বিকালে এক গ্লাস শরবতের সঙ্গে ইসুবগুলের ভুসি খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া চলে যায়।

মাথা ব্যথা

যে কোনো কারণে মাথা ব্যথা রোগ হলে বা হাত-পা জ্বালাপোড়া হলে সকাল-বিকালে এক গ্লাস আখের গুড়ের শরবতের সঙ্গে ইসুবগুলের ভুসি মিশিয়ে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দ্বিতীয় তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ


আজ দ্বিতীয় তারাবিতে সুরা বাকারার ২৫তম রুকুর শেষার্ধ থেকে সুরার শেষ রুকু পর্যন্ত, ২০৪ থেকে ২৮৬ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সুরা আলে ইমরানের প্রথম রুকু থেকে নবম রুকুর পুরো অংশ, ১ থেকে ৯১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে।

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দেড় পারা থেকে শুরু করে তিন পারার পুরোটা।

২. সুরা বাকারাহ: ২০৪-২৮৬

২৫তম রুকুর শেষার্ধ। ২০৪ থেকে ২১০ নম্বর আয়াতে মুনাফিক-কাফের ও মুমিনের আচার-বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা তুলে ধরা হয়েছে। মোনাফিক ও কাফেররা নিজেদের আল্লাহর প্রিয় বলে দাবি করে। তারা বলে- আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। আসলে তারা সুযোগ পেলেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে বসে। আর মোমিন সবসময় নিজেকে আল্লাহতে সমর্পিত মনে করে। জীবন ও সম্পদ আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে। শয়তানের ফাঁদে পা দেয় না।

২৬তম রুকু। ২১১ থেকে ২১৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত করা হয়েছে। বনি ইসরাইলদের কথা উল্লেখ করে উম্মতে মোহাম্মাদিকে সতর্ক করা হয়েছে। সত্য অস্বীকার করা, দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া, আল্লাহর দ্বীনের সংগ্রামে ধৈর্যচ্যুত হওয়ার মতো বিষয় থেকে বিরত থাকার হেদায়েত রয়েছে এ রুকুতে।

২৭তম রুকু। ২১৭ থেকে ২১২ নম্বর আয়াতেও পবিত্র মাসে যুদ্ধের বিধান, মদ-জুয়ার অপকারিতা, এতিমদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং মুশরিক নারীদের বিয়ে না করার মতো গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত করা হয়েছে। বলা হয়েছে- পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা বড় ধরনের গোনাহর অন্তর্ভুক্ত। আর মদ-জুয়া এগুলোর যদিও কিছু উপকার আছে, আসলে ক্ষতিই বেশি। মুশরিক নারী কোনো মুমিনের চোখে ভালো লাগলেও তার জন্যে কল্যাণ হলো মুমিন নারী কিংবা দাসীকে বিয়ে করা। এতে করে তার দুনিয়া-আখেরাত দুটিই সুন্দর হবে।

২৮তম থেকে ৩১তম রুকুর বড় অংশ। ২২২ থেকে ২৪০ নম্বর আয়াতে নারীদের ঋতুস্রাব, তালাক ও ইদ্দত এবং দেনমোহরের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মাসিকের সময় স্ত্রী সহবাস করা যাবে না। কেউ যদি স্ত্রী সহবাস না করার শপথ করে, তা হলে চার মাসের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ আছে। তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর স্ত্রী তিন ঋতুস্রাব পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। আর গর্ভে সন্তান থাকলে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। এভাবে দুবার তালাক দেয়ার পর তৃতীয়বারে হয় তাকে রাখবে, নয় সুন্দরভাবে বিদায় করে দেবে।

আর দেনমোহর বাবদ যা দেয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে নেয়া যাবে না। ইদ্দত পালনের সময় স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে হবে। তাকে জ্বালাতন করা যাবে না। আল্লাহর বিধান নিয়ে খেল-তামাশা করা বড় ধরনের অন্যায়।

৩২তম ও ৩৩তম রুকু। ২৪৩ থেকে ২৫৩ নম্বর আয়াতে মুসা (আ.)-এর পর বনি ইসরাইলরা পরবর্তী নবীদের সঙ্গে জিহাদের নামে কেমন পিঠটান আচরণ করেছিল এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত নবী ও বাদশাহকে পর্যন্ত বনি ইসরাইল সম্প্রদায় মেনে নেয়নি। যখন তাদের জিহাদের জন্য ডাকা হয়েছে, তারা গোয়ার্তুমি করেছে। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই জিহাদের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

৩৪ ও ৩৫তম রুকু। ২৫৪ থেকে ২৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহর মহত্বের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে আল্লাহর পরিচয় ও ক্ষমতার কথা। উদহারণস্বরূপ ইবরাহিম (আ.)-এর দুটি ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। একটি ঘটনা নমরুদের সঙ্গে তর্কবিতর্কের ঘটনা। আরেকটি হলো- মৃতকে জীবিত করার রহস্য সম্পর্কে আলোচনা।

৩৬ থেকে ৩৯তম রুকু। ২৬১ থেকে ২৮৩ নম্বর আয়াতে অর্থনৈতিক বিধান বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহর পথে ব্যয়ের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা, আল্লাহর পথে ব্যয় না করার পরিণাম, উশরের বিধান, দানের উপযুক্ত কারা এসব বিধান আলোচনা করার পাশাপাশি সুদের ভয়াবহতা, সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা এবং সুদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে ঋণের বিধান নিয়ে। ঋণ যেন লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে হয় এসব নির্দেশনা সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে ২৮২ ও ২৮৩ নম্বর আয়াতে।

৪০তম তথা শেষ রুকু। ২৮৪ থেকে ২৮৬ নম্বর আয়াতে উপসংহারস্বরূপ ইমানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বান্দার জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানি উল্লেখ করা হয়েছে শেষের দুই আয়াতে।

৩. সুরা আল ইমরান : ১-৯১

সুরা আল ইমরান মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের তিন নম্বর সুরা এটি। এর মোট আয়াত সংখ্যা ২০০ এবং রুকু সংখ্যা ২০। আজ পড়া হবে নবম রুকু পর্যন্ত।

