গায়েবী মামলা নিয়ে পুলিশের কাণ্ড…

0
156

মামলার আসামি এক ভাই। কিন্তু পুলিশ এক ভাইয়ের নামের সঙ্গে আরেক ভাইয়ের নাম যুক্ত করে দেয়। বিষয়টি নজরে আনার পর পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র সংশোধন করার নির্দেশ দেন আদালত। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ওসমান গণি শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর নগরের আকবরশাহ থানার কৈবল্যধাম এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এজাহারে দুই ভাইয়ের কারও নাম ছিল না। তদন্তের একপর্যায়ে সীতাকুণ্ডের মাহমুদাবাদ এলাকার মদিন উল্লাহর ছেলে আবুল বশরকে পরের বছরের ২৮ মে কারা ফটক থেকে আটক করে আকবরশাহ থানার পুলিশ। পরে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত শেষে এই মামলায় আকবরশাহ থানার পুলিশ ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে ৩২ নম্বর আসামির নাম লেখা হয় আবু জাফর ওরফে বশর। ঘটনা চক্রে আসামি আবুল বশরের ভাইয়ের নাম আবু জাফর। পুলিশের ভুলের কারণে মামলায় তিনিও জড়িয়ে যান। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আকবরশাহ থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলায়মান এই ভুলটি করেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, আবুল বশর জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হন। কিন্তু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ তাঁর আবুধাবিপ্রবাসী ভাইকে খুঁজতে থাকে। এর মধ্যে দেশে বেড়াতে আসেন আবু জাফর। হঠাৎ একদিন পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি শুরু করলে অবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

নিজে আসামি নন দাবি করে গত বছরের ৩০ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন আবু জাফর। এ সময় আদালত বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানার-পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে এসআই টিকলু মজুমদার ৫ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, আবু জাফর এক ব্যক্তি এবং বশর তাঁর ভাই। এক নাম লেখা দুই ব্যক্তি। এই মামলার প্রকৃত আসামি হচ্ছেন আবুল বশর।

গতকাল ধার্য দিনে আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আকবরশাহ থানার পুলিশকে আবু জাফরের নামটি বাদ দিয়ে ওই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দিতে নির্দেশ দেন।

উৎসঃ ‌prothom Alo

আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ইয়াবা খাইয়ে ধর্ষণ করল দুই পুলিশ


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ওই নারী জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে সাটুরিয়ায় এলে সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন থানার পাশে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে জোর করে ইয়াবা বড়ি খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করেন। পরে এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে বা মামলা-মোকদ্দমা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরের দিন শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর প্রতিবেশী আরেক নারী জানান, এসআই সেকেন্দার হোসেন তাঁর পূর্ব পরিচিত। একসঙ্গে জমি কেনার বিষয়ে তিন বছর আগে তিনি সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিতে তিনি তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে সাটুরিয়ায় যান। সেকেন্দার হোসেন তাঁদের টাকার বিষয়ে কথা বলার জন্য থানার পাশেই সরকারি ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা এক লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে। আর তাঁর প্রতিবেশীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান সেকেন্দার।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে টেলিফোনের মাধ্যমে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সদর সার্কেলের এএসপি হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে কিছুটা সত্যতা পাওয়ায় শনিবার রাতেই এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজাহারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার ভিকটিম সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিঃ মাসুদা ভাট্টি-মুন্নী সাহারা চুপ কেন?


নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকালেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছে। একুশে টিভিতে কর্মরত নির্যাতনের শিকার নারীকর্মীরাও মানববন্ধনে বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে গোটা সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোও বুলবুলের এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও বুলবুল এবং তার সহযোগিদের শাস্তির দাবি উঠেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বুলবুলের নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এনিয়ে চলছে সমালোচনা।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, টেলিভিশনের পর্দায় বসে যারা দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় নারীদের অধিকার নিয়ে চেঁচামেচি করেন সেই কথিত সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একুশে টিভির নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় কোনো কথা বলতে শুনা যাচ্ছে না। বুলবুল গংদের শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় নিয়মিতই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন নারী সাংবাদিকরা। কিন্তু মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একদিনও দেখা যায়নি। এমনকি কোনো টকশোতেও এনিয়ে কোনো কথা বলছেন না কথিত এই দুই নারী সাংবাদিক।

