পাকিস্তান সীমান্তে ১৪ হাজার বাঙ্কার নির্মাণ করছে ভারত

0
152

জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারতীয়দের আশ্রয়ের জন্য ১৪ হাজার ৪০০টি কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করছে দেশটির সরকার।

বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট (বিএডিপি) প্রকল্পের অধীনে এসব বাঙ্কার নির্মিত হচ্ছে। এজন্য বাঙ্কার তৈরিতে স্থানীয়রা নিজেদের জমি দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৪১৫ কোটি ৭৩ টাকা বরাদ্দ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

পাকিস্তান প্রায়ই সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে এমন অভিযোগ এনে সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এসব কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যাতে জম্মু-কাশ্মিরের বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এসব বাঙ্কার নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারত সরকার।

সেখানে আরও জানানো হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাঙ্কারগুলোর প্রত্যেকটিতে প্রায় দেড় হাজার জন মানুষ থাকতে পারবেন। পুঞ্চ, রাজৌরি, খাটুয়া ও সাম্বা জেলায় স্বতন্ত্র ও কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করা হবে।

গত বুধবার এ প্রকল্পের অধীনে রাজৌরির কালসিয়ান এলাকায় সীমান্তবর্তী স্থানীয় একটি স্কুলের জমিতে প্রথম বাঙ্কারটি তৈরি করা হয়। স্কুলের ছাত্ররা ওই বাঙ্কারটি দেশটির সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাঙ্কার তৈরির জন্য তাদের জমি দিয়েছে।

ভারতীয় সেনা সূত্রে অভিযোগ, ২০১৮ সালে ২ হাজার ৯৩৬ বার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান সেনারা। সে সংঘর্ষে গুলি এবং বোমার আঘাতে ৬১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। এসব হতাহতের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশপাশি সেনা কর্মকর্তা ও কর্মীরাও রয়েছেন।

তাই সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনী ও সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এসব বাঙ্কার তৈরি করছে ভারত।

উৎসঃ ‌‌ইকোনমিক্স টাইম, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুনঃ ‌পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ রাতভর বোমাবাজি, মন্ত্রী ঘেরাও


ভোট মিটেছে, ফল বেড়িয়েছে, সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু শান্তি ফেরেনি। উল্টো আরও অশান্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে পুরো পশ্চিমবঙ্গেই টানটান উত্তেজনা।

হামলা, বোমাবাজি, মারধরের অভিযোগ। একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে দুই শিবিরই। রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়িবহরকেও ছাড় দিচ্ছে না বিজেপি কর্মীরা। শুক্রবার নৈহাটিতে তার গাড়িবহর আটকে দেয় বিজেপির কর্মীরা। পরদিন শনিবারই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় তৃণমূল ঘাঁটি বীরভূম।

জেলার তৃণমূল পার্টি অফিস, জিনাইপুর, গদাধরপুর দাসপাড়ায় রাতভর বোমাবাজি চলে। পোড়ানো হয় তৃণমূলের পতাকা। দলের যুবনেতার বাড়িতে হামলা, ভাংচুরও করা হয় বলেও অভিযোগ করছে তৃণমূল কর্মীরা। ভাংচুর করা হয় গাড়ি, বাইকও। আরও কয়েকজনের বাড়িতেও তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় আহত হয়েছেন ৪ তৃণমূল কর্মী। এক কথায় উত্তেজনা চরমে। মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় তৃণমূল গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তুললেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। একই ঘটনা ঘটেছে কাঁচড়াপাড়াতেও।

শনিবার সকালেই জগদ্দলের কাউগাছি পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্যের সবাই যোগ দিয়ে দিয়েছেন বিজেপিতে। কাল পর্যন্ত যা ছিল জোড়া ফুলের, রাত পোহাতেই সেই পঞ্চায়েত চলে গিয়েছে পদ্মশিবিরের দখলে। এরই মধ্যে জগদ্দলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুকুমার চক্রবর্তীও গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে গিয়েছেন। তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

ঠিক হয় জেলার শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন কাঁচড়াপাড়ার এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, সুজিত বসু, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তৃণমূল নেতা মদন মিত্ররা একে একে আসতে শুরু করেন ওই নেতার বাড়িতে।

খবর পেয়েই রাস্তায় জমায়েত করে বিজেপি। তৃণমূল নেতাদের রাস্তা আটকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে থাকেন তারা। মন্ত্রীদের রাস্তা আটকানোয় লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। আসে র‌্যাফ। কাঁচড়াপাড়ার ব্যস্ততম রাস্তা কেজিআর পথ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

বন্ধ হতে শুরু করে দোকানপাট। দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত খবর, তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা কাঁচড়াপাড়ার ওই নেতার বাড়িতেই রয়েছেন। চলছে বৈঠক। কিছুটা দূরে রাস্তায় রয়েছে বিজেপির জমায়েতও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভাটপাড়া পৌরসভা আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এবার যেতে শুরু করেছে লাগোয়া পঞ্চায়েত।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মুসলিম নিধন করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে অমিত শাহ?


ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তার মন্ত্রিসভায় এবার বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছে। নতুনদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহও। আর তাকে দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অন্যদের নিয়ে খুব বেশি একটা আলোচনা না হলেও নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে ইতিমধ্যে ভারতজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশটিতে বসবাসকারী মুসলিমরা। কারণ, চরম মুসলিম বিদ্বেষী অমিত শাহ ভারতের রাজনীতিতে একজন গডফাদার হিসেবেও পরিচিত। তিনি সুপ্রিম কোর্ট ঘোষিত একজন দাগী আসামি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

অমিত শাহ এক সময় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় তিনি বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষকে হত্যা করেছেন। এছাড়া কথিত সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে সোহরাব উদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী ইশরাত জাহানকে হত্যা করেছিল অমিত শাহ।

লোকসভা নির্বাচনের আগ থেকেই মুসলিম নিধন ও তাড়ানোর মিশন নিয়ে মাঠে নামেন অমিত শাহ। ভারতের জাতীয় নাগরিক তালিকা(এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধন নিয়ে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। দেশটির সত্যিকার নাগরিকদের পরিচয় বের করার নামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা মুসলমানদেরকে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গেও তারা এটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে, মমতা ব্যানার্জি বিজেপির এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন।

অমিত শাহর ভাষায় আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলমানরা হলো অবৈধ বাংলাদেশি। নির্বাচনের সময় একাধিক জনসভায় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দল বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারলে বাঙ্গালী মুসলমানদের ধরে ধরে দেশ থেকে বের দেবো। কোনো অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান ভারতে থাকতে পারবে না।

এখন একটি প্রশ্ন হলো- অমিত শাহতো নরেন্দ্র মোদির অধীনে একজন মন্ত্রী। তিনি চাইলেই কি সব কিছু করতে পারবেন? অমিত শাহ চাইলেও কি মুসলমানদেরকে ভারত থেকে বের করে দিতে পারবেন?

এ প্রশ্নের জবাব হলো- ভারতে দল ও সরকার পরিচালনার পদ্ধতিটা বাংলাদেশের মতো নয়। দেশটিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানরা সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন না। তার দল পরিচালনা করেন। বিগত ১৫ বছরের মধ্যে অমিত শাহই এই রকের্ড ভেঙ্গে মন্ত্রী হলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেও মোদির চেয়ে অমিত শাহের ক্ষমতা অনেক বেশি। কারণ, তিনি হলেন দলীয় প্রধান। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সরকার পরিচারিত হয়। দল না চাইলে মোদিও প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না।

ভারতের মুসলমানরা বলছেন, একজন গডফাদার এবং চরম মুসলিম বিদ্বেষী অমিত শাহকে একটি বিশেষ টার্গেট নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি। তাদের উদ্দেশ্য হলো কথিত নাগরিক তালিকার নামে মুসলমানদের বের করে দিয়ে ভারতকে একটি কট্টরপন্থী হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দেশটির মুসলমানরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, যেসব মুসলিমরা প্রকৃতি নাগিরক তাদের ওপরও গরু জবাইসহ বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাবে বিজেপি। যাতে মুসিলমরা নিজ থেকেই ভারত ছেড়ে চলে যায়।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মোদির শপথের সময় বিজেপির ওয়েবপেজে গরুর মাংস রান্নার রেসিপি


ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নরেন্দ্র মোদি যখন শপথ নিচ্ছিলেন তখন তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির ওয়েব সাইট হ্যাক করে পেজে গরুর মাংস রান্নার ছয়টি রেসিপি পোস্ট করে দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হ্যাক হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিজেপির ওয়েবসাইটে আর প্রবেশ করা যাচ্ছিল না।

নির্বাচনের আগেও বিজেপির ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছিল এবং অনেকদিন ওয়েবসাইটটি ডাউন ছিল।

হ্যাক হওয়ার পর পেজে রেসিপি দেওয়ার পাশাপাশি ‘বিফ ফ্লাই’ ও ‘বিফ কিমার’ ছবি পোস্ট করা হয়। ছবির নিচে লেখা ছিল ‘হ্যাকড বাই ‘শ্যাডো­­ ভি১পি৩আর’।

এছাড়া ‘বিজেপি লিডারশিপ’ পাতার জায়গায় দেখা গেছে ‘বিফ লিডারশিপ’। ওই পাতায় মিটলোফের ছবি ছিল।

মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গরু নিয়ে বিভিন্ন গুজব তুলে ভারতে মুসলমানদের ওপর নানা নিপীড়ন-নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি গরুর মাংস সংরক্ষণ এবং গরু পরিবহনের অভিযোগে গণপিটুনিতে কয়েকজন প্রাণও হারান।

২০১৭ সালের মে মাসে জবাই করার জন্য গরু চুরির চেষ্টা করছিল অভিযোগ তুলে ভারতের আসামে উত্তেজিত জনতা মুসলমান দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