প্রথম রুকু। ১ থেকে ৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ভূমিকাস্বরূপ পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। এ কোরআন যে পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যায়ক এবং এটিই সত্য-মিথ্যার মাঝে প্রকৃত পার্থক্যকারী সে কথা বলা হয়েছে। এর আয়াতসমূহের ওপর বিশ্বাসীরা আমল করে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে। আর বাঁকা মনের মানুষ এতে জটিলতা খোঁজে।

দ্বিতীয় রুকু। ১০ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা বলা হয়েছে। পার্থিবজীবনের অসাড়তা ও মোহগ্রস্ততার হেতু কী- এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ১৪ নম্বর আয়াতে। পরবর্তী অংশে ইমান ও দাওয়াতের বিষয়ে সংক্ষেপ তবে মৌলিক আলোচনা করা হয়েছে।

তৃতীয় রুকু। ২১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা ইলম অনুযায়ী আমল করেনি, সত্য লুকিয়ে রেখেছিল তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতা ও সম্মানের মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা এসব দান করেন, আবার যার থেকে ইচ্ছা এসব ছিনিয়ে নেন। একান্ত বিপদে পড়লে শুধু মুখে ইমানবিরোধী কথা বলা যাবে, এ অনুমতিও দেয়া হয়েছে মুসলমানদের।

চতুর্থ রুকু থেকে ষষ্ঠ রুকু। ৩০ থেকে ৬২ নম্বর আয়াতে ইমরানের স্ত্রী, মরিয়ম (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নেক বান্দা ইমরানের স্ত্রী আল্লাহর রাস্তায় নেক পুত্র বিলিয়ে দেয়ার মানত করে। কিন্তু পরে ইমরানের স্ত্রী একজন কন্যাশিশু প্রসব করেন।

আল্লাহ বলেন, হে ইমরান পরিবার! এ কন্যা পুত্রের চেয়ে উত্তম। এ শিশুকন্যাই ঈসা (আ.) এর মা হজরত মরিয়ম (আ.)। মরিয়ম (আ.) এর ওপর আল্লাহতায়ালা কী ধরনের আশ্চর্য আশ্চর্য অনুগ্রহ করেছেন, এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিতভাবে।

সপ্তম থেকে নবম রুকু। ৬২ থেকে ৯১ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ এবং দাওয়াতের পন্থা কেমন হবে, আহলে কিতাবদের ব্যাপারে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গিই বা কেমন হবে- এসব বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে কীভাবে সমঝোতায় আসা যায়- সে পথ ও পন্থা বলে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌উপবাস নয়, রোজা একটি ইবাদত


রোজা হলো একটি ইবাদত এবং মুসলমানের জন্য একটি অপরিহার্য ইবাদত।

আল্লাহতায়ালা বলেছেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির অন্যতম একটি রোজা। ওমর (রা.) বলেন— আমরা রাসুল সা.-এর সাথে বসেছিলাম, একজন ব্যক্তি আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন, যার পোশাক ছিল অধিক শুভ্র এবং চুল ছিল ঘন কালো। তার মাঝে ভ্রমণের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। আমরা কেউ তাকে চিনতাম না। তিনি হেঁটে এসে নবীজি সা.-এর পাশে বসলেন।

তার হাঁটুতে হাঁটু লাগিয়ে এবং নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেন : ‘হে মুহম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।’ রাসুল (সা.) বললেন- ‘ইসলাম হচ্ছে এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহম্মদ আল্লাহর রাসুল, নামাজ আদায় করা, জাকাত দেয়া, রমজানে রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে (আল্লাহর) ঘরে হজ্ব পালন করা। তিনি বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন।’ এবং আমরা চমৎকৃত হলাম যে তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন এবং নিজেই সত্যায়ন করছেন। (বুখারি, কিতাবুল ইমান, হাদিস ৪৮)

ইসলামে রোজা মানে হলো— নিয়তের সঙ্গে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ে রোজা ভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকা। ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন— ‘শাব্দিক অর্থে রোজা অর্থ বিরত থাকা হলেও শরিয়তে রোজা মানে, নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিবৃত থাকার পদ্ধতি অনুসারে বিশেষ কয়েকটি বিষয় থেকে বিরত থাকা নির্দিষ্ট শর্ত মেনে।’ (ফাতহুল বারি, কিতাবুস সাওম, বাবু উজুবিস সাউমি রামাদান, পৃষ্ঠা ১২৩)

সুতরাং রোজার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি রয়েছে। কী সেই পদ্ধতি? ফকিহগণ বলেন : সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। (তাহাবি, আহমদ ইবনে ইবরাহিম)

কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা নয়; বরং একই সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ থেকেও বিরত থাকতে হয়। আবার পানাহার ও যৌনতা থেকে যে-কেউ বিরত থাকলেই তাকে রোজা বলা হবে না, বরং তাকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক বোধশক্তিসম্পন্ন মুসলিম হতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়তের সঙ্গে তাকে রোজা শুরু করতে হবে, এর মধ্যে তারাবিহ ও সাহরির মতো ইবাদত পালন করতে হবে এবং ইফতারের নির্দিষ্ট সময়ে আবার পানাহার গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাকে সমাপ্তিও ঘোষণা করতে হয়।

অনশন বা উপবাসের সার্বজনীন অর্থ হলো- কেবল সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা। হিন্দুধর্মে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের অনশন করার কথা বলা হয়েছে। তাদের অনশন মূলত তিন প্রকার— স্বল্পানশন, অর্ধানশন ও পূর্ণানশন। পূর্ণানশন বলতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা বোঝায়। এ ছাড়া অন্যান্য ধরনের অনশনে অনশনকালীন নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়া যায়। (দেখুন : ‘অনশন’ উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া)

একইভাবে বৌদ্ধধর্ম, কনফুসীয়, সনাতন, তাও, শিখ, বাহায়ি কিংবা জৈনবাবাদেও উপবাসের প্রচলন রয়েছে। ইয়োগা ও মেডিটেশনের জন্য নির্দিষ্ট সময় পানাহার ত্যাগ করতে বলা হয়। একমাত্র শোনা যায়, আদি পারস্যের ধর্ম ‘জরথুস্ত্রুবাদ’-এ উপবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

