ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: এরদোগান

0
440

আঙ্কারা: পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ফের সমর্থন জানিয়েন তুরস্কের প্র্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে শনিবার এক টেলিফোনালাপে তার সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, এসময় দুই নেতা ফিলিস্তিনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

এরদোগান জোর দিয়ে বলেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য তুরস্কের চলমান সমর্থন অব্যাহত থাকবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি গাজার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রতি জোর দেন।

এসময় ফিলিস্তিনিদের জন্য তার সংবেদনশীলতা এবং সমর্থনের জন্য মাহমুদ আব্বাস এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বুধবার কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর এই দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপ হলো।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি ররিবার জেরুজালেমের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডাকার জন্য আরব লীগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে কথা বলেছেন।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠকের জন্য শীর্ষস্থানীয় ফিলিস্তিনী কূটনীতিকরা আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল-গেইত ও ওআইসি’র মহাসচিব ইউসেফ আল-ওথাইমেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

এদিকে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করলে তা সহিংসতাকে উসকে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরব দেশগুলোর জোট আরব লিগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত। তিনি মনে করছেন, এতে করে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি শান্তিপ্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

জর্ডানও জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটার আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করতে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবেন। তবে হামাস আবারো ‘ইন্তিফাদার’ হুমকি দিয়েছে।

এদিকে তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে কি না, তা নিয়ে গতকাল সোমবারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রেসিডেন্টকে প্রতি ছয় মাস অন্তর এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট পলিসি আয়োজিত সাবান ফোরামে গত রবিবার ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, প্রেসিডেন্ট এখনো জেরুজালেম প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তবে আগামীকাল বুধবার ট্রাম্প এ ব্যাপারে ঘোষণা দিতে চলেছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা অগ্রাহ্য না করারও পরামর্শ দেন কুশনার।

তবে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার রবিবার ফক্স নিউজকে বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট সেই পরামর্শগুলো বিবেচনা করছেন।

বিবিসি জানায়, জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে, তাহলে তা পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক পরিণতির’ দিকে ঠেলে দেবে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে এ ব্যাপারে তাঁর কথা হয়েছে।

গার্ডিয়ান জানায়, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করতে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবেন। তার মুখপাত্র রবিবার বলেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে টেলিফোনে যোগাযোগ করছেন আব্বাস। মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর বা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার ফলে কী বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে, তা বিশ্বনেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে কিংবা দূতাবাস স্থানান্তর করে, তাহলে নতুন করে ‘ইন্তিফাদার’ সূচনা ঘটবে।

আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here