‘অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’

0
107

বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ। আধুনিকতার নতুন সাজে পুরো পৃথিবীই এখন একদম বদলে গেছে। বছর কুড়ি আগেও যেখানে চিঠিপত্রের যুগ ছিলো কিন্তু এ কুড়ি বছরের ব্যবধানেই যোগাযোগের মাধ্যমে এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। বেশ সহজেই অডিও, ভিডিও সব ধরনের কল করা যাচ্ছে।

এ আধুনিক যুগে শুধু যে যোগাযোগ মাধ্যমের পরিবর্তন হয়েছে তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরো জীবনযাত্রাই একদম পাল্টে গেছে। মানুষের বাজার-ঘাট থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ সব কিছুই এখন এই অনলাইন নির্ভর।

আপনার খাবার অর্ডার করা দরকার? অনলাইনে অর্ডার করলেই হোম ডেলিভারি। আপনার কোথাও ভ্রমণের জন্য গাড়ি দরকার? অনলাইনে বুকিং করলেই গাড়ি আপনার দরজার সামনে।

এরকম আরো হাজারো সার্ভিস আমাদের জীবনকে একদম সহজ করে দিয়েছে। এমনকী বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ধনী ব্যাক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলো অনলাইন মার্কেট প্লেস আমাজন ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস।

সারা বিশ্বই যখন অনলাইন নির্ভর তখন বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না এমনটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও ঠিক তেমনই। হাজারো অনলাইন প্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে আমাদের দেশ। এ দেশের মানুষ এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে বেশ সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে বসেই পেতে সক্ষম হচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অসংখ্য ভুঁইফোঁড় অনলাইন ব্যবসার সৃষ্টি হয়েছে যাদের মাধ্যমে অনেক গ্রাহক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। হয়তো অনলাইনে অর্ডার করে টাকা দিয়েছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বস্তু আর চোখে দেখেননি। অথবা অর্ডার করা পণ্য আর হাতে পাওয়া পণ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আর এ কারণেই দিন কে দিন অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন লিটন একটি নামী অনলাইন শপ থেকে স্যামসাং এস৮ প্লাস মোবাইল অর্ডার করেন। অর্ডারের দুই দিন পর কুরিয়ার থেকে ফোন আসলে তিনি তার পণ্যটি আনতে যান। তারপর সেখানে ফোনের দাম বাবদ ৩৬ হাজার ২৭১ টাকা পরিশোধ করেন। প্যাকেট হাতে পাওয়ার পর খুলে চার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের প্যাকেটে ৩টি হুইল সাবান ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে।

ঠিক একই রকম ঘটনার শিকার হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের পিয়াস সরকার নামে এক যুবক। অনলাইনে একটি ঘড়ি পছন্দ হওয়ায় সেই প্রতিষ্ঠানে অর্ডার করেন। তারপর ঘড়ির দাম বাবদ এক হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু হাতে পাওয়ার পর সেই একই অবস্থা। ঘড়ির বদলে ভিতরে পেঁয়াজ ভরে রাখা হয়েছে। এটাই হচ্ছে অনলাইল শপগুলোর বাস্তব চিত্র। আর এ সকল কারণেই দিনদিন এ খাতে মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। এরকম আরও অনেক ঘটনা এ দেশে প্রতিনিয়তই ঘটছে। বিভিন্ন বাহারি ডিজাইন ও জাঁকজমকপূর্ণ ছবি তাদের গ্রাহক আকৃষ্ট করার একমাত্র মাধ্যম। পেমেন্টের জন্য তারা বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম। কিন্তু টাকা একবার হাতে পাওয়ার পরেই তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

কিছুদিন আগে আরেকটা ছবিও বেশ ভাইরাল হয়। কোনো এক ব্যক্তি অনলাইনে একটি পণ্য অর্ডার করেছিলেন এবং তার মূল্য বাবদ ঐ বিক্রেতাকে ৪০০ টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি মেসেজ পাঠিয়ে ভদ্রলোককে ব্লক করে দেয়া হয়।

