প্রিয়া সাহা হিন্দুবাদী ‘দলিত কণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক! লাইসেন্স বাতিল হতে পারে!

0
242
প্রিয়া সাহা ‘দলিত কণ্ঠ’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বও পালন করছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশকারী বাংলাদেশ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হিন্দুবাদী একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বও পালন করছেন।

পত্রিকাটির নাম ‌‌মাসিক ‘দলিত কণ্ঠ’। সেখানে সম্পাদকের জায়গায় প্রিয়া সাহার নাম ‘প্রিয়া বালা’ বিশ্বাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত জুন মাসের ১২ তারিখে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ রসুল পত্রিকাটি প্রকাশের ঘোষণাপত্র প্রদান করেন। ঘোষণাপত্রে শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন রিজভী।

উষা আর্ট প্রেস থেকে এটি প্রকাশিত হচ্ছে। এ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনও রয়েছে। এতে সংখ্যালঘু এবং দলিত সম্প্রদায়ের খবর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

পত্রিকার ঠিকানা দেয়া হয়েছে- বাড়ি-১১, সড়ক ৪, ধানমন্ডি।

রাষ্ট্রবিরোধী কোনো সংবাদ ছাপানো হবে না বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে পত্রিকার ঘোষণাপত্রে। কিন্তু এর সম্পাদকের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বক্তব্য রাখেন ‘দলিত কণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক প্রিয়া সাহা।

এদিন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এরপর তিনি বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতির সঙ্গে এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

প্রিয়া সাহা ও ট্রাম্পের মধ্যকার আলাপটি মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ প্রকাশ করে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেটি। যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশিরা নানা ধরণের মন্তব্য করছেন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সংখ্যালগুদের নিয়ে যেসব অভিযোগ ট্রাম্পকে দিয়েছেন তিনি তা প্রমাণ করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কে এই প্রিয়া সাহা? জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এ প্রিয়া সাহা।

এছাড়াও তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত ।

তার গ্রামের বাড়ী পিরোজপুর জেলার চরবানিরীর মাটিভাঙ্গা নাজিরপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রিয়া। রোকেয়া হলে থাকতেন তিনি।

সে সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ‘মহিলা ঐক্য পরিষদ’এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে ‘শারি’ এনিজিও সংস্থার মাধ্যমে প্রিয়া নিজ এলাকার দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করেন।

তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক। কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে বসবাস করছেন। কিছুদিন পূর্বে সেখানে যান প্রিয়া সাহা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘এতদিন দুধ কলা দিয়ে যাকে পুষলেন আজ তারই ছোঁবল খেলেন’: হাসিনাকে ড. তুহিন মালিক

এতদিন দুধ কলা দিয়ে যাকে পুষলেন আজ তারই ছোঁবল খেলেন!

প্রথমে তারা আপনাকে মসজিদ, মাদরাসা, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক বিরোধী আন্দোলনে নামালো।

এরপর যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ইসলামকে গালাগালি শুরু করালো।

জাতিকে পরিস্কার দুই ভাগে বিভাজন করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত ও ধর্মীয় ঘৃণার প্রসার-প্রচারনা শুরু করালো।

বিভক্ত জাতির গণতন্ত্রের হত্যার জন্য আপনাকে চিরস্থায়ী ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ৫ই জানুয়ারির একদলীয় নির্বাচন করালো।

যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী ইস্যুর পর নতুন এক জঙ্গি ইস্যু তৈরি করে দেশ-বিদেশে রাষ্ট্রকে উগ্র মুসলিম জঙ্গি রাষ্ট্রের তকমা দেয়া হলো।

বিনিময়ে মিডনাইট ভোটের সরকার উপহার দিলো।

প্রতিদান রক্ষা করতে গিয়ে আপনি ট্রানজিট, বানিজ্য, রেমিটেন্স, বন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু এমনিভাবেই উজাড় করে দিলেন যে, শেষ পর্যন্ত আপনাকেই বলতে হলো- ‘ভারতকে যা দিয়েছি আজীবন মনে রাখবে।’

রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর থেকে শুরু করে আপনার নিরাপত্তার ভার পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দিয়ে আপনার আনুগত্য প্রদর্শনে কোন কমতিই করলেন না।

