পুনঃনির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কঠিন ব্যবস্থা : ভিসি

0
140

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচনের যে দাবি পাঁচ প্যানেল করেছে, সেটি সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। বুধবার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আখতারুজ্জামান বলেন, রীতিনীতি অনুযায়ী সময়মতো ডাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ১১ মার্চের নির্বাচন নিয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ডাকসু নির্বাচন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রম-সময় ও মেধার যে খরচ হয়েছে, তার প্রতি অসম্মান জানাতে পারি না। তাদের শ্রমকে অসম্মান করার এখতিয়ার আমার নেই।

এর আগে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন ভিপি নুরুল হক নুরসহ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়া পাঁচ প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা। তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রোভিসি মুহাম্মদ সামাদ বলেছিলেন, ডাকসু নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত ১১ মার্চের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ তুলে তা বর্জন করে ছাত্রদল, বামজোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ অন্তত পাঁচ প্যানেল। তারা পুনঃতফসিল বাতিল চেয়ে আন্দোলন করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ৩১ মার্চের মধ্যে আবার ডাকসুতে ভোট চাই: ভিপি নুর(ভিডিও সহ)


তিনদিনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যে ফের নির্বাচন দাবি করেছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।আগে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া ২৩ পদে ভোট দাবি করলেও এবার সব পদেই পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণের এই নেতা।

বুধবার বেলা তিনটার দিকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।এর আগে তিনিসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয়ে গিয়ে আগামী শনিবারের মধ্যে ডাকসুর ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল চেয়ে স্মারকলিপি দেন।

বেরিয়ে এসে নুরুল হক নুর বলেন, ‘শত কারচুপির পরও আমাকে এবং সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে হারাতে পারেনি। তবে আমাদের প্যানেলের অন্যদের হারিয়ে দিতে পেরেছে তারা নীলনকশা করে। এখন আমরা দেখছি যে ছাত্রলীগ বাদে অন্য সব সংগঠন পুনর্নির্বাচন চাইছে এবং সে লক্ষ্যে তারা আন্দোলন করছে।

ভিডিওঃ ‘৩১ মার্চের মধ্যে আবার ডাকসুতে ভোট চাই: ভিপি নুর(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নির্বাচন বাতিলে তিন দিনের আল্টিমেটাম সম্পর্কে ভিসি বলেন, ‌ডাকসুতে পুননির্বাচন দাবিতে আজ ভিসি স্যারকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে, এত কারচুপির মধ্যেও আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে ডাকসুর ভিপি হয়েছি।আমি শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের (ভোট বর্জনকারী ৫ প্যানেল) দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। আমিও চাই, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যেই পুন:নির্বাচন দিতে হবে।

ডাকসু ভোটের দিন সোমবার রোকেয়া হলে নিজের ওপর হামলার বিষয়েও কথা বলেন নুরুল হক। বলেন, ‘রোকেয়া হলের প্রভোষ্ট জিনাত হুদা ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারীকে ফোন দেন এবং তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের লেডি মাস্টার বাহিনী রয়েছে, শোভন ভাইয়ের নেতৃত্বে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।’

বুধবার দুপুর ২টার দিকে তারা উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান নুরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যে প্রতিনিধি দল।এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডাকসু নির্বাচন বর্জন করা ৫ প্যানেলের নেতারা। এসময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপিও দেন।

ভিডিওঃ ‘৩১ মার্চের মধ্যে আবার ডাকসুতে ভোট চাই: ভিপি নুর(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর আগে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে ভিসির কার্যালয়ের সামনে এক বক্তৃতায় কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ব্যাপক কারচুরির পরও ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে হারাতে পারেনি ছাত্রলীগ। আপনাদের ভোটে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে আমার জয় আটকাতে পারেনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলছি, আমি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নির্বাচন বর্জনকারীদের সঙ্গে একমত। আমি ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচন বাতিলে তিন দিনের আল্টিমেটাম নুরদের(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী শনিবারের (১৬ মার্চ) মধ্যে বাতিলের দাবি জানিয়েছে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচটি প্যানেল। পাশাপাশি পুনঃতফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে তারা উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল।এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডাকসু নির্বাচন বর্জন করা ৫ টি প্যানেলের নেতারা। এসময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপিও দেন।