মেসেজে লেখা ছিলো, ‘অনলাইনে আর কাউকে বিশ্বাস করে যেনো টাকা না পাঠান সে জন্যে আপনার ৪০০ টাকা আমি মেরে দিলাম। এতে ভবিষ্যতে কাউকে টাকা পাঠানোর আগে দশবার ভাববেন। আপনার টাকা মেরে আপনাকে একটা বড় শিক্ষা দিয়ে গেলাম’।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এসব ভুঁইফোঁড় অনলাইন শপগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন একমাত্র তাহলেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে এ ধরনের প্রতারক চক্রের কাছ থেকে। আর যদি কখনও এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হই তবে সঙ্গে সঙ্গে আইনের সাহায্য নিতে হবে।

পরিশেষে শুধু একটাই কথা। অনলাইন সেক্টরটা অনেক সম্ভাবনাময় একটি সেক্টর। দেশের প্রচুর বেকার যুবক নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস করেছে এই অনলাইন ব্যবসার জন্য। অনেক নারীও নিজেদের স্বাবলম্বী করেছেন বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে। দেশের আয়ের জন্যে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন এ মানুষগুলো। সরকার যদি এ সেক্টরের প্রতি বিশেষ নজর দেয় তাহলে দেশ পরিবর্তনের জন্য একটি বড় ভুমিকা রাখতে পারবে এ সেক্টরটি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভাগ্নেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি খালার!


মাদারীপুরের শিবচরে ভাগ্নেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন তারই আপন খালা মাকসুদা বেগম।

অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর খালা মাকুসদা বেগমের সহযোগিতায় রাখা গোপন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নিরবকে (৭)। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অপহৃত নিরব মুন্সীগঞ্জের লৌহজং কামাল শেখের ছেলে। সে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চরচান্দ্রা গ্রামের নানা বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। নিরবের বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব থাকেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৪৩নং চরচান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নিরব। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিরবকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে খালা মাকসুদা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুনের কাছ থেকে ছুটি নেয়। পরে মাকসুদা ভাগ্নে নিরবকে নিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়।

স্কুল ছুটি হওয়ার পর নিরব বাড়িতে না যাওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। দুপুর ২টায় একটি নম্বর থেকে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনার পর বিকালে নিরবের মা বাদী হয়ে শিবচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিবচর পৌরসভাধীন বাহেরচরে মাকসুদা বেগমের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় শেফালীর বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। রাতেই শিশুটির খালা মাকসুদাকে পুলিশ আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অপহরণ নাটকের মূল ঘটনা।

অপহৃত নিরব জানায়, আমার ছোট খালা মাকসুদা আমাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে স্কুল থেকে শিবচর নিয়ে আসে। পরে শিবচর পৌরসভার একটি বাসায় আমাকে রেখে খালা চলে যায়।

মাকসুদার সহযোগী শেফালী জানায়, নিরবের খালা মাকসুদা বেগম মঙ্গলবার দুপুরে নিরবকে ২ ঘণ্টার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়। আমি বুঝতে পারিনি যে, এই শিশুটিকে অপহরণ করে আমার কাছে রেখে গেছে।

অপহরণকারী মাকসুদা বেগম বলেন, আমি এই অপহরণের বিষয় কিছুই জানি না। আমি আর আমার বোন (নিরবের মা) দুজনই ব্যাংকে আসছিলাম টাকা উত্তোলন করতে। আমি আমার ভাগ্নেকে অপহরণ করিনি।

চরচান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, আনুমানিক বেলা ১১টায় ইংরেজী তৃতীয় ক্লাস চলছিল। ক্লাস চলাকালীন নিরবের খালা মাকসুদা এসে নিরবকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়। পরে দুপুরে আমরা জানতে পারি নিরবকে পাওয়া যাচ্ছে না।

শিবচর থানার ওসি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর পুলিশ বিকালেই অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিবচর পৌরসভাধীন বাহেরচর এলাকার শেফালীর বাসা থেকে অপহৃত শিশু নিরবকে আমরা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তার খালা মাকসুদাকে আমরা রাতেই আটক করে থানায় নিয়ে আসি।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির মা ও খালা প্রবাসী স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ টাকা লোপাট করার পাঁয়তারায় এ অপহরণ নাটকটি করেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেয়া হচ্ছে


সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে বুধবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেয়া হবে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের মেডিকেল পরিচালক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন। এর আগে হাসপাতালটির পরিচালক মানবজমিনকে বলেন, স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। এক সপ্তাহ আগে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ডা. রায়হান রাব্বীর অধীনে আইসিইউ’র ৩ নং বেডে চিকিৎসা নেন এই সাংবাদিক। মাহফুজ উল্লাহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন গত ২রা এপ্রিল রাতে। পরে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। প্রখ্যাত এই সাংবাদিক হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করা মাহফুজ উল্লাহ ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তিনি সাংবাদিকতা ছাড়াও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছেন।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ আইসিটি মামলা থেকে খালাস আলোচিত জনপ্রিয় ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি শফিউর রহমান ফারাবীকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার আগে ফারাবীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারাবী বিভিন্ন ভিআইপি ব্যক্তিদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় মুক্তমনা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের কলাম ছাপানোর কারণে পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজামকে হুমকি দিয়েছিলেন ফারাবী। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ রাজধানীর রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (রমনা জোন) ফজলুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির সামনে অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ১০টা ২০ মিনিটে অভিজিৎ রায় মারা যান। গুরুতর আহত বন্যাকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

২ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাসা থেকে ফারাবীকে আটক করে র‌্যাব।

২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় বিভিন্ন সময় সাতজন সাক্ষ্য দেন।

উৎসঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ রমজানে ২ টাকায় ১০ পদের ইফতার!


সিলেটে ‘হেল্পিং উয়িং’ নামে একটি সংস্থা রমজানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি মাত্র ২ টাকায় ৫দিন ইফতার করাবে নগরবাসীকে।

সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা কারো আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগুক এমন কিছু করতে চাচ্ছেন না বলেই ২ টাকার বিনিময়ে ইফতার সরবরাহ করতে চান।

জানা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত নগরীর সুবিদবাজার, কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ, নাইওরপুল ও চৌহাট্টাসহ ৫টি পয়েন্টে তারা ২ টাকায় ইফতার সরবরাহ করবেন।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ২টাকায় ১০টি পদের ইফতারের প্যাকেট দেয়া হবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ যথেষ্ট উপকৃত হবেন বলেও মনে করছেন তারা। অবশ্য ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ মহৎ ও সেবামূলক উদ্যোগে যেকোন সচেতন নাগরিকের শরিক হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যে কেউ সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে পারেন। নগদ টাকা দিতে পারেন। দিতে পারেন ইফতারের বিভিন্ন উপকরণ। যেমন, তেল, চাল, ডাল, জিলাপী, ডালডা, খেজুর, বুট ইত্যাদি।

যারা এসব কিছুই দিতে পারবেন না বা দিবেন না, তারা কেবল নিজের শ্রম দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এ উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকতে পারবেন।

বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ‘হেল্পিং উয়িং’ কে স্বাগত জানাচ্ছেন।

জিন্দাবাজার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হানিফ বলেন, এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। রমজানে রোজাদারদের আবেগ-অনুভূতিকে পুঁজি করে সবাই যখন অতিরিক্ত রোজগারের ধান্দায় ব্যস্ত থাকেন, তখন ২ টাকায় ইফতার সরবরাহ নিঃসন্দেহ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এছাড়াও তিনি নিজে এ উদ্যোগের সাথে শরিক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ।

নগরীর কাজিরবাজার এলাকার বস্তিবাসী সামেলা খাতুন জানান, ৫দিন হলেও তিনি প্রতিদিন ২ টাকার ইফতার আনতে যাবেন। অন্তত ৫দিন ১০টি আইটেম দিয়ে ইফতার করা তার কাছে বিশাল ব্যাপার। তিনি সিলেটের সচেতন সর্বস্তরের জনগনকে উদ্যোগটিতে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

উদ্যোগটির সাথে জড়িত হতে আগ্রহীরা ০১৭১১৩৭৯৩৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

উৎসঃ ‌আওযার ইসলাম

আরও পড়ুনঃ একটি সিন্ডিকেট পুরো পরিবহন সেক্টর দখল করে নিয়েছে


একটি সিন্ডিকেট পুরো পরিবহন সেক্টরকে দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের পরিবেশবাদিরা। এ পরিবহন সিন্ডিকেট হাইকোর্টের রুলকেও পরোয়া করেনা বলে তারা মনে করেন। আর এজন্য সড়কে মৃত্যুমিছিল ও বিশৃঙ্খলা রুখতে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে বলে পরিবেশবাদিরা অভিমত ব্যক্ত করেন পরিবেশবাদিরা।

