নুসরাতের চলে যাওয়া নির্বাক মা, সুবিচার চাইলেন বাবা

0
156

নির্বাক মা শিরিন আক্তার। নিথর হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো তাঁর নয়নের মনি নুসরাত জাহান রাফিকে। বাবা আবু মুসা কিছুক্ষণ পরপর হাউমাউ করে কেঁদে উঠছিলেন। বলছিলেন, ‘আহা! আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। ওরা আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ি মারল।’ছোট ভাই রায়হানের বুকফাটা কান্না। মুখে কোনো কথা নেই তাঁর। এমন দৃশ্য বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

তখন রাত ১১টা। ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে(সাড়ে ৯ টা) মারা গেছেন নুসরাত জাহান। একমাত্র মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর অচেতন মা শিরিন। বার্ন ইউনিটের দুই তলা থেকে স্ট্রেচারে করে শিরিনকে নেওয়া হলো ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে। বাবা মুসা তখনো বার্ন ইউনিটের দুই তলায়। অনেকেই তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। মুসা শুধু বলছিলেন, আমার মেয়ের জীবন ওরা কেড়ে নিল। মেয়ে নুসরাতের জন্য দোয়া চাচ্ছিলেন তিনি। তখন নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলছিলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের ভাই রায়হান হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। ছেলের কান্না দেখে বাবা মুসাও কাঁদতে থাকেন। আর বলছিলেন, ‘আমি বিচার চাই। ন্যায় বিচার চাই।’ মুসা তখন বার্ন ইউনিটের লিফট দিয়ে নিচে নামছিলেন। লিফটের ভেতরে মেয়ের নাম বলে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আমি সুবিচার চাই। আইনে যে শাস্তি আছে, সেই শাস্তি চাই।’ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলে ওঠেন, ‘চাওয়া পাওয়া একটাই, সিরাজ উদ দৌলার ফাঁসি চাই। আর কিছু চাই না।’

রাত সাড়ে ১১টার পর গাড়িতে করে মুসা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে যান। যাওয়ার আগে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। আমি সুবিচার চাই।’ তখন নুসরাতের মাকে দেখা গেল অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। নুসরাতের খালাতো বোন শান্তাসহ আরও দুজন তাঁকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তখনো অচেতন তিনি। নুসরাতের খালাতো বোন শান্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে কোনো কথা বলছেন না খালা শিরিন আক্তার। ডাকে সাড়াও দিচ্ছেন না।’

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। নুসরাতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, সেদিন পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।। গত শনিবার গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল।

এর আগে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হ‌য়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফু‌সের মারাত্মক সংক্রমণ থে‌কে কা‌র্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্‌যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ)


নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন নিহত ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভাই। এ ঘটনায় প্রিন্সিপাল ইন্ধন দিয়েছে।

তিনি বলেন, সে প্রিন্সিপাল হুজুরের পক্ষে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করছে। ও আসলে জানে হুজুর কেমন। হুজুরের চাপে তার পক্ষে এসব করছে।

নিহত রাফির ভাই ঘটনা সম্পর্কে যুগান্তরকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নুসরাতকে কুপ্রস্তাব নিয়ে ২৭ মার্চ মামলা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ এপ্রিল ওর ওপর এমন হামলা হয়েছে।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ঘটনা সর্ম্পকে তিনি বলেন, গত ৬ এপ্রিল আমাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। আমাকে ঢুকতে দিলে এ ঘটনা ঘটত না। নুসরাত পরীক্ষা হলে গেলে একটা মেয়ে বলে নিশাতকে ছাদে মারতেছে। এ ঘটনা শুনে নুসরাত ছাদে যায়। তবে ছাদে কেউ ছিল না। ওই সময়ে চারটা বোরকাপরা ব্যক্তি ছিল। তাদের হাতে গ্লাপস ছিল, চোখে চশমা ছিল এবং মুখে মুখোশ ছিল। তাদের মধ্যে দুজন কথা বলছে আর দুজন কথা বলেনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহত শিক্ষার্থী রাফির ভাই আরও বলেন, তারা বলছে বল হুজুরের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলেছিস সেসব মিথ্যা। তখন রাফি বলে, না এটা সত্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব। ওদের মধ্যে একজন চম্পা না, কে ছিল। পরে তারা ওর গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন দিয়েছিল। আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমার পরিচিত এক সহপাঠী ছিল, কাদের ভাই। তাকে বলছি নুসরাত ঠিকমতো বসছে কিনা? সে জানায় তার গায়ে আগুন লেগেছে। আমি মাদ্রাসার পাশে ছিলাম।

