খালেদা জিয়ার প্যারল ও সংসদ নিয়ে যা ভাবছে বিএনপি

0
344

প্যারোলে নয়, জামিনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদেও দলটির যাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন। এ নিয়ে পর্দার অন্তরালে এক ধরনের সমঝোতাও চলছে। যে সমঝোতার অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১ এপ্রিল তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী- তার পুরো শরীর ব্যথায় আক্রান্ত। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি নড়াচড়া করতে পারেন না। পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন ৭৭ বছর বয়স্ক সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, অসুস্থতা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে রাজি ছিলেন না। তার আগ্রহ ছিল বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা নেয়ার। তার এই অনীহার কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে কারা কর্তৃপক্ষ একবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি। অন্য দিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপিতেও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরিই একপর্যায়ে দলের সিনিয়র দু’জন নেতা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা খালেদা জিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেখানেই হোক এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। নেতাদের এই সাক্ষাতের পরই বিএসএমএমইউতে আসতে রাজি হন তিনি।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড রয়েছে। সেই মেডিক্যাল বোর্ড যেভাবে সুপারিশ করবেন, সেভাবেই তার চিকিৎসা হবে। তারা যদি মনে করেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হবে, তাহলে সেটি বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী হবে না, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। এমনকি কোনো নেতাও তার সামনে এ বিষয়টি উত্থাপন করেননি। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনো আলোচনা হয়নি বলে নিশ্চিত করে জানান ওই নেতা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হচ্ছে এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে আমরা তার জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবো। আশা করি, তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন।

এ দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যাওয়ার আলোচনাকেও নিছক গুজব বলছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও তাদের নিয়ে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সাথে তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতেও নানামুখী কর্মসূচি পালন করে চলছে।

ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে ছয়জন এবং গণফোরাম থেকে দু’জন নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেয়ার কারণে সুলতান মনসুরকে গণফেরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল শপথ নেয়ার পর গত পরশু মোকাব্বির খান ড. কামালের সাথে তার মতিঝিলের চেম্বারে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ড. কামাল তাকে বলতে গেলে অপমানজনকভাবে বের করে দেন।

জানা গেছে, যে নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই সংসদে বিএনপির শপথ নেয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই। বিএনপির নির্বাচিতরাও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করবেন না বলে স্পষ্টভাবে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপির সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেসব আলোচনা হচ্ছে, এগুলো উড়ো খবর। ভোটারবিহীন এ সংসদে বিএনপি যাবে না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, এই সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারে না। যারা মনে করেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, আমরা প্রতিদিনই মনে করব, একটা বেআইনি দখলদারি সরকার বসে আছে। তাকে মেনে নেয়ার কোনো কারণই নেই। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচন বাতিল করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বেশী খেইলেন না,না’গঞ্জে আগুন জ্বলবো, এসপি হারুনকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান


নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘বেশী খেইলেন না, নারায়ণগঞ্জে আগুন জ¦লবো’। তার ভাষায় ‘আমার কোনো নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হয় তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো টেনশনের দরকার নাই। এরপরও যদি কেউ খেলতে চায় তাহলে খেলা হবে। আগ্নি দেখেছেন অগ্নির স্ফুলিঙ্গ কিন্তু দেখেন নাই। এরপরও যদি খেলা হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টা না ৬ ঘণ্টার নোটিশ দেব। তবে, চিন্তা কইরেন না। খেলাখেলির দরকার নাই। খেলার আগেই খেলা শেষ হবে ইনশাল্লাহ ’।

শামীম ওসমান যখন এ বক্তব্য দিচ্ছেন তখন তার কর্মীরা নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুন অর রশিদের প্রত্যাহার দাবী করে শ্লোগান দিতে থাকে। তাদের শ্লোগনের ভাষা ছিল, ‘ঘুষ খোর এসপির প্রত্যাহার চাই। মুক্তিযোদ্ধাদের নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর হতে দিবো না’।

