সেই প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের হাত-পা বাধা অবস্থায় ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার!

0
753

অবশেষে সেই প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন। তাকে গুম করে হত্যা করে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধামইরহাটের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে ঐ শিক্ষক বিবেকের তাড়নায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার জন্য কাউকে তথ্য সরবরাহ করেন। কোনো এক মাধ্যমে সেই পোস্টটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু নামে এক ব্তাযক্তির নিকট আসে এবং তিনি গত ১লা জানুয়ারি সে শিক্ষকের লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এর প্রায় একমাস পর তাকে গুম করে হতায় করা হয়। এই খবরটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের সেই ব্যক্তিই আবার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে গত ৩১ জানুয়ারিতে ফেসবুকে লাশের ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলঃ 

“আমি কয়েকদিন আগে আমার একটি স্ট্যাটাসে একজন শিক্ষকের কথা লিখেছিলাম যিনি ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে নির্বাচনের আগের দিন ২৯শে ডিসেম্বরে রাতের আঁধারে ক্ষমতাসীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিডিআর, র‍্যাব, আনসার এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে সারা দেশের ৪০১৩৩টি ভোট কেন্দ্রে স্মরণকালের ঘৃণ্যতম, ন্যাক্কারজনক, নিকৃস্ট ভোট ডাকাতির যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ঐ ঘটনাকে প্রতিহত করতে না পেরে তিনি বিবেকের তাড়নায় সেই দিনের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন।

আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে আমার ঐ স্ট্যাটাসে তার নাম পরিচয় তখন প্রকাশ করিনি। কিন্তু কোন না কোন ভাবে হয়তো তার নামটি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলো। তাইতো গত ২৪শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ধামইরহাটের একটি ডোবা থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় ঐ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। (কিন্তু কিছু পত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, ১৭ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার ঘুকশী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।)

এমএ জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের ঐ শিক্ষক যিনি নওগাঁর ধামইরহাটের জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে এবং জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে বিএম শাখার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

ঘটনাটি শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। বাংলাদেশ এখন যেনো একটি মৃত্যুপুরী।

আমি আমার সেই পুরনো ঐ স্ট্যাটাসটি আবারও সকলের জন্য নিচে সংযুক্ত করলামঃ

একজন শিক্ষক যিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালিন করেছিলেন।

সেই শিক্ষকের লেখাটিতে ভোট জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছেঃ

এক প্রিজাইডিং অফিসারের আত্মগ্লানি, চরম একটি জঘন্য অভিজ্ঞতা; একা একা কেঁদেছি নিজের অক্ষমতায়। নিজের দেশ, জাতি ও জনগণের বিরুদ্ধে সীমাহীন এ অপকর্মের অনন্যোপায় সঙ্গী হয়ে! আমি একজন প্রিজাইডিং অফিসার ছিলাম। আমার কিছুই করার ছিলো না। আমার কেন্দ্রে ভোটার ছিল ২৩৮৭ টা। ওরা রাতেই ১৫০০ ব্যালটে সীল মেরেছে। দিনে জোর করে আরো ৪০০ ব্যালট নিয়ে ও নিজেদের লোক দিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।

শুধু এভাবেই ওরা ভোট নিয়ে নেয় ১৯০০; এই কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে মাত্র ২৭ ভোট, তাতেই তাদের মাথা গরম।
এই ২৭ জন কারা, এটাও তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে! বলছি আসল কথা; এসপি, ডিসি, নৌকার প্রার্থী এরা সকলে বসে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, এভাবেই ভোট হবে।
এতে কোন লুকোছাপা ছিলো না। ছিলো না কোন গোপনীয়তার ব্যাপারও।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের পুলিশ অফিসারদের প্রশ্রয়ে ও সম্মতিতে খুব নিরাপদে, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভোট ডাকাতি করেছে, কিছুই করার ছিলো না অন্য কারো! তাদের সামনে আমরা সকলে ছিলাম নিস্তেজ ও অসহায়। বলা হয়েছিলো, স্থানীয় নেতারা যেভাবে বলে ঠিক সেভাবেই সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের এখানে সব কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

আমাকে জোরাজুরি করায় প্রথমে ৬০০ ব্যালট (৬ বান্ডিল) দেই। সীল শেষে আবার চাইতে আসে ব্যালট, আমি নিষেধ করায় ফোনের পর ফোন। পরে আরো ৬ বান্ডিল দেই। সেগুলো সীল মারার পর আবার আসে। এবারো দিতে চাই নাই বলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা হুমকি দেয়। তারপর আরো ৩ বান্ডিল দেই, মোট ১৫০০ (পনের শ’)।

এই সকল কর্মীদের নাকি এসপি, ডিসি বলে দিয়েছে, যে কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল গ্রুপ পুরস্কার পাবে। ওই নেতা রেগেমেগে চিৎকার করে বলে, আপনি আমাকে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করতে চান?

