তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক জানান, ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক অর্থ স্থানান্তরের জনপ্রিয় মাধ্যম পেপাল চালু হচ্ছে। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, ব্যাপক আলোড়নও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে পেপাল চালুর বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। আবার গণমাধ্যমে পাঠানো আইসিটি বিভাগের আমন্ত্রণপত্রে লেখা রয়েছে, ১৯ অক্টোবর পেপালের জুম সেবা উদ্বোধন করা হবে। এরপর বিষয়টি প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা- উদ্বোধন হচ্ছে ‘জুম’।

গত ৯ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে জুনায়েদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের জানান, অনলাইনে যারা ফ্রিল্যান্সিং করত, তাদের টাকা বাংলাদেশে আনতে অনেক বেশি খরচ হয়। সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকসহ নয়টি ব্যাংকের সঙ্গে পেপালের চুক্তি হয়েছে। সরাসরি পেপাল এখন বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আনছে।

প্রতিমন্ত্রী ওই সময় আরও বলেন, ‘এসব ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে প্রবাসীরা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। বাংলাদেশের যে লক্ষ লক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা রয়েছেন, তাদের যে ক্লায়েন্ট তারাও টাকাটা পেপালের মাধ্যমে সরাসরি পাঠাবেন। ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে পেপাল লাউন্সিং হতে যাচ্ছে। পেপালের সঙ্গে টেস্ট ট্রানজেকশন হয়েছে, প্রায় কয়েকশ ট্রাকজেকশন ইতোমধ্যে সাকসেসফুললি হয়েছে। তারপরেই পেপাল বাংলাদেশে অফিসিয়াল লাউন্সিংয়ের জন্য রাজি হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, সারাবিশ্বে পেপালের যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেও তা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এটির উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।

ভিডিওতে দেখুন পেপাল নিয়ে কী বলেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী

এ নিয়ে পেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এক ই-ইমেইল বার্তায় পেপাল হেড কমিউনিকেশনস (ইন্ডিয়া) পূজা সাভারওয়াল জানান, বাংলাদেশে পেপাল চালু হওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ভবিষ্যতে চালু হবে কিনা, তাও জানাতে পারেননি তিনি।

তবে পেপালের একটি সেবা জুম (Xoom) ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে চালু আছে বলেও জানান তিনি।

জুমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে বলেও জানান পূজা সাভারওয়াল।

পরে ‘পেপাল সাপোর্ট’ থেকে দেওযা এক টুইটে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পেপাল কোনো সার্ভিস শুরু করছে না।

এ দিকে ১৯ অক্টোবর যে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে পেপাল উদ্বোধনের কথা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব ‍সুবীর কিশোর চৌধুরীর পাঠানো সেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা রয়েছে, এদিন সকাল দশটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম-এ ‘পেপালের জুম সার্ভিস উদ্বোধন ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর এ নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠে, কেন জুম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানকে প্রতিমন্ত্রী পেপাল উদ্বোধনের কথা বলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক একজন সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন, প্রতিমন্ত্রীকে ওই দিন সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব দেন, পেপালই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

আমন্ত্রণপত্র

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক ওই সাংবাদিক জানান, জুম আর পেপাল এক নয় এবং ঠিক কী কারণে দুটোকে এক করে ফেলা হয়েছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। তবে সরকার বাড়তি প্রচার-প্রচারণা পেতেই এই কাজ করেছে। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে উল্টো হয়ে গেছে, মাছের গন্ধ বের হয়ে গেছে!

তিনি বলেন, ‘জুম তো বাংলাদেশে ২০১৫ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন হয়েছে। সেটা আবার নতুন করে উদ্বোধন করতে হবে কেন? তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্য কি আর গোপন থাকে?’

এ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ দিন ধরেই পেপালের বাংলাদেশে আসা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। দেশের ফ্রিল্যান্সাররা দীর্ঘদিন ধরেই এ সেবাটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন। পেপাল চালু হলে ফ্রিল্যান্সারদের অনেক উপকার হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here