এসব বিবেচনা থেকে রোজায় যে পানাহার-বর্জন করা হয়, সে ক্ষেত্রে সার্বজনীন ধর্মীয় বৈধতার একটা আন্তর্জাতিক সম্মতি পাওয়া যায় বটে এবং এটাও বলা যেতে পারে যে, মানবশুদ্ধির জন্য আদিম যুগ থেকেই গোত্র, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে উপবাস প্রচলিত ছিল—যদিও ধরন ও প্রক্রিয়ার বিচারে তাতে সংখ্যা, নিয়মকানুন ও সময়রেখা ছিল ভিন্নতর। তদুপরি রোজার বিধানকে অন্য বিধানের সঙ্গে কিছুতেই মেলানো যায় না; কাছাকাছিও ভাবা যায় না।

আবার কেউ কেউ এভাবে তো ঐশীধর্ম হিসেবে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার রোজার কথাও তুলে ধরেন, যা ইসলামের পূর্ব থেকেই ছিল এবং এখনও আছে। তা হলেও বলতে হবে, ইসলাম রোজার পূর্বপ্রচলিত ধারায় ব্যাপক সংস্কার সাধন করেছে এবং ধারণা ও বিধানগত বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। যেমন ইহুদিদের দৃষ্টিতে রোজা ছিল বেদনা ও শোকের প্রতীক।

ইসলাম এই হতাশাব্যঞ্জক ধারণাকে স্বীকার করেনি। আবার কোনো কোনো প্রাচীন ধর্মমতে রোজা এক বিশেষ শ্রেণির জন্য পালনীয় ছিল। কিন্তু ইসলাম রোজাকে সব শ্রেণিবিভক্তি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে এক সার্বজনীন রূপদান করেছে।

ইসলামের বিধানে প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তা ছাড়া পূর্বে উম্মতদের প্রতি নির্দেশ ছিল যে, এশার নামাজ আদায় করার পর যখন তারা শুয়ে যেত, তখন তাদের ওপর পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত। ইসলাম আসার পরে সেখানে সাহরি ও সুবেহ সাদিক সম্পর্কিত বিধান যোগ হয়েছে।

এটাও মনে রাখতে হবে, যদিও বিভিন্ন ধর্মে অনশনের রীতি রয়েছে, কিন্তু রাসুল (সা.) রোজাকে অন্যান্য ধর্মের রীতির সঙ্গে বৈপরীত্য বজায় রাখার পন্থা গ্রহণ করেছেন। যেমন তিনি রমজানের আমলের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবিদের সঙ্গে বৈপরীত্য রেখেছেন।

তিনি বলেছেন : দীন বিজয়ী হবে, যে-যাবত মানুষ দ্রুত ইফতার করবে। কারণ ইহুদি-নাসারারা তা বিলম্বে করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/৫০১)

অন্য হাদিসে এরশাদ করেন : যে অবধি মানুষ দ্রুত ইফতার করবে (অর্থাৎ সময় হওয়া মাত্রই), ভালো থাকবে। তোমরা দ্রুত ইফতার কর। কারণ ইহুদিরা তা বিলম্বে করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৬৯৭)

তিনি আরও বলেন: আমাদের ও আহলে কিতাবিদের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো- সাহরি গ্রহণ। (মুসলিম, হাদিস ১০৯৬)

ইসলাম ধর্মের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা। তার বৈশিষ্ট্যগুলো পৌত্তলিক ও বিকৃতকারী আহলে কিতাবিদের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। রোজা ইত্যাদি ক্ষেত্রে; তাই রাসুল ছিলেন পার্থক্য বজায় রাখার নিদর্শন ও নির্দেশক।

উম্মত আজ সাংস্কৃতিক, চেতনাগত এক ব্যাপক দৌর্বল্যে আক্রান্ত। সর্বক্ষেত্রে অন্যের পদাঙ্ক অনুসরণই হয়ে উঠেছে তার একমাত্র ভবিতব্য। অমুসলিম ও পৌত্তলিকদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্য গ্রহণ, সন্দেহ নেই, তার জন্য ছিল সর্বাধিক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। ধর্ম ও ধর্ম-চেতনা— যা উম্মাহের জন্য বৈশিষ্ট্যের মর্যাদা প্রাপ্ত, তাতে নিজেদের স্বকীয়তা প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

লেখক, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট, মুহম্মদ (স.) রিসার্চ সেন্টার (এমআরসি)

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রোজার নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করতে হবে, যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়!


রমজান শুরু হলে অনেকেই রোজার নিয়ত নিয়ে চিন্তিত থাকেন। অনেকে মনে করেন, রোজার নিয়ত মুখে করতে হয়। সমাজে যে আরবি নিয়ত প্রচলিত আছে তা বলতে হয়, নইলে কমপক্ষে মুখে এতটুকু বলতে হয় যে, আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করছি।

এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরি নয়; বরং অন্তরে রোজার সংকল্প করাই যথেষ্ট। এমনকি রোজার উদ্দেশ্যে সাহরি খেলেই রোজার নিয়ত হয়ে যায়।

সুতরাং এ কথা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, মুখে রোজার নিয়ত না করলে রোজা হবে না।

তবে কেউ যদি নিয়ত করে রোজা রাখতে চায়, তা হলে এভাবে নিয়ত করতে হবে-

সুবহে সাদিকের পূর্বে মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, ‘আমি আজ রোজা রাখবো’ অথবা দিনে আনুমানিক ১১টার পূর্বে মনে মনে নিয়ত করবে যে, আমি আজ রোযা রাখলাম। মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, বরং মুস্তাহাব। (রদ্দুল মুহতার: ২/৩৭৭)

রোজার নিয়তের ক্ষেত্রে আরবি ভালোভাবে বলতে পারলে ও বুঝলে আরবিতে নিয়ত করা যাবে। অন্যথায় বাংলায় নিয়ত করাই ভালো।

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার এবং জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থেকে রোজা রাখেন মুসলিমরা। তবে কয়েকটি ভুলের কারণে আমাদের রোজা ভেঙে যেতে পারে। তাই আসুন রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ জেনে নিই।

