প্যারোলে মুক্তিতে আগ্রহী নন খালেদা, বললেন আমি তো আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়ার অধিকার রাখি

0
108

প্যারোলে মুক্তির আগ্রহ নেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান তিনি। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হলেও মনোবল অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়াকে গত ১লা এপ্রিল কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালে। তবে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে প্যারোলে বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে ন্যূনতম সায় নেই তার।

কিছুদিন আগে একবার প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তার কড়া ধমক খেয়েছেন কয়েকজন আইনজীবী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, সেদিন তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন- ‘কেউ তেমন উদ্যোগ নিলে তিনি তার কোন কিছুই বিবেচনায় নেবেন না, আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে দেবেন।’ এরপর থেমে যায় সে আলোচনা। কিন্তু খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছুদিন ধরে তার পরিবারের কতিপয় সদস্য এ ব্যাপারে আগ্রহ পোষণ করেন।

কিন্তু খালেদা জিয়া যে এ ব্যাপারে রাজি নন তা আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে বাংলা নববর্ষের দিন। হাসপাতালে সাক্ষাত করতে যাওয়া দলের নীতিনির্ধারক ফোরামের তিন সদস্যের কাছে প্যারোলের ব্যাপারে অনাগ্রহের বিষয়টি জানিয়ে দেন খালেদা জিয়া। এছাড়া বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হওয়া ৬ জনের সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে যে গুঞ্জন রয়েছে সেটা নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্রগুলো জানায়, বাইরে খালেদা জিয়ার পরিবার বা দলের নেতাকর্মীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবেন বড়জোর। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র খালেদা জিয়ার। তিনি অনাগ্রহী হওয়ায় হালে পানি পায়নি প্যারোলের মুক্তির আয়োজন।

বাংলা নববর্ষের দিন তার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য দেননি গণমাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে নেতারা নিশ্চিত হন আগের দিন। তবে নববর্ষ উপলক্ষে খালেদা জিয়ার জন্য তারা কোন উপহার নিয়ে যাননি। বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকের ৬ তলায় দুইটি কক্ষের একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। সামনের কক্ষে বসে তার সঙ্গে কথা বলেছেন নেতারা। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। আলাপের সময় কখনো কখনো তিনি হাত তুলে বা নেড়ে কথা বলতে পারছিলেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যথার কারণে তিনি পা নাড়াতে পারছিলেন না। কখনো কখনো তার মুখের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। তবে তার প্রতিটি বাক্য ছিল গোছালো। নিজে অসুস্থ হলেও দলের কয়েকজন নেতার মৃত্যু ও অসুস্থতার ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, স্বাভাবিক খাবার গ্রহণেও অসুবিধা হচ্ছে তার। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, সাক্ষাত করতে যাওয়া তিন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্যারোল নিয়ে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ৭ই এপ্রিল বিএনপির গণঅনশনে কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন- ‘প্যারোলে মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’ তিনি তার মামলাগুলোর ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। এ সময় তিনি কয়েকবার বলেন, ‘আমি কি করেছি- আমার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে? আমার বিরুদ্ধে কেন সাজা হবে?’ দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান তিনি। নেতারা জানান, সাক্ষাতের পুরো সময় খুবই স্বাভাবিক ছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু নেতারা চলে আসার সময় কিছুটা বেদনার ছাপ দেখা গেছে খালেদা জিয়ার চেহারায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্যারোল ও সংসদে যোগ দেয়ার ব্যাপারে মুখ খুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জেয়ারত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়। তাই এ নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে খুব বেশি আলোচনা হয়নি।’ বিএনপির কতিপয় এমপির সংসদে যোগ দেয়ার গুঞ্জনের ব্যাপারে তিনি বলেন- ‘এই ধরনের কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির পরোক্ষ সরকারি প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, প্যারোলের নামে সরকার মূলত আরেকবার দেশবাসীর সামনে জনপ্রিয় এই নেত্রীকে হেয় করতে চায়। তিনি বলেন, সরকার যদি প্যারোলে মুক্তিই দেবে তাহলে তার স্বাভাবিক জামিন প্রক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করে কেন? সরকার যদি বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ না করে তাহলে খালেদা জিয়া বহু আগেই জামিনে মুক্তি পেতেন। তার প্রতিটি মামলাই জামিন যোগ্য এবং মামলার অন্য আসামীরাও জামিনে মুক্ত রয়েছেন। নানামুখী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে খালেদা জিয়া যখনই কোন মামলায় জামিন পান তখনই নতুন কোন মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এটা কোনভাবেই সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের লক্ষণ নয়। আসলে প্যারোলে মুক্তির মাধ্যমে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর কাছে খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ফের হেয় করতে চায় সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মনোবল যতটুকু দৃঢ়তার সঙ্গে অটুট রয়েছে তাকে দলের কোন নেতা বা সরকার সে সুযোগ পাবে না।

বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা সংসদে গেলে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে সরকার- এমন গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু এ গুঞ্জনের বাস্তবতা কতটুকু? বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, খালেদা জিয়া চাইলে নির্বাচনের আগেই আপস করতে পারতেন। খালেদা জিয়াকে রাজী করাতে বা তেমন পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের তরফে নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে। বিএনপির কোন কোন নেতাও সরকারের সে প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন আবেগের বশবর্তী বা সরকারের কৌশলে বিভ্রান্ত হয়ে। কিন্তু প্রতিটি প্রচেষ্টাই নাকচ হয়ে গেছে খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোবলে। এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সবুজ সংকেত ছাড়া বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, আইনী প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তির বাইরে কিছুই ভাবতে নারাজ খালেদা জিয়া। এমনকি অনির্ধারিত সময় পর্যন্ত কারাভোগের মানসিক প্রস্তুতিও রয়েছে তার।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ কী করবেন বিএনপির এমপিরা?


কী করবেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা? সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সংসদে যেতে চাইলে আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যেই তাদের শপথ নিতে হবে। কিন্তু ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন ও এর ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে সংসদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। এদিকে সংসদে যোগ দিতে এলাকাবাসীর চাপ রয়েছে নির্বাচিতদের ওপর। সরকারের তরফে চাপ এবং লোভের গুঞ্জনও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নিয়ে দল এবং জাতির কাছে বেঈমান হিসেবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি আশঙ্কা রয়েছে কর্মী-সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা?

প্রথম দিকে গুঞ্জন ছিল নির্বাচনের বৈরি পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলে এবং দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন মুক্তি পেলে সংসদে যেতে পারেন বিএনপির এমপিরা। কিন্তু নির্বাচনের তিনমাস পরও কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ বেড়েছে বৈ কমেনি।

এখন পর্যন্ত কারামুক্তিও পাননি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে শপথ নেয়ার সময় যত কমে আসছে ততই কৌতুহল বাড়ছে শপথ নিয়ে। সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের কারও কারও বক্তব্যসহ গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে তা দলের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠছে কখনো কখনো। বিশেষ করে গণফোরাম মনোনীত দুই এমপির শপথ নেয়ার পর বিএনপিতে একটি জটিলতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে গুলশানে একটি বৈঠকে বসেছিলেন বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিতরা। সেখানে পাঁচ নেতা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তাদের ওপর এলাকাবাসীর চাপসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। তারা সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে না যাওয়ার অঙ্গিকারও করেন।

এটাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক মহল। বিপরীতে নির্বাচিতদের ধৈর্য্য ধরার এবং দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন মহাসচিব। সরকারের কোন ধরনের কৌশলে বিভ্রান্ত না হতে সতর্কও করেছেন তাদের। এ নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেননি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যিনি নিজেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ীদের একজন। নির্বাচিতরা বলছেন, প্যারোলে মুক্তি কোনোভাবেই খালেদা জিয়ার জন্য সম্মানজনক নয়, তাদের প্রত্যাশিতও নয়। তারা প্রত্যেকেই খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি প্রত্যাশা করেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেলেই দলের পক্ষে অন্যান্য বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। বৈঠকের আলোচ্য বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অংশ নেয়া পাঁচ নেতাই বলেছেন, তারা দলের তরফে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন। কেউ কেউ বলেছেন, পরে তারা আবারও বৈঠক করবেন। কেউ কেউ বলছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো পদক্ষেপই নেবেন না।

