সিরিয়াল দিতে দেরি হওয়ায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যুবলীগের ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর

0
251

সিরিয়াল দিতে দেরি হওয়ায় দলবলসহ এক চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার রাতে নগরীর লক্ষ্মীপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটেছে।বিষয়টি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারঘাট এলাকার এক রোগীকে দেখানোর জন্য লক্ষ্মীপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে পাঠান। এজন্য যুবলীগ নেতা সালেহ চিকিৎসককে ফোনও দেন। ফোন করে চিকিৎসক বেলাল হোসেন কয়েক মিনিট অপেক্ষার জন্য তাকে অনুরোধ করেন।

ইফতারির ঠিক আগমুহূর্তে জেলা যুবলীগ সভাপতি ১৪-১৫ সহযোগী নিয়ে নিজেই পপুলারে ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে যান। তার রোগীকে কেন বসিয়ে রাখা হয়েছে জানতে চেয়ে নিজেই চেম্বারের বাইরে সিরিয়ালের দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসকের কর্মচারী শিমুলকে (৩৪) লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন আবু সালেহ।

একপর্যায়ে শিমুল মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে অন্য কর্মচারীরা তাকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন। যুবলীগ নেতার সহযোগীরা তাদেরও লাথি কিলঘুষি মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে সালেহ বাইরে থেকে চিকিৎসকের চেম্বারের দরজায় লাথি মারতে থাকেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।কিছুক্ষণ পর সালেহ তার সহযোগীদের নিয়ে পপুলারের ম্যানেজার শামীম হোসেনের চেম্বারে গিয়ে সেখানেও ভাঙচুর চালান।

এসময় ম্যানেজার চেম্বারে না থাকায় তার দুই কর্মচারীকে মারধর করেন সালেহ ও তার লোকজন। ২৫ মিনিট তাণ্ডব চালিয়ে সহযোগীদের নিয়ে ফিরে যান সালেহ।

এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার শামীম হোসেন জানান, যুবলীগ নেতার তাণ্ডবের সময় পুরো হাসপাতালজুড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আহত শিমুলসহ পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি রাজশাহীর মেয়রকে আমরা জানিয়ে বিচার দাবি করেছি।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেন বুধবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, এত বড় একজন ছাত্রনেতা নিজেই এমন একটা হামলার ঘটনা ঘটাল ভাবা যায় না। তিনি বলেন, তার সুপারিশ করা রোগীকে আগে কয়েকবার দেখা হয়েছে। চেম্বারের ভেতরে কয়েকজন শিশু রোগী থাকায় যুবলীগ নেতার রোগীকে মাত্র ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। হামলার সময় তার রোগী চেম্বারের ভেতরে ছিলেন। এরইমধ্যে উনি দলবল নিয়ে ক্লিনিকে এসে পড়েন এবং এসব তুলকালাম কাণ্ড ঘটান।

এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজশাহী রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ব্যপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওসি বরখাস্ত


পুলিশলাইনসে ক্লোজ হওয়ার একদিন পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন রাজশাহীর মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন। স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আকতার বর্ষা আত্মহত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম।

তিনি বলেন, স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহত্যার ঘটনায় ওসির অবহেলা আছে কিনা- বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাতে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ ওসি আবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে তাকে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অপহরণের শিকার হন নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা। ওই দিন বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে খানপুর বাগবাজার এলাকায় অচেতন অবস্থায় বর্ষাকে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাতেই প্রতিবেশী বখাটে মুকুলকে পুলিশ আটক করলেও সকালে ছেড়ে দেয়।

এর পর টানা চার দিন মামলা করতে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো বর্ষার বাবা আবদুল মান্নানকে আটকে রেখে হয়রানি ও পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দেয়ার হুমকি দেন ওসি আবুল হোসেন।

এ ঘটনায় গত ১৬ মে নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘অনির্বাচিত সরকার’কে গ্রহণ করার মূল্য দিচ্ছে জনগণ: ড. কামাল


ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একটি ‘অনির্বাচিত সরকারকে’ এভাবে গ্রহণ করায় সব মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে। গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা না এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছেন। গণতন্ত্রহীনতার মূল্য দিতে হচ্ছে সবাইকে।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে এ ধরনের ‘শাস্তি’ ভোগ করতে হবে- স্বাধীন দেশে এটি কল্পনাই করা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কারণ, সরকারের কৃষিনীতি নেই।

সরকার মানুষের দাবিকে অবজ্ঞা করছে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, কোনো কিছুতেই এ সরকারের দায় নেই। কৃষকের ধান কেনাসহ নাগরিকের ব্যাপারেও সরকারে দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট। এজন্য সরকার যেনতেনভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দেশে যদি এ ধরনের একটি অগণতান্ত্রিক সরকার থাকে তার কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারি না। এরা (সরকার) মানুষকে অবজ্ঞা করছে, এরা কী করে বলে যে, তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে?

সরকারের বিরুদ্ধে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এমন সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে হচ্ছে, সইতে হচ্ছে। তাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের মানুষকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, সরকারে এসব ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে। গণতন্ত্রের জন্য তারা শক্তি প্রয়োগ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কারণ, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি না থাকায় অসাধারণ মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাই আসুন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এতে একটা জবাবদিহিতামূলক সরকার হবে। অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সরকার জনবিচ্ছিন্ন। তাদের ওপর কারো আস্থা ও বিশ্বাস নেই।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এই সরকার কৃষকের প্রতি সহানুভুতিশীল নয়। তারা ঋণ খেলাপি বা শেয়ার বাজার ম্যানিপুলেটকারীদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও কৃষকের সাহায্যে একেবারেই নীরব।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জামায়াত একটি দেশ প্রেমিক দল,তাদের কোন দোষ নেই,কালের কন্ঠে সাক্ষাৎকারে:কর্নেল অলি


মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামী নিয়ে কালের কন্ঠে বিশেষ সাক্ষাৎকারে কর্নেল অলি আহমদ,

কালের কণ্ঠ : একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ২০ দলীয় জোটে থাকার ঘটনাকে কিভাবে দেখেন?

অলি আহমদ : জামায়াতের কোনো দোষ নেই। তা ছাড়া সেই জামায়াত কি এখন আর আছে? আসলে বিএনপিকে যারা দুর্বল দেখতে চায়, তারাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিন্তা করে। আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে বেশি প্রোপাগান্ডা করে। কারণ হলো জামায়াতকে ইস্যু করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আওয়ামী লীগের দোসররাই জামায়াত নিয়ে বেশি চিৎকার করে। কারণ তারা বিরোধী জোটকে দুর্বল দেখতে চায়।

কালের কণ্ঠ : তার মানে মুক্তিযোদ্ধা হলেও জামায়াত নিয়ে আপনার আপত্তি নেই?

অলি আহমদ : কোনো আপত্তি নেই। কারণ এখনকার জামায়াত ১৯৭১ সালের জামায়াত না। ১৯৭১ সালের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না—এমন লোক এখন জামায়াত করে। তা ছাড়া এভাবে পুরো বাংলাদেশকে ভাগ করে ফেললে চলবে না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই একজন নেতার কর্তব্য।

জাতিকে বিভক্ত করা কোনো ভালো কাজ নয়। এখন যারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই সবচেয়ে জামায়াত নিয়ে বেশি কাজ করেছে। ১৯৮৬ সালে এই আওয়ামী লীগই জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচন করেছে। ১৯৯৬ সালে এই জামায়াতকে নিয়েই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মূলত জামায়াতের ছিল, যা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক করেছে। এখন জামায়াতের গায়ে গন্ধ আছে—এটি বললে তো হবে না। তারা এই দেশের নাগরিক। তাদের তো বিদেশে পাঠানো যাবে না। যাদের দোষ ছিল বলে বর্তমান সরকার মনে করেছে, তাদের তো ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু বিএনপি চাইছে জামায়াত জোট ছেড়ে চলে যাক।

অলি আহমদ : এমন খবর আমার জানা নেই। বিএনপি নেতারা আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

কালের কণ্ঠ : তাহলে ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের টিকে থাকার বাস্তবতা এখনো আপনি দেখছেন?