শনিবার বিকেল ৪টায় ফতুল্লা ইসদাইরে অবস্থিত বাংলা ভবন কমিউমিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত এক জরুরী কর্মীসভায় তিনি এ কথা বলেন। মাদক মামলায় শামীম ওসমানের আপন শ্যালক তানভীন আহমেদ টিটুকে জড়ানো, অন্যতম সহচর শাহ নিজামের বিরুদ্ধে পুলিশের জিডি , আরেক সহচর নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে অপহরন মামলাসহ সম্প্রতি কয়েকট ঘটনায় পুলিশের শামীম ওসমানের দুরত্ব তৈরী হওয়ার মধ্যে জরুরী কর্মী সভার ডাক দেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি নাকি অনেক জটিল। আবার নেতাকর্মীরাও দেখলাম খুব উত্তেজিত। আল্লাহর রহমত, আমি ২০১১ এর শামীম নই, থাকলে আমিও উত্তেজিত হইতাম। হওয়াটাই স্বাভাবিক। বয়সের সাথে সাথে সব কিছুর পরিবর্তন হয়।

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,‘আপনার কি ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে জানেন না? অবশ্যই জানেন। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে টের পাবেন। কারো পদত্যাগ করতে হবে না, দরকার হলে আমি একা করবো।’

শামীম ওসমান বলেন,‘পর্দার আড়ালেও খেলা থাকে। হুট কইরা কাউরে ভুল বুইঝেন না। বাইরে থেইকা আইসা কেউ হয়তো এই খেলায় পা দিয়া ফেলছে। পর্দার আড়ালে অনেক খেলা হচ্ছে। আমি কারো নাম বলবো না। আমি এগুলারে গুণায় ধরি না। জামায়াতের সাথে তার (আইভীর)কানেকশন ফাঁস হইলো। তদন্ত হইলো। এরপরই শুরু হইলো এই খেলা।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আরেকজন আছে মহিলা। যার সাথে জামায়াতের সম্পর্ক জড়িত। সেই কথা প্রকাশ হয়েছে। সেই তিনি হুমকি দেন মামলা করবেন। তয় করেন না ক্যান? ও সাংবাদিক ভাইয়েরা তারে গিয়া বলেন না, মামলা করতে। দেখি না কতটুকু সৎ সাহস থাকে তাহলে যেন মামলা করে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে কাউকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ অবস্থা নষ্ট করবেন, তা হবে না। এখানে যারা ব্যবসা করে তারা তো বিদেশী না। এখানকার স্থানীয়। আমাদেরই ভাইব্রাদার। এখন তাদেরকে কেউ ফোন করে বলবেন, দেখা করেন। আমি বলবো, দেখা করার সময় শেষ এটা হচ্ছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

শামীম ওসমান বলেন, শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি হইসে, টিটুর নামে মামলা হইসে, সজলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন? কর্মীরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে, আমরা ভীত? না। যুবলীগ, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। কাউকে ভয় পায় না। কেউ যদি খেলতে চান, ডোন্ট প্লে, নারায়ণগঞ্জে খেইলেন না। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করবে তাকে জুয়ার মামলার আসামী বানায়ে দিবেন। আমার আত্মীয় স্বজনকে মদের সাপ্লায়ার বানায়ে আমারে কাবু করতে চাইবেন, কইরেন না। আমারে কাবু করা যাবে না। অপেক্ষা করেন, আগামী ১০/১২দিনের মধ্যে টের পাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ সভাপতি চন্দন শীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়েত আলম সানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’?


বর্তমান সরকার ১ম দফায় কিছু ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, ২য় দফায় ভোট বিহীন ক্ষমতায় এসেছে এবং সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরো বলেন, ৭১ সালে পাকিস্তানীদের পাহাড়ায় যারা পরিবারকে এদেশে রেখে গেছেন তারা এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে বেড়াচ্ছে ‘লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’?

আজ শনিবার রাজধানীর মনি সিংহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কল্যান পার্টির ৪র্থ কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান প্রমুখ।

দেশে চোরের রাজত্ব চলছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, কিছুদিন পরে আওয়ামী লীগকে মানুষ চোর বলে ডাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার এমনভাবে হরণ করেছে, এখন আর মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায় না। মসজিদের মাইকে ভোটারদের ডাকা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখন কবিতা পড়ে, ‘ভোটার ভোটার ডাক পারি। ভোটার গেছে কার বাড়ি? আয়রে ভোটার ফিরে আয়! ভোটের বাক্স খালি যায়’।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, যারা বলেন আমাদের মধ্যে ঐক্য নেই, তারা এখানে এসে দেখে যান আমাদের ২০ দলের মধ্যে ঐক্য কতটা শক্তিশালী।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ডুবল ড. কামালের উদীয়মান সূর্য


আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল দেশ-বিদেশে নির্লোভ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সমাদৃত। বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে রয়েছে তার সুনাম যশ খ্যাতি। কিন্তু এমপির সুযোগ-সুবিধার ‘লোভ’ সংবরণ করতে না পেরে দলের দুইজন নেতা শপথ গ্রহণ করায় মূলত তার পরিচ্ছন্ন ইমেজে টান ধরে। বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন ‘কেন শহীদ জিয়ার আদর্শের বাইরের এই সুবিধাবাদীদের’ নেতা মানা হচ্ছে? ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ ঐক্যফ্রন্টে সরকারের এজেন্ট রয়েছে অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘ড. কামালের সঙ্গে যারা আছেন তাদের অনেকে সরকারের কাছ থেকে পয়সা নিয়েছেন। কোন বাসায় পয়সা নিয়েছেন, কে নিগোসিয়েট করেছেন এ তথ্যগুলো আমার কাছে আছে।’ জাঁদরেল এই দুই নেতার বক্তব্য বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের চিন্তার রেখায় ভাঁজ টেনে দিয়েছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় ড. কামাল হোসেন এখন কোন পথে হাঁটবেন?

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১০৭২ সালের ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন ড. কামাল হোসেন। জাতিসংঘের হয়ে বিশ্বের দেশে দেশে নানা দায়িত্ব পালন করায় দেশের আমজনতার কাছে তার মর্যাদা অন্য রকম। বিশেষ করে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চার কারণে তিনি বরেণ্য। কিন্তু সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের লোভে ডুবতে বসেছে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য। সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেনের সামনে এখন একমাত্র পথ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। তিনি কি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে সেটা ব্যবহার করে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপি এবং দেশের মানুষের কাছে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবেন? ডুবন্ত সূর্যকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন? অবশ্য শপথ নেয়ার পর মোকাব্বির খান এমপি গতকাল বৃহস্পতিবার মতিঝিলের চেম্বারে এলে কামাল হোসেন রাগে-ক্ষোভে তার মুখ দর্শন না করে কর্মীদের দিয়ে বের করে দেন। প্রশ্ন হলো যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা-মোনাফেক-বেঈমানী করতে পারেন; তাদের তিনি প্রার্থী করার প্রেসক্রিপশন দিলেন কেন? যিনি মানুষ চিনতে পারেন না তিনি কেমন নেতা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের প্রেসক্রিপশনে ঐক্যফ্রন্টের নমিনেশন দেয়া হয় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ (ধানের শীষ) ও মোকাব্বির খান সিলেট-২ (উদীয়মান সূর্য)। নির্বাচিত হওয়ার পর এমপির সুবিধার লোভ সংবরণ করতে না পেরে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা শপথ নেন। শীর্ষ নেতা হিসেবে কামাল হোসেন পড়ে যান বিব্রতকর অবস্থায়। বিএনপি এবং গণফোরামের নেতারা শপথ নেয়া দুই নেতাকে ‘বেঈমান’ ‘মোনাফেক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি একজনের বিরুদ্ধে দলীয় প্যাড চুরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমপি হিসেবে শপথ নেয়াই মূলত শীর্ষ নেতা ড. কামালকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের কোনো দল নেই। ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারেই ড. কামালের কথায় বিএনপি তাকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী করে। আর উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রার্থী হন লন্ডন প্রবাসী মোকাব্বির খান। মনোনয়ন দাখিল করে মোকাব্বির খান লন্ডন চলে যান। সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা হাইকোর্টে বাতিল করলে ড. কামাল হোসেন ফোন করে লন্ডন থেকে মোকাব্বিরকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। এমপি হওয়ার পর তারা দু’জনই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেন। বর্তমান অবস্থায় একজন এমপি বিপুল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্লট-ফ্ল্যাট-ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি পান। অন্যদিকে সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা সম্মানী পান। সেই টাকার লোভ সংবরণ করতে না পারায় মূলত দুইজন ড. কামাল হোসেনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি ধুলায় মিশিয়ে দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ দলের নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই এমপিকে বিশ্বাসঘাতক, মোনাফেক, বেঈমান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ধানের শীষ নিয়ে এমপি হওয়া সুলতান মনসুর শপথ নেয়ার আগে গণফোরামের নেতাদের বলেন, ‘আমি কমিটেড’ শপথ নিতেই হচ্ছে। কার কাছে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হওয়া সুলতান মনসুর ‘কমিটেড’ তা কি ড. কামাল জানতে চেয়েছেন? মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে দলীয় প্যাড চুরির অভিযোগ তুলেছেন দলের নির্বাহী সভাপতি সব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু। দলের প্যাড যে চুরি করতে পারেন তাকে ড. কামালের মতো বিজ্ঞজন নমিনেশন দিলেন কেন?

