ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচারকারী কে এই প্রিয়া সাহা? তার ক্ষমতার উৎস কি?

0
530
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জনকে মানুষকে ডেকেছিলেন তাদের দুর্ভোগের কথা শোনার জন্য। সেখানে মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চায়না, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, নর্থ কোড়িয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান জার্মানি, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
 
তাদের প্রত্যেকেই ট্রাম্পকে তাদের নিজ দেশের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রিয়া সাহা নামের নারী ট্রাম্পকে বলেন, তার জমি জমা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিমরা, তার ঘরবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

ভিডিওঃ  ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দু নারীর নালিশ!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা নামের নারী ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ ) হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেসবের কোনো বিচার নেই।

ওই নারীর এমন বক্তব্যের পর ট্রাম্প বলেন, “কারা জমি দখল করেছে, কারা ঘরবাড়ি দখল করেছে? তখন প্রিয়া সাহা নামের এই নারী বলেন, “মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সবসময়।”

শান্তি ও সম্প্রীতির সোনার বাংলাদেশকে কলুষিত করতে বিশ্ব মোড়ল ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে সাহায্য প্রার্থনা করায় এই মিথ্যাবাদী ও উগ্র হিন্দু নারী পরিচয়য় এবং তার ক্ষমতার উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে! কী মতলব এই নারীর? সম্প্রীতি ও ভালবাসার সোনার বাংলাদেশকে এরা কেন কলুষিত করতে চায়? কে এই নারী?

কে এই প্রিয়া সাহা? 

মিথ্যা অভিযোগকারী এই মহিলাটির নাম প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়িঃ চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর। তাকে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও তাদের বুদ্ধিজীবী এবং শাহাবাগী ও নাস্তিকদের সাথে বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রায়ই দেখা যেত। এই নারী  সুলতানা কামাল, খুশি কবির, রানা দাস গুপ্ত ও পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সহযোগী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, রাশেদ খান মেনন, সুলতানা কামাল, শ্যমল দত্তের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয় সাহা ( সবার বামে)

এরাই আসল দেশদ্রোহী, দাঙ্গাবাজ যারা বহির্বিশ্বে নিজ দেশকে বাজে ভাবে উপস্থান করে রাজনৈতিক আশ্রয় (এসাইলাম ) নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রিয় সাহার ক্ষমতার উৎস কি?

প্রিয়া সাহা মহিলা ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, রোকেয়া হলে থাকতেন। এখন একটি এনজিও আছে ওনার। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নাটক করে প্রচুর বিদেশি ফান্ড কালেক্ট করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর।

প্রিয় সাহাকে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও তাদের বুদ্ধিজীবী এবং শাহাবাগী ও নাস্তিকদের সাথে বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রায়ই দেখা যেত। সেই ধরনের কিছু সংগ্রহীত ছবি সহ  আরও তথ্য এখানে উল্লেখ করা হলঃ 

আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিলের সাথে সেই মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক। তাদের দুই মেয়ে কয়েক বছর ধরে মলয় সাহার দুর্নীতির টাকায় আমেরিকায় বসবাস করছেন, কিছুদিন পূর্বে প্রিয়া সাহাকে দুদকের অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার করে এয়ারপোর্টে পৌছে দেন তার স্বামী, দুদকের সহকারী পরিচালক মলয় সাহা। সকালে এয়ারপোর্ট পৌছে ফ্লাইট মিস করেন প্রিয়া, তারপর সেদিন রাতেই আরেকটি ফ্লাইটে তিনি আমেরিকায় রওনা হন, তার বিদায় মুহূর্তে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আকবর কবিরের কন্যা তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির।

ইসলামবিদ্বেষী নারীবাদী খুশি কবিরের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা (সবার মাঝে)

প্রিয়া সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকে অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশপ্রেমী জনতা। ভুলে গেলে চলবে না তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে অলরেডি অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছেন বাংলাদেশের।

ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎকারে প্রিয়া সাহা আরও বলেন, “এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে আমি আমার ঘরবাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমাও দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এর কোন বিচার হয়নি।”

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা ( সবার মাঝে)

তবে ট্রাম্পের কাছে করা ওই নারীর এমন নালিশের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন এমন ঘটনার কোন সত্যতাই পাওয়া যায়নি। বরং এদেশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সম্প্রীতি রয়েছে। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন।