আমাদের এক নারী সহকর্মীকে নৌকা প্রার্থী কেউ একজন ধমক দিয়েছিলো। ঘটনাটি ডিসি’কে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি বলেছেন, কোন হেল্প পাবেন না, বিপদ তৈরী করছেন কেনো? প্রশাসন ও পুলিশের জুনিয়র কর্মকর্তারা আমাদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকালেও তারাও ছিলো অসহায়।

আমার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যকে এসপি ও ওসি যে অর্ডার দিয়েছিলো, তাতে সে হতবাক হয়েছিলো! তার চোখের কোণে আমি দু’এক ফোঁটা জলও দেখেছি। প্রশাসনে আমাদের মতো ছাপোষা মানুষদের উপরের পর্যায়ে কি ঘটেছে, শুনলে আৎকে উঠবেন। বিভিন্ন জেলায় এসপি, ডিসি সাহেব, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশের অফিসাররা একসাথে বসে, সবাই মিলে মিটিং করে প্ল্যান করেছেন। নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করতে জেলায়, জেলায় ডিসিরা ডিনারের দাওয়াত দিয়ে ২/৩ বার মিটিং করেছে। জেলা পর্যায়ের সব অফিসারদের একই অর্ডার দেয়া হয়েছে।

তারপর সব প্রিজাইডিং অফিসারদের ডাকা হয়েছে, তাদেরকে ব্যালট দিয়ে দিতে বলা হয়েছে আগের রাতেই। তারপরেও ভোটারের চাপ সৃষ্টি হলে নৌকার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মিছেমিছি মারামারি করবে, সে কারণে বিজিবি ডাকা হবে, বিজিবি আসার পর এক/দেড় ঘন্টা ভোট স্থগিত রাখতে হবে। সবশেষে ভোট গুনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে চলে আসতে হবে!

প্রিজাইডিং অফিসাররা যেনো বিপদে না পরে তাই ডিসি বলে দিয়েছে, আপনি যদি আমার কথা শুনেন আমি রক্ত দিয়ে আপনাকে রক্ষা করবো, আর যদি আমার কথা না শুনেন তাহলে রক্ত নিতেও দ্বিধা করবো না।

লেখক: প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক

[এই খবরের পুরো স্ট্যাটাসটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে সংগ্রহীত]

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস! (ভিডিও সহ)


অবশেষে ধরা খেলেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। আব্দুস সালামকে জেলে ভরে একুশে টিভি দখলে নেয়ার পরই পুরনো সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে বুলবুল তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয় এখানে। কয়েকজন নারীকর্মীকে প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতন করে আসছেন বুলবুল। চাকরি এবং মান সম্মানের কারণে বুলবুলের এসব যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি কেউ। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বুলবুলের এসব অপকর্ম আর চাপা পড়ে থাকেনি। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টেলিভিশনটির নারীকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুলবুলের ডাকা সাড়া না দিলেই নারীকর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বুলবুলের এসব অপকর্ম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন চ্যানেলটির ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানের সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, নাম প্রকাশ না করে একজন উপস্থাপিকা বলছেন, আমরা কি এখানে দেহ বিক্রি করতে এসেছি? আমরা যারা এখানে কাজ করি প্রত্যেকে আওয়ামীলীগ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি নারী সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এই বুলবুলের হাত থেকে একুশে টিভির নারীকর্মীদেরকে রক্ষা করুন।

মিনালা দিবা নামে আরেকজন নারীকর্মী বলছেন-এখানে নিউজ এডিটর মঞ্জু এবং জাহিদও এসব করে। আর এগুলো শুধু একহাতে হ্যান্ডেল হয় না। বুলবুলসহ সবাই জড়িত।

