ওমরাহ যাত্রীর টিকিট নিয়ে কেলেঙ্কারি

0
264

ওমরাহযাত্রীর টিকিট সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। এয়ারলাইনগুলো প্রতি ওমরাহ টিকিটে ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দাম বাড়িয়েছে। ওমরাহ টিকিট সঙ্কটের সুযোগে কোনো কোনো এয়ারলাইন্স টিকিট প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে ওমরাহযাত্রীদের দুভোঁগ দিন দিন বাড়ছে। ওমরাহ এজেন্সীগুলো ওমরাহযাত্রীদের টিকিট বুকিংয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এ যাবত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার ওমরাহযাত্রী সউদী আরবে গেছেন। আর পাকিস্তান থেকে ওমরাহ পালন করতে সউদী আরবে গেছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী। বিগত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে কম সংখ্যক ওমরাহযাত্রী সউদী আরবে গিয়েছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত কোনো ওমরাহ টিকিট নেই বলে জানা গেছে। বিমান গত ১ ফেব্রæয়ারী থেকে ওমরাহ টিকিট প্রতি ৩ হাজার টাকা বাড়িয়েছে। বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে কোনো ফ্লাইট নেই। বিমান শুধু ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ওমরাহযাত্রী পরিবহন করছে। বিমানের ওমরাহ টিকিট নেই বলেও প্রচার করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বিমানের ওমরাহ টিকিট ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

সাউদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ওমরাহযাত্রীদের টিকিটের দাম বিনা কারণে ৩ হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসেও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিট ৫২ হাজার টাকা থেকে ৫৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাউদিয়া এয়ারলাইন্স গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ওমরাহযাত্রীর টিকিট ৫৭ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। গত জানুয়ারি মাসেও এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিট ৪৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে এমিরেটস এয়ালাইন্স ওমরাহ টিকিট ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।

গালফ এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিটও ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বর্ষা ওভারসীজের স্বত্বাধিকারী মো. বোরহানুল ইসলাম জানান, গালফ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ওমরাহযাত্রীর টিকিট ৪২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।

কী কারণে ওমরাহ টিকিট ১০ হাজার টাকা করে বাড়তি নেয়া হচ্ছে তার সঠিক উত্তর গালফ এয়ারলাইন্স দিতে পারেনি বলেও বোরহানুল ইসলাম উল্লেখ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওমরাহযাত্রীরা প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হচ্ছে না। তার পরেও কোনো উপায় না দেখে ৩৩ জন ওমরাহযাত্রীর জনপ্রতি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে ৫২ হাজার টাকা করে ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখিত ৩৩ জন ওমরাহযাত্রী আগামী ১০ ফেব্রæয়ারি জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাদের ওমরাহ পালন শেষে আগামী ২৩ ফেব্রæয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আবাবিল হজ গ্রæপের চেয়ারম্যান মুফতী মো. আবু ইউসুফ বলেন, ওমরাহযাত্রীদের টিকিট সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ওমরাহ টিকিটের সঙ্কট সৃষ্টি করে টিকিট প্রতি ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। ওমরাহ টিকিটের জন্য এয়ারলাইনগুলোয় ধরনা দিয়ে এজেন্সী মালিকরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি ওমরাহ টিকিট সঙ্কট দ্রæত নিরসনের লক্ষ্যে বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে বিমানের ওমরাহ ফ্লাইট চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে ওমরাহ ফ্লাইট চালু না করায় বিমান প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মুফতী আবু ইউসুফ উল্লেখ করেন।

রাজশাহী ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান ওমরাহ টিকিট সঙ্কট প্রসঙ্গে বলেন, ওমরাযাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনগুলো ওমরাহ টিকিটের দাম দেদারসে বাড়াচ্ছে। এতে ওমরাহযাত্রীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি ওমরাহ টিকিট সঙ্কট নিরসন এবং টিকিটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে দ্রæত কার্যকরি উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ আবারও ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদা নিল ছাত্রলীগের ৪ নেতা