অলি আহমদ : অবশ্যই আছে। ২০১২ সাল থেকেই একসঙ্গে চলছি। তা ছাড়া আর কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, যেখানে জামায়াত পাকিস্তানের সঙ্গে ছিল। ২০১৯ সালের জামায়াত রাজাকার নয়। তারা দেশপ্রেমিক লোক। তারাও এখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। আজকেও (শুক্রবার) আমার ইফতার পার্টিতে তারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু তারা তো ’৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি।

অলি আহমদ : ওদের তো ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি। যাদের মাফ চাওয়ার কথা, তাদের তো সরকার ফাঁসি দিয়েছে।

কালের কণ্ঠ : জামায়াতের সঙ্গে আপনার সখ্য নিয়ে ইদানীং বাইরে নানা গুঞ্জন আছে। আপনার সঙ্গে নাকি দলটির সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে?

অলি আহমদ : আমি রাজনীতি করি। আমার সঙ্গে বৈঠক হতেই পারে।

কালের কণ্ঠ : তাহলে কি হিসাব কষা যায় যে আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ এবং জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকের বিশেষ কোনো যোগসূত্র আছে?

অলি আহমদ : অসুবিধা কী! আমি তো চোর বা ডাকাত কিছু নই। আমি একজন প্রাক্তন সামরিক অফিসার এবং একজন সফল রাজনীতিবিদ। যাঁরা এই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার কম নয়। সুতরাং এখানে গাত্রদাহের কোনো কারণ তো দেখি না।

কালের কণ্ঠ : কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অলি আহমদ : আপনাকেও ধন্যবাদ

উৎসঃ ‌‌কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াসহ ৫ জনকে প্রাথমিক মনোনয়ন বিএনপির


বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনকে। তাদের আগামী ২৩ শে মে নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের আগে একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্কাইপের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া অপর চারজন হলেন- বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ আসনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভা হয়। সেখানে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সভায় স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত হন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলেন ও সবার মতামতের ভিত্তিতে এ উপ-নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ৫ জনকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে বলেন।

খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) আসনে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নির্বাচিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ৮ মে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

আগামী ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে ক্ষমতাসীন দল মনোনয়ন দিয়েছে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি জামান নিকেতাকে।

বিএনপি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে বগুড়া জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ সিরিজই বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌জাতীয়তাবাদী দল না থাকলে আবার বাকশাল কায়েম হতো: খন্দকার মোশাররফ


বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল আজ না থাকলে, যারা আজ ক্ষমতায় তারা আবার বাকশাল কায়েম করতো। আজ যারা ক্ষমতায়, তারা জিয়াউর রহমানকে ভয় পায়। বেগম খালেদা জিয়া আজকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে আছেন। তিনি আজ ক্ষমতায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতো।’

মঙ্গলবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে স্বাধীনতা ফোরা‌ম আয়োজিত বীর উত্তম প্রে‌সি‌ডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে এবং দেশনেত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়ার অবিল‌ম্বে নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও আরোগ্য কামনায় এক আলোচনা সভা, ‌দোয়া ও ইফতার ম‌হফি‌লে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

তিনি বলেন, ‘তাঁকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আর এজন্য ছাত্র-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

কৃষক তার ধানে আগুন দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে কৃষক তার ধানের ক্ষেতে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে কারণ ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। সরকারের এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এ সরকার ব্যর্থ। জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এই রাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তারা চেষ্টা করছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ নেসারুল, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দে‌শে গণতন্ত্র মুক্ত করার জন্য চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতির আহ্বান দুদুর


দে‌শে গণতন্ত্র মুক্ত করার জন্য বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে মুক্ত করার জন্য ‌বিএন‌পির নেতাকর্মী‌দের চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

‌তি‌নি ব‌লেন, ‘আমরা যেভাবে আরাম-আয়েশে চলছি, এভাবে স্বৈরশাসকের পতন হয় না, স্বৈরতন্ত্রের পতন হয় না। আমরা একবার গা ঝাড়া দি‌য়ে উঠ‌লে এই সরকা‌রের পতন নি‌শ্চিত।’

