নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না,বিরোধী দলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার

0
177

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বিশ্বের দেশগুলোতে ঘটা সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুরতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ঘটা নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সংসদীয় কাঠামোর কথা উল্লেখ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ একাধারে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এই নির্বাচন কোন বিবেচনাতেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। একইসঙ্গে ভোটার ও বিরোধীদলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মত নানা অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিশ্বস্থ কিছু সূত্র থেকে হয়রানি, হুমকি, গ্রেপ্তার ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে যা বিরোধী দল ও তার সমর্থকদের স্বাধীনভাবে প্রচারণা ও সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সঠিক সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা পায়নি। শুধুমাত্র ২২ টি সংস্থা আভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।

রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার ও কারাদ- দেয়ার কথাও বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে, তাদের ও জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র সময় সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এ রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃনামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা ¯পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানাভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় রয়েছে নানা ব্যর্থতা। এরমধ্যে রয়েছে, হত্যা, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, সরকারকর্তৃক অযথা গ্রেপ্তার, আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ, বাক স্বাধীনতা হরণ, সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা।

বছরজুড়েই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ থামাতে নানা অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু কিছু অভিযানে সন্দেহভাজনরা নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই এ ধরনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহভাজনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার কথা বলে থাকে। যেখানে তার সতীর্থদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অভিযুক্ত নিহত হন। সরকার এই ঘটনাগুলোকে বন্দুকযুদ্ধ বা এনকাউন্টার বলে আখ্যায়িত করে থাকে। গণমাধ্যমও প্রায়ই একই আঙ্গীকেই খবর প্রকাশ করে থাকে। মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, বন্দুকযুদ্ধের অনেক ঘটনা আসলেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড। দেশের আভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্টস সোসাইটি জানিয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০০ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। অধিকার নামে আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মোট ৪১৫টি বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর আগের বছরের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে প্রায় ২৩০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো ১৭০০০ জনকে। মানবাধিকার সংস্থা ও সুশীল সমাজ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ।

মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যমতে গুম ও অপহরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর বেশিরভাগের সঙ্গেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জড়িত। এসব ঘটনা রোধ ও তদন্তে সরকারি উদ্যোগ তেমন ছিল না। অধিকার জানিয়েছে গত বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৮৩টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল প্রকার নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ বা শাস্তিকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারপরেও গোয়েন্দা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত সন্ত্রাসী ও বিরোধী দলের কর্মীদের থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য নির্যাতন করে থাকে। অধিকার জানিয়েছে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে অন্তত ৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছে। এ ছাড়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের কারাগারের দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত আসামী রাখা হয়েছে, এগুলোতে সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা নেই ও শৌচাগার সুবিধারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে প্রায়ই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে কয়েদিরা। এই পরিবেশের কারণে গত বছর মোট ৭৪ কয়েদি মারা গেছে।

১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চাইলেই কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। প্রায়ই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে এ আইন দেখিয়ে থাকে। সংবিধান অনুযায়ী আটক কেউ তাকে গ্রেপ্তারের কারণের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্তু সরকার সাধারণত এ ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে না। সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো সরকারকে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী নয় এমনকি সুশীল সমাজ ও বিরোধী নেতাদের জোরপূর্বক গুমের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।

রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার ও কারাদ- দেয়ার দাবিও করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে, তাদের ও জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে মার্কিন রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেল-সেন্সরশীপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃণামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা ¯পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানা ভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখনো দুর্নীতি। ২০১৮ সালে টিআইবির জরিপ থেকে জানা যায়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই বাংলাদেশের সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ সংস্থা।

যৌতুকের বলি ৩৫ নারী, বাল্যবিবাহ নিয়ে পাল্টাপাল্টি

মার্কিন রিপোর্টের সেকশন সিক্স এ বঞ্চনা, সামাজিক অপব্যাহার এবং মানবপাচারের বিষয়টি ওঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে এসব ক্ষেত্রে নারীরাই সবচেয়ে বেশী ভিকটিম হচ্ছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে শেরপুর জেলার একটি ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়Ñ ধর্ষণ মামলায় আটক হওয়ার ৪ ঘন্টার মাথায় পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ আল-হেলাল। তিনি ওই অভিযুক্ত থেকে মুক্তি পেতে ভিকটিমের পরিবারকে ১৮ হাজার টাকা যা ২১১ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ দিতে চেয়েছিলেন। ভিকটিম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি পর্যন্ত দায়ের করতে পারেনি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসির অসযোগিতার কারণে। তিনি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অবশ্য আদালতে অভিযোগ দায়ের হয় এবং হেলালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। বাংলাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম তার ঘটনাটিই প্রকাশ করেন না পরবর্তী হয়রানী এবং ঝামেলার ভয়ে।