ওই সময় প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের মে মাস থেকে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ভারতে অন্তত ১০ জন মুসলমানকে গোরক্ষার নামে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর থেকে দেশটির মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গোরক্ষার নামে এ হত্যাকাণ্ড এবং নিপীড়ন বন্ধে মোদী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অনিচ্ছুক। ফলে পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতের মুসলমানরা ভাড়াটিয়া নয়: এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি


ভারতের মুসলমানরা ভাড়াটিয়া নয়। সংবিধানে নাগরিক হিসেবে তাদের যে অধিকার দেয়া হয়েছে তা কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। এমনটাই বলেছেন, ভারতীয় রাজনীতিক ও এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

অল ইন্ডিয়া মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের এই নেতা এক সমাবেশে বলেন, ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হবে আমাদের। আমরাই সেটা করবো। মুসলমনরা ভারতে অন্যদের সমান অধিকার ধারণ করে, আমরা ভাড়াটিয়া নই।

তিনি আরো বলেন, বিজেপি যদি মনে করে ৩০০ সিট পেয়ে তারা যা খুশি করবে তাহলে ভুল করবে। আমি অঙ্গীকার করছি, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আজীবন ভারতের জন্য লড়াই করবে। আমি দলিতদের প্রতিও আহ্বান জানাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই যে সংবিধানের শক্তির ওপর আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে। মজলুম মানুষের ইনসাফের জন্য লড়াই করবে। জুলুম নির্মূল করার জন্য লড়বে। অধিকার অর্জনের জন্য লড়বে।’

ওয়াইসি বলেন, ‘সম্মানিত বন্ধুরা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মনে রাখো আমরা মুসলমান। মুসলমান ও ভয় একসঙ্গে থাকতে পারে না। হয় ভয় থাকবে না হয় মুসলমান থাকবে। আমরা এখানেই থাকব ইনশাআল্লাহ্। ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।’

ওয়াইসি শুক্রবার হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদে দেয়া ভাষণে বলেন, ‘যদি প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্দিরে যেতে পারেন তাহলে আমরাও মসজিদে যেতে পারি। যদি প্রধানমন্ত্রী মোদি গুহায় যেয়ে ধ্যান করতে পারেন তাহলে আমরা মুসলিমরাও গর্বের সঙ্গে মসজিদে বসে নামাজ আদায় করতে পারি। দেশের মুসলিমদের ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য ভয় পাওয়া উচিত নয়। কারণ সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। ভারতীয় আইন, সংবিধান আমাদেরকে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে।’

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতের হায়দরাবাদ থেকে এ নিয়ে টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌পার্সটুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ ‌মোদির ভারতে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না মুসলমানদের


শুক্রবার দেড়টার পর, সারাই আলাওর্দী মসজিদের বাইরের লাউডস্পিকার হঠাৎ বেজে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে হাজারেরও বেশি মুসল্লি মাটিতে সিজদায় পড়ে গেলেন। তাদের ঘিরে উঁচু উঁচু ভবনগুলো আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

বলা হচ্ছে ভারতের গুরুগ্রামের কথা। দক্ষিণ দিল্লির ওই উপগ্রহের শহরটিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ঘর বলে আখ্যায়িত করা হয়। হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ভূমিধ্বস বিজয় ঘোষণার পর জামায়াতে হাজির হওয়াদের অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান।-খবর গার্ডিয়ানের

তাদের প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদির নতুন ভারতে কি তাদের কোনো জায়গা হবে? স্থানীয় মুসলমানদের একটি সংস্থার প্রধান হাজি শেহজাদ খান বলেন, এই জায়গাটা এখন আর আমাদের জন্য নিরাপদ না।

মসজিদের পাশেই একটি খোলা মাঠে তিনি বসে ছিলেন। তার মতো বহু মুসলমানের জন্য মোদির এই বিপুল বিজয় একটি বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ দেশটিতে ২০ কোটির বেশি মুসলমান বসবাস করেন।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার ছিল দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তিক্ততায় পূর্ণ। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অস্বীকৃত অভিবাসীদের কথা উল্লেখ করে তাদের ঘূণপোকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এমন এক হিন্দু সন্ন্যাসিনীকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে, পরবর্তীতে তিনি বিজয়ীও হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মসজিদে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যিনি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীকে দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করেন।

এসব সত্ত্বেও কিংবা সম্ভবত এসবের কারণে রেকর্ডসংখ্যক ২৭ কোটি ভারতীয় তাদের ভোট ভারতীয় জনতা পার্টি বা দলটির মিত্রদের দিয়েছে।

ভারতে মুসলমান শিশু বৃদ্ধি নিয়ে বই লিখেছেন নাজিয়া ইরুম। তিনি বলেন, আমরা সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করি, এটা প্রত্যাঘাত হয়ে ফিরে আসবে।

