বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললে নিষিদ্ধ হবে ভারত!

0
252

কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্ব চলছে। এর প্রভাবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের আহবান জানিয়েছেন হরভজন সিং ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের মতো সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কিন্তু এমনটা ঘটলে যে আখেরে ক্ষতি ভারতেরই হবে তা মনে করিয়ে দিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার ও উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী চেতন চৌহান।

চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটি বর্জনের আগে কিছু বিষয় ভাবতে বলছেন চৌহান। তার মতে, এমনটা করলে ভারতের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তছাড়া আইসিসি’র আইনও এটা সমর্থন করেনা। এক্ষেত্রে ভারতকে হয় পয়েন্ট ভাগ করা ছাড়াই ম্যাচ ছাড়তে হবে কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। যদিও হরভজনের মতো আগ্রাসী জবাব দিতে অনেক ভারতীয়ই মরিয়া।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৌহান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া এত সহজ নয়। কারণ, প্রতিটি টুর্নামেন্টের নিজস্ব কিছু নিয়ম আর অনেক অংশগ্রহণকারী দল আছে। আমরা যদি নিজেদের সরিয়ে নেই, তাহলে এর ফলাফলও ভাবতে হবে। শাস্তি হিসেবে জরিমানা এমনকি নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আমি আশা করি সরকার এবং বিসিসিআই বিষয়টা ভেবে দেখবে।’

তবে বিশ্বকাপ থেকেই যদি পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায় তাহলে তো ভারতের আর চিন্তার কিছু থাকবে না। চৌহানও তাই বললেন, ‘বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিক অনেক আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলি না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি বিশ্বকাপ থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায়। পাকিস্তানে বেড়ে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে সারা বিশ্ব চিন্তিত। আইসিসিকে চাপ দিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে ছুড়ে ফেলার জন্য আমাদের চাপ দিতে হবে।’

‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাতে তেমন কিছু যায় আসবে না। কিন্তু ভারত যদি না খেলে, আইসিসি ক্ষতির মুখে পড়বে। আইসিসির মোট স্পন্সরশিপের ৬৫-৭০ ভাগ আসে ভারতের কল্যাণে।’

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা ক্রিকেটে পাকিস্তানকে বয়কটের আহবান জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, ক্রিকেট ম্যাচ কিছুতেই দেশের চেয়ে বড় নয়।

গত মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং বলেন, ‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতের বয়কট করা উচিত। পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললেও বিশ্বকাপ জেতার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ভারত। সরকারের উচিত শক্ত জবাব দেওয়া। আর ক্রিকেট নিয়ে যদি বলি, তারা যতদিন আমাদের এভাবে দেখবে ততদিন তাদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।’

হরভজনের সঙ্গে একমত সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনও। দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী রবী শঙ্কর প্রসাদ তো পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি এমনকি সরকারের প্রতি খোলা আহবান জানিয়ে বলেছেন, বিসিসিআই’র উচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইসিসিকে চাপ দেওয়া।

এদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলার বিষয়ে ‘ফাইনাল কল’ আসুক ভারতের সরকারের পক্ষ থেকেই।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ভারত হতাশ! পাকিস্তান নিয়ে একটি কথাও বললেন না ক্রাউন প্রিন্স


কাশ্মিরের লওয়ামার আত্মঘাতী হামলার আবহে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের ভারত সফর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে দেশটিতে।

বুধবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সামলান (তিনি আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় এমবিএস নামে পরিচিত) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি গভীর সমস্যা। এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে সৌদি আরব সবরকম সাহায্য করবে। ভারতের পাশে আছে সৌদি আরব। একথা বললেও পাকিস্তান, মাসুদ আজহার কিংবা পুলওয়ামার আত্মঘাতী হামলা সম্পর্কে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স কোনো মন্তব্যই করেননি।

এদিকে বুধবার কংগ্রেস সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে জানতে চেয়েছে আগের রাতে সৌদি প্রিন্সকে স্বাগত জানাতে প্রধানমন্ত্রী সব প্রোটোকল ভেঙে নিজেই হাজির হলেন কেন এয়ারপোর্টে?

