অনলাইনে জামায়াতের পাশাপাশি হঠাৎ সরব বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টঃ শতাধিক ভিডিও ভাইরাল

0
515

গত কয়েক দিনে তরুণদের আকৃষ্ট করতে প্রায় শতাধিক ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে বিগত প্রায় এক দশক ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে হঠাৎই চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জামায়াত- শিবির সব সময় অনলাইনে একটিভ থাকলেও গত কয়েক দিনে তরুণদের আকৃষ্ট করতে প্রায় শতাধিক ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। আসনভিত্তিক অথবা সারাদেশজুড়ে বুস্ট করা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভিডিওর অনেকগুলো এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে তার ভিউয়ার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে কোটির ঘরে পেঁৗছেছে।

ভিডিওঃ  ‘আপনার বিবেক যাকে বলে তাকেই ভোট দিন । তবে অবশ্যই আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মাঠের রাজনীতির মতোই বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষমতাসীনদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল বিএনপি। কিন্তু জাতীয় নিবার্চনকে সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হওয়ার চেষ্টা ছিল দলটির তরুণ নেতাদের মধ্যে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হলে আকষর্ণীয় ছবি, ভিডিও, ঘটনার সত্যতা, সৃজনশীলতাসহ আরো অনেক কিছু থাকতে হয়। এগুলো না থাকায় তরুণদের মধ্যে বিএনপি এবং তার জোট সঙ্গীরা ফেসবুক, টুইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না। তবে গত কয়েক দিনে তথ্যবহুল, আকষর্ণীয়, গঠনমূলক সমালোচনাসমৃদ্ধ ভিডিও ছাড়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এতে বিগত ১০ বছরে সরকারের বিভিন্ন ব্যথর্তা এবং উচ্ছৃঙ্খল কমীের্দর অপকমের্র ফিরিস্তি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে যেমন তুলে ধরা হয়েছে তেমনই দেখা গেছে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিবাির্চত করলে জনগণ কী ধরনের সুবিধা পাবে তার প্রচার করতে। আর বতর্মান সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসলে কী হতে পারে তার তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হচ্ছে এসব ভিডিওতে।

ভিডিওঃ  ‘ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের উদাত্ত আহ্বান’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি ভিডিও। যেখানে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বেশকিছু গঠনমূলক তথ্য তুলে ধরেছেন। তারুণ্য চাইলে কী করতে পারে সে বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। এ ভিডিওটি এখন পযর্ন্ত কয়েক লাখ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রæপ ও আইডিতে শেয়ার করা এ ভিডিওটির প্রায় প্রতিটি শেয়ারেই হয়েছে লাখ লাখ ভিউ। এছাড়া ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও ভিডিওটি তরুণরা ব্যাপকভাবে শেয়ার করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়ে থাকে তাদের মধ্য থেকেও অনেককে বিএনপি মহাসচিবের এ ভিডিওটি পোস্ট দিতে দেখা গেছে।

ভিডিওঃ  ‘আমরা সবাই। আমাদের কোন ভয় নেইঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর পরের অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি ভিডিও এবং ছাত্রদলসহ তরুণদের দিয়ে করানো আরো কিছু ভিডিও।

ড. কামাল হোসেনের ভিডিওটিতেও দেশের তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে কথা বলতে শোনা গেছে। আর তরুণদের করা কয়েকটি ভিডিও এখন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সবর্ত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর একটিতে দেখা গেছে, নিরাপদ সড়ক, মাদক, সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, নারী নিযার্তন, ব্যাংক লুট, সরকারের প্রচার করা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দিকের সমালোচনা। জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূণর্ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর করা বিতকির্ত মন্তব্যও রয়েছে এ ভিডিওতে। যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রী জাতীয় গুরুত্বপূণর্ বিষয়কে হালকাভাবে উপস্থাপন করে তাকে ‘কোনো ব্যাপার না’ বলে কটাক্ষ করছে। ভিডিওর শেষে ওই তরুণরা একসঙ্গে বলছেন, ‘আমরা তরুণ দেখিয়ে দেবো দেশটা কারো বাপের না’।