১. রোজা স্মরণ থাকাবস্থায় কোনো কিছু খাওয়া বা পান করা অথবা স্ত্রী সহবাস করা। এতে কাজা ও কাফফারা (একাধারে দুই মাস রোজা রাখা) ওয়াজিব হয়।

২. নাকে বা কানে তৈল বা ওষুধ প্রবেশ করানো।

৩. নস্য বা হাঁপানী রোগীর জন্য ইনহেলার গ্রহণ করা। ৪. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভরে বমি করা।

৫. বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।
৬. কুলি করার সময় পানি গলার ভেতরে চলে যাওয়া। ৭. দাঁতে আটকে থাকা ছোলার সমান বা তার চেয়ে বড় ধরনের খাদ্যকণা গিলে ফেলা।

৮. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবেহ সাদিকের পরে জাগ্রত হওয়া। ৯. ধূমপান করা।

১০. ইচ্ছাকৃতভাবে আগরবাতি কিংবা অন্য কোনো সুগন্ধি দ্রব্যের ধোঁয়া গলধকরণ করা বা নাকের ভেতরে টেনে নেয়া। ১১. রাত মনে করে সুবেহ সাদিকের পর সাহরি খাওয়া বা পান করা।

১২. সূর্যাস্তের পূর্বে সূর্য অস্তমিত হয়েছে ভেবে ইফতার করা।

এসব কারণে রোজা ভেঙে গেলে শুধু কাজা (পরে একটি রোজা রাখা) ওয়াজিব হয়, কাফফারা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু রোজা ভেঙে যাওয়ার পর দিনের বাকি সময় রোজাদারের ন্যায় পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূত্র: রদ্দুল মুহতার ও দুররে মুখতার: ২/৪০২

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌যাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ


আহলান সাহলান মাহে রমজান।

একটি বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে পবিত্র রমজান। আজ বাদ এশা অনুষ্ঠিত হবে প্রথম তারাবি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মতে অধিকাংশ মসজিদে ২৭ রমজানে কোরআন খতম করা হয়। প্রথম ৬ তারাবিতে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা পড়া হয়। পরবর্তী ২১ তারাবিতে এক পারা করে বাকি ২১ পারা পড়া হয়। এভাবে ২৭ দিনে ৩০ পারা মানে এক খতম কোরআন পড়া হয়।

যুগান্তর অনলাইনের পাঠকদের জন্য প্রতিদিনের পঠিতব্য অংশের মূলভাবটুকু তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।

১. সূরা ফাতেহা : ১-৭
উম্মুল কোরআন, ফাতিহাতুল কোরআন, সূরাতুস সালাহসহ অনেক নাম রয়েছে এ সূরার। এটি মক্কায় নাজিল হয়েছে। ফরজ-সুন্নাত-নফল কোন নামাজই এ সূরা ছাড়া আদায় শুদ্ধ হবে না। এ সূরার প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও তার গুনগান করা হয়েছে। তারপর বান্দার জন্য সহজ-সরল পথ ‘সিরাত-আল-মুসতাকিম’ চাওয়া হয়েছে। সিরাতাল মুস্তাকিমের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সর্বশেষ পথভ্রষ্টদের পরিচয় এবং সে পথে না যাওয়ার প্রার্থণা করা হয়ে। এ কারণে এ সূরাকে সূরাতুদ দোয়া মানে প্রার্থনার সূরা নামেও নামকরণ করা হয়েছে।

১ম তারাবি

আজকের তারাবিতে পবিত্র কোরআনের প্রথম দেড় পাড়া তিলাওয়াত করা হবে।

এ অংশে সূরা বাকারার ১ থেকে ২০৩ নম্বর আয়াত তথা প্রথম থেকে পঁচিশতম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত পড়া হবে।

২. সূরা বাকারাহ : ১-২০৩

সূরা বাকারাহ মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্রমিক নাম্বারে এটি পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সূরা। এর মোট ২৮৬টি আয়াত এবং ৪০টি রুকু রয়েছে। প্রথম রুকু ১ থেকে ৭ আয়াত পর্যন্ত।

এখানে পবিত্র কোরআন সন্দেহাতীতভাবে নির্ভুল একটি গ্রন্থ সে কথা বলা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে, এ কিতাব মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত। মুত্তাকি কারা? কী তাদের বৈশিষ্ট্য? তাদের পরিণাম কী এবং যারা খোদাভিরু নয় তাদেরই বা পরিণাম ও বৈশিষ্ট্য কেমন হবে- এসব বলা হয়েছে এখানে।

দ্বিতীয় রুকু- ৮ থেকে ২০ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য কী? তারা কিভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকাতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে ঠকায়, এর বিস্তারিত আলোচনা উদাহরণ দিয়ে বলেছেন আল্লাহ তায়ালা।

২১ থেকে ২৯ নম্বর আয়াত- তৃতীয় রুকুতে মানুষের উদ্দেশে উদাত্ত আহ্বান করা হয়েছে, তার প্রতিপালকের ইবাদত করার জন্য। কেন ইবাদত করতে হবে এর যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। তারপর বলেছে, যদি তোমরা ইবাদাত করতে না চাও, এ কোরআনকে অবিশ্বাস কর, তবে এর মত আরেকটি কোরআন বানিয়ে নিয়ে আসো। আর তোমরা এটি পারবে না। তাই এখনই জাহান্নামের জন্য সতর্ক হয়ে যাও। যারা সতর্ক থাকে এবং ইমানের জীবনযাপন করে তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

৩০ থেকে ৩৯ নম্বর আয়াত- চতুর্থ রুকুতে আদম (আ.) এর সৃষ্টি, ফেরেশতাদের সিজদাহ, ইবলিসের অহংকার এবং আদম ও মা হাওয়ার (আ.) জান্নাত থেকে অবতরণের ঘটনা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, রিসালাতের নির্দেশ অনুসরণের মাধ্যমেই মানবজাতি আবার জান্নাতের আবাস ফিরে পাবে।