বৈঠকের পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ বলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের ডেকেছিলেন। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। হারুন বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্তই প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না। ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, সোমবারের বৈঠকে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা সবাই একমত যে, ব্যক্তিগত নয়- দলীয় সিদ্ধান্ত যা হয় তাই করব। এক প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ এই নেতা বলেন, আমরা প্রথমেই চাই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। এটাই মেইন। তারপর অন্য জিনিষ। তিনি মুক্তি পেলে সংসদে যাওয়া বা অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি না পেলে তারা কি বিচ্ছিন্নভাবে শপথ নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে উকিল আবদুস সাত্তার বলেন, আমরা তো বিচ্ছিন্নভাবে যেতে চাই না, একসাথে যেতে চাই। তাই আপনারাও দোয়া করেন যেন একটি ভালো সিদ্ধান্ত আসে। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা সোমবার রাতে বসেছিলাম। আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমরা যেন কেউ বিচ্ছিন্ন না হই। যা করার একসঙ্গেই করি। বৈঠকে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসীর চাপের কথা সবাই তুলে ধরেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংসদে না যাওয়ার পক্ষেই রয়েছে দলের সিদ্ধান্ত। ফলে আগামীতে আমরা যাবো কিনা সেটা মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারাই বলতে পারবেন।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত আমরা পাঁচজন সোমবার রাতে একটি হোটেলে বসেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কে কি চিন্তা করছি সে ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করা। পরে আমরা দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাই। সেখানে আমাদের দলের মহাসচিবের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করি। জাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপি সংসদে যোগ না দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা এখন পর্যন্ত সে সিদ্ধান্তে একমত রয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের ওপর এলাকার ভোটারদের চাপ রয়েছে। তারা চান আমরা সংসদে গিয়ে তাদের পক্ষে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের পক্ষে, দেশের পক্ষে কথা বলি। আমরা এলাকাবাসীর এই চাপের কথা দলের উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি। আমাদের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেলে আমরা সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব।

সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের তরফে কোন সুনির্দিষ্ট আমন্ত্রণ বা খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ব্যাপারে কোন শর্ত আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের সামনে আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে। এক বিবেচনায় সময় খুবই কম, আরেক বিবেচনায় এখনও অনেক সময়। দেশনেত্রীর জামিনের বিষয়টি এখন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিণত রয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার চাইলে বিবেচনা করতেই পারে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে সরকারের সঙ্গে আমাদের এ নিয়ে কোন আলাপ-আলোচনা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি না পেলে কি করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আরো বসবো। যা করবো, সবাই একসাথেই করবো এবং চিন্তাভাবনা করেই করবো। তবে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর আমরা নির্বাচিতরা মামলা-হামলাসহ নানা কারণে কখনো একসঙ্গে বসতে পারিনি। ফলে আমরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে একটি চা চক্রে বসেছিলাম। তিনি বলেন, সংসদে এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার সময় শেষ হয়ে আসছে। এটা আমরা যেমন জানি, আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বও জানেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, সংসদীয় এলাকার মানুষের দাবি আছে। তারা বলছে, কষ্ট করে ভোট দিয়েছি, নির্বাচিত করেছি এখন সংসদে যান। এলাকার উন্নয়নের কথা বলেন। এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। কিন্তু সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আমরা মনে করেছিলাম, সবাই বসলে হয়তো একটি পথ বেরিয়ে আসবে আলোচনায়। কিন্তু তেমন কোন পথ আসেনি। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের দেশনেত্রী নিঃশর্ত জামিনে মুক্তি পান। কারণ প্যারোলে মুক্তির অনেক শর্ত থাকে, সেটা দেশনেত্রীর জন্য সম্মানজনক নয়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ৭৪ বছর বয়স্ক নারী যেখানে বন্দী সেখানে আমাদের স্বার্থ কোনোদিন বড় হতে পারে না। মোশাররফ বলেন, ব্যক্তি মানুষ হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে আমার মূল্যায়ণ আছে। কিন্তু সেটা বৃহত্তর অর্থে অত্যন্ত ক্ষুদ্র। আমি বিএনপি করি- দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে, দলের লোকজন আমার পক্ষে ভোট করেছে, দলের সমর্থকরা আমাকে ভোট দিয়েছে বলেই আমি নির্বাচিত হতে পেরেছি। এটা আমি বিশ্বাস করি, অনুভব করি। তাই দল সিদ্ধান্ত দিলে সংসদে যাবো, নইলে যাবো না। অন্যদের কথা আমি বলতে পারবো না, তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আমি সংসদে যাবো না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি নিজে জাতীয় বেঈমান হতে চাই না ও আমার উত্তরপুরুষদের বেঈমানের সন্তান হিসেবে পরিচিত করাতে চাই না।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ শপথের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি : মির্জা ফখরুল