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে আইন শাস্ত্রের সব ডিগ্রি নেয়া ড. কামাল হোসেন ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছিলেন কর্মী। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ১৯৭১ সালে ৩০ মার্চ পাকিস্তান বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেশে ফিরে হন আইনমন্ত্রী। দেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করায় তিনি ‘সংবিধান প্রণেতা’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখা কামাল হোসেন ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে কারাবরণ করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা নির্বাচনে ‘সূ² কারচুপির’ অভিযোগ তুললে ড. কামাল দ্বিমত পোষণ করেন। ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিতর্কের মুখে পড়েও নিজের অবস্থান অটুক রাখেন। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ দেয়া হলে তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক ফোরাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ‘তান্ত্রিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে গঠন করেন গণফোরাম। ড. কামাল দীর্ঘদিন থেকে দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ক্যাম্পেইন করছেন। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করেন। অতঃপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। পরবর্তী ঘটনা সবার জানা। বিএনপির নেতারা বলছেন, সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের এলাকায় যা অবস্থা তাতে এমপি দূরের কথা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েও বিজয়ী হতে পারবেন না। মৌলভীবাজার-২ ও সিলেট-২ আসনের অন্য নেতাদের বঞ্চিত করে এমন দু’জন সুবিধাবাদীকে প্রার্থী করায় তারা নির্বাচিত হয়ে ড. কামাল, মির্জা ফখরুলদের মুখে কালি লেপন করেছেন। বিতর্কিত দুই নেতার কারণে বর্তমানে জিয়ার আদর্শের বাইরে যারা ঐক্যফ্রন্টে রয়েছেন তাদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ক্যাম্পেইনার ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণেতা। তার প্রণীত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে’। প্রশ্ন হলোÑ ড. কামাল হোসেন এখন কি করবেন? নিজের প্রণীত সংবিধান ব্যবহার করে কি তিনি দুই লোভাতুর এমপির আসন শূন্য করার আইনি লড়াইয়ে নামবেন? নাকি নীরব থাকবেন? সারা দেশের বিএনপি, গণফোরাম, ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের শরিক সব দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির হোসেনের শপথ নেয়াকে ঐক্যফ্রন্টের পিঠে ছুরি মারার নামান্তর বলছেন। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় দুই এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। ড. কামাল হোসেন কি ঐক্যফ্রন্টের ইমেজ রক্ষায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই এমপির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্ম করতে না পারে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়া দুই এমপির সদস্যপদ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী থাকবে কি থাকবে না সে প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছেন। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মনে করেন, দুই কারণে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য যদি ফ্লোর ক্রসিং করেন; অথবা ৯০ দিনের মধ্যে যদি শপথ না নেন তাহলে সদস্য পদ যাবে। তবে দল বহিষ্কার করলেও সদস্যপদ থাকবে। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকারি দলের এমপিরা কোনো ইস্যুতে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তখন ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। তাদের সদস্যপদ থাকবে না। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কার হলে তাদের সদস্যপদ যাবে না।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, গণফোরামের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দুই এমপি শপথ নেয়ায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তাদের আটকাবে। গণফোরাম এনডোর্স না করলে তাদের সংসদ সদস্যপদ থাকবে না। এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার প্রশ্নে দেশে এ ধরনের সঙ্কট আগে কখনো হয়নি। এটির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। ৭০ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো এমপিরা যাতে দলবদল করতে না পারেন। সেদিক থেকে দুইজনের সদস্যপদ আটকে যাওয়ার কথা। তবে স্পিকার যদি মনে করেন ৭০ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ হয়েছে তখন তিনি বিষয়টি শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। কমিশনের শুনানিতে সন্তুষ্ট না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।

