প্রাণসহ মানহীন সেই ৫২ পণ্যের বিরুদ্ধে খাদ্য কর্তৃপক্ষের মামলা

0
109

উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও বাজার থেকে সরিয়ে না নেয়ায় প্রাণসহ মানহীন সেই ৫২টি পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বুধবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে খাদ্য আদালতে মামলাটি করেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির।

প্রাণসহ সেই ৫২টি পণ্য হলো- প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ফ্রেশের হলুদ গুঁড়া, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রিন ব্লিচিংয়ের সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার।

মিজানের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, মিস্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই।

এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিংয়ের ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু।

কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, সূর্যের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনার আয়োডিনযু্ক্ত লবণ ও নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দীঘির ড্রিংকিং ওয়াটার।

এর আগে এসব মানহীন পণ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দুই কর্মকর্তা হাইকোর্টে আসেন। দুই কর্মকর্তা হলেন- বিএসটিআইয়ের পরিচালক প্রকৌশলী এসএম ইসহাক আলী ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে রিটটি করেন কনসাস কনজুমার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএসের) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রাণের মতো নামি প্রতিষ্ঠান আমাদের ভেজাল খাওয়ায়- এটা খুবই দুঃখজনক। মানুষ আসলে কাদের ওপর আস্থা রাখবে? এভাবে ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমরা আদালতে গিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার হচ্ছে কিনা সেটি এখন তদারকির বিষয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কামরুলই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে: আ’লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। বিদেশ থেকে প্রচুর চাল আমদানি করায় সরকার বিপদে পড়েছে।

বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ও গম সংগ্রহ অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, দেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে প্রচুর চাল আমদানি করেছে। এর ফলে সরকার বেকায়দায় পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ২৪ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তার পরেও চাল আমদানি করা হচ্ছে। জায়গার অভাবে চাহিদা মতো ধানচাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কৃষকরা ধান ঘরে রেখে দেন। আগামী বছর ধানের ভালো দাম পাবেন।

তিনি জানান, এ বছর জেলা থেকে লটারি করে ভাগ্যবান কৃষকের কাছে চলতি মৌসুমে ১৮৫৭ মেট্রিকটন ধান ও ৩০ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হবে। আর ভাগ্যবান কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌একই দিনে ড. কামাল ও মন্টুর ইফতার মাহফিল


গণফোরামের পক্ষে ড. কামাল হোসেন আগামী ২৬ মে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন। একই দিনে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুও ইফতার মাহফিল করবেন বলে জানা গেছে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের ইফতার মাহফিলে না গিয়ে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে পারেন এমন আভাসও মিলছে।

একাদশ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে গণফোরামের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি ও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুজন এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণ নিয়ে কামাল হোসেন ও মন্টুর সম্পর্কে চির ধরতে থাকে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত ৫ মে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মন্টুকে বাদ দিয়ে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার মধ্য দিয়ে।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে যোগ দেননি সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। তার অনুপস্থিতিতে ঘোষিত নির্বাহী কমিটিতে তাকে না রেখে দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে তার নাম রাখা হয়। সেই থেকে গণফোরামের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন মন্টু।

অপরদিকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া ও গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে মোকাব্বির খানের যোগদানের প্রতিবাদ করেন গণফোরামের তৎকালীন প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। ২৬ মে কাউন্সিল শুরুর পরপরই মোকাব্বির খানকে মঞ্চে দেখেই মঞ্চ থেকে নেমে যান পথিক। এজন্য তিনি ড. কামাল হোসেনকে সরাসরি দায়ী করে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ৫ মে ঘোষিত কমিটিতে রাখা হয়নি পথিককে।

ইফতার মাহফিলের আয়োজন বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বাংলানিউজকে বলেন, আমি একান্ত ব্যক্তিগত ও অরাজনৈতিকভাবে কিছু লোকজনকে নিয়ে এই ইফতারের আয়োজন করবো। তবে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও ঐক্যফ্রন্টের মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রবসহ কয়েকজনকে দাওয়াত দেওয়া হবে। এছাড়া গত নির্বাচনে যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন তাদেরও দাওয়াত দিয়েছি।

গণফোরাম ও আপনি একই দিনে ইফতার মাহফিল কেন করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, তারিখটি আমি আগেই ঠিক করেছিলাম। তারা (গণফোরাম) পরে করেছে।

নতুন কোনো দলের ঘোষণা ইফতার মাহফিল থেকে দেবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত না। দেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।

