প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে বাংলাদেশ

0
420

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা এক মাসের হিসেবে রেকর্ড।

এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার; ২০১৪ সালের জুলাই মাসে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে।

রেমিটেন্সের এই অংক গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

তথ্য পর‌্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৯০৮ কোটি ১৩ লাখ (প্রায় ৯.০৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ৮৩১ কোটি ২০ লাখ (৮.৩১ বিলিয়ন) ডলার। এ হিসাবে সাত মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচ রেমিটেন্সে সুখবর দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল।

গত বছরে এক হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ (১৫.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা। এই অংক ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়াতে মার্কিন ডলার-টাকার বিনিময় হার ৮৫ টাকা করার পরামর্শ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন করেছে। বাংলাদেশেও হয়েছে; তবে এ দেশগুলোর তুলনায় খুবই কম।

তথ্য দিয়ে এই গবেষক বলেন, গত ছয় মাসে ভারতীয় মুদ্রা রূপির বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। সে তুলনায় বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ মাত্র।

“রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়াতে খুব শিগগিরই ডলালের দর ৮৫ টাকায় ‘স্থির’ করে দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা হলেও ব্যাংকগুলো ৮৫ টাকা পর‌্যন্ত ডলার বিক্রি করছে।

“আমার বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দরই ৮৫ টাকা বেধে দেয়া উচিৎ।”

এদিকে রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশের বিশেী মুদ্রার ভান্ডারও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

রোববার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালের পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের নীচে নামেনি।

টাকার বিপরীতে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন আহসান এইচ মনসুর।

তবে গত অর্থবছরের মতো এবার হয়তো ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে না। ৭/৮ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হবে হবে বলে জানান এই অর্থনীতির গবেষক।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী, প্রবাসী এই কর্মীদের পাঠানো অর্থ সচল রাখছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী, প্রবাসী এই কর্মীদের পাঠানো অর্থ সচল রাখছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর‌্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৩৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

আর বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ১২০ কোটি ২ লাখ ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল।

রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাশুল কমানোর সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছর রেমিটেন্স বাড়ে। খরা কাটিয়ে বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে।

বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মত।

উৎসঃ ‌বিডিনিউজ

আরও পড়ুনঃ সেই প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের হাত-পা বাধা অবস্থায় ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার!


অবশেষে সেই প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন। তাকে গুম করে হত্যা করে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধামইরহাটের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে ঐ শিক্ষক বিবেকের তাড়নায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার জন্য কাউকে তথ্য সরবরাহ করেন। কোনো এক মাধ্যমে সেই পোস্টটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু নামে এক ব্তাযক্তির নিকট আসে এবং তিনি গত ১লা জানুয়ারি সে শিক্ষকের লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এর প্রায় একমাস পর তাকে গুম করে হতায় করা হয়। এই খবরটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের সেই ব্যক্তিই আবার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে গত ৩১ জানুয়ারিতে ফেসবুকে লাশের ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলঃ 

“আমি কয়েকদিন আগে আমার একটি স্ট্যাটাসে একজন শিক্ষকের কথা লিখেছিলাম যিনি ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে নির্বাচনের আগের দিন ২৯শে ডিসেম্বরে রাতের আঁধারে ক্ষমতাসীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিডিআর, র‍্যাব, আনসার এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে সারা দেশের ৪০১৩৩টি ভোট কেন্দ্রে স্মরণকালের ঘৃণ্যতম, ন্যাক্কারজনক, নিকৃস্ট ভোট ডাকাতির যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ঐ ঘটনাকে প্রতিহত করতে না পেরে তিনি বিবেকের তাড়নায় সেই দিনের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন।

আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে আমার ঐ স্ট্যাটাসে তার নাম পরিচয় তখন প্রকাশ করিনি। কিন্তু কোন না কোন ভাবে হয়তো তার নামটি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলো। তাইতো গত ২৪শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ধামইরহাটের একটি ডোবা থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় ঐ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। (কিন্তু কিছু পত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, ১৭ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার ঘুকশী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।)

এমএ জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের ঐ শিক্ষক যিনি নওগাঁর ধামইরহাটের জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে এবং জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে বিএম শাখার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

ঘটনাটি শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। বাংলাদেশ এখন যেনো একটি মৃত্যুপুরী।

আমি আমার সেই পুরনো ঐ স্ট্যাটাসটি আবারও সকলের জন্য নিচে সংযুক্ত করলামঃ

একজন শিক্ষক যিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালিন করেছিলেন।

