ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!

0
520

একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ  ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ  ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি : বরকতুল্লাহ বুলু


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু বলেছেন, গত নির্বাচনে বিএনপি হারেনি, হেরেছে গণতন্ত্র এবং দেশের জনগণ। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারলে বিএনপি আজ ক্ষমতায় থাকতো।

তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। আ’লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না। তাই আগামী দিনে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সেই সাথে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ীরা সংসদে যাবে না। তিনি দলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। সেইসাথে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহবান জানান তিনি। মঙ্গলবার বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। মিনু তার বক্তব্যে বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না। তাই জেলের তালা ভেঙ্গে মুক্ত করা হবে। এ জন্য ৮ ফেব্রয়ারী ঢাকায় কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি সাইফুল বলেন, সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের পরেও বগুড়ার নেতাকর্মীরা যেকোনো কর্মসূচী সফল করতে প্রস্তুত রয়েছে। সে লক্ষ্যে তারা দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সভায় আরো বক্তব্য দেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর হেনা, লাভলী রহমান, শফিকুল হক মিলন, ওবায়দুর রহমান চন্দন, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ফজলুল বারী বেলাল, বগুড়া-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোশারফ হোসেন, মাহবুবর রহমান বকুল, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, সিপার আল বখতিয়ার, শাহাবুল আলম পিপলু, খায়রুল বাশার, আবু হাসান, তাজুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, মাসুদ রানা, নাজমা আক্তার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গায়েবি মামলার জামিনের জন্য স্ট্রেচারে করে এলেন হাইকোর্টে


উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে দেখা গেল এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন। দুই হাত ও দুই পায়ে ব্যান্ডেজ। বাম পায়ের তিনটি আঙুল কাটা। কিছুদিন আগে জোড়া লেগেছে দেখলে বোঝা যায়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল হাইকোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনের খোলা জায়গায়। নাশকতার মামলায় আগাম জামিনের জন্য এসেছিলেন কৃষক তছিরউদ্দিন মণ্ডল। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ওমেদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।

আর্থিক সংকটের কারণে একটি বাসের পাশাপাশি দুটি সিট ভাড়া নিয়ে শুয়ে ঢাকায় আসেন। একইভাবে ফিরেও গেছেন। হাইকোর্টে উচ্চ আদালতে তছিরউদ্দিন মণ্ডলসহ শৈলকূপার ২৩৬ জনের চার সপ্তাহের আগাম জামিন হয়েছে গতকাল। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ১৩টি পৃথক জামিন আবেদনে তাদের এ আগাম জামিন দেন। এ সময়ের পরে তাদের ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় তছিরকে গাবতলী টার্মিনাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয় উচ্চ আদালতে। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায়। গত বছরের ১৫ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানায় ৭০ জনকে আসামি করে একটি গায়েবি মামলা দেয়া হয়। এই মামলার আসামি তছিরউদ্দিন মণ্ডলও।

তছিরউদ্দিনসহ অন্য জামিন আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, মামলাগুলো গায়েবি। সরকারদলীয় লোকজনই এদের মেরেছে, নির্যাতন করেছে ও কুপিয়েছে। আবার তারাই মামলা করেছে। হাইকোর্ট ১৩টি পৃথক আবেদনে ২৩৬ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে।

তছিরউদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মামলার পর থেকে রয়েছেন বাড়ির বাইরে। থাকছেন এক আত্মীয়ের বাসায়। তার দুই সন্তান। বড় ছেলে কলেজে পড়ে। ছোট ছেলের বয়স দুই বছর। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে নিজের সামান্য জমিটুকুও বন্ধক দিয়েছেন। এগুলো দিয়ে টেনে টুনে চলছে সংসার। অর্থের অভাবে ছেলের পড়ালেখাও বন্ধের উপক্রম। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না তছিরউদ্দিন।