ভিডিওঃ  ‘জেগে ওঠো বাঙালী! তোমার কান্ডারী প্রস্তুত!: ড, কামাল হোসেন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এসব ভিডিওর বাইরে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের কিছু বক্তব্যও দলটির নেতাকমীর্রা ব্যাপকভাবে শেয়ার করছে। যদিও তার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন প্রাথীর্র ভিডিও ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রাথীর্ শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রাথীর্ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, ঢাকা- ১৭ আসনে বিজেপির আন্দলিব রহমান পাথর্, আফরোজা আব্বাসসহ বেশকিছু প্রাথীর্র বক্তব্য এবং বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও ব্যাপক সংখ্যায় ভিউ হয়েছে।

এসব ভিডিওর পাশাপাশি নিবার্চনী প্রচারণার সময় সহিংসতায় বিএনপির নেতাদের আহত হওয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সবর্ত্রই রয়েছে সরকার তথা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা।

ভিডিওঃ  ‘আমরা তরুণ দেখিয়ে দিব, দেশটা কারো বাপের না!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি ছিল রাজপথের মতোই কোণঠাসা। ফলে ফেসবুকসহ অন্যত্র তরুণদের দলটি এক প্রকার আকৃষ্টই করতে পারত না। রাজপথে এখন অতীতের চেয়েও কোণঠাসা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তৎপরতার মাধ্যমে অনলাইন জগতে বেশ নড়েচড়ে বসেছে দলটি।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক এবং টুইটারের পক্ষ থেকে কয়েকটি আইডি বন্ধ করে দেয়া এবং এসব আইডি থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হতো বলে দাবি করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা বেশ চাপের মুখে পড়েছে। আর এটিও বিএনপি এবং তাদের জোটের অনলাইন জগতে তৎপরতা এবং গ্রহণযোগ্যতা দুটিই বাড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র রুবেল হাসান যায়যায়দিনকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে বিএনপির পক্ষে যায় এমন বেশ কিছু আকষর্ণীয় ভিডিও ছাড়া হয়েছে। ভিডিওগুলো ভালো লেগেছে। আগে বিরোধীদের কোনো ভালো মানের ভিডিওই দেখতাম না। ক্ষমতাসীনরাই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ফেসবুক এবং টুইটার ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা সরকার পক্ষকে কিছুটা হলেও অনলাইন জগতে বিপাকে ফেলেছে। গত কয়েকদিনে অনেক মানুষকে দেখছি যারা আগে ক্ষমতাসীনদের পোস্টের নিচে প্রশংসামূলক কমেন্ট করতেন, তারা এখন সমালোচনা করছেন। মাধ্যম দুটি যে অভিযোগ তুলেছে তা নিয়েও অনলাইনে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যা তাদের তৎপরতাকে কিছুটা সীমিত করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আর এটাকে বিরোধীরা একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।’

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রাথীর্ আব্দুল মান্নান। তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, ‘কোনো দিন ভাবিনি আমাকে অভিনেতাদের মতো অভিনয় করতে হবে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর যেহেতু আমাকে নামতেই দেয়া হচ্ছে না তাই বাধ্য হয়ে কয়েকটি ভিডিও করেছি। এগুলো আমার নিবার্চনী এলাকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুস্ট করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। কয়েকটি আমার লোকেরা করেছে। আমি শুধু এক বা দুই লাইন কথা বলেছি। কিন্তু কয়েকটিতে পুরোটা জুড়েই আমাকে কাজ করতে হয়েছে। পরে দেখেছি এসব ভিডিও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। আমাদের এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু সরকারি বাধার কারণে আমরা এ পথে হঁাটতে বাধ্য হয়েছি।’

সুত্রঃ ‌যায়যায়দিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here