জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন আইন তৈরির প্রস্তাব সিইসির, খোদ ইসিতেই মতবিরোধ

0
112

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন করে আইন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

বুধবার কমিশনের এক সভায় সিইসি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এ অনেক সংশোধন ও পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন আইন তৈরি করতে কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর বাংলা অনুবাদসহ ৮টি বিধিমালায় সংশোধনী সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদন ইসিতে জমা দেয়া হয়েছে। সংশোধনীসহ ওই বাংলা অনুবাদটি আইনে রূপান্তর করার জন্য কমিশন সভায় তোলা হয়েছিল।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মহল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ রহিত করে নতুন আইন করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। তবে এ নিয়ে খোদ কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয় একটি নতুন আইন করার কথা বলেছেন। তবে আরপিও বাংলায় অনুবাদ হবে নাকি জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন আইন করা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের আগামী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ সংশোধন বা পরিবর্তন করা প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ সংক্রান্ত আইন জাতীয় সংসদে পাস হতে হবে বা রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ বলে জারি হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোন খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেবার আগে রাজনৈতিক দলগুলির সাথে পরামর্শ করতে হবে বা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ইতোমধ্যে যে সকল সংশোধনী প্রস্তাব পাওয়া গেছে সেগুলি বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে যে নির্বচন কমিশন জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে যে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং জনগণের আস্থা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে, সে নির্বাচন কমিশন কোন কিছু জনগণের স্বার্থে বা গণতন্ত্রে স্বার্থ ভেবে করবে তেমনটি আশা করা যায় না।

অনুরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- এর মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ।

এর আগে ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনও নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ তাতে আপত্তি জানিয়েছিল।

এ দিকে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন করে আইন করার প্রস্তাব করার কারণে আরপিও বাংলায় রূপান্তরের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। কমিশন থেকে নতুন সিদ্ধান্ত আসার পর এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানা গেছে।

উৎসঃ ‌পার্সটুডে

আরও পড়ুনঃ মুরাদনগরে চায়ের দোকানে বসে আলিম পরীক্ষা!


কুমিল্লার মুরাদনগরে চায়ের দোকানে বসে আলিম পরীক্ষা দিলেন এক পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার উপজেলার শুশুন্ডা মাদ্রাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে হাবিবুল হক নামে ওই পরীক্ষার্থী বই খুলে আলিম পরীক্ষা দিয়েছেন।

এদিকে ওই পরীক্ষার্থীর চায়ের দোকানে বসে পরীক্ষা দেয়ার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফিকাহ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাকেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বের করে ওই মাদ্রাসার ছাত্র হাবীবুল হক পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের দোকানে পরীক্ষার খাতা নিয়ে লিখতে থাকে। এ সময় কেউ একজন মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণ করে।

পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব গিয়াস উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত উত্তরপত্র বাইরে নেয়ার অভিযোগে হাবীবুল হক নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি সব পরীক্ষার্থীদের খাতা যাচাই করেছি কিন্তু খাতা বাইরে নেয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা আমারও দৃষ্টিগোচর হয়, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দালালের বাসায় ভূমি অফিসের নথিপত্র!


নাম তার শফিউল আজম (৪৫)। পেশায় নামধারী মুন্সি (সার্ভেয়ার)। তার মূল পেশা ভূমি অফিসে দালালি করা। কিছু দিন আগে উপজেলা ভূমি অফিসে দালালি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। কারাদণ্ড ভোগ করার পর থেকে তিনি গাঢাকা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা অভিযান চালিয়ে দালাল শফিউল আজমের বসতঘর থেকে ৪৩টি নামজারি নথি, ৫৭টি নামজারি মামলার নথির মূলপ্রস্তাব ফর্মসহ বিপুল পরিমাণ নামজারি খতিয়ান, দাখিলা এবং ডিসিআর উদ্ধার করেছেন।

শফিউল আজম হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদের ছেলে। অভিযান পরিচালনাকালে আজমকে তার বসতঘরে পাওয়া যায়নি।