গতকাল এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায় তছির মানবজমিনকে বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। নির্বাচনের পরে উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে নাশকতার মামলায় আমাকে আসামিও করেছে। তিনি জানান, কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনি ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলেও গত দেড় মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছি না। খুব অসহায় জীবন যাপন করছি।

জানা যায়, নির্বাচনের দুইদিন পর তছিরউদ্দিনের নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুরে মারামারি হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন তিনি। তার এক পা ও এক হাতের হাড় অনেকটাই ভেঙে গেছে। গত একমাস ধরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তছিরউদ্দিন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময় শৈলকূপা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলায় ৩১১ জনকে আসামি করা হয়। রোববার রাত ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে উচ্চ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সকাল ৭টায় নামেন গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে। সকালের নাস্তা শেষে বাসে করে উচ্চ আদালতে আসেন সবাই। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই রাজি হন নি। আবার কেউ কথা বললেও নিজের নাম জানান নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে একজন বলেন, মামলার কারণে দেড় মাস বাড়ির বাইরে। নাম বললে তো আর বাড়ি যাইতে পারুম না। এমনেই বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া। আমার নামে কেন মামলা দিছে সেটাই জানি না। জীবনে কোনোদিন কোর্টের বারান্দায় আসা লাগেনি। ৫৫ বছরের তোফাজ্জল পেশায় কৃষক। তাকেও একই নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিএলকে বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার কথিত ঘটনা ঘটে রাত আড়াইটায়। তখন তোফাজ্জল ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তার কদমতলা গ্রামের বাড়িতে।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বলেন, নির্বাচনের সময় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। সবাই যখন মামলার বিষয়ে আমাকে বললো। আমি কারো কথা বিশ্বাস করি নাই। কারণ আমি একজন কৃষক। সারাদিন আমি থাকি মাঠে ঘাটে। আমি তো আর রাজনীতি করি না। তাই ভাবছি আমার নামে মামলা হবে কেন। পরে পুরো বিষয় জানার পর দেড় মাস ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছি। কিভাবে যে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহই জানে। আমার দুটি সন্তান। তারা স্কুলে পড়ে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমার বউ অন্যের বাড়িতে কাজ করে এখন সংসার চালাচ্ছে।

মামলার বিষয়ে শৈলকূপা থানার পরিদর্শক আইয়ুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে-পড়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। সবগুলোরই তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় না থেকেও এই মামলায় অনেকে আসামি হয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণের উপরে সবার নামে মামলা হয়েছে। আর মামলার তো তদন্ত চলছে। যদি এর মধ্যে কেউ নির্দোষ হয় তাকে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াসহ সুনির্দিষ্ট করে দলটির ১৮ জন নেতার মুক্তি দাবি


কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সুনির্দিষ্ট করে দলটির ১৮ জন নেতার মুক্তি দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আজ বুধবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

রিজভী সংবাদ সম্মেলনে দলের ও অঙ্গ সংগঠনের ১৮ জন নেতার নাম নিয়ে তাদের মুক্তি দাবি করেন। এদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, মামুনুর রশিদ মামুন, শেখ মোহাম্মদ শামীম, শেরপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাশেম বকর, শরীয়তপুরের ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপু এবং মাগুরার ধানের শীষের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দেশব্যাপী আটক বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সরকার গণতন্ত্রের লাশের ওপর কীর্তন করছে : সুব্রত চৌধুরী


সরকার গণতন্ত্রকে লাশ বানিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে কীর্তন করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘নির্লজ্জ সরকার! বিশ্বের কোথাও এ ধরনের সরকার আর নেই। ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারকে ছাড়িয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারি এক কান কাটা গিয়েছিল। এবার তার পূর্ণতা পেয়েছে। তারা নোবেল পাক!’