বুধবার পবা কার্যালয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পরিবেশবাদিরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আব্দুস সোবহান, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, ক্যাব নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান মল্লিক, মো: সেলিম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেটের জিম্মায় চলে যাচ্ছে কোম্পানিগুলোর বাস। যে কারণে যাত্রীদের সঠিক সেবা তারা প্রদান করতে পারছে না। বিভিন্ন কোম্পানি যে সংখ্যক ও যে মানের বাস চালানোর শর্তে রুট পারমিট পায় তারা তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক এবং নিম্নমানের বাস চালায়। কোম্পানীর যেখানে ৫০ টি বাস চালানোর কথা সেখানে তারা চালাচ্ছে ১০ টি বাস। কম বাস চালানোর কারণে যাত্রীদের গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যাত্রীরা পরিবহন না পেয়ে চলন্ত বাসে ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা করে এতে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। আর চাহিদা থাকায় গেট লক না দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে বাস কোম্পানিগুলো। তাই প্রয়োজন প্রতিটি রুটে পিক ও অফ-পিক সময়ে শর্ত অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণে বড় বড় বাস চলাচল নিশ্চিত করা।

তারা বলেন, রাস্তায় যাত্রী উঠানো নামানো ও বেপরোয়াভাবে বাস চালানো কমাতে বাসচালকদের বেতন ট্রিপভিত্তিক না করে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। বাস চালক ও নির্দিষ্ট কোম্পানির হাতে বাসের দায়িত্ব দিলে যাত্রীসেবার মান কমবে কিন্তু ভাড়া বাড়বে, সড়কে নৈরাজ্য আরো বাড়বে।এছাড়া ঢাকা মহানগরীরর বিভিন্ন রুটে ৬ টি কোম্পানীর বাস চালানোর সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী হবে বলেও তারা মনে করেন। এতে বাস মালিকদের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী দানবীয় আকার ধারণ করবে। সারাদেশ তাদের হাতে পণবন্দি হয়ে পড়বে। অনেকগুলো কোম্পানি থাকার পরও আমরা দেখি কিছু কোম্পানি সরকারের সিদ্ধান্ত, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। কোম্পানির সংখ্যা কমিয়ে অল্প কয়েকটি করা হলে তারা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাবে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে পুরো যাতায়াত ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে।

বক্তারা বলেন, সড়কে মড়ক থামছেই না। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে দেশব্যাপী কিন্তু তা প্রতিরোধ করতে তেমন কোনো উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়ে না। সড়কে নৈরাজ্য, মৃত্যুমিছিল ও জনদূর্ভোগ ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কোনটিরই সুফল স্থায়ী হচ্ছে না। উপরন্তু জনদূর্ভোগ ও যাতায়াত খরচ বেড়েই চলছে। সম্প্রতি সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজাহান খানের নেতৃত্বে সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির ১১১টি সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগের কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সাধারণ ও সচেতন মহলে রয়েছে বড় প্রশ্ন।

এজন্য পরিবেশবাদিরা কয়েকটি সুপারিশ করেন। তারা বলেন, মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাফিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট করতে হবে। তারা বাসের রুট নির্ধারণসহ সময়, গতি ও অন্যান্য পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং জাতীয়ভাবে একটি কেন্দ্রিয় ট্রাফিক প্ল্যানিং এবং মনিটরিং ডিপার্টমেন্ট থাকবে। এই ডিপার্টমেন্ট সারাদেশে চাহিদা অনুসারে রেল, নৌ, সড়ক ও আকাশপথের সাথে সমন্বয় সাধন করে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন সেবার বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনাক্রমে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন মনিটরিং করবে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ রাসেলকে ৫ লাখ টাকা দিল গ্রিন লাইন, বাকিটা এক মাসে


বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বেলা ৩টায় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের উপস্থিতিতে এই চেক প্রদান করা হয়।

বাকি ৪৫ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে রাসেলকে বুঝিয়ে দিতে গ্রিন লাইনের মালিককে নির্দেশ দিয়েছে ওই বেঞ্চ।

রাসেল ও গ্রিন লাইন পরিবহনের মালিক হাজী মো. আলাউদ্দিনের উপস্থিতিতে আদালত এই আদেশ দেয়।

পরে দুই বিচারক গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে বলেন, রাসেলের চিকিৎসায় তো অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা আমরা দিতে বলেছি। এত কম দিয়েছেন কেন?