এর আগে দলের বিরুদ্ধে যাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের ৭০ অনুসারে অনেক এমপির সদস্যপদ গেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বহিষ্কারের সূত্র ধরে সদস্যপদ হারান আওয়ামী লীগের এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০০২ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করায় অষ্টম সংসদে বিএনপির মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সদস্যপদ হারান। সপ্তম সংসদে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় যোগদান করায় রাজশাহীর ডা. মো. আলাউদ্দিন ও সিরাজগঞ্জের হাসিবুর রহমান স্বপনের সদস্যপদ চলে যায়। তারও আগে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদানের কারণে মেজর জেনারেল (অব:) মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সদস্যপদ হারান। আবার জাতীয় পার্টি দ্বিখÐিত হওয়ায় কয়েকজন এমপির সদস্যপদ নিয়ে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে। এখন কামাল হোসেন ডুবন্ত সূর্য রক্ষায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে লড়াই করবেন; নাকি নীরব থাকবেন সেটা দেখতেই মুখিয়ে আছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ একতরফা বিচারে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল


একতরফা বিচার করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তিভবনে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চতুর্থ কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো মামলা মিথ্যা নয়- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ হাজার গায়েবি মামলা করা হয়েছে। একাদশ নির্বাচনের আগে প্রধানন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে গায়েবি মামলার তালিকাও দেয়া হয়েছিল।

নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষ জানে মামলাগুলো সত্যি নাকি মিথ্যা।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশকে রাজনীতিহীন করার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করা হয়েছে।

কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে কাউন্সিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কূটনীতিকদের সাথে কী কথা বলেছে বিএনপি


বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থানরত ২১টি দেশের কূটনৈতিকদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরা হয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়েসহ ২১টি দেশের প্রতিনিধি।

বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপি নেতা জেবা খান, মীর হেলাল, ইসরাক হোসেন প্রমুখ।

কূটনৈতিকদের সাথে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, কূটনীতিকদেরকে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন।

উৎসঃ ‌বিডিমর্নিং ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ঢুকে হাতমাইকে ঘোষণা দিয়ে ইলিশ লুটে নিচ্ছে ভারতীয়রা!


মোংলা বন্দরের পশ্চিমে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ঢোকে ভারতীয় ট্রলার। এরপর মাছের ঝাঁক খুঁজে জাল ফেলতে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার সোনার চর পর্যন্ত চলে আসে তারা। দেশের সমুদ্রসীমায় ঢুকে হাতমাইকে ঘোষণা দিয়ে ভারতীয় জেলেরা মাছ লুটে নিচ্ছে যায়। এমনকি তারা বাংলাদেশি ট্রলারগুলো ডুবিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার বঙ্গোপসাগরের সোনারচর এলাকার প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ভারতীয় ট্রলারগুলোর মধ্যে পড়েন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সিন্দা এফবি খানজাহান ট্রলারের জেলে সোবাহান। তিনি বলেন, ‘আমরা সাত-আটটি ট্রলার মিলে সেখানে মাছ ধরছিলাম। হঠাৎ করে ভারতীয় ট্রলার এসে হ্যান্ডমাইকে আমাদের ওই এলাকা ছেড়ে দিতে বলে। কথা না শুনলে ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। পরে আমরা জাল গুটিয়ে সেখান থেকে সরে আসি। এ সময় গোপনে ভারতীয় ট্রলার পুষ্পাঞ্জলির ছবি তুলে নিয়ে আসি আমরা। সেটিতে ভারতীয় পতাকা টানানো ছিল।’

পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা এফবি সীমা ট্রলারের জেলে জাকির বলেন, ‘গত সোমবার দুপুরে বিষখালী-বলেশ্বর মোহনা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ভারতীয় ট্রলারের ঝাঁকের কবলে পড়ি আমরা। আমাদের সীমানার প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে জাল উঠিয়ে আমাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে তারা। বিপদ বুঝে আমরা জাল তুলে চলে আসি।’

