কলেজছাত্রীকে অপহরণ করল ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন!

0
236

কলেজছাত্রী অপহরণ মামলায় বগুড়ার ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রিপন ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে। রোববার বিকেলে শেরপুর শহরের ধুনট মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিমভরনশাহী গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ করিম লিটুর মেয়ে বগুড়া সরকারি মজিবর রহমান মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী। তাকে একই গ্রামের মৃত গোলাম রহমানের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৪ জুন রাত ৮টায় ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন রিপনসহ ৭-৮ জন ওই ছাত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর বাবা মাসুদ করিম লিটু বাদী হয়ে ওই রাতেই ইকবাল হোসেন রিপনকে প্রধান আসামি করে এজাহারভুক্ত চারজন এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। অপহরণের পর ধুনট উপজেলার চিকাশী গ্রামের সেতুর পাশ থেকে অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ধুনট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কুমার কুন্ড মামলাটি তদন্ত শেষে ইকবাল হোসেন রিপনসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেন রিপন জামিন না নিয়ে ১৮ মার্চ ধুনট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রকাশ্যে শোডাউন ও গণসংযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ওই সময় জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। অভিযুক্ত রিপন জানিয়েছিলেন পরোয়ানার ব্যাপারে তিনি অবগত রয়েছেন। জামিন নেয়ার সময় পাচ্ছেন না। সময় হলে জামিন নিয়ে নেবেন।

শেরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, কলেজছাত্রী অপহরণ মামলায় ধুনট থানার গ্রেফতার পরোয়ানামূলে ইকবাল হোসেন রিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ধুনট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুস সালামের মুক্তিতে বাধা নেই


নাশকতার ছয় মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুস সালামের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ফলে আবদুস সালামের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

পরে সাকিব মাহবুব বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে রাজধানীর পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়। এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনের পর ২৮ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছয় মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন। ফলে তার জামিনে মুক্তিতে বাধা নেই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী লীগ এখন মাফিয়াদের দলে পরিণত হয়েছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদেশে যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে-ততদিন ভোট ডাকাতি ও সমাজে অবিচার-অনাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবেই।

রোববার (১২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। এরকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি কর্দমাক্ত, সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্ত উৎসব চলছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। গুম-খুন-অপহরণই হচ্ছে এদের বানিজ্য। কারণ এরা সুষ্ঠু নির্বাচন ও চিরন্তন গণতন্ত্রের ধারণা নিজেদের মতো জনগণের মন থেকেও মুছে দিতে চায়। আর এজন্য নির্বাচনের দিনের আগের রাতের ভোটকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ৩০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আওয়ামী এমপি-মন্ত্রীরাও মিড নাইট ভোটের গুণকীর্তন করছেন

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতাকে ঘৃনা করে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এত হত্যা, নারী নির্যাতন-শিশু নির্যাতনের খবরে সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকে। এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌জনমনে আপনার নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে উল্লেখ করে তার প্রতিকার চেয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার শনিবার এ চিঠি দেন।

চিঠিতে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের সংসদে শপথগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। পাশাপাশি বিএনপির ৫ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদে না যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করতে জোট নেতাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসবে বলেও চিঠিতে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু এবং জোট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকেও এই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

দুদিন আগে দলের বর্ধিতসভায় ঐক্যফ্রন্টে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এক মাসের আলটিমেটাম দেয়ার পর ফ্রন্টের শরিকদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দিলেন কাদের সিদ্দিকী।

চিঠিতে বলা হয়, ‘জনগণের মনে আপনার (ড. কামাল হোসেন) নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যেসব প্রশ্ন জেগেছে, তার যথাযথ প্রতিকার ও প্রতিবিধান কামনা করছি। তা না হলে আগামী ৯ জুন অথবা পরবর্তী দু’একদিনের মধ্যে প্রয়োজনে আরও ব্যাপক আকারে বৈঠক করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হব’।

এতে ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে আরও বলা হয়, ‘জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গত বছর ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদসহ অন্য যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে আমরা যথাযথ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বর্তমান ভয়াবহ রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মুহূর্তে আপনার পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থরক্ষায় যথাযথ মনে হওয়ায় ৫ নভেম্বর দলের এক বর্ধিতসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছিল। নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফ্রন্টের অনেক কর্মকাণ্ডই স্পষ্ট নয়।

নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোয় ব্যর্থ, প্রহসনের নির্বাচনী নাটক প্রত্যাখ্যান পরবর্তী সময়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মদের এবং এর পরে গণফোরামের মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণ, তাকে গেটআউট বলে বের করে দেয়া, পরবর্তীতে তাকে আবার দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সামনের সারিতে বসানো নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে জবাব দেয়া যাচ্ছে না।

