ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় পাকিস্তান সুপার লিগে নীরবতা পালন

0
135

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালের আল-নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় প্রায় অর্ধশত নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

নারকীয় সেই হামলা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ক্রীড়াঙ্গনে। সেই শোক ছুঁয়ে গেছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচেও।

শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও পেশোয়ার জালমি। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্রসহ সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের প্রতি শোক জানিয়ে এদিন কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। অবশ্য ম্যাচের আগে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা।

সে ম্যাচে ইসলামাবাদকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় আসরের শিরোপাজয়ী দল পেশোয়ার। ম্যাচজুড়ে ধারাভাষ্যকারদের আলোচনায়ও ছিল হামলার ভয়াবহতা।

ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট। তবে নৃশংস ওই হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ম্যাচটি বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দেশের পথে রয়েছে।

হামলার ভয়াবহতায় সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। পাশাপাশি বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছে। তবে বহু হতাহতের ঘটনায় শোক এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

উৎসঃ vযুগান্তর, নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ তাৎক্ষনিক তামিমের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশ দলের খবর নিয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি

তামিম ইকবালের জন্য শহীদ আফ্রিদি (ফাইল ছবি)

একটু এদিক-ওদিক হলেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেট দল নিঃশেষ হয়ে যেত সন্ত্রাসীদের গুলিতে। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে যে মসজিদে যাচ্ছিলেন তামিম-মুশফিকেরা, তাঁরা পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসী হামলায় মারা যান একাধিক মানুষ। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নিন্দার ঝড়। সে তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিও আছেন এঁদের মাঝে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কিছুক্ষণ আগে একটা বার্তা দিয়েছেন আফ্রিদি। সেখানে নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় বিস্ময় লুকাননি এই ক্রিকেটার। সে সঙ্গে বাংলাদেশ দলের যে কোনো ক্ষতি হয়নি, এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাপী ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আফ্রিদি। তবে অন্যদের মতো টুইট করে ক্ষোভ ঝেড়ে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করেননি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন তাঁরা নিরাপদেই আছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে ভয়ংকর শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে। আমি সব সময় নিউজিল্যান্ডকে সবচেয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জানি। ওখানকার মানুষ খুবই বন্ধুত্বসুলভ। তামিমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বাংলাদেশ দল ও কোচিং স্টাফরা সবাই নিরাপদে আছে জেনে স্বস্তি পাচ্ছি। এসব থামাতে বিশ্বকে একত্র হতে হবে! এভাবে ঘৃণা করা থামান! সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রার্থনা। আল্লাহ নিহতদের শান্তি দান করুন।’

সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে আফ্রিদির টুইট। ছবি: টুইটার

এদিকে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জেরে বাতিল করা হয়েছে কাল থেকে হ্যাগলি ওভালে শুরু হতে যাওয়া ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিছু না জানালেও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি) এরই মধ্যে টুইট করে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট শেষেই নিউজিল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। টেস্ট বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন দ্রুতই ফিরে আসবে বাংলাদেশ দল।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হত্যাযজ্ঞঃ নরেন্দ্র মোদির মুখে কুলুপ!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সক্রিয় থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার নিন্দা জানান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

রক্তাক্ত এ হামলার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে টুইট করলেও ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় এখনো নিশ্চুপ মোদি।

নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব দেশের নেতারা এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেউবা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন নিজের দেশ ও সরকারের অবস্থান।

কিন্তু এত বড় একটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কারণ বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গেই তার নিন্দা জানিয়ে থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বাইরে কাবুল, কায়রো, নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস- এসব শহরে বিগত বছরগুলোতে যেসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে টুইটারে সরব ছিলেন মোদি।

কিন্তু শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসলমান নিহত হলেও এ ঘটনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কোনো টুইট করেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশকে তার উগ্রবাদী দল ও ভক্তরা হয়তো ভালোভাবে নেবে না এবং এর প্রভাব পড়বে ভোটে- এমনটা ভেবেই তিনি হয়তো চুপ রয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তদের সামনে নীরব থাকলেও হামলার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মোদি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্টের কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রশস্তি

কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রতীক দেখালেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি ব্রেন্টন ট্যারেন্ট, যার গুলিতে ৩ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগ এনে ট্যারেন্টকে একদিন বাড়ে ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আটক রাখতে বলেছেন।

ট্যারেন্টকে আদালতে নিয়ে যায় দুজন পুলিশ সদস্য, এসময় তার দেহে ছিল বন্দিদের পোশাক, হাতকড়ায় বাঁধা ছিল হাত।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট দেখিয়েছে, হাতকড়ার মধ্যে আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ বর্ণবাদী প্রতীক দেখাচ্ছিলেন ট্যারেন্ট।

মানুষের মধ্যে শেতাঙ্গরা শ্রেষ্ঠ- এটা যারা মনে করেন, তারা আঙুলের মাধ্যমে বিশেষ চিহ্ন তৈরি করে প্রতীক হিসেবে তার প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন।

এক্ষেত্রে বৃদ্ধা ও তর্জনি আঙুল বৃত্তাকারে একসঙ্গে যুক্ত করলে তা ‘চ’ এর আকৃতি নেয়, যা দিয়ে চড়বিৎ বা শক্তি বোঝানো হয়। আর বাকি তিনটি আঙুল তখন ‘ড’ এর রূপ নেয়, যা দিয়ে বোঝানো হয় ডযরঃব বা সাদা।

২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় ট্যারেন্টও বন্দি হওয়ার পরও তার বর্ণবাদী মনোভাব এভাবে তুলে ধরেন।

হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন ট্যারেন্টন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে বর্ণনা করেছেন ভাষায়, সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক বিশ্বাস আর দর্শনে, আত্মপরিচয়ে এবং বংশপরিচয়ে একজন ইউরোপীয় হিসেবে।