৪০ থেকে ১০৩ নম্বর আয়াত- পঞ্চম থেকে ১২তম রুকু পর্যন্ত বনি ইসরাইলদের বিভিন্ন বিষয় নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বারবার বলা হয়েছে, তোমাদের কিতাবের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কিতাব ও এ নবীর ওপর ইমান আন। বনি ইসরাইলের ওপর আল্লাহ তায়ালা কী কী অনুগ্রহ করেছেন, বিনিময়ে তারা কত জঘন্য নাফরমানি করেছে এসব ঘটনাও বলা হয়েছে বিস্তারিতভাবে।

বিশেষ করে মুসা (আ.) এর অনুপস্থিতিতে গরু-পূজা, তাদেরকে ক্ষমার শর্ত দেয়ার পরও সে শর্ত ভঙ্গ করা, জান্নাতি খাবার ‘মান্না ও সালওয়া’ খেতে অনীহা প্রকাশ করা, সম্পত্তির জন্য একজন আরেকজনকে হত্যা করলে তা জানানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা হত্যাকৃত ব্যক্তির গায়ে গরুর-মাংশ স্পর্শের নিদেশ দেন, ওই নির্দেশের বিপরীতে বনি ইসরাইল কেমন গোড়ামী ও প্যাঁচের পথ বেছে নেয়- এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এ বৃহৎ অংশে।

১০৪ থেকে ১১৯ নম্বর আয়াত- ১৩ থেকে ১৪তম রুকুতে উম্মতে মুহাম্মাদিকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, তোমরা বনি ইসরাইলের মত অকৃতজ্ঞ হয়ো না। তোমরা রাসুলের সহযোগী হও। পূর্ববর্তী উম্মতরা যেমন ধর্মীয় কোন্দলে নিজেরা শতধা বিভক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে তোমরা সেরকম হয়ো না। এসব হেদায়াতের পর আবার বনি ইসরাইলকে উদ্দেশ করে তাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বার হজরত ইবরাহিম (আ.) এর দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে। কাবা ঘর নির্মানের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইবরাহিমি ধর্ম ও মুহাম্মদি ধর্ম একই ধর্ম। এর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কেবল নির্বোধ ছাড়া আর কেউই এ ধর্ম থেকে মুখ ফেরাতে পারে না। ১২২ থেকে ১৪১ নম্বর আয়াত তথা পনের ও ১৬তম রুকুতে এসব কথা বলা হয়েছে।

১৪২ থেকে ১৫২ নম্বর আয়াত- ১৭ ও ১৮তম রুকুতে কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশনা, কারণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা কেবলা পরিবর্তনের ঘটনাকে মেনে নিতে পারেনি কিংবা আল্লাহ কেন আগের কেবলা বদলে দিলেন প্রশ্ন করে- তারা আসলে নির্বোধ ছাড়া কিছুই নয়।

কারণ, পূর্ব-পশ্চিম প্রতিটি দিকই আল্লাহর জন্য। কেবলা পরিবর্তন করা হয়েছে কে আল্লাহর হুকুম মানে নবীর অনুসরণ করে আর কে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য।

১৯তম রুকু- ১৫৩ থেকে ১৬৩ নম্বর আয়াতে বিশ্বাসীদের গুণাবলী, তাদের জীবনে আসা পরীক্ষার ধরণ সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। সাফা মারওয়া সায়ীর কথা বলা হয়েছে। সত্য গোপনকারীদের প্রতি কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহর নাজিল করা সত্য যে গোপন করে, তার ওপর আল্লাহ এবং সব ন্যায়বান ভালো মানুষের অভিশাপ ঝড়বে। তবে কেউ তাওবা করে সত্য মেনে নিলে, তার জন্য ক্ষমা এবং প্রতিদান হিসেবে অনাবিল সুন্দর জান্নাত তাকে দেয়া হবে।

২০ ও ২১তম রুকু- ১৬৪ থেকে ১৭৬ নম্বর আয়াতে মানুষের জন্য সাধারণ হেদায়াত বা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেমন, হালাল খাওয়া, হারাম বর্জন করা, সত্য গোপন না করা, এসব নির্দেশ না মানলে কঠিন শাস্তি রয়েছে ইত্যাদি। বিশতম রুকুর শুরুতে তাওহিদের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার সৃষ্টিরাজির উদাহরণ টেনেছেন। তারপর বড় অবাক হয়ে আল্লাহ বলছেন, আল্লাহর অস্তিত্বের এত উজ্জল থেকে উজ্জলতম নির্দশন থাকা সত্ত্বেও মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে কাল্পনিক ইলাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। বড়ই আশ্চর্য মানুষের চরিত্র!

২২তম রুকু- ১৭৭ থেক ১৮২ নম্বর আয়াতে ইমানের তাৎপর্য ও সৎকাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। কিসাসের বিধান এবং কিসাসের মাঝেই যে জীবন নিহিত রয়েছে- সে যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আরো আলোচনা হয়েছে মৃত্যুপথযাত্রীর অসিয়তের বিধান সম্পর্কে।

২৩ ও ১৪তম রুকু- ১৮৩ থেকে ১৯৬ নম্বর আয়াতে রোজার বিধান, সফর ও মুসাফিরের রোজা, অসুস্থ ব্যক্তির রোজা, চাঁদ দেখা ও রমজান মাসেই কোরআন নাজিল হয়েছে- এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে। ১৯০ থেকে ১৯৬ নম্বর আয়াতে যুদ্ধের নির্দেশ ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে মুসলিম বাহিনীকে।

১৯৭ থেকে ২০৩ নম্বর আয়াত তথা পঁচিশতম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত হজের বিধিবিধান বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কখন হজের মৌসুম শুরু হয়? হজের সময় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না এবং হজের শেষে করণীয় কী তা বলা হয়েছে এ রুকুতে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রোজার উপকারিতা ও স্বাস্থ্যকর খাবার


রমজান মুসলিম বিশ্ব ও উম্মাহের জন্য ফজিলতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। পবিত্র হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, নবীজী (সা.) ইফতার করতেন, তাজা খেজুর দিয়ে, যদি তাজা খেজুর না পাওয়া যেত, তবে শুকনো খেজুর দিয়ে যদি তাও না পাওয়া যেত তবে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিতেন; এরপর তিনি মাগরিবের নামাজ পড়তেন।