সেই শিক্ষকের লেখাটিতে ভোট জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছেঃ

এক প্রিজাইডিং অফিসারের আত্মগ্লানি, চরম একটি জঘন্য অভিজ্ঞতা; একা একা কেঁদেছি নিজের অক্ষমতায়। নিজের দেশ, জাতি ও জনগণের বিরুদ্ধে সীমাহীন এ অপকর্মের অনন্যোপায় সঙ্গী হয়ে! আমি একজন প্রিজাইডিং অফিসার ছিলাম। আমার কিছুই করার ছিলো না। আমার কেন্দ্রে ভোটার ছিল ২৩৮৭ টা। ওরা রাতেই ১৫০০ ব্যালটে সীল মেরেছে। দিনে জোর করে আরো ৪০০ ব্যালট নিয়ে ও নিজেদের লোক দিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।

শুধু এভাবেই ওরা ভোট নিয়ে নেয় ১৯০০; এই কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে মাত্র ২৭ ভোট, তাতেই তাদের মাথা গরম।
এই ২৭ জন কারা, এটাও তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে! বলছি আসল কথা; এসপি, ডিসি, নৌকার প্রার্থী এরা সকলে বসে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, এভাবেই ভোট হবে।
এতে কোন লুকোছাপা ছিলো না। ছিলো না কোন গোপনীয়তার ব্যাপারও।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের পুলিশ অফিসারদের প্রশ্রয়ে ও সম্মতিতে খুব নিরাপদে, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভোট ডাকাতি করেছে, কিছুই করার ছিলো না অন্য কারো! তাদের সামনে আমরা সকলে ছিলাম নিস্তেজ ও অসহায়। বলা হয়েছিলো, স্থানীয় নেতারা যেভাবে বলে ঠিক সেভাবেই সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের এখানে সব কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

আমাকে জোরাজুরি করায় প্রথমে ৬০০ ব্যালট (৬ বান্ডিল) দেই। সীল শেষে আবার চাইতে আসে ব্যালট, আমি নিষেধ করায় ফোনের পর ফোন। পরে আরো ৬ বান্ডিল দেই। সেগুলো সীল মারার পর আবার আসে। এবারো দিতে চাই নাই বলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা হুমকি দেয়। তারপর আরো ৩ বান্ডিল দেই, মোট ১৫০০ (পনের শ’)।

এই সকল কর্মীদের নাকি এসপি, ডিসি বলে দিয়েছে, যে কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল গ্রুপ পুরস্কার পাবে। ওই নেতা রেগেমেগে চিৎকার করে বলে, আপনি আমাকে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করতে চান?

আমাদের এক নারী সহকর্মীকে নৌকা প্রার্থী কেউ একজন ধমক দিয়েছিলো। ঘটনাটি ডিসি’কে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি বলেছেন, কোন হেল্প পাবেন না, বিপদ তৈরী করছেন কেনো? প্রশাসন ও পুলিশের জুনিয়র কর্মকর্তারা আমাদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকালেও তারাও ছিলো অসহায়।

আমার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যকে এসপি ও ওসি যে অর্ডার দিয়েছিলো, তাতে সে হতবাক হয়েছিলো! তার চোখের কোণে আমি দু’এক ফোঁটা জলও দেখেছি। প্রশাসনে আমাদের মতো ছাপোষা মানুষদের উপরের পর্যায়ে কি ঘটেছে, শুনলে আৎকে উঠবেন। বিভিন্ন জেলায় এসপি, ডিসি সাহেব, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশের অফিসাররা একসাথে বসে, সবাই মিলে মিটিং করে প্ল্যান করেছেন। নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করতে জেলায়, জেলায় ডিসিরা ডিনারের দাওয়াত দিয়ে ২/৩ বার মিটিং করেছে। জেলা পর্যায়ের সব অফিসারদের একই অর্ডার দেয়া হয়েছে।

তারপর সব প্রিজাইডিং অফিসারদের ডাকা হয়েছে, তাদেরকে ব্যালট দিয়ে দিতে বলা হয়েছে আগের রাতেই। তারপরেও ভোটারের চাপ সৃষ্টি হলে নৌকার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মিছেমিছি মারামারি করবে, সে কারণে বিজিবি ডাকা হবে, বিজিবি আসার পর এক/দেড় ঘন্টা ভোট স্থগিত রাখতে হবে। সবশেষে ভোট গুনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে চলে আসতে হবে!