ইউএনও রুহুল আমিন জানান, ভূমি অফিসের তহশিলদার ও অফিস সহকারীদের যোগসাজশে রেকর্ড রুমের গুরুত্বপূর্ণ নথি বাড়িতে নিয়ে মানুষকে হয়রানি করতেন আজম মুন্সি। স্থানীয়দের কাছে ভূমি অফিসের ‘দালাল’ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আজম মুন্সিকে ভূমি অফিসের সামনে থেকে আটক করে কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারাভোগ শেষে গাঢাকা দেন তিনি। তবে রেকর্ডরুমের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ তার বাড়িতেই রয়ে যায়। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে এসব কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও বলেন, রেকর্ডরুমের প্রতিটি কাগজ সরকারি সম্পদ। এসব কাগজ কার মাধ্যমে কীভাবে আজম মুন্সির হাতে গেল- তা খতিয়ে দেখা হবে।

আজম মুন্সিসহ যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

প্রসঙ্গত গত ১১ মার্চ দুপুরে ভূমি অফিসের সামনে থেকে শফিউল আজমসহ মো. হারুন নামে আরেক দালালকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না: আল্লামা শফী


কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গণমাধ্যমে প্রচারিত ওয়াজ মাহফিলবিষয়ক প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল হাটহাজারীতে গেলে এ কথা বলেন তিনি।

বৃস্পতিবার দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফী বলেন,কোনো অজুহাতেই আলেমদের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আলেম সমাজ নবীদের উত্তরসূরি। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জাতিকে নির্দেশনা দেয়া তাদের কর্তব্য। শাসক ও জনগণকে নসিহত করা তাদের জিম্মাদারি। কল্যাণের প্রতি আহ্বান জানানো ও অকল্যাণের প্রতিরোধ করতে আলেমদের স্বয়ং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কোনো অবস্থাতেই আলেম সমাজের পক্ষে এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ওয়াজ মাহফিলের তদারকির জন্য আলেমরাই যথেষ্ট মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ওয়াজ মাহফিলসহ দ্বীনের দাওয়াত আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র। এর তদারকির জন্য শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামই যথেষ্ট। ধর্মীয় স্পর্শকাতর এই বিষয়ে অন্য কোনো মহলের হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হবে এবং সরকারকে আলেম সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক, মুরতাদ, কাদিয়ানী যারা ইতিপূর্বে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতা করেছিল, তারাই আবার সরকারকে বিভ্রান্ত করছে।

আল্লামা শফী বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, শাসক ও জনগণ যখন আলেমদের কথা অনুসরণ করেছে তারা সফলকাম হয়েছে। আর যখন বিরোধিতা করেছে, আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন। মানুষের ঈমান-আকিদার হেফাজত করা, মানুষকে পরকালমুখী করা, প্রচলিত শিরক-বিদআত ও কুসংস্কারসমূহ রদ করা এবং শরিয়তবিরোধী সব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভূমিকা পালনের শিক্ষাই দেওবন্দী ধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়গুলো আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

দেশপ্রেম ও জাতির প্রতি ভালোবাসার আদর্শ শিক্ষা দেই। এ জন্য উগ্রবাদ দেশ ও ইসলামবিরোধী সব চরমপন্থার বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহী, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, মুফতী আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মাওলানা রাফি বিন মুনির, মাওলানা লোকমান সাদী, মাওলানা আব্দুর রহিম আলমাদানী, মাওলানা ইয়াকুব উসমানী প্রমুখ।

প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাৎকালে ওয়াজবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নসিহত এবং পরবর্তীতে বৃহদাকারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপস্থিত আলেমদের আল্লামা আহমদ শফী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কারাবন্দি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আরজু মারা গেছেন!