মঙ্গলবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে স্বাধীনতা ফোরা‌মের উদ্যোগে বীর উত্তম প্রে‌সি‌ডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাৎবা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে ও দেশনেত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়ার অ‌বিল‌ম্বে নিঃমর্ত মু‌ক্তি এবং আরোগ্য কামনায় আ‌য়ো‌জিত আলোচনা সভা,‌ দোয়া ও ইফতার ম‌হফি‌লে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

দুদু ব‌লেন, ‘গত ১২ বছর ধরে দেশটি ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়েছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই জগদ্দল পাথরের বোঝা আমরা আমাদের মাথা থেকে নামাতে পারিনি।’

‌বিএন‌পির এ নেতা ব‌লেন, ‘পাকিস্তানের স্বৈরশাসক পতনের জন্য একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং সেই যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সে দ‌লের কর্মী হ‌য়ে এখ‌নো সৈরাস্বাশককে পতন কর‌তে পা‌রি নাই, এটা খুবই দুঃখজনক।’

সাবেক এই ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘আমাদের অক্ষমতার কারণে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো জেলে আছেন। আমরা যদি গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পারতাম, সত্যিকারের লড়াইটা যদি করতে পারতাম তাহলে তাঁকে মুক্ত করতে পারতাম।’

সা‌বেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান, তিনি সংগঠন গঠন করছেন। বন্ধুরা হতাশ হওয়ার কিছু নাই। মিথ্যা সব সময় সত্যের কাছে পরাজিত হয়। অন্যায় সব সময় ন্যায়ের কাছে পরাজিত হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত, এই সরকার আর বেশি দিন ক্ষমতায় নাই। কারণ মিথ্যা চিরস্থায়ী না। আমরা আমাদের কাজ যদি সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে এই সরকারের পতন অনিবার্য।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ নেসারুল, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতির দুর্নীতিতে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের রেকর্ড!


ডা. মো: আব্দুস সালাম। নিজেকে যিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলেও পরিচিত করেন মানুষের সামনে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের অস্থায়ী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সীমাহীন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন স্বাস্থ্যসেবায় সুনাম অর্জনকারী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চেহারা। প্রতিটি বিষয়ে অনেকটা ঘোষণা দিয়েই চাঁদাবাজি ও উৎকোচ গ্রহণ করছেন তিনি। বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করে চলেছেন তিনি। কনসালটেন্ট, কর্মকর্তাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দীর্ঘদিনের সুনাম থাকলেও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল সে সুনাম আর ধরে রাখতে পারছে না।

আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

১ মার্চ ২০১৯ থেকে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত না হতেই সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ জমেছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। সরকারের দোহাই দিয়ে এসব অনিয়ম দুর্নীতি লাগামহীনভাবে চলায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও মনে করেন সচেতন মহল।

লাগামহীন কমিশন বাণিজ্য:

দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসলেও সে সুনাম চাপা পড়েছে ডা. আব্দুস সালামের লাগামহীন কমিশন বাণিজ্যে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের দীর্ঘ পথচলার ইতিহাসে এমন অনৈতিক লেনদেনের ইতিহাস না থাকলেও ডা. আব্দুস সালাম সে কদর্য ইতিহাস রচনা করেছেন। যে সমস্ত কোম্পানীর ঔষধ চিকিৎসকরা সাধারণত লেখেন না, মোটা অংকের টাকা খেয়ে ফার্মেসী ইনচার্জের অনুমতি ছাড়াই সেসব কোম্পানীর ঔষধ চালানোর নির্দেশ দেয়া হয় অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে। তার নির্দেশেই ক্রয়কৃত RANGS, ORION, INCEPTA সহ বেশ কিছু নতুন কোম্পানীর ঔষধ অবিক্রিত অবস্থায় স্টকে পড়ে আছে। এতে লোকসানের মুখ দেখতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও সকল কোম্পানী থেকে কমিশন খাওয়ার জন্য বিল আটকে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ল্যাবের সকল রিএজেন্ট কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে তিনি খুবই সিদ্ধহস্ত।