পাথরঘাটার বাসিন্দা এফবি বনফুল ট্রলারের মালিক সগির হোসেন বলেন, কেবল এবারই নয়, প্রতিবছর ইলিশ মৌসুমে বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে কোটি কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় ভারতীয় জেলেরা। বাধা দিলেই আমাদের জেলেদের ওপর নেমে আসে হামলা নির্যাতন। মাঝ সমুদ্রে মাঝি-মাল্লাসহ বাংলাদেশি ট্রলার ডুবিয়ে পর্যন্ত দেয় তারা। গেল বছর আমার এ রকম একটি ট্রলার ডুবিয়ে দেয় ভারতীয় জেলেরা। ওই ঘটনায় মুসা নামের এক জেলের মৃত্যু ঘটে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম মোফায়েদ হোসেন বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে মংলার দক্ষিণে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা দিয়ে ভারতীয় ট্রলার ঢোকার যে দাবি করা হচ্ছে সেটা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কেননা সেখানে নৌবাহিনীর টহল জাহাজ সার্বক্ষণিকভাবে টহল দেয়। তারপরও যদি কোনো ভারতীয় ট্রলার নৌবাহীনির জাহাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে মাছ ধরে তাহলে সেক্ষেত্রে কোস্টগার্ডকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয় না বাংলাদেশের জেলেরা।

তিনি আরো বলেন, ‘এই যে আপনি সোনার চরের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ভারতীয় ট্রলারের অনুপ্রবেশের কথা বললেন এই তথ্যটি যদি ওই ট্রলারের জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের দিত তাহলে আমরা সেখানে গিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের হাতেনাতে ধরতে পারতাম। এভাবে উড়ো কথা বললে তো কিছু করা সম্ভব নয়। জেলেরা আমাদের যথাযথ তথ্য দিলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম সিকদার বলেন, সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নানা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতীয় ট্রলারগুলো। মাছ ধরার সময় ট্রলারগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্যে তাদের যেমন রয়েছে ওয়্যারলেস তেমনি সাগরে মাছের ঝাঁকের অবস্থান বুঝতে তারা ব্যবহার করে ইকোসাউন্ডার। ২০০-৩০০ ট্রলার একসঙ্গে দলবদ্ধ মাছ ধরাই তাদের পদ্ধতি। সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ইকোসাউন্ডার ব্যবহার করে তারা প্রথমে মাছের ঝাঁকের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। তারপর সে অনুযায়ী ফেলে জাল। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ উপকূলে ধরা পড়ছে বিপুলসংখ্যক ইলিশ। আর এই ইলিশের লোভেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

বরগুনা জেলা মাঝি-মাল্লা সমিতির সভাপতি সিদ্দিক জমাদ্দার বলেন, মোংলা বন্দরের পশ্চিমে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় ঢোকে ভারতীয় ট্রলার। এরপর মাছের ঝাঁক খুঁজে জাল ফেলতে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার সোনার চর পর্যন্ত চলে আসে তারা। মাছের ঝাঁকের সন্ধান পেলে নিজেদের মধ্যে ওয়াকিটকির মাধ্যমে যোগাযোগ করে এক জায়গায় জড়ো হয় শতাধিক ভারতীয় ট্রলার। আলোচ্য জায়গায় যদি বাংলাদেশি কোনো ট্রলার থাকে তাহলে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে সরে যেতে বলা হয় তাদের। সরে না গেলে চলে হামলা-মারধর। বাংলাদেশি ট্রলার সরিয়ে দিয়ে জাল ফেলে মাছ ধরে তারা। সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পায় না বাংলাদেশি জেলেরা।

উৎসঃ ‌বিডিমর্নিং ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ আমার অফিস ও চেম্বার মোকাব্বিরের জন্য চিরতরে বন্ধঃ ড. কামাল


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

শপথ নেয়ার দুইদিন পর দলের সভাপতি কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘ধমক’ শুনে বেরিয়ে এলেন গণফোরামের মোকাব্বির খান।

বৃহস্পতিবার বিকালে মতিঝিলে কামালের চেম্বারে গিয়েছিলেন গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু।

মিলু চৌধুরী বলেন, মোকাব্বির খান সাহেব এসে স্যারকে (কামাল) সালাম দিতেই স্যার চরম রাগান্বিত হয়ে বলেন- আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।

