নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)

0
293

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশ সংকটে আছে। এই বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মা ফাতেমা আমীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও বাবা মির্জা রুহুল আমীনের কবর জিয়ারতে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে যান।

ফখরুল আর বলেন, বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসনব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা নির্দ্বিধায় অন্যায় করছে। তারা ভয় পায় না এখন।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘এই যে নুসরাত, সে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এই দেশে যে কোনো শাসনব্যবস্থা নেই, আইনের প্রতি মানুষের ভরসা নেই- তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিল নুসরাত।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে বিজিবির গুলিতে স্কুলছাত্রসহ তিন গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় যে মামলা খারিজ হয়েছে সেই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার প্রশাসন, আইন সব নিজ দখলে রেখেছে তার প্রমাণ গরিবের বিচার না পাওয়া। এটা একটা বেআইনি দখলদার সরকার বসে আছে। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্যারোল আ’লীগের প্রসব করাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির দাবি বিএনপির নয় বলে জানিয়েছেন দলটির ‍যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

তিনি বলেছেন, প্যারোল নাটক আওয়ামী লীগেরই প্রসব করা। তারাই এটি লালন-পালন করেছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে প্রতিবাদসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘প্যারোলটা প্রসব করেছে আওয়ামী লীগ এবং এটি লালন-পালন করে শিশুর মতো বড় করেছে তারাই। এক মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে সুপারিশ করলে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে; আরেক মন্ত্রী বলেন, প্যারোলের কোনো প্রশ্নই আসে না। আইনগতভাবে মুক্তি নিতে হবে। নিজেরাই পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে একটি নাটক তৈরি করেছে। এই নাটকের মধ্য দিয়ে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই নাটক আমরা যেন গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা না করি।’

জাতির জনকের প্যারোল আর খালেদা জিয়ার প্যারোল এক নয় উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘শেখ মুজিবের প্যারোল আর খালেদা জিয়ার প্যারোল এক নয়। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আমলে প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিলেন। তার আগে রাজপথে অনেক রক্ত ঝরেছিল। তখন শেখ মুজিবের বয়স ৪৫-৪৬ বছর ছিল। আর এখন খালেদা জিয়ার বয়ষ ৭৫। এসব বিবেচনা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন জানিয়ে যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের আমলে। এরশাদের আমল থেকে খালেদা জিয়াকে প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এরশাদ খালেদা জিয়াকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করতে চেয়েছিলেন। তাকে অনেক ক্ষমতা দিতে চেয়েছিলেন। অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে চেয়েছিলেন। তার পরও খালেদা জিয়াকে সাধারণ জনগণের মাঝ থেকে সরাতে পারেননি। তবে আজ কেন এ অপপ্রচারের উত্তর দিতে এত ভয়।’

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ নুসরাতের যে অবস্থা হয়েছে, এটি তো বাংলাদেশের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। আজ গোটা দেশই তো নুসরাতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশ আজ ধর্ষিত, অগ্নিদগ্ধ। আর ফেনীর সোনাগাজীতে কী হয়েছে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘নুসরাত আজ চলে গেছে। তাকে যে ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সেই ওসির কত বড় দুঃসাহস সেই জিজ্ঞাসাবাদ ভিডিও করল। সেই ভিডিওটি আবার প্রকাশ করল কীভাবে? তার বিরুদ্ধে প্রথম সাইবার সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা করে তাকে রিমান্ডে আনা উচিত। কিন্তু সেটি এ আওয়ামী শাসকরা করবে না। কারণ এরা তো সরকার না- এরা হচ্ছে শাসক।’

আওয়ামী লীগ প্রশাসনের দয়া দাক্ষিণ্য নিয়ে চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ভিক্ষা দেয়া ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই এ সরকারের কাছে আমরা এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারি।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কৃষক দল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মৎসজীবী দল নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে তাকে হারাতে হবে: নজরুল ইসলাম


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন, ‘দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। তিনি দারুণভাবে অসুস্থ। তাকে যদি মুক্ত আলো-বাতাসে আনা না যায়, যদি তার সঠিক চিকিৎসা করা না যায়, তবে তাকে আমরা হারাব। তাই তার আন্দোলনের সঙ্গী হাবিব-উন নবী খান সোহেলের মতো যারা বন্দি আছেন, তাদের মুক্ত করার জন্য যে লড়াই প্রয়োজন, আসুন সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিই।’