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিবেন কিনা, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বেশ কিছু দিন ধরেই। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিষয়টি এখন আরো জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। কেউ কেউ বলছে, বিএনপি সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে গোপনে সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে বিএনপি সংসদে যাওয়ার ব্যপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রশ্ন করা করা হলে, নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, সংসদে যাওয়ার ব্যপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পূর্বে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিএনপি সে সিদ্ধান্তে অটল আছে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশনেত্রী এই ব্যাপারে কোন মতামত দেননি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ছয়জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। এ প্রার্থীরা সোমবার বিএনপির গুলশান অফিসে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন। সেখানে শপথ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। তবে শপথের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা।

তবে সোমবারের আলোচনা সভাকে আনুষ্ঠানিক ‘বৈঠক’বলতে চান না নির্বাচিতরা। ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এটা ঠিক বৈঠক না। যাঁরা নির্বাচিত হয়েছি তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। মহাসচিব বাদে বাকি পাঁচজন যাঁরা আছি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা, কে কী অবস্থায় আছি, এলাকায় কী হচ্ছে, এগুলো নিয়েই কথা বলেছি।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয়জন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খুশি কবীর, সুলতানা কামাল-মুন্নী সাহা’রা আজ কোথায়? প্রশ্ন শামসুজ্জামান দুদুর (ভিডিও সহ)


নুশরাত হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী আন্দোলন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দিনাজপুরে ইয়াসমিন নামে একজন নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনা লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন বেগম খালেদা জিয়া ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন খুশি কবীর, সুলতানা কামালরা ছিলেন কিনা আমার জানা নেই। মুন্নী সাহার জন্ম হয়েছিলো কিনা আমার জানা নেই। এসব নেত্রীরা এখন কোথায় মুখ লুকালো?’

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘শুধু নুশরাতকে হত্যা করা নয়, একটি গবেষণায় দেখা গেছে গত তিন মাসে দুই হাজারের অধিক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

ভিডিওঃ ‘খুশি কবীর, সুলতানা কামাল-মুন্নী সাহা’রা আজ কোথায়? প্রশ্ন শামসুজ্জামান দুদুর (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনসাধারণের স্বার্থে অধিকার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নেবেন কেন? তিনি কি অপরাধী? এটা আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের ওপর ছেড়ে দেই। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

দুদু বলেন, ‘আজ যারা বিচারালয়ে বিচারক আছেন, পুলিশ আছেন আমি তাদের সমালোচনা করবো না। শুধু এতটুকু বলবো একটু বিবেক দিয়ে ভাবেন কে অপরাধী? বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগ?’

তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি জালিয়াতি নির্বাচন হওয়ার পরে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি ফুলের তোড়া নিয়ে যখন শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তখন আমার মনে হয় এই দেশে কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো? সত্যিই কি ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিলো? কারণ এত বড় একটি জালিয়াতির যে করলো তার সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আমি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দুদু বলেন, ‘অনন্তকাল আপনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এ বছরের কথা বলবো না, আগামী বছরের কথা বলবো না, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই লিখে রেখেছে আপনা বিদায় নিতে হবে, হিটলার বিদায় নিয়েছে, মুসোলিনি, ইয়াহিয়া, বাকশালের প্রতিষ্ঠা বিদায় নিয়েছে, শেখ হাসিনাকেও বিদায় নিতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইউসুফ আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছেন না


বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলে তাঁর একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই চিকিৎসক আরও বলেছেন, আর্থ্রাইটিস রোগের কারণে খালেদা জিয়া তাঁর বাম হাত ও পায়ের জয়েন্ট বা জোড়াগুলোতে ব্যথায় হাঁটাচলা করতে পারছিলেন না। সেই অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। খবর বিবিসি বাংলার