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে শিবির আখ্যা দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা তিনমাস আগের। এবার এক শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের সেই নেতা শাফিউর শাফিসহ ছাত্রলীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি চাওর হয়।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, সহ-সম্পাদক আরমান কায়সার আবির, শফিউর সাফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল ওয়াসী জীম।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যায় আবির, জীম ও সফি ইমরানকে বৃত্তের সঙ্গে দেখা করতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে বিশ হাজার টাকা দাবি করে বৃত্ত। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও পুলিশে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

পরে সেখান থেকে ইমরান চলে আসার পর সফি, আবির ও জীম বৃত্তকে টাকা দেয়ার জন্য বারবার চাপ দেয়। একপর্যায়ে সে দুই হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠায় এবং বাকি টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে বৃত্ত তাকে মারধর করেন। পরে ইমরান তার কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে দশ হাজার টাকা বৃত্তের হাতে দেন।

তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি-ইমরানের সঙ্গে তার এক বন্ধুর ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলা মিমাংসা করার জন্য ইমরানকে ডেকে কথা বলা হয়েছে কিন্তু মারধর ও চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শাফিউর শাফির বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর হস্তক্ষেপে টাকা ফিরে পায় ওই শিক্ষার্থী।

আবারও একই ঘটনার জন্ম দেয়ার বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে আমরা ওই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ রেলের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে মরতে বললেন রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেন


ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে রেল সচিবের অদ্ভুত আচরণের শিকার হলেন বেসরকারি চ্যানেল সময় টিভির প্রতিবেদক নাজমুস সালেহী। সচিব ওই সাংবাদিকের অভিযোগ আমলে না নিয়ে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন ‘আত্মহত্যা করার’। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

বুধবার এক প্রতিবেদনে সময় টিভি জানায়, ঢাকা-কোলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা প্রতিটি চেয়ার আসনের জন্য নিজেদের অজান্তেই বাড়তি দিচ্ছেন ৬৮ টাকা। আর টিকিটের গায়ে উল্লেখিত মূলভাড়ার হিসেব না দিয়ে, বাড়তি টাকাকেই দেখানো হচ্ছে আসল ভাড়া হিসেবে। এতে না বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন ভারত-বাংলাদেশে চলাচলকারী এ ট্রেনের যাত্রীরা।

অতিরিক্ত আদায় করা টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, তা টিকিটেও উল্লেখ নেই, আবার ওই টাকা কোথায় জমা হচ্ছে সে বিষয়েও জানাতে পারেননি রেল কর্মকর্তারা। কেবিন আর চেয়ার এই দুই ক্যাটাগরিতে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে কমলাপুর রেলস্টেশন। কেবিন প্রতি আসন ৩ হাজার ৪ টাকা আর চেয়ার প্রতি আসন ২ হাজার পাঁচশ টাকা।

ভিডিওঃ  ‘রেলের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে মরতে বললেন রেল সচিব’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

চেয়ার আসনের টিকিটের গায়ে লেখা হিসেব থেকে দেখা যায়, ভাড়া ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ টাকা, ভ্যাট বাবদ ২৫২ টাকা আর ভ্রমণ কর বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। উল্লেখিত এই তিন খাতের যোগফল ২ হাজার চারশ ৩২ টাকা হলেও টিকিটেই লেখা আছে ২৫০০ টাকা। বাড়তি ৬৮ টাকা খেয়াল না করেই গুনে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, এই বাড়তি টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েও তার কোনো সদুত্তর তারা পাচ্ছেন না। বাড়তি টাকা নেয়ার ব্যাপারে কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা কিছুই বলতে পারছেন না।

কমলাপুর রেলস্টেশন টিকিট বুকিং সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে রেল ভবনে আলোচনা করলে ভাল হয়। বিষয়টা আসলে কী হইছে এটা ওনারা ভাল বলতে পারবে।’

ভিডিওঃ  ‘রেলের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে আত্মহত্যা করতে বললেন রেল সচিব’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