গণফোরামের যারা কমিটিতে আছেন তারা আপনার দলে যোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে মন্টু বলেন, আমি ডাকলে অনেকেই আসবেন। এমনকি প্রেসিডিয়ামের ১০/১২ জন নেতা চলে আসবেন। তবে আপাতত সেরকম কিছু ভাবছি না।

শুনলাম বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ডা. কামাল হোসেনের ইফতার মাহফিলে না গিয়ে আপনার ওখানে যেতে পারেন এ বিষয়টা কতখানি সত্য? জবাবে মন্টু বলেন, দেখা যাক কি হয়।

অন্যদিকে গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম বাংলানিউজকে বলেন, মোস্তফা মোহসীন মন্টু আমাদের দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। আশা করি ইফতার মাহফিলে তিনিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন তিনিও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন কেন, সেটা আমি বলতে পারবো না। তবে হল বুকিং পাওয়ার ব্যাপারে একই দিনে হতে পারে। তিনি তো ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবছরই ইফতার মাহফিল করে থাকেন।

লতিফুল বারী হামিম আরো বলেন, গণফোরামের ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্টজন ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত? কাদেরকে শেখ হাসিনার তদন্তের নির্দেশ!


ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ, কৃষকরা কেন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না -সেটা নিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের মাঝে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। উল্টো তারা এখন সেই কৃষককেই সন্দেহ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এই তদন্তের নির্দেশনার কথা জানান।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনও চাইবে না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী, কৃষকবান্ধব সরকার কখনও করবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখানে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, এর বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘বালিশ-কেটলির’ উপাখ্যান যেন ‘হিমশৈলের চূড়া’ না হয় : টিআইবি


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক ভবনের কেনাকাটায় সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বুধবার এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি এই প্রকল্পের সর্বাঙ্গীণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্প নিয়ে নানামুখী বিতর্ক থাকার পরও তা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কিন্তু শুরুতেই ক্ষুদ্র একটি অংশে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাকে আমরা এ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে মাত্র ২৫ কোটি টাকা খরচের ক্ষেত্রেই যে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে টিআইবি বলছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের মাত্রা ‘সাগরচুরিসম’। তবে এ ধরনের সরকারি প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়।

আলোচিত এই দুর্নীতি প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে জানিয়ে দুদক ‘ধীরে চলো’ নীতি ঘোষণা করেছে। এতে আমরা শঙ্কিত।

‘বালিশ-কেটলির’ উপাখ্যান পুরো প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়মের যেন ‘হিমশৈলের চূড়া (টিপ অব দ্য আইস বার্গ)’ হিসেবে প্রতীয়মান না হয়, সেজন্য দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার’ নীতির যথাযথ প্রতিফলনের দাবি জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সম্প্রতি নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া দুর্নীতির চিত্র অনুযায়ী, একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশসমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। নথিপত্র ঘেঁটে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে একটি সংবাদপত্র।

জানা গেছে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

কেজিখানেক ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতেই খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। একই রকম খরচ দেখানো হয়েছে জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতে। প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। ঘুমানোর জন্য প্রতিটি বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

অস্বাভাবিক এই অর্থ ব্যয় কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকায়। ৩৩০টি বালিশের ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে কাছাকাছি ব্যয়। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি


২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপির অভিযোগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে অসন্তোষ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মঙ্গলবার বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওমেন ও হাউজ অ্যাপ্রিসিয়েসন কমিটির চেয়ারপারসন নিতা সুই ম্যালনিকফ লাউয়ি।

স্টেইট, ফরেন অপারেশন এবং রিলিটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল-২০২০ শিরোনামে উত্থাপিত বিলের ১১১ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ বিলটি পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটিতে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকায় সুরক্ষায় সরকারের সমর্থন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কি কাজ করছে এ বিষয়ে বিল পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএসএআইডির শীর্ষকর্তাকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক, চিংড়ি ও মৎস শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে অর্থছাড়ের বিষয়ে বিলে নির্দেশ দেয়া হয়। বিলটি এ মাসের মধ্যেই পাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএসআইডির মাধ্যমে যে অর্থ সাহায্য বাংলাদেশে বরাদ্দ ছিল তা ব্যাপক হারে কমে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌‘অনির্বাচিত সরকার’কে গ্রহণ করার মূল্য দিচ্ছে জনগণ: ড. কামাল


ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একটি ‘অনির্বাচিত সরকারকে’ এভাবে গ্রহণ করায় সব মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে। গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা না এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছেন। গণতন্ত্রহীনতার মূল্য দিতে হচ্ছে সবাইকে।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে এ ধরনের ‘শাস্তি’ ভোগ করতে হবে- স্বাধীন দেশে এটি কল্পনাই করা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কারণ, সরকারের কৃষিনীতি নেই।