গণহারে গুম, মামলা চালালেন আপনার সমালোচকদের বিরুদ্ধে।

আপনার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত গোটা জাতি নিরবে সহ্য করেছে তাদের সর্বময় দাপট।

দুধ কলা দিয়ে পুষে আপনার রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে তাদেরকে ব্যবহার করেছেন। তার জন্য তাদেরকে যেমন দিয়েছেন সর্বময় ক্ষমতা, তেমনি দিয়েছেন সর্বময় দায়মুক্তি।

পীযূষরা যখন দাড়ি টুপি ও টাখনুর উপরে কাপড় পড়াকে জঙ্গি বলে একযোগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। আপনি তখন নিশ্চুপ!

ইকসন যখন তাদের ধর্মীয় বাণী পড়িয়ে স্কুলের মুসলিম বাচ্চাদের প্রসাদ খাওয়ালো। আপনি তখন নিশ্চুপ!

যখনই তারা কোন অপরাধ করেছে আপনার সাজানো প্রশাসন ও মিডিয়া দিয়ে সেটাকে মিথ্যা প্রমান করে উল্টা সেই দায়ভার সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠের সেন্টিমেন্টকে ধরে রাখতে আপনাকে মদিনা সনদে দেশ চালানো, ওলী-আউলিয়া, কওমী জননী, তাহাজ্জুদ, সকালে কোরআন না পড়ে কাজ শুরু না করা, আপনার দোয়ায় খেলায় জয়ী হওয়া… ইত্যকার নাটক করতে হয়েছে।

দিনশেষে আপনি শুধু ম্যানেজারই রয়ে গেলেন, মালিকানা পেলেন না! কারন, মালিককে দেয়ার মত আর কিছুই যখন অবশিষ্ট থাকে না, ম্যানেজারের তখন আজকের মত এই অবস্থাতেই পড়তে হয়।

পুনশ্চ- হ্যাঁ, আপনার অন্ধ লোকদেখানো গুণগ্রাহীরা আমার এই বক্তব্য দেখে আমাকে আবারও রাজাকার, রাষ্ট্রদ্রোহী বলবে। আপনারা তো পারেন শুধু শহীদুল আলম, মাহমুদুর রহমান, মাহফুজ আনাম, মাহমুদুর রহমান মান্না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর তুহিন মালিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করতে!

উৎসঃ ড. তুহিন মালিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ ‘এই মন্তব্য আমেরিকায় বাংলাদেশের মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতায় ফেলতে পারে’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান গুমের অভিযোগের বিষয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তিনি বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মচারী বলেও জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রিয়া সাহার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় চরবানিরীর মাটিভাঙ্গাতে। তার স্বামীর নাম মলয় সাহা। পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনার সুবাদে প্রিয়া সাহা প্রায়ই সেদেশে যাতায়াত করেন।

প্রিয়া সাহার এই মিথ্যা অভিযোগটি আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

এনিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিজের ফেসবুক পাতায় লেখেন, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে একজন ভদ্রমহিলা (কেউ কেউ বলেছেন তার নাম প্রিয়া সাহা) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ‘ডিসএপিয়ার’ (অদৃশ্য/দেশত্যাগে বাধ্য?) হয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন মুসলিম মৌলবাদীরা এটা করেছে এবং তারা সবসময় রাজনৈতিক শেল্টার পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এটি যদি সত্যি না হয় তাহলে তা দুঃখজনক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি উস্কানিমূলক। সরকারের বিষয়টি সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। কারন এতে দেশের ইমেজ ক্ষুন্ন হতে পারে। এ বক্তব্য এমনকি ট্রাম্পের দেশে বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় ফেলতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জনকে মানুষকে ডেকেছিলেন তাদের বৈষম্যের বিভিন্ন কথা শোনার জন্য। সেখানে মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চায়না, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, নর্থ কোড়িয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান জার্মানি, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের প্রত্যেকেই ট্রাম্পকে তাদের নিজ দেশের বৈষম্যের কথা বলছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পান বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, তার জমি জমা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিমরা, তার ঘরবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে। এখনো সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেসবের কোনো বিচার নেই।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন কারা এসব করছে? বাংলাদেশি ওই নারী বলেন, ‘সবসময় উগ্রবাদী মুসলিমরা এই কাজ করছে। সবসময় তারা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে এই কাজ করে।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশ বিষয়ে এমন বক্তব্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তার বিচার চাইছেন অনেকে।