ট্যারেন্ট তার তথাকথিত ‘ম্যানিফেস্টোতে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন ট্যারেন্ট। এক জায়গায় তিনি নিজেকে ‘এথনোন্যাশনালিস্ট এবং ফ্যাসিস্ট’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

উৎসঃ শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি আদালতে হাসছিল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন ট্যারেন্টকে হাতকড়া পরিয়ে খালি পায়ে আদালতে হাজির করা হয়। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ২৮ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত যুবককে ক্রাইস্টচার্চ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। এ সময় হাসছিলেন তিনি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। দুই মসজিদে হামলায় নিহত ৪৯ জন। এর মধ্যে আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন নিহত হন। একজন হাসপাতালে মারা যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৪০ জন। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছেন ব্রেনটনকে। তিনি নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনের অ্যান্ডারসনস বে এলাকার বাসিন্দা। আদালতে যখন ব্রেনটনকে হাজির করা হয়, তখন তাঁর পরনে ছিল বন্দীদের সাদা পোশাক, হাতে হাতকড়া এবং খালি পা। ডকে তাঁর ছবি তোলার সময় তিনি আলোকচিত্রীদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। তাঁর পাশেই ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আদালতে দায়িত্বরত আইনজীবী রিচার্ড পিটারস জানান, এর মধ্যে তাঁর জামিনের কোনো আবেদন হচ্ছে না। তাঁর নাম গোপন রাখারও কোনো আবেদন ছিল না।

তবে বিচারক পল কেলার হামলাকারী ব্রেনটনের ছবি তোলা ও ফুটেজ নেওয়ার অনুমতি দিলেও তিনি বিচার সম্পর্কিত অধিকার বজায় রাখতে ব্রেনটনের ছবি প্রকাশের সময় মুখ ঝাপসা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে ব্রেনটনের কোনো পেশার কথা উল্লেখ করা হয়নি। আদালত কক্ষে সাধারণ লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন ট্যারেন্ট, আহত হন আরও ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে।

নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।

একটি মসজিদে হামলার পুরো ঘটনা হেলমেটে লাগানো ক্যামেরায় ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করে হামলাকারী। হামলাকারী এ হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। হামলার উদ্দেশ্য ও নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ এর সদস্য

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুম্মার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নব্য নাৎসিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ জড়িত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেন্টন টারান্ট নামের ওই হামলাকারী কুখ্যাত ব্লাক সানের সদস্য। হামলার আগে টুইটারে তার প্রকাশিত এক ইশতেহারে ব্লাক সানের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরিষ্কার করেন। টুইটারে তিনি ৮৭ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার দিয়েছিলেন। যেখানে হামলার পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছিল।

২০১১ সালে নরওয়েতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা থেকে ব্রেন্টন টারান্ট অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে টুইটে দাবি করেন। নরওয়েতে সেই ভয়াবহ হামলায় ৭৭ জন নিহত হয়েছিল।

ব্রেন্টন টারান্ট টুইটারে যে ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন তার প্রচ্ছদে ব্লাক সানের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ‘ব্লাক সান’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আবার হইচই শুরু হয়েছে।

ব্লাক সান কী?

জার্মানির উত্তরাঞ্চলে ওয়েলসবার্গ নামক দুর্গ নির্মাণ হয় ১৬০৩ সালে। ১৬০৯ সালে সেটি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন শাসকের দুর্গপ্রাসাদ হিসেবে এটি ব্যবহার হতো। জার্মান শাসক হিটলারের সময় থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই দুর্গটি হিটলারের বাহিনীর (এসএস) জেনারেলদের জন্য ব্যবহার হতো।

ওয়েলসবার্গ দুর্গের মেঝেতে ১৯৩৩ সালে হিটলারের সময়ে একটি লোগো স্থাপন করা হয়। লোগোতে কালো গোলাকৃতির মধ্যে ১২টি সাদা রঙের ফাঁকা অংশ রয়েছে। তৎকালীন জার্মানিতে হিটলারের পরে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল হেনরিক হিমলারের নেতৃত্বে এই লোগোটি বসানো হয়, যা দেখতে অনেকটা চাকার মতো। লোগোটি নাৎসি বাহিনীর দলীয় লোগোর সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ব্লাক সান ওয়েলসবার্গের ওই চিহ্নটিই তাদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করছে।

হেনরিক হিমলার ওই দুর্গটির ডিজাইনও পরিবর্তন করেন। পরিবর্তিত ডিজাইনেই পরে লোগোটি স্থাপন করা হয়। এটিকেই মূলত ব্লাক সান বলা হয়। তৎকালীন ব্লাক সানের অনুসারীরাই বর্তমান ব্লাক সান নামক সংগঠন পরিচালনা করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনটিকে নব্য নাৎসিবাদীদের সংগঠন হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে।

১৯৯১ সালে লেখক রাসেল ম্যাক ক্লাউড এ বিষয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। তার ‘জার্মান দ্য ব্লাক সান অব তাসি লুনপো’ নমের বইটিতে ব্লাক সানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রথম লিখিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সময় বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। খ্যাতিমান লেখক নিকোলাস গডরিক ক্লার্ক বইটিকে ‘অকাল্ট নাৎসি থ্রিলার’ হিসেবে সজ্ঞায়িত করেন।

নাৎসিবাদীরা ব্লাক সান লোগো নিজেদের ঐতিহাসিক আদর্শের প্রতীক বলে মনে করে। হিটলারের আদর্শ থেকেই তারা নিজেদের সংগঠনের নাম দেয় ব্লাক সান। সংগঠনের লোগো হিসেবেও ব্লাক সান ব্যবহার করে।

