নুরকে ভিপি করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা!

0
404

নজিরবিহীন দখল, জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, জালভোট আর বিরোধী প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যদিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। এরমাধ্যমে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আরেকটি প্রহসন দেখলো দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের ভোটডাকাতি ও জাল জালিয়াতির ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঢাবি প্রশাসন ও সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ঢাবির ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটার মধ্যেও ভোটডাকাতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তারা অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করে নতুন করে তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন। ঢাবি ভিসি, প্রোভিসি ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ কথা বলছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচনকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় বলে আখ্যাদিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম সংস্করণে সংবাদ ছাপা হয়েছে যে, ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। কেউ আবার শিরোনাম করেছে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল। কিন্তু, রাত ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করছেন, ব্যাপক জালিয়াতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে সীমাহীন ভোটডাকাতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় সরকার। শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগকে জেতানো। ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠবে এটা সরকারেরও ধারণা ছিল না। ছাত্রলীগ ছাড়া সবগুলো ছাত্রসংগঠন ভোট বর্জন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুপুর থেকেই আন্দোলনে নামে। ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মনিটর করা হচ্ছিল। কখন কি হচ্ছে সব কিছুর আপডেটই প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।

এরপর রাত ১ টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। হয়তো নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে অন্যাথায় আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপরই আ.লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এ নিয়ে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই সময়ই কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ভিপি পদ দিয়ে ছাত্রআন্দোলন দমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বামজোটের অবস্থা ভাল না। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এজন্য কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে শান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকেও এ নিয়ে চুপ থাকতে বলেন শেখ হাসিনা । আর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি রাব্বানীকেও বলা হয়েছে প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভ অবরোধ করার জন্য। এরপরই রাত সাড়ে ৩ টায় নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাবি ভিসি। এ ঘোষণার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগ।

এদিকে, পুরো ঘটনাটিই যে সরকারের তৈরি খেলা ছিল সেটা মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেই ফেললেন যে, পরিবেশ ঠিক রাখতে কোনো কোনো সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। নেতাকর্মীদেরকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরই টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন। তাৎক্ষণিক আলোচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তারা। মূলত ছাত্রআন্দোলনকে থামাতেই সরকার এই নাটকটি করেছে।

কিন্তু, নুরসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ ছাত্ররা ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা অবিচল রয়েছেন। ইতিমধ্যে চারজন প্রার্থী নতুন নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। সাধারণ ছাত্ররাও লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অপরদিকে, ভোটডাকাতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা আজ একাধিক বৈঠক করেছেন। কারণ, নুরকে ভিপি করে স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলনের মতো এটা আবার ভিন্নদিকে মোড় নেয় কিনা এনিয়ে টেনশনে আছেন শেখ হাসিনা।

সরকার মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। এছাড়া সরকারবিরোধী মহল থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে উস্কে দিতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিটাকে সরকার একটা সংকট হিসেবেই দেখছে। তবে, পরিস্থিতি কখন কোন দিকে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা সব সময়ই খোঁজ খবর রাখছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছেঃ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার


ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা ঘটেছে, তা প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণেই ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, তা ঘটেছে। ব্যালট পেপারে ভোটের আগে সিল দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। যা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ডাকসু নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। যে কোনো নির্বাচন কর্তার ইচ্ছার কর্ম হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সঠিক পথে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাসন’ প্রতিষ্ঠা করে তাহলে সব সময় নির্বাচন ভালো হবে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ‘সুশাসন’ অনেক পরের ব্যাপার। আগে ‘শাসন’ নিশ্চিত করতে হবে। সেটি দেশেই হোক, প্রতিষ্ঠানেই হোক, সর্বাগ্রে তা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে হবে, আগামীতে যখন নির্বাচন হবে, অতীতের যে সব ব্যত্যয়, বিচ্যুতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে, ভবিষ্যতে যেন তা না ঘটে।

