রাবিতে ছাত্রজোট ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

0
79

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাণিজ্যিক ধারার ‘দহন’ সিনেমার প্রদর্শনীর প্রতিবাদ করায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

শনিবার (০১ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। হামলার ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একজন সাংবাদিকও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন।

আহতরা হলেন- রাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মহব্বত হাসেন মিলন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মিঠুন চন্দ্র মোহন্ত, ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক ইসরাফিল, কর্মী রাশেদ রিমন, কর্মী আশরাফুল আলম। এদের মধ্যে মিঠুনের হাত ভেঙ্গে গেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মারধরের শিকার সাংবাদিক হলেন- আলী ইউনুস খান হৃদয়। তিনি খোলা কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

অপরদিকে মারধরকারীরা হলেনÑ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুস্ময়, ইমরান খান নাহিদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক ফেরদৌস মাহমুদ শ্রাবণ, কর্মী শেখ সিয়াম, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজাসহ বহিরাগত বেশ কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘দহন’ সিনেমাটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর প্রতিবাদে দুপুর ১২টা থেকেই রাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা মিলনায়তনের সামনে অবস্থান নেন।

প্রদর্শনী শুরুর মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন।

তবে আন্দোলন অব্যাহত রাখলে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য শাকিলা খাতুনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন প্রক্টর। পরে প্রক্টর সিনেমার দর্শকদের

মিলনায়তনে প্রবেশ করতে বললে আন্দোলনকারীরা দর্শকদের বাধা দেন। এ সময় প্রক্টরের সামনেই আন্দোলনকারী কয়েকজনের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতা সুস্ময়, নাহিদ, ফেরদৌস, শ্রাবণসহ বহিরাগত কয়েকজন।

তারা বিক্ষোভকারীদের এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে ছাত্রজোট নেতা মিঠুনকে রাস্তার ওপর ফেলে সুস্ময় এলোপাতাড়ি লাথি দিতে থাকে এবং পা দিয়ে মাথা রাস্তার ওপর চেপে ধরে রাখে। সাংবাদিক ইউনুস তাদেরকে আটকাতে গেলে সুস্ময় তার কোমড়ে লাথি দেন। ঘটনাস্থলে প্রক্টর, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা এগিয়ে আসেননি।

ছাত্রজোটের কর্মী শাকিলা খাতুন বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নির্দেশেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রক্টর সেখানে উপস্থিত থাকলেও সে এগিয়ে আসেননি। তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

সাংবাদিক আলী ইউনুস খান হৃদয় বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাদের মারধর করতে দেখে, আমি ছবি তুলতে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকলেও ছাত্রলীগ নেতা সাবরুন জামিল সুস্ময় আমাকে লাথি মারে।’

জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ওই সময় আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের গায়ে হাত তুলেছিলো। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে আটকাতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’

তবে ছাত্রজোটের কোনো নেতাকর্মী প্রক্টরকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেনি বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলনকারীদের বোঝাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক মেয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রক্টরের উপস্থিতিতেই মারধরের বিষয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।’

প্রসঙ্গত, জাজ মাল্টিমিডিয়া দহন সিনেমাটি প্রদর্শনীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনটি ভাড়া নেয় জাজ। আগামী ১-৬ ডিসেম্বর সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেইজে প্রচারণা শুরু করে।

বিষয়টি জানার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ ৭ জন ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীকে গ্রেফতারের অভিযোগ বিএনপির

দেশে সুষ্ঠু পরিবেশের ন্যূনতম পরিবেশ নেই দাবি করে বিএনপি বলেছে, তাদের সাত সম্ভাব্য প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের জামিন হচ্ছে না। বিচারিক আদালত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের সাজানো পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন দলীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একথা বলেন।

বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের কনফারেন্সে বৈঠকটি শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা ৬ দফার একটি লিখিত দাবিও উপস্থাপন করেন।

মওদুদ বলেন, সারাদেশে এমপি-মন্ত্রীরা পদত্যাগ না করে প্রার্থী হওয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে- এমন বলার ন্যূনতম সুযোগ নেই। প্রতিদিন রাতের বেলায় অভিযানের নামে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আটক করছে। পুলিশি হয়রানির কারণে তারা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। ৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচনকালীন প্রশাসনের রদবদল করা হলেও এবার তা না করায় সরকারের আনুগত্য প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা কোনোভাবেই সম্ভব না।