কারাবন্দি এক বিএনপি নেতা মারা গেছেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার নাম এমএ শামীম আরজু।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এরপর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উঠলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে। কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু হয়। তিনি ব্রেইনে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেল সুপার জাকের হোসেন জানান, কারাবন্দি বিএনপি নেতা আরজু অসুস্থ অনুভব করলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে বিএনপি নেতা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিএনপি নেতা আরজুর মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ছিল তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার। গুরুতর অসুস্থ আরজুকে সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কেন তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। সে সময় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হলে হয়তো এমন পরিণতি নাও হতে পারত।

বিএনপি নেতার স্ত্রী হাসিনা শামীম বলেন, বিনা অপরাধে আমার স্বামীকে (আরজু) পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। অসুস্থ অবস্থায় ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন আরজু। কিন্তু কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অথচ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায়। মিথ্যে কলঙ্ক নিয়ে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো। যাদের জন্য তার স্বামীর মৃত্যু হলো তাদের বিচার আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলাম।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এমএ শামীম আরজুসহ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি নেতারা কালেক্টরেট চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যান। ফেরার পথে জেলা এমএ শামীম আরজুসহ বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরের দিন নাশকতা মামলায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। সেই মামলায় আরজু কারাগারে ছিলেন।

উল্লেখ্য, এমএ শামীম আরজু কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সরকারের পরিকল্পিত মামলা থেকে জামিন পেলেন বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম


বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তার আইনজীবী এহেসানুল হক সামাজী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে সাতদিনের রিমান্ড শেষে ৮ এপ্রিল তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জালাল উদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাবিধি অনুযায়ী তাদের চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

গত ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩ তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা যান।

এ ঘটনায় ৩০ মার্চ রাতে বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে ৪৩৬/৩০৪(ক)/৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা (নম্বর ৩৭) করেন। এতে এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন, রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভির উল ইসলামকে আসামি করা হয়।

ওই দিন রাতেই জমির মালিক ফারুক হোসেন এবং ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন এ মামলায় তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভিআইপিদের তল্লাশি শিথিল হবে আত্মঘাতী: টিআইবি


দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সংসদ সদস্যসহ ভিআইপিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশি শিথিল করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অনুরোধ অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে তা অগ্রাহ্য করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আমরা জানতে পেরেছি যে, সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নিরাপত্তা তল্লাশি শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। এই প্রস্তাবে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ এ ধরনের প্রস্তাব সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, বৈষম্যমূলক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘টিআইবি মনে করে, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যরা এমনিতেই নানাবিধ সাংবিধানিক প্রাধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এর বাইরে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সুবিধা বা শিথিলতা প্রদান করা হলে তা যেমন অসাংবিধানিক হবে তেমনি এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য আত্মঘাতীমূলক। তাই সরকার এ ধরনের অনিয়মকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করবে না, আমরা এই প্রত্যাশা করি।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে যাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, এই যুক্তিতে ভিআইপিদের জন্য শৈথিল্যের এ অন্যায্য প্রস্তাব গৃহীত হলে- তা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।’

সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দর দিয়ে ভ্রমণ করেন তখনও এ ধরনের শিথিলতার সুযোগ প্রত্যাশা করেন কিনা এই প্রশ্ন রেখে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো বিমানবন্দরে এর চাইতেও কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির ভেতর দিয়ে কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়া সব যাত্রীকে যাতায়াত করতে হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যদি সেসব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে শিথিলতা না পান, তাহলে দেশের বিমানবন্দরে এই ধরনের সুবিধা প্রত্যাশা করা যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার, তেমনি বৈষম্যমূলক মানসিকতার পরিচায়ক। সম্পূর্ণ নির্দ্বিধায় এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নিরাপত্তা তল্লাশি শিথিলের অনুরোধ জানান কমিটির এক সদস্য। পরে কমিটির সব সদস্য একমত হয়ে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘বেইমান মোকাব্বির’কে অনুষ্ঠান থেকে বের দিলো বিএনপি