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রিয়া সাহার নালিশকে চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এদিকে প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সোশ্যাল এক্টিভিস্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহী মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, নিজের দেশ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া প্রিয়া সাহার বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়ার ও ভিত্তিহীন। তিনি সম্প্রীতির বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।

এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। যেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এ দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলেছেন সেখানে এ দেশের নাগরিক হয়ে ট্রাম্পের কাছে গিয়ে প্রিয়া সাহা এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক অপরাধ ও গভীর ষড়যন্ত্র। এজন্য একজন আইনজীবী হয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী রোববার আদালত খুললেই প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করব।

ভিডিওঃ  ‘প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান। কারা এমন এসব করছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।’

প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির বহু উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়া তুলে ধরছেন নেটিজেনরা। সম্প্রীতির বহু উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়া তুলে ধরছেন নেটিজেনরা।

৭১ এর চেতনায় গঠিত যে দেশে সব ধর্মের নাগরিক সমান অধিকারে সহাবস্থান করে বিশ্বে অসাম্প্রদায়িকতার মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে সেই দেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাঠে প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্য কখনই মেনে নেয়ার মতো নয় বলেও অভিমত দিচ্ছেন সচেতনরা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রিয়া সাহা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ করেছেঃ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন


প্রিয়া সাহা সাহা সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ভুল বক্তব্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ বলেও জানিয়েছেন ব্যারিস্টার খোকন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেয়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কিত বক্তব্য নিয়ে ‘হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুঠোফোনে পাবলিক ভয়েসকে এ কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ট্রাম্পের সাথে প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছে তা মারাত্মক তথ্যগত ভুল। তিনি সংখ্যালঘু পরিসংখ্যান নিয়ে তথ্য বিকৃতি ঘটিয়েছেন। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি হিসেবে নয়; বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বলবো উনি দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, দেশের জনসংখ্যা এমনকি বাংলাদেশ সম্পর্কেই তার ধারণা নেই।

এটা কোনো পর্যায়ের অপরাধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। ভুল ও বিকৃত তথ্য। এটা একটা অপরাধ।

রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ কিনা জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মাহবুব বলেন- হ্যাঁ, তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। এটা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

গত ১৭ জুলাই বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে বেঁচে ফেরা লোকেদের সাথে ওভাল অফিসে বসে কথা বলেন। নিউ ইয়র্কের সল্ট লেক সিটির অনলাইন টেলিভিশন ‘এবিসি৪’ এর অফিসিয়াল ফেসবুকে পেজে এটি সরাসরি সম্প্রচার করে। বার্মা, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, ইরাক, আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইরান এবং জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের ২৭ জনের সাথে কথা বলেন ট্রাম্প।

এসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। এখনো এখানে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সহযোগিতা করুন। আমি আমার ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি-জমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি’।

এসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতে চান, কারা জমিজমা দখল করেছে এবং কারা ঘরবাড়ি দখল করেছে। জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, তারা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন এবং তারা সব সময় সরকারের শেল্টার পায়। সব সময় পায়’।

উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহা মহিলা ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নাটক করে প্রচুর বিদেশি ফান্ড কালেক্ট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গার চরবানিরী গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ ‘ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার মিথ্যা অভিযোগ খতিয়ে দেখবে সরকার’: শাহরিয়ার আলম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার কঠোর সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা ওই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং তিনি (প্রিয়া সাহা) কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখাসহ তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে বলে নিজ ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

ভিডিওঃ  ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দু নারীর নালিশ!’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

এ সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ ওই নারীর সঙ্গে হাত মেলান। কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রিয়া সাহার এমন কথোপকথনের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে নালিশ চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ওই ঘটনার পর স্যোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিজ ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।‘

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে টাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকি।’

‘প্রিয়া সাহার সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে যার যোগাযোগ তার একই রকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা’- উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়:

বাংলাদেশি পরিচয় দেয়া ওই নারীর এমন বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমেও ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ওই নারী এমন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। অনেকেই বলছেন, এমন মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বললেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটা দেখি ঘষেটি বেগম। অপর একজন লিখেছেন, এটা কাদের চাল হতে পারে বুঝলাম না।

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার চোখে কি দেখলাম আর কি শুনলাম। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। মানুষ এতটা অকৃতজ্ঞ, বেইমান, রাজাকার, নিকৃষ্ট আর দেশদ্রোহী কেমনে হয়? আমাদের দেশে কোন দিন শুনি নাই জোর করে কাউকে কালেমা বা গরুর গোস্তো খাওয়াতে। মুসলমানদের কাছে অমুসলিমরা যতটা শান্তিতে আছে সেটা অমুসলিম দেশেও নাই। ইন্ডিয়া একটা হিন্দু দেশ সেখানেও দলিত হিন্দুদের পিটায়া মারে, মন্দিরে ঢুকতে দেয় না। সাইকেল পর্যন্ত চালাতে পারে না। এরা আমাদের দেশকে নিয়া কি ষড়যন্ত্র করে?’

উৎসঃ সময় টিভি

আরও পড়ুনঃ ‘ট্রাম্পের কাছে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগটি সঠিক নয়’: মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রিয়া সাহা নামের বাংলাদেশি নারী সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

১৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করেন চীন, তুরস্ক, কোরিয়া, মিয়ানমারসহ বিশ্বের ১৭টি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা। সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এ খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর শুক্রবার বিকেলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলো। এদিন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধমন্দির পরিদর্শনে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। সেখানে পৌঁছালে বৌদ্ধ নেতারা স্বাগত জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে। এসময় মিলার মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। পরে বৌদ্ধ নেতাদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশে বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মিলার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নারী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর কথা জানিয়ে মিলার বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।

উৎসঃ সময় টিভি

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচারকারী কে এই প্রিয়া সাহা? তার ক্ষমতার উৎস কি?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জনকে মানুষকে ডেকেছিলেন তাদের দুর্ভোগের কথা শোনার জন্য। সেখানে মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চায়না, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, নর্থ কোড়িয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান জার্মানি, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
 
তাদের প্রত্যেকেই ট্রাম্পকে তাদের নিজ দেশের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রিয়া সাহা নামের নারী ট্রাম্পকে বলেন, তার জমি জমা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিমরা, তার ঘরবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

ভিডিওঃ  ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দু নারীর নালিশ!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা নামের নারী ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ ) হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেসবের কোনো বিচার নেই।

ওই নারীর এমন বক্তব্যের পর ট্রাম্প বলেন, “কারা জমি দখল করেছে, কারা ঘরবাড়ি দখল করেছে? তখন প্রিয়া সাহা নামের এই নারী বলেন, “মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সবসময়।”

শান্তি ও সম্প্রীতির সোনার বাংলাদেশকে কলুষিত করতে বিশ্ব মোড়ল ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে সাহায্য প্রার্থনা করায় এই মিথ্যাবাদী ও উগ্র হিন্দু নারী পরিচয়য় এবং তার ক্ষমতার উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে! কী মতলব এই নারীর? সম্প্রীতি ও ভালবাসার সোনার বাংলাদেশকে এরা কেন কলুষিত করতে চায়? কে এই নারী?

কে এই প্রিয়া সাহা? 

মিথ্যা অভিযোগকারী এই মহিলাটির নাম প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়িঃ চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর। তাকে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও তাদের বুদ্ধিজীবী এবং শাহাবাগী ও নাস্তিকদের সাথে বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রায়ই দেখা যেত। এই নারী  সুলতানা কামাল, খুশি কবির, রানা দাস গুপ্ত ও পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সহযোগী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, রাশেদ খান মেনন, সুলতানা কামাল, শ্যমল দত্তের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয় সাহা ( সবার বামে)

এরাই আসল দেশদ্রোহী, দাঙ্গাবাজ যারা বহির্বিশ্বে নিজ দেশকে বাজে ভাবে উপস্থান করে রাজনৈতিক আশ্রয় (এসাইলাম ) নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রিয় সাহার ক্ষমতার উৎস কি?