জবাবে গ্রিন লাইন মালিকের পক্ষের আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, আমরা এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছি। এর মধ্যে ভাগে ভাগে টাকা দেব। তখন আদালত বলেন, ভাগে ভাগে না, একসঙ্গে দিতে হবে।

এরপর এক মাসের মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা রাসেল সরকারকে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে রাসেল সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত ডান পায়ের চিকিৎসা সাভারের সিআরপিতে করানোর ও বাম পায়ে কৃত্রিম পা লাগানোর চিকিৎসা করাতে আদেশ দেন আদালত।

আদালতে গ্রিন লাইন মালিকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শামসুল হক রেজা।

প্রসঙ্গত গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী ধোলাইরপাড় প্রান্তে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় পা হারান এপিআর এনার্জি লিমিটেডের চালক রাসেল।

বাসচালক কবির বেপরোয়া গতিতে পেছন দিক থেকে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। বাসের সামনে গিয়ে কবিরের কাছে ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চান রাসেল।

এর জের ধরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবির ইচ্ছা করেই রাসেলের শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। দ্রুত সরার চেষ্টা করলেও এক পা বাঁচাতে পারেননি রাসেল।

ঘটনাস্থল থেকে রাসেলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রিন লাইন বাসের চালক কবির মিয়াকে একমাত্র আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন রাসেলের ভাই আরিফ সরকার।

পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলের কথা বলা ক্ষমতাসীনদের দুরভিসন্ধি: রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে অস্থির। তিনি তো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াতেই জামিনে মুক্তি পাবেন, তা হলে ক্ষমতাসীনদের এই প্যারোলের কথা বলাটা তো দুরভিসন্ধিমূলক।

তিনি বলেন, সরকারের আচরণে স্পষ্ট হয়েছে, জনগণের নেত্রীকে জনগণ ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য তার জীবন পণবন্দি করেছে। এখন তার জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে প্যারোলের কথা বলছেন।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকারের গভীর ষড়যন্ত্র এবং কুমতলব এখন পরিষ্কার। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চায়। প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসছে? তিনি তো নির্দোষ।

‘দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকার সম্পূর্ণ সাজানো মিথ্যা মামলায় তাকে জোর করে বিনাচিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যার জন্য জেলেবন্দি করে রাখা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই টাকার বিষয়ে কোথাও তার কোনো স্বাক্ষর নেই, সেই টাকা এখনও ব্যাংকে জমা আছে। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত অবিরাম মিথ্যায় ভাঙা ঢোল বাজিয়েই যাচ্ছেন- খালেদা জিয়া নাকি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। এতিমের টাকা মেরে খেলে ব্যাংকে সেই টাকা, যা এখন সুদে-আসলে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা হলে খালেদা জিয়া সেই টাকা কোথায় সরালেন? এটার উত্তর কী দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা কথা বাদ দিয়ে গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। প্যারোলের কথা বলে কোনো ধোঁয়াশা সৃষ্টি করবেন না। কারণ কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। নির্দোষ খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে জনগণই রাজপথে নেমে এসে তার মুক্তি আদায় করে নেবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হজে গিয়ে মারা গেলেন ড. জসিম নদভী, সৌদিতে দাফন


চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ইসলামিক স্কলারসের সদস্য ড. জসিম উদ্দীন নদভী হজে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌদি আরবে মারা গেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় তিনি মক্কার কিং ফয়সাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে জানাজা শেষে তাকে অসংখ্য সাহাবা কেরামের স্মৃতি ও পুণ্যধন্য জান্নাতুল মুআল্লায় দাফন করা হয়।

স্ত্রী ও মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। ডায়াবেটিস, জ্বর, কাশি হওয়ার কারণে তিনি কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে তার একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল।

