নির্যাতিত নারীর জবানবন্দি নেবেন নারী ম্যাজিস্ট্রেটরা

0
99

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি নেয়ার দায়িত্ব নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সোমবার এ নির্দেশনা পাঠান।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং ফেনীর কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার মধ্যে এমন নির্দেশনা এলো।

এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিমকোর্টের ‘স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’র সভার সিদ্ধান্ত প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি সেটি অনুমোদন করার পর সোমবার সার্কুলার হিসেবে জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি ওই আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত ওই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নেয়ার বিষয়টি ‘স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ জানতে পেরেছে বলে সার্কুলারে বলা হয়।

এতে বলা হয়, একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নারী বা শিশু ভিকটিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচ বোধ করে। ফলে এ রূপ নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে।

‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক।

তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে এ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন সুপ্রিমকোর্ট।

এ নির্দেশনা অনুসরণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে তা সুপ্রিমকোর্টের নজরে আনতেও অনুরোধ করা হয়েছে সার্কুলারে।

ইউএনডিপির বিচার বিভাগ সম্পর্কিত প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০১০ সালে `স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ গঠন করা হয়।

এর চেয়ারপারসন হলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।

কমিটির সদস্যরা হলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা, হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী।

এ কমিটি বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে এবং বিচারিক সমস্যা দূর করতে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সুপ্রিমকোর্টের কাছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দেননি: মির্জা ফখরুল ইসলাম


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তির জন্য প্যারোলে আবেদন করবেন কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সংক্রান্ত গণমাধ্যমের খবরগুলোকে বেশিরভাগই ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণসভায় (এজিএম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। আজকে একটি ইংরেজি দৈনিক প্যারোলের দিন, তারিখ দিয়ে সংবাদও ছেপেছে। আমি বলছি- এটি ভিত্তিহীন।’ এ সময় তিনি হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকের চাকরি চলে গেছে।

চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে, তবে বেশিরভাগেরই চাকরি নেই।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগোতে হবে।

ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি আবদুল কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি আবদুস শহীদ ও আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইলিয়াস আলীকে ফিরে পেতে ৩ দিনের কর্মসূচি


‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ফিরে পেতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ হওয়ার সাত বছর পূর্তি হবে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থেকে চালক আনছার আলীসহ নিখোঁজ হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। এর পর থেকে নিখোঁজ প্রিয় নেতার সন্ধান দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেতে এখনও আশায় দিন কাটছে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের। ১৭ এপ্রিল ঘিরে প্রতি বছর বিশেষ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

এবার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল বাদ আসর হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকার বরাবর ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের ফেরত পাওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে। এ ছাড়া আগামী ২৯ এপ্রিল বিকাল ৩টায় নগরীর মিরের ময়দানে লা-রোজ হোটেলের কনফারেন্স হলে ‘গুমের অপরাজনীতি ও বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মীকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাহির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আলী।

সোমবার জেলা বিএনপির সহদফতর সম্পাদক দিদার ইবনে তাহের লস্কর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‘সেই বিতর্কিত বিচারক মানিক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন’: ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল নাম উল্লেখ না করে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি মানিকের মিথ্যাচার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সেই বিচারক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আসিফ নজরুলের বাবাকে ‘বিহারি এবং একজন খাস রাজাকার’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মানিকের সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে ড. আসিফ নজরুল ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠাওকের জন্য ড. আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলঃ

“এদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনবরত আমার প্রয়াত পিতা সম্পর্কে মিথ্যাচার করে চলেছেন। তার বক্তব্য আমার বাবা নাকি বিহারি ছিলেন! আমার বাবা প্রয়াত জনাব নূরুল ইসলামের জন্ম এক সাধারণ কৃষক পরিবারে, কুমিল্লার হোমনা থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের মিঠাইভাঙ্গা গ্রামে। উনার বাবার নাম আবদুল কাদের, মা খাদেজা বেগম। নিজ যোগ্যতায় পড়াশোনা করে আমার বাবা একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করেন বাংলাদেশ বেতারের রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

অবসরপ্রাপ্ত সেই বিচারক আগে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে রাজাকার বলেছেন। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর দুই মাস। এ বয়সে কি রাজাকার হওয়া যায়? গতকাল (শুক্রবার) একটি অনুষ্ঠানে তিনি করেছেন নতুন একটি উদ্ভট দাবি। এবার আমাকে নয়, আমার বাবাকে বলেছেন ‘খাস রাজাকার’। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ, এমনকি প্রাথমিক তথ্য ছাড়া সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে এ লোক আমার প্রয়াত বাবার মতো একজন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এসব জঘন্য মিথ্যাচার করে চলেছেন।

এমন মানসিকতার একজন ব্যক্তি বিচারক থাকা অবস্থায় আসলে কী বিচার করেছিলেন তা আপনারা ভেবে দেখেন। তিনি আবার কিছু স্বনামধন্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আমি মনে করি এসব সংগঠনের উচিত না তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব মিথ্যেচার চালানোর সুযোগ দেয়া। নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে এই লোককে বয়কট করা উচিত সবার।”