রেলওয়ে সূত্র মতে, সপ্তাহে চারদিন ঢাকা-কোলকাতা যাত্রী বহন করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। মৈত্রী ট্রেনে থাকে ৪৫৬ জন যাত্রী। যার মধ্যে কেবিনের জন্য বরাদ্দ ১৪৪টি আসন আর বাকি ৩১২ জনই চেয়ারের। সেই হিসেবে প্রতি মাসে চেয়ারের যাত্রী ৪ হাজার ৯৯২ জন। আর বছরে ৫৯ হাজার ৯০৪ জন। প্রতি আসনে ৬৮ টাকা বেশি হলে বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

বিপুল পরিমাণ এই টাকা কোন খাতে আদায় করা হচ্ছে কিংবা তা জমা হচ্ছে কোথায় জানতে চাওয়া হলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি রেলের ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক মাহবুবুর রহমান ও মার্কেটিং বিভাগের উপ-পরিচালক কালিকান্ত ঘোষ।

সবশেষে সময় টিভির প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন রেলসচিব সচিব মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। এ বিষয়ে ওই প্রতিবেদকের বক্তব্য শুনেই রেগে ওঠেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘এই বিষয়ে আপনার এত উৎসাহ কেন? যে লোকটা জানতে চাচ্ছে সে নিয়মিত কলকাতা যায়। সে জানতে চাইলে আমরা বলে দেব। কারণ এই জন্য আমাদের কাছে একটা ব্যাখ্যা আছে। তবে আপনাকে আমরা কেন ব্যাখ্যা দিবো। আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে! আপনি তো যাত্রীরা না।’

সচিব পরে ডেকে পাঠান রেলের অপারেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মিয়া জাহানকে। তার কাছেও মেলেনি কোনো ব্যাখ্যা। কিন্তু পরের দিন মিয়া জাহান কৌশলে সময় টিভিকে এড়িয়ে যান।

আর এ বিষয়টি পুনরায় জানতে গেলে রেল সচিব ক্যামেরা ছাড়া তার কক্ষে ঢোকার অনুমতি দিয়ে এই প্রতিবেদকে আত্মহত্যার পরামর্শ দেন।

বলেন, ‘আপনি এখন আত্মহত্যা করেন। একটা স্টেটমেন্ট লিখে যান যে, রেলের লোকেরা আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে না এ মর্মে ঘোষণা দিলাম যে তারা কথা না বলার কারণে আমি আত্মহত্যা করলাম।’

এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। বলেন, ‘এখানে যদি অনিয়ম থাকে অবশ্যই দূর করব আমরা। আর যদি দেখা যায় আমাদের নিয়ম মতো আছে, তাহলে আর কিছু করতে হবে না।’

রেলপথ মন্ত্রী আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

উৎসঃ ‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়ঃ চড়েন হাসপাতালের গাড়িতে


তিনি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। চড়েন হাসপাতালের গাড়িতে, থাকেন মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে নিজের আলিশান ফ্ল্যাটে। নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে দিয়েছেন তিনি। একেবারে শূন্য থেকে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর নাম আবু সায়েম মোহাম্মদ এমদাদুল হক সাদেক। বর্তমানে কাজ করছেন শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স (এনআইএনএস) হাসপাতালে। মাত্র ৮ বছরের চাকরি জীবনেই কোটিপতি বনে যাওয়ার এমন ম্যাজিক দেখিয়েছেন তিনি। তবে তার পেছনে রয়েছেন প্রভাবশালী মামা। অভিযোগ রয়েছে, মামার খুঁটির জোরেই তিনি বেপরোয়া।