সিলেটে বিএনপি ও মহিলা দল নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

বৃহস্পতিবার তিনি সিলেট জেলা পরিষদে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। সেখানে গিয়ে দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ায় বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাদের রোষানলে পড়েন মোকাব্বির খান। পরে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট জেলা পরিষদে বেলা ১১টায় আইডিয়া নামক একটি এনজিও সংস্থার উদ্যোগে ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইনসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান এমপি সেখানে উপস্থিত হন। তখনই উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা তখন আইডিয়া কর্তৃপক্ষকে ডেকে আনেন এবং মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ অনুরোধে আইডিয়া কর্তৃপক্ষ মোকাব্বির খানকে হল থেকে বের করে দেন। এ সময় মহিলা দল নেতারা তাকে লাঞ্ছিত ও অপমান করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, কোনো বেইমানের সঙ্গে আমরা অতিথি হতে পারি না। বেইমানের কোনো ধর্ম নেই, সমাজ নেই। বেইমান শুধু বেইমান-ই। তাই মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ নেন মোকাব্বির খান। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এরআগে শপথ নেয়ার দুইদিন পর গত ৪ এপ্রিল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘ধমক’ শুনে বেরিয়ে যান মোকাব্বির খান।

এদিন মোকাব্বির খান চেম্বারে এসে ড. কামালকে সালাম দিতেই তিনি চরম রাগান্বিত হয়ে বলেন- আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পাল্টান মোকাব্বির খান। দলীয় চাপের মুখে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তবে ওই দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ শপথ নেন গণফোরামের আরেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

প্রসঙ্গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকাব্বির খান। তিনি সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন। এই আসনে প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উন্নয়নের জোয়ারে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পড়েছে!


শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়- দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। শেখ হাসিনা প্রতি সপ্তাহে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০-১০০ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন। শেখ হাসিনার নামে করা উন্নয়নের সাইনবোর্ড লাগানো নেই এমন এলাকা এখন বাংলাদেশে কমই আছে। তার দাবি-তিনি মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যুৎ দিয়েছেন, গ্যাস দিয়েছেন, ঘরবাড়ি করে দিয়েছেন, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি দিয়েছেন, গ্রামের মহিলাদের হাতে মোবাইল দিয়েছেন, ইন্টারনেট দিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবাসহ আরও অনেক কিছু তিনি করে দিয়েছেন। এ সবই নাকি ছিল তার বাবার স্বপ্ন।

দেশের মানুষও এখন সরকারের এত সেবা পেয়ে সারাদিন খুশিতে ঠেলায় ঘুরে বেড়ায়। সমস্যা হলো বেড়াতে গিয়ে মানুষ আর নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে না। আবার অনেকে নিরাপত্তহীনতার কারণে বাইরে যেতেও ভয় পায়। দেখা গেছে, দেশে এখন প্রতিদিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ, যৌনহয়রানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজি, গুম, অপহরণসহ সামাজিক অপরাধ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রায় দিনই বখাটে ছেলেদের কর্তৃক যৌণ হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। জীবনের ভয়ে প্রতিবাদও করা করতে পারে না তারা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত কিংবা এসিড ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে। শুধু বখাটে ছেলেই নয়, শিক্ষকদের দ্বারাও এখন ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।

সর্বশেষ উদাহরণ হলো-ফেনীর মাদরাসা অধ্যক্ষের রোষানলের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নুসরাত। বলা যায়, দেশে এখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই। এমনকি বর্তমানে নিজেদের বাসার ভেতরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। প্রায় দিনই দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে মাকে বেধে মেয়েকে ধর্ষণ করছে কিংবা মেয়েকে বেঁধে মাকে ধর্ষণ করছে। এছাড়া প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার ছুরিকাঘাত বা হত্যার শিকারও হচ্ছে অনেকে।

এছাড়া, দেশে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পোশাক কারখানায় ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবি মেয়েরাও। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এক কথায় বলা যায়-বর্তমানে দেশের নারী সমাজ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরতে পারবে সেই গ্যারান্টি এখন নেই।

