ওসি মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সীমান্তে সতর্কতা জারি

0
153

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকার জন্য আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি যেন ভারতে পালিয়ে না যেতে পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বিভিন্ন চেকপোস্ট ও ইমিগ্রেশনে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল বাশার জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ওসি মোয়াজ্জেম যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে না যেতে পারে সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পেয়েছি। তবে কোনো চিঠি তারা পাননি বলে জানান।

এদিকে হিলি ইমিগ্রেশনের ওসি ফিরোজ কবির সাংবাদিকদের জানান, ‘সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরই পুলিশের হেডকোর্য়াটার থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে ওসি মোয়াজ্জেমের পাসপোর্ট নম্বর দেয়া হয়েছে। তিনি যাতে ভারতে যেতে না পারেন সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।

কুমিল্লা স্থলবন্দর পুলিশের এসআই নকুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের বিষয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব ইমিগ্রেশন পুলিশের মতো আমরাও বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কুমিল্লা স্থলবন্দর এলাকা দিয়ে ওসি মোয়াজ্জেমকে দেশত্যাগ করার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এদিকে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। যদিও সেই ভিডিও তার মোবাইল থেকে চুরি করেছে এমন অভিযোগ এনে সময় টিভির ফেনীর স্থানীয় রিপোর্টার আতিয়ার হাওলাদার সজলের বিরুদ্ধে গত ১৪ মে সোনাগাজী মডেল থানায় মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে জিডি করেছিলেন। পরে সজলও তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি জিডি করেছিলেন।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ১০এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন আদালত।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানে মঞ্জুর মোরশেদ


পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে এবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ।

বুধবার সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান।

ঘুষগ্রহণ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর এই নিয়োগ দেয়া হলো।

খন্দকার এনামুল বাছির ২৩ মে কমিশনে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এতে বলা হয়, ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদ ডিআইজি মিজানের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজের নামে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৯৬ লাখ ৯২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

এছাড়া তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে মিজানের সম্পদ রয়েছে ৯৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার। আর ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানের নামে রয়েছে তার ১ কোটি টাকার সম্পদ।

সব মিলিয়ে দলিল মূল্যে ডিআইজি মিজানের সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং ব্যয় পাওয়া গেছে ৮৫ লাখ ১২ হাজার টাকার।

আয়-ব্যয় বাদ দিয়ে ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকার।

প্রসঙ্গত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দায়মুক্তি দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার চুক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ড দিয়ে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে এই টাকা দেন তিনি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দাঁতের চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে নেয়া হয়েছে ডেন্টাল ইউনিটে


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার দাঁতের পরীক্ষার জন্য তাকে কেবিন ব্লক থেকে দন্ত বিভাগে নেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকে ডেন্টাল ইউনিটে আনা হয়। পরে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চতুর্থ তলায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম জানান, খালেদা জিয়ার দাঁত পরীক্ষা করা হবে। পরে তাকে আবারও কেবিনে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুধবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তাকে দন্ত বিভাগে নেয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোগী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা খাটছেন খালেদা জিয়া। ৭৪ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে এখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।

বিএসএমএমইউতে ভর্তির পর গত ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এ বোর্ডের প্রধান হলেন ডা. জিলন মিঞা। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. তানজিমা পারভিন, ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহামুদ। এ ছাড়া ডা. শামীম আহমেদ ও ডা. মামুন মেডিকেল বোর্ডকে সহযোগিতা করছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক ঈদুল ফিতরের সপ্তাহখানেক আগে জানিয়েছিলেন, মুখে জিহ্বায় ঘা হওয়ায় খালেদা জিয়ার খেতে সমস্যা হচ্ছিল। তবে তা অনেকটাই সেরে গেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, দাঁতের সমস্যার কারণেও ঘা হতে পারে। প্রয়োজনে বিষয়টি তারা পরীক্ষা করে দেখবেন।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হয়। সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, সুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে আর পুরনো কারাগারে ফেরানো হবে না। তার জন্য কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! (ভিডিও সহ)


শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদে যোগদানের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার এক বক্তব্যেই মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিন শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে রুমিন বলেন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি, যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’- বলেন তিনি।

এই পর্যন্ত বলার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলে বলেন, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, উনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের… নিজেও শপথ নিয়ে অবৈধ বলায় ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, তার বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসংসদীয় কিছু পাওয়া যায় তাহলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকেই) দুর্নীতিবাজদের বসবাস!


অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদেরকে খোঁজে বের করা। মোট কথা, দুর্নীতিবাজদের ধরা, লুটে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।

কিন্তু, এক পর্যায়ে এসে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরই এখন বসবাস করছে বড় বড় দুর্নীতিবাজ। এখানে বসেই তারা নিজেরা অবাধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকে তারা ছেড়ে দিচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুর্নীতিবাজদের কাছে তারা অফিসের গোপন নথিও পাচার করছে।

অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ায় দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন দুদকের পরিচালক এনামুল খন্দকার বাছির। এই ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তাদের হওয়া কথোপকথনও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এই ঘুষ নেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। দেশের সর্বত্র এখন এটা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুদক পরিচালক বাছিরের ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে তখনই ফাঁস হলো দুদকের আরেক কেলেংকারি। বাংলাদেশে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত হলো শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানের দুর্নীতিবাজদেরকে রেহায় দেয়ার জন্য এক দুদক কর্মকর্তার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। দৈনিক কালেরকণ্ট পত্রিকা মঙ্গলবার ঘুষ চাওয়ার অডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এটার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এ কর্মরত ছিলেন।

ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। তিনি অনুসন্ধানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজপত্র বেআইনিভাবে এক কর্মচারীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এস এম শামীম ইকবাল নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তিনি দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হলেও শামীম ইকবাল তা আদালতে উপস্থাপন না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। অন্যথায়, দুদকের পরিচালকরা এভাবে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌স্বাস্থ্য খাতে ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম ৭ কোটিতেঃ বালিশ দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে!


রূপপুরের বালিশ কাহিনিকে হার মানিয়েছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনই হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি আনতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে, আগের কেনা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আবার ক্রয়, ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয় ৭ কোটিতে।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনেরই খবর নেই অথচ এই হাসপাতাল ভবনের জন্য যে যন্ত্রপাতি কেনা হবে তা দেখতে ও যাচাই-বাছাই করতে জার্মানি যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করবেন। যেসব মেশিন আনা হবে সেগুলো কীভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে সে বিষয়ে ধারণা অর্জনের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের এই সফর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

রূপপুরের বালিশ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এই হাসপাতালের ১৪ তলা ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, এখনো অনুমোদনই পায়নি। অথচ সরকারি অর্থের অপচয় করে দেদারসে মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা রীতিমতো তুঘলকি কারবার। হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! ইতিমধ্যে অনেকগুলো যন্ত্রপাতি কেনাও হয়েছে। এমনকি ৮০ লাখ টাকার যন্ত্র কেনা হয়েছে ৭ কোটি টাকায়, যেগুলো কোনো কাজেই আসছে না! উল্টো এগুলো অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কোনো কোনোটি একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোনো কোনো যন্ত্রপাতিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে আবার সেগুলো কেনা হচ্ছে, যাতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসাপাতালের জন্য একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতাল ভবনটি চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। বাকি ১০ তলা কবে নির্মাণ হবে কিংবা ১৪ তলা পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কর্মচারী হাসপাতালের জন্য ১৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সেটির জিও জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হলেও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে দরপত্র আহ্বান করে সেগুলো কেনাকাটাও শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালের জন্য যে সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয়েছিল, সেটিও গত এক বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কাজে আসেনি। একইভাবে একটি এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেটিও কোনো কাজে আসছে না। পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জন্য একটি এসটিইএম সেল থেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ এ রকম মেশিনের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। কিন্তু ৭ কোটি টাকা দিয়ে এই মেশিনটি কেনা হলেও সেটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। কারণ এই থেরাপি দিতে হলে আরও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পৃথক আরেকটি মেশিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু রোগীদের এ নিয়ে আগ্রহ নেই।

শুধু সিটিস্ক্যান মেশিন, থেরাপি যন্ত্র বা এমআরআই মেশিন নয়, বিকল হয়ে পড়ে আছে মেমোগ্রাফি মেশিনও। তিন বছর ধরে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। দাঁতের এক্স-রে করার জন্য ওপিজি মেশিন কেনা হলেও সেটিও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে আজ পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু না হলেও সরকারি অর্থ ব্যয় করে মেশিন কেনা হয়েছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। আরও মজার তথ্য হচ্ছে, এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের চারটি টেবিল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না করে উপরন্তু সেগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আরও চারটি অপারেশন টেবিল কেনা হয়েছে, যা রীতিমতো হরিলুট!

এখন এই হাসপাতালের জন্য অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই মেডিকেল যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক এজি অ্যান্ড কাগা কোম্পানি থেকে ওই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য, অর্থাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সত্যি সত্যি জার্মানি থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে, নাকি চীনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সেটিকে জার্মানি বলে চালিয়ে দিচ্ছে তা যাচাই করতেই সরকারের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটির ৮ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জার্মানির লুবেক শহরে ওই কোম্পানি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী জিও জারি হয়েছিল। কিন্তু কিছু জটিলতার জন্য নির্ধারিত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলি কদর গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাসপাতালের জন্য যে অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কেনা হচ্ছে, তা যাচাই-বাছাই করতে গত মাসেই তাদের জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেশিন সরবরাহকারী ওই কোম্পানি থেকে অফার লেটার না আসায় তারা মে মাসে যেতে পারেননি। এখন অফার লেটার এসেছে। তারা ইতিমধ্যে ভিসার জন্য জার্মান দূতাবাসে আবেদন করেছেন। ভিসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা জার্মানি যাবেন। কত দিনের সফরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে সাত দিনের একটা শিডিউল ছিল। কিন্তু জার্মান কোম্পানি যে অফার লেটার পাঠিয়েছে তাতে পাঁচ দিনের কথা উল্লেখ করেছে। এ হিসেবে আমরা এখন পাঁচ দিনের জন্য যাব।’