তিনি বলেন, দলের অনুগত, অনুসারী থাকবেন, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ দলের জন্য ক্ষতিকর। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, ভোটের আগে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এটি এখন শনাক্ত করা গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানাবিধ অনিয়মের কথা আমরা শুনেছি। বিশেষ করে উপাচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে যারা শিক্ষক পর্যবেক্ষক দলে ছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যার ফলে নির্বাচনে অনিয়ম এবং বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনের দৌরাত্ম্য, সব মিলিয়ে এই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেন অপছায়া যেন ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবুও আশাবাদী হতে চাই, সর্বশেষ পরিস্থিতির বাস্তবে যে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা যেন সামগ্রিক পরিস্থির ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, একমাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন বর্জন যে কেউ করতেই পারে। কিন্তু কেন করেছে-সেটাই লক্ষ্যণীয়।

এটা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, এতদিন নেতা তৈরির কারখানাটি বন্ধ ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে সে কারখানা খুলে গেল। এই কারখানায় যারা শ্রমিক হিসেবে এলেন, তারা কেমন নেতা তৈরি করতে পারবেন? তারা কতটুকু নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ থেকে গেল।

প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বলেন, শুধু ডাকসুতে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়া দরকার। শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচন হওয়া দরকার। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো দল বা গোষ্ঠী ভিত্তিক নয়, সব ছাত্র সংগঠনের ছাত্রছাত্রী মিলে একটি সংগঠনে দাঁড়াবে। সেখান থেকে নির্বাচন হবে।

নির্বাচিত ভিপিকে ছাত্রলীগ সভাপতির অভিনন্দন জানানো এবং একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা ইতিবাচক রাজনীতির অংশ। নির্বাচন যাই হোক, নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। এটা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত।

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগ প্রয়োজনে কাছে টানে, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুঁড়ে ফেলে: নবনির্বাচিত ভিপি নুর(ভিডিও সহ)


শপথ নেবেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন চান এই ছাত্রনেতা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের পুরো প্যানেল জিততো। তার অন্যতম উদাহরণ সুফিয়া কামাল, শামসুন্নাহার ও কুয়েত মৈত্রী হল।’

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৯ মিনিটে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন নুরুল হক নুর।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ’রাতে ব্যালটে সিল মেরে বক্স ভর্তি, বাইরের শিক্ষার্থীরা যেন ভোট দিতে না পারে সেজন্য গণরুমের শিক্ষার্থী এবং নিজেদের লেজুরবৃত্তিক অপরাজনীতি করা নেতা-কর্মীদের দিয়ে বিশাল লাইন করানো।

এতো কারচুপি,অনিয়ম, রাতভর ইঞ্জিনিয়ারি করেও নুর এবং আখতারকে হারাতে পারেনি।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের পুরো প্যানেল জিততো। তার অন্যতম উদাহরণ সুফিয়া কামাল, শামসুন্নাহার ও কুয়েত মৈত্রী হল।’

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এছাড়াও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নুর বলেন, ’আমরা চেয়েছিলাম একটা দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম কারচুপির কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।’

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নুর ঢাবি ক্যাম্পাসে গেলে টিএসসি এলাকায় তাকে ধাওয়া করে ছাত্রলীগ। নুরকে রক্ষ করতে গিয়ে হামলায় আহত হন ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক প্রার্থী তৌহিদুর রহমান।

এর পর টিএসসিতে পৌঁছেই নুরুকে জড়িয়ে ধরেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি পদে পরাজিত প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন।

নবনির্বাচিত ভিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানান শোভন।

সোম আর মঙ্গলবার ছাত্রলীগের হামলা এবং পরে সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন কর্তৃক সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে নুর বলেন, ’ছাত্রলীগ প্রয়োজনে কাছে টানে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুঁড়ে ফেলে।’

সোমবার অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এছাড়া নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ভোটের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ভুলন্ঠিত করেছে : ড. মোশাররফ