বাংলাদেশি পরিচয় দেয়া ওই নারীর এমন বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমেও ঝড় বয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, ওই নারী এমন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। অনেকেই বলছেন, এমন মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বললেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা দেখি ঘষেটি বেগম।” অপর একজন লিখেছেন, “এটা কাদের চাল হতে পারে বুঝলাম না।”

ভিডিওঃ  ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দু মহিলার নালিশ।’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার চোখে কি দেখলাম আর কি শুনলাম। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। মানুষ এতটা অকৃতজ্ঞ, বেইমান, রাজাকার, নিকৃষ্ট আর দেশদ্রোহী কেমনে হয়? আমাদের দেশে কোন দিন শুনি নাই জোর করে কাউকে কালেমা বা গরুর গোস্তো খাওয়াতে। মুসলমানদের কাছে অমুসলিমরা যতটা শান্তিতে আছে সেটা অমুসলিম দেশেও নাই। ইন্ডিয়া একটা হিন্দু দেশ সেখানেও দলিত হিন্দুদের পিটায়া মারে, মন্দিরে ঢুকতে দেয় না। সাইকেল পর্যন্ত চালাতে পারে না। এরা আমাদের দেশকে নিয়া কি ষড়যন্ত্র করে?’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্যানারে ইসলামবিদ্বেষী নারাবাদীদের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা ( সবার মাঝে)

ওই নারীর বক্তব্যের পর দেশের এবং প্রবাসের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। রীতিমতো দেশের ও প্রবাসের বাংলাদেশী নেটিজেনরা ওই নারীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তারা ট্রাম্পকে হ্যাশ ট্যাগ, মেনশন করে জানাচ্ছেন ওই মহিলা মিথ্যে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যম পুরো অনুষ্ঠানটি ফেসবুকে লাইভ করেছে। যার কারণে ভিডিওটি সকলের সামনে চলে আসে।

উৎসঃ জাগো নিউজ ২৪ ও কইয়া দিমু টেলিভিশন

আরও পড়ুনঃ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মন্ত্র পাঠ করিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ এবং ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুসলিম ছাত্র জনতা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বৃহস্পতিবার বিকালে হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

‌বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মুমতাজুল করিম (বাবা হুজুর) ।

‌সভায় বক্তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা করেন। এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উস্কে দেবে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসকনের উগ্রবাদী হিন্দুরা হরে রাম হরে কৃষ্ণ বলে মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ করে ভিডিওর মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

তাদের এমন কাণ্ডে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আমরা এই উগ্রবাদী সংগঠনটিকে এমন কৃতকর্মের জন্য জাতীর কাছে প্রকাশ্যে অনুতপ্ত হওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়া সমাবেশ থেকে প্রসাদ ভোগী স্কুল ছাত্রদের জমজমের পানি ও খেজুর খাওয়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় উক্ত সমাবেশ থেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস, আহছানুল্লাহ, মাওলানা নাছিম সাহেব, নুর মুহাম্মদ, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ,মাওলানা মহিউদ্দিন,মাওলানা আসাদ প্রমুখ।

‌বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
প্রসঙ্গত, হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে ‌চট্টগ্রামে প্রায় ৩০টি স্কুলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ তথা ‘ইসকন’ তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আওতায় কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করে।

হেফাজত ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রসাদ খাইয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ মন্ত্র পাঠের ঘটনা ‘অন্যায়’: হাইকোর্ট

ইসকন নামে হিন্দুবাদী একটি সংগঠন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে। এ ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। এসময় তিনি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনান এবং বলেন, এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ মূল হোতাদের বাচাতেই মিন্নিকে গ্রেফতারের নাটক?


বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তাকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। এরপর ঐ দিন রাতে তড়িঘড়ি করে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।​

একদিকে নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদেক হঠাৎ নিজের স্বামী হত্যার দায়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী স্ত্রী মিন্নি গ্রেফতার কেন?

তাহলে কি মুল হোতাদেরকে বাচিয়ে রাখতে এই কারসাজি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ০০৭ বন্ড বাহিনীর মূল হোতা স্থানীয় আওয়ামী এমপি পুত্র এ্যাড.সুনাম দেবনাথ। তার প্রশ্রয়েই বরগুনার সাব্বির পরিনত হয়ে ওঠে ভয়ংকর সন্ত্রাসী নয়ন বন্ডে। জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান তিন আসামির দুজন রিফাত ফরাজী ও তাঁর ভাই রিশান ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের আপন ভায়রার ছেলে। আরেক আসামি সাব্বির জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। সুনাম দেবনাথ বরগুনা সদর আসনের সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পুত্র।”