এর আগে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এক বক্তৃতায় কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ব্যাপক কারচুরির পরও ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে হারাতে পারেনি ছাত্রলীগ। আপনাদের ভোটে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে আমার জয় আটকাতে পারেনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলছি, আমি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নির্বাচন বর্জনকারীদের সঙ্গে একমত। আমি ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।

ভিডিওঃ ‘নুরের নেতৃত্বে ভিসির কার্যালয়ে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর আগে ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচ প্যানেল। পাঁচ প্যানেল হলো- ছাত্রদল, বামজোট, সাধারণ অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট।

বুধবার সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে গিয়ে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। তিন দিনের মধ্যে পুনঃতফসিল দাবি করে স্মারকলিপি দেন তারা।

এ সময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও আবারও তফসিল ঘোষণার দাবিতে স্লোগান দেন।

এর আগে বুধবার সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বামজোটের নেতা লিটন নন্দী বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে ভিসি কার্যালয় গিয়ে তার কাছে স্মারকলিপি দেব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফারুক বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে এবং তিন দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে বাদ দিয়ে সৎ ও নিরপেক্ষ শিক্ষকদের নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে হবে। দাবি না মানলে তারা রোববার থেকে ক্যাম্পাসে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আর পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ বলেন, ডাকসুতে ইতিহাসের কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচন চাই।

পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে পাঁচ জোটের ১১ প্রতিনিধি পুনঃতফসিলের দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিতে যান।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেন লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজীর, অরণি সেমন্তি খানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুরের নেতৃত্বে ভিসির কার্যালয়ে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্যের (ভিসি) সঙ্গে দেখা করেছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তারা উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন দাবিতে স্মারকলিপি দেন।

এর আগে ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচ প্যানেল। পাঁচ প্যানেল হলো- ছাত্রদল, বামজোট, সাধারণ অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট।

বুধবার সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে গিয়ে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। তিন দিনের মধ্যে পুনঃতফসিল দাবি করে স্মারকলিপি দেন।

ভিডিওঃ ‘নুরের নেতৃত্বে ভিসির কার্যালয়ে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ সময় তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও আবারও তফসিল ঘোষণার দাবিতে স্লোগান দেন।

এর আগে বুধবার সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বামজোটের নেতা লিটন নন্দী বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে ভিসি কার্যালয় গিয়ে তার কাছে স্মারকলিপি দেব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক বলেন, আমরা ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তিন দিনের আলটিমেটাম দেব।

আর পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ বলেন, ডাকসুতে ইতিহাসের কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচন চাই।

পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে পাঁচ জোটের ১১ প্রতিনিধি পুনঃতফসিলের দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিতে যান।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আমার রুচির অবস্থা এত খারাপ হয়ে যায়নি! আমি সন্ত্রাসীদের সাথে ছবি তুলি না!(ভিডিও সহ)


ডাকসু নির্বাচনে পরাজিত সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে ছবি তুলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র জোটের পরাজিত ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান। ছবি না তোলার এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটরিয়ামের মঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন মঙ্গলবার বিকালে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কুশলবিনিময় করতে গেলে সেখানে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরাও ছিলেন। এ সময় নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ছবি তোলেন শোভন। পরে তিনি সেখানে থাকা অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। একপর্যায়ে স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণির সঙ্গে শোভনের একটি ছবি তুলতে চান সেখানে থাকা এক ছাত্র।

ভিডিওঃ ‘আমার রুচির অবস্থা এত খারাপ হয়ে যায়নি! আমি সন্ত্রাসীদের সাথে ছবি তুলি না!(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ সময় অরণি ছবি তুলতে অনিহা প্রকাশ করেন এবং শোভনের সামনেই তিনি বলেন, ‘না ভাই কালকে রোকেয়া হলে এই লোক নিজে আমাদের বলছে মারধর করতে। এর সঙ্গে ছবি তুলব না। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ছবি তুলি না।’ এর পর তাদের আশপাশে থাকা সবাই হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অরণি এ কথা বলার পর শোভন কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যান। এর পর তাদের ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনকে ফিরিয়ে দেয়ার পর সংবাদিকদের কাছে অরণি বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের আমরা বিশ্বাস করি না। তাদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করতে চাই না।’ কারও মিষ্টি কথায় তিনি ভুলতে চান না বলেও জানান পরাজিত স্বতন্ত্র এ প্রার্থী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনে যোগ দিলেন আরও শিক্ষার্থী(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের জন্য তফসিলের দাবিতে চলা অনশনে যোগ দিয়েছেন আরও শিক্ষার্থী।

বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা।

অনশনকারীদের দাবি, শিক্ষকদের সহযোগিতায় ডাকসু ও হল সংসদে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আবার নির্বাচন আয়োজন করা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে যেই নির্বাচিত হবে তিনি হবেন তাদের প্রতিনিধি।

অনশনের সময় তাদের পাশে রাখা তিনটি প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখতে পাওয়া যায়- ‘একটা ফেয়ার ইলেকশনের জন্য…’ ‘আমরণ অনশন…’ ও ‘শিক্ষকদের ভোট ডাকাতি এই লজ্জা কোথায় রাখি?