এরপর, দেশে এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। এখন আর রাতে নয়, দিনের বেলাতেই রিক্শা, সিএনজি থামিয়ে ও পথচারীদের গতিরোধ করে সব কিছু লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত। আর রাতের বেলা নেমে আসে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। এর সঙ্গে চোর-ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষের বাসা বাড়িও। বলা যায়-ঘরে বাইরে সবখানেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীন।

দেশে এখন আরেক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হচ্ছে গুম-অপহরণ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা। নিখোঁজ হওয়া মানেই লাশ হয়ে ফিরে আসা। বিশেষ করে দেশে এখন শিশু ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোররা বেশি অপহরণের শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফেনী ও চলতি সপ্তাহে ঢাকার ডেমরায় দুইটি স্কুল পড়ুয়া শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পাওয়া গেল তাদের লাশ। এমন ঘটনা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঘটছে। ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ এখন চরম আতঙ্কে আছে।

এসব সামজিক অপরাধের সঙ্গে আছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মানুষের জমি দখলের ঘটনা।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরকার বিরোধীদল দমনের কাজে ব্যস্ত রাখায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সরকার বিরোধীদল দমনের প্রতিই বেশি মনোযোগী। সরকার দেশের এমনই উন্নয়ন করেছে যে, একজন নাগরিকের এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি হুমকিতে পড়তে পারে’


ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড হুঁশিয়ারি উচ্চারন করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক শাসন ও জবাবদিহিতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া না হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হুমকীর মুখে পড়তে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সফর শেষে বুধবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর থেকে এক বিবৃতিতে মার্ক ফিল্ড এ মন্তব্য করেন। তিনি গত শনিবার ও রোববার ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এছাড়া তিনি রাজধানীর এক হোটেলে ‘সুশাসন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে মার্ক ফিল্ড প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিগত জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করেন।

লন্ডন থেকে দেয়া বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতে আমি দুই দেশের গভীর সম্পর্ককে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায় তার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। কমনওয়েলথের আওতায় আমরা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযাগিতার ইস্যুসমূহ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় জনগনের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং মানবপাচাররোধে একসাথে কাজ করছি।

মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসাবে আমরা গণতান্ত্রিক শাসন ও জবাবদিহিতা ইস্যুতে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের বিকাশ ও সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহারে এ সব ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই আরো অনেক কিছু করতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্ক ফিল্ড। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলাপ করেন।

সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময়ে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকরা তাদের উদ্বেগের কথা জানান। মার্ক ফিল্ড মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণে বাংলাদেশের যাত্রা এবং অব্যাহত অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে ব্রিটেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা সফরকালে মার্ক ফিল্ড ব্রিটিশ কাউন্সিলে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন নিয়ে আলোচনা করেন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকার পক্ষের গণমাধ্যম খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে নোংরামি করছে’


দুর্নীতি মামলায় দণ্ড হওয়ার পর গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। তবে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখভালের জন্য দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমাও তার সঙ্গে ওই কারাগারে আছেন। সর্বশেষ চিকিৎসার জন্য গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হলে তার সঙ্গে ফাতেমাকেও দেখা যায়।

সম্প্রতি ফাতেমাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে বেসরকারি টিভি, যেখানে ফাতেমার বাবা রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার রয়েছে। ফাতেমা কারাগারে ঢোকার পর খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার পরিবার কোনো টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। টাকার অভাবে ফাতেমার দুই সন্তান এখন স্কুল ছেড়ে মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে থাকা তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে নিয়ে খবর প্রকাশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আজকে বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী অসুস্থ। হাসপাতালে আনার পরে সরকারি ডাক্তাররা বলছেন, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার, তার চোখে অস্ত্রোপচার, তার সামনে লোক থাকা দরকার। ফাতেমা নামে একটি মেয়ে তার সাথে থাকেন, তিনি বাইরের সেলে থাকেন। তাকে (ফাতেমা) নিয়ে সরকারের পক্ষের গণমাধ্যম এত নোংরামি করতে পারে! আজকে সুবর্ণচরে মা ধর্ষিত হয়েছে, তার বাবার সাক্ষাৎকার সেই গণমাধ্যমে নেওয়া হয় না কেন, আজকে কবিরহাটে যে মেয়েটি ধর্ষিতা হয়েছে তার বাবার সাক্ষাৎকার তো আমরা দেখি না এই সমস্ত গণমাধ্যমে। আজকে ম্যাডামকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, কত পরিকল্পনার করে, ফাতেমার বাবাকে নিয়ে এসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে!’