সরকার মানুষের দাবিকে অবজ্ঞা করছে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, কোনো কিছুতেই এ সরকারের দায় নেই। কৃষকের ধান কেনাসহ নাগরিকের ব্যাপারেও সরকারে দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট। এজন্য সরকার যেনতেনভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দেশে যদি এ ধরনের একটি অগণতান্ত্রিক সরকার থাকে তার কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারি না। এরা (সরকার) মানুষকে অবজ্ঞা করছে, এরা কী করে বলে যে, তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে?

সরকারের বিরুদ্ধে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এমন সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে হচ্ছে, সইতে হচ্ছে। তাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের মানুষকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, সরকারে এসব ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে। গণতন্ত্রের জন্য তারা শক্তি প্রয়োগ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কারণ, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি না থাকায় অসাধারণ মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাই আসুন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এতে একটা জবাবদিহিতামূলক সরকার হবে। অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সরকার জনবিচ্ছিন্ন। তাদের ওপর কারো আস্থা ও বিশ্বাস নেই।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এই সরকার কৃষকের প্রতি সহানুভুতিশীল নয়। তারা ঋণ খেলাপি বা শেয়ার বাজার ম্যানিপুলেটকারীদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও কৃষকের সাহায্যে একেবারেই নীরব।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জামায়াত একটি দেশ প্রেমিক দল,তাদের কোন দোষ নেই,কালের কন্ঠে সাক্ষাৎকারে:কর্নেল অলি


মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামী নিয়ে কালের কন্ঠে বিশেষ সাক্ষাৎকারে কর্নেল অলি আহমদ,

কালের কণ্ঠ : একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ২০ দলীয় জোটে থাকার ঘটনাকে কিভাবে দেখেন?

অলি আহমদ : জামায়াতের কোনো দোষ নেই। তা ছাড়া সেই জামায়াত কি এখন আর আছে? আসলে বিএনপিকে যারা দুর্বল দেখতে চায়, তারাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিন্তা করে। আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে বেশি প্রোপাগান্ডা করে। কারণ হলো জামায়াতকে ইস্যু করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আওয়ামী লীগের দোসররাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিৎকার করে। কারণ তারা বিরোধী জোটকে দুর্বল দেখতে চায়।

কালের কণ্ঠ : তার মানে মুক্তিযোদ্ধা হলেও জামায়াত নিয়ে আপনার আপত্তি নেই?

অলি আহমদ : কোনো আপত্তি নেই। কারণ এখনকার জামায়াত ১৯৭১ সালের জামায়াত না। ১৯৭১ সালের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না—এমন লোক এখন জামায়াত করে। তা ছাড়া এভাবে পুরো বাংলাদেশকে ভাগ করে ফেললে চলবে না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই একজন নেতার কর্তব্য।

জাতিকে বিভক্ত করা কোনো ভালো কাজ নয়। এখন যারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই সবচেয়ে জামায়াত নিয়ে বেশি কাজ করেছে। ১৯৮৬ সালে এই আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচন করেছে। ১৯৯৬ সালে এই জামায়াতকে নিয়েই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মূলত জামায়াতের ছিল, যা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক করেছে। এখন জামায়াতের গায়ে গন্ধ আছে—এটি বললে তো হবে না। তারা এই দেশের নাগরিক। তাদের তো বিদেশে পাঠানো যাবে না। যাদের দোষ ছিল বলে বর্তমান সরকার মনে করেছে, তাদের তো ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু বিএনপি চাইছে জামায়াত জোট ছেড়ে চলে যাক।

অলি আহমদ : এমন খবর আমার জানা নেই। বিএনপি নেতারা আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

কালের কণ্ঠ : তাহলে ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের টিকে থাকার বাস্তবতা এখনো আপনি দেখছেন?

অলি আহমদ : অবশ্যই আছে। ২০১২ সাল থেকেই একসঙ্গে চলছি। তা ছাড়া আর কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, যেখানে জামায়াত পাকিস্তানের সঙ্গে ছিল। ২০১৯ সালের জামায়াত রাজাকার নয়। তারা দেশপ্রেমিক লোক। তারাও এখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। আজকেও (শুক্রবার) আমার ইফতার পার্টিতে তারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু তারা তো ’৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি।

অলি আহমদ : ওদের তো ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি। যাদের মাফ চাওয়ার কথা, তাদের তো সরকার ফাঁসি দিয়েছে।

কালের কণ্ঠ : জামায়াতের সঙ্গে আপনার সখ্য নিয়ে ইদানীং বাইরে নানা গুঞ্জন আছে। আপনার সঙ্গে নাকি দলটির সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে?