অথচ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলার প্রতিবাদে দলবল নিয়ে মাঠে নেমেছিল মুন্নী সাহারা। তাদের ভাষায়-মইনুল হোসেন নাকি মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে তাদের ইজ্জত একেবারে শেষ করে দিয়েছিলেন। এখন তাদের জাত ভাই মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও তার সহযোগিরা নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করলেও সম্মান নষ্ট হয় না।

মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহার নীরবতা নিয়ে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, রাজনৈতিক মহলেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। সবার প্রশ্ন একটাই-এত বড় ঘটনার পরও মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহা এখন চুপ কেন? বুলবুলের বিরুদ্ধে তারা মুখ খুলছেন না কেন? বুলবুলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কি? অভিযোগ রয়েছে, বুলবুল এটিএন বাংলায় থাকাকালীন মুন্নী সাহার সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ


এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত সেই আফজালের সঙ্গে দুদকের গোপন সম্পর্ক!


স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানম। নিম্ন পদে চাকরি করেও ২৪ বছরে তারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা যদি ২৪ বছরে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন তাহলে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সম্পদ কী পরিমাণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, হস্তান্তর বা লেনদেন বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেন অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরপরই বিজি প্রেস থেকে গেজেট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আদালতের আদেশ পৌঁছে গেছে। আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও বাংলা দৈনিক অগ্রসরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য আদেশে বলেছিলেন। সে মোতাবেক বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আফজাল, তাঁর স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি মাত্র ৩টি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। অন্য কয়েকটি ব্যাংকে থাকা আবজাল দম্পতির হিসাবগুলো এখনও সচল রয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর গত দুই সপ্তাহেই আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যার মাধ্যমে সরকারি ঠিকাদারি কাজের বিল আদায় হতো সেটিও সচল আছে এবং লেনদেন চলছে। আবজালের নিজের নামে ও তাঁর যেসব নিকটাত্মীয়কে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে তাঁদের হিসাবও সচল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওইসব হিসাব সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দের কোনো আদেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তাঁরা।

আদালতের আদেশের পরও আবজাল দম্পতির ব্যাংক লেনদেন সচল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লেনদেন জব্দের জন্য দুদক মাত্র ৩টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কেন? আফজাল দম্পতিকে তাদের অবৈধ সম্পত্তি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতেই অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়নি দুদক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে শুধু ৩টি ব্যাংকের তথ্য থাকবে কেন? তাহলে নিশ্চয় অদৃশ্য কোনো ইশারায় আফজাল দম্পতির অবৈধ সম্পত্তির সব অনুসন্ধান করেনি দুদক। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আফজাল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছে এসব নিশ্চয় দুদকের জানা আছে। আফজাল দম্পতির সঙ্গে যে দুদক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে এটা এখন পরিষ্কার।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক কমিশনাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এটা করেছে। আফজাল দম্পতিকে অবৈধ টাকা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য কমিশনারদেরও হাত রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা সেজে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে প্রধান প্রকৌশলীর ‘নৈরাজ্য’


হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা সেজে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলীর পদ রীতিমতো আকড়ে আছেন এক প্রকৌশলী। তার নাম দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একবছর এবং পরে তদবিরের জোরে চুক্তিভিত্তিক আরও তিনবছর চাকরিসহ চার বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার নির্মাণ কাজের এ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদটি একপ্রকার করায়ত্ত করে নেন তিনি।

এরপর প্রতিষ্ঠানটি একপ্রকার পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়। নামে-বেনামে তার ভাইসহ অন্যান্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করানোর অভিযোগ উঠে। তার পরিবারের বেশ কয়েক সদস্য এ প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি করেন। এ ছাড়া কাজ নিয়ে নানান ধরনের অনিয়মের অভিযোগও আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন (২০১৪-১৮) প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বেসর্বায় পরিণত হন। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের চাকরির বয়স দুইবছর বৃদ্ধি করে অবসরের বয়স ৫৯ করে সরকার। পরে ২০১৩ সালে আরও একবছর বাড়িয়ে ৬০ করা হয়। ২০১০ সালে চাকরির বয়স বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পরই হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হন নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান হানজালা। ২০১১ সালে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেন এই প্রকৌশলী। অথচ ১৯৮১ সালে চাকরিতে যোগদানকালে এ ধরনের কোনো কাগজপত্র জমা দেননি তিনি। তার এই মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার ইস্যু নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হলে কথিত মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে তিনি চাকরির মেয়াদ প্রথমে এক বছর বৃদ্ধি করিয়ে নেন। পরবর্তীতে একই পদ্ধতিতে নিজের এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রথমে একবছর ও পরে দুই বছরের জন্য তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নেন।