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদসভায় তিনি এসব বলেন।

বিশ্বের কোনো স্বৈরাচার বেশি দিন টিকেনি উল্লেখ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, কোনো স্বৈরাচারী সরকার জনগণের আন্দোলনের মধ্যে টিকে থাকতে পারেনি।

‘ফিলিপাইন্সের মার্কোসের দমননীতির বিরুদ্ধে জনগণ যখন রাজপথে ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়েছিল, তখনই মার্কোসের পতন হয়েছিল। ওই পরিমাণ সাহস কী আপনাদের আছে? মুখে আছে, যেদিন কাজে দেখাতে পারবেন, সেদিন এই সরকারের পতন হবে’-যোগ করেন নজরুল।

স্বাধীনতাযুদ্ধে নিজের অবদানের কথা সরণ করিয়ে দিয়ে নজরুল বলেন, ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরে আর্মির অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আমরা লড়াই করেছিলাম। ঢাকায় মিছিল হয়েছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। আজকে ৭২ বছর বয়সে আমাকেই সেই কাজ করতে বলেন? না আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। তার পরও বলছি- আছি আপনাদের সঙ্গে। শুধু সঙ্গে না, আপনাদের সামনেই থাকব। চলেন আমরা একসঙ্গে মাঠে নামি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কৃষক দল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম, মৎসজীবী দল নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে ছাত্রীদের এনে নৃত্যের সত্যতা মিলেছে (ভিডিও )সহ!


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় রাতে ছাত্রীদের এনে নৃত্য করানোর ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

গত সোমবার রাতে উপজেলার মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে বুধবার যুগান্তরে ‘শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে ছাত্রীদের এনে নৃত্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওঃ  ‘ শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে হিন্দি গানের তালে ছাত্রীদের নৃত্য(ভিডিও )সহ!’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

ইউএনওর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছেন। দুর্যোগপূর্ণ এবং রাঙ্গাবালীর মতো বিদ্যুৎবিহীন জনপদে এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংকটে ফেলতে পারে।

এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত পড়াশোনায় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া যতদূর মনে হয় ওই প্রতিষ্ঠানে স্কুলকক্ষে সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিবেশ, আবহ বা প্ল্যাটফর্ম ছিল না।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শতভাগ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো শিক্ষার্থীদের স্কুলের পাঠদান সময়ের বাইরে কোনো ব্যক্তিগত আয়োজনে সংশ্লিষ্ট না করতে সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। এ ধরনের অনুষ্ঠান যাতে কোনো রকম পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পরামর্শ দেয়া হয়।

এ ছাড়া অপ্রীতিকর বা অনভিপ্রেত ও নিরাপত্তাহীন কোনো ঘটনার সম্ভাবনা সৃষ্টি যেন না হয়- সে জন্য জেলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কী ধরনের নির্দেশনা দেয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

এর আগে গত বুধবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনাটির ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে এমন নৃত্য পরিবেশনের আয়োজনের কারণ, যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখসহ বৃহস্পতিবার ইউএনওর কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘ভিডিও দেখে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এ ছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষককে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৈশভোজ ও রাত্রিযাপনের জন্য মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান সেখানে নিয়ে যান।

ওই রাতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানসহ কয়েকজন শিক্ষক আশপাশের ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি থেকে জরুরি ভিত্তিতে খবর দিয়ে আনেন।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে একটি শ্রেণিকক্ষ বন্ধ করে ওই কর্মকর্তাকে খুশি করতে হিন্দি ও বাংলা গান বাজিয়ে ছাত্রীদের দিয়ে নৃত্য পরিবেশন করানো হয়।

এ সময় ওই কক্ষে বসে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম টুকুসহ কয়েকজন নৃত্য উপভোগ করেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে রাত ৯টায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৈশভোজ করে ওই বিদ্যালয়ে রাত্রিযাপন করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না: আল্লামা শফী


হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রার যে আয়োজন করা হয় তা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না। কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বর্তমানের যে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয় তা ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। হালখাতা, পিঠাপুলি বানানোর মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হয়ে আসছিল তাতে নতুন নতুন যেসব আয়োজন যোগ হচ্ছে তাতে যেমন ধর্মীয় বিধানাবলির বিপরীতে অবস্থান নেয়া হচ্ছে তদ্রূপ আমাদের সংস্কৃতি হুমকিতে পড়ছে। কারণ জাতীয়তার চেয়ে জাতিসত্তার পরিচয় বড়।

তিনি বলেন, আর আমরা লক্ষ করছি এসব আয়োজনে ধীরে ধীরে যেভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে যা বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য কখনোই কল্যাণকর হবে না।

আল্লামা শফী আরও বলেন, মানুষের জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমে হয়। পৃথিবীর সব বিশ্বাসীরা এটাই বিশ্বাস করেন। কোনো মূর্তি,ভাস্কর্য,পোস্টার, ফেস্টুন ও মুখোশে মঙ্গল-অমঙ্গল থাকতে পারে না। বাঘ, কুমির, বানর, পেঁচা, কাকাতুয়া, ময়ূর, দোয়েলসহ বিভিন্ন পশুপাখি মঙ্গল আনতে পারে না।

এসব বিশ্বাস যেমন ইসলামি শরিয়তবিরোধী চেতনা তদ্রূপ এমন আধুনিক সময়ে মূর্তি-ভাস্কর্য ও জীবজন্তুর ছবিতে মঙ্গল-অমঙ্গল কামনা করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত আমির।

আল্লামা শফী প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে নানা ধরনের বাঁশ-কাগজের তৈরি মূর্তি, পেঁচার আকৃতি ও মুখোশ হাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে মাত্র ২৮ বছর আগ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা কীভাবে সার্বজনীন বাঙালি উৎসব ও সংস্কৃতি হতে পারে?

তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যারা আবেগের বশবর্তী হয়ে, ভুল ধারণায় প্ররোচিত হয়ে কিংবা বয়সের কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গানবাদ্যের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করো তারা নিজেদের বিরত রাখো। যৌবনকাল আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তোমাদের মূল্যবান সম্পদ ‘তারুণ্য’ যিনি দান করেছেন তার ইবাদতে ও তার সন্তুষ্টিতে তা কাজ লাগাও। জীবন সুন্দর হবে, আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবে।

মুসলিম জনতার উদ্দেশে আল্লামা শফী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে যেভাবে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ও পাপাচার বেড়ে চলছে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের উচিত মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তার ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। নিজেদের আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে চেষ্টা-সাধনা করা। কারণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধতা ছাড়া শুধু মানবরচিত আইনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার গজব ও পাপাচার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


আওয়ামী লীগ প্রশাসনের দয়া দাক্ষিণ্য নিয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ভিক্ষা দেয়া ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই এ সরকারের কাছে আমরা এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে প্রতিবাদসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ নুসরাতের যে অবস্থা হয়েছে, এটি তো বাংলাদেশের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। আজ গোটা দেশই তো নুসরাতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশ আজ ধর্ষিত, অগ্নিদগ্ধ। আর ফেনীর সোনাগাজীতে কী হয়েছে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘নুসরাত আজ চলে গেছে। তাকে যে ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সেই ওসির কত বড় দুঃসাহস সেই জিজ্ঞাসাবাদ ভিডিও করল। সেই ভিডিওটি আবার প্রকাশ করল কীভাবে? তার বিরুদ্ধে প্রথম সাইবার সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা করে তাকে রিমান্ডে আনা উচিত। কিন্তু সেটি এ আওয়ামী শাসকরা করবে না। কারণ এরা তো সরকার না- এরা হচ্ছে শাসক।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কৃষক দল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মৎসজীবী দল নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘কুষ্টিয়া কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি হত্যা ’


কারাগারে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; বরং এটি একটি হত্যা বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

আরজুর মৃত্যু প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আরজুকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

কারা কর্তৃপক্ষের চক্রান্তে আরজুর মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পুলিশ কাস্টোডিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শেখানো বুলি বলানোর জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পাশবিক নিপীড়ন-নির্যাতনে কারাগারে বন্দি অসুস্থ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের জীবন বাঁচানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না।

এরই অংশ হিসেবে কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, বলেন ফখরুল।

প্রসঙ্গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এর পর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে।

কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু হয়। তিনি ব্রেইনে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মুরাদনগরে চায়ের দোকানে বসে আলিম পরীক্ষা!