প্রিয়া সাহা মহিলা ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, রোকেয়া হলে থাকতেন। এখন একটি এনজিও আছে ওনার। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নাটক করে প্রচুর বিদেশি ফান্ড কালেক্ট করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর।

প্রিয় সাহাকে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও তাদের বুদ্ধিজীবী এবং শাহাবাগী ও নাস্তিকদের সাথে বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রায়ই দেখা যেত। সেই ধরনের কিছু সংগ্রহীত ছবি সহ  আরও তথ্য এখানে উল্লেখ করা হলঃ 

আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিলের সাথে সেই মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক। তাদের দুই মেয়ে কয়েক বছর ধরে মলয় সাহার দুর্নীতির টাকায় আমেরিকায় বসবাস করছেন, কিছুদিন পূর্বে প্রিয়া সাহাকে দুদকের অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার করে এয়ারপোর্টে পৌছে দেন তার স্বামী, দুদকের সহকারী পরিচালক মলয় সাহা। সকালে এয়ারপোর্ট পৌছে ফ্লাইট মিস করেন প্রিয়া, তারপর সেদিন রাতেই আরেকটি ফ্লাইটে তিনি আমেরিকায় রওনা হন, তার বিদায় মুহূর্তে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আকবর কবিরের কন্যা তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির।

ইসলামবিদ্বেষী নারীবাদী খুশি কবিরের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা (সবার মাঝে)

প্রিয়া সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকে অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশপ্রেমী জনতা। ভুলে গেলে চলবে না তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে অলরেডি অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছেন বাংলাদেশের।

ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎকারে প্রিয়া সাহা আরও বলেন, “এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে আমি আমার ঘরবাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমাও দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এর কোন বিচার হয়নি।”

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা ( সবার মাঝে)

তবে ট্রাম্পের কাছে করা ওই নারীর এমন নালিশের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন এমন ঘটনার কোন সত্যতাই পাওয়া যায়নি। বরং এদেশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সম্প্রীতি রয়েছে। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন।

বাংলাদেশি পরিচয় দেয়া ওই নারীর এমন বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমেও ঝড় বয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, ওই নারী এমন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। অনেকেই বলছেন, এমন মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বললেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা দেখি ঘষেটি বেগম।” অপর একজন লিখেছেন, “এটা কাদের চাল হতে পারে বুঝলাম না।”

ভিডিওঃ  ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দু মহিলার নালিশ।’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার চোখে কি দেখলাম আর কি শুনলাম। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। মানুষ এতটা অকৃতজ্ঞ, বেইমান, রাজাকার, নিকৃষ্ট আর দেশদ্রোহী কেমনে হয়? আমাদের দেশে কোন দিন শুনি নাই জোর করে কাউকে কালেমা বা গরুর গোস্তো খাওয়াতে। মুসলমানদের কাছে অমুসলিমরা যতটা শান্তিতে আছে সেটা অমুসলিম দেশেও নাই। ইন্ডিয়া একটা হিন্দু দেশ সেখানেও দলিত হিন্দুদের পিটায়া মারে, মন্দিরে ঢুকতে দেয় না। সাইকেল পর্যন্ত চালাতে পারে না। এরা আমাদের দেশকে নিয়া কি ষড়যন্ত্র করে?’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্যানারে ইসলামবিদ্বেষী নারাবাদীদের সাথে মিথ্যাবাদী উগ্র হিন্দু প্রিয়া সাহা ( সবার মাঝে)

ওই নারীর বক্তব্যের পর দেশের এবং প্রবাসের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। রীতিমতো দেশের ও প্রবাসের বাংলাদেশী নেটিজেনরা ওই নারীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তারা ট্রাম্পকে হ্যাশ ট্যাগ, মেনশন করে জানাচ্ছেন ওই মহিলা মিথ্যে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যম পুরো অনুষ্ঠানটি ফেসবুকে লাইভ করেছে। যার কারণে ভিডিওটি সকলের সামনে চলে আসে।

উৎসঃ জাগো নিউজ ২৪ ও কইয়া দিমু টেলিভিশন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here