ভিডিওঃ ‘ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনে যোগ দিলেন আরও শিক্ষার্থী(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
অনশনকারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস না দেয়া পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এর পর আরও দুই শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

অনশনকারী প্রার্থীরা হলেন- ডাকসু নির্বাচনে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শোয়েব মাহমুদ, মুহসীন হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মো. মাঈন উদ্দিন, জগন্নাথ হল সংসদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অনিন্দ্য মণ্ডল, কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র পরিবহন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তাওহীদ তানজীম।

অনিন্দ্য মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আমরা নির্বাচনের জন্য পুনঃতফসিলের দাবিতে অনশন শুরু করেছি। একই সঙ্গে আমাদের দাবি- নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পদত্যাগ।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস না দেয়া পর্যন্ত আমাদের আমরণ অনশন চলবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত সোমবার নানা অনিয়মের অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেল প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয় দুপুর ২টায়।

নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

এ ছাড়া নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ভোটের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুনঃভোট দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ৫ প্যানেলের(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নির্বাচন বর্জন করা ৫টি প্যানেল।বুধবার সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান।তিন দিনের মধ্যে পুনঃভোট দাবিতে স্মারকলিপি দেবে।তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য তিনদিনের আল্টিমেটাম দেবে।

ভিডিওঃ ‘পুনঃভোট দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ৫ প্যানেলের(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বুধবার সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন আন্দোলনকারী। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাম জোটের নেতা লিটন নন্দী বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে ভিসি কার্যালয় গিয়ে তার কাছে স্মারকলিপি দেব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক বলেন, আমরা ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তিনদিনের আল্টিমেটাম দেব।

আর পরিষদের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ বলেন, ডাকসুতে ইতিহাসের কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচন চাই।

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।৫ জোটের কয়েকজন প্রতিনিধি পুনঃতফসিল দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিতে যান।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল।এরা হল ছাত্রদল, বাম জোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।এর পর থেকে তারা পুননির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোলাকুলির পর নূর বললেন ছাত্রলীগের মুখে মধু, অন্তরে বিষ


ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে কোলাকুলির পর সংগঠনটির প্রতি আস্থা রাখার ক্ষেত্রে নিজের সংশয়ের কথা জানালেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর।

মঙ্গলবার বিকালে টিএসসি মিলনায়তনে হঠাৎ হাজির হয়ে নবনির্বাচিত ভিপির সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন।
নূর বলেন, ‘শোভন ভাই আমার হলের বড় ভাই। আমরা একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আমি বিজয়ী হয়েছি, উনি আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, আমিও তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ দুপুরে টিএসসিতে নিজের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নূর বলেন, ‘আমি শোভন ভাইকে বলেছি। তিনি কি ব্যবস্থা নেন, সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।’

ওই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনার অবসান হবে বলেই মনে করছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। কেননা, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশকালে ভিপি পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণার পর ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে মেনে না নেয়ার ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।

এরপর থেকেই নূরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্রলীগ। এর আগে তার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবারও সকাল থেকে নূরবিরোধী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল ছাত্রলীগ।
এমনকি দুপুরে ক্যাম্পাসে ঢোকার পরপরই টিএসসির সামনে নূরের ওপর হামলা হয়। এসব ঘটনার পর দুই নেতার কোলাকুলিতে উত্তেজনা দূর হবে বলেই প্রত্যাশা তৈরি হয়।

তবে এর ঘণ্টাখানেক পর টিএসসিতে বামজোটের প্যানেলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নূর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের (ছাত্রলীগের) মুখে মধু, অন্তরে বিষ।’

এ সময় তিনি এর আগেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হামলার শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া হলে ছাত্রলীগ আমাদের মেরেছে।