ডা. আব্দুস সালামের এ অবৈধ কমিশন বাণিজ্যের শক্ত প্রমাণ রয়েছে হাসপাতালের এসি ক্রয় সংক্রান্ত হিসাবে। কমিশন না দেয়ায় তিনি বিল আটকে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে পূনঃরায় তার মন মত বিল করিয়ে নিয়েছেন।

যে সকল কোম্পানী হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের মালামাল সরবরাহ করতো, তাদের প্রত্যেকের কাছে বড় অংকের কমিশন দাবি করেছেন তিনি। কেউ কমিশন দিতে ব্যর্থ হলে মাল দিতে সরাসরি না করে দেন অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালাম।

এছাড়া স্টোর ইনচার্জদের তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে কমিশন আদায় করে দিতে না পারলে তিনি কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে চাঁদাবাজি:

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেই সংগঠনের নামে ফরম ছেপে ব্যাপক চাঁদাবাজির শক্তিশালী অভিযোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। তিনি উক্ত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বলে দাবি করে থাকেন। এই পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডও বিতরণ করেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে উক্ত সংগঠনের সদস্য ফরম পূরণ করিয়ে অনেকটা প্রকাশ্যেই লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন ডা. আব্দুস সালাম। সাধারণ স্বল্প আয়ের কর্মচারীরাও তার এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

অনেকেই মনে করছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে তিনি এই চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভূক্তোভোগীরা।

স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগ:

সুপার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বজনপ্রীতি জনিত অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের (আইবিএফ) বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের মেইনটেইনেন্স বিভাগে নিজ পুত্র সুলতান মো: শাকিলকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সুপারের পুত্র হওয়ার কারণে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণের বহু প্রমাণ রয়েছে শাকিলের বিরুদ্ধে।

এছাড়া একইভাবে বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের অভ্যর্থনা বিভাগে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডা. আব্দুস সালামের চেম্বারে প্রায়ই বহিরাগত উদ্ভট নারীরা আসা যাওয়া করেন। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি নির্জন কক্ষে এসব নারীদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকেন। হাসপাতালের কিছু নারী কর্মচারীও কারণে অকারণে যাওয়া আসা করেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, এতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সাধারণ রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তারা আগের মত আন্তরিক সেবা পাচ্ছেন না। ফলে হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন রোগীরা। বিশৃংখলা আর অনিয়মের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

সেবার মান কমে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সুপারের পক্ষ থেকে কনসালটেন্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার করার কারণে তারা রোগীদের আগের মত সেবা দিতে আগ্রহবোধ করেন না। ফলে এরই মধ্যে ক্ষতির মুখ দেখেছে জনপ্রিয় এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটলে দিন দিন রোগীর আগমন কমতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

মাত্র তিন মাসের জন্য সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. আব্দুস সালাম অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে বিষিয়ে তুলেছেন সুনাম অর্জনকারী সেবা প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আব্দুস সালামের এসব দুর্নীতি থেকে রেহাই পেতে দুদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নির্বাচন কমিশনের ইফতারিতে বৈষম্য নিয়ে সমালোচনার ঝড়


একটি ইফতার অনুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বির্তক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের ফোয়ারা চত্বরে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সহ অন্যান্য কমিশনাররা।

সেই ইফতার অনুষ্ঠানে বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই অনুষ্ঠানে একই ছাদের নিচে দেয়া হয়েছে দু ধরনের খাবার।

এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে তুমুল সমালোচনা।

অভিযোগ রয়েছে, সিইসি, ইসি সচীবসহ ভিআইপিরা ইফতারে ভালো ভালো খাবার খেলেও তাদের অধীনস্ত সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিন্ন খাবার দেয়া হয়েছে। সিইসিসহ বড় কর্মকর্তাদের সামনে ১৪ আইটেম পরিবেশন করা হলেও অন্যদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১১ আইটেম।

আরও অভিযোগ এসেছে যে, সাধারণ মানুষদের ট্যাং এর শরবত দেয়া হলেও ভিআইপিরা সেই শরবতের পাশাপাশি পান করেছেন পোস্তা বাদামের শরবত। এছাড়া ভিআইপিদের পাতে ছিল লাল আঙুর ও চিকেন ভুনা যা সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেয়া হয়নি। তাদের জন্য বরাদ্দ মেন্যুতে ছিল ট্যাং এর শরবত আর মাটন তেহারির প্যাকেট।