তিনি বলেন, যে পুলিশ মোস্তফা ভাই আমাকে ঢুকতে দেয় নাই। তারা আগুন নেভাচ্ছে। পরে তাকে বলি ভাই আপনারা যদি আমাকে ঢুকতে দিতেন তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।

কাকে ধরলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে নিহত রাফির ভাই বলেন, প্রিন্সিপাল ইন্ধন দিয়েছে। নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব বের হয়ে যাবে। সে প্রিন্সিপাল হুজুরের পক্ষে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করছে। ও আসলে জানে হুজুর কেমন। হুজুরের চাপে তার পক্ষে এসব করছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয় কিন্তু তাতেও কোনো কাজ করছিল না।

নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সবাইকে কাঁদিয়ে নুসরাতের চির বিদায়


পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে চলে গেলেন নুসরাত জাহান রাফি । বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের চিকিৎসকরা।

গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ-উদ-দৌলা ওই শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে শনিবার (৬ এপ্রিল) ওই শিক্ষার্থী মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে অধ্যক্ষের অনুসারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নুসরাত হত্যা চেষ্টা মামলায় বেরিয়ে আসছে অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে আলীম পরীক্ষার্থী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সোমবার দুপুরে দায়ের করা এজাহারে সংশোধনী এনে কারাবন্দী অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাহ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মোকসুদ আলমসহ ৮ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করেছেন।

সংশোধিত মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন, মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফছার উদ্দিন এবং হাতে মোজা ও চোখে চশমা পরিহিত বোরকা ৪ জনসহ অজ্ঞাত আরো অনেকে। এজাহার নামীয় আসামীসহ ১০ জনকে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হচ্ছে ওই মাদ্রাসার নাইট গার্ড ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মোস্তফা, দফতরি মো. নূরুল আমিন, মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র সাইদুল হক, অধ্যক্ষের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী মাদ্রাসার প্রাক্তন সাউথইস্ট ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার কর্মকর্তা কেফায়েত উল্যাহ জনি, প্রাক্তন ছাত্র ও মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী যুবক জসিম উদ্দিন, আলা উদ্দিন, নূর হোসেন হোনা মিয়া এবং ওই মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী ছাত্রী ও অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহর শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা।

আগে ঘটনার দিন আটক করা হয় মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও আলীম পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলামকে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী তিনজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলাটি দায়ের করেছেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, তার বোনকে বোরকা পরিহিত ৪ জন অজ্ঞাতসহ অন্যান্য অন্যান্য আসামীরা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সংশোধিত এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিম নূসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একজন নিয়মিত ছাত্রী ও ২০১৯ সালের আলীম পরীক্ষার্থী।

গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ তার দফতরি নূরুল আমিনের মাধ্যমে তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পরীক্ষার আধা ঘন্টা পূর্বে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেবে বলে তার বোনের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। এঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষকে আসামী করে সোনাগাজী থানায় মামলায় দায়ের করেন।

পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালে এজাহার নামীয় আসামীরা অধ্যক্ষের নির্দেশে মামলা তুলো নিতে তার মা ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি মামলা তোলা না হয় তাহলে পরিণাম ভাল হবেনা বলে হুমকি দেয়। গত ৬ এপ্রিল তার বোন আলীম পরীক্ষা দেয়ার জন্য ৮নং কক্ষে প্রবেশ করলে তার এক সহপাঠী দিয়ে তার বান্ধবী নিষাদকে মারধর করছে বলে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে নিয়ে সেখানে চোখে চশমা, হাতে মোজা এবং বোরকা পরিহিত ৪জন দুর্বৃত্ত তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাফি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রাফি সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাও. একেএম মুসা মানিকের কন্যা। রাফির বাবাও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বাঁচানো গেলো না ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে।