গত ৩০ জুনও তারা আমাকে মেরেছিল। আজকেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি টিএসসিতে এসেছি, কিন্তু আমাকে তারা ধাওয়া দিয়েছে।’

এই নেতা বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যখন সুবিধাজনক মনে করে, যখন আমাদের লাগে- তখন বুকে টেনে নেয়। আবার যখন মনে করে আমরা শত্রু, তখন মার দেয়।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভয় ও সংকীর্ণতা ভেঙে সত্যটা প্রকাশ কর: নুরকে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি


বামে নুরুল হক নুর এবং ডানে মাকসুদ রানা মিঠু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিস্ফোরক স্ট্যটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি মাকসুদ রানা মিঠু। তার নিজের ফেসবুকে দেওয়া সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।

নুরুল হক নুরু। ছাত্রলীগের কর্মী থেকে তোমাকে যারা নিজ স্বার্থে ছাত্র অধিকার আন্দোলনের নেতা বানিয়ে পল্টি দিয়ে শিবির নেতা বানালো তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর মত অবস্থান এবং সাহস তোমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। ছাত্রলীগ তার যত কর্মীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিবির বানিয়েছে আমি বিশ্বাস করি তুমি তাদেরই একজন। ছাত্রশিবির করার মত যোগ্য তোমাকে দেখে যেমন কখনো মনে হয়নি তেমনি ছাত্রশিবিরকে প্রেস রিলিজ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও জন্য ভোট চাওয়ার মত নির্বোধও মনে হয় না। ভয়ও সংকীর্ণতা ভেঙে সত্যটা প্রকাশ কর ব্রাদার। সারা দেশকে জানিয়ে দে তোকে কোটা আন্দোলনের নেতা কারা বানিয়েছিল।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোন দুই প্রভাবশালী নেতা তোকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। কোন নেতারা সেদিন সামনে ছাত্রলীগের সম্মেলন যাতে না হয় তার জন্য কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। নুরু তোকে আজ বলতে হবে ৭ এপ্রিল ২০১৮ কোন দুই বড় নেতা তোকে ১২০০০ হাজার টাকা দিয়া আন্দোলনে খরচ করতে বলেছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব যাতে হাসান আল মামুন আর তোর হাতে থাকে কে বলেছে সেটা তুই লাইভে এসে বলবি। তোকে নিয়ে ছাত্রলীগের কোন নেতারা বিভিন্ন সময় বৈঠকে বসেছে সেটা সবাইকে জানিয়ে দে।

কোটা আন্দোলন নির্মূল করার জন্য ছাত্রলীগের যে বৈঠক হয় সেখানে শুধুমাত্র তৎকালীন ৩ জন নেতা কেন উপস্থিত ছিল সেটাও ছাত্র সমাজ জানতে চায়। কোটা আন্দোলন, ছাত্রলীগের সম্মেলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের ৬০০ কোটি টাকার কাজ, এগুলোর সর্ম্পকটা কি এটাও সবাইকে জানতে হবে। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নুরুকে যারা ব্যবহার করেছে তারা হলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিবির।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ইসি-ভিসি দুই ভাই ,পথে পাইল মরা গাই


মিনার রশিদ

ছোটবেলায় আমরা এভাবেই ছড়া কাটতাম । দুই ভাইয়ের নামে কিংবা কোনো কাজে দুজনের দারুন মিল দেখলেই এই ছড়াটি কাটা হতো । সারা দেশবাসী আমাদের ছোটবেলায় কাটা এই ছড়াটি গাইতে পারেন ,

ইসি- ভিসি দুই ভাই

পথে পাইল মরা গাই

ইসি কয় , খাইয়া যাই

ভিসি কয় , মার লাইগা লইয়া যাই ।

ইসি- ভিসি দুই ভাই মিলে নির্বাচন নামক গাইটিকে মেরে ফেলেছে । এই মরা গাইটিকে দুই ভাই মিলে মায়ের জন্যে নিয়ে যাচ্ছে । ছড়াটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ

ঈঙ্গিতবহ । গণতন্ত্র নামক দেশের দুধালো গাইটি মেরে ‘মাদার অব সকলকিছু ‘ কে সেই মরা মাংস খাওয়াচ্ছে !