১০ এপ্রিল, মঙ্গলবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘ফাতেমাকে নিয়ে “নোংরামি করছে” সরকার পক্ষের গণমাধ্যম।

রুহুল কবির এ কথা বললেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলায় ফাতেমার বাবার সংসারে থাকা তার দুই শিশু সন্তান এই এক বছরের বেশি সময় তাদের মায়ের দেখা পায়নি। আর ফাতেমার বেতনের টাকা না যাওয়ায় এই সময়ে সংসার চালাতে তাদের দেনা হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, ফাতেমার সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রিজভী আমার ছোট ভাই, তিনি গুছিয়ে বলেছেন আপনাদের। একটা টিভি চ্যানেলে ম্যাডামের সঙ্গে যে মেয়েটি থাকে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করে, তার বাবাকে দিয়ে একটা সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। ওই চ্যানেলটিকে আমরা চিনি। তাদের প্রতিদিনের খবর দেখেন, অনুষ্ঠান দেখেন, তাহলেই বুঝবেন যে তারা কার জন্য কাজ করে। এই কাজটা তাদের জন্যই করেছে।’

‘আমি সাথে সাথে আমাদের দলের মহাসচিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, ব্যাপার শুনা গেল এটা কী? উনি (মহাসচিব) বললেন যে, শতকরা ১০০ ভাগ মিথ্যা একটা রিপোর্ট প্রচার করা হয়েছে। সম্ভবত গরিব মানুষটাকে কোনোভাবে তারা ম্যানেজ করে নিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে তাকে টাকা দিয়েছিলাম। যা প্রাপ্য ছিল তার চেয়ে অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। নিজে দিয়েছেন উনি বললেন।’

দেশে এত সমস্যা থাকতে এই বিষয়ে খবর প্রকাশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিশাল একটা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অংশ এটি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটা চেষ্টা তো আছেই।’

উৎসঃ ‌প্রিয়

আরও পড়ুনঃ জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের ভোট বিশ্বাস করে না: নজরুল ইসলাম খান


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে বিশ্বাস করে না। প্রহসনের ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যার প্রভাব আগামীতে আরও স্পষ্ট হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিক দলের উদ্যোগে সংগঠনের প্রয়াত কাযর্করী সভাপতি আবদুল কাশেম চৌধুরী, মহানগরের সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল ও রেল শ্রমিক দলের মোহাম্মদ উল্লাহ ভুঁইয়ার স্মরণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বন্দি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলেও এই সরকারের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এটা বুঝতে পেরে তারা ২৯ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ভোটের বাক্স ভরে ফেলেছে। নির্বাচনের দিনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে অনিয়মের ভোট করেছে এই সরকার। ভোটারদেরকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রেখে পুরো নির্বাচন পদ্ধতির উপর তাদের অনীহা সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বন্দি। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমরা চাই-সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এটা তার প্রাপ্য।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাকশাল কায়েম করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল


বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সোমবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ আজ অধিকারহারা, তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ধুলায় লুটিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। চোখের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে কেউ যাতে সাহসী না হয় সেজন্য ক্ষমতাসীন সরকার হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের তৎপরতা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে উপেক্ষা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক দমন নীতির অংশ। এটি গণবিরোধী সরকারের চলমান দমন পীড়ন, মধ্যরাতের নির্বাচনের পরও শেষ হয়নি, বরং আরো তীব্র গতিতে চলছে।

তিনি বলেন, সকল অপকর্ম ও দুঃশাসনের জন্য বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে। জনগণ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here