ড. জসিম উদ্দীন নদভী কক্সবাজার জেলার মহেশখালী মাতারবাড়ীতে ১৯৬৮ সালের ৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ার আল-জামেয়া ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন।

এর পর ভারতের নদওয়াতুল উলামা থেকে আলমিয়্যাতে কৃতিত্বের সঙ্গে ‘নদভী’ উপাধি লাভ করেন। মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে (১৯৯৬ সালে) ‘কুল্লিয়াতুশ শরিয়া’তে অনার্স সম্পন্ন করেন। মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু দিন পড়াশোনা করেন।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরআনিক সায়েন্স বিভাগ থেকে তিনি ২০০৮ সালে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৭ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডির বিষয় ছিল ‘একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামী দাওয়াতের পন্থা ও মাধ্যম’।

বাংলাদেশের বরেণ্য আলেমদের মাঝে তিনি একজন উদ্যমী ও স্বাপ্নিক মানুষ ছিলেন। আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে মাঠে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল


খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে মাকারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এই মুহূর্তে বিএনপির এক নম্বর এজেন্ডা। এই দাবিতে বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টের সাথে বিএনপির কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হলেও, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সোচ্চার হওয়ায় উভয়ের সম্পর্কে সুবাতাস বইছে। এর ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামতে চাওয়া বিএনপির তৃণমূলেও একধরনের সন্তোষজনক অবস্থান লক্ষ করা গেছে।

বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে গত রোববার রাজধানীতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এই কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি জোরালো। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্টের বন্ধন অটুট রাখার পাশাপাশি বেগম জিয়ার মুক্তি দাবি নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তাদের দেয়া বক্তব্য নেতাকর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছে।

ওই অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, স্লেøাগান দিলে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন না। তাকে মুক্ত করতে হলে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়তে হবে। এখন এক লাখ কর্মী জেলে আছে, ৫০ লাখ কর্মীর নামে মামলা আছে। দরকার হলে আরো ৫০ লাখ আমরা কারাগারে যেতে রাজি আছি, এমন প্রত্যয় থাকলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন। আমি এখনই আপনাদের সাথে রাস্তায় নামতে রাজি আছি, আপনারা রাস্তায় নামবেন কি না বলেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণতন্ত্র, বেগম খালেদা জিয়া এবং ন্যায়বিচার এক হয়ে গেছে। আজকেই যদি নির্বাচন হয়, আমি তো বলতে পারিÑ বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যদি শেখ হাসিনা একটা গণভোটে আসেন, তাহলে শেখ হাসিনা পাঁচ পার্সেন্ট ভোটও পাবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অতি শিগগিরই মুক্তি পাবেন, তাকে জনতার আদালত মুক্তি দেবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে দিন বেগম জিয়া বেরুবেন, সে দিন ঢাকা মহানগরে মানুষের ঢল নামবে।

জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি উঠছে না, বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এমন আলোচনাকে আমলে নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। যার ফলে ফ্রন্টের গত ২৯ মার্চের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনার বিষয় ঠিক করতে গিয়ে প্রথমে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ওই বৈঠকে নেতারা এ-ও বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে আগামী দিনে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। আর সেটি করতে হবে ফ্রন্টের মূল দল বিএনপির দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে ধারণ করেই। এ কারণে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিকেও তারা এখন থেকে আরো বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরবেন।

জানা গেছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়াকে ধারণ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুর পাশাপাশি পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। রমজানের আগে বিভাগপর্যায়ে মতবিনিময় কিংবা গণশুনানির মতো একাধিক কর্মসূচি নেয়া হতে পারে। এ ছাড়া ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের অনিয়ম নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি যে গণশুনানি করেছে ঐক্যফ্রন্ট, তা শিগগিরই বই আকারে বের করা হবে। ওই শুনানিতে বিচারকের দায়িত্বে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও মূল্যায়ন ছাপা হবে বইয়ে। ভোট ডাকাতির সচিত্র বর্ণনাসংবলিত ওই বই বিভিন্ন দূতাবাসে দেয়া হবে। একই সাথে পাঠানো হবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছেও।

