নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অস্ত্র কিনে যাচ্ছে, জানেন কারা ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র দিচ্ছে মিযানমারকে?

0
411

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিপুল অস্ত্র কিনে চলেছে মিয়ানমার। সামরিক শক্তি বাড়াতে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইসরাইল থেকে প্রচুর প্রাণঘাতী অস্ত্র সংগ্রহ করে চলেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও অস্ত্রের বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় ছাড়ও পাচ্ছে মিয়ানমার। এমনই দাবি ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি’র।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সামরিক-বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারে রাখাইনে ছড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা-বিদ্বেষ। ২০১৭ সালের আগস্টে অভিযান জোরদার করার আগের কয়েক মাসের সেনাপ্রচারে সেই বিদ্বেষ জোরালো হয়। এরপর শুরু হয় সেনা-নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিভাবে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মিয়ানমার। দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ত্র কিনতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে না। তারা অস্ত্র কেনা অব্যাহত রেখেছে।

অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করলেও মিয়ানমারের কাছে এখনও অস্ত্র বিক্রি করছে না আমেরিকা। তবে চীন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারকে সমর্থন করে আসছে বিইজিং। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, চীন এখন মিয়ানমারের অস্ত্রের প্রধান উৎস। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ অস্ত্রের আমদানি হয়েছে শুধু চীন থেকেই। এসআইপিআরআই-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গবেষক সিমন উইজেম্যান জানান, সাঁজোয়া যান, ভূমি থেকে আকাশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি, রাডার ও মানববিহীন ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ছিল এর মধ্যে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের অন্যতম উদ্যমী বন্ধু রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগু ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন এবং ৬টি এসইউ-৩০ বিমান বিক্রি নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তিটি ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বলে অনুমান করা হয়। ওই চুক্তির পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এই চুক্তি রোহিঙ্গা সঙ্কটকে তীব্রতর করবে। তবে এই অভিযোগে তাদের কিছু যায় আসে না বলে মন্তব্য করেছিলেন রাশিয়ার একজন মুখপাত্র।

আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে চীনের বিপরীতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ায় ভারতও। মিয়ানমারের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যেও মিয়ানমার সরকারকে পানি বিশুদ্ধকরণ সিস্টেম প্রদান করে ইসরাইল। এর আগে ২০১৫ সালে ইসরাইল সফর করেন জেনারেল মিং অং হ্লায়াং। সেই সময় হলোকস্ট জাদুঘরের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন তিনি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে ইসরাইল নির্মিত ‘সুপার ডিভোরা এমকে-৩’ পেট্রোল বোটের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছিল। একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল : ‘মিয়ানমারের পানিসীমায় সে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। মিয়ানমারের নৌবাহিনীতে স্বাগতম!’
তবে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইসরাইর অভ্যন্তরেই নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে। তাই ২০১৭ সালে একবার অস্ত্র বিক্রি বন্ধও হয়ে গিয়েছিল।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ইসলাম আমাকে বদলে দিয়েছে : ফরাসি ফুটবলার পগবা


ইসলাম এবং নিয়মিত নামাজ পড়া পল পগবাকে বদলে দিয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, তাঁকে আরো ভালো মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে ইসলাম।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পগবা মনে করেন বিশ্বে ইসলামকে ভুলভাবে দেখা হয়। বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের অন্যতম ফুটবলার পগবা সম্প্রতি নিজের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে কথা বলেন গণমাধ্যমে।

পগবা বলেন, ‘সবাই যেভাবে দেখছে— ইসলাম সে রকম না। আমরা গণমাধ্যমে যা শুনি তা ভিন্ন কিছু। ইসলাম খুবই সুন্দর।’

একটা কঠিন সময় গেছে পগবার। তখন থেকেই তিনি ধর্মচর্চায় মন দেন। কিছুদিন আগে হজও করে এসেছেন তিনি।

পগবা বলেন, ‘ইসলাম জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে দিয়েছে। আমার ভেতরে শান্তি এনে দিয়েছে। এটা আমার জীবনে ভালো একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে।’

ফরাসি এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা মুসলমান। আমরা সব সময় কথা বলি। আমি নিজেকেও প্রশ্ন করি। আমি আমার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একবার নামাজ পড়ি।

তারপর বুঝতে পারি অন্য রকম লাগছে। আমার খুব ভালো লাগছিল। তারপর থেকে আমি শুরু করি। নামাজ ইসলামের মূল স্তম্ভ। আপনি ক্ষমা চাইছেন, সবার জন্য দোয়া করছেন। ’

পগবা আরো বলেন, ‘ইসলাম আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমাকে ভালো মানুষে পরিণত করেছে। ইসলাম মানবতাকে শ্রদ্ধা করে।’