অনুসন্ধান বলছে, এই এমপিপুত্রেরই রিফাতের বাবাকে নিজের পুত্রবধু মিন্নিকে খুনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য করে। এমনকি নিজেই খুনিদের বাঁচাতে মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে গত ৩০ জুন রবিবার বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এই এমপিপুত্র। ঐদিন বক্তব্যে মিন্নিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সন্ত্রাসী সুনাম। এমপি পুত্র পলাতক আসামীদের গ্রেফতার বা গ্রেফতারকৃতদের শাস্তি না চেয়ে বরং তাদের সাফাই গাওয়ায় ব্যাপক সমলোচনার জন্ম নেয়।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার প্রধান ঘাতক নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারের পর আজ নিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের একাংশের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেও পার পেয়ে যেত নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী আর তাদের বাহিনীর সদস্যরা। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরেও ছিল ক্ষোভ আর অসন্তোষ।

অন্যদিকে, রিফাত খুনের আগের দিন নয়ন বন্ডের বাসায় মিন্নি গিয়েছিলেন বলে মিডিয়াতে নয়ন বন্ডের মায়ের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এই বক্তব্যও নয়ন বন্ডের মাকে দিতে বধ্য করে এই এমপি পুত্র। এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন মিন্নি। তিনি বলেন, ২৫ জুন দুপুরে রিফাতের ফুফাতো বোন হ্যাপির চরকলমীর এলাকার বাসায় রিফাতের পুরো পরিবার গিয়েছিল। মিন্নিও তাদের সঙ্গেই ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, মিন্নিকে গ্রেফতার করে ঘটণা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কাদের ভয়ে মিন্নির পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী? তাহলে কি প্রধান স্বাক্ষী মিন্নি আটক নাটকের মাধ্যমে ০০৭ বন্ড গ্রুপ ও স্থানীয় এমপি পুত্রকে বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?

উৎসঃ sangbad247

আরও পড়ুনঃ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটলে জালিম সরকার টিকবে না : রুমিন ফারহানা


সরকারের নানামুখি অত্যাচারের মুখে বিএনপি দিনদিন আরো বেশী শক্তিশালী হচ্ছে উল্লেখ করে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি বলেছেন, বিগত ১০ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয়াবহ নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে যাচ্ছে। নির্যাতনের স্টিমরোলার উপেক্ষা করেও নেতাকর্মীরা বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মত আমাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্যাতিত মানুষের যে ঐক্য তা আমি আজকে বিএনপির মাঝে দেখছি; এই ঐক্যই বিএনপিকে জনগণের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। ভবিষ্যতে দেশের জনগণ বিএনপিকেই ক্ষমতায় বসাবে ইনশাআল্লাহ। বৃহম্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে সরাইলে যাবার পথে আশুগঞ্জের হোটেল উজানভাটিতে যাত্রাবিরতকালে সাংবাদকিদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা এমপি আরো বলেন, আমি সংসদের একটিমাত্র অধিবেশন পেয়েছি। এই অধিবেশন চলাকালে আমি আমার নেত্রী, তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ সকল নেতাকর্মীর সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে আরো বলব। তিনি বলেন, সরকারের অব্যাহত অত্যাচার ও নির্যাতনের ফলে জনগণের মাঝে যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে যেদিন সে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে সেদিন জালিম সরকার আর টিকে থাকতে পারবে না।

এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ভৈরব টোল প্লাজা থেকে একটি বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আশুগঞ্জে নিয়ে আসেন। এসময় স্থানীয় হোটেল উজানভাটিতে তাকে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে শুভচ্ছো জানান।

হোটেল উজানভাটির হলরুমে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডাক্তার ইদ্রিছ হাসান, যুগ্ম-সম্পাদক নুর আলম, প্রচার সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোঃ ফায়জুর রহমান, উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ, যুবদল নেতা রোজোয়ান রাসেল, মোঃ জসিম উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা মোঃ তোফাজ্জল, হিমেল, মোঃ শামীম, রিফাতুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে তাকে সরাইল পৌঁছিয়ে দেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মন্ত্র পাঠ করিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ


চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ এবং ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুসলিম ছাত্র জনতা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বৃহস্পতিবার বিকালে হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

‌বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মুমতাজুল করিম (বাবা হুজুর) ।

‌সভায় বক্তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা করেন। এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উস্কে দেবে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসকনের উগ্রবাদী হিন্দুরা হরে রাম হরে কৃষ্ণ বলে মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ করে ভিডিওর মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