গত ৫ জানুয়ারি চ্যানেলটির বর্তমান পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সুবহান গোলাপ এখানে আসলে সাংবাদিকরা অভিযোগ জানাতে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেয় বুলবুলের সমর্থকরা। বুলবুলের ধারণা দেখা করতে পারলে তারা বুলবুলের সব অপকর্ম বলে দেবে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বেকায়দা দেখে বুলবুল এসময় এখান থেকে সটকে পড়ে।

You-tube ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নেই, তৃতীয়বার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ: মির্জা ফখরুল


বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নেই। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মত গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব কথা বলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিশ্চয়তা দেন। ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এ বৈঠক হয়।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন অভিযোগ করে ৬ ফেব্রুয়ারি একঘণ্টা কালো ব্যাজ ধারণ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোটার ও প্রার্থীদের গণশুনানির কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ নেয়া না নেয়ার আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে শপথ না নেয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিলেন মির্জা ফখরুল।

প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যাবে কি না?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভোট ডাকাতির পর আয়োজিত চা চক্রে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠিতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ড. কামাল হোসেন দেশে ফেরার পর এটাই ঐক্যফ্রন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এর আগে, বুধবার গণফোরামের নির্বাচিত দুই প্রার্থীর সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে কোনো বক্তব্য না রাখলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘শতভাগ’ ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি করেছেন গণফোরামের সভাপতি ও জোটের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায়। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় ৮টি আসন। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির ও ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তে রয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন প্রথমে শপথের পক্ষে সায় দিলেও ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তবে ঐক্যফ্রন্টের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ ছিলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত গণফোরামের দুই প্রার্থী। ঢাকার একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন নির্বাচিত প্রার্থী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান।

তবে দুই প্রার্থীর এই সাক্ষাৎকার গণমাধ্যমে আসার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

গত সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তথা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় ও অটুট আছে।

তিনি বলেন, গণফোরাম তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে যোগদান করছে-এ ধরনের সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যা অসত্য ও ভিত্তিহীন।

গণফোরামের এ নেতা বলেন, সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে গণফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সংসদ সদস্য শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। পত্র-পত্রিকায় বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য না দেয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়ঃ দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকীয়


ভোট হয়ে গেছে প্রায় একমাস। কেমন ভোট হয়েছে তা দেশবাসী জানে। কাউকে নতুন করে কিছু বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। যে দেশবাসী ভোট ডাকাতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী তাদের সামনে যতই ভাষণ দিয়ে সাফাই গাওয়া হোক যে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে তারা তা কখনো বিশ্বাস করবে না।

এরই মধ্যে যথারীতি নয়া এমপিদের শপথ হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে এবং ৩০ জানুয়ারি নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছে। আগামী ৫ বছর ক্ষমতা পরিচালনার পুনরায় মালিকানা লাভ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন। ১০ বছর পূর্ণ করার পর তিনি আরো ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, সেভাবেই ফল এসেছে। নতুন করে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সিইসি বলেন, মূলত পুরো জাতি ৩০ ডিসেম্বর ভোট উৎসবের মাধ্যমে নতুন একটি সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ২৯৯ আসনে ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট চলাকালে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল চূড়ান্ত করা যায়নি। বাকি ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২৫৯টি আসনে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি পাঁচ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। এর বাইরে গণফোরাম, বিকল্পধারা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে। একটি করে আসন পেয়েছে তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি)। তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনের দিন আমি নিজের ভোট নিজে দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিও দেখেছি। তাতে নৌকায় ভোট দিয়েছেন এমন লোক খুব কম পেয়েছি। প্রতিপক্ষের তথা ধানের শীষের কোনো এজেন্ট দেখিনাই। ইভিএম-এ প্রথম ভোট। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, যেহেতু ভোট কারচুপির এই ডিজিটাল বড়িটা জাতিকে নির্বাচন কমিশন গেলাতে চায় সেহেতু এই পরীক্ষামূলক ৬টি আসনে হয়তো কোনো অনিয়ম হবে না। কিন্তু পরে জানলাম আগের রাতে যেভাবে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীনরা অর্ধেক ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরেছে ইভিএমএও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এটা কী করে সম্ভব হলো? এ যুগে কোনো খবরই গোপন থাকে না। তাই যেটা জানা গেল তা হলো, পূর্বরাতে একটি করে বিশেষ কোড ব্যবহার করে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট নৌকা প্রতীকে দিয়ে রাখা হয়েছে। আর দিনের বেলায় জাতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুন্দর ভোটের মহড়া দেখানো হয়েছে।
আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখার ব্যাপারটা যে সারাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে তা আর গোপন নেই। তারপরেও ভরসা পায়নি। তাই ভোটের দিনও সারাদেশে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে দখল করে নেয়া হয়েছে।