‘আমাদের বিশ্বাস, ২০১৪ সালে মোদির উন্নয়ন এজেন্ডার কারণে তার পক্ষে প্রচুর ভোট পড়েছে। সেগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, লোকজন এখন তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন। এতে মানুষের চোখ খুলে যাবে। লোকজন নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন।’

হিন্দু-মুসলমানদের বিবাদ এবং দুই ধর্মের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ জীবনেও টেকসই হয়ে রয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে গেছে।

গোরক্ষাকারীরা এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে হত্যা করেছেন। তাদের পবিত্র প্রাণীর ক্ষতির মিথ্যা অজুহাত দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ খাত ও কারখানায় কাজ করতে হিন্দুদের মতো কয়েক হাজার অভিবাসী মুসলমানও গুরুগ্রামে গত কয়েক বছরে এসেছেন। এখন সেখানে উত্তেজনা চরমে।

খোলা আকাশের নিচে মুসলমানদের নামাজ আদায় নিয়েও সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যাপক তিক্ত প্রচারের মধ্য দিয়ে গেছে। বসতবাড়ি থেকে মসজিদ বহু দূরে কিংবা মসজিদে জায়গা না ধরায় মুসলমানরা বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন।

হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে নামাজের জায়গা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। শেহজাদ খান বলেন, তারা আমাদের নামাজ পড়তে দেয় না।

স্থানীয় মসজিদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন হিন্দুত্ববাদী একটি গোষ্ঠীর প্রধান রাজিব মিত্তাল। তার প্রচার পৌরসভা পরিকল্পনা আইনের বাইরে নয় বলে তিনি জোর দিয়েছেন। রাজিব মিত্তাল বলেন, আমরা মানুষের প্রার্থনার বিরোধিতা করি না। কিন্তু এটা কেবল মসজিদ কিংবা যে স্থানটি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে করা উচিত।

পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে বিজেপি বলছে, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীতে এখন পর্যন্ত কোনো দাঙ্গা হয়নি। দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে এমন কোনো অপরাধের প্রবণতা দেখানো হয়নি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, তাদের এ তথ্য সামঞ্জস্যহীন ও অনির্ভরযোগ্য।

সমালোচকরা বলছেন, মোদির শাসন উগ্রপন্থীদের শক্তিশালী করছে। দেশটিতে একটা অন্ধ ধর্মপ্রেমের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া দায়মুক্তির কারণে সেটা আরও বিকশিত হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়চের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, দাঙ্গার চেয়েও আরও বড় সংকট হচ্ছে মুসলমানদের নিয়ে নানা সময় বিরূপ মন্তব্য ছোড়া।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একজন মুসলমান সবজি বিক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে। এমন সময় এই ঘটনা ঘটেছে, যখন মুসলমান পরিবারগুলো বলছে, তারা লাঞ্চবক্স বহন করতে ভয় পান। কারণ তারা জানেন না, কখন তাদের বিরুদ্ধে গরুর গোশত বহনের অভিযোগ তোলা হবে।

‘মুসলমানদের কণ্ঠ অবদমিত রাখতে চাপ প্রয়োগের অধিকার আছে বলে ভারতীয়দের মধ্যে ধারনা তৈরি হয়েছে। এটা তারা অনেকটা সহিংসভাবে করেন। সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের রক্ষায় রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কিংবা সুরক্ষা দেবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

মোদির সমর্থক ও বিরোধীরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তার বিজয় বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসিতপূর্ণ দেশটিতে একটি মতাদর্শিক পরিবর্তনকে আরও জোরদার করবে।

অধিকাংশ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্ব্তিাপূর্ণ রূপকল্পের মধ্যের একটি পছন্দ। কিন্তু কংগ্রেস এমপি শশী থারুরের ভাষায় চলতি বছরের নির্বাচন ছিল, ভারতের চেতনার জন্য একটি লড়াই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নারী পুলিশের হিজাবকে অফিসিয়াল মর্যাদা দিল স্কটল্যান্ড


বিভিন্ন দেশে যখন হিজাবের ওপর একে একে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসছে, ঠিক এমন সময় ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড হিজাবকে নারী পুলিশের আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে। খবর সিয়সাত ডেইলির।

দেশটির পুলিশ বাহিনীতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য হিজাবকে অফিসিয়াল ইউনিফর্মের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে মুসলিম নারীরা কর্তব্যরত অবস্থায় হিজাব ব্যবহার করতে পারবেন ইউনিফর্ম হিসেবে।

এতে করে মুসলিম নারীদের মধ্যে পুলিশে যোগদানের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

দেশটির পুলিশ বলছে, এতে করে নারীরা উৎসাহিত হবে। স্কটিশ পুলিশ মুসলিম অ্যাসোশিয়েশন (এসপিএমএ) এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এটিকে তারা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

এমন পদক্ষেপে দেশটির ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করতে উৎসাহী হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌’শ্রী রাম’ না-বলায় ভারতে নামাজ ফেরত যুবককে মারধর


বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফলের পর গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