দেশে নারী ধর্ষণ, হত্যা মহামারী আকার ধারণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে এর প্রতিবাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সর্বোপরি বিএনপির একজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা, পরবর্তীতে আরও চারজন শপথ নেয়ায় তাদের স্বাগত জানানো এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ না নেয়া জনমনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে হাজারো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর প্রতিকার ও প্রতিবিধান প্রয়োজন’।

প্রসঙ্গত ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট একাদশ সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারেনি জোটের শরিক বিএনপি ও গণফোরাম। দুটি দলের নির্বাচিত ৮ প্রতিনিধির মধ্যে সাতজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জোটের শরিকদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই প্রধান শরিক বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে পুনর্নির্বাচন দাবি করার নৈতিকভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে জোটের। এই অভিযোগে সোমবার ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি। আরও কয়েকটি দলেরও জোট ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও ভাঙনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দুই জোটের ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ বিএনপির


নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ ও নানা ইস্যুতে মান-অভিমানের কারণে ভাঙনের মুখে বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোট। ইতিমধ্যে ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে বিএনপির দুই দশকের সঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। লেবার পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল জোট ছাড়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। অপর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এমতাবস্থায় ভাঙন ঠেকিয়ে জোটের ঐক্য অটুট রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার ২০-দলীয় জোটের বৈঠক আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০ দলের শরিকদের ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় করতেও নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ। এসবের মধ্য দিয়ে জোট শরিকদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে গত সোমবার ২০ দলের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ হঠাৎ জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলে বিএনপির হাইকমান্ডের টনক নড়ে। পর দিনই ২০ দলের অপর শরিক লেবার পার্টিও ২৩ মের মধ্যে বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দেয়। নতুবা ভিন্ন পথ ধরার হুশিয়ারি দেয় মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন দল। ২০ দলের শরিক আরও কয়েকটি দল বেরিয়ে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়। এসব কারণে ২০ দলের প্রধান শরিক বিএনপির শীর্ষ নেতারা নড়েচড়ে বসেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, ২০-দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২০-দলীয় জোটের উল্লেখযোগ্য শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ শুরু করেন। ফলে জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ জোটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে একটি বিবৃতি দেন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমও ২০-দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখার পক্ষে তার অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

পাশাপাশি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান টেলিফোনে পার্থের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তাকে জোটে ফিরে আসা এবং ২০ দলের আগামী বৈঠকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তখন পার্থ জোটে ফিরতে রাজি না হলেও ২০ দলের বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা দেন।

এ বিষয়ে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানে এবং তার নেতৃত্বে যে ২০-দলীয় জোট গঠিত হয়েছে তা অবশ্যই অটুট থাকবে। বর্তমানে জোট নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি মিথ্যা মামলায় সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে আছেন। তাকে মুক্ত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মান-অভিমান থাকতেই পারে, সেসব ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করব। খুব শিগগির খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে জোটের পক্ষ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পার্থের জোট ছাড়ার ঘোষণায় হঠাৎ করে ২০-দলীয় জোটে ঝড় শুরু হয়। তবে এ ঝড় ঠেকাতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কালক্ষেপণ না করে বেশ তৎপর হয়ে ওঠেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এর ফলে ইতিমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, জাগপা, লেবার পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে সরাসরি অথবা ফোনে যোগাযোগ করেছেন।

শরিকদের ক্ষোভ প্রশমনে আগামীকাল সোমবার ২০-দলীয় জোটের বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। বিকাল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি এ জোটের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেটি ছিল জোটের দ্বিতীয় বৈঠক। দীর্ঘদিন ধরে বৈঠক না ডাকায় জোটের বাধন হালকা হয়ে গেছে বলে মনে করেন নেতারা।

সূত্র জানায়, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিজেপির জোট ত্যাগ এবং আরেক শরিক লেবার পার্টির বিএনপিকে দেয়া আলটিমেটামসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে জোট সংস্কারেরও প্রস্তাব তোলা হতে পারে। জোটের আকার কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

জোট ত্যাগকারী আন্দালিভ রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকেও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয় থেকে আন্দালিভ রহমান পার্থকে ফোন করে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে পার্থ বৈঠকে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্থ বলেন, ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ফোন দেয়া হয়েছে। তবে আমি ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করব না।

