পাকিস্তানের শুটারদের ভিসা না দেয়ায় অলিম্পিকের নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারত

0
270

কাশ্মিরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের একটি গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল জয়েশ-ই মোহাম্মদ। ওই ঘটনায় বাহিনীটির ৪৪ জন সদস্য নিহত হয়েছিল।

ভারত এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে বিশ^জুড়ে পাকিস্তানকে একঘরে করে ফেলতে চেয়েছিল। তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। বরং এখন নিজেদের নেয়া এক পদক্ষেপে উল্টো নিজেরাই একঘরে হয়ে পড়তে যাচ্ছে।

ভারত আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সেটাতে সফল হয়নি। বেশ কিছু দেশ এ হামলার নিন্দা জানালেও তাতে পাকিস্তানকে তেমনভাবে দায়ী করা হয়নি। বরং সৌদি ও চীন বেশ ভালোভাবেই পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। ভারত স্বাভাবিকভাবে এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

ফলে ভারত নিজেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। প্রথমে বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করে এবং পাকিস্তানি পণ্যে দুইশ শতাংশ শুল্কারোপ করে। আওয়াজ উঠছিল খেলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বয়কট করবে ভারত। এরই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লির শুটিং বিশ্বকাপে দুই পাকিস্তানি শুটারকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। তাতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তোপের মুখে পড়ে ভারত।

এক বিবৃতিতে তারা ভারতের সঙ্গে আগামী দিনে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করার কথা জানাল তারা। এর ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি অনুমোদিত কোনো প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারবে না ভারত। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাকেও ভারতে প্রতিযোগিতা না করার অনুরোধ জানায় তারা।

অলিম্পিক কমিটির বক্তব্য, প্রতিযোগীদের ভিসা না দেয়ার ঘটনা ‘অলিম্পিক চার্টার’-এর বিরোধী। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়ে কোনো আয়োজক দেশ কাউকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া থেকে আটকাতে পারে না।

অলিম্পিক কমিটি তাদের বিবৃতিতে আরো জানায়, ‘আমরা পুরো বিষয়টি জানার পর শেষ চেষ্টা করেছিলাম। ভারত সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। কিন্তু পাকিস্তানি প্রতিযোগীদের ভারতে হতে চলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়াতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়েই অলিম্পিক নির্বাহী বোর্ড ভারত সরকার এবং ভারতের জাতীয় অলিম্পিক সংস্থার সঙ্গে সব রকমের আলোচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দিনে ভারত অলিম্পিক কমিটি অনুমোদিত যে সমস্ত প্রতিযোগিতার আবেদন করেছিল বা করবে বলে ভেবেছে, বাতিল করা হয় তার সব কিছুই।’

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিযোগীদের জন্য কোনো রাজনৈতিক বাধা থাকবে না, এ লিখিত অঙ্গীকার দেয়ার পরই কেবল ভারতকে প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে দেওয়ার কথা ভাবা হবে।

আগামী দিনে অলিম্পিক সংস্থা অনুমোদিত বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পনা করছিল ভারত।

২০২৬ সালে যুব অলিম্পিকস, ২০৩০ সালে এশিয়ান গেমস এবং ২০৩২ সালে অলিম্পিকস করার কথা ভেবেছিল নয়াদিল্লি।

অলিম্পিক কমিটির সর্বশেষ ঘোষণায় ভারতের এসব পরিকল্পনায় নিশ্চিতভাবেই বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

উৎসঃ ‌এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললে নিষিদ্ধ হবে ভারত!


কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্ব চলছে। এর প্রভাবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের আহবান জানিয়েছেন হরভজন সিং ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের মতো সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কিন্তু এমনটা ঘটলে যে আখেরে ক্ষতি ভারতেরই হবে তা মনে করিয়ে দিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার ও উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী চেতন চৌহান।

চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটি বর্জনের আগে কিছু বিষয় ভাবতে বলছেন চৌহান। তার মতে, এমনটা করলে ভারতের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তছাড়া আইসিসি’র আইনও এটা সমর্থন করেনা। এক্ষেত্রে ভারতকে হয় পয়েন্ট ভাগ করা ছাড়াই ম্যাচ ছাড়তে হবে কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। যদিও হরভজনের মতো আগ্রাসী জবাব দিতে অনেক ভারতীয়ই মরিয়া।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৌহান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া এত সহজ নয়। কারণ, প্রতিটি টুর্নামেন্টের নিজস্ব কিছু নিয়ম আর অনেক অংশগ্রহণকারী দল আছে। আমরা যদি নিজেদের সরিয়ে নেই, তাহলে এর ফলাফলও ভাবতে হবে। শাস্তি হিসেবে জরিমানা এমনকি নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আমি আশা করি সরকার এবং বিসিসিআই বিষয়টা ভেবে দেখবে।’

তবে বিশ্বকাপ থেকেই যদি পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায় তাহলে তো ভারতের আর চিন্তার কিছু থাকবে না। চৌহানও তাই বললেন, ‘বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিক অনেক আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলি না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি বিশ্বকাপ থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায়। পাকিস্তানে বেড়ে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে সারা বিশ্ব চিন্তিত। আইসিসিকে চাপ দিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে ছুড়ে ফেলার জন্য আমাদের চাপ দিতে হবে।’

‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাতে তেমন কিছু যায় আসবে না। কিন্তু ভারত যদি না খেলে, আইসিসি ক্ষতির মুখে পড়বে। আইসিসির মোট স্পন্সরশিপের ৬৫-৭০ ভাগ আসে ভারতের কল্যাণে।’

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা ক্রিকেটে পাকিস্তানকে বয়কটের আহবান জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, ক্রিকেট ম্যাচ কিছুতেই দেশের চেয়ে বড় নয়।

গত মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং বলেন, ‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতের বয়কট করা উচিত। পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললেও বিশ্বকাপ জেতার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ভারত। সরকারের উচিত শক্ত জবাব দেওয়া। আর ক্রিকেট নিয়ে যদি বলি, তারা যতদিন আমাদের এভাবে দেখবে ততদিন তাদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।’

হরভজনের সঙ্গে একমত সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনও। দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী রবী শঙ্কর প্রসাদ তো পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি এমনকি সরকারের প্রতি খোলা আহবান জানিয়ে বলেছেন, বিসিসিআই’র উচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইসিসিকে চাপ দেওয়া।

এদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলার বিষয়ে ‘ফাইনাল কল’ আসুক ভারতের সরকারের পক্ষ থেকেই।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘আইসিসি যদি ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল হয় তাহলে তাঁদের কথা শুনবে’


হাজারো রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কাশ্মীর হামলার পর সেটাও ভাঙতে বসেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তো পাকিস্তানকে আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যা দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ।

ক্রিকেটে বিসিসিআইয়ের দাপটের কথা সবারই জানা। আর্থিক দিক বিবেচনায় তাদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তাই ভারতের যে কোনো কথাকে বাড়তি গুরুত্ব দেয় তারা।

এবার যখন পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে ভারত, তখন সবার মনেই একটা শঙ্কা-এই দাবিও না আবার মেনে নেয় আইসিসি। তবে জাভেদ মিয়াঁদাদ তেমনটা মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘আইসিসি তো আর ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নয় যে তাদের কথা শুনবে!

বিসিসিআইয়ের কার্যকলাপকে ‘নির্বুদ্ধিতা’ ও ‘ছেলেমানুষী’ আখ্যা দিয়ে মিঁয়া বলেন, ‘আইসিসি বিসিসিআইয়ের ছেলেমানুষী প্রস্তাব কখনই মেনে নেবে না। কারণ তাদের সংবিধানেই আছে আইসিসির ইভেন্টে সদস্যদের অংশগ্রহণের অধিকারের কথা।

তিনি আরো বলেন, ভারতের এসব কাপুরুষোচিত আচরণ দেখার সময় আমাদের নেই। আমাদের নিজেদের উন্নতির দিকে নজর দেয়া উচিত। পাকিস্তান সবসময়ই এসব বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছে। কিন্তু ভারতীয়রা জবাব দিয়েছে নেতিবাচকতায়।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here