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌স্রষ্টার অনুসন্ধান আমাকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছেঃ মার্কিন সংগীতশিল্পী ক্রিস্টিন


নরডিক বংশোদ্ভূত মার্কিন র‌্যাপসংগীত শিল্পী ক্রিস্টিন নিকোলি রিচি ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন খ্যাতির শীর্ষদেশে। গর্ব করে নিজেকে ‘ফার্স্ট লেডি অব নরডিক’ বলতেন রিচি। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই শিল্পী ২০১৪ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবিদাহ রিচি নাম ধারণ করেন এবং তাঁর জীবনযাপনে আসে আমূল পরিবর্তন। পেশাগত জীবনে স্টেজ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গেম সাকাসের সহযোগী পরিচালক। বর্তমানে তিনি একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগিতেই তিনি সময় কাটাতে পছন্দ করেন। শেষ জীবনে সৌদি আরবে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে বলেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো

দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্যাপ্টিস্ট পরিবারে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তবে পরবর্তী জীবনে আমি ছিলাম একজন ধর্মবিমুখ খ্রিস্টান। আমি বিধিবদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতাম। তবে এ কথা বলার সুযোগ নেই, ধর্মের সঙ্গে আমার শিথিল সম্পর্কের কারণে আমার জন্য ইসলাম গ্রহণ সহজ হয়েছে; বরং ভিন্ন একটি কারণে এই সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তা হলো, আমি সারা জীবন মহান স্রষ্টা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ছিলাম। আমি খ্রিস্টধর্মে সেটা খুঁজে পাইনি। কারণ খ্রিস্টধর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন যিশুখ্রিস্ট [ঈসা (আ.)]। স্রষ্টা সম্পর্কে সেখানে সামান্যই আলোচনা হয়ে থাকে। ফলে সব সময় আমার মধ্যে সংশয় কাজ করত এবং ধর্মের ব্যাপারে আমি কখনো অন্তরে আস্থা ও তৃপ্তি খুঁজে পেতাম না। আমি স্রষ্টার সন্ধান করতে লাগলাম, যা আমি খ্রিস্টধর্মে খুঁজে পাইনি। স্রষ্টার অনুপস্থিতির কারণেই আমি কখনো পুরোপুরি ধার্মিক হয়ে উঠতে পারিনি। ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার চিন্তার আমূল পরিবর্তন হলো। আমি দেখলাম, ইসলামের সব কিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন মহান স্রষ্টা আল্লাহ। স্রষ্টার আলোচনা ও বন্দনাই ইসলামের প্রাণসত্তা। তাঁকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা ইসলামে নেই; বরং সব কিছুতে তিনি আবর্তিত। ইসলামে আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পেলাম। ইসলাম গ্রহণ করে যেন আমি স্রষ্টার আশ্রয় পেলাম এবং আমার হৃদয় প্রশান্ত হলো।

আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। আমার আরবি ভাষার একটি ক্লাস ছিল। একদিন আমি ক্যাফেতে বসে আরবি ক্লাসের জন্য হোমওয়ার্ক করছিলাম। একটি ছেলে তখন আমাকে বলল, এটা কি আরবি? আমি তাকে জানালাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারে আমার আরবি কোর্স রয়েছে। সে আমাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিল। আমি তা সাদরে গ্রহণ করলাম। সে আমার সঙ্গে বসল এবং আমাকে সাহায্য করল। সে শেখাল, কিভাবে আরবি বর্ণগুলো উচ্চারণ করতে হয়। বিশুদ্ধভাবে লেখা ও শোনার পদ্ধতিও শেখাল। একদিন সে আমাকে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দিল।

তারা সবাই ছিল সৌদি আরবের নাগরিক। আমি ভাবলাম, এরাই আমাকে প্রকৃতপক্ষে আরবি শিখতে সাহায্য করতে পারে। আরবি শেখা সত্যিই আমার জন্য কঠিন ছিল। এক বছর আমি তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলাম। এ সময় তাদের সঙ্গে ইসলাম বিষয়েও কথা হয়। আমি তাদের আচরণে মুগ্ধ হলাম। কারণ তারা ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমাকে জোর করেনি। আরব যুবকরা আমার মধ্যে ইসলাম ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আমার সামনে ইসলাম উপস্থাপন করে। এমনকি তারা কখনো বলেনি, ইসলাম গ্রহণ না করলে তুমি জাহান্নামে যাবে। তাদের সঙ্গে আমার খোলামেলা আলোচনা হয়। আমি তাদের প্রশ্ন করতাম এবং তারা উত্তর দিত। তারা আমাকে অনুরোধ করত, আমি যেন কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করি। তাদের আলোচনা, কোরআনের ভাষ্য ও আমার অনুসন্ধান আলোর দুয়ার খুলে দেয়। আমি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই।

অনুবাদ : শেখ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ

উৎসঃ ‌‌‌কালের কন্ঠ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here