তবে তাদের এই সংগঠন কবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা জানা যায় না। সম্পূর্ণ গোপন এই সংগঠন বিশ্বজুড়ে হিটলারের আদর্শের অনুসারীদের নিয়ে কাজ করে।

উৎসঃ শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা নিয়ে বিশ্বের মুসলিম নেতারা যা বললেন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব। মুসলিমবিদ্বেষ ও অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা থেকে জন্ম এ হামলায় বিশ্বজুড়ে ঘৃণা, ভয়, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ওই হামলার আগে টুইটারে ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্যে ইশতেহার প্রকাশ করে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের বক্তব্য ও বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে সেই ক্ষোভ। শুক্রবারের ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে মুসলিমরা। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা গুরুত্বহীনভাবে বিবেচনা করছে বিশ্ব। মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটত, সেটা ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।’

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এটাকে ইসলামফোবিয়ার ফল অভিহিত করে ইমরান খান বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনও ধর্ম হতে পারে না। নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আল আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব লোমহর্ষক এই গণহত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, লোমহর্ষক এই সন্ত্রাসী হামলা দেশে দেশে ক্রমবর্ধিষ্ণু ইসলামফোবিয়া, মুসলিম বিদ্বেষের কথা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আশা করছেন নিউজিল্যান্ড শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করবে এবং আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মালয়েশিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের নেতা খ্যাতনামা নেতা আনোয়ার ইবরাহিম আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মালয়েশীয়দের হৃদয়। বিশ্ব মানবতা ও শান্তির জন্য এটাকে এক ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, ‘আমরা এই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সরকার হত্যার শিকার ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।’ এ হামলার সময় আল নূর মসজিদের ভেতরে ছয় ইন্দোনেশীয় মুসল্লি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রেখে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার চেষ্টায় হিরো নাইম রশিদ

নাইম রশিদ। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান নি। হামলাকারী যখন নির্বিচারে মুসল্লিদের গুলি করে হত্যা করছিল পাখির মতো, তখন তিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা। জাপটে ধরে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করেন। ততক্ষণে লাশের সারিতে যোগ হয়েছে তারই ছেলে তালহা (২১)-এর দেহ। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, নিজেকে শক্ত করে, জীবন বাজি রেখে তিনি লড়াই চালিয়ে যান হামলাকারীর সঙ্গে। তা না হলে নিহতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি হতে পারতো। যে নাইম রশিদ নিজের জীবন বাজি রাখলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মুসলিম ভাইদের রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই বাঁচতে পারলেন না।

তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাই বিশ্ব মিডিয়া তাকে হিরো বা নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার ছবি দিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন নাইম রশিদ ও তার ছেলে তালহা। মসজিদ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। অকস্মাৎ সেখানে সিনেমার ভিলেনদের মতো এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। নাইম রশিদের চোখের সামনে লুটিয়ে পড়তে থাকে মুসল্লি ভাইদের দেহ। রক্তে ভেসে যেতে থাকে মসজিদের মেঝে। চারদিকে আর্ত চিৎকার। দিকভ্রান্ত মানুষ। ছুটাছুটি করছে। তার সামনে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষ। তার মধ্যে রয়েছেন তার ২১ বছর বয়সী ছেলে তালহাও। একজন পিতা হিসেবে সেই দৃশ্য তার হৃদয়ে যে কম্পন তোলার কথা, যে ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার কথা, তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। নিজেকে স্থির করলেন। অস্ট্রেলিয়ান হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের কাছ থেকে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। এই ধস্তাধস্তিতে যে সময়টা লেগেছে তার মধ্যে অনেক মুসলিম মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন। তা না হলে আরও কি ভয়াবহতা ঘটতে পারতো তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন হিরো।

লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, নামাজ আদায় করতে যাওয়া ভাইদের রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন রশিদ। তিনি হামলাকারী ব্রেনটনের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন রশিদ। এক পর্যায়ে হামলাকারী মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুসলিমরা রশিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। কিন্তু যিনি অন্য মুসলিমদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি ধরলেন, তিনিই বাঁচতে পারলেন না। শুক্রবার রাতের শেষভাগে তিনি মারা যান।

নাইম রশিদের বাড়ি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। পাকিস্তানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। সেখানে গিয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে ড. খুরশিদ আলম নিশ্চিত করেছেন নিহত নাইম রশিদ তার ভাই। তাকে ও তার ভাজিতা তালহাকে শুক্রবারের নৃশংস হামলায় হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে, হামলায় ৪ জন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। ৫ জন রয়েছেন নিখোঁজ।

হামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আরেকজন মানুষ কিভাবে হামলাকারীকে মোকাবিলা করেছিলেন এবং তার একটি অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল লিনউড মসজিদে। সেখানে তিনি দেখতে পান হামলাকারী প্রতিরক্ষামূলক ‘গিয়ার’ পরে আছে। মাতালের মতো গুলি ছুড়ছিল সে। তারপরই তাকে মোকাবিলা করতে একজন যুবক উদ্যোগ নেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, ওই যুবক সুযোগ বুঝে হামলাকারীকে পাকড়াও করে ধরে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র কেড়ে নেয়। তারপরই ওই যুবক মসজিদে থাকা মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি জানতেন না কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।

ওই যুবককেও হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ওই ‘হিরো’ বন্দুক চালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পান নি। এ সময় হামলাকারীকে ধরতে পিছন থেকে দৌড়াতে থাকেন ওই ‘হিরো’। কিন্তু বাইরে তখন একটি গাড়িতে হামলাকারীর সহযোগীরা অপেক্ষা করছিল। হামলাকারী দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠে পড়ে এবং পালিয়ে যায়।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলা নিয়ে মসজিদটির পেশ ইমাম যা বললেন

ক্রাইস্টচার্চের শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলার সময় মসজিদের পেশ ইমাম ইব্রাহীম হালিম বলেছেন, তিনি এখনো নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসেন।