নির্বাচনের নামে দেশে চলছে রীতিমত সার্কাস ।

এই সার্কাসের ক্লাউন বা মূল আকর্ষণ হিসাবে এই দুই ভাইয়ের নাম সামনে চলে এসেছে । এদের একজন সিইসি , অন্য জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি । জনগণ মিল করে একসাথে বলে ইসি আর ভিসি ।

এদের একজন আধুনিক টেকনোলজি ইভিএমের দারুন সমঝদার । ইভিএম ( ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ) এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে নিজেদেরই অন্য এক অপকর্ম ( আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা ) স্বীকার করে নিয়েছেন । সারা বিশ্ব ইভিএমকে ডিজিটাল জোচ্চুরির মেশিন বলে গণ্য করেছে । এখন এই ভোট ডাকাতদের হাতে এই মেশিন পড়লে কী হবে তা সহজেই অনুমেয় !

এই ইসির হাতে ইভিএম এবং অন্য এক ভিসির বাংলোয় জনৈকা এতিম মেয়ের অবস্থানের মত ব্যাপার হবে । যে এতিমকে ঐ ভিসি সাহেব বলেছিলেন ,’ তুমিও এতিম , আমিও এতিম । ‘ এই দুই এতিমের অছিলায় তৃতীয় এতিম চলে আসায় তা দেশবাসীর নজরে এসেছিল ! এই ইসি-ভিসিরা সবাই মিলে সারা জাতিকে সত্যি সত্যিই এতিম বানিয়ে ফেলেছে !

আলোচিত ইভিএমকে স্ত্রীর অনুপস্থিতে সেই এতিমের চেয়েও নিশ্চিন্তে ও ঝামেলামুক্তভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে । রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভর্তি করলে অনেকেই সাক্ষ্মী থেকে যায় । কিন্তু ইভিএমে এক প্রার্থীর ভোট অন্য প্রার্থীকে দিয়ে দিলে ধরার বা দেখার কেউ থাকবে না । সিইসি হুদা সাহেবের অতিমাত্রায় এই ডিজিটাল এতিম ( ইভিএম) প্রেম বেহুদা নয় !

ইসির ভাই ভিসি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের পূজারী । এতিম জনগণকে পটানোর জন্যে যখন যে চেতনার দরকার সেটাই ব্যবহার করে। এই ধরনের চেতনা মিশ্রিত কথা বললে আমরা দুর্বল হয়ে যাই । শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিলেও প্রতিবাদ করতে পারি না ।

এদের সবার ধান্দা সেই একই। কখনো এতিমের বেওয়ারিশ শরীল , কখনো গণতন্ত্রের শরীর খাবলে খায় ।

প্রকৃত বিচারে এদের নিজস্ব কোনো পাওয়ার নেই । বিবেকবোধ , গিলা – কলিজা – ঘেন্না-পিত্তি -লজ্জা -শরম কিচ্ছু নেই । মনিব যা ঈঙ্গিত করেন , জোকার সেজে সেটারই অভিনয় করে যান ।

মাঝে মাঝে সার্কাসের জোকারের মতই হাম্বি তাম্বি করেন , ব্যাটাগিরি দেখান । কিছুক্ষণ পর আবার করুণভাবে ধরা খান । জোকারদের এই বেকায়দা অবস্থা দেখেও দর্শকরা বিনোদিত হয় ।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়েও একই সার্কাস চলেছে ।

নির্বাচন কেমন হয়েছে তা সবাই জানেন ।

কিন্তু ছাত্র সমাজ জেগে ওঠতে পারে এবং এটাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে -সেই ভয় থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুকে ভিপি হিসাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র ।

এমতাবস্থায় অনেকে নুরুকে এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিচ্ছেন । অনেকটা প্যানিক থেকেই সরকার এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে । কাজেই এই পদটি ধরে রেখেই তিনি ছাত্র সমাজের চলমান আন্দোলনকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন বলে আমার মনে হয় । তিনি যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন , এই পদ তাকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সমর্থন জোগাতে পারে । প্রত্যাখ্যান করলে খুব একটা লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না ।

এটিকে গত সংসদ নির্বাচনের সাথে এক করে দেখার অবকাশ নেই । বরং সরকার যে অস্ত্র ছুঁড়েছে সেই অস্ত্র দিয়েই সরকারকে ঘায়েল করা সম্ভব । শুধু দরকার সজাগ থাকা এবং সরকারের কোনো প্রলোভনে না পড়া।

সরকার এবং সরকারের তল্পীবাহক মিডিয়া

সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে জনাব নুরু ও তার গ্রুপকে শিবির হিসাবে প্রতিপন্ন করতে । সেই নুরুকে ভিপি হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হওয়ায় সরকারের নৈতিক পরাজয় স্পষ্ট হয়েছে ।