এতদিন যেভাবে সংখ্যালঘুদের ‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে’ ব্যবহার করা হতো, তা বন্ধ করতে হবে। এ কথা বলার একদিন পরই বিজেপি শাসিত হরিয়ানার গুরুগ্রামে ঘটল একটি অপ্রীতিকর ঘটনা।

মোহাম্মদ বরকত (২৫) নামে এক যুবক দাবি করল, মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরে আসার সময় রাস্তায় চার-পাঁচ লোক তাকে ঘিরে ধরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয় এবং বারবার ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য জোর করে। রাজি না হওয়ার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তার অভিযোগ।

মুসলিম ওই যুবক বলেন, আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরছিলাম। রাস্তায় একজন লোক পথ আটকে আমার মাথার টুপি খুলে ফেলতে বলে। রাজি না হওয়ায় জোর করে মাথা থেকে টুপি ফেলে দিয়ে আমাকে মারতে থাকে, সঙ্গে চলে গালি। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি দাবি করে বরকত আরো বলেন, আরো কয়েকজন এসে আমাকে ‘জয় শ্রী রাম’ উচ্চারণ করতে বলে। আমি বললাম, কেন বলব এ কথা? এটা বলার পরই তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয়। এরপর একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন বরকত।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বরকত বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা, এখন গুরুগ্রামে থাকেন। গুরুগ্রামের ঘটনার দুই দিন আগে মধ্যপ্রদেশেও একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে গোমাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দাবি করে এক মুসলমান দম্পতিসহ চারজনকে বেধড়ক পেটানো হয় ।

উৎসঃ ‌‌এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ ‌‘ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকান, নির্ভয়ে তাদের শান্তিতে বাস করতে দিন’


ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুসলমানরা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আহ্বান জানানো হয়। মুসলমানদের শান্তির সাথে নির্ভয়ে বাস করতে দেয়ার পাশাপাশি তাদের খুন হওয়া আটকাতে এই আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের দুইজন শীর্ষ মুসলিম নেতা। মুসলমানরা যাতে ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে তারা যাতে ভীতসন্ত্রস্ত না হয় সে জন্য ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম নেতা মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।

ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভ‚মিধস জয় লাভ করায় ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিকদের এক দৃষ্টিতে দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রতি তিনি আহ্বান জানান। গত রোববার ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর ওই চিঠি প্রকাশিত হয়। জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না, নির্বাচনে জয়ের পর এমন বক্তব্য দিয়েছেন মোদি। তার এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে চিঠিতে মাওলানা মাদানী বলেন, আপনার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পেরেছি সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আপনি বিশেষ মনোযোগী হবেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার এ কথাগুলো বাস্তবায়িত হবে।

ধর্মীয় উগ্রতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদিকে মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা আশা করছি আপনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। যাতে মুসলমানরা ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে মুসলমানরা ভীতসন্ত্রস্ত না হয়।

উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানীর দৌহিত্র ও সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর ছেলে। তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল কর্মপন্থায় ভারতীয় মুসলমানরা এক অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মাওলানা মাদানীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ভারতের সর্বমহলে স্বীকৃত। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, মত পথ ভুলে এক কাতারে সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা ও উদ্যোগ তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

এদিকে ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি জোর আহবান জানিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা ও এবার লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হওয়া পার্লামেন্ট সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

বিজেপি জামানা নিয়ে মুসলিমদের মিথ্যে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, তার সরকার সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পক্ষপাতী। কিন্তু সোমবার তথাকথিত ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডব নিয়ে মোদির কঠোর সমালোচনা করেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তার প্রশ্ন, মোদি এই ধরনের গোষ্ঠীর তান্ডব রুখতে কী পদক্ষেপ করছেন?

বিজেপি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ঠিক পরেই ফের ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডবের অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। সিওনীতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ এক দম্পতিসহ তিনজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জন ‘গোরক্ষকে’র বিরুদ্ধে। তার পরে আক্রান্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রদেশে গরুর গোশত রাখা বা বিক্রি করা বেআইনি।

ওয়াইসি বলেন, ‘সংবিধানে মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত, পশুর নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন সংখ্যালঘুরা ভয়ে ভয়ে আছেন তাহলে তার জানা উচিত উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে যারা মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরেছিল তারা একটি নির্বাচনী জনসভার প্রথম সারিতে বসেছিল।’ ২০১৫ সালে দাদরিতে বাড়িতে গরুর গোশত রাখার ‘অপরাধে’ মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ১৪ জন গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন জামিন পেয়েছে।

ওয়াইসির প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এই গোষ্ঠীগুলি মুসলিমদের পিটিয়ে খুন করছে। সেই ঘটনার ভিডিও পর্যন্ত তুলে রাখছে। আমাদের চ‚ড়ান্ত অপমান করা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ঘটনাই এর সাম্প্রতিক নজির।’ তার বক্তব্য, ‘সংসদে মুসলিমদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কি বিজেপি উদ্যোগী হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের সংসদ সদস্যের সংখ্যা এখন ৩০০ জনের বেশি। কিন্তু তাদের মধ্যে ক’জন মুসলিম?’

উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হয়েছেন ওয়াইসি।

উৎসঃ ‌‌ আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুনঃ ‌গোমাংস খাওয়ার অধিকার নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় অদিবাসী অধ্যাপক গ্রেফতার

আদিবাসীদের গো-মাংস খাওয়ার অধিকার নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে গ্রেফতার হয়েছেন জিতরাই হাঁসদা নামে এক আদিবাসী অধ্যাপক। একই দায়ে কলেজ থেকেও সাসপেন্ড হয়েছেন ওই অধ্যাপক। বিজেপি শাসিত ঝাড়খণ্ডের সাকচিতে এই ঘটনা ঘটে।

জিতরাইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ফেসবুকে পোস্টটি করেছিলেন ওই অধ্যাপক। তার পরেই তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের হয়। এরমধ্যে তিনি থানায় হাজিরা দিলেও গ্রেফতার করা হয়নি তখন। প্রায় দু’বছর পরে গতকাল তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।

তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জিতরাইয়ের গ্রেফতার রাজনৈতিক স্বার্থেই।
ভোটের আগে আদিবাসীদের চটাতে চায়নি বিজেপি সরকার। ঝাড়খণ্ডে এ বার ১৪টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১২টি-ই পেয়েছে বিজেপি। অনেকেই মনে করছেন, আদিবাসীদের ক্ষুব্ধ করে তুললে এতটা ভাল ফল করতে পারত না বিজেপি।

আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা জিতরাই তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ভারতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গোমাংস খাওয়ার রেওয়াজ বহু দিনের। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। ভারতে গোমাংস ভক্ষণ বিরোধী আইনের বিরোধী তাঁরা।

ফেসবুকে হিন্দু রীতি অনুসরণ করার অনিচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

জিতরাইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, ফেসবুক পোস্টটি করার কিছুদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এরমধ্যে গোপনে জিতরাইকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে এবিভিপি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে তা জানার পরে কোলহান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি লেখে একটি আদিবাসী অধিকার রক্ষা সংস্থা। কোলহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি কলেজের অধ্যাপক জিতরাই। চিঠিতে সংস্থার এক মুখপাত্র লেখেন, ‘আদিবাসীরাও ভারতের নাগরিক। অন্যদের মতো আমাদেরও সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করার অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যদি গো-হত্যায় নিষেধাজ্ঞা আনে, তবে তা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করবে।’

যদিও এই চিঠিতে কাজ হয়নি। কিছু দিনের মাথায় সাসপেন্ড করা হয় হাঁসদাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটা পুরনো ঘটনা। ওই অধ্যাপক বেশ কয়েক মাস নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে গত কাল তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যমুনা, টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতের লোকসভায় মুসলিম সাংসদ ২৭, বিজেপির শূন্য!

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে মোট ২৭ জন মুসলিম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ থেকেই জিতেছেন ১২ জন।

গতবারের তুলনায় সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে ৪ জন। তবে, বিজেপি ৩০৩টি আসন পেলেও ২৭ মুসলিম সাংসদের মধ্যে একজনও বিজেপির টিকিটে জিতে আসেননি। বিজেপি ছয়জন সংখ্যালঘুকে প্রার্থী করলেও তা থেকে কোনো মুসলিম জেতেনি।

এই ২৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা, এআইএমআইএমের আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি, সমাজবাদী পার্টির আজম খান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ৫ মুসলিম প্রার্থী। কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন ৪ জন। সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও ইউনিয়ম মুসলিম লিগ থেকে আছেন ৩ জন করে সাংসদ। এআইএমআইএম এর আছে দুই নির্বাচিত প্রতিনিধি। রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি, শরদ পাওয়ারের এনসিপি, সিপিআইএম ও বদ্রুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ থেকে জিতে সংসদে এসেছেন একজন করে প্রার্থী।

ভোটের ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে চারজন। গত বছর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৩ জন। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পাঁচজন, কংগ্রেস থেকে চারজন, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও ইউনিয়ম মুসলিম লিগ থেকে তিনজন করে মোট ১৩ জন, এআইএমআইএম থেকে দুইজন, রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি, শারদ পাওয়ারের এনসিপি, সিপিআইএম ও বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ থেকে একজন করে মোট ২৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

উৎসঃ ‌‌জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা টাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌মদ,নারী এহেন অপকর্ম নেই যা সৌদি রাজপরিবারে এখন হয় নাঃ যুবরাজের স্ত্রী !


সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে আটক হয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল। এবার তার বিরুদ্ধে উঠল নারী বিক্রি, মদ ও ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ।

আর এই অভিযোগগুলো তুলেছেন তার সাবেক স্ত্রী আমিরা বিনতে আইডেন বিন নায়েফ।

অবশ্য তিনি যুবরাজের কর্মকাণ্ডের কারণে বেশ আগেই তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন।

সম্প্রতি রাজ পরিবারের অন্ধকার দিকের বর্ণনা তুলে ধরে আমিরা বলেন, সৌদি পরিবারকে বাইরে থেকে যতোটা ভদ্র ও ধর্মভীরু বলে মনে হয়, বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো!

তিনি জানান, তার সাবেক স্বামীসহ রাজপরিবারের অনেকেই অর্থ পাচারসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এক কথায় বলতে গেলে এহেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেন না।

তিনি আরও জানান, জেদ্দা শহরকে এরা দাস বাজারে পরিণত করেছেন। সেখানে অল্প বয়সী নারী বিক্রি থেকে শুরু করে মদ, সেক্স পার্টির মতো সব রকম ব্যভিচারই হয়ে থাকে। পুলিশ এসবের ব্যাপারে অবহিত থাকলেও শুধুমাত্র চাকরি হারানোর ভয়ে কোনো উদ্যোগ নেয় না। কেননা, শহরের সব অপরাধের পেছনে সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর সে কারণেই সৌদি পরিবারের পুরুষেরা ব্যভিচারের চূড়ান্ত করে আসছে।

আমিরা সম্প্রতি হেলোউইন পার্টির উদাহরণ তুলে ধরেন। বলেন, সেই পার্টিতে সর্বসাকুল্যে দেড়শ’ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। যাদের ভেতরে কূটনৈতিক কর্মকর্তারাও ছিলেন। সেখানে সেদিন যা হয়েছে তা বাইরের দেশের কোনো নাইট ক্লাবের থেকে আলাদা ছিল না।

সৌদি আরবে মদ নিষিদ্ধ হলেও সেই পার্টিতে তরল পদার্থটির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। সেই ডিজে পার্টিতে ওয়াইন, জুটিদের নাচ, নানান ধরনের পোশাক পরা সবই হয়েছিল।

আমিরা জানান, সৌদি আরবে মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় কালো বাজারে এটির প্রচুর দাম। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সেখানে এক বোতল স্মিরনফ ভদকা কিনতে গেলে প্রায় দেড় হাজার রিয়াল গুনতে হয়। টাকার হিসেবে যা প্রায় ৩৩ হাজার। কখনও কখনও সেসব পার্টিতে আয়োজকেরা আসল মদের বোতলে স্থানীয় মদ ঢুকিয়ে সার্ভ করে থাকে। স্থানীয় সেই সব ওয়াইনকে তারা সিদ্দিকী নামে চেনে।

আমিরা বলেন, সৌদি আরবে দাসপ্রথা এখনও রয়েছে। তবে সেটি গোপনে এবং অন্যভাবে হয়ে থাকে। রাজপরিবারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি সেখানে দাস বিক্রি করে থাকেন। আর এসব দাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আনা হয় শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া থেকে।

যেসব শিশুকে এখানে বিক্রি করা হয় তারা কখনই মালিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও যেতে পারে না। এমনকি এশিয়ার দাসীরা প্রায় ক্ষেত্রেই নিজেদের বন্দি বলেই মনে করেন। সেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের আলাদা করে রাখা হয় এবং তাদের উপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়।

উৎসঃ ‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাইবেলই আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে: খ্রিষ্টান থেকে মুসলিম হওয়া মার্কিন নাগরিক


ইসলামের সৌন্দর্য আমাদের জন্য আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ। অথচ আমরা যথার্থভাবে ইসলাম পালনের মাধ্যমে তা তুলে ধরছি না। যারা ইসলাম সম্পর্কে মিথ্যা ও ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের কাছে এর সৌন্দর্য আর শান্তির অমিয় ফল্গুধারা পৌঁছে দিচ্ছি না। অথচ পৃথিবীতে আজো হাজার হাজার মানুষ এই আলো থেকে বঞ্চিত।

এমন এক মার্কিন নাগরিক ইউশা ইভান্স। বড় হয়েছেন সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে। তিনি এককট্টর মেথডিস্ট (খ্রিষ্টানদের একটি গোষ্ঠী) পরিবারে দাদা-দাদির সাথে থাকতেন।

কৈশোরের শুরুতেই তার বাড়ির কাছেই এক চার্চের কার্যক্রমের সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি শহরে ছোট্ট এক বাইবেল কলেজে ভর্তি হন; উদ্দেশ্য বিশ্বখ্যাত বাইবেল কলেজ ‘বব জোনস ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হওয়া।

তিনি নিয়মিত চার্চে যেতেন এবং সব বক্তব্য খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতেন। তার খুব ইচ্ছে ছিল বাইবেলের টেক্সুয়াল ক্রিটিকস (মূল পান্ডুলিপি নির্ধারণ) হওয়ার।

শেখা শুরু করলেন গ্রিক আর হিব্রু। উদ্যমের এই দিনগুলোতে তারই চার্চের একজন মিনিস্টারের সাথে পড়া শুরু করেন বাইবেল; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