তোয়াক্কা করেন না হাসপাতালের সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকেও। এ নিয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে মুখ খোলেন না কেউ।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে নিউরোলজি বিশেষায়িত হাসপাতাল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট নিউরো সায়েন্স চালু হয়। এর আগে এটি একটি প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হতো। পরিচালক একজন হিসাবরক্ষক, একজন প্রজেক্ট এসিস্ট্যান্ট, একজন পিয়ন ও একজন আয়াসহ ৫-৬ জন ওই প্রজেক্টের অধীনে কাজ করতেন। তবে হিসাবরক্ষক আবু সায়েম মোহাম্মদ এমদাদুল সাদেক ছিলেন প্রজেক্টের সর্বেসর্বা।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাদেকের ভাগ্যোন্নয়ন শুরু হয়। ওই সময় তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলন করেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে পছন্দের কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেন। এর বিনিময়ে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। নিজ এলাকা গাইবান্ধার সাঘাটায় বিঘার পর বিঘা জমি ক্রয় করেন। বোন জামাইকে এলাকায় পাট ও তেলের ব্যবসায় নামান। কিনে ফেলেন ট্রাক। যেখানে একটি টিনের চালা ছিল, সেখানে তোলেন পাকা দালান। মাত্র ৬ হাজার টাকার প্রজেক্ট কর্মচারী হয়ে ওঠেন কোটিপতি।

২০১২ সালে প্রজেক্ট শেষ হয়ে রাজস্বে আসে। যেহেতু সাদেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ, তাই নিয়ম ভেঙে চাকরিবিধি তৈরি করা হয়। প্রকল্পের চাকরিজীবীদের বয়স শিথিল করে মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে অ্যাকাউন্টস্‌ অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার দু’টি পদ সৃষ্টি করা হয়। সাদেককে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ পদটি ২য় শ্রেণির, যা নিয়োগ হয় পিএসসি’র মাধ্যমে। তাই বেতন স্কেল কমিয়ে করা হয় ৩য় শ্রেণির। এতে নিয়োগ চলে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে। এরপরে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাদেক। তার গ্রামের কমপক্ষে ৫০ জনকে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেন। এ ছাড়া সরকারি জেলা কোটা ভেঙে ১০-১২ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয় তার এলাকা থেকেই। মূলত হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদেকের রয়েছে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের মতো জায়গায় ১৪৫০ বর্গফুটের দু’টি ফ্ল্যাট। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। রাজধানীর আগারগাঁয়ে কয়েকজন মিলে তৈরি করছেন ১০ তলা একটি ভবন। ব্যাংকে রয়েছে এফডিআর। বউয়ের নামে ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫০ লাখ টাকার এফডিআর। ছোট ভাইয়ের নামেও একইভাবে ব্যাংকে রয়েছে এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র। বউ আর মেয়ের নামে নিজ গ্রামে ক্রয় করেছেন কয়েক একর জমি। রাজশাহীতে রয়েছে কয়েক একরের আম বাগান।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, নামমাত্র মেরামত দেখিয়ে তিনি হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। বিভিন্ন অর্থবছরের প্রজেক্ট থেকে কেনা ভারী মেশিনগুলোর ফাইল তিনি কাউকে দেন না। সেগুলো রেখেছেন তার নিজ গ্রামের নিয়োগকৃত লোকের কাছে। অন্য কেউ চাইলেও সেগুলো পান না। অনেক ফাইল অডিট করিয়ে গায়েব করে ফেলেছেন। মেশিন মেরামত বিভাগেও বসানো হয়েছে তার নিজ গ্রামের লোক। কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সেখান থেকে তুলে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ।

বর্তমানে বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে তার রয়েছে মালিকানাধীন সম্পর্ক। নামসর্বস্ব কোম্পানির কাছ থেকে প্রডাক্ট কিনে বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেন।