প্রশ্ন জেগেছে ,

তাহলে কি দেশের ছাত্র সমাজ ছাত্র শিবির সমর্থিত একটা গ্রুপের নেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হিসাবে নির্বাচিত করে ফেলেছে ?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক কর্মী প্রতিবাদের বিশেষ ভাষা হিসাবে ‘ আমি রাজাকার ‘ বুকে লিখে প্রদর্শন করায় জাফর ইকবাল গং গোস্বায় ফেটে পড়ে ছিলেন । সেই ছাত্রের গায়ে বমি করে দেয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছিলেন । তাদেরই নেতা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হয়েছে – এটি জাফর ইকবাল গং কীভাবে হজম করে আপাতত এটিই দেখার বিষয়।

বি.দ্র. লেখাটি পড়ে আমাদের বরিশালের ব্যাচমেইট নিম্নোক্ত মন্তব্য করেন , “ ওই দুইটা যে বরিশাইল্লা ভূ..তা উল্লেখ করা উচিত ছিল। মুখ দেখানোর আর পথ নাই। আব্দুল্লাহর বোটে বাকি জীবনটা কাটাইতে হইব।”

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ জামায়াত-শিবির সাথে নিয়ে ছাত্রসংসদের শপথ নিও না প্রয়োজনে আরও ২৮০ বছর ডাকসু বন্ধ থাকুক তবুও!


দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ নির্বাচন বর্জন করে ছা্ত্রলীগ বাদে বাকি সব প্যানেল। অবশেষে নানা নাটকীয়তা শেষে ডাকসুতে ছাত্রলীগ একচেটিয়া জয় পেলেও ভিপি হন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর।

ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন পরাজিত পেছনে ছাত্রলীগের অর্ন্তকোন্দলকে দায়ী করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এ বিষয়ে তিনি ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাজমুল লিখেছেন, ‘হতে পারে শোভনকে তুমি কম পছন্দ করো কিন্তু শোভন কিন্তু ছাত্রলীগের চেয়ার এবং তোমাদের মিছিলের সাথী। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুতে নির্বাচিতদের বলবো জামায়াত-শিবির সাথে নিয়ে ছাত্রসংসদের শপথ নিও না। প্রয়োজন হলে ২৮ বছর না আরও ২৮০ বছর ডাকসু বন্ধ থাকুক। প্রাণের ক্যাম্পাসের নেতৃত্ব ওই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাতে থাকবে এটা হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর রক্ত এবং আদর্শের সাথে বেঈমানী করো না।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নুর ছাড়াও জিএস হয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও এজিএস হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ নুরকে ভিপি করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা!


নজিরবিহীন দখল, জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, জালভোট আর বিরোধী প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যদিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। এরমাধ্যমে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আরেকটি প্রহসন দেখলো দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের ভোটডাকাতি ও জাল জালিয়াতির ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঢাবি প্রশাসন ও সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ঢাবির ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটার মধ্যেও ভোটডাকাতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তারা অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করে নতুন করে তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন। ঢাবি ভিসি, প্রোভিসি ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ কথা বলছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচনকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় বলে আখ্যাদিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম সংস্করণে সংবাদ ছাপা হয়েছে যে, ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। কেউ আবার শিরোনাম করেছে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল। কিন্তু, রাত ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করছেন, ব্যাপক জালিয়াতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে সীমাহীন ভোটডাকাতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় সরকার। শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগকে জেতানো। ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠবে এটা সরকারেরও ধারণা ছিল না। ছাত্রলীগ ছাড়া সবগুলো ছাত্রসংগঠন ভোট বর্জন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুপুর থেকেই আন্দোলনে নামে। ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মনিটর করা হচ্ছিল। কখন কি হচ্ছে সব কিছুর আপডেটই প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।

এরপর রাত ১ টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। হয়তো নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে অন্যাথায় আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপরই আ.লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এ নিয়ে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই সময়ই কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ভিপি পদ দিয়ে ছাত্রআন্দোলন দমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বামজোটের অবস্থা ভাল না। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এজন্য কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে শান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকেও এ নিয়ে চুপ থাকতে বলেন শেখ হাসিনা । আর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি রাব্বানীকেও বলা হয়েছে প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভ অবরোধ করার জন্য। এরপরই রাত সাড়ে ৩ টায় নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাবি ভিসি। এ ঘোষণার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগ।