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় তার কঠোর সমালোচনা করেন ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ডেকে আনল কিন্তু তাদেরকে ফেরত পাঠানোর মরদ নেই সরকারের।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের লাশ বানিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে কীর্তন করছে সরকার। তাদের মনে অনেক জ্বালা আর মুখে কাষ্ঠ হাসি। এদের আমলে বিচারবিভাগ, ভোটাধিকার সব কিছু অর্থহীন। মিথ্যা মামলায় নিপীড়িতদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই কান্নায় সরকারের পতন হবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অবস্থা মর্মান্তিক। ৩০ ডিসেম্বর বিনা জানাজায় দেশের মানুষের ভোটাধিকারকে কবর দেয়া হয়েছে। এখন চলছে পুরস্কার প্রদানের উৎস। অপেক্ষা করেন, সামনে দেখবেন প্রশাসন ও পুলিশের রঙ্গলীলা।’

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ছাত্রদল করায় ৩ চিকিৎসককে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ


ছাত্রদল করায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন, খুলনার ফুলতলা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে রাফসান জনি আবির, একই এলাকার কাজী আহসানুল হকের ছেলে কাজী আবু তালহা ও যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান শিমুল।

আটক চিকিৎসকদের মধ্যে আবির মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, শিমুল সহসভাপতি এবং তালহা সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে ক্যাম্পাস সূত্র। তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ৪৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস ও সজল পান্ডের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মী আবির, শিমুল ও তালহার ওপর হামলা চালান। এ সময় পিটিয়ে তাদের ৩ জনকে আহত করেন। পরে পুলিশে সোপর্দ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সজল পান্ডে বলেন, শিমুল একসময় শিবিরের রাজনীতি করলেও এখন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। এছাড়া বিএনপির আমলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল আটক ওই তিনজন। তারা দির্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল। দুপুরে তাদের ক্যাম্পাসে পেয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের রোষাণল থেকে বাঁচাতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সাক্ষাৎকারের জন্য গ্রেপ্তারকে ‘পেশাগত দক্ষতা’ হিসেবে স্বীকৃতিতে টিআইবির উদ্বেগ


আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং ভয়ভীতি, পক্ষপাত ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেই সঙ্গে কোন অবস্থাতেই যেন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিতর্কিত না হয় সেব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থাটি। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি এই আহ্বান জানায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে, জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কখনই বিতর্কিত ভূমিকা নেবে না এমনটাই প্রত্যাশিত। অথচ নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন, কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক’ সাক্ষাৎকারের জন্য গ্রেপ্তারকে ‘পেশাগত দক্ষতা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক পাওয়ায় আমরা বিচলিত বোধ করছি। কারণ এসব ঘটনার প্রতিটির ক্ষেত্রেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তা’, ‘পক্ষপাতিত্ব’ বা ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ সর্বজনবিদিত।”

পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ধরনের দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. জামান বলেন, “পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধাচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চর্চা সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুযোগ লাভের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাই শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই বাহিনীর প্রতি জনগণের নির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই মুহূর্তে এটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।”

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ সপ্তাহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে যার অধিকাংশই যৌক্তিক এবং ইতিবাচক বিবেচনার যোগ্য। পাশাপাশি, পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমরা উৎসাহিত হয়েছি যে, পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘নিরীহ কেউ যেন হয়রানি নির্যাতনের শিকার না হন’ তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে, দোষী, নির্দোষ,সন্দেহভাজন, অভিযুক্ত বা নিরীহ সবার আইনি সুরক্ষা পাওয়া সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার; এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনের আওতায় থেকে দায়িত্ব পালন করবে এটা নিশ্চিতভাবেই আইনগত বাধ্যবাধকতা, যা ভুলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ আমাদের আশান্বিত করেছে,একইসাথে আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে, বিনাবিচারে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আর কাউকে নিহত হতে হবে না।”

উৎসঃ ‌দ্যা ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ দৃষ্টিহীন কেরামত আলী গাড়ি পোড়ানোর আসামিঃ জামিন নিতে গেলেন হাইকোর্টে