আজ আমরা রমজানকে বানিয়েছি খাদ্য উৎসবের মাস। শুধু তাই নয়, আত্মশুদ্ধির এ মাসে আমরা যেন ভোজন দাসে পরিণত হয়েছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি আর নামি হোটেলে সেহরি খাওয়া ইত্যাদি যেন একটা স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে।

ধর্মাচারের এসব অবিদ্যার কারণে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি রমজানের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক উপকার থেকে। সেই সঙ্গে আমরা নিজের শরীরকে ঠেলে দিচ্ছি ভয়ংকর সব শারীরিক ঝুঁকির দিকে।

আমাদের দেহের অ্যান্টারিওর গ্ল্যান্ড থেকে ‘আই জি এফ-১’ নামে এক ধরনের গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয় যার কাজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোষ তৈরি করে দেহকে বাড়ন্ত রাখা।

এ কোষ পুরনো কোষ মেরামত ও ক্ষয়পূরণের চেয়ে নতুন কোষ তৈরিতেই বেশি সক্রিয়। আমরা যত বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার খাই তত বেশি ‘আই জি এফ-১’ হরমোন আমাদের শরীরে তৈরি হবে।

কোনো বিরতি বা বিশ্রাম ছাড়া শুধু নতুন কোষ তৈরিই নয় এ সুযোগে দেহে বাসা বাঁধতেও পারে ডায়াবেটিস কিংবা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টোন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে ‘আইজিএফ-১’-এর একটা যোগসূত্র আছে।

ভিন্ন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় ‘আইজিএফ-১’ হরমোন আছে এমন একজন ব্যক্তিকে মাত্র ৩ দিন উপবাস রেখে সেই ‘আইজিএফ-১’ হরমোনের মাত্রা কমিয়ে ফেলা হয়েছে, যে ব্যক্তির কিনা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি খুবই প্রবল ছিল।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রমজানের উপকারিতা

* রোজা বা উপবাস ডায়েটিংয়ের চায়েও ভালো ফল দেয়।

* রোজা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

* রোজা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন : স্টোন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখে।

* রোজা পেপটিক আলসারের উপসর্গ সাড়ায়।

* আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের মতো বয়সজনিত রোগগুলো থেকে বাঁচাতে পারে।

* রোজা বিভিন্ন নেশাদ্রব্য থেকে দূরে রাখে।

* রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

* শরীর ও মনকে শান্ত রাখে।

এসব উপকার পেতে হলে রোজা সঠিক খাদ্যাভ্যাসে রাখতে হবে। রমজান মাসে খাবারের সময়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবর্তন হয় খাবারের মেন্যুতেও।

রোজায় সাধারণত ৩টি সময়ের সমন্বয়ে আমরা খাবার খেয়ে থাকি- ইফতার, রাতের খাবার, সেহরি। পুরোরোজায় সুস্থ থাকতে খেয়াল রাখতে হবে সেই খাবার যেন হয় সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর।

রমজান মাস এলেই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবারের প্রবণতা বেড়ে যায়। খাদ্য সংযমের এই মাসে সবাই আমরা নেমে পড়ি এক ধরনের আহারের প্রতিযোগিতায়।

সারা দিন রোজা রেখে পাকস্থলি খুব ক্ষুধার্ত ও দুর্বল থাকে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার খেয়ে হতে পারে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, আলসার, অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যাসহ নানারকম শারীরিক জটিলতা। রোজায় খুব দামি খাবার খেতে হবে তা নয় বরং সুষম ও সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার খেলেই খুব সহজেই সুস্থ থাকা যায়।

ইফতার

ইফতারের মেন্যু এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে তা যেন পরিবারের সবার উপযোগী হয়। মেন্যুতে রাখা যেতে পারে- খেজুর, কারণ খেজুরের সুক্রোজ পানির সঙ্গে মিশে তাৎক্ষণিক প্রাণ শক্তি দেয়।

এর সঙ্গে যে কোনো ন্যাচারাল অ্যানার্জি ড্রিংক যেমন- তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, লাচ্ছি, তোকমার শরবত, আখের গুড়ের শরবত, লেবুর শরবত ইত্যাদি।

শরবত তৈরিতে মিছড়ি, গুড়, মধু ও ব্রাউন সুগার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিনির পরিমাণ কম দেয়াই শ্রেয়। যে কোনো মৌসুমি ফল বা এসব ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট রাখতে পারেন, যা সারা দিন রোজা রাখার পর দেহে ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ করবে।

এছাড়া সবজি দিয়ে যে কোনো রেসিপি যেমন- সবজি স্যান্ডউইচ, সবজি পাকোরা, সবজি নুডলস, সবজি রোল, সবজি স্যুপ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। পুরোরোজার ৩০টি দিন ডালের বড়া না খেয়ে মাঝে মাঝে খেতে পারেন কারণ ডাল শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়িয়ে ফেলতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে রান্নায় তেলের ব্যবহার যেন কম হয়। তেলের রং কালচে হলে, তেল বদলানো ভালো।

বারবার একই তেলে ভাজা হলে তেল কালচে, আঠালো হয় এবং এর স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়। ইফতারির অতি পরিচিত খাবার ছোলা, এটি প্রোটিনেরও ভালো উৎস তবে মসলাযুক্ত ভুনা ছোলা না খেয়ে কাঁচা ছোলা অথবা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো ইত্যাদি মিলিয়ে খেলে তা স্বাস্থ্যকর এবং একইসঙ্গে আপনি প্রোটিন এবং ফাইবার পেয়ে থাকবেন।

ইফতারিতে জিলাপি, বুন্দিয়ার পরিবর্তে ঘরে তৈরি মিষ্টির যে কোন রেসিপি যেমন- ফালুদা, কাস্টার্ড, পুডিং, ফিরনি হতে পারে। দই চিড়া ইফতারিতে রাখা যায় যা কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম এর ভালো উৎস।

রাতের খাবার

রোজার সময় ইফতারির পর অনেকেই ঠিক সময়ে রাতের খাবার পরিমান মতো খান না অথবা অনেকেই ইফতারের পর রাতের খাবার বাদ দিয়েই সেহরিতে চলে যান।