এদিকে, পুরো ঘটনাটিই যে সরকারের তৈরি খেলা ছিল সেটা মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেই ফেললেন যে, পরিবেশ ঠিক রাখতে কোনো কোনো সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। নেতাকর্মীদেরকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরই টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন। তাৎক্ষণিক আলোচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তারা। মূলত ছাত্রআন্দোলনকে থামাতেই সরকার এই নাটকটি করেছে।

কিন্তু, নুরসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ ছাত্ররা ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা অবিচল রয়েছেন। ইতিমধ্যে চারজন প্রার্থী নতুন নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। সাধারণ ছাত্ররাও লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অপরদিকে, ভোটডাকাতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা আজ একাধিক বৈঠক করেছেন। কারণ, নুরকে ভিপি করে স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলনের মতো এটা আবার ভিন্নদিকে মোড় নেয় কিনা এনিয়ে টেনশনে আছেন শেখ হাসিনা।

সরকার মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। এছাড়া সরকারবিরোধী মহল থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে উস্কে দিতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিটাকে সরকার একটা সংকট হিসেবেই দেখছে। তবে, পরিস্থিতি কখন কোন দিকে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা সব সময়ই খোঁজ খবর রাখছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছেঃ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার


ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা ঘটেছে, তা প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণেই ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, তা ঘটেছে। ব্যালট পেপারে ভোটের আগে সিল দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। যা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ডাকসু নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। যে কোনো নির্বাচন কর্তার ইচ্ছার কর্ম হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সঠিক পথে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাসন’ প্রতিষ্ঠা করে তাহলে সব সময় নির্বাচন ভালো হবে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ‘সুশাসন’ অনেক পরের ব্যাপার। আগে ‘শাসন’ নিশ্চিত করতে হবে। সেটি দেশেই হোক, প্রতিষ্ঠানেই হোক, সর্বাগ্রে তা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে হবে, আগামীতে যখন নির্বাচন হবে, অতীতের যে সব ব্যত্যয়, বিচ্যুতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে, ভবিষ্যতে যেন তা না ঘটে।

তিনি বলেন, দলের অনুগত, অনুসারী থাকবেন, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ দলের জন্য ক্ষতিকর। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, ভোটের আগে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এটি এখন শনাক্ত করা গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানাবিধ অনিয়মের কথা আমরা শুনেছি। বিশেষ করে উপাচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে যারা শিক্ষক পর্যবেক্ষক দলে ছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যার ফলে নির্বাচনে অনিয়ম এবং বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনের দৌরাত্ম্য, সব মিলিয়ে এই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেন অপছায়া যেন ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবুও আশাবাদী হতে চাই, সর্বশেষ পরিস্থিতির বাস্তবে যে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা যেন সামগ্রিক পরিস্থির ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, একমাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন বর্জন যে কেউ করতেই পারে। কিন্তু কেন করেছে-সেটাই লক্ষ্যণীয়।

এটা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, এতদিন নেতা তৈরির কারখানাটি বন্ধ ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে সে কারখানা খুলে গেল। এই কারখানায় যারা শ্রমিক হিসেবে এলেন, তারা কেমন নেতা তৈরি করতে পারবেন? তারা কতটুকু নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ থেকে গেল।

প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বলেন, শুধু ডাকসুতে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়া দরকার। শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচন হওয়া দরকার। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো দল বা গোষ্ঠী ভিত্তিক নয়, সব ছাত্র সংগঠনের ছাত্রছাত্রী মিলে একটি সংগঠনে দাঁড়াবে। সেখান থেকে নির্বাচন হবে।

নির্বাচিত ভিপিকে ছাত্রলীগ সভাপতির অভিনন্দন জানানো এবং একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা ইতিবাচক রাজনীতির অংশ। নির্বাচন যাই হোক, নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। এটা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত।

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম


ডাকসু পুনর্নির্বাচন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং ভিসির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্যানেল। দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণার জন্য তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট প্যানেলের ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লিটন নন্দী। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন।

দাবি বাস্তবায়নে বুধবার (১৩ মার্চ) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া দাবির বিষয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন এবং উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

লিটন নন্দী বলেন, ‘দাবি বাস্তবায়নে আগামীকাল দুপুর ২টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান করবো। আমরা পাঁচটি প্যানেলের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোর ঘোষণা করছি। যেহেতু দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ফলে প্রত্যাহারের ঘোষণা বহাল থাকবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এসে আমাদের সঙ্গে যোগদান করুক।’