সূত্র জানায়, সরকারি গাড়ির বরাদ্দ দেন তিনি নিজেই। সরকারি কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা গাড়ি না পেলেও তার বাসার লোকজন, আত্মীয়স্বজন এসব গাড়ি ব্যবহার করেন নিয়মিত। এসব গাড়ির তেল ও জেনারেটরের তেলও বরাদ্দ দেন তিনি। ফলে এখানেও রয়েছে তার দুর্নীতির বিশাল ক্ষেত্র। ব্যবহার না করেও ব্যবহার দেখিয়ে তিনি এবং তার সহযোগী ইকবাল প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা তুলে নেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল প্রজেক্টের অনেক জিনিসপত্র তার বাসায় ব্যবহার করেন। এরমধ্যে রয়েছে ফ্রিজ, মাইক্রো ওভেন, এসি, ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ভিডিও ক্যামেরা, রয়েছে হাসপাতালের স্টিলের ফার্নিচারও। যেগুলো ট্রাকে করে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এগুলো তিনি মেশিনের সঙ্গে টেন্ডারে যোগ করে দিতেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহের পর সুযোগ বুঝে নিজের লোক দিয়ে বাসায় নিয়ে যান। এ ছাড়া হাসপাতালের চেয়ার, টেবিল, আলমারি তার বাসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালে তার বিশ্বস্ত কিছু লোকজনকে ম্যানেজ করে তিনি এসব জিনিস বাসায় নিয়ে গেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাউচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, আরএফকিউ পদ্ধতিতে কোটেশন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ লাখ, এলটিএম পদ্ধতিতে জরুরি কিন্তু নিবন্ধিত কোম্পানিদের মধ্যে থেকে কোটেশন বিজ্ঞপ্তির টেন্ডার দিয়ে নিম্ন দরদাতার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ এবং তার বেশি মূল্যের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত টেন্ডার দিয়ে হাসপাতালের মালামাল ক্রয় করার নিয়ম। কিন্তু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও যথাযথ নিয়ম মানা হয় না।

একটি মাত্র কোম্পানিকে দিয়ে এমএসআর সামগ্রী এবং ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে দুই কোটি টাকার উপরে। কেনাকাটায় নামে-বেনামে কোম্পানি তৈরি করে ক্রয় করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার মালামাল। এলটিএম-এর মাধ্যমে নিবন্ধিত কোম্পানির কাছ থেকে কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয়ের বিধান থাকলেও এনআইএনএস হাসপাতাল আজও পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধিত করেনি। বিনা টেন্ডারে প্যাডসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কোম্পানির প্যাড ব্যবহার করে কেনাকাটা করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নন ইডিসিএল ওষুধ। এমনকি টেন্ডারের মাধ্যমে ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নামমাত্র মূল্যে পয়সার হিসাবে যেসব ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে, তা বিনা টেন্ডারে কেনা হয়েছে কয়েকগুণ বেশি দামে।

হাসপাতালের এ সিন্ডিকেটটি গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ফার্নিচার ক্রয় করে। টেন্ডারে সম্পূর্ণ কাঠের ফার্নিচার ক্রয়ের কথা থাকলেও হাসপাতালে সরবরাহ করা হয় বোর্ডের। এসব বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসপাতালের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইতিপূর্বে নামে-বেনামে একাধিক চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেসব অভিযোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে আবু সায়েম মোহাম্মদ এমদাদুল হক সাদেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার অফিসের ল্যান্ড ফোনেও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, সাদেক যদি কোনো দুর্নীতি করে থাকে তবে তা দুদককে জানান। তারাই খুঁজে বের করবে তার এত সম্পদ কোথা থেকে এসেছে। তিনি আরো বলেন, তার কারণে যারা দুর্নীতি করতে পারে না, তারাই হয়তো আপনাকে তথ্য দিয়েছেন। সাদেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, সে অনেকের চেয়ে ভালো। তবে তার সম্পদের কথা দুদককে বলেন। তারা অনুসন্ধান করবে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কুমিরদের এত টাকা!