কুমিল্লার মুরাদনগরে চায়ের দোকানে বসে আলিম পরীক্ষা দিলেন এক পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার উপজেলার শুশুন্ডা মাদ্রাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে হাবিবুল হক নামে ওই পরীক্ষার্থী বই খুলে আলিম পরীক্ষা দিয়েছেন।

এদিকে ওই পরীক্ষার্থীর চায়ের দোকানে বসে পরীক্ষা দেয়ার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফিকাহ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাকেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বের করে ওই মাদ্রাসার ছাত্র হাবীবুল হক পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের দোকানে পরীক্ষার খাতা নিয়ে লিখতে থাকে। এ সময় কেউ একজন মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণ করে।

পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব গিয়াস উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত উত্তরপত্র বাইরে নেয়ার অভিযোগে হাবীবুল হক নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি সব পরীক্ষার্থীদের খাতা যাচাই করেছি কিন্তু খাতা বাইরে নেয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা আমারও দৃষ্টিগোচর হয়, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না: আল্লামা শফী


কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গণমাধ্যমে প্রচারিত ওয়াজ মাহফিলবিষয়ক প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল হাটহাজারীতে গেলে এ কথা বলেন তিনি।

বৃস্পতিবার দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফী বলেন,কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আলেম সমাজ নবীদের উত্তরসূরি। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জাতিকে নির্দেশনা দেয়া তাদের কর্তব্য। শাসক ও জনগণকে নসিহত করা তাদের জিম্মাদারি। কল্যাণের প্রতি আহ্বান জানানো ও অকল্যাণের প্রতিরোধ করতে আলেমদের স্বয়ং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কোনো অবস্থাতেই আলেম সমাজের পক্ষে এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ওয়াজ মাহফিলের তদারকির জন্য আলেমরাই যথেষ্ট মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ওয়াজ মাহফিলসহ দ্বীনের দাওয়াত আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র। এর তদারকির জন্য শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামই যথেষ্ট। ধর্মীয় স্পর্শকাতর এই বিষয়ে অন্য কোনো মহলের হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হবে এবং সরকারকে আলেম সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক, মুরতাদ, কাদিয়ানী যারা ইতিপূর্বে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতা করেছিল, তারাই আবার সরকারকে বিভ্রান্ত করছে।

আল্লামা শফী বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, শাসক ও জনগণ যখন আলেমদের কথা অনুসরণ করেছে তারা সফলকাম হয়েছে। আর যখন বিরোধিতা করেছে, আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন। মানুষের ঈমান-আকিদার হেফাজত করা, মানুষকে পরকালমুখী করা, প্রচলিত শিরক-বিদআত ও কুসংস্কারসমূহ রদ করা এবং শরিয়তবিরোধী সব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভূমিকা পালনের শিক্ষাই দেওবন্দী ধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়গুলো আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

দেশপ্রেম ও জাতির প্রতি ভালোবাসার আদর্শ শিক্ষা দেই। এ জন্য উগ্রবাদ দেশ ও ইসলামবিরোধী সব চরমপন্থার বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহী, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, মুফতী আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মাওলানা রাফি বিন মুনির, মাওলানা লোকমান সাদী, মাওলানা আব্দুর রহিম আলমাদানী, মাওলানা ইয়াকুব উসমানী প্রমুখ।

প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাৎকালে ওয়াজবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নসিহত এবং পরবর্তীতে বৃহদাকারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপস্থিত আলেমদের আল্লামা আহমদ শফী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘বেইমান মোকাব্বির’কে অনুষ্ঠান থেকে বের দিলো বিএনপি


