খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা ৪ মামলা

0
330

নির্জন কারাগারে এক বছর পূর্ণ করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র কয়েদী খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে কারাগারে প্রেরণ করা হয় তাকে। সেই থেকে তিনি বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ‍

৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুসহ নানা শারীরিক সমস্যা ভুগছেন। কারাগারে খালেদা জিয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়েন, ইবাদত-বন্দেগি ও বই পড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান। একা চলতে পারেন না। আদালতে বা হাসপাতালে আনতে গেলে হুইল চেয়ারই ভরসা।

তার বিরুদ্ধে করা ৩৬টি মামলার মধ্যে চারটির জামিন এখনও বাকি। যে মামলায় খালেদা জিয়া এক বছর আগে কারাগারে গেছেন, সেই মামলায় গ্রেফতারের দেড় মাসের মাথায় জামিন পেলেও তাঁর মুক্তি মেলেনি। এই মুক্তির পথে বাদ সেধেছে আরও ৩৬ মামলা। একটি মামলায় জামিন হলে, সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে অন্য মামলা। আর এভাবেই কেটে গেছে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়ার একটি বছর। তার কারাবাস কি আরো দীর্ঘায়িত হবে, নাকি নাটকীয় কোন পথে তার মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে আটক করে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনটি বাদে সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও কুমিল্লার একটি হত্যা মামলায় তার জামিন নেয়া বাকি আছে। এ ছাড়া অন্য মামলায় তিনি জামিনে আছেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যর অভিযোগে আরও কমপক্ষে ৩০টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মন্তব্য, জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা ওসব মামলা করেছেন। তার মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা।

তার বিরুদ্ধে দয়েরকৃত মামলাগুলির মধ্যে দুটিতে সাজা দেয়া হয়েছে, ১৬টি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। আর বাকি মামলার কোনোটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।

ঢাকার মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা ও নাশকতার ১৩ মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ১০টি মামলায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। যার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি ও দারুস সালাম থানায় ৮টি মামলা। এছাড়া ঢাকার অপর মামলাগুলোর মধ্যে ভুয়া জম্নদিন পালন, ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য মানহানির মামলা এবং ২০১৫ সালে গুলশানে প্রাক্তন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রলবোমা হামলার মামলা উল্লেখযোগ্য।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭টি। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও নাশকতার দুই মামলায় জামিন পেলেই তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার নিম্ন আদালতে আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে আটক করে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনটি বাদে সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও কুমিল্লার একটি হত্যা মামলায় তার জামিন নেয়া বাকি আছে। এ ছাড়া অন্য মামলায় তিনি জামিনে আছেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত সেই আফজালের সঙ্গে দুদকের গোপন সম্পর্ক!


স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানম। নিম্ন পদে চাকরি করেও ২৪ বছরে তারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা যদি ২৪ বছরে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন তাহলে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সম্পদ কী পরিমাণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, হস্তান্তর বা লেনদেন বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেন অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরপরই বিজি প্রেস থেকে গেজেট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আদালতের আদেশ পৌঁছে গেছে। আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও বাংলা দৈনিক অগ্রসরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য আদেশে বলেছিলেন। সে মোতাবেক বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আফজাল, তাঁর স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি মাত্র ৩টি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। অন্য কয়েকটি ব্যাংকে থাকা আবজাল দম্পতির হিসাবগুলো এখনও সচল রয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর গত দুই সপ্তাহেই আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যার মাধ্যমে সরকারি ঠিকাদারি কাজের বিল আদায় হতো সেটিও সচল আছে এবং লেনদেন চলছে। আবজালের নিজের নামে ও তাঁর যেসব নিকটাত্মীয়কে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে তাঁদের হিসাবও সচল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওইসব হিসাব সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দের কোনো আদেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তাঁরা।