তিনি বলেন, ডিসি এসপি ইউএনও ও ওসিদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু তারা সরকারের আনুগত্য বলেই তাদের এসব পদে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাদের স্বাভাবিক কারণেই বদলি করা হলে এতে করে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। তাদের মনে হবে এবার বুঝি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এই পরিবেশ যদি সৃষ্টি না হয়, তাহলে নির্বাচন একটি দুরূহ ব্যাপারে পরিণত হবে।

মওদুদ বলেন, সারাদেশে যেভাবে পুলিশি অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার হয়রানি করা হচ্ছে এ অবস্থা বন্ধ না হলে নির্বাচনের ন্যূনতম সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না। এজন্য প্রয়োজন ডিসি, এসপি, ইউএনও ওসিদের বদলি করা হলে কিছুটা হলেও পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এটা করা না হলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হবে। আমরা চাই না নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হোক।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই নির্বাচন জাতির জন্য শেষ পরীক্ষা। একেবারেই শেষ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যদি আমরা উত্তীর্ণ না হই, তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারব বলে মনে হয় না। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করবেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে দাবি মেনে নেবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু পরিবেশের ন্যূনতম কোনো পরিবেশ নেই। সরকার যেভাবে চাচ্ছে প্রশাসন সেইভাবে নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচন কমিশন তা রোধ করতে পারছেন না। এ পর্যন্ত আমাদের সাত সম্ভাব্য প্রার্থীকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের জামিন হচ্ছে না। বিচারিক আদালত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের সাজানো পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন দলীয় ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময়ে জামিন দিলেও বিচারকি আদালত নানা অজুহাতে তা আটকে রাখছে। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কমিশন আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তারা এ ব্যাপারে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ছাড়াও, নির্বাচন কমিশন কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুশফিকুর রহমান ও বিজন কান্তি সরকার।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বেড়াতে গেছে নির্বাচনের আচরণবিধিঃ ড. শাহদীন মালিক

ড. শাহদীন মালিক

হাইকোর্টে দু-তিনজন নিয়মিত বই বিক্রেতা আছেন। প্রায় সপ্তাহে একবার আইনের নতুন বই নিয়ে আইনজীবীদের রুমে রুমে যান। ‘স্যার, বইটা গতকালই বেরিয়েছে। দাম ছয় শ টাকা, কিন্তু আপনার জন্য চার শ টাকা।’ দুই শ টাকা বাঁচানোর আনন্দে কিনে ফেলি। তাঁদের বদৌলতে আইনি বইয়ের খোঁজে দোকানে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। দু-চার শ টাকার বই হলে সহজেই কিনে ফেলি। আর দাম যদি হাঁকে দশ হাজার টাকা, তখন ঢোঁক গিলে আমতা-আমতা করে বলি, দুই সপ্তাহ পরে এসো। বলা তো যায় না, এই দুই সপ্তাহে বড় মক্কেল পেয়েও যেতে পারি।

নির্বাচন কমিশনের ছাপানো ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল’-এর দুইটা কপি কিনে ফেলেছি গত সপ্তাহে। বইটিতে দাম লেখা নেই। ধরে নিচ্ছি, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট হরেক ধরনের কর্মচারী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্টসহ সবারই কাজে লাগবে। কিছু কপি নিশ্চয়ই বিলি করা হবে বিনে পয়সায়। এই সময়ের জন্য ম্যানুয়েলের ২৭৮-২৮৮ পৃষ্ঠায় ছাপানো ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এক অর্থে সাদামাটা বিধিমালা। নির্বাচনের আগে অর্থাৎ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের আগের দিন। অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দল, মনোনয়নপ্রত্যাশী, প্রার্থী, সমর্থক এবং অন্যান্য ব্যক্তি কে কী করতে পারবেন বা পারবেন না, তার বেশ বিস্তারিত বৃত্তান্ত আছে এই বিধিমালার মোট ১৯টি বিধিতে। কিছু ফিরিস্তি অনেকেরই জানা হয়ে গেছে।