৭০ বছরের কেরামত আলী সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনের লনের গাছতলায় বসে হাঁপাচ্ছিলেন। বসেছিলেন কুঁজো হয়ে, লাঠিতে ভর করে। একটু পর পর কাঁপছিলেন। গাঢ় কালো রঙের চশমা পরা শ্মশ্রুমণ্ডিত কেরামত চোখে দেখেন না। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না। বয়সের ভারে শরীরও ভেঙেছে। কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে। কুঁচকে গেছে শরীরের চামড়া।

জানা গেল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ১০ নম্বর খেরুয়াজানি ইউনিয়নের বন্ধ গোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কেরামতের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আগাম জামিন নিতে গতকাল গতকাল সোমবার তিনিসহ হাইকোর্টে এসেছিলেন এ মামলায় নাম থাকা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

কেরামত জানান, তিনি বিএনপির সমর্থক হলেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঘর থেকে বের হওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। মামলায় তার নাম আসায় বিস্মিত অন্যরাও।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা থানায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা (নম্বর- ২৪) হয়। এ মামলায় কেরামতকে ৩৮ নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তাগাছা পৌরসভার আলাউদ্দিন কেন্দ্রীয় পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নৌকা সমর্থক একজনের মোটসাইকেলে আগুন দিয়েছেন কেরামত ও অন্য আসামিরা। এছাড়া তারা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে একজন গণমাধ্যমকর্মী স্বজনদের কথা জানতে চাইলেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন কেরামত আলী। পরে জানান, দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় আগে ১৮ বছরের শরীফুল ইসলাম কিডনিজনিত জটিলতায় মারা যায়। কয়েক বছর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ফরিদুলও মারা যায়। চার বছর আগে তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন স্ত্রী আসিয়া খাতুনও।

সেই থেকেই তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। পুত্র-স্ত্রী শোকে কাতর কেরামতকে এখন দেখার কেউ নেই। দরিদ্র দুই ভাই গিয়াসউদ্দিন ও আবদুল মজিদ অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ভাইকে নিজের শেষ সম্বল গ্রামের বাড়ির পাঁচ শতক জমি দান করে দিয়েছেন কেরামত। বিনিময়ে তাকে তিনবেলা খাবার ও পরনের কাপড় দেওয়া হয়।

চোখে ছানি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একপ্রকার অন্ধের জীবনযাপন করছেন কেরামত। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলেও সেই চোখের আলো পুরোপুরি ফেরেনি। দুই হাত দূরের জিনিসও দেখতে পান না। এখন লাঠি ও অন্যের সাহায্যই ভরসা কেরামতের। তিনি জানান, মামলার কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে নির্বাচনের আগে একমাস তাকে আত্মীয়ের বাড়িসহ এখানে-সেখানে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

কেরামত আলী বলেন, ‘বাবারে দুনিয়াতে আমার কেউ নাই। আমারে দেখার কেউ নাই। আমি রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিও না। কিন্তু আমারে ক্যান এই মামলায় জড়াইলো জানি না। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

তার সঙ্গে আসা দূর সম্পর্কের ভাতিজা সাইফুল আজিজ (তিনিও একই মামলার আসামি) বলেন, ‘নির্বাচনের আগে করা গায়েবি মামলায় এই বৃদ্ধ লোকটাকেও আসামি করা হয়েছে। এই বয়সে অসমর্থ শরীর নিয়ে তিনি নাকি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এই বয়সে একজন বৃদ্ধ লোককে এভাবে হয়রানি করতে দেখে আমাদের নিজেদের খারাপ লাগছে। আজ (গতকাল) আগাম জামিন পেলেও এই মামলার হয়রানি থেকে সহসাই তিনি রেহাই পাবেন এমন মনে হচ্ছে না। কেননা জামিনের মেয়াদ শেষে আবারও তাকে আদালতে আসতে হবে।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘কেরামত আলী অসুস্থ চোখে দেখেন না এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তদন্তে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উৎসঃ ‌বাংলাদেশ টুডে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here