সন্ত্রাসীরা কখনোই আমাদের আত্মবিশ্বাসে ঘা দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন লিনউডের এই ইমাম।-খবর এএফপির

শনিবার তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে এই হামলার ঘটনায় তাদের বিচলিত করতে পারবে না।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদটি ছিল শান্ত, নিস্তরঙ্গ ও নীরব।

শুক্রবার রমজান নামে এক মুসল্লি সাংবাদিকদের বলেন, নামাজের আগে যখন খুতবা শুরু হয়, তখন একটি পিনপতনের শব্দও শোনা যায়নি।

বেলা দেড়টার দিকে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু হলে এ পর্যন্ত ৪৯ জন মুসল্লি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, মসজিদের মূল কক্ষ থেকে গুলি শুরু হয়েছে। আমি ছিলাম পাশের কক্ষে। কাজেই কে গুলি করছেন, তা আমি দেখিনি। কিন্তু কিছু লোক ওই কক্ষ থেকে পালিয়ে আমাদের এদিকে আসতে শুরু করেন।

‘কিছু কিছু লোকের শরীরে আমি রক্ত দেখতে পেয়েছি। কেউ কেউ নিস্তেজ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।’

তখনই আমার কাছে মনে হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটছে।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠবাদী যুবকটি তখন লোকগান ও সামরিক সংগীত শুনছিলেন। এর পর একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যান।

তার গাড়ি থেকে অন্তত ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হেঁটে হেঁটে তিনি মসজিদের সামনের দরজায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। -খবর মেইল অনলাইনের।

এর পর তিনি মসজিদে ঢুকে পড়েন এবং সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই গুলি করে হত্যা করেছেন। প্রথমে গুলি খাওয়ার পর এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফের ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাঃ যেসব শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করছে হামলাকারী

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভস্ট্রীমিং করেছিলেন ব্রেন্টন টারান্ট। আল নুর মসজিদে নির্বিচারে পুরুষ-নারী-শিশুদের ওপর তার গুলি চালানোর দৃশ্য এতটাই ভয়ংকর যে তা বেশিক্ষণ দেখা যায় না।

ব্রেন্টন টারান্ট এর আগে এক তথাকথিত ইশতেহার প্রকাশ করেন যেখানে তিনি তার সহিংস কট্টর দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষায়, ব্রেন্টন টারান্ট আসলে একজন ‘উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী।’

হামলার ঘটনার যে ১৭ মিনিটের ভিডিও এবং তার আগে যে সুদীর্ঘ ইশতেহার ব্রেন্টন টারান্ট প্রকাশ করেছেন, তা থেকে তার চিন্তা ও মতাদর্শ সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?

ব্রেন্টন টারান্ট যখন অস্ত্র বোঝাই গাড়ি নিয়ে আল নুর মসজিদের দিকে যাচ্ছেন, তখন তার গাড়িতে যে গানটি বাজছিল, সেটি একটি সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদী রণসঙ্গীত। ‘চেটনিকস’ নামে পরিচিত সার্বিয়ান প্যারামিলিটারি ইউনিট ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়ান যুদ্ধের সময় এটিকে তাদের কুচকাওয়াজ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করতো।

এই সঙ্গীতে বসনিয়ান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদযিচের প্রশংসা রয়েছে। গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাদোভান কারাদযিচ দোষী সাব্যস্ত হন।

মুসলিমদের এবং অভিবাসীদের হত্যার কারণে যেসব লোকের সাজা হয়েছে, তাদের অনেকের নাম লেখা আছে ব্রেটন টারান্টের আগ্নেয়াস্ত্রগুলিতে।

একটি বন্দুকের গায়ে লেখা ‘ফর রদারহ্যাম।’ যুক্তরাজ্যের রদারহ্যামে শিশুদের ওপর এশিয়ান মুসলিম পুরুষদের যৌন নিপীড়নের যে কেলেংকারির ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল, সেই ঘটনাকেই এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অটোম্যান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ঐতিহাসিক অনেক লড়াইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বিভিন্ন শব্দ লেখা ছিল তার অস্ত্রশস্ত্রে।

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে, ব্রেন্টন টারান্ট সিডনি থেকে প্রায় ছয়শো কিলোমিটার উত্তরের একটি শহর গ্রাফটনের লোক। তার সাবেক বস ট্রেসি গ্রে দাবি করছেন, ব্রেন্টনের মধ্যে তিনি কখনো কোন চরমপন্থী চিন্তাভাবনা বা পাগলামি আচরণ দেখেননি।

দীর্ঘ ইশতেহারে ব্রেন্টন টারান্ট লিখেছেন, ২০১৭ সালে ইউরোপ ঘুরে আসার পর তিনি এই হামলার পরিকল্পনা শুরু করেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন সুইডেনে একটি লরি চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের সমর্থক এক ব্যক্তির চালানো একহামলার কথা। এছাড়াও আছে ফ্রান্সে ইমানুয়েল ম্যাক্রর মতো লোকের প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ফ্রান্সে যে জাতিগত বৈচিত্র, তা নিয়ে ক্ষোভ-হতাশার কথা।

ব্রেন্টন টারান্টের দীর্ঘ ইশতেহারটির শিরোণাম হচ্ছে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’।