আলাপকালে দলের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন, বিএনপির ঐক্য অটুট রয়েছে। তবে এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার পাশাপাশি শীর্ষনেত্রী কারাগারে থাকায় নেতকর্মীদের মধ্যে অভিযোগ-অনুযোগ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখেই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একদফা দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এই আন্দোলন মূলত রমজানের পরেই শুরু হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করাই আমাদের এক নম্বর এজেন্ডা। আইনি লড়াই চলছে। রাজপথেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় মসজিদের ইমামকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে এক মসজিদের ইমাম’র উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইমামকে প্রকাশ্যে-রাতভর মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীরা।

৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ টেকপাড়া গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ একই ইউনিয়নের টেকপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ’র ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও চিহ্নিত মাদক কারবারী নুরুচ্ছবি এবং জাফর আলম ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে। হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি ও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইয়াছিন হাবিব।

৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা। সংবাদ সম্মেলনে আহত হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন-মাদক ব্যবসা ও সেবনের কুফল সম্পর্কে মসজিদে আলেমদের সচেতনতামুলক বক্তব্য দিতে অনুরোধ জানান প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশনা মতে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে আলোচনা করেন ইমাম মাওলানা আবদুর রশিদ। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ইমামের উপর নির্যাতন চালায়। এলাকার মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের সামনে একজন আলেমকে চরম অপমানিত করে। তাতে পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠে।

ভিকটিম হাফেজ আবদুর রশিদ জানান, মাদকের কারণে এলাকার করুণ অবস্থা। ছোট বড় সব বয়সের মানুষ ভয়ানক পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই নামাজ শেষে ও বিভিন্ন আলোচনায় মাদকের কুফল তুলে ধরেন তিনি। তাতে মাদক কারবারীরা নাখোশ। আবার অনেকেই মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে ফিরে এসেছে। ইতিপুর্বে আমাকে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য না দিতে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেয়। অবশেষে ৭ এপ্রিল রাতে আমাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে প্রথমে নুরুচ্ছবির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেধে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক এর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানসহ ভোর ৪ টা পর্যন্ত নির্যাতন চালায়। হামলার সময় ইমামের ৬ সন্তান ও স্ত্রী গেলেও তাদের সামনে আরো মারতে থাকে। এ হামলা দেখে ইমামের বড় মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে সকালে স্থানীয় মেম্বার আবদুর রাজ্জাক খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈদগাঁওর’র একটি বেসরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভিকটিম হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ আরো বলেন-হামলার দিন রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত হাত-পা বেধে হামলা চালিয়ে তা ভিডিও ধারন করে চেয়ারম্যান পুত্র ইমরুল কায়েস তার ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে চেয়ারম্যান আমার থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় ও এ কথা কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।

হেফাজত নেতা মাওলানা ইয়াছিন হাবিব বলেন-নির্যাতনকারী ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও তার লালিত সন্ত্রাসী নুরুচ্ছবি, জাফর আলমকে আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর র্সবস্তরের জনগণ ও আলেম-উলামাকে নিয়ে আন্দোলন করা হবে। তিনি আরো বলেন-জাতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে সরকারের সহযোগি হিসেবে কাজ করছে আলেম সমাজ। এর অংশ হিসেবে সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে মুসল্লিদেরকে সচেতন করছিলেন ভিকটিম মাওলানা আবদুর রশিদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগি চেয়ারম্যান উক্ত ন্যাক্কারজনক কাণ্ড- ঘটায়।

তিনি আরো বলেন-মাদক, মদ, জুয়া-বেহায়পনার বিরুদ্ধে মসজিদে বক্তব্য দেয়ার কারনে এভাবে হামলার শিকার হতে হয় তাহলে আর কোথায় যাবো আমরা। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন-অবশ্যই এই বিতর্কিত চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও তার লালিত সন্ত্রাসী নুরুচ্ছবি এবং জাফর আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কক্সবাজারে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। তিনি আরো বলেন-অভিযুক্ত চেয়ারম্যান একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী তাই মসজিদে সামাজিক আন্দোলন স্বরূপ ইমাম সাহেব নামাজ শেষে মাদকের বিরুদ্ধে বয়ান করেন। সেই মাদক বিরোধী বয়ান উক্ত চেয়ারম্যান সহ্য না করতে পেরে এ ন্যাক্করজনক হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন-হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ, সদস্য মাওলানা আখতার কামাল, হাফেজ মো: শাহজাহান ও আহত ইমাম আব্দুর রশিদের শাশুড় হাজী ফজল করিমসহ অসখ্য হেফাজত নেতা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌কক্সবাজার নিউজ