আর ভোটের আগে যেভাবে পাইকারি হারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে তাও দেশবাসী জানে। ভোটের মাঠে যাতে প্রতিপক্ষের কেউ থাকতে না পারে তার পূর্বপরিকল্পনা নিয়েই কাজ করেছে মাঠপ্রশাসন। তাতে অংশীদার হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে আড়াই শতাংশেরও কমসংখ্যক ভোটারের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিহাসের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসন দখল করে একটি নতুন সরকার গঠন করেছিল। ঐ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাসকদল ও তার জোটের প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জনগণের প্রতিরোধের মুখে এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দলগুলো এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক কোনো সংস্থাই বলতে গেলে এতে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, একমাত্র ফেমা এবং আওয়ামী লীগের বশংবদ দু’একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া। ঐ নির্বাচনে সরকার ও তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে ভয়ভীতি এবং প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের কাছে টানতে পারেনি। অনির্বাচিত এই সংসদ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় মাত্রার অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন। বিনা বাধায় তিনি এই সংসদ ও তার থেকে সৃষ্ট সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন।

এর আগে ২০০৮, ২০০১, ১৯৯৬(৭ম) এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন হয়েছিল নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেসব নির্বাচনেও কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তবে তা ছিল মাইনর। দেশে বিদেশে এই নির্বাচনগুলো প্রশংসা অর্জন করেছিল। যেসব দেশে গণতন্ত্র এবং ভোটব্যবস্থা উন্নত নয় তারা আমাদের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে মডেল হিসেবে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সে ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় সংবিধান সংশোধন করে। তার পরই হলো ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের প্রহসনমূলক নির্বাচন। অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে যে এদেশে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ হয়না তা আবারো প্রমাণ হলো।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কার্যত আওয়ামীলীগ ছাড়া কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই ছিল না। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছিল। ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে নিয়েছিল এরশাদ।

তারপর ১৯৮৬ সালে ভোট ডাকাতি আর ১৯৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তারপর থেকে দেশে সর্বসম্মতভাবেই এসেছিল তত্তাবধায়ক সরকার। এটা ছিল গণতন্ত্রের নবযাত্রা। কিন্তু তা বাতিল করার কারণে কার্যত আমাদের জনগণের আর ভোটাধিকার নেই। ভোট দিয়ে জনগণ এখন আর তাদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনতে পারছে না।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, ডাকাতির ভোটে আওয়ামীলীগ ও তার শরিকরা যতই আত্মতৃপ্তি পাক তাতে দলটির লাভ হয়নি। এই দলটি স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু জনগণের উপর দলটি কেন আস্থা হারিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল? সুষ্ঠু ভোট হলে এক টার্ম যদি দল ক্ষমতায় আসতে না পারতো তাহলে তার এমন কী ক্ষতি হতো? এতে দলের সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করছে বোদ্ধা মহল। তাছাড়াও স্বাভাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে অস্বাভাবিক ব্যবস্থাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে সেই আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হবে।

ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল যে হবে না সেটা আর এখন কারো বুঝতে অসুবিধা নেই। মূলত ভোট ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। অনেকের আশঙ্কা যে, এই টার্ম অর্থাৎ আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে ক্ষমতাসীনরা হয়তো বিএনপি তথা প্রধান বিরোধী দলকেই শেষ করে দেবে। ৫ বছর পরে হয়তো কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই থাকবে না। আবার ফাঁকামাঠে গোল হবে। অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদী একদলীয় শাসন কায়েম হতে বোধহয় আর বাকি নেই।

প্রশ্ন হলো, তারপর কী? কোনো স্বৈরশাসন বা কর্তৃত্ববাদী শাসনই স্থায়ী হয়নি। এটা প্রকৃতিরই নিয়ম। ক্ষমতার পালাবদল অবশ্যম্ভাবী। এই সরল সত্য সরকারও মনে রাখলে ক্ষমতাসীনরাই উপকৃত হবেন। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করবেন না, এটাই কাম্য।

লেখক: সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here