রাখাইনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত সিল বাংলাদেশের

0
226

জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক বিশেষ দূত ও জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. মোমেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে রোহিঙ্গাদের পর এবার বৌদ্ধ ও অন্যান্য উপজাতি রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসছে। তবে আমরা সীমান্ত সিল করে দিয়েছি। রাখাইনের আর কোনো অধিবাসী বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না।

নিপীড়তদের আশ্রয় দিতে সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ আসবে কি না জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, আমরা আগেই সীমান্ত খুলে ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি। এখন অন্যরা তাদের সীমান্ত খুলুক। তিনি বলেন, আমরা আর রোহিঙ্গাদের রাখতে পারব না। মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। তবে প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সঙ্কট নিরসনে রাখাইন রাজ্যে সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে জানিয়েছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোলিকে বলেছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট জিইয়ে থাকলে বিশ্বের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে, সবার জন্য অমঙ্গল হবে। সবার স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি হুমকি।

গত কয়েক দিনে রাখাইনের কিছু বৌদ্ধ ও উপজাতি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অনেককে সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে আরাকান আর্মি দমনে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে রাখাইনে নতুন করে অস্থিতিশীল হওয়ায় বড় ধরনের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ।

গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইনকে তলব করে ঢাকার উদ্বেগের কথা জানান। মহাপরিচালক অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে অনুরোধ করেন। একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি তার সরকারকে জানানোর আশ্বাস দেন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ দৃষ্টিহীন কেরামত আলী গাড়ি পোড়ানোর আসামিঃ জামিন নিতে গেলেন হাইকোর্টে


৭০ বছরের কেরামত আলী সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনের লনের গাছতলায় বসে হাঁপাচ্ছিলেন। বসেছিলেন কুঁজো হয়ে, লাঠিতে ভর করে। একটু পর পর কাঁপছিলেন। গাঢ় কালো রঙের চশমা পরা শ্মশ্রুমণ্ডিত কেরামত চোখে দেখেন না। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না। বয়সের ভারে শরীরও ভেঙেছে। কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে। কুঁচকে গেছে শরীরের চামড়া।

জানা গেল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ১০ নম্বর খেরুয়াজানি ইউনিয়নের বন্ধ গোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কেরামতের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আগাম জামিন নিতে গতকাল গতকাল সোমবার তিনিসহ হাইকোর্টে এসেছিলেন এ মামলায় নাম থাকা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

কেরামত জানান, তিনি বিএনপির সমর্থক হলেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঘর থেকে বের হওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। মামলায় তার নাম আসায় বিস্মিত অন্যরাও।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা থানায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা (নম্বর- ২৪) হয়। এ মামলায় কেরামতকে ৩৮ নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তাগাছা পৌরসভার আলাউদ্দিন কেন্দ্রীয় পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নৌকা সমর্থক একজনের মোটসাইকেলে আগুন দিয়েছেন কেরামত ও অন্য আসামিরা। এছাড়া তারা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে একজন গণমাধ্যমকর্মী স্বজনদের কথা জানতে চাইলেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন কেরামত আলী। পরে জানান, দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় আগে ১৮ বছরের শরীফুল ইসলাম কিডনিজনিত জটিলতায় মারা যায়। কয়েক বছর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ফরিদুলও মারা যায়। চার বছর আগে তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন স্ত্রী আসিয়া খাতুনও।

সেই থেকেই তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। পুত্র-স্ত্রী শোকে কাতর কেরামতকে এখন দেখার কেউ নেই। দরিদ্র দুই ভাই গিয়াসউদ্দিন ও আবদুল মজিদ অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ভাইকে নিজের শেষ সম্বল গ্রামের বাড়ির পাঁচ শতক জমি দান করে দিয়েছেন কেরামত। বিনিময়ে তাকে তিনবেলা খাবার ও পরনের কাপড় দেওয়া হয়।

চোখে ছানি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একপ্রকার অন্ধের জীবনযাপন করছেন কেরামত। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলেও সেই চোখের আলো পুরোপুরি ফেরেনি। দুই হাত দূরের জিনিসও দেখতে পান না। এখন লাঠি ও অন্যের সাহায্যই ভরসা কেরামতের। তিনি জানান, মামলার কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে নির্বাচনের আগে একমাস তাকে আত্মীয়ের বাড়িসহ এখানে-সেখানে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

কেরামত আলী বলেন, ‘বাবারে দুনিয়াতে আমার কেউ নাই। আমারে দেখার কেউ নাই। আমি রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিও না। কিন্তু আমারে ক্যান এই মামলায় জড়াইলো জানি না। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

তার সঙ্গে আসা দূর সম্পর্কের ভাতিজা সাইফুল আজিজ (তিনিও একই মামলার আসামি) বলেন, ‘নির্বাচনের আগে করা গায়েবি মামলায় এই বৃদ্ধ লোকটাকেও আসামি করা হয়েছে। এই বয়সে অসমর্থ শরীর নিয়ে তিনি নাকি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এই বয়সে একজন বৃদ্ধ লোককে এভাবে হয়রানি করতে দেখে আমাদের নিজেদের খারাপ লাগছে। আজ (গতকাল) আগাম জামিন পেলেও এই মামলার হয়রানি থেকে সহসাই তিনি রেহাই পাবেন এমন মনে হচ্ছে না। কেননা জামিনের মেয়াদ শেষে আবারও তাকে আদালতে আসতে হবে।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘কেরামত আলী অসুস্থ চোখে দেখেন না এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তদন্তে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উৎসঃ ‌বাংলাদেশ টুডে