এই বিষয়ে মোকাব্বির খানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত সোমবার দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে শপথ বাক্যপাঠ করেন গণফোরামের এ নেতা।

তবে মোকাব্বির খানের দাবি- গণফোরামের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের অনুমতি নিয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন।

শপথের বিষয়ে মোকাব্বির খান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি গণফোরামের সিদ্ধান্তেই শপথ নিচ্ছি। আমার পার্টি থেকে বলা হয়েছে শপথ নিতে।’

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছিলেন গণফোরামের আরেক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন: আফরোজা আব্বাস


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের মা, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছেন। তাতে আপনার সাময়িক লাভ। কিন্তু আপনার মনে কী শান্তি আছে? অবৈধভাবে, অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় থাকলে মনে কখনই শান্তি থাকে না। পতনের শঙ্কায় আপনার দুশ্চিন্তা সব সময় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আপনি এক এক করে গণতন্ত্র হরণ করেছেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছেন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার-ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করে হরণতন্ত্র চালু করেছেন। তাও কি টিকতে পারবেন? এভাবে কি টিকে থাকা যায়?

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, সাবিনা ইয়াসমীন, মাসুদা খানম লতা, নিলুফার ইয়াসমীন নিলু, সেলিনা হাফিজ, মর্জিনা আফসারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কার্যালয়ের সামনে থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত মিছিল করে মহিলা দল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আপনার মনে কি শান্তি আছে: শেখ হাসিনাকে রিজভী


দীর্ঘদিন কারাবন্দি থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছেন। তাতে আপনার সাময়িক লাভ। কিন্তু আপনার মনে কী শান্তি আছে? অবৈধভাবে, অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় থাকলে মনে কখনই শান্তি থাকে না। পতনের শঙ্কায় আপনার দুশ্চিন্তা সব সময় থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আপনি এক এক করে গণতন্ত্র হরণ করেছেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছেন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার-ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করে হরণতন্ত্র চালু করেছেন। তাও কি টিকতে পারবেন? এভাবে কি টিকে থাকা যায়?

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা গণজোয়ারের ঢেউ আপনি হয়তো টের পাচ্ছেন না। হাজারো জুলুম-নির্যাতনের যাঁতাকল ভেঙে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, সেই গণজোয়ার আপনি কোনোভাবেই ঠেকাতে পারবেন না। গণজোয়ারের স্রোতে ভেসে যাবেন।

সমাবেশে মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের মা, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, সাবিনা ইয়াসমীন, মাসুদা খানম লতা, নিলুফার ইয়াসমীন নিলু, সেলিনা হাফিজ, মর্জিনা আফসারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কার্যালয়ের সামনে থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত মিছিল করে মহিলা দল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: বিএসএমএমইউ পরিচালক


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। তার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একে মাহবুবুল হক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ডা. একে মাহবুবুল হক জানান, মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে দেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএসএমএমইউতে ভর্তির পর যে ওষুধগুলো তাকে দেয়া হয়েছে, সেগুলো তিনি নিয়মিত খাচ্ছেন। তার ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিএসএমএমইউ পরিচালক জানিয়েছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা গতকালের চেয়ে আজকে ভালো। বিএসএমএমইউর চিকিৎসাসেবায় খালেদা জিয়া সন্তুষ্ট বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউয়ে আনা হয় খালেদা জিয়াকে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছর দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চুরি-ছিনতাই করে শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণ করছে ছাত্রলীগ!


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, জমি দখল, ধর্ষণ, ভর্তি বাণিজ্য, ছিনতাই, চুরি, খুন-হত্যা, নির্যাতন ও ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যমে তাদের অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছে। বলা যায়-শেখ মুজিবের সৈনিক পরিচয় দিয়ে এমন কোনো অপকর্ম বাদ নেই যা তারা করছে না। সব কিছুর আগেই তাদের স্লোগান হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। এখন স্বাভাবিকভাবেই সচেতন মানুষের মনে এখন প্রশ্ন জাগে শেখ মুজিব কি সারাদিন চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, দখল-বাণিজ্য আর খুন-হত্যার স্বপ্নই দেখতেন?