তাছাড়া সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের বাধা-বিপত্তি তো আছেই। তবে আশার দিক হচ্ছে, ২০১৫ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ধর্ষণ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং অন্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশের যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা মার্কিন রিপোর্টে স্থান পেয়েছে। বলা হয়েছে সামাজিক ওই ব্যাধিকে ‘হার্মফুল ট্রাডিশনাল প্র্যাকটিস’ হিসাবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত বছরে ৩৫জন নারীকে যৌতুকের জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। তাছাড়া গুরুতর আহত হওয়ার ৪১টি কেস রেকর্ড হয়েছে। যৌন নির্যাতনের বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশে এ বিষয়ে কঠোর আইন ও আদালদের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আইনের প্রায়োগিক দুর্বলতার কারণে ঘটনাগুলো ঘটেই চলেছে। কিছু ঘটনা এমনও আছে যে, এটির কারণে কিশোরীরা স্কুলে এবং কাজে যাওয়া ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়। নারীদের পদে পদে বঞ্চনার অনেক ঘটনাও রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। শিশুদের জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষা, তাদের নির্যাতন এবং অনুপযুক্ত কাজে ব্যবহারের (অপব্যবহার) বিভিন্ন ঘটনার বর্ননা যা গত বছরের রেকর্ডভুক্ত হয়েছ তা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন এবং আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারের তৎপতার বিষয়গুলো সেখানে স্থান পেয়েছে। বাল্য বিবাহ এবং জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনাগুলোও রিপোর্টে স্থান পেয়েছে। সেখানে ইউনিসেফের মূল্যায়ন এবং সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাল্টাপাল্টি অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ১০ বছর সাজা থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে আপিলে তার জামিন প্রার্থনাও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার পক্ষে এ আপিল করেন।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রায় দুইশ পৃষ্ঠার এ আপিল দায়েরের কথা নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, ‘আপিলে বলা হয়েছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের শুনানির সুযোগ না দিয়ে হাইকোর্ট এক তরফাভাবে রায় দিয়েছেন। যা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।’ বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল আরও বলেন, ন্যায়বিচার হলে তিনি এ মামলা থেকে খালাস পেতেন। এজন্য তিনি আপিল দায়ের করেছেন।আশা করছি, আপিল বিভাগে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদার সাজা বাড়াতে দুদকের আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে পাঁচ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল খারিজ করে দেন। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরই ওইদিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। নেয়া হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানেই এক বছরের বেশি সময় ধরে আছে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আরও ৭ বছর সাজা হয়।

এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দু’জন হলেন— মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতকরা হলেন— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রমনা শাখার সোনালী ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন, যার নম্বর ৫৪১৬। ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডি ডি নম্বর ১৫৩৩৬৭৯৭০-তে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা জমা হয়। পরে খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন আসামির নামে ‘এফডিআর’ করে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উত্তোলন করেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১০৯ ধারা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নম্বর আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এজাহারে ঘটনার সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ থেকে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের যে নির্দেশনা দিলেন তারেক রহমান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রথমবারের মতো স্কাইপিতে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়। রাত ৭টায় বৈঠকটি শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।

বৈঠকে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগসহ শুনেছেন।পরে তিনি নিজের মত দিয়েছেন। তিনি সংকটময় মুহূর্তে নেতাদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।বৈঠক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা নিতে তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে না আসা, তার মুক্তিতে আইনি প্রক্রিয়া, সদ্য সমাপ্ত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবি, উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে করণীয়, দল পুনগর্ঠন, অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন, ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি গাঁটছড়ার লাভ-ক্ষতির নিয়েও আলোচনা হয়।

তারেক রহমান এসব আলোচনা মন দিয়ে শোনেন। শেষ পর্যায়ে তিনি সুচিন্তিত মত দেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট থাকা না থাকা। পাশাপাশি জামায়াতকে বিএনপি জোটে রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এই দুটি বিষয়ে তারেক রহমান নেতাদের বক্তব্য শুনেছেন নিজের কোনো মত দেননি।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমানের উপস্থিতিতে (স্কাইপিতে) বৈঠকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মত দেন যে, বিএনপির রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হতে হবে। এ জন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেছেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন এ আশায় নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা ও বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তখন ওই নেতাকেই তাদের শীর্ষ নেতা হিসেবে মেনে নেয়া উচিত ছিল কিনা এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।

বিএনপি ওই নেতার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে গিয়েছিল, এমন মত দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাদের বাইরে তার (ঐক্যফ্রন্টের ওই নেতা) সিদ্ধান্তে নির্বাচনে যাওয়া হয়েছিল।

বিএনপিকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন শেষ। এ নির্বাচনে যা অর্জন হওয়ার তা হয়েছে। তাই এবার এসব ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিকে বন্ধ করে নিজেদের সমতা বাড়াতে হবে। দলকে গোছাতে হবে। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