এতে যে ধরণের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে ধরা হয়েছে, তা সাম্প্রতিককালে অনলাইনে দ্রুত প্রসার লাভ করছে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীও তৈরি হচ্ছে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূল কথা হলো, ইউরোপীয়রা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাদের তুলনায় নিকৃষ্ট এবং বিপদজনক জাতি ও সংস্কৃতির দাপটে। মূলত মুসলিমদের নিয়ে ঘৃণা এবং ভীতি ছড়ানোর সাংকেতিক আলোচনা বলে মনে করা হয় এসব আলোচনাকে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আরও বলা হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় যে অভিবাসীদের আসার হার বেড়েই চলেছে, এর পেছনেও রয়েছে ষড়যন্ত্র। বিশ্ব পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় রাষ্ট্র এবং কর্পোরেশনগুলো ‘হোয়াইট জেনোসাইড’ বা ‘শ্বেতা্ঙ্গ গণহত্যায়’ উৎসাহ যোগানোর নীতি নিয়েছে। এই ইশতেহারে এন্টি সেমিটিক (ইহুদী বিদ্বেষী) এবং নব্য নাৎসীবাদী কথাবার্তাও আছে।

পশ্চিমা দুনিয়ায় যে উগ্র ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে, তার পেছনে এ ধরণের ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্বের’ বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানা ধরণের গোপন গোষ্ঠী ফেসবুকে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব প্রচারণা চালাচ্ছে জোরে-শোরে।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন, বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ৫ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান কুড়িগ্রামের নিহত অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ।

তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে বলে জানা গেছে। এ হামলায় ড. সামাদের স্ত্রীও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। তার তিন ছেলে রয়েছে। তিনি নিউজিল্যান্ডে সিটিজেনশিপ নিয়ে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। আরেক ছেলে বাংলাদেশেই থাকেন।

নিহত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদের সহকর্মী কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ পাঁচ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনায় ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

আবদুস সামাদের পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সামাদ নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। ২০১৩ সাল থেকে সপরিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের হ্যাগলি পার্ক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আবদুস সামাদ তিন সন্তানের জনক। একসময় তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষক ছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪, প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হলেন সিলেটের হুসনে আরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)। ঘটনার সময় তিনি মসজিদে জুমার নামাজে যাওয়া স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের খোঁজে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

নিহত হুসনে আরা পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের মেয়ে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত হুসনে আরা পারভীনের চাচাতো ভাই সিলেট মহানগর কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর শাকিল জানান, স্বামী, একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাইবোনের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে থাকতেন হুসনে আরা পারভীন। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। তিনি প্যারালাইজড হওয়ায় হুইল চেয়ারে চলাচল করেন।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার জন্য স্বামীকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে যান হুসনে আরা । সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা আছে। স্বামীকে পুরুষদের মসজিদে দিয়ে নারীদের জন্য পৃথক জায়গায় নামাজ আদায়ে যান তিনি। কিছু সময় পর গোলাগুলির শব্দ শুনে পুরুষদের মসজিদে স্বামীকে খুঁজতে যান হুসনে আরা। ওই সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

এদিকে স্ত্রী পারভীন নিহত হলেও অন্যান্য মুসল্লিরা তার স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বের করে নেয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে হুসনে আরা পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ডে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দেশে তারা এসেছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আফসানা আক্তার রিতু বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মেয়ে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে।

‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আল নুর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন আফসানা আক্তার রিতু ছিলেন মসজিদের ভেতরেই।

আফসানার বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে। নয় মাস আগে তিনি দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে যান।

আল নুর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফসানা আক্তার রিতু সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন।

বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, আফসানা তাই প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন। ঘটনার সময় তারা তিনজন বাংলাদেশী নারী একসঙ্গে ছিলেন।

‘আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ করে একটা শব্দ পাই। আমরা শব্দ শুনে দৌড়াদৌড়ি করে বাইরে আসি।’

‘যারা গুলি করছিল, ওরা প্রথম মহিলাদের রুমে আসেনি, ওরা প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের রুমে। আমরা তিনজন বাংলাদেশী এক সঙ্গে ছিলাম। তিনজনই একসঙ্গে দৌড় দেই।’

‘আমাদের বাসা একদম মসজিদের পাশে। বাসায় আসতে এক মিনিট লাগে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি। কিন্তু বাসার চাবি, জুতা এইগুলা মসজিদে রেখে আসছি। জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি।’

মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আফসানা জানান, যে ব্যক্তি গুলি করছিল, তাকে দেখেননি তিনি। “আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি।”

এই ঘটনার পর আফসানা এখন রীতিমত আতংকে আছেন। অথচ নিউজিল্যান্ডে তার গত নয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারই অন্যরকম।

‘বাংলাদেশে থাকতেই আমি জানতাম, নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অনেক নিরাপদ। এ পর্যন্ত কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি।’

কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনা তাকে ভীষণ আতংকগ্রস্ত করে তুলেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘মুসলমান! আজ তোদের সবাইকে খুন করব’: অস্ত্রধারী খুনি ব্রেনটন ট্যারেন্ট

হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার সময় সেখানকার ছোট অজুখানায় ছিলেন আনোয়ার আল সালেহ। হাত ধোয়ার সময় হঠাৎ করেই গুলির আওয়াজ শোনেন তিনি। বাইরে প্রচণ্ড চিৎকার। আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে মানুষ। এর মধ্যে শুনতে পান হামলাকারী আক্রোশে বলছে, ‘আজ তোদের সবাইকে খুন করব।’

ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য প্রেস ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়ংকর দুপুরটির চিত্র।

১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিন থেকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এসে বাস করতে শুরু করেন আনোয়ার। শান্ত ছবির মতো এই শহরটিতে কখনো কোনো গন্ডগোলের খবর পাননি তিনি। শান্তিতেই বাস করছিলেন। তবে আজ দুপুরে হঠাৎ গুলির শব্দ যেন তার জগৎকে লন্ডভন্ড করে দেয়। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানায় এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। অজুর ঘরে বসেই জরুরি সেবায় ফোন করেন তিনি। কয়েকবার পুলিশকে ফোন দেন। তবে কাউকেই ফোনে পাননি। শেষে অ্যাম্বুলেন্স–সেবায় ফোন দিয়ে বিপদের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড চলছে। দয়া করে সাহায্য করুন। পুলিশ পাঠান, তারা গুলি করেই যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বলছে, মুসলমান তোদের আজ আমরা খুনই করে ফেলব।’