এ দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রোজার সময় ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে বলা হয়ে থাকে পরিমিত পুষ্টিকর খাবার বারে বারে গ্রহণ করা স্বাস্থ্যসম্মত। ঠিক সেই বিষয়টিই রোজার সময় এ ৩টি সময়ের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হবে। তারাবি নামাজের পর আপনি যেন ক্লান্তিবোধ না করেন এবং একটা ভালো ঘুম হয় সেজন্য রাতের খাবার খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে।

সেই খাবার হতে হবে কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিনস এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ খাবার। যেমন- সামান্য পরিমাণে ভাত, শাকসবজি, মাছ/মুরগির মাংস ১ টুকরো।

গরু বা খাসির মাংস না খাওয়াই শ্রেয়, দুধের সঙ্গে অল্প পরিমাণে ভাত বা ওটস হতে পারে, রুটি সবজি, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি। কোমল পানীয় বাদ দিয়ে এ ৩টি সময় মিলে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

সাহরি

সারা দিন খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই বলেই অনেকে সাহরিতে খাবারের পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আবার অনেকেই কিছুই না খেয়ে অথবা সামান্য কিছু একটা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন।

এর কোনোটাই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কারণ, পরের দিনে আপনার কতটুকু প্রাণশক্তি থাকবে, পুরোরোজায় আপনার স্বাস্থ্য কতটুকু ভালো থাকবে তার অনেকটা নির্ভর করে এ সাহরির ওপর।

ফজরের নামাজের কিছুটা আগে যদি আপনি সাহরিটা সেরে ফেলেন তবে, আপনি সারা দিন বেশ কর্মক্ষম থাকবেন এবং বার বার ক্ষিদে, তৃষ্ণা পাবে না। তবে সাহরির খাবার কি রকম হবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাহরিতে এমন কিছু খাবার নির্বাচন করতে হবে যা সহজেই হজম করা যায়। যেমন- ভাত খুবই সহজপাচ্য, এর সঙ্গে মাছ, সবজি নিতে পারেন। এছাড়া চিড়া, দই, কলা, আম, দুধ-ভাত সাহরির জন্য বেশ উপযোগী।

তবে কম তেল যুক্ত খাবার এবং চিনির ব্যবহার কম রাখাই ভালো। অনেকে সাহরিতে চা/কফি খেয়ে থাকেন। এ রোজায় সেই অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। এ চা/কফি সাময়িক সময়ের জন্য আপনাকে সতেজ করলেও পরবর্তী দিনে আপনার পানির তৃষ্ণা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে।

রোজায় ব্যায়াম

রোজার সময় হাঁটা ও ব্যায়ামের সময়সূচি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। সারা দিন রোজা রেখে সাঁতার কাটার মতো কর্মকাণ্ডও বজায় রাখতে পারবেন তবে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম বা পানিশূন্যতার সৃষ্টি হলে তা থেকে বিরত থাকাই ভালো। এছাড়া হালকা ব্যায়াম, মেডিটেশন ও ইয়োগা করতে পারেন।

যদি মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগে তবে অবশ্যই হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের গতি কমিয়ে অথবা বন্ধ করে দিতে পারেন।

লেখক : কনসালটেন্ট (পথ্য ও পুষ্টি), আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাহরি ও ইফতারির দোয়া-মাসয়ালা


বছর ঘুরে অফুরন্ত রহমত নিয়ে ফিরে এসেছে মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান।

রমজান আসে আমাদের অন্তর জগৎ প্রস্তুত করতে। যেন সেখানে খোদাভীতি জায়গা করে নিতে পারে। বান্দার মনে যদি একবার খোদার প্রেম বসে যায়, তবেই সে সফল জীবনের চাবিকাঠি হাতে পাবে। রমজানের শুরুর দিনে রোজা সংক্রান্ত জরুরি কিছু বিষয় জেনে নেয়া যাক।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: (তরজমা) হে মুমিন সকল! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, (অন্য বর্ণনায়) ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ পড়ে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারি শরিফ: হাদিস নং ১৯০১)

রোজার নিয়ত

রমজানের রোজার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বে মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, ‘আমি আজ রোজা রাখবো’ অথবা দিনে আনুমানিক ১১টার পূর্বে মনে মনে নিয়ত করবে যে, আমি আজ রোযা রাখলাম। মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, বরং মুস্তাহাব। (রদ্দুল মুহতার: ২/৩৭৭)

রোজার নিয়তের ক্ষেত্রে আরবি ভালভাবে বলতে পারলে ও বুঝলে আরবিতে নিয়ত করা যাবে। অন্যথায় বাংলায় নিয়ত করাই ভালো।

সাহরি ও ইফতার

রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া ও ইফতার করা সুন্নাত। বিশেষ কিছু না পেলে সামান্য খাদ্য বা কেবল পানি পান করলেও সাহরির সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

ইফতার খুরমা কিংবা খেজুর দ্বারা করা সুন্নাত। তা না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। ইফতার আয়োজনে অপচয় বা লোক দেখানো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

ইফতারের দোয়া

ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্বে এ দোয়াটি বেশী বেশী পড়তে হবে

يَا وَا سِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ: ইয়া ওয়াসিয়াল মাগফিরাতি, ইগফিরলী। অর্থঃ হে মহান ক্ষমা দানকারী! আমাকে ক্ষমা করুন। (শু‘আবুল ঈমান: ৩/৪০৭)

بِسْمِ اللهِ وَعَلى بَرَكَةِ اللهِ

বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা বারাকাতিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করবে এবং ইফতারের পর নিম্নের দুটি দোয়া পড়বেঃ

اَللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلي رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়ালা রিযকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি, এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম। (আবূ দাঊদ: ১/৩২২)

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْـتَلَّتِ العُرُوْقُ وَثَبَتَ الاَ جْرُ اِنْ شَاءَ الله تَعَا لى উচ্চারণ: যাহাবাযযমা ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহু তায়ালা।

অর্থঃ পিপাসা দূরিভূত হয়েছে, ধমনীসমূহ সতেজ হয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ রোজার সওয়াব নিশ্চিত হয়েছে। (আবূ দাঊদ: ১/৩২১)