এরআগে, বিকালে টিএসসিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রেজওয়ানুল হক শোভন নুরুল হক নুরকে শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তার এ কথায় সহমত পোষণ করে ভিপি নুরও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পাঁচ প্যানেলের প্রতিনিধিরা

এর প্রতিক্রিয়ায় লিটন নন্দী বলেন, ‘নুরুল হক নুর যে বক্তব্য দিয়েছে এটা কোটা আন্দোলনের প্যানেলের বক্তব্য। এটা আমাদের অন্যান্য প্যানেলের বক্তব্য না। আমরা পুনর্নির্বাচনের তফসিলের দাবিতে আন্দোলনে ছিলাম, এখনও আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে নুরের কথা হয়েছে। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রলীগ স্টেটমেন্ট দিতে বাধ্য করেছে। এই বক্তব্য তার না। তারপরও আমরা তার সঙ্গে চারটি প্যানেলের নেতারা বসে বৈঠক করবো। সে যদি আমাদের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে আমরা চারটি প্যানেল পৃথক আন্দোলন কর্মসূচি দেবো।’

ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী উম্মে হাবীবা বেনজীর বলেন, ‘নুরের বক্তব্য আমাদের কথা না। আমরা পুনর্নির্বাচনের আন্দোলনের দাবিতে রয়েছি। আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের পক্ষে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আসিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয় আমাদের সঙ্গে নুর কোনও আলোচনা করেননি। আমরা পুনরায় কর্মসূচির জন্য আমাদের সমমনা প্যানেলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবো।’

পরে সন্ধ্যায় সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশনসহ ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা এক হয়ে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে সবাই মিলে পুনর্নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

এদিকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয় ছাত্রদলের ডাকসু জিএস প্রার্থী খন্দকার আনিসুর রহমান অনিক বলেন, ‘আমরা আজকেও কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি দেবো। সে বিষয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। এবিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানানো হবে।’

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি ভিসিকে সরকারের নির্দেশ!


দীর্ঘ ২৯ বছর পর আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। ২৯ বছর ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে যে ধরণের উৎসব বিরাজ করার কথা ছিল তা নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যকোনো প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কোনো আনন্দ লক্ষ্য করা যায়নি। সবার মধ্যেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এর আগেও অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক অনুসন্ধ্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডাকসু নির্বাচনটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। আওয়ামী লীগকে জেতাতে সিইসি নুরুল হুদা যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন, ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামানও ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে ঠিক সেই পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু করেছেন। যেমন-তড়িগড়ি তফসিল ঘোষণা, বিরোধী প্যানেলের সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের প্রার্থীতা বাতিল, নির্বাচনী প্রচারে সুযোগ না দেয়া, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। মূলত ছাত্রলীগের বিপক্ষের কোনো প্যানেলের প্রার্থীদের অভিযোগকে পাত্তাই দেননি ঢাবি ভিসি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, হলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে ছাত্রলীগ। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে সব কিছুই ছিল ছাত্রলীগের অনুকূলে। সবই ছিল ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি প্রশাসনের মাস্টার প্লান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে যা যা করার দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে।

প্রথমত: ভোট হবে হলে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ক্যাম্পাসে। হলগুলো এমনিতেই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। ভোটগ্রহণের সময় ছাত্রলীগ যা খুশি তাই করতে পারবে। এখানে বাধা দেয়ার মতো সাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত: গণমাধ্যমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাবি প্রশাসন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। বিষয়টা পরিষ্কার যে ভোট ডাকাতি চাপা দিতেই মূলত ঢাবি প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তৃতীয়ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর সঙ্গে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে রাতেই। বিরোধী প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতেই ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করতে পারে।

চতুর্থত: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনের কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে এটাই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভিসি আখতারুজ্জামানকে বলে দেয়া হয়েছে আপনাকে এই পদে থাকতে হলে সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করতে হবে। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সব সম্পদক পদগুলোতে অবশ্যই ছাত্রলীগের নেতারা থাকতে হবে। আর সদস্য পদ কিছু চলে গেলে সমস্যা নেই।

জানা গেছে, ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার ও ছাত্রলীগকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা সব কিছুই ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্রলীগকে বলে দেয়া হয়েছে তোমরা তোমাদের মত কাজ কর। বাকীটা আমরা দেখবো।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here