প্রিজাইডিং অফিসাররা যেনো বিপদে না পরে তাই ডিসি বলে দিয়েছে, আপনি যদি আমার কথা শুনেন আমি রক্ত দিয়ে আপনাকে রক্ষা করবো, আর যদি আমার কথা না শুনেন তাহলে রক্ত নিতেও দ্বিধা করবো না।

লেখক: প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক

[এই খবরের পুরো স্ট্যাটাসটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে সংগ্রহীত]

আরও পড়ুনঃ সরকার ভিন্নমত দমনে আদালতকে ব্যবহার করছে, বলেছেন সাংবাদিক মাহফুজউল্ল্যাহ


সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্ল্যাহ বলেন, নির্বাচনের আগ থেকে শুরু করে, গায়েবি রাজনৈতিক হয়রানি মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিরোধী দলের কর্মী সমর্থক হাইকোর্টে হাজির হচ্ছে, আদালতের বারান্দায় আজ শারীরিক প্রতিবন্ধি পর্যন্ত আসামি হচ্ছে, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধিকে কীভাবে অস্ত্রমামলা দিলো যা কখনো সম্ভব না, আজ তাই হচ্ছে। শুধু মাত্র ভিন্ন রাজনীতি করার অপরাধে হাজারো নিরাপরাধ মানুষ হাইকোর্টে জামিন নেয়ার জন্য ঘুরছে, এটা টেকসই উন্নয়নের অন্তরায়। রোববার চ্যানেল ২৪ এর মুক্তবাক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজউল্ল্যাহ বলেন, প্রতিহিংসামূলক মামলা দিয়ে কোন দেশ এগিয়ে যেতে পারে না, কারণ এতো বিরাট সংখ্যক জনগোস্টীকে অসন্তুষ্ঠ রেখে কোন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব না।। তিনি বলেন, যে সব মামলা দেয়া হচ্ছে বিচারে দেখা যাবে এসব মামলার কোন ভিত্তি নেই। কিছু পুলিশ এই সব করছেন, আর কিছু বিবেকহীন বিচারক আছে, যারা এইসব মামলার আমলে নিয়ে বিচার করার অনুমতি দিচ্ছেন যা কোন সভ্য দেশে সম্ভব না।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস! (ভিডিও সহ)


অবশেষে ধরা খেলেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। আব্দুস সালামকে জেলে ভরে একুশে টিভি দখলে নেয়ার পরই পুরনো সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে বুলবুল তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয় এখানে। কয়েকজন নারীকর্মীকে প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতন করে আসছেন বুলবুল। চাকরি এবং মান সম্মানের কারণে বুলবুলের এসব যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি কেউ। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বুলবুলের এসব অপকর্ম আর চাপা পড়ে থাকেনি। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টেলিভিশনটির নারীকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুলবুলের ডাকা সাড়া না দিলেই নারীকর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বুলবুলের এসব অপকর্ম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন চ্যানেলটির ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানের সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, নাম প্রকাশ না করে একজন উপস্থাপিকা বলছেন, আমরা কি এখানে দেহ বিক্রি করতে এসেছি? আমরা যারা এখানে কাজ করি প্রত্যেকে আওয়ামীলীগ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি নারী সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এই বুলবুলের হাত থেকে একুশে টিভির নারীকর্মীদেরকে রক্ষা করুন।

মিনালা দিবা নামে আরেকজন নারীকর্মী বলছেন-এখানে নিউজ এডিটর মঞ্জু এবং জাহিদও এসব করে। আর এগুলো শুধু একহাতে হ্যান্ডেল হয় না। বুলবুলসহ সবাই জড়িত।

গত ৫ জানুয়ারি চ্যানেলটির বর্তমান পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সুবহান গোলাপ এখানে আসলে সাংবাদিকরা অভিযোগ জানাতে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেয় বুলবুলের সমর্থকরা। বুলবুলের ধারণা দেখা করতে পারলে তারা বুলবুলের সব অপকর্ম বলে দেবে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বেকায়দা দেখে বুলবুল এসময় এখান থেকে সটকে পড়ে।

You-tube ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জনগণ এখন রাষ্ট্র দাসত্ব করছে: রিজভী


বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র শুন্য। গণতন্ত্রহীনতায় বাংলাদেশের জনগণ এখন রাষ্ট্রদাসত্ব করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রবিবার (৩ ফেব্রয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্র এখন এক ব্যক্তি ও এক দলের কব্জায়। একদলীয় শাসনে রাষ্ট্র জনগণকে দাসে পরিণত করে। গণতন্ত্র মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুকতে ধুকতে শেষ নি:শ্ববাস ত্যাগ করেছে। বর্তমানেও সেই দশা বিরাজমান। এক ব্যক্তির একদলীয় শাসন নিরাপদ করতেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকানো হয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গায়েবি মামলায় এমন মানুষদের জড়ানো হয়েছে যা শুধু অদ্ভুতই নয়, এটি নিষ্ঠুর তামাশা।’

তিনি বলেন, ‘কবরে শায়িত লাশ, পক্ষঘাতগ্রস্ত রোগী, হজ পালনরত ব্যক্তি, বহুদিন ধরে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীনভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা মিয়া, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শামসুল হক যিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে অচল এবং তিনি কানেও শোনেন না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্গাচাষী মিলন মিয়া, ঢাকার আতর বিক্রেতা হাতকাটা ইউসুফসহ এ ধরণের অসংখ্য হতদরিদ্র ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদেরকে। এরা নাকি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী। যে রাষ্ট্র এতো বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন ও নিষ্ঠুর রক্তপিপাসু কেবলমাত্র সেই রাষ্ট্রেই উল্লিখিত ব্যক্তিদের অপরাধী বানানো হয়। সুতরাং সেই রাষ্ট্র পরিচালকদের অর্থাৎ অবৈধ সরকারের পতনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা ন্যায়সঙ্গত।’

রিজভী বলেন, ‘মানুষ অজানাকে জানার জন্য প্রয়োজন হয়েছে চিন্তার স্বাধীনতার। ‘দুর্গম পর্বত চুড়া, অন্ধকার অরণ্যানী, দূরবিস্তৃত মরুভূমি, বরফে মোড়া মেরুপ্রদেশ, গভীর সাগরতল, সীমাহীন আকাশ’-কোন কিছু সম্পর্কেই সে অজানা থাকতে চায় না। পৃথিবীতে দর্শন, রাষ্ট্রদর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সমাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে বিশ্বমনিষীদের চিন্তা, নিজের মত এবং অন্যের মতের সাথে বিতর্ক সবকিছু মিলিয়ে চিন্তার স্বাধীনতা মানবসমাজকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেছে। চিন্তার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় নাগরিক স্বাধীনতা। আর নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর।গন্ত্রহীনতায় বাংলাদেশের জনগণ এখন রাষ্ট্রদাসত্ব করছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণকে ফাঁকি দিয়ে ভুয়া ভোটের নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার জন্যই গায়েবি মামলায় বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীদের জড়িয়ে উল্লিখিত হতদরিদ্র দুর্দশাগ্রস্ত সাধারণ মানুষদেরকেও মামলা দিতে দ্বিধা করেনি। এদের কারো কারো নামে দশ থেকে বারোটি মামলা। ক্ষমতাসীনরা ভোগ লালসায় অস্থির হয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে গিয়ে তালবেতাল হয়ে অমানবিকতার পথ অবলম্বন করেছে। এরা মানবিক বিবেচনাগুলো পদদলিত করছে। সেইজন্য ক্ষমতা-আধিপত্যের রঙিন সম্প্রসারণে মেতে উঠেছে। গতকাল গণভবনে নির্বাচন পরবর্তী ‘২৯শে ডিসেম্বর রাতের ভোটের’ প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে শেখ হাসিনার সদাহাস্য চেহারা ও সরকারের আনুকুল্য পাওয়া উৎফুল্ল উচ্ছিষ্ট রাজনীতিবিদ চেহারা দেখে মনে হয়েছিল তারা আনন্দে মাতোয়ারা। এই আনন্দ একটি সামাজিক পাপ। গোটা জাতির সাথে নির্লজ্জ মহাতামাশার নির্বাচনের পর উল্লসিত সরকারের চা-চক্রের আয়োজন বিবেকহীন আনন্দেরই সমতুল্য। জনগণের সাথে প্রতারণাকারী সরকারের জয়ল্লোসের চা-চক্রে দেশের গণতন্ত্রমণা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণরত কোন রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করেনি। যারা জনগণের ভোট লুট করেছে তাদের সাথে গণতন্ত্রপ্রেমী কোন ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী কেউই সেই লুটের আনন্দের পাপে অংশগ্রহণ করেনি। এটাই জনগণের বিজয়।’