কারো দাওয়াতে ইফতারি করলে মেজবানের উদ্দেশে এই দোয়া পড়বেঃ

اَفْطَرَعندكم الصائمون واكل طعامكم الابرار وصلت عليكم الملئكة

উচ্চারণ: আফতারা ইনদাকুমুস সায়িমুন ওয়া আকালা তাআমুকুমুল আবরার ওয়া সাল্লাত আলাইকুমুল মালাইকা।

অর্থঃ আল্লাহ করুন যেন রোজাদাররা তোমাদের বাড়ীতে রোজার ইফতার করে এবং নেক লোকেরা যেন তোমাদের খানা খায় এবং ফেরেশতারা যেন তোমাদের উপর রহমতের দু‘আ করে। (আসসুনানুল কুবরা, নাসাঈ ৬:৮১)

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সিয়াম সাধনায় মহান আল্লাহকে পাওয়া যায়


বছর ঘুরে অফুরন্ত রহমত নিয়ে ফিরে এসেছে মাগফিরাতের মাস রমজান। হে আল্লাহ! আপনার দরবারে অগণিত শোকরিয়া- আমাদের রমজানের নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন বলে। আমাদের কোরআনের সম্পদ দান করেছেন। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।

প্রিয় পাঠক, অলসতা ও গাফিলতিতে ডুবে থাকলে নিশ্চয়ই আপনি রমজানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়বেন। তাই প্রথমেই আপনাকে সতর্ক করতে চাই রাসূল (সা.)-এর সেই বাণী শুনিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত, যে রমজান পেয়েও নিজেকে শুধরে নিতে পারেনি।’ হ্যাঁ, সায়েম ভাই, রমজান এসেছে আমাদের শুধরে সুন্দর মানুষ বানাতে। খাঁটি মোমিন হিসেবে আল্লাহর বন্ধুর খাতায় নাম লিখিয়ে নিতে।

আমরা যদি ঠিকভাবে সিয়ামব্রত পালন করতে পারি, আশা করি এক মাসের সাধনা শেষে আমাদের কালো জীবনেও আলোর ফুল ফুটবে। বন্দেগির খুশবু ছড়াবে গান্দেগি ভরা জীবনে। সেই সুরই ফুটে উঠেছে কোরআনের এ আয়াতে- ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুসসিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন। ওহে! তোমরা যারা নিজেদের বিশ্বাসী মনে করো, তোমাদের জন্য সিয়ামব্রত আবশ্যক করে দেয়া হয়েছে। তোমাদের আগে যারা মোমিন ছিল, তাদের ওপরও আমি সিয়ামব্রত ফরজ করেছি। আশা করা যায়, সিয়ামব্রত তোমাদের ভেতর জগতকে তাকওয়ার জন্য প্রস্তুত করে দেবে’ (সূরা বাকারাহ : ১৮৩)।

সিয়াম আসে আমার আপনার অন্তর জগৎ প্রস্তুত করতে। যেন সেখানে খোদাভীতি জায়গা করে নিতে পারে। বান্দার মনে যদি একবার খোদার প্রেম বসে যায়, তবেই সে সফল জীবনের চাবিকাঠি হাতে পাবে। দুনিয়া-আখেরাতে সব জায়গায় সে হয়ে উঠবে প্রেমিক মানুষ। প্রেমিক বান্দাই আলোকিত মানুষ, মুত্তাকি মানুষ।

মুত্তাকি হওয়ার জন্য, আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য আত্মায় তাকওয়ার বীজ রোপণ করতে হয়। প্রথম রোজার সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে আমরা আত্মায় তাকওয়ার বীজ বুনেছি। পুরো মাস খোদার প্রেমে ডুবে থেকে এ তাকওয়া বীজের পরিচর্যা করব এক মনে এবং রমজান চলে গেলে তখনও খুব যতেœর সঙ্গে এ তাকওয়া-চারার পরিচর্যা চালিয়ে যাব। এভাবেই আস্তে আস্তে আমরা সফল জীবন, মুত্তাকি জীবনের সন্ধান পাব। সন্ধান পাব ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’র।

রমজানের শুরুতে আল্লাহপাক সায়েমকে ডেকেছেন ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’ বলে। হে প্রেমিক, তুমি যদি পুরোজীবন সিয়ামব্রত তথা তাকওয়া চর্চায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখো, তাহলে একদিন খোদা তোমাকে ডাক দেবেন ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’ বলে। এই যে, ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু’ থেকে ‘ইয়া আইয়্যাতুহান্নাফসুল মুতমাইন্না’ বলে ডাক পাওয়ার সাধনা- এটাই আসলে মোমিনের সিয়ামব্রত পালনের সাধনা।

হায়! সিয়াম আসে সিয়াম যায়, ক’জনই আমরা মোমিন থেকে মুত্তাকি, নফসে আম্মারা থেকে নফসে মুতমাইন্নাওয়ালা প্রেমিক মানুষ হওয়ার সাধনা করি? ক’জনইবা আত্মায় তাকওয়ার বীজ বপন করে জীবনব্যাপী পরিচর্যার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে পারি? হে প্রিয় পাঠক, আজ আপনার আত্মায় যে তাকওয়া বীজ বুনেছি, তা যেন অযতেœ-অবহেলায়, আগাছার আক্রমণে নষ্ট হয়ে না যায়। তাহলে সত্যিই আমার আপনার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউই হবে না।

বলছিলাম, তাকওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার মাস রমজান নিয়ে কথা। অনেকেই মনে করেন, রোজা রাখলেই মানুষ মুত্তাকি হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। রোজা মানুষকে মুত্তাকি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে মাত্র। রোজা হল তাকওয়ার ট্রেনিং। যে যত ভালো ট্রেনিং নেবে, সে তত বেশি মুত্তাকি ও প্রেমিক হওয়ার সুযোগ পাবে। আনুষ্ঠানিক রোজা তো মাত্র এক মাস, কিন্তু মোমিন থেকে প্রেমিক মুত্তাকি হওয়ার সাধনা বারো মাস। এক জীবন এ সাধনা করেই আমাদের পৌঁছতে হবে ‘প্রশান্ত আত্মার প্রশান্তিময় জান্নাতে’। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সিয়ামকে কবুল করুন। আপনি আমাদের দয়া করুন।

লেখক : সাংবাদিক

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here