ওই ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী কাজী হাফিজ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে এ নিয়ে প্রমাণ হিসাবে কয়েকটি ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

মঙ্গলবার রাতে তার সেই পোস্টে অনেকেই ইফতারের মতো ধর্মীয় বিষয়ে এমন কাণ্ডকে অবিবেচকের মতো ও অগ্রহণযোগ্য কাজ বলে মন্তব্য করছেন।

কাজী হাফিজের ওই স্ট্যাটাসটিতে ঘটনার যে বর্ণনা পাওয়া যায় –

‘এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই এমনটা সম্ভব। পবিত্র রমজানের ইফতার অনুষ্ঠানে এক ছাদের নিচে বসে আজ সাধারণ খাবারের অতিরিক্ত হিসাবে নিজেরা খেলেন পোস্তা বাদামের শরবত, লাল আঙ্গুর আর চিকেন ভুনা।

কমিশন সচিবালয়ের উঁচু পদের কর্মকর্তারাও এই বিশেষ ভোগ থেকে বঞ্চিত হননি। কিন্তু সাধারণ কর্মকর্তা- কর্মচারী আর সাংবাদিকরা এসব খাবার পেলেন না। ভিন্ন মেন্যুতে তাদের জন্য বরাদ্দ টেং এর শরবত আর মাটন তেহারির প্যাকেট । নির্বাচন কমিশনার আর কমিশনের উঁচু পদের কর্মকর্তাদের মেন্যুর সঙ্গে সাধারণ কর্মকর্তা -কর্মচারী ও সাংবাদিকদের মেন্যুটা পড়লেই বৈষম্যটি বুঝতে পারবেন।

সৌভাগ্যবানদের জন্য ১৪টি আইটেম আর হতভাগ্যদের জন্য ১১টি। এর মধ্যে সালাদের ক্ষেত্রেও পার্থক্য আছে। একপক্ষের জন্য মাখা সালাদ আর অন্যপক্ষের জন্য পিস ( শসার কয়েক টুকরা) সালাদ।’

এমন বৈষম্যমূলক ইফতার অনুষ্ঠান বিষয়ে কাজী হাফিজ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ নিয়ে বঞ্চিত সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে তাদের ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবারের ওই সমালোচিত ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অনেক নির্বাচন কমিশন ও কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ অনেকে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশ নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন ড. আসিফ নজরুল


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনাসহ সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে সীমাহিন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ব্যাপক এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

কিন্তু ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও বিস্মিত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে তিনি তাঁর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস:

বালিশ নিয়ে এতো হৈ চৈ, আমি কোন কিছু লিখলাম না কেন?

লিখিনি কারন আমি খুব অবাক হইনি এতে।

যে দেশে বিনা ভোটে জিতে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা যায়, এরপর আরো পাঁচ বছর থাকার ব্যবস্থা করা যায় আগের রাতে ভোট করে, সেদেশে সব সম্ভব।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ছাব্বিশ দিন পর তরতাজা রেশমাকে উদ্ধার, বাংলাদেশে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা লোপাট, মুক্তিযোদ্ধার মেডেলের সোনায় খাদ, বালিশকান্ড-এরকম আরো বহু উদ্ভট ঘটনার চেয়ে অনেক বড় তেলেসমাতি হচ্ছে ১৬ কোটি লোককে পরপর দুটো নির্বাচনে ধাপ্পা দিতে পারা। এমন তেলেসমাতি করা সম্ভব যে দেশে সেখানে জবাবদিহীতা থাকে না, থাকে না কোন সততার তাগিদ, বিচারের ভয়।

বালিশকান্ড শুধু আমাদের একটু ইঙ্গিত দিল, কি ভয়াবহ লুটতরাজ চলছে এদেশে জনগনের সম্পদ নিয়ে।

ড. আসিফ নাজরুলের বালিশ নিয়ে স্ট্যাটাস

উৎসঃ ‌‌ড. আসিফ নাজরুলের ফেবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here