তাদের এমন কাণ্ডে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আমরা এই উগ্রবাদী সংগঠনটিকে এমন কৃতকর্মের জন্য জাতীর কাছে প্রকাশ্যে অনুতপ্ত হওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়া সমাবেশ থেকে প্রসাদ ভোগী স্কুল ছাত্রদের জমজমের পানি ও খেজুর খাওয়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় উক্ত সমাবেশ থেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস, আহছানুল্লাহ, মাওলানা নাছিম সাহেব, নুর মুহাম্মদ, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ,মাওলানা মহিউদ্দিন,মাওলানা আসাদ প্রমুখ।

‌বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
প্রসঙ্গত, হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে ‌চট্টগ্রামে প্রায় ৩০টি স্কুলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ তথা ‘ইসকন’ তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আওতায় কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করে।

হেফাজত ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রসাদ খাইয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ মন্ত্র পাঠের ঘটনা ‘অন্যায়’: হাইকোর্ট

ইসকন নামে হিন্দুবাদী একটি সংগঠন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে। এ ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। এসময় তিনি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনান এবং বলেন, এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

ইনকিলাবের সেই প্রতিবেদনঃ প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করাল ইনকন


স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কৃষ্ণ কুমারী স্কুলে প্রসাদ বিতরণ করে ইসকন কর্মীরা। ওই স্কুলে তখন ৮০০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীরা জানান, ইসকনের কর্মীরা তাদের প্রসাদ গ্রহণ করার আগে মন্ত্র পাঠ করতে বলে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনেকে মন্ত্র পাঠে খাবার গ্রহণ করলেও মুসলিম এবং বৌদ্ধ মেয়েদের অনেকে তাতে বিরক্তি প্রকাশ করে। অনেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসেন গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, রথযাত্রা উপলক্ষে ইসকনের কর্মীরা স্কুলের ছাত্রীদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে ইসকন কর্মীদের শেখানো নিয়ম অনুযায়ী এ খাবার খেয়েছে। তবে অনেকে খাবার খায়নি।
মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের মাঝেও ইসকন কর্মীরা প্রসাদ বিতরণ করেছে। তাদের অনেকে খেয়েছেও। অধ্যক্ষ সাহেদুল কবির চৌধুরী বলেন, প্রসাদ বিতরণ করা হবে বলে ইসকনের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়। তবে আমি সিটি কর্পোরেশন অথবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বলি। জেলা প্রশাসক তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন বলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়। আমি তাদের লিখিত অনুমতি দেখাতে বলি। তারা তা দেখাতে পারেনি। এর পরদিন তারা স্কুলে খাবার নিয়ে আসে। তখন স্কুলে ক্লাস শুরু হয়নি। এ অবস্থায় কৃষ্ণ কুমারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে আমার স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীও ওই খাবার গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম সরকারি হাই স্কুলেও এ ধরনের প্রসাদ বিতরণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই স্কুলে আমার ছেলে পড়ে। সে এ খাবার গ্রহণ করেনি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের ফুড ফর লাইফ’-এর উদ্যোগে রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর ৩০টিরও অধিক স্কুলে প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব প্রসাদ গ্রহণ করে। কলেজিয়েট স্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুসুমকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জে এম সেন স্কুল, কৃষ্ণ কুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাথরঘাটা মেনকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, অপর্ণাচরণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাথরঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্ডেল সাবিত্রী সুধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রসাদ বিতরণ হয়। প্রসাদ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ইসকন চট্টগ্রামের লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস। কর্মসূচি পরিচালনা করেন ফুড ফর লাইফের পরিচালক পান্ডব গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, রামানন্দ দাস, প্রাণেশ্বর পরমাত্মা দাস।