আনোয়ার জানান, গুলি খেয়ে আহত মানুষগুলো বন্দুকধারীর কাছেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁদের আবারও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বন্দুকধারী। তিনি বলেন, ঘটনার ২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মাথার পেছনে হাত বেঁধে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। দেখতে পান অসংখ্য নারী-পুরুষের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এদের সন্ত্রাসী বললে কম বলা হয়, এরা ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর খুনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি জানান, সাত বছর আগে জর্ডান থেকে এখানে আসেন তিনি। শান্তিতে পরিবার নিয়ে বাস করার লক্ষ্যেই এখানে আসা। গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, কোথাও বাজি ফুটছে। কারণ শান্ত এই শহরে কখনো এমন হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান তিনি। দেখেন পান, সবাই প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পড়ে আছে নিথর দেহ।

তিনি জানান, নিহত কয়েকজনকে তিনি খুব ভালো করে চেনেন। তাঁদের একজন সিরিয়ান শরণার্থী আছেন, যিনি ছয় মাস আগে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। স্ত্রী আর তিনটে ফুটফুটে সন্তান আছে ওই সিরীয় ব্যক্তির। একজন ক্যান্টারবেরি মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আছেন। জর্ডান থেকে আসা ওই ব্যক্তি সব সময় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন, সৎ পরামর্শ দিতেন। সাত বছর বয়সী একটা ছেলে আছে তাঁর।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্যই বেদনাদায়ক দিন। মানুষ মেঝেতে আহত হয়ে পড়ে আছেন। চারদিকে রক্ত। চিৎকার করে কাঁদছেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওখানে যেতে দিচ্ছে না। জায়গাটা এখনো নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের ভাইদের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

১৪ বছরের এক কিশোর জানায়, তার চাচাকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারী। সে বলে, ‘আমরা মাত্র নামাজ আদায় শুরু করেছি, হঠাৎ করেই গুলির শব্দ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, কোথাও নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তখনই দেখলাম মানুষ চিৎকার করে দৌড়াচ্ছে।’

হিরমরটন হাইস্কুলের এই ছাত্র জানায়, তার চাচাসহ পরিচিত ছয়জন নিহত হয়েছেন। কীভাবে সেখান থেকে বের হতে পেরেছ? এমন প্রশ্নে সে বলে, ‘আমি কেবল দৌড়েছি, যত জোরে সম্ভব। কোথাও তাকাইনি। হ্যাগলি পার্কের বেড়া পার হয়ে তবেই থেমেছি।’

আজ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। হামলাকারীর হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল। হামলা চালিয়ে বন্দুকধারী জানালার কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় সব মসজিদ একদিন বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালান ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কট মরিসন বলেন, ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থী উন্মত্ত জঙ্গি হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক। তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারী নিরাপত্তা নজরদারির তালিকায় ছিল না।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর পর একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল। একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছুটোছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

এক্সপ্রেস নামের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের অনলাইনে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। ২৮ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন। হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করেন।

ভিডিওটি ভয়াবহ উল্লেখ করে তা অনলাইনে না ছড়াতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় সব মসজিদ একদিন বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার পর দেশটিতে একদিনের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের।

খবরে বলা হয় পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে এবং রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্কুলও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সামাজিকমাধ্যমে মসজিদের ভেতর থেকে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়। দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল। পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণ বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে যতটা সম্ভব দৌড়ে পালিয়েছি। এ সময় আমি অনবরত শুধু গুলির শব্দ শুনেছি।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ইসলামবিদ্ধেষের নজিরঃ রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার সহায়তা প্রয়োজন।-খবর গার্ডিয়ান

তিনি বলেন, এ হামলার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের হতাহত নাগরিকদের প্রতি আমি শোক জানাচ্ছি।

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বৃদ্ধির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ঘটনাকে দাঁড় করিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের এ নেতা।

এর আগে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্ম হতে পারে না। নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত।

তিনি বলেন, হামলাকারীর গাড়িতে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইস যুক্ত করা ছিল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নেয়া হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী। এতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। -খবর এএফপির

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এই যুবক।

ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী।

শুক্রবার জুমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনায় যা বলছেন বিশ্বনেতারা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর ৪৯জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন।

বর্বর এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। পাশাপাশি হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তারা।

হামলার এই ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অলসভাবে দেখছে বিশ্ব। এই মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করা হত, ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে তা গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, এখনই যদি পদক্ষেপ নেয়া নয় হয়, তবে আমাদের আরেকটি বিপর্যয়ের খবর শুনতে হবে।

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেবেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সহায়তা প্রয়োজন। খবর এএফপির।

এদিকে মসজিদে নামাজের জন্য জড়ো হওয়া শান্তিপূর্ণ মানুষকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যার ঘটনাকে বেদনাদায়ক ও নৃশংস বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডানকে দেয়া এক বার্তায় হামলাকে নৈরাশ্যবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করি, এ হামলায় জড়িতদের মারাত্মক শাস্তি দেয়া হবে।

সন্ত্রাসী এ হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্ম হতে পারে না।

তিনি নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। খবর গার্ডিয়ানের।

এদিকে হামলাকারীকে একজন ডানপন্থী সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

তিনি বলেন, একজন সহিংস ডানপন্থীর এ হামলার ঘটনায় আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই হামলার সঙ্গে তাদের দেশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তা তদন্ত করে দেখছে। খবর এএফপির।