আওয়ামীলীগ ভোট কারচুপি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ভুলন্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মঙ্গলবার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার দলীয় যে ছাত্র সংগঠন আছে তাদের মুরুব্বীরা যেভাবে ২৯ ডিসেম্বর ডাকাতি করেছে ভোট, গতকাল তারা(ছাত্রলীগ) এটাকে ভুলে গিয়ে ঠিক ২৯ ডিসেম্বরের রাত্রের মতোই এখানে (ডাকসু নির্বাচন) ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল মেয়েদের কাছে ধরা পড়েছে যে, তারা আগের রাত্রে ভোট দিয়ে রেখেছে। এর চেয়ে লজ্জ্বাজনক আর কিছু হতে পারে না। ভোট হাতে দেয়া না, আগের রাতে বাক্সে ভোট চুরি করে দেয়ার যে সংস্কৃতি ক্ষমতাসীনরা গড়ে তুলেছে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা ব্যবহার করা হয়েছে। তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঐতিহ্য তাকে সম্পূর্ণভাবে ভুলন্ঠিত করা হয়েছে, আমাদের যে গৌরব সেই গৌরবে আজকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। আমি তীব্র নিন্দা জানাই।

ড. মোশাররফ বলেন, আপনারা দেখেছেন, যারা নির্বাচনে পাস করেছে তারাও প্রতিবাদ করছে। যাদেরকে ভোট দিতে দেয় নাই তারাও প্রতিবাদ করছে। আজকে সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে না। তার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগনকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো।

সারাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন হলো। সেন্টারে দেখা গেলো কর্মকর্তারা ভোটারের অপেক্ষায়, কোনো ভোটার নাই। এই ভোটারা ক্ষুব্ধ বলে তারা ভোট দিতে যাওয়া প্রয়োজন মনে করে নাই।গত পরশু ইলেকশন হলো উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বের। সেখানেও একই অবস্থা। কেন্দ্র এ যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন তারা বসে আছেন কিন্তু ভোটার নাই।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন কলঙ্কময়। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমিও ছাত্র ছিলাম, ২১ বছর শিক্ষক ছিলাম। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য আছে এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। এই বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যত আন্দোলন- ’৬৯ এর গণ আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং নববইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এই ডাকসুর অবদান। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। এসব আন্দোলনে ডাকসু নেতৃত্ব দিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে- ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উদ্দিপনা-উৎসাহ ছিলো। কিন্তু যেহেতু এখানেও সরকার যে দলীয় ছাত্র সংগঠন আছে তাদের মুরুব্বীরা যেভাবে ২৯ ডিসেম্বর ডাকাতি করেছে ভোট এবং এসব কর্মীদের হাতে হয়েছে। তারা কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের ঐতিহ্য-গৌরব ভুলে গিয়ে ঠিক ২৯ ডিসেম্বর রাতে মতোই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালো।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভার পর মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মিঞা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার খন্দকার মারুফ হোসেন, ফোরামের সভাপতি জসিম উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর ছেলে রোমান চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ডাকসু ভোট গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মেরেছে: শামসুজ্জামান দুদু


ভোট ডাকাতি, জবরদখল ও হামলা-হুমকির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মারা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও নবগঠিত কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাদপীঠ যেটা আমাদের অহংকারের জায়গা সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় এক ধরনের নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। গতকালের ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার ৪৭ বছরের ইতিহাসে সব থেকে মর্মান্তিক ঘটনা।’

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির সম্মেলন উপলক্ষে নবগঠিত যুগ্ম আহ্বায়কদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মচারীদের গণতন্ত্রের স্বপক্ষে ভূমিকা আগাগোড়া ছিল। গতকাল দিনে এবং রাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের ছাত্ররা শুধু নয়, কর্মচারী শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার দায়িত্ব আবার ঢাবি শিক্ষার্থীদেরকেই নিতে হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত বিপ্লবী শিক্ষকরা এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে আছেন যারা কখনোই আপস করেননি দুর্নীতির সঙ্গে স্বজনপ্রীতির সঙ্গে তারাও ছাত্রদের সঙ্গে পাশে এসে দাঁড়াবেন এটা আমরা প্রত্যাশা করি।’

দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদের লড়াই ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। সেই লড়াইয়ে যদি আমরা জয়লাভ করতে না পারি তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্নতার দিকে এগিয়ে যাবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম আহবায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মাস্টার, জামাল উদ্দিন খান মিলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, এসকে সাদী, মাইনুল ইসলাম, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান লিটু, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, আলমগীর চৌধুরী ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম


ডাকসু পুনর্নির্বাচন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং ভিসির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্যানেল। দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণার জন্য তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট প্যানেলের ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লিটন নন্দী। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন।

দাবি বাস্তবায়নে বুধবার (১৩ মার্চ) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া দাবির বিষয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন এবং উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

লিটন নন্দী বলেন, ‘দাবি বাস্তবায়নে আগামীকাল দুপুর ২টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান করবো। আমরা পাঁচটি প্যানেলের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোর ঘোষণা করছি। যেহেতু দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ফলে প্রত্যাহারের ঘোষণা বহাল থাকবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এসে আমাদের সঙ্গে যোগদান করুক।’

এরআগে, বিকালে টিএসসিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রেজওয়ানুল হক শোভন নুরুল হক নুরকে শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তার এ কথায় সহমত পোষণ করে ভিপি নুরও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পাঁচ প্যানেলের প্রতিনিধিরা

এর প্রতিক্রিয়ায় লিটন নন্দী বলেন, ‘নুরুল হক নুর যে বক্তব্য দিয়েছে এটা কোটা আন্দোলনের প্যানেলের বক্তব্য। এটা আমাদের অন্যান্য প্যানেলের বক্তব্য না। আমরা পুনর্নির্বাচনের তফসিলের দাবিতে আন্দোলনে ছিলাম, এখনও আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে নুরের কথা হয়েছে। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রলীগ স্টেটমেন্ট দিতে বাধ্য করেছে। এই বক্তব্য তার না। তারপরও আমরা তার সঙ্গে চারটি প্যানেলের নেতারা বসে বৈঠক করবো। সে যদি আমাদের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে আমরা চারটি প্যানেল পৃথক আন্দোলন কর্মসূচি দেবো।’

ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী উম্মে হাবীবা বেনজীর বলেন, ‘নুরের বক্তব্য আমাদের কথা না। আমরা পুনর্নির্বাচনের আন্দোলনের দাবিতে রয়েছি। আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

ভিডিওঃ ‘ভিসির পদত্যাগ ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের পক্ষে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আসিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয় আমাদের সঙ্গে নুর কোনও আলোচনা করেননি। আমরা পুনরায় কর্মসূচির জন্য আমাদের সমমনা প্যানেলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবো।’

পরে সন্ধ্যায় সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশনসহ ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা এক হয়ে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে সবাই মিলে পুনর্নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

এদিকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয় ছাত্রদলের ডাকসু জিএস প্রার্থী খন্দকার আনিসুর রহমান অনিক বলেন, ‘আমরা আজকেও কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি দেবো। সে বিষয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। এবিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানানো হবে।’

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ডাকসুর নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন চান


ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত তিনি এবং সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন শপথ নেবেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

এই ছাত্রনেতা জানান, তিনি ডাকসুর পুনর্নির্বাচন চান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিরপেক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসু নির্বাচনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন আয়োজনে যারা জড়িত ছিলেন তাদের পদত্যাগও দাবি করে নুর বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে আবার নির্বাচন দিতে হবে। তার আগে এই নির্বাচনের সাথে যারা আছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি বলেন, পুনর্নির্বাচন হলে সবগুলো পদেই হতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি ফেয়ার নির্বাচন হলে আমরা পূর্ণ প্যানেলেই জিতব।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা অন্যান্য সংগঠন এ বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেবে তাতে পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও জানান ডাকসু ভিপি।