এটা চরম ধৃষ্টতা : হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব

স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসকনের প্রসাদ বিতরণ করাকে চরম ধৃষ্টতা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হিন্দু স¤প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে মুসলিম শিশুদের মাঝে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে উগ্রবাদী সংগঠন ইসকন। ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ শ্লোগান দিয়ে এ প্রসাদ বিতরণ করে মুসলিম ধর্মীয় চেতনাবোধেও মারাত্মক আঘাত করেছে। মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদার জায়গা থেকে এসব কুফরি শব্দ মুখে আনতে পারে না। তিনি বলেন, হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষ পুণ্যের ভাবনা থেকে তাদের দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাবারের অবশেষ এসব প্রসাদ আহার করে থাকে। এ প্রসাদ আহার করা মুসলমানদের জন্য হারাম। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। তবে নিজেদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অন্য ধর্মের কারও উপর চাপিয়ে দেয়া ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতিতে হস্তক্ষেপের শামিল, এটা সংবিধান পরিপন্থী।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে অবুঝ মুসলিম শিশু-কিশোরদেরকে এভাবে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম, মাতাজি প্রসাদ কি জয়’ শ্লোগান দেয়ানো চরম ধৃষ্টতার শামিল। মুসলিম শিশুদের পবিত্র মুখে এসব কুফরি শব্দ উচ্চারণ করিয়ে কৌশলে ঈমান হরণের অপচেষ্টা চলছে। আজ তারা কোমলমতি শিশুদেরকে প্রসাদের লোভে ফেলে মন্ত্র বলিয়েছে, কাল ভারতের মতো জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করবে না এর কী নিশ্চয়তা আছে? তিনি বলেন, এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এমন ঘৃণ্য কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। মূলতঃ এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশেও ভারতের মতো সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ইসকন নামের যে সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। তিনি বলেন, ইসকন মূলত ঃ ইহুদী পরিচালিত একটি সংগঠন। এ উগ্র সংগঠনটি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উস্কানীসহ নানাভাবে উত্তেজনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এ সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসকনকে নিষিদ্ধ করে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট অনুমতিদাতাদেরকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ইসকনের যারা এ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় মুলমানদের ঈমান আকিদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এসব উগ্রবাদি সংগঠনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত : মাওলানা আশরাফ আলী

হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী এ ধরনের ঘটনাকে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভ‚মিতে চরম আঘাত উল্লেখ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামের পূণ্যভ‚মি চট্টগ্রামে স্কুলের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের ‘হরে রাম’ শ্লোক পড়িয়ে প্রসাদ বিতরণের ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। মুসলিম শিশুদের হিন্দুপ্রেমী করে গড়ে তোলার এক হীন ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈমান আকিদা ধ্বংস করতে ভারতের মতো বাংলাদেশেও হিন্দুত্ববাদের প্রসার ঘটানোর নানা চেষ্টা চলছে। এই দেশের সুন্দর সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতিকে বিনষ্ট করে আগ্রাসী শক্তিকে ঢোকার অজুহাত তৈরির চক্রান্ত চলছে। আমরা মনে করি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা সেই কর্মসূচির অংশ। ইসকন হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়, হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পরূন ইসকন সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজনঃ ইসকন কি? কে চালায়? বাংলাদেশে তারা কি চায়?

📒 প্রথমে বলতে হয়- ইসকন কিন্তু হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়, হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন। আবু রুশদের লেখা—“বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ বইয়ে লেখা আছে- “‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলতঃ এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।”. (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)

📕 আপনাদের জেনে রাখা দরকার, ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার বিষয়, এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি, লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে। পেশায় সে ছিলো ফার্মাসিউটিকাল ব্যবসায়ী, কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় কেন হিন্দু ধর্মের নতুন সংস্করণের ভুত চাপলো, কিংবা কোন শিক্ষাবলে চাপলো তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। স্বামী প্রভুপাদ নতুন ধরনের হিন্দু সংগঠন চালু করতেই প্রথমেই তাতে বাধা দিয়েছিলো মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

📗 অধিকাংশ হিন্দুই তার বিরুদ্ধচারণ শুরু করে। কিন্তু সেই সময় স্বামী প্রভুপাদের পাশে এসে দাড়ায় জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা। (https://goo.gl/vf9wyi)। ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। সংগঠনটির বেসিক কনসেপ্ট মধ্যযুগের চৈতন্য’র থেকে আগত। চৈতন্য’র অনতম থিউরী হচ্ছে- “নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো।

📘 উল্লেখ্য- এ সংগঠনটি হিন্দুদের অধিকাংশ বেসিক কনসেপ্ট স্বীকার করে না। তারা হিন্দুদের উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়। এদের চেনার সহজ উপায়- এরা সব সময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মুলত এনজিও টাইপ। এরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করে। এ কারণে তাদের আস্তানাগুলো হয় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আস্তানার পাশে। যেমন ঢাকা শহরে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে ইসকন মন্দির হওয়ার কারণ, স্বামীবাগে রয়েছে বিশাল মেথর পট্টি। এই মেথর পট্টির নিচুবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে তারা দল ভারি করে। সিলেটেও ইসকনদের প্রভাব বেশি। কারণ চা শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ নিচু বর্ণের হিন্দু। এদেরকে দলে নিয়ে সহজে কাজ করে তারা।