মা-বাবার আর্তি, সতীর্থদের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও বাঁচানো গেলো না ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে সে। তার মৃত্যুর বিষয়টি বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

আধঘণ্টা আগেই ৯টার দিকে নুসরাতের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা. আবুল কালাম জানিয়েছিলেন, নুসরাতের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

নুসরাতের পরিবারের ভাষ্যে, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে এই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই মামলার পর সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

আগুনে হত্যাচেষ্টার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে চলে গেলো নুসরাত।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা সোনাগাজীর ওসি প্রত্যাহার, মামলা পিবিআইয়ে


ফেনীতে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে পুলিশ ইনভেস্টিগেটিভ ব্যুরোতে (পিবিআই)।

পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেলা পুলিশ সুপার এএসএম জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি জানান, এখন থেকে স্পর্শকাতর এ মামলাটি তদন্ত করবে পিবিআই। ফেনীর পিবিআইপ্রধান এএসপি মনিরুজ্জামানকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার এজহারভুক্ত আসামি জোবায়ের আহমেদকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার জোবায়ের সোনাগাজী পৌরসভার তুলাতলি এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। আর পপি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর সহপাঠী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তারা জোবায়েরকে গ্রেফতার করেন। পরে রাতেই সোনাগাজী পৌর এলাকার চনচান্দিয়ার বাসা থেকে পপিকে আটক করা হয়।

এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজনসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলো; যাদের মধ্যে সাতজন কারাগারে এবং বাকিদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সোনাগাজী থানায় সোমবার দুপুরের পর মামলা করেন তার ভাই। ওই দিন রাতেই মামলার এজাহারে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আটজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও চারজনকে।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিদর্শনের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, মাদ্রাসাছাত্রী অগ্নিদগ্ধের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এ ঘটনার তদন্তে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।তাকে লাইফসাপোর্ট দেয়া হয়েছে। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবার তার অস্ত্রোপচারও হয়।অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের আবেগঘন সেই চিঠি পুলিশের হাতে, বেরিয়ে আসছে অনেক তথ্য


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির পর সহপাঠি বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে নুসরাত জাহান রাফির লেখা চিঠি মঙ্গলবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারি সূত্র।

ওই সূত্র জানায়, তার পড়ার টেবিলে খাতায় দুই পাতার ওই চিঠিতে তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে সে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফি। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটুক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিটিতে রাফি উল্লেখ করেছে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।

তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর থেকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলেও ধারণা করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া চিঠিটিতে রাফির ভাষ্য ভিন্ন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটিও ওই ঘটনার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখিতদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

চার আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ৪ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ আদেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানি জানান, রিমান্ডে দেওয়া চার আসামি হলেন আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্লাহ, নূর হোসেন ও শহীদুল ইসলাম। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে তাদের রিমান্ড শুনানি হয়নি বলে জানান জিলানি।

গত শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিলে দ্বগ্ধ হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছে। নুসরাত ওই অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর স্বজনরা তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হলেন পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, পাঁচ দিনের রিমান্ডে ৪ জন


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থীকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে ৫ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন- নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও সাহিদুল ইসলাম।

কোর্ট পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ জনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। সাতজনের মধ্যে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও সাহিদুল ইসলামকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে চারজনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

অপর তিনজনের মধ্যে গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোয় তারা অনুপস্থিত থাকায় তাদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

এদিকে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকেএম এনামুল করিমের সভাপতিত্বে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির সভায় রোববার এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া সভায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর চিকিৎসায় দুই লাখ টাকা অনুদান দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে শিশু বলাৎকারের ঘটনায় ফেনী সদরের একটি মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, যৌন হয়রানি ও চেক জালিয়াতিসহ ফেনী এবং সোনাগাজী মডেল থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় আলোচিত শম্পা আটক, কে এই শম্পা?