উক্ত বিধিমালার ৮ বিধি অনুযায়ী কোনো প্রকার ট্রাক, বাস কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনোরূপ শোডাউন করা যাবে না এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও সকল প্রকার মিছিল বা শোডাউন করা নিষেধ। বিধি ১২তে বলা আছে, ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের শুধু তিন সপ্তাহ আগে থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা যাবে। অর্থাৎ আজ ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষেধ। কিন্তু পত্রপত্রিকায় খবর দেখছি, কিছু কিছু জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে শোডাউন করা হয়েছে, কোথাও কোথাও জোরেশেরে নির্বাচনী প্রচারণামূলক কাজ শুরু হয়ে গেছে। যেমন প্রথম আলো ৩০ নভেম্বরের কাগজে ৫ পৃষ্ঠায় একটা খবরের শিরোনাম হলো ‘সাংসদ এনামুলের আচরণে বিধি মানার লক্ষণ নেই’।

অন্যদিকে এই খবরও দেখলাম যে বিধিমালার কোনো লঙ্ঘনই সিইসির নজরে আসেনি। তাই ভাবছি, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালাটা দেশের বাইরে বেড়াতে চলে গেছে কি না। বিধিমালা বেড়াতে গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন লাটে উঠতে পারে। এখন থেকেই এই আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন কঠিনভাবে দমন না করলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়তে থাকবে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন এখন থেকেই কঠোর না হলে ১০ দিন পরে অনেক দেরি হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা এবং বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন অনেক বড় বড় নেতা অনেকবার।

এই বিধিমালা লঙ্ঘনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিধি ১৭(৪) এ ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ভালো ব্যাপার হলো, নির্বাচন কমিশন ২৫ নভেম্বর একটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সহকারী জজ ইত্যাদি) সমন্বয়ে মোট ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকাও এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নির্বাচনী তদন্ত কমিটির তালিকা শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ মোটেও যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে পত্রপত্রিকায় ফলাও করে বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে জানাতে হবে। দরকার হলে কুমিল্লা জেলার নির্বাচন তদন্ত কমিটির নাম-ঠিকানা কুমিল্লার সংবাদপত্রেও বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে হবে, যাতে আচরণবিধির লঙ্ঘন ঘটলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জানতে পারেন, তিনি অভিযোগ নিয়ে কোথায় যাবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১ক ধারায় বলা আছে যে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিকে তদন্ত শেষ করতে হবে তিন দিনের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্বাচন ম্যানুয়েলটি ভালো হয়েছে। অবিলম্বে অন্তত ১০টি কপি দেশের ৬৪টি জেলার বার লাইব্রেরিতে পাঠাতে হবে।

মোদ্দাকথা, নির্বাচন কমিশন চোখ-কান বন্ধ রেখে আচরণ বিধিমালাকে এখন বেড়াতে পাঠিয়ে দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিধিমালা, নির্বাচনী তদন্ত কমিটি আনুষঙ্গিক ব্যাপারে প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আজ থেকেই নিতে হবে। এর দায়িত্ব শুধু এবং একমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপর।

লেখক ড. শাহদীন মালিক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইনের শিক্ষক।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ফিরে দেখাঃ আওয়ামী লীগ এমপি-মন্ত্রীদের যত অপকর্ম

টানা ১০ বছরের ক্ষমতার শেষ মুহুর্ত অতিক্রম করছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দুর্নীতি, লুটপাট আর অপকর্মে বিগত সব সরকারকে হার মানিয়েছে তারা। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আলোচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অসংখ্য শীর্ষস্থানীয় নেতা। দলের একজন এমপি বা মন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের রেশ না কাটতেই অন্য একজন একই ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। এরকম আলোচিত কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হল অ্যানালাইসিস বিডির পাঠকদের জন্য।

শাজাহান খান:
নৌ পরিবহন সেক্টরে দুর্নীতি, পরিবহন শ্রমিকদের দিয়ে নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্রমূলক পরিবহন ধর্মঘট, একাধিকবার ধর্ম অবমাননা ও তার উপর মুসল্লিদের জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়েই আলোচিত ছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা অপকর্মে আলোচিত এই মন্ত্রী।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী:
ধর্ম ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে করা মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য গত দুই বছরে সরকারকে সব থেকে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনার জের ধরে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। পরে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তিনি নিজেই সংসদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ঘটনার জের ধরে লতিফ সিদ্দিকীকে জেলেও যেতে হয়।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন:
গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। কথা না শোনায় পিস্তল দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের পায়ে গুলি করেন। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর এই সংসদ সদস্যের নামে মামলা দায়ের করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সংসদ সদস্য গ্রেফতারও হন। পরে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার শর্তে মাস খানেক পর মুক্তি পান তিনি। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে তার নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। পরে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় স্থানীয় জাপা নেতা আব্দুল কাদিরকে।