📒 বর্তমানে ইসকন চালায় ডাইরেক্ট ইহুদীরা। ইসকনের মূল নীতিনির্ধারকদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ইহুদী। এটি আমার কোন দাবি নয়, এক ইসকন নেতারই দাবি।
(http://goo.gl/xS3sfH)
বাংলাদেশে ইসকন কি চায় ও কি করে ?? স্বাভাবিকভাবে ইসকনের কর্মকাণ্ড শুধু নাচ মনে হলেও আদৌ তা নয়। ইসকনের কয়েকটি কাজ নিম্নরূপ-

📕 ১) বাংলাদেশে সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের মেরে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো, পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর। (খবরের সূত্র-http://goo.gl/XwkLvm,http://goo.gl/7hegYE)

📕 ২) বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে সাম্প্রদায়িক হামলা করা। কিছুদিন আগে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদের তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো ইসকন। নামজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এবার হলো সিলেটে।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

📕 ৩) বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরী করে, উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত, ইত্যাদি। বর্তমান অনলাইন জগতে যে ধর্ম অবমাননা তার ৯০% করে ইসকন সদস্যরা।

📕 ৪) বাংলাদেশে সম্প্রতিক সময়ে চাকুরীতে প্রচুর হিন্দু প্রবেশের অন্যতম কারণ-ইসকন হিন্দুদের প্রবেশ করানোর জন্য প্রচুর ইনভেস্ট করে।

📕 ৫) সিলেটে রাগীব রাবেয়া মেডিকলে কলেজের ইস্যুর পেছনে রয়েছে ইসকন। ইসকন আড়াল থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করে এবং পঙ্কজগুপ্তকে ফের লেলিয়ে দেয়। এখন পঙ্কজগুপ্ত জমি পাওয়ার পর সেই জমি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিচারবিভাগে ইসকনের প্রভাব মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ খোদ প্রধানবিচারপতিও একজন ইসকন সদস্য। (http://goo.gl/g3w0KK)
(তথ্যসূত্র ইন্টারনেট)

📒 বাংলাদেশে যদি এখনই ইসকনকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে, যেই বিপদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হারালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা দিনদিন ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। এর কারণ হিসেবে বলতে পারি ইসকনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড খুবই উদ্বেগজনক। অনেকেই সোস্যাল মিডিয়া মারফত জেনেছেন চট্টগ্রাম চকবাজার বাকলিয়া স্কুল সহ আরো ১০ টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে রথযাত্রা উপলক্ষে গতকাল ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির এর ফুড ফর লাইফ এর উদ্যোগে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।

📗 যেই অবুঝ বাচ্চাদেরকে এই প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে এবং হরে কৃষ্ণ হরে রাম ও জয় শ্রীরাম শ্লোগান দেওয়া হয়েছে এদের মধ্যে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রী ছিল কিনা নিশ্চিত হতে না পারলেও এদের বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারের সন্তান সেব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। যাদের ইশারায় এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আজকে তারা আমাদের সন্তানদের প্রসাদের বিনিময়ে জয় শ্রীরাম বলিয়েছে কাল ভারতের মতো জোরপূর্বক জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করবে না এর নিশ্চয়তা কী? এটা মোটেও ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই না এদেশে ভারতের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হোক। এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

📕 এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি যেসব ইসকনের দায়িত্বশীল এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যদি এখনি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এদেশের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হবে। ইসকন নামক এই উগ্র সংগঠনটি ইতোমধ্যে দেশের অনেক জায়গায় ধর্মীয় উস্কানী সহ নানাভাবে উত্তেজনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যা মোটেও কারো জন্য কল্যাণকর নয়। এখনি সময় এই উগ্র জঙ্গি হিন্দু সংগঠনের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার।

[এই লেখাটির তথ্য বিভিন্ন বিশ্বস্ত সুত্র থেকে সংগ্রহীত]

উৎসঃ একুশে জার্নাল

আরও পড়ুনঃ মুসলিম শিশু-কিশোরদের মাঝে ইসকনের কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ চরম ধৃষ্টতার শামিল: আল্লামা বাবুনগরী


আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ তথা ‘ইসকন’ তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচীর আওতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশু-কিশোরদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজত ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ (১৭ জুলাই) বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে মুসলিম শিশুদের মাঝে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করে চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছে উগ্রবাদী সংগঠন ইসকন। ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ শ্লোগান দিয়ে এ প্রসাদ বিতরণ করে মুসলিম ধর্মীয় চেতনাবোধেও মারাত্মক আঘাত করেছে। মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদার জায়গা থেকে এসব কুফরী শব্দ মুখে আনতে পারে না।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পুণ্যের ভাবনা থেকে তাদের দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাবারের অবশেষ এসব প্রসাদ আহার করে থাকে। এই প্রসাদ আহার করা মুসলমানদের জন্য হারাম।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হেফাজত মহাসবিচব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। তবে নিজেদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অন্য ধর্মের কারো উপর চাপিয়ে দেয়া ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতিতে হস্তক্ষেপের শামিল। এটা সংবিধান পরিপন্থী।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে অবুঝ মুসলিম শিশু-কিশোরদেরকে এভাবে “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে, মাতাজি প্রসাদ কি জয়” শ্লোগান দেয়ানো চরম ধৃষ্টতার শামিল। মুসলিম শিশুদের পবিত্র মুখে এসব কুফুরী শব্দ উচ্চারণ করিয়ে কৌশলে ঈমান হরণের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আজ তারা আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে প্রসাদের লোভে ফেলে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ বলিয়েছে, কাল ভারতের মতো জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করবে না এর কি নিশ্চয়তা আছে?

তিনি আরো বলেন, এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবী। মূলত: এ সব কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশেও ভারতের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ইসকন নামের যে সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে, এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে ইসকন মূলতঃ ইহুদী পরিচালিত একটি সংগঠন। ইসকন নামক এই উগ্র সংগঠনটি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উস্কানী সহ নানাভাবে উত্তেজনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এ সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসকনকে নিষিদ্ধ করে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, অনতি বিলম্বে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট অনুমতিদাতাদেরকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ইসকনের যারা এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় মুলমানদের ঈমান আকিদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এসব উগ্রবাদি সংগঠনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

উৎসঃ একুশে জার্নাল

আরও পড়ুনঃ মশার ভয়ে নিজ কার্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল


মশার কামড়ের ভয়ে এখন থেকে আগারগাঁওয়ে অফিস না করে সচিবালয়ে করবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, একবার তিনি চিকুনগুনিয়া ও আরেকবার ডেঙ্গু জ্বরে ভুগেছেন। এর পর থেকে মশার ভয়ে আগারগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী এখন শারীরিকভাবে কেমন আছেন এবং এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। এটা সংসদে নিজেই ঘোষণা দিয়েছি। সে অসুখ এখন আর নেই। চোখে যে সমস্যা ছিল, সেটাও চলে গেছে। এখন চশমা ব্যবহার করি। যদিও চশমা লাগে না, তবুও ডাক্তার ব্যবহার করতে বলেছেন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওখানে (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) বেশি মশা। এ পর্যন্ত দুইবার কামড় দিয়েছে। একবার চিকুনগুনিয়া ও আবার ডেঙ্গু। এটা কোনো কথা হলো …! আমি ওই জন্য ভয়ে ওখানে যাচ্ছি না।’

বাজেট পেশের দুই দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ১৩ জুন তিনি বাজেট উপস্থাপন শুরু করলেও শেষ করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পক্ষে বাজেট উপস্থাপন করেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষপদ পেতে লবিং, পেলেই রাতারাতি ‘কোটিপতি’!


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে শীর্ষপদ পেলেই নেতারা রাতারাতি কোটিপটি হয়ে যান। পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকার এ ক্যাম্পাসের অবস্থান হওয়ায় তারা নিয়মিত চাঁদাবাজি করে অর্থের পাহাড় গড়ে তোলেন।

তারা ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড, লেগুনা স্ট্যান্ড, বিভিন্ন খাবারের দোকান, রেঁস্তোরা, ফুটপাত, শো-রুম, ফটোকপি দোকান মালিক সমিতি, হাসপাতাল, কুরিয়ার সার্ভিস, কোচিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির থেকে নিয়মিত ও মাসিক চাঁদা আদায় করেন।

এসব জায়গা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা আদায় করে থাকেন জবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া বিশ্বদ্যালয়ের ছোট বড় সকল ধরনের টেন্ডার বাগিয়ে নেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসসহ কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শাখা ছাত্রলীগের নেতারা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ২ হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান থাকায় ছাত্রলীগের এবারের সম্মেলনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে শীর্ষপদে আনতে সিন্ডিকেটের দৌড়ঝাপ বেড়েছে। সিন্ডিকেটের নেতাকর্মীরা তাদের অনুসারীদের শীর্ষ পদে আনতে লবিং তদবির করে যাচ্ছেন। আগামী ২০ জুলাই ছাত্রলীগের সম্মেলনে শীর্ষপদে নেতাকর্মীদের আনতে সজাগ রয়েছে সাবেক ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল পদ পাওয়ার আগে মেসের সিট ভাড়া দেওয়া সামর্থ্য ছিল না। এমনকি শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল ধোলাইখাল হোসেন মিয়ার বাড়িতে বিনাভাড়ায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেছিলেন।