সোম আর মঙ্গলবার ছাত্রলীগের হামলা এবং পরে সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন কর্তৃক সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে নুর বলেন, ছাত্রলীগ প্রয়োজনে কাছে টানে প্রয়োজন পুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নুর ঢাবি ক্যাম্পাসে গেলে টিএসসি এলাকায় তাকে ধাওয়া করে ছাত্রলীগ। নুরকে রক্ষ করতে গিয়ে হামলায় আহত হন ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক প্রার্থী তৌহিদুর রহমান। এরপর নুর ও তার সঙ্গীরা টিএসসির ভেতরে অবস্থান নিলে বিকালে সেখানে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি পদে পরাজিত প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন।

টিএসসিতে পৌঁছেই নুরুকে জড়িয়ে ধরেন শোভন। এ সময় নুরু বলেন, তিনি স্বাগত জানাতে এসেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমিও তাকে স্বাগত জানিয়েছি। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেছেন তারা আমাদের সাথে একসাথে কাজ করতে চান। আমরাও একসাথে কাজ করতে আগ্রহী।

নুরু আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম কারচুপির কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার ঘোষিত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুর।

তিনি বলেন, হামলার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাংগঠনিক এবং বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় সেটা আমরা দেখব।

ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, আমরা নুরুকে সার্বিক সহায়তা করব। এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকব।

সোমবার অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

এছাড়া নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ভোটের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের চ্যালেঞ্জ(ভিডিও সহ)


বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ছাত্রলীগকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম যে, আমাদের ভিসি স্যার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন, ছাত্রলীগ একটি সদস্য পদও পাবে না। যদি পদ পায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব এবং ছাত্ররা আমাকে যে ভিপি বানিয়েছেন, সেই পদ ত্যাগ করে চলে যাব।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে রাজ ভাস্কর্যের সামনে নুরুল হক নুর এ চ্যালেঞ্জ করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর পর যে নির্বাচনটা হচ্ছে, সে নির্বাচনের দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল। যখন ভোট ডাকাতি কিংবা ভোট না দিতে দেয়ার কারণে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের অনাস্থা ঢুকে গেছে, নির্বাচন নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে, সেই জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্য দিয়ে তাদের অনাস্থা কিংবা বিরূপ ধারণার পরিবর্তন হবে।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের চ্যালেঞ্জ(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নুর বলেন, আমরা দেখেছি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলকানা প্রশাসন তাদের নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকে জয়ী করতে যত রকম কারচুপি করা যায়, সেগুলোর প্রত্যেকটি তারা করেছে।

তিনি বলেন, ‘কারচুপ ও অনিয়ম করে তারা আমাকে এবং আখতারকে আটকাতে পারেনি; কিন্তু বাকিদের আটকাতে পেরেছে। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন- শামসুন্নাহার হলে স্বতন্ত্র প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। বেগম সুফিয়া কামাল হলেও স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, প্রত্যেকটি হলে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে যারা ছিল, তারাই বিজয়ী হতো।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমার চাওয়া একটিই- অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা আমরা তুলে ধরেছি, কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভরা ব্যালট পেপার আমরা দেখিয়েছি, সুফিয়া কামাল হলে রাত ২টার সময় ব্যালটবাক্স ঢোকানো হয়েছে, সেগুলো আমরা দেখিয়েছি এবং রোকেয়া হলে যে ব্যালটবাক্স ভরা ছিল, সেগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে আমি ছাত্রলীগের লেডি সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনের নেতৃত্বে হামলার শিকার হয়েছি।