কথিত আছে, শিক্ষার তৎকালীন এক শীর্ষ ব্যক্তি রহস্যজনক কারণে ফাইল হাতে করে নিয়ে গিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়কে ম্যানেজ করে তার চাকরির বয়স বাড়িয়ে আনেন। গত বছরের ১৭ জুলাই তার সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরো এক বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ আছে, এরপর বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই প্রকৌশলী। গড়ে তোলেন একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দফতরের ও প্রধান প্রকৌশলীর পরিবারের ৩-৪ জন ব্যক্তি রয়েছেন।

ফলে ইইডিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠতে থাকে। ইইডি সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন নির্মাণ কাজ উল্লিখিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির মাধ্যমেই রফা হয়ে থাকে। ওই ব্যক্তি প্রধান প্রকৌশলীর ভাই আবদুল হাই। এই ব্যক্তিকে কখনো নামে আবার কখনো বেনামে কাজ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের অনিয়মের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমি তাকে (প্রধান প্রকৌশলী) ডেকেছিলাম। তার কাছে জানতে চেয়েছি। পরে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিবের সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে সেখানে (জগন্নাথে) কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি যেই করুন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমরা কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না। বিধান মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কারোর বিরুদ্ধে আমরা তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যদি ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন, তবে আমাদের কাছে এলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভৌত-অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারসহ আসবাবপত্র সরবরাহের মতো বিষয়গুলো এই অধিদফতরের দায়িত্বে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। কিন্তু ২০১৪ সালের পর অভিযোগ আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন অভিযোগের একটি হলো- অবৈধ উপায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কারের কার্যাদেশ নিয়ে রীতিমতো পুকুরচুরি। ইইডির শুধু ঢাকা মেট্রো জোনের ২০১৭ সালের জুন মাসের ১০৮টি কাজ পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে দু-চারটি নতুন নির্মাণের কার্যাদেশ ছাড়া বাকি সবই ছিল মেরামত ও সংস্কার সংক্রান্ত।

আবার সাধারণত মেরামত ও সংস্কার কাজে প্রতিটিতে বরাদ্দ থাকার কথা ৩-৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক কাজেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। এটা ইইডির ইতিহাসে বিরল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়ে নানান প্রশ্ন। শুধু মেট্রো জোনেই নয়, ইইডির সারাদেশের কার্যক্রমেই একই চিত্র বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নামে-বেনামে এসব কাজ বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলী পরিবারের একাধিক সদস্যসহ উল্লিখিত সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠজনরা।

জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর ভাই আবদুল হাই নিজের প্রতিষ্ঠান পদ্মা কনস্ট্রাকশন ছাড়াও স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফিরোজা এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়েছেন।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল খাটিয়েছেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছেন ছোটখাটো কাজ। অন্যদিকে বড় কাজগুলো নিয়েছেন নিজের স্ত্রী এবং বন্ধু-বান্ধবদের প্রতিষ্ঠানের নামে। যাতে সরকারি কাজে পরিবারিকীকরণ প্রমাণিত না হয়, সে কারণে এমন কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