এমপি আবদুল লতিফ:
চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গার এমপি আবদুল লতিফ কম্পিউটার প্রোগ্রামের ফটোশপের মাধ্যমে ‘নিজের শরীরের অংশের’ সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল লাগিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল খোদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

আমানুর রহমান খান রানা:

জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে টাঙ্গাইল ৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বিরুদ্ধে। নিজ দলের নেতাকে হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলছে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া:
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় নেপথ্যে ভূমিকা পালনের অভিযোগ ওঠে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপির বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তার মেয়ের জামাই লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই সেভেন মার্ডারের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও এ ঘটনায় দলের ভেতরে এবং সরকারে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এছাড়া জরুরি অবস্থার সরকারের সময়কালে দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালতে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ১৩ বছরের সাজা বহাল থাকে। পরে অবশ্য আপিল বিভাগ থেকে ওই রায় স্থগিত করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তার ছেলে রনি চৌধুরীর তিনটি ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়া গেলে আবারও আলোচনায় উঠে আসেন মায়া।

ওবায়দুল কাদের:
সড়ক পরিবহন সেক্টরের অনিয়ম দেখতে রাস্তাঘাটে নেমে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসা ওবায়দুল কাদের সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন তার ‘কাউয়া’ তত্ত্বের কারণে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চুমু প্রসঙ্গ, বিরোধীদল প্রসঙ্গে নানা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনার তুঙ্গে থাকেন ওবায়দুল কাদের।

হাছান মাহমুদ:
জলবায়ু তহবিল লোপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। যেকোনো ঘটনায় জামায়াত বিএনপি জামায়াতকে হাস্যকরভাবে জড়িয়ে বরাবরই খ্যাতিলাভ করেছেন আওয়ামী লীগের অঘোষিত মুখপাত্রখ্যাত হাছান মাহমুদ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার জন্যও বিএনপি জামায়াতকে অভিযুক্ত করে পুরো দেশবাসীর হাসির পাত্র হন তিনি।

মাহবুবুল আলম হানিফ:
কথায় কথায় জামায়াত বিএনপিকে দোষারোপ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নির্বাচনী হলফনামায় অভাবনীয় আয়ের উৎস মাছ চাষ দেখিয়ে আলোচনায় এসেছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম:
বিরোধী দলকে হুমকি ধামকি দিয়ে বিখ্যাত নাসিম তার রাগের কারণে পাগলা নাসিম বলেও পরিচিত। স্বাস্থখাতে দুর্নীতি অনিয়ম ও সম্প্রতি তার ছেলের আমেরিকায় বাড়ি বানানোর খবরে আলোড়ন তুলেছে।

ম খা আলমগীর:
রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় “বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীরা পিলার ধরে নাড়াচাড়া করেছে” কথা বলে ভাইরাল হন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর। সম্প্রতি ফার্মার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ:
সৃজনশীল পরীক্ষা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস ও সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচিত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ ম‌তিউর রহমান:
হজ্জ ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্নীতি, অনিয়ম, ছেলে ও আত্মীয়দের খুনখারাবিসহ বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হন ধর্মমন্ত্রী ম‌তিউর রহমান।

সাহারা খাতুন:
বেপরোয়া মন্তব্যসহ নানা কাজের জন্য আলোচিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। ২০১২ সালে সাগর রুনী হত্যার পর ৪৮ ঘন্টায় আসামিকে ধরার কথা বললে আজও শেষ হয়নি সেই তদন্ত প্রতিবেদন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত:
বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কথায় কথায় রাবিশ, বোগাশ, ননসেন্সসহ বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সরকারকে কয়েক দফায় বিব্রত হতে হয়েছে। এছাড়াও শেয়ারবাজার ধস, ফটকাতত্ত্ব ও জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে টালবাহানা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ও সেশন ফি’র ওপরে ভ্যাট আরোপ করেও তুমুল সমালোচিত হন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন:
ভয়ভীতি দেখিয়ে হিন্দুদের সম্পত্তি কম দামে কেনার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে। এছাড়াও পারিবারিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে রাজাকার হিসেবেও তার কুখ্যাতি রয়েছে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত:
রেলের দুর্নীতি, টাকার বস্তাসহ তার পিএস আটকের ঘটনাসহ নানা বিতর্কিত ও ব্যাঙাত্মক মন্তব্যের কারণে আলোচনায় থাকতেন প্রয়াত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ডা. দীপু মনি:
হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন কারণে অকারণে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ সফরের রেকর্ড ও দেশের তুলনায় বিদেশে বেশি থাকায় খবরের শিরোনাম হন দীপু মনি।