‘আজকে যখন ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে এখানে এসেছি, তখনও সেই হাতুড়ি, হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাসীরা টিএসসিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বলতে চাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিয়ে খেলবেন না, পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ সব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছি। এত কারচুপির পরও ছাত্রদের ম্যান্ডেট পেয়ে আমি বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু ভিপি হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছাত্রসমাজকে নিয়ে আমি তীব্র আন্দোলন করব।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ একটি গুজব সংগঠন; তারা নিজেরা গুজব ছড়ায়। নির্বাচন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অথচ এনএসআই, ডিজিএফআইসহ সব ধরনের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এই নির্বাচনে জড়িত ছিল।

‘আপনারা দেখেছেন, ফল ঘোষণা নিয়ে কী নাটক করা হয়েছে। রাত ৩টার সময় ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আর একটি পদে যখন আমরা বিজয়ী হয়েছি, তখন সেটিকে বিতর্কিত করতে তারা স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে।’

ঢাবি প্রশাসনকে ছাত্রলীগের অপকর্মের সহযোগী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন তাদের কাছ থেকে বিচার পাইনি। ঢাবি প্রশাসনকে বলছি- ছাত্রদের অধিকার নিয়ে খেলবেন না।

‘বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ, যিনি ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত, তিনি নাকি আমার ও লিটন দাসহ ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। আমরা ভিপি ও সমাজসেবা পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে ফের নির্বাচন দাবি করছি। ছাত্রদের দাবি ছিল- সুষ্ঠু নির্বাচন। যেহেতু সেটি হয়নি, সেহেতু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আন্দোলন করব।’

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ গণরুম, গেস্টরুমের যাদের রাখে, তাদের জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, তার কোনো চিহ্ন দেয়া হয়নি।

‘যারা ভোট দিয়েছে, তারাই আবার লাইনে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রতিটি স্বতন্ত্র প্যানেল- এমনকি কেন্দ্রীয় ডাকসুতেও আমাদের পুরো প্যানেল জয়ী হতো। প্রশাসন কারচুপি করে ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিয়েছে’ বলেন নুর।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুরুল হক নুরের বিজয় নিয়ে যা বললেন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। শত অনিয়ম ও কারচুপির মধ্যেও নুরের বিজয়ে অভিনন্দন ও ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, বিশাল আকারে কারচুপি করেও কেবল জনপ্রিয়তার কারণে নুরুল হক নুরকে পরাজিত করতে পারেনি সরকারদলীয়রা। পাশাপাশি নবনির্বাচিত নুরের মধ্যে তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখছেন বলেও জানিয়েছেন ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে কোটা আন্দালনের আরো অনেকে জয়লাভ করতো বলেও মনে করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, যেখানে কারচুপির সুযোগ ছিলো না সেখানে পুরো প্যানেলেই পরাজিত হয়েছে ছাত্রলীগ। উদাহরণ হিসেবে তিনি কুয়েত-মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফলের কথা উল্লেখ করেন।

ড. আসিফ নজরুলের পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে দেয়া হলো-

‘নূরের বিজয়, নূরের শপথ

কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফল ভালো করে লক্ষ্য করুন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ব্যালট ভরা বাক্স উদ্ধারের পর সাধারণ ছাত্রীরা তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না সেখানে। ফলাফল? ১৩টির সব আসনে পরাজিত ছাত্রলীগ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে ডাকসু ও বাকী সব হলের ফলাফল হয়তো তাই হতো। ডাকসুতে শুধু নুর আর আখতার না, জিততো কোটা আন্দালনের আরো অনেকে। বিভিন্ন আলামত দেখে এটা মনে হয় যে, কোটার অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নুর আর আখতারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান এতো বিশাল ছিল যে, কারচুপি করেও তাদের হারানো যায়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুরের কি ডাকসু’র ভিপি পদ গ্রহন করা উচিৎ? আমার মতে কোটা আন্দোলনের নেতারা সবাই যদি রাজী থাকে তাহলে তার ডাকসু’র ভিপির পদ গ্রহণ করা উচিত। ডাকসু’র ভিপি হিসেবেই হয়তো ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করা সম্ভব। তবে নুরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোটা আন্দোলনের নেতাদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে। বাম বা ছাত্রদলের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতো, যদি তারা কোটার নেতাদের সাথে একসাথে নির্বাচন করতো। তারা এটি করেনি।