গত শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কয়েকজন নেতা হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছিলেন।

এরপর মির্জা আলমগীর বলেন, তাদের নেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের যে চিকিৎসক দল বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই দলের প্রধান অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকার বলছেন, খালেদা জিয়া ভাল আছেন।

তিনি আরো বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না, সেটাই এখন মুল সমস্যা। খালেদা জিয়ার শরীরে এখন ডায়াবেটিস বা রক্তের শর্করার পরিমাণ ১৬ এর বেশি রয়েছে। গত কয়েকদিনে এই মাত্রা ১৪ এর উপরেই ছিল। তাঁরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।

তবে অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকার বলেছেন, প্রতিদিন দুপুরে তারা চিকিৎসক দল খালেদা জিয়াকে দেখে নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে অতিমাত্রায় ডায়াবেটিস এবং খাবারের অরুচির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তাঁর খাবারের রুচি বেড়েছে।

জিলান মিয়া সরকার উল্লেখ করেছেন, আর্থ্রাইটিস সমস্যা দীর্ঘদিনের হওয়ায় খালেদা জিয়ার হাত এবং পায়ের জোড়াগুলোতে ব্যথা রয়েছে। সেজন্য তাঁকে নিয়মিত থেরাপি দেয়া হচ্ছে। তাঁর বয়সের কারণেও সমস্যাগুলোর দ্রুত উন্নতি হচ্ছে না বলেও চিকিৎসকরা বলছেন।

কথিত দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রীকে গত পহেলা এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড ৭১’র বর্বরতাকে হার মানিয়েছে!


শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ৭৪’র সন্ত্রাসী সংগঠন গণবাহিনীর প্রধান হাসানুল হক ইনুরা বিগত ৫ বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতকে আগুন সন্ত্রাসী বলে গালাগালি করে আসছে। সভা-সমাবেশে শেখ হাসিনার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকে-বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অথচ বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ যে এজেন্সির লোক দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে এটা একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা তাদের মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছে।

তবে, শেখ হাসিনা যতই মিথ্যাচার করুক না কেন আসলে কারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে মানুষকে হত্যা করে এটা এখন প্রত্যক্ষ দেখেছে দেশ-বিদেশের মানুষ। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আগুনে পুড়িয়ে যেভাবে হত্যা করেছে তা যেন ইতিহাসের সকল নির্মমতা ও বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।

নুসরাতের হত্যাকারী আটক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বলেছেন তার মধ্যে চুম্বক অংশ হলো, বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে, এমনটা বলার পর ছাদে ছুটে গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে পাঁচজন মিলে তাঁকে ছাদে চিত করে শুইয়ে ফেলেন। তাঁর পরনের ওড়নাটি দুভাগ করে বেঁধে ফেলেন হাত-পা। এরপর এক লিটার কেরোসিন নুসরাতের গলা থেকে পা পর্যন্ত ঢালা হয়। ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পায়ে। আগুন যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই পাঁচজন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।

ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেছেন, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তাঁর হাত ও পা বেঁধে ফেলেন। জাবেদ তখন নুসরাতের সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন। এরপর শাহাদাতের চোখের ইশারায় জোবায়ের তার পকেট থেকে দেশলাই বের করে কাঠি জ্বালিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর পাঁচজনই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন। নামতে নামতেই তিনজন ছাত্র তাঁদের বোরকা খুলে শরীর কাপড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেন। ছাত্রী দুজন মাদ্রাসায়ই তাঁদের পরীক্ষার কক্ষে চলে যান। আর বাকি তিনজন নিজেদের মতো করে পালিয়ে যান।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙ্গালীদেরকে গুলি করে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ইতিহাসে আমরা এমন ঘটনা পড়েছি এবং মুরব্বিদের কাছ থেকে শুনেছি। কিন্তু, এইভাবে মেয়েদেরকে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এমন ইতিহাস আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

নুসরাতের হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষ স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। শরীরের রক্ত শীতল হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের একটিই প্রশ্ন-এমন নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও বর্বরোচিত কায়দায় একটি মেয়েকে কিভাবে হত্যা করলো?