সিলেটে বিএনপি ও মহিলা দল নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

বৃহস্পতিবার তিনি সিলেট জেলা পরিষদে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। সেখানে গিয়ে দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ায় বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাদের রোষানলে পড়েন মোকাব্বির খান। পরে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট জেলা পরিষদে বেলা ১১টায় আইডিয়া নামক একটি এনজিও সংস্থার উদ্যোগে ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইনসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান এমপি সেখানে উপস্থিত হন। তখনই উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা তখন আইডিয়া কর্তৃপক্ষকে ডেকে আনেন এবং মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ অনুরোধে আইডিয়া কর্তৃপক্ষ মোকাব্বির খানকে হল থেকে বের করে দেন। এ সময় মহিলা দল নেতারা তাকে লাঞ্ছিত ও অপমান করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, কোনো বেইমানের সঙ্গে আমরা অতিথি হতে পারি না। বেইমানের কোনো ধর্ম নেই, সমাজ নেই। বেইমান শুধু বেইমান-ই। তাই মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ নেন মোকাব্বির খান। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এরআগে শপথ নেয়ার দুইদিন পর গত ৪ এপ্রিল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘ধমক’ শুনে বেরিয়ে যান মোকাব্বির খান।

এদিন মোকাব্বির খান চেম্বারে এসে ড. কামালকে সালাম দিতেই তিনি চরম রাগান্বিত হয়ে বলেন- আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পাল্টান মোকাব্বির খান। দলীয় চাপের মুখে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তবে ওই দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ শপথ নেন গণফোরামের আরেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

প্রসঙ্গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকাব্বির খান। তিনি সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন। এই আসনে প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উন্নয়নের জোয়ারে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পড়েছে!


শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়- দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। শেখ হাসিনা প্রতি সপ্তাহে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০-১০০ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন। শেখ হাসিনার নামে করা উন্নয়নের সাইনবোর্ড লাগানো নেই এমন এলাকা এখন বাংলাদেশে কমই আছে। তার দাবি-তিনি মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যুৎ দিয়েছেন, গ্যাস দিয়েছেন, ঘরবাড়ি করে দিয়েছেন, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি দিয়েছেন, গ্রামের মহিলাদের হাতে মোবাইল দিয়েছেন, ইন্টারনেট দিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবাসহ আরও অনেক কিছু তিনি করে দিয়েছেন। এ সবই নাকি ছিল তার বাবার স্বপ্ন।

দেশের মানুষও এখন সরকারের এত সেবা পেয়ে সারাদিন খুশিতে ঠেলায় ঘুরে বেড়ায়। সমস্যা হলো বেড়াতে গিয়ে মানুষ আর নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে না। আবার অনেকে নিরাপত্তহীনতার কারণে বাইরে যেতেও ভয় পায়। দেখা গেছে, দেশে এখন প্রতিদিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ, যৌনহয়রানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজি, গুম, অপহরণসহ সামাজিক অপরাধ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রায় দিনই বখাটে ছেলেদের কর্তৃক যৌণ হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। জীবনের ভয়ে প্রতিবাদও করা করতে পারে না তারা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত কিংবা এসিড ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে। শুধু বখাটে ছেলেই নয়, শিক্ষকদের দ্বারাও এখন ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।

সর্বশেষ উদাহরণ হলো-ফেনীর মাদরাসা অধ্যক্ষের রোষানলের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নুসরাত। বলা যায়, দেশে এখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই। এমনকি বর্তমানে নিজেদের বাসার ভেতরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। প্রায় দিনই দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে মাকে বেধে মেয়েকে ধর্ষণ করছে কিংবা মেয়েকে বেঁধে মাকে ধর্ষণ করছে। এছাড়া প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার ছুরিকাঘাত বা হত্যার শিকারও হচ্ছে অনেকে।

এছাড়া, দেশে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পোশাক কারখানায় ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবি মেয়েরাও। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এক কথায় বলা যায়-বর্তমানে দেশের নারী সমাজ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরতে পারবে সেই গ্যারান্টি এখন নেই।

এরপর, দেশে এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। এখন আর রাতে নয়, দিনের বেলাতেই রিক্শা, সিএনজি থামিয়ে ও পথচারীদের গতিরোধ করে সব কিছু লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত। আর রাতের বেলা নেমে আসে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। এর সঙ্গে চোর-ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষের বাসা বাড়িও। বলা যায়-ঘরে বাইরে সবখানেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীন।

দেশে এখন আরেক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হচ্ছে গুম-অপহরণ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা। নিখোঁজ হওয়া মানেই লাশ হয়ে ফিরে আসা। বিশেষ করে দেশে এখন শিশু ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোররা বেশি অপহরণের শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফেনী ও চলতি সপ্তাহে ঢাকার ডেমরায় দুইটি স্কুল পড়ুয়া শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পাওয়া গেল তাদের লাশ। এমন ঘটনা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঘটছে। ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ এখন চরম আতঙ্কে আছে।

