ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীমুখী সব বাস বন্ধ!

0
186

ঢাকা, নাটোর থেকে রাজশাহী রুটে সকল বাস চলাচল বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ, বগুড়া থেকেও রাজশাহী অভিমুখে বাস ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

ধর্মঘট আহবানকারী শ্রমিকদের দাবি- শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং নাটোর-রাজশাহী বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে নাটোর ও ঢাকা থেকে রাজশাহীমুখী সব রুটে বাস ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তবে কতদিন এই ধর্মঘট চলবে তা তারা জানাতে পারেনি।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আগামীকাল শুক্রবার (৯ নভেম্বর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা রয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করেই আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার ঐক্যফ্রন্টের জনসভা বানচাল করতেই এটা করেছে।’

আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে রাজশাহীমুখী রুটের সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এছাড়া পরীক্ষার্থীসহ অফিসগামী যাত্রীরাও হঠাৎ করে ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন। তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছোট ছোট যানবহনে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

নাটোর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেলে রাজশাহীতে নাটোরের পরিবহন শ্রমিকদের নির্যাতন ও নাটোর বাস মালিক সমিতির সঙ্গে রাজশাহী বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন তারা। অন্য জেলা থেকে সকালে নাটোরে যাত্রীবাহী বাস এলে সেগুলোও আটকে বা ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরো প্রস্তুত নয় ইসি, কিন্তু তফসিল আজ!

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং ইসি সচিবালয়ের দিক থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরো প্রস্তুত না হয়েই আজ ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই মনোনয়নপত্র নিতে পারবেন প্রার্থীরা। কিন্তু তফসিল ঘোষণার দিন যথাসময়ে দেশের সব নির্বাচনি এলাকায় প্রাথমিক নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রয়োজন হয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল। একাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল এখন পর্যন্ত ছাপার কাজই শুরু করতে পারেনি ইসি।

শুধু তা-ই নয়, অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে চলছে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ। সংলাপ ফলপ্রসূভাবে শেষ না হয়ে নির্বাচনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ও সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বিশেষজ্ঞরা। আবার মহাজোটসহ যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি ৮ নভেম্বরই তফসিল ঘোষণার পক্ষে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং ইসি সচিবালয়ের দিক থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরো প্রস্তুত না হয়েই আগামীকাল ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

ইসি সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার পরপরই সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রার্থীরা যাতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য প্রাথমিক নির্বাচনি সামগ্রী সংগ্রহ করতে সব জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা জারি করেছে ইসি সচিবালয়। ৮ নভেম্বর (তফসিল ঘোষণার দিন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি প্রিন্টিং প্রেস থেকে এসব সংগ্রহ করতে বলা হয়।

৬ নভেম্বর, মঙ্গলবার এই নির্দেশনা জারি করেন ইসির সহকারী সচিব (ক্রয় ও মুদ্রণ) সৈয়দ গোলাম রাশেদ। তিনি প্রিয়.কমকে জানান, তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় এ জন্য প্রাথমিক নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তফসিল ঘোষণার দিনই ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধিদের প্রাথমিক নির্বাচনি সামগ্রী সংগ্রহ করতে বলায় ওই দিন সব নির্বাচন কার্যালয়ে তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তাই সব আসনের প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না তফসিলের প্রথম দিন। তবে পরের দিন (৯ নভেম্বর) থেকে সব প্রার্থীই চাইলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে।

প্রাথমিক নির্বাচনি সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ফরম-১ (মনোনয়ন ফরম), ফরম-২০, ফরম-২১, ফরম-২ (জামানত বই), ফরম-৩ (রশিদ বই), ফরম-২২, ২২(ক), ২২(গ), আচরণ বিধিমালা, প্রতীকের পোস্টার ইত্যাদি।

এদিকে একাদশ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল ছাপা এখনো শুরু হয়নি। প্রুফ দেখাসহ বিভিন্ন ধরনের সংশোধন চলছে। তবে খুব দ্রুতই ছাপা শুরু হবে বলেও জানান গোলাম রাশেদ। তবে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আগামীকাল ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার জন্য আমাদের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।’

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ চলছে। সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসি যেন তফসিল ঘোষণা না করে। তফসিল ঘোষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না ইসির। আর বাম গণতান্ত্রিক জোট বলছে, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চলমান তফসিল ইতিবাচক। সংলাপ শেষ হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা পুরো প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিপরীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট (সরকারের সঙ্গে সংলাপে সন্তোষ প্রকাশ করে জোটটি) বলছে, তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার ইসির। বিনা কারণে তফসিল পেছানো ঠিক হবে না।

যদিও দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় আসার সুযোগ দেওয়া ইসির উচিত বলে সম্প্রতি প্রিয়.কমের কাছে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বরং রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপ দেওয়া উচিত, তারা যেন সমাধান করে। নির্বাচন কমিশনের বাধা দেওয়া উচিত না। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সমঝোতা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সহজ হবে তাদের জন্য।’

সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সুযোগ না দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে ইসি। তফসিল ঘোষণার আগের দিন সন্ধ্যায় (৭ নভেম্বর) ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, সংলাপ শেষ হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা করার কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তফসিলের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ায় এ সুযোগ থেকে যাবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে ৩০ অক্টোবর থেকে। ক্ষণ গণনা শুরুর ৯ দিনের মাথায় তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি। যদিও ১৯৯৬ সালের পর প্রতিটি নির্বাচনে গড়ে প্রায় এক মাস করে সময় নিলেও এবার অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

সুত্রঃ প্রিয় ডট কম

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here