এভাবে, ছয় থেকে সাতবার পড়লেন পুরো বাইবেল। এই পড়াই তার খিস্টধর্মের বিশ্বাসের ভীত নাড়িয়ে দিলো। বাইবেলের বিভিন্ন জায়গায় অসংগতি আর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখতে পেলেন।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর পেলেন ‘এর কিছু মানবিক ত্রুটি আছে। কিন্তু যে এটা বিশ্বাস করে, সে আস্থা রাখে। বিশ্বাস হচ্ছে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।’

তখন তিনি বুঝলেন বাইবেল সরাসরি স্রষ্টার বাণী নয়। এরপর তিনি খিস্টধর্ম ছেড়ে অন্যত্র স্রষ্টার সন্ধান শুরু করেন। সময়কাল ছিল ১৯৯৬ সালের গ্রীস্মকাল।

এরপর তিনি একে একে ইহুদিবাদ, বুদ্ধধর্ম, উইকা, বুশিডো, হিন্দুইজম,নাস্তিক্যবাদ, কনফুসিয়ানিসম থেকে ইসলাম সবকিছুই পড়েন। ইসলাম সম্পর্কে তিনি যে বইটি পড়েন সেটি ছিল সম্পুর্ণ ভুলে ভরা।

যেখানে লেখা ছিল মুসলিমরা আরব, তারা চন্দ্র ঈশ্বরের উপাসনা করে, নারীদের নির্যাতন করে। তাদের সবচেয়ে বড় কাজ অমুসলিম হত্যা করা। এরপর ধর্ম নিয়ে তার উৎসাহ নষ্ট হয়ে গেল। তিনি ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের গতানুগতিক জীবনে জড়িয়ে পড়েন।

হিপ-হপ জীবনধারার পাশাপাশি অপরাধকর্মেও জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুটি ঘটনা তাকে আবার ভাবিয়ে তুলল। এক. একবার মাতাল অবস্থায় তিনি আর তার বন্ধু গাড়িতে ফিরছিলেন আর মারাত্মক এক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বেঁচে গেলেন।

আর পুলিশ অফিসার অবাক হয়ে বললেন “সৃষ্টিকর্তার নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে। দুই. একবার এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে এক সন্ত্রাসী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপলেন অথচ গুলি বের হলো না।

এই যাত্রায়ও প্রাণে বেচে গেলেন। এরপর হঠাৎ একদিন শহরের এক আফ্রো-আমেরিকান মুসলিমের সাথে তার ধর্ম নিয়ে কথা উঠল। তখন সে বলল, ইসলাম নিয়ে তার পড়া বইয়ের কথা। এতে সেই মুসলিম ক্ষিপ্ত হলো আর বলল, ‘আমি মুসলিম কিন্তু আমি তা সঠিকভাবে পালন করি না কিন্তু তুমি শুক্রবার খুতবায় এসো।’

তার কথা মতো ইউশা মসজিদে গেলেও আমন্ত্রিত ব্যক্তির দেখা না পেয়ে অবাক হলেন। কিন্তু মসজিদের এক মিসরীয় মুসলিম তাকে ভিতরে ডেকে নিয়ে যান। ভিতরে ঢুকে তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে যান এবং মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

ইমাম যখন মিম্বারে উঠে আরবিতে খুতবা দিতে শুরু করলেন, ইউশা ভাবল নিশ্চয়ই তাকে মারার কথাই বলছে। ইউশা মনে মনে পালানোর পথ খুঁজছিলেন।

পরক্ষণেই ইমাম যখন এই খুতবার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে শোনালেন ইউশা হতভম্ব হয়ে যান। ভাবতে লাগলেন কতো বেশি উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্যের সাথেই না এদের উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। খুতবার বিষয় ছিল- আল্লাহর ক্ষমা আর তাওবাহ নিয়ে।

তিনি আরো অবাক হন যখন সকলেই নামাজে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এরা সত্যিই স্রষ্টার ইবাদত করছে। এভাবে ইবাদত করেছেন ইব্রাহিম, দাউদ আর ঈসা আলাইহিস সালাম।

জুমআ শেষে ইউশা কুরআনের একখানা কপি ইমামের কাছে চেয়ে নিলেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে কুরআন পড়া শেষ করলেন। অবশেষে ১৯৯৮ সালের এক শীতকালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইউশা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে দাওয়াহ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আর মিশরে বিভিন্ন শিক্ষকের অধীনে পড়াশোনা করেছেন। নিজে দুটি টিভি স্টেশনের ফাউন্ডার ও কো-ফাউন্ডার।

ওয়ান উম্মাহ তার একটি। তিনি শায়খ ওয়ালিদ আল-মেনেসীর অধীনে পড়াশুনা করছেন। কয়েকটি ডিসিপ্লিনে ব্ল্যাক বেল্টপ্রাপ্ত আর মিনেপোলিসে তিনি নিজেই মার্শাল আর্টস শেখান।

উৎসঃ ‌‌বার্তাবাহক

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here