অলি আহমদ : আমি রাজনীতি করি। আমার সঙ্গে বৈঠক হতেই পারে।

কালের কণ্ঠ : তাহলে কি হিসাব কষা যায় যে আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ এবং জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকের বিশেষ কোনো যোগসূত্র আছে?

অলি আহমদ : অসুবিধা কী! আমি তো চোর বা ডাকাত কিছু নই। আমি একজন প্রাক্তন সামরিক অফিসার এবং একজন সফল রাজনীতিবিদ। যাঁরা এই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার কম নয়। সুতরাং এখানে গাত্রদাহের কোনো কারণ তো দেখি না।

কালের কণ্ঠ : কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অলি আহমদ : আপনাকেও ধন্যবাদ

উৎসঃ ‌‌কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‌জাতীয়তাবাদী দল না থাকলে আবার বাকশাল কায়েম হতো: খন্দকার মোশাররফ


বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল আজ না থাকলে, যারা আজ ক্ষমতায় তারা আবার বাকশাল কায়েম করতো। আজ যারা ক্ষমতায়, তারা জিয়াউর রহমানকে ভয় পায়। বেগম খালেদা জিয়া আজকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে আছেন। তিনি আজ ক্ষমতায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতো।’

মঙ্গলবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে স্বাধীনতা ফোরা‌ম আয়োজিত বীর উত্তম প্রে‌সি‌ডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে এবং দেশনেত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়ার অবিল‌ম্বে নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও আরোগ্য কামনায় এক আলোচনা সভা, ‌দোয়া ও ইফতার ম‌হফি‌লে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

তিনি বলেন, ‘তাঁকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আর এজন্য ছাত্র-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

কৃষক তার ধানে আগুন দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে কৃষক তার ধানের ক্ষেতে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে কারণ ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। সরকারের এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এ সরকার ব্যর্থ। জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এই রাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তারা চেষ্টা করছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ নেসারুল, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতির দুর্নীতিতে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের রেকর্ড!


ডা. মো: আব্দুস সালাম। নিজেকে যিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলেও পরিচিত করেন মানুষের সামনে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের অস্থায়ী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সীমাহীন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন স্বাস্থ্যসেবায় সুনাম অর্জনকারী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চেহারা। প্রতিটি বিষয়ে অনেকটা ঘোষণা দিয়েই চাঁদাবাজি ও উৎকোচ গ্রহণ করছেন তিনি। বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করে চলেছেন তিনি। কনসালটেন্ট, কর্মকর্তাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দীর্ঘদিনের সুনাম থাকলেও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল সে সুনাম আর ধরে রাখতে পারছে না।

আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

১ মার্চ ২০১৯ থেকে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত না হতেই সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ জমেছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। সরকারের দোহাই দিয়ে এসব অনিয়ম দুর্নীতি লাগামহীনভাবে চলায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও মনে করেন সচেতন মহল।

লাগামহীন কমিশন বাণিজ্য:

দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসলেও সে সুনাম চাপা পড়েছে ডা. আব্দুস সালামের লাগামহীন কমিশন বাণিজ্যে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের দীর্ঘ পথচলার ইতিহাসে এমন অনৈতিক লেনদেনের ইতিহাস না থাকলেও ডা. আব্দুস সালাম সে কদর্য ইতিহাস রচনা করেছেন। যে সমস্ত কোম্পানীর ঔষধ চিকিৎসকরা সাধারণত লেখেন না, মোটা অংকের টাকা খেয়ে ফার্মেসী ইনচার্জের অনুমতি ছাড়াই সেসব কোম্পানীর ঔষধ চালানোর নির্দেশ দেয়া হয় অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে। তার নির্দেশেই ক্রয়কৃত RANGS, ORION, INCEPTA সহ বেশ কিছু নতুন কোম্পানীর ঔষধ অবিক্রিত অবস্থায় স্টকে পড়ে আছে। এতে লোকসানের মুখ দেখতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও সকল কোম্পানী থেকে কমিশন খাওয়ার জন্য বিল আটকে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ল্যাবের সকল রিএজেন্ট কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে তিনি খুবই সিদ্ধহস্ত।