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সূরযওয়ালা বলেছেন, সৌদি আরবে গিয়েও মোহাম্মদ বিন সালমানকে আলিঙ্গন করেছিলেন মোদিজি। গতকালও বিমানবন্দরে সলমন নামতেই তাকে আবার আলিঙ্গন করলেন। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু দিনের শেষে সৌদি আরব কেন পাকিস্তান সম্পর্কে একটিও মন্তব্য করল না? ভারতে আসার আগেই তিনি পাকিস্তানে গিয়ে ইমরান খানের সঙ্গেও একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে নিজেকে পাকিস্তানেরই রাষ্ট্রদূত হিসাবে বর্ণনা করে প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে সৌদি আরবকে ভারত পাশে পায়নি সন্ত্রাসের প্রশ্নে।

উল্লেখ্য সৌদি প্রিন্সের পাকিস্তান বিরোধিতা পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতির সমীকরণে অবশ্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু বুধবার সরাসরি পাকিস্তান প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, ভারত ও অন্য প্রতিবেশিদের সঙ্গে সন্ত্রাসের প্রশ্নে তারা সবরকমভাবেই পাশে থাকবে। আর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতকে সবরকমভাবে সহায়তা করা হবে। পাকিস্তানের নাম না করেও প্রধানমন্ত্রী মোদি যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট পুলওয়ামার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে নিন্দা করেন। কিন্তু সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বিবৃতিতে বলা হয় তার দেশ প্রয়োজনে গোয়েন্দা বার্তা আদানপ্রদান করবে সন্ত্রাস প্রতিরোধে। এবং সেটা শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গেও।

তিনি বলেছেন, আমাদের সবাইকে একই সঙ্গে লড়াই করতে হবে সন্ত্রাসের মেকাবিলায়। বস্তুত সৌদি আরব ভারতের বহু পুরনো বন্ধু। তাই আরও কড়া কোনো মন্তব্য আশা করেছিল ভারত। যদিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় পুলওয়ামার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন সৌদি প্রিন্সও।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ এবার চীন সীমান্তে ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যু!


কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪০ ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির আরো সৈন্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কাশ্মিরেই ওই ঘটনার পর নিহত হয় আরো ৫ সৈন্য। এবার হিমালচল প্রদেশ। ভয়ঙ্কর বরফ ধসে একাধিক সৈন্যের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার হিমালচল প্রদেশের কিন্নরের ভারত-চীন সীমান্তের কাছে ভয়াবহ বরফ ধসের কবলে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী। জেকে রাইফেলস ইউনিটের একাধিক সৈন্যের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত একজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছেল বাকি পাঁচজন নিখোঁজ।

কিন্নরের ডেপুটি কমিশনার গোপাল চাঁদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সকাল ১১ টা নাগাদ ধস নামে কিন্নরের শিপকালার কাছে। আইটিবিপির একাধিক সৈন্য সেই ধসে আটকে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, সেনাবাহিনী ও আইটিবিপি-র দুটি দল প্যাট্রলিং করছিল। সেই সময় এই ঘটনা ঘটে। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয় রাম ঠাকুর জানিয়েছেন, এখনো পাঁচ সৈন্যর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য রাজ্য সরকার সবরকম সাহায্য করবে। কিন্নরের কমিশনারকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই কিন্নরে ছুটে যায় জেলার প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা। ঘটনাস্থলে উদ্ধারের কাজ করছেন অন্তত ১৫০ সৈন্য।

গত জানুয়ারিতেই এরকমই একই ধসের কবলে পড়ে সেনাবাহিনী। ভোররাতে কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে সেনাবাহিনীর পোস্টের ওপরে আছড়ে পড়ে তুষার ধস। ওই ধসে মৃত্যু হয় এক জওয়ানের।

ভোর চারটে নাগাদ নিয়ন্ত্রণ রেখায় রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সাওজিয়ান পোস্ট ঢাকা পড়ে যায় তুষার ধসে। দুর্ঘটনার পরই উদ্ধারকার্য নামে সেনাবাহিনী। চাপা পড়ে যাওয়া তাঁবু থেকে বের করে আনা হয় আটকে পড়ে সৈন্যদের।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here