হামলার এ ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত।

তিনি এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা সম্পর্কে সর্বশেষ কী জানা যাচ্ছে?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট-চার্চের অন্তত দুটি মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঐ সময় মসজিদে গিয়েছিল এবং ঠিক যখন হামলার ঘটনাটি ঘটে তারা মসজিদের ভেতর প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। তবে ক্রিকেটাররা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
গোলাগুলির ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা একজন বলেন গুলি শুরু হওয়ার পর আল নূর মসজিদের জানালা ভেঙে মানুষ পালাতে থাকে।

‘সে (হামলাকারী) সবাইকে গুলি করতে থাকে। যাকেই তার মনে হয়েছে যে সে বেঁচে আছে, তাকে লক্ষ করে সে আবার গুলি চালায়’, রেডিও নিউজিল্যঅন্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন অন্তত ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে।

তিনি বলেন, “আমি আসলে শুধু একটা প্রার্থনাই করছিলাম। তার (হামলাকারীর) গুলি যেন শেষ হয়ে যায়।”

সার সংক্ষেপ:
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন হামলায় ৪৯ জন মারা গেছে। ২০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।
এছাড়াও অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন এই ঘটনা তাঁর দেশের ইতিহাসের ‘অন্ধকারতম অধ্যায়’গুলোর একটি।
পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ অন্তত চারজন তাদের জিম্মায় রয়েছে পরবর্তী ঘোষণা আসা না পর্যন্ত ঐ এলাকার সব মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা নিরাপদ আছেন। বাতিল করা হয়েছে ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট

লিনউড মসজিদে হামলা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
আল নূর মসজিদে প্রথম হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ পর লিনউড মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলের হেলমেট পরিহিত একজন বন্দুকধারী মসজিদের ভেতরে প্রার্থনারত প্রায় ১০০ জনের দিকে গুলি চালানো শুরু করেন।

সাইয়েদ আহমেদ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে বন্দুকধারী গুলি চালানোর সময় ‘চিৎকার করে কিছু একটা বলছিলেন।’

আহমেদ বলেন, তিনি অন্তত আটজনকে মারা যেতে দেখেছেন, যাদের মধ্যে দু’জন তার বন্ধু ছিলেন।

ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স
ফ্রান্সের মন্ত্রী ক্রিস্টফ কাস্টানার ঘোষণা করেছেন যে ‘সতর্কতা’ অবলম্বন করতে ফ্রান্সের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের বর্ণনা
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

এবিষয়ে দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলটের বক্তব্য।

বাংলাদেশ দলের প্রতি শহীদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির বার্তা
ক্রাইস্টচার্চ হামলাকে কাপুরুষচিত বলে নিন্দা করেছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটের শহীদ আফ্রিদি ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আফ্রিদি বাংলাদেশে ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

তাঁর টুইটে কোহলি বাংলাদেশ দলের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

হামলার ভিডিও সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
হামলাকারী আক্রমণের ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং করায় সেটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়।

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় যে হামলাকারী একটি গাড়ি চালিয়ে মসজিদের সামনে নামেন। এরপর গাড়ি থেকে স্বয়ংক্রিয় একটি বন্দুক নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। গাড়িতে আরো কয়েকটি অস্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

এরপর স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে মসজিদের ভেতরে গুলি চালাতে চালাতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এই ভিডিওটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার অনুরোধ করেছে যেন এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করা হয়।

‘অত্যন্ত পরিকল্পিত আক্রমণ’
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার বলেছেন এটি ‘অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি আক্রমণ।’

দুটি গাড়িতে বিস্ফোরক লাগানো ছিল।

অকল্যান্ডে একটি স্টেশনে দু’টি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায় যেগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। তবে ক্রাইস্টচার্চ হামলার সাথে সেটির কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে মনে করেন পুলিশ কমিশনার মি. বুশ।

লন্ডনে সব মসজিদে অতিরিক্ত নিরাপত্তা
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন শুক্রবারে মুসলিমদের অধিকাংশই নামায আদায় করতে যাবেন বিধায় শহরের সব মসজিদে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় পুলিশ’ মোতায়েন করা হবে, যাদের মধ্যে সশস্ত্র পুলিশও থাকবে।

ক্রাইটস্টচার্চে হামলা, বিশ্বনেতাদের নিন্দা ও শোক
নিউজিল্যান্ডের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো ক্রাইটস্টচার্চ হামলার পর তাদের শোক এবং নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা এই ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়া বলেছে তাদের দু’জন নাগরিক আহত হয়েছে। ফিজি’র অন্তত একজন নাগরিক নিহতদের মধ্যে ছিলেন বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিবিসির

নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

ক্রাইস্টচার্চে গোলাগুলির ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা বার্তা প্রকাশ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।

নিউজিল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র মালিকানা আইন
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা সংক্রান্ত আইন আবারো আলোচনায় আসবে। বহুবছর ধরেই এই বিতর্ক চলছে।

২০১৭ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক ব্যক্তিদের হাতে মোট ১২ লাখের বেশী সংখ্যক অস্ত্রের মালিকানা রয়েছে।

অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের জন্য ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ১০০ জনে এই সংখ্যা ১৪.৫ আর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৪.৬।

আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০০ জনের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১২০টি।

হামলায় আহত বাংলাদেশীদের খবর
ক্রাইস্টচার্চে বসবাসরত ৩২বছর বয়সী বাংলাদেশী জাকারিয়া আহমেদ ঐ মসজিদে নামায পড়তে গিয়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত তার খোঁজ পাননি তার রুমমেটরা।

তার রুমমেট তৌহিদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘অসুস্থ থাকায় আজকে জাকারিয়া ভাই কাজে যান নাই। দুপুরে নামায পড়তে গেছেন, কিন্তু এখনো আমরা তার কোন খবর পাই নাই।’