তবে আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানও পার্থের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিজেপির বৈঠকে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সোমবারের বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্কাইপিতে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত শরিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট একাদশ সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারেনি জোটের শরিক বিএনপি ও গণফোরাম। দুটি দলের নির্বাচিত ৮ প্রতিনিধির মধ্যে সাতজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জোটের শরিকদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই প্রধান শরিক বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে পুনর্নির্বাচন দাবি করার নৈতিকভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে জোটের। এই অভিযোগে সোমবার ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও ভাঙনের সুরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গণফোরামে ভেঙে আলাদা দল গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে। আবার জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিএনপির সঙ্গ ত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এসব দলের নেতাদের অভিযোগ, জোটসঙ্গী হলেও বিএনপি তাদের না জানিয়ে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে চতুর্মুখী সংকট দানা বেধেছে বিএনপিতে।

‘অসঙ্গতি’ দূর করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ফ্রন্টের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতি ও কিছু প্রশ্নের উত্তর আগামী এক মাসের মধ্যে সুরাহা না হলে ৮ জুন ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

দুদিন আগে দলের বর্ধিতসভায় ঐক্যফ্রন্টে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এক মাসের আলটিমেটাম দেয়ার পর শনিবার ফ্রন্টের শরিকদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন কাদের সিদ্দিকী।

চিঠিতে বলা হয়, ‘জনগণের মনে আপনার (ড. কামাল হোসেন) নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যেসব প্রশ্ন জেগেছে, তার যথাযথ প্রতিকার ও প্রতিবিধান কামনা করছি। তা না হলে আগামী ৯ জুন অথবা পরবর্তী দু’একদিনের মধ্যে প্রয়োজনে আরও ব্যাপক আকারে বৈঠক করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হব’।

নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোয় ব্যর্থ, প্রহসনের নির্বাচনী নাটক প্রত্যাখ্যান পরবর্তী সময়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মদের এবং এর পরে গণফোরামের মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণ, তাকে গেটআউট বলে বের করে দেয়া, পরবর্তীতে তাকে আবার দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সামনের সারিতে বসানো নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে জবাব দেয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, শপথ ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে চলছে মনকষাকষি। শরিকদের না জানিয়ে বিএনপির ৫ সদস্য শপথ নেয়ার বিষয়টি মানতে পারছে না দলগুলো।আ স ম আবদুর রবের জাসদ, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যও এ বিষয়ে নাখোশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি শপথের বিষয়ে এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অথচ আমাদের কিছুই বলেনি। অন্তত একটা বৈঠক সঙ্গে সঙ্গে ডাকা দরকার ছিল। সেখানে তারা জানাতে পারত যে বিশেষ অবস্থায় শপথের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরে দেব। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। বিএনপিকে এখন খোলাসা করতে হবে যে এই কারণে আমরা শপথ নিয়েছি, যাতে তাদের কথা শুনে অন্যদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়। একই অবস্থা গণফোরামের ক্ষেত্রেও। তারাও ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে পথ চলতে হলে বিষয়টি শরিকদের জানাবেন বলে আশা করি।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, যে পদ্ধতিতে বিএনপি সংসদে গেছে, সেভাবে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং শরিকদের জানিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে পারত। কিন্তু এ ব্যাপারে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ফলে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক কয়েকটি দলের অভ্যন্তরে বিরোধ বা অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডের উচিত দল এবং জোটের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব দ্রুত ঘুচিয়ে ফেলা। এ লক্ষ্যে শিগগির তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি খোলাসা করা উচিত।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, শেষ মুহূর্তে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে দল এবং জোটের শরিকদের কেউ কেউ কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। কেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি সেই প্রশ্নও তুলছেন। কোন পরিস্থিতিতে কেন শপথের সিদ্ধান্ত সেই বিষয়ে দলীয় নেতা ও জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করব। দ্রুত তাদের সঙ্গে বৈঠকের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ ইস্যুতে যাতে দল ও জোটের মধ্যে কোনো বিভেদ বা মনোমালিন্য সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমরা সতর্ক আছি।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমানঃ আ হ ম মুস্তফা কামাল


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্র্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে।

আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল।

‘সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।’

‘শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।’

‘আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি…। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসি…। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।’

‘দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আ্ইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত

তবে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমেছে বলে যে তথ্য বেসরকারি সংস্থাগুলো দিচ্ছে তা ঠিক আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। ১০ থেকে এখন ৯ এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হলেই যে প্রবৃদ্ধি কমবে এটা ঠিক নয়।’

‘আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশই ইনফরমাল ইকনোমি। এই ইনফরমাল ইকনোমি জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে।’

‘তবে ট্যাক্স বেশ ভালোই বেড়েছে’ তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেটার লক্ষ্য ধরা আছে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। হয়তো লক্ষ্যের পুরোটা আদায় হবে না। কিন্তু কাছাকাছি তো হবে।