নুরের মধ্যে আমি দেখি তরুণ বয়েসের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই নেই।’

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ মেননের ইসলামমেননের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ!(ভিডিও সহ)


কওমি মাদ্রাসার পরিবেশ সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জানিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদে বলেছেন, কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত। মাদক, ইয়াবা, গাজা,ফেনসিডিল এখানে নিষিদ্ধ। ধূমপান এখানে চলে না। এগুলো কোথায় চলে? আমাদের স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি ও বাড়িঘরে এই মাদক ঢুকে পড়েছে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসায় ঢুকতে পারে না।

আমরা যদি এক হাজার মাদরাসা ছাত্রের রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করি, আর অন্য ছাত্রদের রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করি, তাহলে দেখা যাবে মাদরাসা ছাত্রদের রক্ত পিওর এখানে কোন মাদকের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। আর অন্য ছাত্রদের রক্ত ৫০ শতাংশ পিওর পাব না। এতো মাদক ঢুকছে।

রোববার (১০ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সংসদে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এসব কথা বলেন।

পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সংসদে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতা’ আখ্যায়িত করে তা এক্সপাঞ্জ করারও দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এ সাংসদ।

ভিডিওঃ ‘মেননের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ!(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কওমি মাদ্রাসা আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলছে জানিয়ে সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদে বলেছেন, ‘ বাংলাদেশে ২০ হাজার কওমি মাদ্রাসা আছে। ২০ লাখ ছাত্র এ মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন-হাদিস নিয়ে পড়াশোনা করেন। কঠিন ইসলামিক ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে তাদের চলতে হয়। রাত সাড়ে তিনটার সময় তাদের ঘুম থেকে ওঠতে হয়।

প্রথমে তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে। তারপর কোরআন শরীফের হিফজ করে। এভাবে তাদের দিন শুরু হয়। রাত ১০টার মধ্যে তাদের ঘুমিয়ে যেতে হয়। রাতজেগে ফেসবুক বা ইন্টারনেটে তারা সময় পার করে না। স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মতো ঘি-মাখন-রুটি-পরাটা খেয়ে স্কুলে যায় না। যা জোটে তা-ই খায়।

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, যিনি আগে মন্ত্রী ছিলেন, এই সংসদে ধান ভানতে শিবের গীত গেয়েছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কওমি মাদ্রাসা নিয়ে তিনি অনেক বেহুদা কথা বলেছেন। কওমি মাদ্রাসা নাকি একটা বিষবৃক্ষ! অথচ এই সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি দিতে সর্বসম্মতক্রমে আইন পাস করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে এ সংসদে তা করেছি। এটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এজন্য সব কওমি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে। এখানে তো কোনও মোল্লাতন্ত্র সৃষ্টি বা দেশ দখলের ষড়যন্ত্র হয় না। ’

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অংশ নিয়ে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি প্রদান, হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা আহমদ শফীর কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি কওমি শিক্ষাকে বিষবৃক্ষ ও আলেমদের মোল্লাতন্ত্র বলে মন্তব্য করেন। রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যে দেশজুড়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে।

হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলো মেননের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার না কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বিষয়টি এতদিন রাজপথে থাকলেও রোববার তা সংসদে তুলেন জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ।

ইসলাম বিরোধী বক্তব্য দেয়া বামপন্থীদের রাজনৈতিক ফ্যাশন উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কিছু বামপন্থী নেতা রয়েছেন তারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলাটাকে ফ্যাশন মনে করেন। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললেই বোধ হয় আলট্রা মর্ডান হয়ে গেলাম! মানুষ মনে করবে, আমি সব থেকেই বড় বিপ্লবী বামপন্থী কমরেড হয়ে গেলাম!’