মতিয়া চৌধুরী:
শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ডুগডুগি বাজানোর মন্তব্যের কারণে বিখ্যাত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম:
খাদ্র ও বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, আমদানিতে অনিয়ম ও পঁচা গম ক্রয়ের ঘটনায় ব্যপকভাবে সমালোচিত হন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়:
সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি ও অস্ত্রসহ উত্তরার একটি বাড়িতে হামলা চালাতে গিয়ে সমালোচিত হন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু:
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যের জমি দখল ও লাগামছাড়া অপকর্মের জন্য মন্ত্রী নিজ এলাকার দলের লোকদের থেকেও এখন বিচ্ছিন্ন। স্কুল বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ রাজপথে দাঁড়িয়ে রেখে ভূমিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলম আলোচনায় আসেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক:
দুর্নীতি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ভিসির বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে নানকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সমর্থকদের ও নানক সমর্থকদের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। এসব কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি বলেও বলা হচ্ছে।

জুনায়েদ আহমদে পলক:
নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সর্বকনিষ্ট এমপি বলে পরিচিত জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে।

তারানা হালিম:
অকারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন তারানা হালিম।

এমপি বদি:
ইয়াবা কারবারের অভিযোগে বহুল বিতর্কিত কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি। দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার মামলায় সাজাও খেটেছেন।

নিজাম উদ্দিন হাজারী:
এক সময়কার ‘কেউটে সন্ত্রাসী’ থেকে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য হন নিজাম উদ্দিন হাজারী। অস্ত্র মামলায় জেল খেটে বের হয়ে রাতারাতি বদলে নেন নিজেকে। ফেনীর এক সময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী জয়নাল হাজারীর হাত ধরে রাজনীতির মাঠে আসেন। এরপর ফেনীর নিয়ন্ত্রণ নেন নিজের হাতে।

চিফ হুইপ আসম ফিরোজ:
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আ স ম ফিরোজ সরকারিভাবে তাঁর নামে একটি বাংলো ও একটি অফিস থাকার পরও সংসদ সদস্য ভবনে তিনি আরও সাতটি বাসা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

এছাড়াও পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল, আসাদুজ্জামান খান কামাল, পটুয়াখালী-৪ আসনের মাহবুবুর রহমান, পিরোজপুর-১ আসনের একেএমএ আউয়াল, ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস মোল্লা, দিনাজপুর-২ আসনের তাহজিব আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী-৩ আসনের গোলাম মোস্তফা, খুলনা-৬ আসনের অ্যাডভোকেট নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন এমপি বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে বিতর্কিত হন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচন: যে রায়ের পর নড়েচেড়ে বসেছে আওয়ামী লীগের সরকার

বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে যখন পাল্টাপাল্টি যুক্তি দেয়া হচ্ছে তখন হাইকোর্টের নতুন একটি রায়ে সরকার নড়েচড়ে বসেছে।

হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার বিএনপির একজন প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সাজা স্থগিত করার পর সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আগামীকালই আপিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, আদালত বন্ধ থাকার পরেও শনিবার চেম্বার জজ আদালতে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ২রা ডিসেম্বর, রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই-এর জন্যে দিন নির্ধারিত থাকার কারণে তারা আর দেরি করতে চান না।‘যদি এই আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি নির্বাচন করেন তাহলে সেটা সংবিধানের পরিপন্থী হবে,’ বলেন মাহবুবে আলম।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বিএনপির নেতারা আশা করছেন, তাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