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ আর প্রতিবাদ নয় মাঠের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : আ স ম আবদুর রব


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আসম আবদুর রব বলেছেন, ‘আজকে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ করছি। আর প্রতিবাদ নয়, জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে, মাঠের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যফ্রন্টকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাতীয় ঐক্যফ্রট। বিকেল ৩টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় তা শেষ হয়।

আসম আবদুর রব বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ছিল-আছে-থাকবে। লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াসহ সবার মুক্তি দিতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে প্রহসন ও গণতন্ত্র হত্যা এবং মানুষ নিহত-আহত হয়েছেন। মানুষ কথা বলতে পারে না। সন্তান প্রসবের আগের রাতেই হত্যা করা হয়েছে। মানে ৩০ নয় ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ডাকাতি করে উৎসব চলছে। এই উৎসবে শকুনেরা বসেছে। সব প্রতিষ্ঠান দল ও ব্যক্তির অধীনে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র আজ ধ্বংস। সব লুট হয়ে গেছে। যে দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনিয়ম করে সে দেশের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ থাকে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ৩০ ডিসেম্নর ভোট ডাকাতির সব উলঙ্গ করা হবে। বাংলাদেশ আজ রাষ্ট্রে নেই প্রজাতন্ত্রও নেই।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমরা নির্বাচন বাতিল চেয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে দাবি করেছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেমন কুকুর বিড়াল ভোট কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু দেশের মানুষ কখনোই কারো অন্যায় মেনে নেয় নি। আবারো মানবে না।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পুলিশ, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। মেগা উন্নয়নের নামে তারা মেগা দুর্নীতি করছে। এই হলো বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নমুনা! এটাই একটা স্বৈরাচারী সরকারের চরিত্র। ভোট দখলের পর সরকার দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করেছে। এভাবে তো গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকট নিরসন হবে না। অথচ এজন্য কিন্তু দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। সরকারকে একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্ট ও ঐক্যফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের সমম্বয়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘জোরালো আন্দোলন শুরু হলে কিন্তু বুঝতে পারবেন। সুতরাং সময় থাকতে নতুন নির্বাচন দিন। আমরা শান্তিপূর্ণ থাকতে চাই।’

গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘নির্লজ্জ সরকার। বিশ্বের কোথাও এধরনের সরকার আর নেই। ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারকে ছাড়িয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারি এক কান কাটা গেছিল। এবার তার পূর্ণতা পেয়েছে। তারা নোবেল পাক!! রোহিঙ্গা ডেকে আনলো কিন্তু তাদেরকে ফেরত পাঠানোর মরদ নেই। ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের লাঞ্চ বানিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে নর্তন-কীর্তন করছে। তাদের মনে অনেক জ্বালা আর মুখে কাষ্ঠ হাসি। এদের আমলে বিচার বিভাগ, ভোটাধিকার সব কিছু অর্থহীন। মিথ্যা মামলায় নিপীড়তদের কাঁন্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে। ওই কাঁন্নায় সরকারের পতন হবে।’

গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অবস্থা মর্মান্তিক। ৩০ ডিসেম্বর বিনা জানাজায় দেশের মানুষের ভোটাধিকারকে কবর দেয়া হয়েছে। এখন চলছে পুরস্কার প্রদানের উৎস। অপেক্ষা করেন সামনে দেখবেন প্রশাসন ও পুলিশের রঙ্গ-লীলা দেখার জন্য।’

আবদুস সালামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সেলিমা রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কাজী আবুল বাশার, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবিবুল ইসলাম হাবীব, এম এ আউয়াল খান, শামীমুর রহমান শামীম, শিরিন আক্তার, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের শহিদুল্লাহ কায়সার, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ছাত্রদল করায় ৩ চিকিৎসককে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ


ছাত্রদল করায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন, খুলনার ফুলতলা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে রাফসান জনি আবির, একই এলাকার কাজী আহসানুল হকের ছেলে কাজী আবু তালহা ও যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান শিমুল।

আটক চিকিৎসকদের মধ্যে আবির মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, শিমুল সহসভাপতি এবং তালহা সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে ক্যাম্পাস সূত্র। তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ৪৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস ও সজল পান্ডের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মী আবির, শিমুল ও তালহার ওপর হামলা চালান। এ সময় পিটিয়ে তাদের ৩ জনকে আহত করেন। পরে পুলিশে সোপর্দ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সজল পান্ডে বলেন, শিমুল একসময় শিবিরের রাজনীতি করলেও এখন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। এছাড়া বিএনপির আমলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল আটক ওই তিনজন। তারা দির্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল। দুপুরে তাদের ক্যাম্পাসে পেয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের রোষাণল থেকে বাঁচাতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!


একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here