ডা. আব্দুস সালামের এ অবৈধ কমিশন বাণিজ্যের শক্ত প্রমাণ রয়েছে হাসপাতালের এসি ক্রয় সংক্রান্ত হিসাবে। কমিশন না দেয়ায় তিনি বিল আটকে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে পূনঃরায় তার মন মত বিল করিয়ে নিয়েছেন।

যে সকল কোম্পানী হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের মালামাল সরবরাহ করতো, তাদের প্রত্যেকের কাছে বড় অংকের কমিশন দাবি করেছেন তিনি। কেউ কমিশন দিতে ব্যর্থ হলে মাল দিতে সরাসরি না করে দেন অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালাম।

এছাড়া স্টোর ইনচার্জদের তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে কমিশন আদায় করে দিতে না পারলে তিনি কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে চাঁদাবাজি:

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেই সংগঠনের নামে ফরম ছেপে ব্যাপক চাঁদাবাজির শক্তিশালী অভিযোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। তিনি উক্ত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বলে দাবি করে থাকেন। এই পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডও বিতরণ করেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে উক্ত সংগঠনের সদস্য ফরম পূরণ করিয়ে অনেকটা প্রকাশ্যেই লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন ডা. আব্দুস সালাম। সাধারণ স্বল্প আয়ের কর্মচারীরাও তার এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

অনেকেই মনে করছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে তিনি এই চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভূক্তোভোগীরা।

স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগ:

সুপার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বজনপ্রীতি জনিত অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের (আইবিএফ) বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের মেইনটেইনেন্স বিভাগে নিজ পুত্র সুলতান মো: শাকিলকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সুপারের পুত্র হওয়ার কারণে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণের বহু প্রমাণ রয়েছে শাকিলের বিরুদ্ধে।

এছাড়া একইভাবে বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের অভ্যর্থনা বিভাগে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডা. আব্দুস সালামের চেম্বারে প্রায়ই বহিরাগত উদ্ভট নারীরা আসা যাওয়া করেন। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি নির্জন কক্ষে এসব নারীদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকেন। হাসপাতালের কিছু নারী কর্মচারীও কারণে অকারণে যাওয়া আসা করেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, এতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সাধারণ রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তারা আগের মত আন্তরিক সেবা পাচ্ছেন না। ফলে হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন রোগীরা। বিশৃংখলা আর অনিয়মের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

সেবার মান কমে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সুপারের পক্ষ থেকে কনসালটেন্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার করার কারণে তারা রোগীদের আগের মত সেবা দিতে আগ্রহবোধ করেন না। ফলে এরই মধ্যে ক্ষতির মুখ দেখেছে জনপ্রিয় এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটলে দিন দিন রোগীর আগমন কমতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

মাত্র তিন মাসের জন্য সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. আব্দুস সালাম অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে বিষিয়ে তুলেছেন সুনাম অর্জনকারী সেবা প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আব্দুস সালামের এসব দুর্নীতি থেকে রেহাই পেতে দুদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশ নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন ড. আসিফ নজরুল


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনাসহ সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে সীমাহিন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ব্যাপক এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

কিন্তু ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও বিস্মিত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে তিনি তাঁর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস:

বালিশ নিয়ে এতো হৈ চৈ, আমি কোন কিছু লিখলাম না কেন?

লিখিনি কারন আমি খুব অবাক হইনি এতে।

যে দেশে বিনা ভোটে জিতে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা যায়, এরপর আরো পাঁচ বছর থাকার ব্যবস্থা করা যায় আগের রাতে ভোট করে, সেদেশে সব সম্ভব।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ছাব্বিশ দিন পর তরতাজা রেশমাকে উদ্ধার, বাংলাদেশে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা লোপাট, মুক্তিযোদ্ধার মেডেলের সোনায় খাদ, বালিশকান্ড-এরকম আরো বহু উদ্ভট ঘটনার চেয়ে অনেক বড় তেলেসমাতি হচ্ছে ১৬ কোটি লোককে পরপর দুটো নির্বাচনে ধাপ্পা দিতে পারা। এমন তেলেসমাতি করা সম্ভব যে দেশে সেখানে জবাবদিহীতা থাকে না, থাকে না কোন সততার তাগিদ, বিচারের ভয়।

বালিশকান্ড শুধু আমাদের একটু ইঙ্গিত দিল, কি ভয়াবহ লুটতরাজ চলছে এদেশে জনগনের সম্পদ নিয়ে।

ড. আসিফ নাজরুলের বালিশ নিয়ে স্ট্যাটাস

উৎসঃ ‌‌ড. আসিফ নাজরুলের ফেবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here