আদালতের আদেশের পরও আবজাল দম্পতির ব্যাংক লেনদেন সচল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লেনদেন জব্দের জন্য দুদক মাত্র ৩টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কেন? আফজাল দম্পতিকে তাদের অবৈধ সম্পত্তি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতেই অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়নি দুদক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে শুধু ৩টি ব্যাংকের তথ্য থাকবে কেন? তাহলে নিশ্চয় অদৃশ্য কোনো ইশারায় আফজাল দম্পতির অবৈধ সম্পত্তির সব অনুসন্ধান করেনি দুদক। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আফজাল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছে এসব নিশ্চয় দুদকের জানা আছে। আফজাল দম্পতির সঙ্গে যে দুদক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে এটা এখন পরিষ্কার।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক কমিশনাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এটা করেছে। আফজাল দম্পতিকে অবৈধ টাকা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য কমিশনারদেরও হাত রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ


এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ইয়াবা খাইয়ে ধর্ষণ করল দুই পুলিশ


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ওই নারী জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে সাটুরিয়ায় এলে সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন থানার পাশে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে জোর করে ইয়াবা বড়ি খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করেন। পরে এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে বা মামলা-মোকদ্দমা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরের দিন শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর প্রতিবেশী আরেক নারী জানান, এসআই সেকেন্দার হোসেন তাঁর পূর্ব পরিচিত। একসঙ্গে জমি কেনার বিষয়ে তিন বছর আগে তিনি সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিতে তিনি তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে সাটুরিয়ায় যান। সেকেন্দার হোসেন তাঁদের টাকার বিষয়ে কথা বলার জন্য থানার পাশেই সরকারি ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা এক লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে। আর তাঁর প্রতিবেশীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান সেকেন্দার।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে টেলিফোনের মাধ্যমে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সদর সার্কেলের এএসপি হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে কিছুটা সত্যতা পাওয়ায় শনিবার রাতেই এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজাহারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার ভিকটিম সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ জামালপুরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ৫ শতাধিক অসুস্থ


জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে সুনিত রায় নামে ১৫ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর শিশুটির বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বিকেলে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিশু সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সুরভিত রায়ের পুত্র। আরো ৫ শতাধিক শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে সরিষাবাড়ীর গণময়দান এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে শিশু সুনিত রায়কে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শিশুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর থেকেই বমি ও পাতলা পায়খানায় শুরু হয়। বিকালে তাকে দ্রæত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে শিশু সুনিত রায়ের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীরা প্রথমে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে শিশু মৃত্যুর খবর চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনেক শিশুর বমি, কোন কোন শিশুর পাতলা পায়খানা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ শতাধিক অভিভাবক আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে শুরু করে। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভিড় ছিল। জামালপুর স্বাস্থ্যবিভাগ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করলেও আক্রান্ত অন্যান্য শিশুদের চিকিৎসা ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং চলছে বলে জানিয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর এক শিশু মারা যাওয়ায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপর হয়ে উঠেছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ডাক্তারদের একটি বিশেষ টিম বিকেল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে। খবর পেয়ে নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার প্রতিনিধি মাহফুজা রুমা বিকেল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকার চেষ্টা করলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রভাবশালীরা তাদেরকে বাঁধা দেয়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় বলেন, শিশু সুনিত রায়কে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পরই তার বমি ও পাতলা পায়খানা হয়। শিশুটি আমাদের এক স্টাফের সন্তান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আর কোনো শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়া শিশুর অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর কি কারণে এমন হলো তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

উৎসঃ ‌amadershomoy

আরও পড়ুনঃ ভিন্নমত ও বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের কারণে পদক পেল পুলিশ বাহিনী!


ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মায়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে লুটিয়ে পড়ার ছবিটি দেখে অপরাধীরা ছাড়া আর সবারই বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠার কথা। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরেও দিয়াজের মা ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আমৃত্যু অনশনে বসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হত্যার বিচারের আশ্বাসে তখন তিনি অনশন ভেঙেছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর প্রকাশনায় হত্যায় অভিযুক্ত একজনের বাণী ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসন অনেকটাই সাধিত হয়েছে।