আল্লামা শফীর মতো একজন বৈশ্বিক ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে সংসদে কটাক্ষ করে দেশের শান্ত পরিস্থিতি বিনষ্ট করা হচ্ছে জানিয়ে জাপার এ সাংসদ বলেন, ‘হেফাজতের আমির, তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা। সারাজীবন মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা করেছেন। তাদের অনেক ছাত্র-ভক্ত রয়েছে। তাকে নিয়ে এই সংসদে কটাক্ষ করে কথা বলা হয়েছে।

‘তেঁতুল হুজুর’ বলে তাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। বিদ্রুপ করা হয়েছে। আমরা মনে করি এ ধরনের ধৃষ্টতা সংসদে উচিত নয়। সংসদে নেই, সংসদে কথা বলতে পারেন না, সংসদে আসতে পারেন না। তাদের নিয়ে সংসদে আমরা এ ধরনের কথা কেন বলবো? দেশ তো শান্ত আছে, শান্তিতে আছে। এখন তো কোথাও অশান্তি দেখিনা না। আমরা কেন শান্তির মধ্যে একটি অশান্তির ঢিল ছুড়ে দেবো?’

রাশেদ খান মেননের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারকে উদ্দেশ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বলে আলেম সমাজের নেতা আল্লামা শফী সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলে উনাকে অপমান করা হয়েছে। অথচ এই সংসদেই আমরা তাদের জন্য আইন পাস করেছি। এখানে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার ছিল না। এই কথাগুলো একপাঞ্জ করবেন। তাহলে অশান্ত পরিবেশ থেকে আমরা মুক্তি পাবো।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি ভিসিকে সরকারের নির্দেশ!


দীর্ঘ ২৯ বছর পর আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। ২৯ বছর ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে যে ধরণের উৎসব বিরাজ করার কথা ছিল তা নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যকোনো প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কোনো আনন্দ লক্ষ্য করা যায়নি। সবার মধ্যেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এর আগেও অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক অনুসন্ধ্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডাকসু নির্বাচনটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। আওয়ামী লীগকে জেতাতে সিইসি নুরুল হুদা যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন, ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামানও ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে ঠিক সেই পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু করেছেন। যেমন-তড়িগড়ি তফসিল ঘোষণা, বিরোধী প্যানেলের সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের প্রার্থীতা বাতিল, নির্বাচনী প্রচারে সুযোগ না দেয়া, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। মূলত ছাত্রলীগের বিপক্ষের কোনো প্যানেলের প্রার্থীদের অভিযোগকে পাত্তাই দেননি ঢাবি ভিসি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, হলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে ছাত্রলীগ। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে সব কিছুই ছিল ছাত্রলীগের অনুকূলে। সবই ছিল ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি প্রশাসনের মাস্টার প্লান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে যা যা করার দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে।

প্রথমত: ভোট হবে হলে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ক্যাম্পাসে। হলগুলো এমনিতেই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। ভোটগ্রহণের সময় ছাত্রলীগ যা খুশি তাই করতে পারবে। এখানে বাধা দেয়ার মতো সাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত: গণমাধ্যমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাবি প্রশাসন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। বিষয়টা পরিষ্কার যে ভোট ডাকাতি চাপা দিতেই মূলত ঢাবি প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তৃতীয়ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর সঙ্গে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে রাতেই। বিরোধী প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতেই ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করতে পারে।

চতুর্থত: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনের কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে এটাই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভিসি আখতারুজ্জামানকে বলে দেয়া হয়েছে আপনাকে এই পদে থাকতে হলে সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করতে হবে। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সব সম্পদক পদগুলোতে অবশ্যই ছাত্রলীগের নেতারা থাকতে হবে। আর সদস্য পদ কিছু চলে গেলে সমস্যা নেই।

জানা গেছে, ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার ও ছাত্রলীগকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা সব কিছুই ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্রলীগকে বলে দেয়া হয়েছে তোমরা তোমাদের মত কাজ কর। বাকীটা আমরা দেখবো।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here