উৎসঃ ‌ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ নুসরাত হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল(ভিডিও সহ)


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না। এরকম জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল রাফির ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাফির হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে, শাস্তি পাচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত এর দায় সরকারসহ গোটা জাতিকে বহন করতে হবে। এ সময় রাফি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বিএনপি নয়, পুরো জাতি সংকটে আছে। এ বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই, রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসন ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা অন্যায় করতে ভয় পায় না এখন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো কথা হয়নি। এ নিয়ে সরকার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি আবু তাহের দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ তারা জানে ভোট চুরি করে তারা সংসদে গেছে : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন একটি মামলায় ৫ বছর সাজা দেয়ার পর ৫/৭ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত করা সম্ভব । কিন্তু ১৪ মাস অতিবাহিত হলে ও বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ আদালত রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত নয়। নিন্ম আদালত ঠিক ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেনা। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা যুবদলের পরিচিতি ও বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ।

জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন খানের পরিচালনায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু,মোঃ শাহাজাহান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন।

বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোরতাজুল করিম, দপ্তর সম্পাদক কামরুর জামান দুলাল,চট্রগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তি,নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি,সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঃ রহমান,বিএনপি নেতা ভিপি জসিম,আবুনাছের,ছলিম উল্লা বাহার হিরণ,শাহা জাফর উল্লা পলাশ,যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী, আঃ জাহের,আরাফাতের রহমান হাছান,নিজাম উদ্দিন ফারুক, আনিছ আহমেদ হানিফ, আঃ মতিন লিটন প্রমুখ।

মওদুদ আরো বলেন ৩০ ডিসেম্বর কোন নির্বাচন হয়নি, আগের দিন রাতে ভোট কেন্দ্র দখল করে নির্বাচন কমিশন ,প্রশাসন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে ,তা দেশের কোটি কোটি মানুষ জানে ।

তিনি বলেন যারা এভাবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে বসে থাকে তারা দুর্বল। তারা জানে ভোট চুরি করে তারা সংসদে গেছে। বর্তমানে বিরোধী দল বলতে কিছু নেই। সরকার ও বিরোধীদল চায় না। দেশে রাজনীতি শূর্ণতা বিরাজ করছে । তা থাকবেনা । তা কেটে যাবে। মওদুদ আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকে খুন, গুম হামলা মামলার পরও বিএনপির শত বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা খাঁটি সোনা তাদের রাজনীতি থেকে বিরত করা যাবেনা। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি কর্মীদের সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌এদেশে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে: সেলিম


নুসরাত জাহান রাফির নৃশংস হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘এটা এমন দেশ যেখানে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। আর সরকার বা সরকারি দলের লোকের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা মাফও পেয়ে যায়।’

নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে শনিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বঙ্গভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সিপিবির সভাপতি আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সেলিম বলেন, ‘এটি শুধু সিপিবির কর্মসূচি নয়, এটি দেশের সব মানুষের কর্মসূচি। দল মত নির্বিশেষে সব মানুষ এতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে নারী নির্যাতন দূর করবে।’

নুসরাত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কোনও বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়, এদেশে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। এসব ধর্ষণের শিকার হয় মূলত শিশুরা। কারণ অপরাধী জানে এদেশে কোনও অপরাধেরই বিচার হয় না। সরকার আর সরকারি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেই সব অপরাধ মাফ।’

তিনি বলেন, ‘এইসব অপরাধীরা যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের সঙ্গে যোগ দেয়।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর রাফির মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় গ্রেফতার সিরাজদ্দৌলা এখন রিমান্ডে আছেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এসময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার চারদিন পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘বিশ্বের স্বৈরাচারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ’


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

শনিবার( ১৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

নজরুল বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। যে দেশে ধনী দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, আমার মা বোনরা কারো দ্বারা লাঞ্ছিত হবে না। সে ধরনের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সে বাংলাদেশে যখন ফ্যাঁসিবাদ কায়েম হয়, এটা আমার কথা না। স্বৈরাচার কায়েম হয়, এটাও আমার কথা না। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে বহাল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আবার আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে সংবিধানে পুনর্বহাল করেছে। যদি তাই হয় তবে দেশে তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রচলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে আমরা কি করছি? বাংলাদেশের সবাই জানে এটা একটা মুক্তবাজারের দেশ। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রেস কনফারেন্স করে সেটা জাতিকে জানিয়েছে যে তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করেন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আর সংবিধানে লেখা সমাজতন্ত্র এই যে দ্বিমুখী নীতি এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মাদরাসাছাত্রী নুসরাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনতো মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে দেখি না। আজকে আমরা শুনি নুসরাতকে যারা লাঞ্ছিত করেছে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা আছে। তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাথে সখ্যতা ক্ষমতাসীন দলের। আমরা দাবি করবো, নুসরাতকে লাঞ্ছনাকারী সে যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু হবে কিনা জানি না।’

খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করে নাই। তিনি কোন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি এবং আদালতে যেসব সাক্ষী প্রমাণ, তা প্রমাণ করতে পারি। কিন্তু তাকে জেল দেওয়া তো বন্ধ করতে পারি না। কারণ, আজকে আইন বিভাগকে পর্যন্ত সরকার তাদের অধীনস্ত করে ফেলেছে। এটাই ফ্যাঁসিবাদের চরিত্র। আজকে আমরা রাজনীতি করবো বিএনপির, আমাদের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না। আমার প্রতিপক্ষ হলো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। একটা মিছিল মিটিং করতে গেলে আমার সামনে তো আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় না। এই যে রাষ্ট্রকে বিরোধী রাজনীতির প্রতিপক্ষ বানানো এটাকেই বলে ফ্যাঁসিবাদ, এটাই হলো স্বৈরাচার।’

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, মিয়া মো.আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘বর্তমানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়’


নারী সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমরা এমন একটা সমাজে আছি যেখানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়। যেখানে শ্রমিক তার মজুরি দাবি করলে তাকে সুমনের মতো গুলি খেয়ে মরতে হয়। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আগুনে ঝলসে প্রাণ দিতে হয়। এই সমাজে চাটুকার, দাস মনোবৃত্তির না হলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। এমন সমাজ ও রাজনীতির মধ্যেও আমরা নুসরাতসহ সারাদেশের নারীর নিরাপত্তা, মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িয়েছি।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। শাহবাগে নুসরাতের ছবি হাতে ‘আমরা সবাই নুসরাত, নুসরাত হত্যার বিচার চাই’ এই স্লোগানে নারী সংহতি এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন নারীপক্ষের শিরিন হক, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিল্পী কফিল আহমেদ, অরূপ রাহী, আলোকচিত্রী সাদিয়া রূপা। সমাবেশে নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক পপি রানী সরকার, নারী সংহতির সদস্য রেক্সোনা পারভীন, মান্দাইল জেলার সংগঠক লিপি বেগম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার। সঞ্চালনা করেন নারী সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।

সংহতিতে বক্তারা বলেন, নুসরাতকে হারানোর বেদনা যেমন বোধ করছি একইসঙ্গে তার ওপর যে বর্বর অত্যাচার হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাই। নুসরাত হত্যায় যুক্ত সোনাগাজী মাদরাসার ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, কর্মী নুরুদ্দিন, নূর হোসেন এবং মাদরাসার গভর্নিংবডির সদস্য রুহুল আমিন এবং সেখানকার কাউন্সিলর মকসুদ আলমসহ আরো অনেকে।

এরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এখানে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আশ্রয়ে এই নির্যাতকরা টিকে আছে। মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ক্ষমতাসীনরা ধর্ষক, খুনি-নির্যাতক, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

এখন মানুষ বেডরুম থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে নির্যাতনের শিকার হন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবি তুলেছে, নিরাপদ সড়কের দাবি তুলেছে একইসঙ্গে নিরাপদ বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।

বক্তারা বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করেছে। নুসরাতের পরিবার থানায় মামলা করেছে। নুসরাতের ওপর আগেও একবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে সময় তার বিচার হয়নি। থানার ওসিও এবার নুসরাতের নিপীড়কের পক্ষ নেয়। নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে সোনাগাজী মাদরাসার অধ্যক্ষের সহযোগীরা হুমকি দেয়।

হুমকিতেও যখন নুসরাতের মুখ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি তখন তার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সোনাগাজীতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটিয়েছেন।

সংহতি বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নুসরাতের মতো আরো যত নারী ধর্ষিত হচ্ছে, খুন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সে সবের কোনো বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কারখানার শ্রমিকেরা নিপীড়ক-নির্যাতক-ধর্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। ধর্ষক-নিপীড়কদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কারণ প্রতিবাদ করা ছাড়া বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নাই। তা যদি না পারি তবে নুসরাতের মতো ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে।

বক্তারা বলেন, যেই সরকার একটি নির্বাচন করতে পারে না, অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে, জনগণকে মুখ খুলতে দেয় না, মত প্রকাশ করতে দেয় না, শ্রমিকের কথা বলতে দেয় না- সেই সরকার নিয়ে আমাদের জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ-কারখানার শ্রমিক-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক হতে হবে। ক্ষমতার কাছে ধর্ণা না দিয়ে আমাদের লড়াই করতে হবে। আমাদের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশ থেকে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারী সংহতিসহ বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার নারী ও সব প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় নারী সংহতি। সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহীদ মিলন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশ সংকটে আছে। এই বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মা ফাতেমা আমীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও বাবা মির্জা রুহুল আমীনের কবর জিয়ারতে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে যান।

ফখরুল আর বলেন, বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসনব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা নির্দ্বিধায় অন্যায় করছে। তারা ভয় পায় না এখন।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘এই যে নুসরাত, সে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এই দেশে যে কোনো শাসনব্যবস্থা নেই, আইনের প্রতি মানুষের ভরসা নেই- তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিল নুসরাত।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে বিজিবির গুলিতে স্কুলছাত্রসহ তিন গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় যে মামলা খারিজ হয়েছে সেই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার প্রশাসন, আইন সব নিজ দখলে রেখেছে তার প্রমাণ গরিবের বিচার না পাওয়া। এটা একটা বেআইনি দখলদার সরকার বসে আছে। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here