বিচারপ্রার্থী দিয়াজের মা যখন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন, ঠিক তখনই ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় অসহায় অজ্ঞাতনামাদের অবিচার থেকে মুক্তি চাওয়ার আর্তি। ধান বিক্রি করার টাকা খরচ করে পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পেতে জামিনের জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ধরনা দিয়ে বসে আছেন শত শত মানুষ। এঁদের অনেকেই হয়তো এর আগে কখনো ঢাকায় পা ফেলেননি। বছরের শুরু থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে জামিনের আশায় ভিড় করছেন ৪ হাজারের বেশি গায়েবি মামলার আসামি শত শত মানুষ। এঁদের মধ্যে আছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সত্তরোর্ধ্ব প্রায় চলনশক্তিহীন মানুষও, যাঁরা দলবাজির রাজনীতির ধারেকাছেও নেই। এ রকম গায়েবি মামলায় কতজন কারাগারে বন্দী আছেন, সেই হিসাব কারও কাছেই নেই। তবে মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল বলেছেন, দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের প্রতি তিনজনের দুজনই বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। অবিচারের শিকার নির্দোষ জাহালমের তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তিলাভের খবরের পটভূমিতে এসব বিনা বিচারের বন্দীর দুর্ভোগের বিষয়টি মোটেও উপেক্ষণীয় নয়।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও সংবাদ শিরোনামে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে জানুয়ারিজুড়ে নানা ধরনের বিচার-বিশ্লেষণের পর ফেব্রুয়ারির শুরুতে আলোচনায় এসেছে হারকিউলিস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত ক্রসফায়ারের অভিযোগ কয়েক বছর ধরে বেড়েই চলেছে। এই পটভূমিতে ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকজন সন্দেহভাজনের সাম্প্রতিক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ রকম কয়েকটি শিরোনাম হচ্ছে: ‘হারকিউলিস ভিজিল্যান্টে কিলস্ সাসপেক্টেড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (আল-জাজিরা, ৬ ফেব্রুয়ারি), ‘ডেথস অব অ্যাকিউজড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ টায়েড টু সাসপেক্টেড ভিজিল্যান্টে’ (ইউপিআই, ৬ ফেব্রুয়ারি), ‘ইন বাংলাদেশ, এ সিরিয়াল কিলার কলড হারকিউলিস ইজ টার্গেটিং অ্যালেজড রেপিস্টস’ (জি নিউজ, ৫ ফেব্রুয়ারি), ‘হারকিউলিস সাইনস ডেথ ওয়ারেন্টস অব অ্যালেজড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (টিআরটি ওয়ার্ল্ড, ৫ ফেব্রুয়ারি)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসব সংবাদ শিরোনাম বাংলাদেশে আইনের শাসনের দুর্বলতার করুণ প্রতিফলন।

এই সপ্তাহেই সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ। এ সময়ে পুলিশের প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা পেশাগত কাজে কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য পদক ও প্রণোদনামূলক পুরস্কার পেয়েছেন। কেউ কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো পুরস্কৃত হয়েছেন। যাঁরা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যোগ্য কেউ ছিলেন না, তা নয়। তবে অনেক পুরস্কারের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্পষ্টতই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধের পরিপন্থী। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাহিনীর কথিত সাফল্য ও ব্যর্থতার প্রকট বৈপরীত্যের প্রতিফলন আর কী হতে পারে? নিরীহ কাউকে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গাছের ছায়ায় জামিনের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর কানে কি পরিহাসের মতো শোনায়নি?

যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁদের কৃতিত্বের যেসব বিবরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে আছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ, কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক’ সাক্ষাৎকারের জন্য (আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে) গ্রেপ্তারে ‘পেশাগত দক্ষতা’র স্বীকৃতি, ডিজিটাল মাধ্যমে কথিত অপপ্রচার বন্ধে সাফল্য ইত্যাদি। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বৈধ নাগরিক অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও দমন-পীড়নের স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক দেওয়ার ঘটনা এক নতুন দৃষ্টান্ত। দৃশ্যত এর উদ্দেশ্য: ১. পুলিশকে দমনমূলক নীতি অনুসরণে উৎসাহ দেওয়া; ২. সরকারবিরোধী সব দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মধ্যে ভীতি ছড়ানো, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে।

রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রতিবাদ জানানোর শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছে, তাতে সন্দেহ নেই। এর ফলে নাগরিক সমাজে সৃষ্ট উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে যে তারা উদ্বিগ্ন। কেননা, যেসব সাফল্যের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক দেওয়া হয়েছে, সেসব ঘটনার প্রতিটির ক্ষেত্রেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তা’, ‘পক্ষপাতিত্ব’ বা ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ সর্বজন বিদিত।