রিজভী আরও বলেন, ‘মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর ভুয়া ভোটের সরকারের অনুগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত গণতন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে এ নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। ডাকসু নির্বাচনে সব ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে ডাকসু নির্বাচন হবে মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের ধারাবাহিকতার আরেকটি সংযোজন।’

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সমস্যা বিএনপির নয়, জাতির: মির্জা ফখরুল


দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমস্যা আজকে জাতির, সমস্যা বিএনপির নয়। আজকে দেশ ধংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধংস হয়ে যাচ্ছে। সমস্ত অধিকার ধংস হয়ে যাচ্ছে, আর আপনারা বলছেন—বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নাই।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে ‘আওয়াজ’ নামে এক সংগঠন আয়োজিত ‘সহিংসতা ও নারী: বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে দেশে জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই, যে দেশে সংবিধানসম্মত একটি নির্বাচন করতে গিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখল করে নেওয়া হয়, সেখানে নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বিচার পাওয়া যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশে একটি দলের শাসন চলছে। তারা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে ধংস করে দেওয়ার উপক্রম করেছে। গত নির্বাচনে দেখলাম অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদ চলছে, এই সংসদ কার কথা বলবে? এই সংসদ কি নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলবে? বলবে না, কারণ হচ্ছে তাদের লোকেরাই এই কাজগুলো করছে। তাদের এই সংসদ বসানোর নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের নামে গোটা জাতির প্রতি একটি নিষ্ঠুর প্রহসন হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান। অথচ আওয়ামী লীগ যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধংস করে দিলো, সংবিধানকে লঙ্ঘন করলো সে বিষয়গুলো বলার সাহস তারা পান না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, একটা ফ্যাসিবাদ যখন চলে তার সর্বপ্রথম কাজ একটা ভয়ের সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা, জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাস-রেস্টুরেন্টে কেউ কথা বলতে চান না। তাদের সফলতা এই জায়গায়, তারা একটি ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

ফখরুল বলেন, আজকে ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা কি তার প্রাপ্য? তিনি জামিন পেয়েছেন কিন্তু তাকে তা দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৮ হাজার মামলায় ২৭ লাখ আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। সুতরাং এখন সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর সাহিদা রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. তাজমেরী ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলাদলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়ঃ দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকীয়


ভোট হয়ে গেছে প্রায় একমাস। কেমন ভোট হয়েছে তা দেশবাসী জানে। কাউকে নতুন করে কিছু বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। যে দেশবাসী ভোট ডাকাতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী তাদের সামনে যতই ভাষণ দিয়ে সাফাই গাওয়া হোক যে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে তারা তা কখনো বিশ্বাস করবে না।

এরই মধ্যে যথারীতি নয়া এমপিদের শপথ হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে এবং ৩০ জানুয়ারি নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছে। আগামী ৫ বছর ক্ষমতা পরিচালনার পুনরায় মালিকানা লাভ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন। ১০ বছর পূর্ণ করার পর তিনি আরো ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, সেভাবেই ফল এসেছে। নতুন করে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সিইসি বলেন, মূলত পুরো জাতি ৩০ ডিসেম্বর ভোট উৎসবের মাধ্যমে নতুন একটি সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ২৯৯ আসনে ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট চলাকালে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল চূড়ান্ত করা যায়নি। বাকি ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২৫৯টি আসনে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি পাঁচ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। এর বাইরে গণফোরাম, বিকল্পধারা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে। একটি করে আসন পেয়েছে তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি)। তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনের দিন আমি নিজের ভোট নিজে দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিও দেখেছি। তাতে নৌকায় ভোট দিয়েছেন এমন লোক খুব কম পেয়েছি। প্রতিপক্ষের তথা ধানের শীষের কোনো এজেন্ট দেখিনাই। ইভিএম-এ প্রথম ভোট। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, যেহেতু ভোট কারচুপির এই ডিজিটাল বড়িটা জাতিকে নির্বাচন কমিশন গেলাতে চায় সেহেতু এই পরীক্ষামূলক ৬টি আসনে হয়তো কোনো অনিয়ম হবে না। কিন্তু পরে জানলাম আগের রাতে যেভাবে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীনরা অর্ধেক ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরেছে ইভিএমএও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এটা কী করে সম্ভব হলো? এ যুগে কোনো খবরই গোপন থাকে না। তাই যেটা জানা গেল তা হলো, পূর্বরাতে একটি করে বিশেষ কোড ব্যবহার করে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট নৌকা প্রতীকে দিয়ে রাখা হয়েছে। আর দিনের বেলায় জাতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুন্দর ভোটের মহড়া দেখানো হয়েছে।
আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখার ব্যাপারটা যে সারাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে তা আর গোপন নেই। তারপরেও ভরসা পায়নি। তাই ভোটের দিনও সারাদেশে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে দখল করে নেয়া হয়েছে।