তাদের কেউ তৃতীয় কেউ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। বেতনের টাকায় যাদের কোনোমতে জীবন ধারণের কথা। অথচ তারা একেক জন যেন টাকার কুমির। আছে আলিশান বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি। নামে-বেনামে আছে হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে হাজার কোটি টাকার

সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠলেও এখনো তারা কর্মক্ষেত্রে বহাল। শুধু তাদের বদলি করা হয়েছে আগের কর্মস্থল থেকে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা- কর্মচারীর দুর্নীতির তথ্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ পদের কর্মচারী আবজাল হোসেনের সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফাঁস হয় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য। মাত্র ১২শ’ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা আবজাল গত দুই যুগে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। তার ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের এতই সম্পদ যে, দুদক কর্মকর্তারা মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া আবজাল দীর্ঘদিন কর্মরত থাকলেও তার স্ত্রী ২০০৯ সালে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দম্পতির নামে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কেই ৪টি পাঁচতলা বাড়ি ও একটি প্লট রয়েছে।

১১ নম্বর সড়কের ১৬, ৪৭, ৬২ ও ৬৬ নম্বর বাড়িটি তাদের নামে। সড়কের ৪৯ নম্বর প্লটটিও তাদের। মিরপুর পল্লবীর কালশীর ডি-ব্লকে ৬ শতাংশ জমির একটি, মেরুল বাড্ডায় আছে আরো একটি প্লট। মানিকদি এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছেন। ঢাকার দক্ষিণখানে আছে ১২ শতাংশ জায়গায় দোতলা বাড়ি। আবজালের নিজ জেলা ফরিদপুর শহরে টেপাখোলা লেকপাড়ে ফরিদের স’মিলের পাশে নিজে কিনেছেন ১২ শতাংশ জমি। ওই জমির প্রায় পাশাপাশি টেপাখোলায় ওই এলাকার কমিশনার জলিল শেখের আবাসন প্রকল্পে ৬ শতাংশ করে নিজে প্লট কিনেছেন দুটি। ফরিদপুরে ওইসব ভূ-সম্পদ ছাড়াও শহরের গোপালপুর এলাকার বনলতা সিনেমা হলের পাশে মাস্টার কলোনিতে ১৫ শতাংশ জায়গায় একটি একতলা বাড়ি ও ভাড়ায়চালিত ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক এই আবজাল। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় আবজালের বাবা-মা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়দের নামে ২০টিসহ সারা দেশে তাদের প্রায় শতাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ২ একর জমি, অস্ট্রেলিয়ায় ট্রাভেল এজেন্সি, ব্যবসা-বাড়ি, কানাডায় কেসিনোর মালিকানা-ফার্ম হাউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে হোটেল রয়েছে তার। অ্যাকাউন্টস অফিসার থাকা অবস্থায় আবজাল ব্যবহার করেছেন লেক্সাস গাড়ি। যা বাংলাদেশের মন্ত্রী ও সচিব পদের কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন। আবজাল দম্পতি নানা কাজের জন্য বছরে ২০ থেকে ২৫ বার দেশের বাইরে ভ্রমণ করেন বিজনেস ক্লাসের টিকিটে।

এদিকে রাজধানীর মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (হিসাবরক্ষক) লিয়াকত হোসেন ও তার স্ত্রী লাকি আক্তার চৌধুরীর নামে রয়েছে শত কোটি টাকার সম্পদ। গত ১৫ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন লিয়াকত। জানা গেছে তিনি সেই টাকার কুমির আবজাল হোসেনেরই ভাই। ২০০৩ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের হিসাব সহকারী পদে চাকরিতে যোগদান করেন লিয়াকত হোসেন। সে হিসাবে গত ১৫ বছর ধরে চাকরি করছেন তিনি। এই ১৫ বছরেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যান তিনি। ৩১শে জানুয়ারি সম্পদের হিসাবের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ। শহরের টেপাখোলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় স্ত্রী লাকির নামে রয়েছে একটি আলিশান বাড়ি। টেপাখোলার ফরিদাবাদে ‘মাহি মাহাদ ভিলা’ নামে রয়েছে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। এই বাড়িতে বসবাস করছেন জুয়েলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শহরতলীর বায়তুল আমান এলাকায় পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট রয়েছে স্ত্রীর নামে। নর্থ-চ্যানেল গোলডাঙ্গীর চরে এল অ্যান্ড এমএম নামে রয়েছে তার একটি ইটভাটা। বড় বোন নাসরিন আক্তারের নামে সিঅ্যান্ডবি ঘাটের ওপারে নাজিরপুরে এঅ্যান্ডআর ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা রয়েছে। এ ছাড়া সিঅ্যান্ডবি ঘাটের বাজারে রয়েছে ১৭ শতাংশ জমিতে দোতলা ভবন। এ ছাড়া শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুরে ২৪ কাঠা জমিতে রয়েছে তার বাগান বাড়ি। শহরতলীর আদমপুর এলাকার বেরহমপুর মৌজায় ১৭ বিঘা জমি রয়েছে স্ত্রীর নামে। তার ছোট কার্গো জাহাজ রয়েছে ১৬টি, তবে এসব জাহাজ শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নামে। এ ছাড়া পারিবারিকভাবে ব্যবহারের জন্য রয়েছে আধুনিক মডেলের তিনটি প্রাইভেটকার।