সাবিরা সুলতানার ব্যাপারে হাইকোর্টে দেয়া সবশেষ রায়ের পর অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেয়ার ব্যাপারে এই রায়টি নতুন পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’

‘এমনকি মুক্তিলাভের পরেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে,’ বলেন আলম।

সাবিরা সুলতানার মামলা

সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এক মামলায় নিম্ন আদালত বিএনপির নেত্রী সাবিরা সুলতানাকে তিন বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাবিরা সুলতানা তখন এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।

এরপর জামিনে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্যে তিনি বিরোধীদল বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। দলটি তাকে যশোর ২ আসনে মনোনয়নও দিয়েছে। তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, তখন প্রথম আলো পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় যাতে বলা হয় যে দণ্ডিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

সংবাদটি দেখার পর তার মক্কেল দণ্ড স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ বৃহস্পতিবার তার সাজা স্থগিত করেছেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের কারণে তার মক্কেল এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সংসদের কয়েকজন সদস্য সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তারাও একইভাবে আবেদন জানালে হাইকোর্ট তাদের সাজা স্থগিত করেছিল এবং তারা পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন। তারা মন্ত্রীও হয়েছেন।’

সাবিরা সুলতানার আইনজীবীরা আদালতের সামনে এরকম কিছু উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, ‘তার সাজা স্থগিত হলে তিনিও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।’ আমিনুল ইসলাম জানান, আদালত তাদের এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বিএনপির পাঁচ নেতার ব্যাপারে রায়

কিন্তু কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দু’বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তাদের একজন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গিয়েছিলেন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করার জন্যে। এবং আপিল বিভাগ সেটা গ্রহণ করেনি।

সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আপিল কোর্টে শুধু সাজা স্থগিত করা যায়। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হওয়াটাকে মামলার শুনানি করে, খালাস কিম্বা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা যায় না।’

তাহলে কোন রায়টি প্রযোজ্য হবে- এই প্রশ্নের জবাবে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে হাইকোর্টে এমন রায়ও হয়েছে যেখানে সাজা স্থগিত করার পর তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে নির্বাচন করতে পারবে না বলে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেটিও প্রশ্নাতীত নয়।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অধস্তন আদালত মানতে বাধ্য হলেও হাইকোর্টের একটি আদালতের আদেশ আরেকটি আদালত মানতে বাধ্য নন।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এবিষয়ে হাইকোর্টের আরেকটি আদালত এরকম রায় দিতে পারে কিনা সেনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক আইন দেশের সর্বোচ্চ আইন। এই আইন অন্যান্য আইনের উপরে থাকবে।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বলেছেন যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সারাদেশে কোথাও কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

যদিও সারাদেশে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদলের প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কিছু দৃষ্টান্ত দ্য ডেইলি স্টারের নজরে এসেছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণদানের ওই অনুষ্ঠানে সিইসি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।”

এ বিষয়ে আজ (৩০ নভেম্বর) ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমরা দেখেছি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সিলেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গাড়িবহর ও মিছিল নিয়ে তার ভাইয়ের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব দেখেও, নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।”

“এখনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শক্ত হাতে ধরা উচিত। নির্বাচন কমিশন তাদের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দিতে পারে, শাস্তি দিতে পারে। এতে প্রার্থীরা ভয় পেয়ে কিছুটা হলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে। এটাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অবহেলা,” মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই সচিব বলেন, “এখনও বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যতোই বলা হোক না কেনো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি তো হয়নি, সম্ভাবনাও নেই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ-কারবার এতোটাই বিরক্তিকর হয়ে গেছে যে, আমি এগুলো নিয়ে এখন আর কথা বলি না এবং বলা পছন্দও করি না।”

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কয়েকদিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মূর্তির ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন তারা নিজেই যেন বোবা-অন্ধ হয়ে গেছে। শোভাযাত্রা করে মনোনয়নপত্র জমাদানে যে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কমিশন নিজের নির্দেশিত পথেই হাঁটছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ এবং প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি ভুয়া মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে পারছে না। এর মধ্য দিয়ে শুধু যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতেই ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, কমিশন তার ক্ষমতারও অপব্যবহার করছে।”

এবারের নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, “আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার জন্য যদি কাউকে দায়ী করা হয়, সেটি হবে নির্বাচন কমিশন।”

উৎসঃ thedailystar

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here