হাসপাতালের ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে আগেই- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান যে হাসপাতাল রয়েছে, এর জন্যই এগুলো কেনা হচ্ছে।’ আর ১৪ তলা ভবনের বিষয়ে ইতিমধ্যে একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেছেও বলে জানান তিনি।

উৎসঃ ‌‌‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারের আশ্রয়েই আছেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেম!


ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচার নিয়ে সরকারের মুখোশ ধীরে ধীরে খসে পড়ছে। প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রীরা হুঙ্কার ছেড়ে ছিলেন যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ রেহায় পাবে না। সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডকে যে আত্মহত্যা বলে বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেমকে বাঁচানোর জন্য এখন প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তার বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন-ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক। তাই তাকে ধরতে সময় লাগছে।

কিন্তু একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম সরকারের আশ্রয়েই আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ প্রশাসন কর্মকর্তারা জানেন ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় আছেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করছে না।

সূত্রটি বলছে, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটুয়ারীসহ প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওসি মোয়াজ্জেম থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছে। এই টাকা খেয়েই তারা নুসরাত হত্যার চার্জশিট থেকে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম বাদ দিয়েছে। এমনকি ওসি মোয়াজ্জেমকে রক্ষায় তারা সরকারের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছে। গত ২৯ মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদন্ডের সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এরপর গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। ওই দিনই আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছায়নি। আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি রংপুরের ডিআইজিসহ প্রশাসনের লোকজন বলছেন ওসি মোয়াজ্জেম নাকি নিখোঁজ আছেন।

আর এখন সরকারের মন্ত্রীরা ওসি মোয়াজ্জেমকে নিয়ে একেকজন একেক ধরণের কথা বলছেন। তারা বলছেন, ওসি মোয়াজ্জেম নাকি পালিয়ে গেছেন। কেউ বলছেন পলাতক হওয়ার কারণে ধরা কঠিন হচ্ছে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক নয়, সরকার এবং প্রশাসনের আশ্রয়েই আছেন। তাকে রক্ষায় এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। জানা গেছে, তাকে নিয়ে যদি সরকারের ওপর চাপ বেড়ে যায় তাহলে তাকে গ্রেফতার দেখাবে সরকার।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌বিমানবন্দরে নিরাপত্তার নামে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার!


দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে এর মধ্যে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি স্ক্যানার বসানো হবে। অর্থাৎ একটি স্ক্যানারের পেছনে খরচ হবে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।

সেই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য কেনা হবে ৬টি বডি স্ক্যানার। এতে ব্যয় হবে ১১ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বডি স্ক্যানারের পেছনে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা করে খরচ হবে।

এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সেবা ও প্রশাসনিক খরচ (সম্মানী, ভাড়া/মাইক্রোবাস, স্টেশনারি, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিং, কম্পিউটার, ভ্রমণ ভাতা, ফি) বাবদ খরচ করা হবে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বিদেশে স্টাডি ট্যুরে ৭ জনের পেছনে খরচ করা হবে ২৮ লাখ টাকা, আয়কর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, কাস্টমস ডিউটি ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্ক্যানারগুলো কেনা হবে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত ১৮ মার্চ জমা দিয়েছে বেবিচক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবনাটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই একনেক সভায় উঠতে যাচ্ছে। এর আয়-ব্যয়ও বিশ্লেষণ করা হয়নি।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ৫৪ কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আর বেবিচক বহন করবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের জন্য দুটি ইডিএস (বিস্ফোরক শনাক্তকরণ সিস্টেম) স্ক্যানার এবং বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য চারটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রত্যেকটিতে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি করে মোট দুটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থানের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে একটি জরিপ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই তিন বিমানবন্দরের জন্য স্ক্যানারগুলো সরবরাহের জন্য জাইকা কারিগরি সহায়তা দেবে। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়েছে। জাইকার দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা গ্রহণের জন্য এই ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পর্যটন ও পরিকল্পনা) মো. আতিকুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে না জেনে কোনো কথা বলতে পারব না। এখন ব্যস্ত আছি, বিমানবন্দরে যেতে হবে।’

উৎসঃ ‌‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here