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ বলছেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এই বর্বরতা ৭১ সালের পাক হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতাকেও হার মানিয়েছে। আর এমনটা শুধু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষেই সম্ভব। সাপের মত পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে যারা লাশের ওপর নৃত্য করতে পারে তাদের পক্ষে সবই সম্ভব।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীকে ৩ কেজি নাপা খেতে দিলেন চিকিৎসক!


প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকদের স্পষ্ট করে লিখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। অনেক চিকিৎসকের লেখা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রেসক্রিপশনে উল্লিখিত ওষুধ কিনতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।

সব ওষুধের দোকানদার চিকিৎসাপত্রে কী লেখা রয়েছে তা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হন।

এ কারণে অস্পষ্ট লেখার কারণে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দিনাজপুরে ২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রুলও জারি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এবার লেখা স্পষ্ট কিন্তু রোগীকে প্রেসক্রিপশনে ৩ কেজি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) শাহাদাত নামে এক রোগী রাজধানীর মিটফোর্ডে অবস্থিত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রচন্ড জ্বর নিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে যাই। সেখানে প্রায় দুই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে ডাক্তারের দেখা পাই।

এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক তার কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের বাইরের ফার্মেসিতে যাই। তারা প্রেসক্রিপশনে ৩ কেজি ওষুধ লেখা দেখে ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আবার ওই ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে বলে।

তাদের কথামতো ফার্মেসি থেকে ফের হাসপাতালে গিয়ে দেখি বর্হিবিভাগ বন্ধ। উপায় না দেখে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হয় আমাকে।

ভুক্তভোগী শাহাদাত জানান, ডাক্তাররা আমাদের মানুষই গণ্য করেন না। বিশেষকরে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তাররা ঠিকমতো রোগীকে সময়ই দেয় না। রোগীকে সময় কম দেয়ার কারণে রোগী ও স্বজনরা অসন্তুষ্ট হন। তাই টাকা বেশি গেলেও রোগীরা প্রাইভেট ক্লিনিকের দিকে ছুটছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কওমি মাদ্রাসার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে: আল্লামা শফী


কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এবং মেশকাত জামাতের (ফজিলত) প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এক শ্রেণির কুচক্রীমহল মাদ্রাসাগুলোর বদনাম করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজত ইসলামের আমির ও আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে একশ্রেণির কুচক্রীমহল উঠেপড়ে লেগেছে অভিযোগ করে আল্লামা শফী বলেন, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান মাস্টার্সের সমমান সরকারিভাবে প্রদান করাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। তাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্যতম ঘৃণিত কাজ করতে তারা একটুও দ্বিধাবোধ করেনি।

লাখ লাখ ছাত্রের জীবন বিনষ্ট করতে তারা একটুও কুণ্ঠিত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, যারা এ (প্রশ্নফাঁস) ঘৃণিত কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের হাত যত বড়ই হোক বিচারের কাঠগড়ায় তাদেরকে দাঁড়াতে হবে। এ ব্যাপারে ৫ সদস্য বিশিষ্ট দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অচিরেই তারা জাতির সামনে তাদের রিপোর্ট পেশ করবেন এবং প্রকৃত দোষী মহলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কওমি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উদ্দেশ করে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী বলেছেন, হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে দুটি পরীক্ষা এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধীনে ৪১টি কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, বাতিল যেভাবে আত্মপ্রকাশ করবে, হক তার চেয়ে উন্নত পদ্ধতিতে দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে বাতিলকে ধূলিসাৎ করে দেবে। বাস্তবমুখী আদর্শ মানব গড়ার লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলবে।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল উম্মতের মাঝে একতা গড়ে তোলা, সর্বপ্রকার বাতিলের মোকাবেলা করা, পূর্বসূরিদের দেখানো পথে চলা, সুন্নাতে নববীর প্রচারের মাধ্যমে আমলি জিন্দেগি গড়ে তোলে মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা।

প্রসঙ্গত ৮ এপ্রিল থেকে সারা দেশে কওমি মাদ্রাসাগুলোর বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ৬টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২৬ হাজার ৭২১ জন শিক্ষার্থী দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সারা দেশে ২৯টি জোনের মাধ্যমে এক হাজার ৪৮২টি কেন্দ্রে এক লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

শনিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে একটি জরুরি বৈঠক করে নেতারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এবং মেশকাত জামাত (ফজিলত) সব পরীক্ষা স্থগিত ও অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষা বাতিল করে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভিসি কলিমউল্লাহর দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষকদের অবস্থান


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ভিসিকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান, দ্রুত প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগ, ক্যাম্পাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিকৃতি স্থাপনসহ ১৮ দফা দাবিতে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল কবির সুমনসহ সমিতির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অনুপস্থিতিতে ভিসির বিশেষ সহকারী (পিএস) আমিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

১৮ দফা দাবির অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগ বোর্ড, অর্থ কমিটির সভাসহ সব সভা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে করা, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের অনিয়মতান্ত্রিক ফাউন্ডেশন ট্রেনিং বন্ধ করে বিভাগের শিক্ষক স্বল্পতার সংকট সমাধানসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সব শিক্ষা ও পেশাগত ট্রেনিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের অধীনে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লিখিত পরীক্ষা নিয়োগ বোর্ডের সব সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা।

এছাড়াও অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউজিসি থেকে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক পদ অনুমোদন নিয়ে অস্থায়ী পদে চাকরিরত শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সেশনজট দূর করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণারত শিক্ষকদের স্ববেতনে ৫ বছরসহ মোট শিক্ষাছুটি ৭ বছর নির্ধারণ করে অতিদ্রুত শিক্ষাছুটি নীতিমালা প্রণয়ন করা, অভিজ্ঞতা সনদসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা, সব পরীক্ষার পারিতোষিক ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে অনুষদে উপস্থিত যোগ্য শিক্ষককে ডিন ও বিভাগে উপস্থিত যোগ্য শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নিয়োগে অন্যান্য বিভাগের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত ২৯নং আইনের ২৮ (২) ধারা মোতাবেক নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট অনুযায়ী বিভাগের একাডেমিক প্ল্যানিং কমিটি গঠন করা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের গম্বুজসহ দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করা, বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রেখে শিক্ষাকার্য স্পৃহাহীনতা সৃষ্টিকারী হয়রানি বন্ধ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকের স্থায়ী শাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট স্থাপন করা।

স্মারকলিপির বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির সুমন বলেন, ভিসির দায়িত্বকালের প্রায় অর্ধেক সময় অতিক্রান্ত হতে চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা ও নৈরাজ্য কমেনি বরং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অস্থিরতা পরিবেশ বিরাজ করছে যার অন্যতম প্রধান কারণ ভিসির বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি। যার ফলে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় তথা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্পর্কে নানাভাবে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষকদের ছুটিবিহীন অনুপস্থিতি শিক্ষা সংকট তৈরি করেছে, প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ অধিকর্তা সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি চরমভাবে নীচু হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, গত ৫ মার্চ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার ৬৩ জন শিক্ষকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষক সমিতির সদস্যরা শিক্ষকদের অধিকার, স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও পবিত্রতা সংরক্ষণের লক্ষ্যে আমরা এই স্মারকলিপি দিয়েছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দেননি: মির্জা ফখরুল ইসলাম


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তির জন্য প্যারোলে আবেদন করবেন কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সংক্রান্ত গণমাধ্যমের খবরগুলোকে বেশিরভাগই ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণসভায় (এজিএম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। আজকে একটি ইংরেজি দৈনিক প্যারোলের দিন, তারিখ দিয়ে সংবাদও ছেপেছে। আমি বলছি- এটি ভিত্তিহীন।’ এ সময় তিনি হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকের চাকরি চলে গেছে।

চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে, তবে বেশিরভাগেরই চাকরি নেই।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগোতে হবে।

ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি আবদুল কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি আবদুস শহীদ ও আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘সেই বিতর্কিত বিচারক মানিক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন’: ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল নাম উল্লেখ না করে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি মানিকের মিথ্যাচার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সেই বিচারক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আসিফ নজরুলের বাবাকে ‘বিহারি এবং একজন খাস রাজাকার’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মানিকের সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে ড. আসিফ নজরুল ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠাওকের জন্য ড. আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলঃ

“এদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনবরত আমার প্রয়াত পিতা সম্পর্কে মিথ্যাচার করে চলেছেন। তার বক্তব্য আমার বাবা নাকি বিহারি ছিলেন! আমার বাবা প্রয়াত জনাব নূরুল ইসলামের জন্ম এক সাধারণ কৃষক পরিবারে, কুমিল্লার হোমনা থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের মিঠাইভাঙ্গা গ্রামে। উনার বাবার নাম আবদুল কাদের, মা খাদেজা বেগম। নিজ যোগ্যতায় পড়াশোনা করে আমার বাবা একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করেন বাংলাদেশ বেতারের রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

অবসরপ্রাপ্ত সেই বিচারক আগে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে রাজাকার বলেছেন। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর দুই মাস। এ বয়সে কি রাজাকার হওয়া যায়? গতকাল (শুক্রবার) একটি অনুষ্ঠানে তিনি করেছেন নতুন একটি উদ্ভট দাবি। এবার আমাকে নয়, আমার বাবাকে বলেছেন ‘খাস রাজাকার’। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ, এমনকি প্রাথমিক তথ্য ছাড়া সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে এ লোক আমার প্রয়াত বাবার মতো একজন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এসব জঘন্য মিথ্যাচার করে চলেছেন।

এমন মানসিকতার একজন ব্যক্তি বিচারক থাকা অবস্থায় আসলে কী বিচার করেছিলেন তা আপনারা ভেবে দেখেন। তিনি আবার কিছু স্বনামধন্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আমি মনে করি এসব সংগঠনের উচিত না তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব মিথ্যেচার চালানোর সুযোগ দেয়া। নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে এই লোককে বয়কট করা উচিত সবার।”

উৎসঃ ‌ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ নুসরাত হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল(ভিডিও সহ)


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না। এরকম জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল রাফির ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাফির হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে, শাস্তি পাচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত এর দায় সরকারসহ গোটা জাতিকে বহন করতে হবে। এ সময় রাফি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বিএনপি নয়, পুরো জাতি সংকটে আছে। এ বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই, রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসন ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা অন্যায় করতে ভয় পায় না এখন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো কথা হয়নি। এ নিয়ে সরকার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি আবু তাহের দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘বিশ্বের স্বৈরাচারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ’


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

শনিবার( ১৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

নজরুল বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। যে দেশে ধনী দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, আমার মা বোনরা কারো দ্বারা লাঞ্ছিত হবে না। সে ধরনের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সে বাংলাদেশে যখন ফ্যাঁসিবাদ কায়েম হয়, এটা আমার কথা না। স্বৈরাচার কায়েম হয়, এটাও আমার কথা না। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে বহাল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আবার আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে সংবিধানে পুনর্বহাল করেছে। যদি তাই হয় তবে দেশে তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রচলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে আমরা কি করছি? বাংলাদেশের সবাই জানে এটা একটা মুক্তবাজারের দেশ। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রেস কনফারেন্স করে সেটা জাতিকে জানিয়েছে যে তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করেন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আর সংবিধানে লেখা সমাজতন্ত্র এই যে দ্বিমুখী নীতি এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মাদরাসাছাত্রী নুসরাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনতো মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে দেখি না। আজকে আমরা শুনি নুসরাতকে যারা লাঞ্ছিত করেছে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা আছে। তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাথে সখ্যতা ক্ষমতাসীন দলের। আমরা দাবি করবো, নুসরাতকে লাঞ্ছনাকারী সে যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু হবে কিনা জানি না।’

খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করে নাই। তিনি কোন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি এবং আদালতে যেসব সাক্ষী প্রমাণ, তা প্রমাণ করতে পারি। কিন্তু তাকে জেল দেওয়া তো বন্ধ করতে পারি না। কারণ, আজকে আইন বিভাগকে পর্যন্ত সরকার তাদের অধীনস্ত করে ফেলেছে। এটাই ফ্যাঁসিবাদের চরিত্র। আজকে আমরা রাজনীতি করবো বিএনপির, আমাদের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না। আমার প্রতিপক্ষ হলো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। একটা মিছিল মিটিং করতে গেলে আমার সামনে তো আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় না। এই যে রাষ্ট্রকে বিরোধী রাজনীতির প্রতিপক্ষ বানানো এটাকেই বলে ফ্যাঁসিবাদ, এটাই হলো স্বৈরাচার।’

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, মিয়া মো.আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here