‘হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ফোন করে জেনেছি উনি হাসপাতালে আছে। কিন্তু ভাই হাসপাতালে আহত অবস্থায় আছে না মারা গেছে জানতে পারি নাই এখনো।’

পার্কের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদরে ফিরে যাওয়ার মুহুর্ত
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

সংবাদ সম্মেলন বিলম্বিত হওয়াতেই বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা
আল নূর মসজিদের কাছেই অনুশীলন করতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

নিউজিল্যান্ড থেকে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, একটি সংবাদ সম্মেলন দেরী করে শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা দেরীতে মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অন্যথায় তারা হয়তো হামলার সময় মসজিদের ভেতরেই থাকতেন।

পুলিশের জিম্মায় থাকা চারজন কারা?
কর্তৃপক্ষ বলছে পুলিশের জিম্মায় এমুহুর্তে চারজন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছিল যে তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

প্রথানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডের্ন তাঁর সবশেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ‘আক্রমণের সাথে জড়িত’ তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এবং একজন ‘চরমপন্থী, সহিংস জঙ্গী’।’

আরেকজনকে পরে আটক করা হলেও তার কারণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদের বক্তব্য
মসজিদে হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা ঐ মসজিদে প্রবেশ করার কথা ছিল।

হামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘সবাই দেখেছে দুর্ঘটনাটি, এটা আমরা কখনোই চাই না, আমরা খুবই ভাগ্যবান, আমরা ১৭ জন ছিলাম, আমরা খুবই কাছে ছিলাম, ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম, আর তিন-চার মিনিট আগে মসজিদে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতো।’

অস্ট্রেলিয়ার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে জঙ্গীবাদের কোনো জায়গা নেই।

শোকের বহি:প্রকাশ হিসেবে তিনি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন করবেন পুলিশ কমিশনার
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাবেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় ৩ বাংলাদেশিসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯

নিহত ও আহত স্বজনদের খোঁজে উদ্‌গ্রীব লোকজন। ছবি: রয়টার্স

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হ্যাগিল পার্ক এলাকায় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৯ নামাজ আদায়কারী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তাদের পরিচয়ও জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার কিছু পরেই কালো কাপড় ও হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী আল নুর মসজিদে ঢুকে হামলা চালায়। তারপর জানা যায়, শহরের আরো একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ ঘটনার বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।’ পরে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই চরমতম সহিংস ঘটনায় ৪৯ ব্যক্তি জীবন হারিয়েছেন। ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এটা পরিষ্কার যে এই ঘটনাকে এখন সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে অভিহিত করা যায়।’

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিন বাংলাদেশি নিহতের খবর আসলেও দু’জন বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।

নিহত আরেক বাংলাদেশির নাম মিসেস হোসনে আরা, তিনি গৃহবধূ ছিলেন।

অনারারি কনসাল শফিকুর আরো বলেছেন, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নিহত ড. সামাদের স্ত্রী।

এ দিকে আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেটের শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো মিশন নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশি দূতাবাসের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা তথ্যমতে, একজন বাংলাদেশি নারী সম্ভবত নিহত হয়েছেন। এখনো পুরো তথ্য জানা যায়নি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাঁদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ হামলার ঘটনায় তা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাঁদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলি লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হ্যাগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন এভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁরা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এ রকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম, লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেনঃ শোকাহত রাগবি তারকার আবেগঘন ভিডিও

নিউজিল্যান্ডের শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহতরা জান্নাতে যাবেন।

শুক্রবার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি।

মাথায় ক্যাপ পরা এই ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটি গাড়ির ভেতর বসে যখন এই ভিডিও দিচ্ছিলেন তখন তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। হাত দিয়ে কয়েকবার তাকে চোখ মুছতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আজ যারা নিহত হয়েছেন, তারা জান্নাতে যাবেন। নিউজিল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটায় আমি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছি।

ভিডিওঃ ‘নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেন’: শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় মার্কিন মুসলমানদের মানবাধিকার সংস্থা মুসলিম অ্যাডভোকেটস শোক জানিয়েছে বিবৃতি দিয়েছে।

এই বিভৎস হামলার ঘটনায় শোক জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে হামলার উপদ্রব বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিবৃতি জানায়, মার্কিন মুসলমান সম্প্রদায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু আজ নিউজিল্যান্ডে যে মর্মান্তিক হামলা হয়েছে, তাকে একেবারেই বিরল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গা শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী।-খবর মেইল অনলাইনের।

ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী।

শুক্রবার জমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেন পেনেহা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ফরাসি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমি দেখলাম কালো কাপড় পরিহিত একজন ব্যক্তি মসজিদের ভেতর প্রবেশ করল। এর পরই অনবরত গুলির শব্দ। মসজিদের ভেতরের সবাই তখন পালাতে লাগল।

পেনেহা ওই মসজিদটির পাশের বাড়িতেই বাস করতেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারী এ সময় মসজিদের বাইরে বের হয়ে আসেন এবং পালিয়ে যান।

পেনেহা বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর আমি মসজিদের ভেতরে আহতদের সাহায্য করার জন্য গিয়েছিলাম।

আমি গিয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। মসজিদে ঢোকার প্রধান রাস্তায়, প্রধান দরজায় এবং মসজিদের ভেতরে শুধু লাশ পড়ে আছে।

তিনি বলেন, এটি অবিশ্বাস্য উন্মত্ততা। আমি ভাবতেও পারি না; একজন মানুষ কিভাবে কারও সঙ্গে এ ধরনের কাজ করতে পারে। এটি পুরো অসহনীয়।

তিনি বলেন, আমি প্রায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে বাড়ি যাওয়ার জন্য সাহায্য করেছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, আমি এখানে প্রায় পাঁচ বছর বাস করছি। এখানকার মানুষ খুবই ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে এটি ঘটল।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here