টিআইবি আরও বলেছে, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধাচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চর্চা সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুযোগ লাভের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাই শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই বাহিনীর প্রতি জনগণের নির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই মুহূর্তে এটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

টিআইবির এই দাবি নতুন নয়। বরং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য একটি আলাদা ও স্বাধীন তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি অনেক দিনের। পুলিশে যেসব সংস্কারের জন্য ২০০৯ সালে সরকার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে সমঝোতা করেছিল, তাতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ছিল। পুলিশ কমপ্লেইন্টস কমিশন বা পুলিশ কমিশন গঠিত হলে পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা কিছুটা খর্ব হবে বলে তাঁরা এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নন, এটা জানা কথা। কিন্তু রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা দুর্ভাগ্যজনক।

গত এক দশকেও আমাদের রাজনীতিকেরা ওই সুপারিশটি বাস্তবায়নের পথে পা বাড়াননি। এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার ছাড়া আর কী হতে পারে? রাজনীতিকেরা এটা ভালোই জানেন যে এ রকম স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে পুলিশকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে নজিরবিহীনভাবে পুলিশকে কাজে লাগানো অথবা নিষ্ক্রিয় করায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মাথায় পুলিশ কর্তাদের পুরস্কারের বিষয়ে তাই প্রশ্ন ওঠা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ কাজ কিংবা জনস্বার্থমূলক ব্যতিক্রমী ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার রীতি সব দেশেই আছে। সাধারণত স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় দিবসগুলোতে এসব পদক দেওয়া হয়। সমাজ-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যেভাবে সম্মান জানানো হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও তাঁদের দায়িত্ব পালনে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতির ন্যায্য দাবিদার। কিন্তু জনমনে যদি এমন ধারণা হয় যে এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক স্বার্থ, বিশেষত দলীয় বিবেচনার ছায়া পড়েছে, তাহলে তা বিতর্কের জন্ম দিতে বাধ্য। এবারের পুলিশ সপ্তাহে বিদেশে দূতাবাসে পদায়ন ও আলাদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মতো বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিগুলোও এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুলিশের সাম্প্রতিক ভূমিকা ও তাদের পুরস্কার ও প্রণোদনার পদক্ষেপগুলো সেই বিতর্ক বাড়িয়েই দিয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক কামাল আহমেদ

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিঃ মাসুদা ভাট্টি-মুন্নী সাহারা চুপ কেন?


নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকালেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছে। একুশে টিভিতে কর্মরত নির্যাতনের শিকার নারীকর্মীরাও মানববন্ধনে বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে গোটা সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোও বুলবুলের এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও বুলবুল এবং তার সহযোগিদের শাস্তির দাবি উঠেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বুলবুলের নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এনিয়ে চলছে সমালোচনা।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, টেলিভিশনের পর্দায় বসে যারা দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় নারীদের অধিকার নিয়ে চেঁচামেচি করেন সেই কথিত সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একুশে টিভির নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় কোনো কথা বলতে শুনা যাচ্ছে না। বুলবুল গংদের শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় নিয়মিতই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন নারী সাংবাদিকরা। কিন্তু মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একদিনও দেখা যায়নি। এমনকি কোনো টকশোতেও এনিয়ে কোনো কথা বলছেন না কথিত এই দুই নারী সাংবাদিক।

অথচ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলার প্রতিবাদে দলবল নিয়ে মাঠে নেমেছিল মুন্নী সাহারা। তাদের ভাষায়-মইনুল হোসেন নাকি মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে তাদের ইজ্জত একেবারে শেষ করে দিয়েছিলেন। এখন তাদের জাত ভাই মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও তার সহযোগিরা নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করলেও সম্মান নষ্ট হয় না।

মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহার নীরবতা নিয়ে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, রাজনৈতিক মহলেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। সবার প্রশ্ন একটাই-এত বড় ঘটনার পরও মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহা এখন চুপ কেন? বুলবুলের বিরুদ্ধে তারা মুখ খুলছেন না কেন? বুলবুলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কি? অভিযোগ রয়েছে, বুলবুল এটিএন বাংলায় থাকাকালীন মুন্নী সাহার সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!


একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here