আরও পড়ুনঃ জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের ভোট বিশ্বাস করে না: নজরুল ইসলাম খান


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে বিশ্বাস করে না। প্রহসনের ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যার প্রভাব আগামীতে আরও স্পষ্ট হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিক দলের উদ্যোগে সংগঠনের প্রয়াত কাযর্করী সভাপতি আবদুল কাশেম চৌধুরী, মহানগরের সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল ও রেল শ্রমিক দলের মোহাম্মদ উল্লাহ ভুঁইয়ার স্মরণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বন্দি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলেও এই সরকারের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এটা বুঝতে পেরে তারা ২৯ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ভোটের বাক্স ভরে ফেলেছে। নির্বাচনের দিনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে অনিয়মের ভোট করেছে এই সরকার। ভোটারদেরকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রেখে পুরো নির্বাচন পদ্ধতির উপর তাদের অনীহা সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বন্দি। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমরা চাই-সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এটা তার প্রাপ্য।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ তারেক রহমানকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে চিঠি


সরকারের কথিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নেই। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

আর বিএনপির অভিযোগ, তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে আবেদন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর সাজা কার্যকরের কথা বলে আসছেন। এরই মধ্যে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হলো।

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা তাঁকে (তারেক রহমান) ফেরত চেয়েছি। আমরা ব্রিটিশ সরকারকে জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে রায় হয়েছে। তাঁর অপরাধের ব্যাপ্তি, অপরাধের প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি যে কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন সেই তথ্য, আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আমরা যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

সরকারের ওই আবেদনের প্রাথমিক জবাবও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। ওই আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। দুই দেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তবে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চুক্তি না থাকার বিষয়টি এই ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। এটা বলে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি না থাকলেও বিভিন্ন দেশের বন্দীকে আমরা ফেরত দিয়েছি। চুক্তি নেই এমন বেশ কিছু কাজে যুক্তরাজ্যকে আমরা সহযোগিতাও করি। তবে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে এই রকম চুক্তি যদি বাধা হয়, আমরা চুক্তি করব।’

এই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের (সরকার) যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তা বিএনপির ওপর, বিএনপির নেতৃত্বের ওপর, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের ওপর চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ। তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। এখন যদি তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করা হয়, তাহলে সেটি অমানবিক বিষয়।

তারেক রহমানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে লন্ডনে অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল বলেছেন, এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। এটি আইনগত বিষয়। তিনি বলেন, কাউকে ফেরত নিতে হলে যুক্তরাজ্যের ২০০৩ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে তথ্যপ্রমাণসহ। ওই দপ্তর আবেদনটি আদালতে পাঠাবে। আদালত আবেদনের তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে।

এই বিষয়ে জানতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের আইনজীবী এ কে এম কামারুজ্জামান বলেন, তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়া রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনৈতিকভাবে সরকার ফেরত চাইতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে ব্রিটিশ আদালতে শুনানি হলে সেখানে সবোর্চ্চভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে সেটা অনেক দূরের কথা। আদৌ এটা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ বাকশাল কায়েম করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল


বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সোমবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ আজ অধিকারহারা, তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ধুলায় লুটিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। চোখের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে কেউ যাতে সাহসী না হয় সেজন্য ক্ষমতাসীন সরকার হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের তৎপরতা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে উপেক্ষা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক দমন নীতির অংশ। এটি গণবিরোধী সরকারের চলমান দমন পীড়ন, মধ্যরাতের নির্বাচনের পরও শেষ হয়নি, বরং আরো তীব্র গতিতে চলছে।

তিনি বলেন, সকল অপকর্ম ও দুঃশাসনের জন্য বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে। জনগণ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here