তবে এরপরও অপকর্ম হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় বলে জানা গেছে। আজিমপুরের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের একটি নির্মাণ কাজের টেন্ডারে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। ঠিকাদার আবদুল হাইয়ের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামস এন্টারপ্রাইজের নামে কার্যাদেশটি দেয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ জুন এই প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। এর তিন দিন পর ২৯ জুন একই কাজের জন্য আরও ৩৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। তিন দিনের মাথায় নতুন করে এই বিল পরিশোধের ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ইডেন কলেজ সম্প্রসারণ বাবদ ২ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৫১৩ টাকার কার্যাদেশ এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ৪ তলা হোস্টেল ভবনের টয়লেট-স্যুয়ারেজ মেরামত-সংস্কার বাবদ ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৪ টাকার কার্যাদেশ পায় মেসার্স ফিরোজা এন্টারপ্রাইজ। এই প্রতিষ্ঠানটি আবদুল হাইয়ের স্ত্রীর বলে জানা গেছে। টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের বৈদ্যুতিক বিতরণ লাইনের মেরামত বাবদ ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৭ টাকার কাজ বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামস এন্টারপ্রাইজের নামে নিয়ে আবদুল হাই নিজেই তা করেছেন।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ৩ তলা হোস্টেলের টয়লেটগুলোর পানির লাইন ও স্যুয়ারেজ মেরামত-সংস্কার বাবদ ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ২৯ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয় আবদুল হাইয়ের শ্যালকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের নামে। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ প্রধান শিক্ষকের কক্ষ সংলগ্ন স্টোর রুমের সম্প্রসারণ কাজ (১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার), গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ৩ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের মেরামত ও সংস্কার কাজসহ (১৪ লাখ ৯১ হাজার টাকার) ৪টি কাজ পেয়েছে মেসার্স সপ্তদীপা সংসদ। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল হক, যিনি প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার আপন খালাতো ভাই। হানজালার বাসায়ই তিনি বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উভয় ব্লকের ছাদের জলছাদ ও সংস্কার কাজ, ধানমন্ডি গার্লস স্কুল- উত্তর ব্লকের মেরামত কাজ এবং ধানমন্ডি গার্লস স্কুল- নামাজ রুমের মেরামত কাজ পেয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী হানজালার আরেক খালাতো ভাই গোলাম মোস্তফার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএম এন্টারপ্রাইজ। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- দক্ষিণ গেট মেরামত ও সংস্কার কাজ (৯ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪ টাকার) পেয়েছে হানজালার আপন বড় ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। হানজালার ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফিদ ইন্টারন্যাশনাল ইডেন মহিলা কলেজের ৬টি আলাদা বড় কাজ পেয়েছেন, যার ৫টিই মেরামত ও সংস্কার সংক্রান্ত। এ কাজগুলো বন্ধুর প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া হলেও কাজের মালিকানা আসলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী হানজালার ভাই আবদুল হাইয়ের নিজেরই।

ঢাকা জোনের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা নজরুল ইসলামের আপন ভাই মির্জা আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৪টি মেরামত ও সংস্কার কাজ। সংশ্লিষ্টমহলের অভিযোগ, টেন্ডারে ম্যানিপুলেট করা না হলে কোনো ক্রমেই একটি প্রতিষ্ঠান এতোগুলো কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। নির্বাহী প্রকৌশলী ছাড়াও এই ম্যানিপুলেশনের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বলেন, আমার ভাই-ভাতিজা কী তাহলে ব্যবসা করবে না? তিনি দাবি করেন, সবগুলো কাজই নিয়ম-মাফিক হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। একটি মহল আমার সুনাম নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, দরপত্র কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, তাই আমার ভাই বা পরিচিত কাউকে দরপত্র পাইয়ে দেয়া আমার হাতে নেই, জবির দরপত্র আমার আগের প্রধান প্রকৌশলী করেছেন। তাই অর্থ লুটপাট হলে তার দায়িত্ব আমি নেব না। আমি যদি অপরাধী হই, তবে তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে তদন্ত ছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোনো দোষ চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ টাকার নির্মাণ কাজ দেয়া হয়েছে ‘দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হলেন ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা জুলফিকার ভুট্ট। এই প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করিয়ে দিতে আরও কৌশলের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ২০তলা ভিতের ভবনের ১৫তলা করার কার্যাদেশ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে পরে তা ১৩ তলা করার অনুমতি দেয়া। কিন্তু দুটি ফ্লোর কমানো হলেও সেই হারে বাজেট কাটা হয়নি। এ ক্ষেত্রে অনেক কম অর্থ কাটা হয়েছে। এতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেবল উল্লিখিত কাজগুলোই নয়, ইইডির গত ১০ বছরের বিভিন্ন নির্মাণ ও সংস্কার কাজের ব্যাপারে তদন্ত হলে সব অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। বিশেষ করে উন্নয়ন কাজে কমিশন বাণিজ্য, সর্বনিম্ন দরদাতাকে জোরপূর্বক টেন্ডার প্রত্যাহার করানো, প্রকল্প পিছিয়ে বাজেট বাড়ানো, নির্মাণকাজে অবহেলা, ভুতুড়ে কাজের নামে বিল ও ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম বেরি আসবে।

১৩ প্রকৌশলীর পেনশন আটকা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১৩ জন প্রকৌশলীর পেনশন ও আনুতোষিক ভাতাও আটকে দিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেছেন, নিয়ম-বহির্ভূতভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাদের পেনশন ও আনুতোষিক ভাতা।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বরাবর আলাদা দুটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা।

পেনশন সহজীকরণ বিধি মোতাবেক একজন সহকারী কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাকে পেনশন ও আনুতোষিকের ৮০ শতাংশ ভাতা প্রদান করতে হয়। কোনো জটিলতা থাকলে আনুতোষিকের বাকি ২০ শতাংশ ভাতা জটিলতা শেষে প্রদান করা হয়।

উৎসঃ ‌jagonews24

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here