অন্যদিকে তরিকুল ইসলাম ছাত্রলীগের এক সহ-সম্পাদকের সঙ্গে বেড শেয়ার করে থাকতেন। কিন্তু কমিটিতে পদ পাওয়ার পর তারা চাঁদাবাজি, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। এছাড়া তরিকুল ও রাসেলের পূর্বের কমিটির সভাপতি এফএম শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘ চার বছর একইভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেম ঘটিত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু আবার ১৯ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে জড়ালে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনার বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার তিন নম্বর আসামি আশরাফুল ইসলাম টিটনকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতির কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের পদপ্রত্যাশীরাও স্থান পেয়েছেন। আছেন বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিতরাও। জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল আমীন শেখ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের অনুসারী।

জবি ছাত্রলীগের সাবেক এ সহ-সভাপতি শীর্ষ পদ বাগে আনতে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের কাছে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন। জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। শীর্ষপদে আনতে এ ছাত্রনেতার পেছনে অনেক টাকা বিনিয়োগ ও লবিং করে যাচ্ছেন যুবলীগের এ নেতা।

আরও পড়ুন: প্রেমের টানে আমেরিকান নারী এখন লক্ষ্মীপুরে

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল ও গাজী আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাকিল। শাখা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের সংঘর্ষে শাকিলের হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ছবিও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

জবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসনে মোবারক রিসাদ বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে চাঁদাবাজির ও মারামারির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত শিকদারের অনুসারী। জামাল হোসেনকে শীর্ষপদে আনতে তারা দুজনই আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

শাখা ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জবি ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহবাজ হোসাইন বর্ষণ রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও শরিয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর ভাগ্নে পরিচয়ে গত কমিটিতে সিন্ডিকেটের জোরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদ পেয়ে যান।

উৎসঃ ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার মুখোশ খুলে দিল জাতিসংঘ!


বাংলাদেশ এখন সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পুরো দেশই এখন ভাসছে শেখ হাসিনার কথিত উন্নয়নের জোয়ারে। আগামী ২০২১ সালের পরই বাংলাদেশ প্রবেশ করবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তিনি। দেশের মানুষ এখন পেট ভরে খেতে পারছে। খাবারের অভাবে এখন আর কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায় না।

এক সময় নাকি সেনা বাহিনীর সদস্যরাও দিন তিন বেলা ভাত খেত পারতো না। তিনি ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করেছেন। তার সবচেয়ে বড় দাবি হলো-তিনি এদেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ভাষায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশের ঠিক মতো খাবার পেত না। ভাল খাবার তো দূরের কথা বাঁচার জন্য মানুষ ঠিক মতো তিন বেলা ভাতও খেত না। ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের জন্য বিদেশ থেকে টাকা এনে তারা নিজেদের পকেট ভারি করেছে। অসহায়-দরিদ্র মানুষের মুখের খাবার বিএনপি-জামায়াত নেতারা কেড়ে নিয়েছে।

অথচ, বিভিন্ন জরিপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী দেশের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তার দাবি পুরোই ভিত্তিহীন। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের অভাবে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এছাড়া খাদ্যের অভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাবা-মা তাদের কলিজার টুকরা সন্তানকে বিক্রি করে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও, কৃষি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক তহবিল, শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ছয়জনের একজন ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য। গত এক দশকে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। ২০০৪ সালে যেখানে এর সংখ্যা ছিলো ২ কোটি ৩০ লাখ সেখানে ২০১৮ সালে তা এসে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখে।

জাতিসংঘের দেয়া তথ্য মতে, শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ বেড়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতো কিংবা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত হতো তাহলে পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা কমার কথা ছিল। ২ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে কমে ২ কোটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের বাড়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয় শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলে করে আসলেও জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, শেখ হাসিনার সব কিছুই বায়ূবীয়। কথিত উন্নয়ন শুধু তাদের গলাবাজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দুর্নীতি-লুটপাট ছাড়া দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের। পেট ভরে ভাত খেতে পারছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here