আর ভোটের আগে যেভাবে পাইকারি হারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে তাও দেশবাসী জানে। ভোটের মাঠে যাতে প্রতিপক্ষের কেউ থাকতে না পারে তার পূর্বপরিকল্পনা নিয়েই কাজ করেছে মাঠপ্রশাসন। তাতে অংশীদার হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে আড়াই শতাংশেরও কমসংখ্যক ভোটারের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিহাসের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসন দখল করে একটি নতুন সরকার গঠন করেছিল। ঐ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাসকদল ও তার জোটের প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জনগণের প্রতিরোধের মুখে এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দলগুলো এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক কোনো সংস্থাই বলতে গেলে এতে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, একমাত্র ফেমা এবং আওয়ামী লীগের বশংবদ দু’একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া। ঐ নির্বাচনে সরকার ও তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে ভয়ভীতি এবং প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের কাছে টানতে পারেনি। অনির্বাচিত এই সংসদ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় মাত্রার অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন। বিনা বাধায় তিনি এই সংসদ ও তার থেকে সৃষ্ট সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন।

এর আগে ২০০৮, ২০০১, ১৯৯৬(৭ম) এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন হয়েছিল নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেসব নির্বাচনেও কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তবে তা ছিল মাইনর। দেশে বিদেশে এই নির্বাচনগুলো প্রশংসা অর্জন করেছিল। যেসব দেশে গণতন্ত্র এবং ভোটব্যবস্থা উন্নত নয় তারা আমাদের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে মডেল হিসেবে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সে ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় সংবিধান সংশোধন করে। তার পরই হলো ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের প্রহসনমূলক নির্বাচন। অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে যে এদেশে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ হয়না তা আবারো প্রমাণ হলো।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কার্যত আওয়ামীলীগ ছাড়া কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই ছিল না। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছিল। ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে নিয়েছিল এরশাদ।

তারপর ১৯৮৬ সালে ভোট ডাকাতি আর ১৯৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তারপর থেকে দেশে সর্বসম্মতভাবেই এসেছিল তত্তাবধায়ক সরকার। এটা ছিল গণতন্ত্রের নবযাত্রা। কিন্তু তা বাতিল করার কারণে কার্যত আমাদের জনগণের আর ভোটাধিকার নেই। ভোট দিয়ে জনগণ এখন আর তাদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনতে পারছে না।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, ডাকাতির ভোটে আওয়ামীলীগ ও তার শরিকরা যতই আত্মতৃপ্তি পাক তাতে দলটির লাভ হয়নি। এই দলটি স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু জনগণের উপর দলটি কেন আস্থা হারিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল? সুষ্ঠু ভোট হলে এক টার্ম যদি দল ক্ষমতায় আসতে না পারতো তাহলে তার এমন কী ক্ষতি হতো? এতে দলের সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করছে বোদ্ধা মহল। তাছাড়াও স্বাভাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে অস্বাভাবিক ব্যবস্থাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে সেই আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হবে।

ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল যে হবে না সেটা আর এখন কারো বুঝতে অসুবিধা নেই। মূলত ভোট ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। অনেকের আশঙ্কা যে, এই টার্ম অর্থাৎ আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে ক্ষমতাসীনরা হয়তো বিএনপি তথা প্রধান বিরোধী দলকেই শেষ করে দেবে। ৫ বছর পরে হয়তো কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই থাকবে না। আবার ফাঁকামাঠে গোল হবে। অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদী একদলীয় শাসন কায়েম হতে বোধহয় আর বাকি নেই।

প্রশ্ন হলো, তারপর কী? কোনো স্বৈরশাসন বা কর্তৃত্ববাদী শাসনই স্থায়ী হয়নি। এটা প্রকৃতিরই নিয়ম। ক্ষমতার পালাবদল অবশ্যম্ভাবী। এই সরল সত্য সরকারও মনে রাখলে ক্ষমতাসীনরাই উপকৃত হবেন। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করবেন না, এটাই কাম্য।

লেখক: সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here