‘হিসাব করলে দেখা যাবে, এই কয় বছরে কর আদায়ের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।’

নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন কার‌্যকর করা হবে।

“এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।”

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরেছি! বিএনপি কেনো ভরতে পারল না?: মোশাররফ


স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাকি ভোটের আগের রাতের আধারে ভোট কেটে বাক্স ভরে জিতেছি! আমরা যদি সত্যি সত্যিই ভোট কেটে বাক্স ভরেই জিতে থাকি তাহলে বিএনপি কেনো রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরতে পারলো না? আমরা কি তাদের বাঁধা দিয়েছিলাম? আমরা না হয় বাক্স ভরলাম, তোমাদের বাক্স খালি কেনো? তোমাদের ভোট গেলো কোথায়?

শনিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বদরপুরে অবস্থিত আফসানা মঞ্জিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হয়। বিএনপি জনগণের পাশে ছিলো না বলেই তারা ভোট পায়নি। অপরদিকে, শেখ হাসিনা একজন জনদরদি নেত্রী বলেই তাকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৩৬ ডলার। এখন সেটি বেড়ে ২১শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেত্রী যিনি নির্দিষ্ট দিনতারিখ ঠিক করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন। শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এটি সম্ভব।

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এবং একটি দলের সভানেত্রী। অথচ তিনি দুর্নীতির দায়ে আজ জেল খাটছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, যাদের আসলে পরিবারে বোঝা মনে হতো কিন্তু তারা যে মোটেও পরিবারের বোঝা নন বরং সমাজেরই অংশ; এটি বোঝানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বয়স্ক, বিধবা ও অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাতা উপহার স্বরূপ আপনাদের দিয়েছেন।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম আলী আহসান, উপ সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা, বিধবা ভাতাভোগী রাশেদা বেগম ও বয়স্ক ভাতাভোগী শেখ আব্দুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭১ জন ভাতাভোগীর মাঝে ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’ টাকা ভাতা বাবদ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাপ্রাপ্তগণ প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা করে এবং অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে ৭শ’ টাকা করে ভাতা পান। বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা এবং ২ হাজার ৬শ’ ৭৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ বাবদ তাদের মাঝে এ বছর ৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ। 😡

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা সাঈদী দায়ীঃ শাহরিয়ার কবির


একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী দায়ী।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, সাঈদীর কোন বিচার হল না। তার ওয়াজে সুস্পষ্ট ভাবে হুমায়ন আজাদের বিষয়ে কুৎসা করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা তার ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি একটি কথা খোলামেলা ভাবেই বলতে চাই, আইএস, আলকায়দা, জামায়াতে ইসলাম সব একই সূত্রে গাঁথা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা যদি চুনোপুঁটি না হতাম তবে আমাদেরকে যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমরা কি দেখতে পাই শেখ হাসিনাকে কেউ কোন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে অজপাড়া গ্রাম থেকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

অথচ আমাদের মত চুনোপুঁটি মানুষদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। আমরাও তো মানুষ? সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছাড়ানোর অপচেষ্টায় এসব হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মত যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক কথা বলে বিশেষ করে মামুন, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল ছাড়াও এমন ১৫০ লোককে হত্যার হুমকি প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌bangladeshtoday

আরও পড়ুনঃ ‌২০২০ সাল মুজিব বর্ষ, ‘২১ সাল ডিজিটাল বর্ষ এবং ‘২২ সাল হাসিনা বর্ষ: পলক


সিংড়ার মাটিতে আগামী ২০২০ সালে শেখ মুজিব বর্ষ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামী ২০২২ সালে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাড জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাধারণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরপর ৩টি বর্ষ উদযাপনের এই ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখকে আহ্বায়ক করে তৃণমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করার আহবান জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। আর দেশ স্বাধীন না হলে আমরা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে এভাবে দেশ সেবার সুযোগ পেতাম না। তাই আমরা আগামী ২০২০ সালে সিংড়ার মাটিতে জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং তার পরের বছর মুজিক কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপন করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই ৩ টি বর্ষ উদযাপনের জন্য আমাদের সবার প্রস্তুত থাকতে হবে ‘

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কোন অনৈক্য নেই। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আজকের এই রমজান মাসের প্রখর গরমে তৃনমুল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিই তাই প্রমাণ করে। আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আগে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা উলামা লীগের সভাপতি মাও আব্দুর শাকুর, মাও আব্দুর বারি রশিদী, মাওলানা সুমনসহ আরও অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ ‌অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!


শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here