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থীকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হতাচেষ্টায় আলোচিত শম্পা সন্দেহে এক ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে তাকে আটক করা হয়েছে বলে সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবারই ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানিয়েছিলেন, অগ্নিদগ্ধের সময় কেউ একজন ‘শম্পা চল’ বলেছে এমন শব্দ শুনেছেন বলে দগ্ধ ওই ছাত্রী চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শম্পা ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। পুলিশ ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে।

এরপরই খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের হাতে আটক শম্পার প্রকৃত নাম উম্মে সুলতানা পপি। তিনি সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি ওই মাদ্রাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেফতার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। পপি একই মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, চিকিৎসকদের কাছে দেয়া অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রীর তথ্যের ভিত্তিতে আলিম পরীক্ষার্থী শম্পাকে আটক করে পুলিশ। তবে আটক ছাত্রী ছদ্মনাম হিসেবে শম্পা ব্যবহার করেছে কিনা সেটি জিজ্ঞাসাবাদেই জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

এদিকে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকেএম এনামুল করিমের সভাপতিত্বে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির সভায় রোববার এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সভায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর চিকিৎসায় দুই লাখ টাকা অনুদান দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে শিশু বলাৎকারের ঘটনায় ফেনী সদরের একটি মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, যৌন হয়রানি ও চেক জালিয়াতিসহ ফেনী এবং সোনাগাজী মডেল থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে।

সেই শম্পাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ:
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থীকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত আরেক আলিম পরীক্ষার্থী শম্পাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এসপি বলেন, অগ্নিদগ্ধের সময় কেউ একজন ‘শম্পা চল’ বলেছে এমন শব্দ শুনেছেন বলে দগ্ধ ওই ছাত্রী চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শম্পা ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। পুলিশ ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে।

এর আগে ‘ডাইং ডিক্লারেশন’ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ওই মাদ্রাসাছাত্রী তার শরীরে আগুন দেয়াদের মধ্যে বোরকাপরা চারজনের একজনের নাম শম্পা বলে একজন চিকিৎসককে জানান।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ অধ্যক্ষ সিরাজের সাঙ্গদের ভয়ে মুখে কুলুপ, শম্পাকে খুঁজছে পুলিশ


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাদে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনা এখনো রহস্যাবৃত। দ্বগ্ধ রাফির দেয়া তথ্যানুযায়ী, এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন আটককৃত দুইজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক করা হয়েছে আরো ৭ জনকে।

রাফির ভাই বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামী করে মামলা দিয়েছেন। একইসাথে ঘটনার আগে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-প্রদানকারী চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা সবাই মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ঘনিষ্ঠভাজন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানায়, মাদরাসার ভিতর ও বাইরে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা একটি বলয় তৈরি করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর পাশাপাশি বর্তমান ও সাবেক ছাত্র রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদরাসা তহবিল থেকে নানা কায়দায় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। একইভাবে প্রভাবশালী একটি মহলের সাথেও রয়েছে তার দহরম-মহরম।

ফলে অত্র মাদরাসায় দায়িত্বকালীন সময়ে তহবিল তসরুপ, নারী কেলেংকারীসহ অনিয়ম-দূর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও শেষপর্যন্ত তাকে কাবু করা যায়না। ২৭ মার্চ আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজকক্ষে ডেকে এনে অগ্রিম প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগির মা শিরীন আক্তার।

পরদিন গ্রেফতার হয়ে জেল-হাজতে যান অধ্যক্ষ সিরাজ। এ ঘটনায় সোনাগাজী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও যখন সিরাজের বিচার দাবীতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচী করেন তখন সিরাজের সাঙ্গরাও তার মুক্তি দাবীতে মাঠে নামেন পাল্টা কর্মসূচী নিয়ে। এদের সঙ্গে সিরাজের পরিবারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রের কাছে তথ্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, মামলাটি তুলে নিতে রাফি, তার মা ও ভাইকে বারবার হুমকি-ধমকি দেয়া হয়।

৬ এপ্রিল শনিবার এর ঘটনায় সোমবার দায়ের করা মামলায় এদের অন্তত ৪ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলো মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ ও মহিউদ্দিন শাকিল।

বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা সহ অজ্ঞাতনামা অনেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি প্রদান করে। হুমকিদাতাদের সহযোগিতায় তার বোনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওই চারজন রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত।

ইতোমধ্যে পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যম কর্মীরা সোনাগাজীতে ঘটনার অনুসন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরলেও এ ব্যাপারে প্রকাশ্য কেউ মুখ খুলতে রাজি হননা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার একাধিক শিক্ষক জানান, সিরাজ উদদৌলা কারাবন্ধী থেকেও গ্রেফতার পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যে কোন মূল্যে মামলা তুলে নেয়ার জন্য তার নির্দেশনা ছিল। ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে তার সাঙ্গরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। অব্যাহত চাপ প্রয়োগের পরও মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় রাফির এই ভয়ানক পরিণতি বলে তাদের ধারণা।

ওই শিক্ষক আরো জানান, ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলেও অজানা আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে চায়না। শোনা যাচ্ছে, ঘটনার আগের রাতে মাদরাসার ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের আনাগোনা ছিলো। সেখান থেকেই ঘটনার পরিকল্পনা হতে পারে বলে তাদের ধারনা।

তারা মনে করছেন, ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ব্যাপারে তথ্য মিলতে পারে। তারা আরো জানান, মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই অধ্যক্ষ সিরাজ কয়েকমাস আগে এই ছাত্রাবাস খুলেছেন। এখানে ছাত্রদের পাশাপাশি বহিরাগতদের আনাগোনা সবসময় দেখা যায়। এমনকি অধ্যক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অনেকেই ছাত্রাবাসের মেসে খেয়ে থাকেন।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পুলিশি হয়রানি কিংবা গ্রেফতার এড়াতে কেউ কেউ গা ঢাকা দিলেও সিরাজের লোকজন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এমনকি থানাতেও তাদের আনাগোনা দেখা যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে সংরক্ষিত এলাকায় এমন বর্বর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ওদের কেউ কেউ পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।

এদিকে ঘটনা তদন্তে সোনাগাজী মডেল থানার পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মাঠে রয়েছে। ওসি মো: রাশেদ খান চৌধুরী জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী শহরের সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মাদরাসার নিরাপত্তা প্রহরী মো. মোস্তফা, মাদরাসা থেকে অফিস সহকারী ও অধ্যক্ষের ফুফা শ্বশুর নুরুল আমিনকে আটক করা হয়। এছাড়া আলাউদ্দিন, হোনা মিয়া ও সাইফুল নামের তিনজনকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে আটক করা হয় কেফায়েত উল্লাহকে।

পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার পিপিএম বলেন, সোমবার দুপুরে রাফির ভাই নোমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত আসামীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

শম্পাকে খুঁজছে পুলিশ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত জাহান রাফি ‘ডাইং ডিক্লারেশন’ (মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্য) দিয়েছেন। চিকিৎসকদের কাছে দেয়া বক্তব্যে রাফি জানায়, নেকাব, বোরকা, হাতমোজা পরিহিত চারজন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই চারজনের একজনের নাম ছিল শম্পা।

অন্য কারো নাম বলতে পারেনি রাফি। শম্পাই তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে ছাদে নিয়েছিল। রাফির দেয়া তথ্য অনুযায়ী শম্পাকে খুঁজছে পুলিশ। সোমবার মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করে পুলিশ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। এদের মধ্যে কারো ডাক নাম শম্পা আছে কিনা তা যাচাই করছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো খোঁজ মিলেনি বলে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের ওই সূত্র আরো জানায়, শম্পাকে খুঁজে পেলে ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

মাদরাসার অনুদান হস্তান্তর

অগ্নিদ্বগ্ধ নুসরাত জাহান রাফির চিকিৎসার্থে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম সোমবার দুপুরে ২ লাখ টাকার চেক জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামানের হাতে তুলে দেন। জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসাইন আহম্মদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসাইন আহম্মদ জানান, সন্ধ্যায় তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাফিকে দেখতে যান। সেখানে তার বাবার একেএম মুসার হাতে চেক তুলে দেন। এসময় তারা রাফির সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মুনাজাত করেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here