এসব সামজিক অপরাধের সঙ্গে আছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মানুষের জমি দখলের ঘটনা।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরকার বিরোধীদল দমনের কাজে ব্যস্ত রাখায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সরকার বিরোধীদল দমনের প্রতিই বেশি মনোযোগী। সরকার দেশের এমনই উন্নয়ন করেছে যে, একজন নাগরিকের এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘সরকার পক্ষের গণমাধ্যম খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে নোংরামি করছে’


দুর্নীতি মামলায় দণ্ড হওয়ার পর গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। তবে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখভালের জন্য দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমাও তার সঙ্গে ওই কারাগারে আছেন। সর্বশেষ চিকিৎসার জন্য গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হলে তার সঙ্গে ফাতেমাকেও দেখা যায়।

সম্প্রতি ফাতেমাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে বেসরকারি টিভি, যেখানে ফাতেমার বাবা রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার রয়েছে। ফাতেমা কারাগারে ঢোকার পর খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার পরিবার কোনো টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। টাকার অভাবে ফাতেমার দুই সন্তান এখন স্কুল ছেড়ে মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে থাকা তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে নিয়ে খবর প্রকাশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আজকে বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী অসুস্থ। হাসপাতালে আনার পরে সরকারি ডাক্তাররা বলছেন, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার, তার চোখে অস্ত্রোপচার, তার সামনে লোক থাকা দরকার। ফাতেমা নামে একটি মেয়ে তার সাথে থাকেন, তিনি বাইরের সেলে থাকেন। তাকে (ফাতেমা) নিয়ে সরকারের পক্ষের গণমাধ্যম এত নোংরামি করতে পারে! আজকে সুবর্ণচরে মা ধর্ষিত হয়েছে, তার বাবার সাক্ষাৎকার সেই গণমাধ্যমে নেওয়া হয় না কেন, আজকে কবিরহাটে যে মেয়েটি ধর্ষিতা হয়েছে তার বাবার সাক্ষাৎকার তো আমরা দেখি না এই সমস্ত গণমাধ্যমে। আজকে ম্যাডামকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, কত পরিকল্পনার করে, ফাতেমার বাবাকে নিয়ে এসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে!’

১০ এপ্রিল, মঙ্গলবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘ফাতেমাকে নিয়ে “নোংরামি করছে” সরকার পক্ষের গণমাধ্যম।

রুহুল কবির এ কথা বললেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলায় ফাতেমার বাবার সংসারে থাকা তার দুই শিশু সন্তান এই এক বছরের বেশি সময় তাদের মায়ের দেখা পায়নি। আর ফাতেমার বেতনের টাকা না যাওয়ায় এই সময়ে সংসার চালাতে তাদের দেনা হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, ফাতেমার সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রিজভী আমার ছোট ভাই, তিনি গুছিয়ে বলেছেন আপনাদের। একটা টিভি চ্যানেলে ম্যাডামের সঙ্গে যে মেয়েটি থাকে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করে, তার বাবাকে দিয়ে একটা সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। ওই চ্যানেলটিকে আমরা চিনি। তাদের প্রতিদিনের খবর দেখেন, অনুষ্ঠান দেখেন, তাহলেই বুঝবেন যে তারা কার জন্য কাজ করে। এই কাজটা তাদের জন্যই করেছে।’

‘আমি সাথে সাথে আমাদের দলের মহাসচিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, ব্যাপার শুনা গেল এটা কী? উনি (মহাসচিব) বললেন যে, শতকরা ১০০ ভাগ মিথ্যা একটা রিপোর্ট প্রচার করা হয়েছে। সম্ভবত গরিব মানুষটাকে কোনোভাবে তারা ম্যানেজ করে নিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে তাকে টাকা দিয়েছিলাম। যা প্রাপ্য ছিল তার চেয়ে অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। নিজে দিয়েছেন উনি বললেন।’

দেশে এত সমস্যা থাকতে এই বিষয়ে খবর প্রকাশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিশাল একটা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অংশ এটি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটা চেষ্টা তো আছেই।’

উৎসঃ ‌প্রিয়

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here