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এমন কোনো দিন নেই যেদিন পত্রিকার পাতায় ছাত্রলীগের অপকর্মের নিউজ থাকে না। বিশেষ করে দখল-বাণিজ্য নিয়ে নিজেরা মারামারি করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে তারা রণাঙ্গনে পরিণত করেছে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের সীমাহীন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ছাত্রলীগকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিসি বলেছেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ছোট হলেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে হয় আমাদের। ছাত্রলীগ নামধারীরা কিছুদিন আগে রাজীবের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা করেছে, আঘাত করেছে। এরা ছাত্র নয়, ছাত্র নামধারী জঙ্গি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে চায়, তাদের স্থান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না। তিনি বলেন, তোমরা কখনও শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আসো নাই। এসেছো উন্নয়ন কাজে ভাগ বসাতে, উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে। তোমরা মারামারি, হানাহানি থেকে বের হয়ে আসো। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আসো। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ভিসির এই বক্তব্যের পর ছাত্রলীগের খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আর বেশি কিছু বলার থাকে না। তারপরও এই প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের সর্বশেষ ৩টি অপকর্মের ঘটনা উল্লেখ করা হলো-

প্রথমত: মাগুরা আদর্শ কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না করে ওই টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা। গত রোববার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় মাগুরা আদর্শ কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারছে না কলেজের শতাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা টাকা নিয়েছিলেন। ওই কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয় রোববার। অন্যদের সঙ্গে প্রবেশপত্র নিতে এসেছিল মানবিক বিভাগের ছাত্র রিয়াজ হোসেন। রিয়াজ জানতে পারে, অন্য বন্ধুদের প্রবেশপত্র এলেও তার টা আসেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ফরমই পূরণ হয়নি, প্রবেশপত্র আসবে কোত্থেকে। যদিও ফরম পূরণের জন্য সে টাকা দিয়েছিল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে।

এ বিষয়ে রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ও আমার দুই বন্ধুর কাছ থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা ১৬ হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছেন। কথা ছিল, ফরম পূরণ করে দেবেন তাঁরা। তবে আমাদের প্রবেশপত্র আসেনি। দুই দিন হলো ফোনও ধরছেন না ওই নেতা।’ ওই শিক্ষার্থীরাসহ ৩০ জনের টাকা ওই নেতা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে রিয়াজ।

একই অভিযোগ মানবিক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইমন হোসেনেরও। ইমন বলে, ‘পরীক্ষার ফরম পূরণের কথা বলে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিন হোসেন আমার কাছ থেকে দুই দফায় ৮ হাজার ৩০০ টাকা নিয়েছেন। ফরম পূরণে নির্ধারিত ফি যেখানে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে ছাত্রলীগের নেতার কাছে ফরম পূরণের জন্য এত টাকা দিয়েছ কেন জানতে চাইলে ইমন হোসেন বলে, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। আর প্রতিবছর কিছু টাকা বেশি নিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করিয়ে দেন ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্রলীগের নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, এবারও তাদের পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দেবেন। তাই তাঁদের কাছে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত করে অর্থ দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে জানায় ইমন হোসেন।

দ্বিতীয়ত: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে মারধর ও তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের দায়ে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছাত্রলীগের ওই পাঁচ কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মীরা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া ছিনতাই ও মারধরের বিষয়টি তাঁদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সঞ্জয় ঘোষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মোহাম্মদ আল-রাজি, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের রায়হান পাটোয়ারী, দর্শন বিভাগের মোকাররম শিবলু ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহ মুশতাক সৈকত। তাঁদের মধ্যে সঞ্জয় ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের ও বাকিরা ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক আলমগীর হোসেনের জামাতা মনির হোসেন তাঁর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বিশমাইল এলাকার সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁকে আটক করে মুঠোফোন, নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে মনির হোসেন পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে ইজিবাইকে করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সেখানে তাঁরা মনির হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাঁরা মনিরের স্ত্রীর কাছে মুঠোফোনে এক লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা পালানোর চেষ্টা করেন। কর্মচারীরা তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন।

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এক শিক্ষার্থীরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় ডাসকু ভিপি নুরুল হক নুর ও সামসুন্নাহার হলের ভিপি ইমিকে লাঞ্চিত ও তাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করেছে তারা।

এভাবে তারা প্রতিদিন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here