লিয়াকত ছাড়াও তার ভাই আবজালের এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে তাদের আরেক ভাই। তিনি ফরিদপুর টিভি হাসপাতালের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছেন আবজালেরই আরো তিন শ্যালক। এরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক রকিবুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী বুলবুল ইসলাম এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিস সহকারী শরিফুল ইসলাম। ৩১শে জানুয়ারি দিনভর তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি করে আবজাল হোসেন ও তার পাঁচ সহযোগী ব্যাপক সম্পদের মালিক হয়েছে। দেশে-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর এসব সম্পত্তির অনুসন্ধানেও নেমেছে দুদক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে ২৩ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় বদলি করে দিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী প্রধান মীর রায়হান আলীও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এরই মধ্যে দুদকের সুপারিশের ভিত্তিতে বদলি করা হয়েছে তিনিসহ একই অধিদপ্তরের ২৩ কর্মকর্তাকে। এই দপ্তরেই টানা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত এই ব্যক্তি ঢাকাতেই গড়েছেন বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে জমা রয়েছে রায়হানের শত কোটি টাকা। এসব অবৈধ সম্পদ থাকার বিষয়টি একেবারেই অস্বীকার করেন তিনি। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, আমি জীবনভর সৎ পথে উপার্জন করেছি। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। নির্ভেজাল মানুষ। দুদকের সুপারিশে বদলি করা হয়েছে কেন জানতে চাইলে রায়হান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। শুধু বদলির নোটিশ পেয়েছি। আর কিছু আমাকে জানানো হয়নি। টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি বাজেট বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান। দুদক সূত্রে জানা যায়, বাজেট বিভাগের এই কর্মকর্তা ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে গত ১৪ই জানুয়ারি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের পর নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ডা. আনিসুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমি বাজেট শাখায় কাজ করি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বাজেট পত্রে স্বাক্ষর করি। যে কাজটার জন্য বলা হয়েছে টেন্ডার জালিয়াতিতে জড়িত, আমি তো টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত না। বাজেটটা এখান থেকে কীভাবে ডিসপাস (ছাড়) হয়েছে, সে বিষয়ে আমাকে দুদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। তাহলে কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জড়িত এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রমাণিত না হওয়া ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। এসময় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলীকে বরিশালে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসানকে রাঙ্গামাটি, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়ি, প্রধান সহকারী সাজেদুল করিমকে সিরাজগঞ্জ এবং উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমানকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাইফুল ইসলামকে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ফয়জুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রধান সহকারী মাহফুজুল হককে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন কার্যালয়, কম্পিউটার অপারেটর আজমল খানকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুসকে ভোলার চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নুরুল হককে জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গৌস আহমেদকে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদকে কুড়িগ্রামের চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরীকে নেত্রকোনার বারহাট্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, অফিস সহকারী মো. মাসুমকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেনকে নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস, বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. রাহাত খানকে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস, উচ্চমান সহকারী মো. জুয়েলকে কক্সবাজারের মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানকে শেরপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়, স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলামকে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here