দলের আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন একজন সদস্য। এই প্রসঙ্গ উঠলে অন্যরাও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন। তার পর সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়েও তারেক রহমান কিছু বলেননি।

আরেকজন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জামায়াতকে জোটে রাখার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে যে বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। এখন জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। আন্দোলনেও তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় তাদের জোটে রেখে লাভ নেই বলে মত দেন তিনি।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রচার করা হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনও কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন আর তা হচ্ছে না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ওই বক্তব্যের পর সপ্তাহে অন্তত একবার বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বৈঠকে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনেও নামতে হবে। তবে এর আগে দলের বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠন করা জরুরি।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিএনপির নীতি নির্ধারণী বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এল


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রথমবারের মতো স্কাইপিতে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অনেকগুলো বিষয়ে আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত আগে বেশ কিছু বিষয়ে।

বৈঠকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা নিতে তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে না আসা, তার মুক্তিতে আইনি প্রক্রিয়া, সদ্য সমাপ্ত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবি, উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে করণীয়, দল পুনগর্ঠন, অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন, ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি গাঁটছড়ার লাভ-ক্ষতির নিয়েও আলোচনা হয়।

তারেক রহমান এসব আলোচনা মন দিয়ে শোনেন। শেষ পর্যায়ে তিনি সুচিন্তিত মত দেন।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৭টা থেকে বৈঠকটি শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বৈঠকের শেষ দিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

বিএনপির রাজনীতি যেন শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন কেউ কেউ। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের ‘পেটে ঢুকে পড়েছে’ এমন মন্তব্য করে দলটিকে জোটনির্ভর না হয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই।

পাশাপাশি জামায়াত বিএনপির জন্য বোঝা হয়ে পড়েছে, এমন মতও উঠে এসেছে বৈঠকে। বৈঠকসূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

তারেক রহমানের উপস্থিতিতে (স্কাইপিতে) বৈঠকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মত দেন যে, বিএনপির রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হতে হবে। এ জন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেছেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন এ আশায় নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা ও বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তখন ওই নেতাকেই তাদের শীর্ষ নেতা হিসেবে মেনে নেয়া উচিত ছিল কিনা এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।

বিএনপি ওই নেতার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে গিয়েছিল, এমন মত দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাদের বাইরে তার (ঐক্যফ্রন্টের ওই নেতা) সিদ্ধান্তে নির্বাচনে যাওয়া হয়েছিল।

বিএনপিকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন শেষ। এ নির্বাচনে যা অর্জন হওয়ার তা হয়েছে। তাই এবার এসব ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিকে বন্ধ করে নিজেদের সমতা বাড়াতে হবে। দলকে গোছাতে হবে। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

দলের আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন একজন সদস্য। এই প্রসঙ্গ উঠলে অন্যরাও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন। তার পর সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়েও তারেক রহমান কিছু বলেননি।

আরেকজন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জামায়াতকে জোটে রাখার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে যে বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। এখন জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। আন্দোলনেও তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় তাদের জোটে রেখে লাভ নেই বলে মত দেন তিনি।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রচার করা হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনও কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন আর তা হচ্ছে না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ওই বক্তব্যের পর সপ্তাহে অন্তত একবার বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বৈঠকে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনেও নামতে হবে। তবে এর আগে দলের বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠন করা জরুরি।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিএনপির জেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে স্কাইপিতে যুক্ত হন তারেক রহমান


বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্কাইপিতে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগসহ শুনেছেন। পরে তিনি নিজের মত দিয়েছেন। তিনি সংকটময় মুহূর্তে নেতাদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৭টায় বৈঠকটি শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর বাইরে ডাকসু নির্বাচন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মামলা প্রসঙ্গেও নেতারা বক্তব্য রাখেন। নেতাদের এসব বক্তব্যের সারমর্ম তৈরি করে দুই-একদিনের মধ্যে তারেক রহমানকে পাঠানোর জন্যও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সারমর্ম তৈরি করবেন।

বিএনপির রাজনীতি যেন শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন কেউ কেউ। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের ‘পেটে ঢুকে পড়েছে’ এমন মন্তব্য করে দলটিকে জোট নির্ভর না হয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই।

পাশাপাশি জামায়াত বিএনপির জন্য বোঝা হয়ে পড়েছে এমন মতও উঠে এসেছে বৈঠকে। বৈঠকসূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন একজন সদস্য। এ প্রসঙ্গ উঠলে অন্যরাও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন। তার পর সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা বৈঠকে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনেও নামতে হবে। তবে এর আগে দলের বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠন করা জরুরি।

বৈঠক তারেক রহমান তেমন কথা না বললেও দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের কড়া সমালোচনা


বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কড়া সমালোচনা হয়েছে। ফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতার বিষোদগার করেছেন স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

বিএনপির রাজনীতি যেন শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন কেউ কেউ। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের ‘পেটে ঢুকে পড়েছে’ এমন মন্তব্য করে দলটিকে জোটনির্ভর না হয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই।

পাশাপাশি জামায়াত বিএনপির জন্য বোঝা হয়ে পড়েছে, এমন মতও উঠে এসেছে বৈঠকে। বৈঠকসূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৭টা থেকে বৈঠকটি শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন। তিনি সব নেতার বক্তব্য শোনেন। পরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মত দেন যে, বিএনপির রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হতে হবে। এ জন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেছেন।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর বাইরে ডাকসু নির্বাচন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মামলা প্রসঙ্গেও নেতারা বক্তব্য রাখেন। নেতাদের এসব বক্তব্যের সারমর্ম তৈরি করে দুই-একদিনের মধ্যে তারেক রহমানকে পাঠানোর জন্যও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সারমর্ম তৈরি করবেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল, তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন এ আশায় নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা ও বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তখন ওই নেতাকেই তাদের শীর্ষ নেতা হিসেবে মেনে নেয়া উচিত ছিল কিনা এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।

বিএনপি ওই নেতার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে গিয়েছিল, এমন মত দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাদের বাইরে তার (ঐক্যফ্রন্টের ওই নেতা) সিদ্ধান্তে নির্বাচনে যাওয়া হয়েছিল।

বিএনপিকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন শেষ। এ নির্বাচনে যা অর্জন হওয়ার তা হয়েছে। তাই এবার এসব ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিকে বন্ধ করে নিজেদের সমতা বাড়াতে হবে। দলকে গোছাতে হবে। সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

দলের আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে গেছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও তাদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান কিছু বলেননি।

সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন একজন সদস্য। এই প্রসঙ্গ উঠলে অন্যরাও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন। তার পর সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আরেকজন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জামায়াতকে জোটে রাখার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে যে বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। এখন জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। আন্দোলনেও তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় তাদের জোটে রেখে লাভ নেই বলে মত দেন তিনি।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রচার করা হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনও কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন আর তা হচ্ছে না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ওই বক্তব্যের পর সপ্তাহে অন্তত একবার বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম বাড়াতে গণশুনানির নামে সরকার প্রতারণা করছে: আমীর খসরু মাহমুদ


গ্যাসের দাম বাড়াতে গণশুনানির নামে সরকার প্রতারণা করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বারবার বাড়াচ্ছে। গণশুনানির নাম দিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর থেকে বড় প্রতারণা কী হতে পারে?

সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে খসরু বলেন, ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। তার ওপরে আপনি বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন।

এর ফলে দরিদ্র মানুষ, নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জীবনযাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। যেহেতু সরকারের জবাবদিহি নেই তাই তারা প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, কয়েক শতাংশ মানুষের হাতে বাংলাদেশের মানুষের সব সম্পদ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। এরা হাজার কোটি লক্ষ কোটি টাকার মানুষ হয়ে যাচ্ছে। এরা কারা আমরা সবাই জানি। এদের জন্য সরকারের সব নীতিমালা প্রণীত হচ্ছে। এদের সুবিধার্থে সরকার পরিচালিত হচ্ছে।

খসরু বলেন, এরাই কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য করছে , দেশও পরিচালনা করছে ওরা, দেশের সব নীতিমালা-সিদ্ধান্ত তারাই নিচ্ছে। দেশের মানুষের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারণ মানুষের তো মালিকানাই নেই। এই অবস্থায় গিয়ে আমরা যে পৌঁছেছি এটা হচ্ছে নিম্নগামী একটা যাত্রা। এটা কোথায় গিয়ে ক্রাস করবে আমরা কেউ জানি না।

সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জেবা আমিন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সরকার দিশেহারা হয়ে গেছে এমন মন্তব্য করে খসরু বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) আজকে দিশেহারা। তাদের অ্যাকশন যেগুলো দেখছেন- এগুলো হচ্ছে দিশেহারা অবস্থানের অ্যাকশন। কারণ মানুষ যখন নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে না, তাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ সে রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ করতে পারছে না বিধায় তাকে ধ্বংস করতে চায়। এ জন্য খালেদা জিয়াকে ধ্বংস করতে হবে, তারেক রহমানকে ধ্বংস করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারা জনগণের ভোটে যখন নির্বাচিত হবে না তখন রাতে তাদের ব্যালট বাক্স ভর্তি করতে হবে, পরের দিন তাদের পোলিং স্টেশন দখল করতে হবে এবং সেই কাজ করার জন্য তারা একটি প্রকল্প সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে আপনারা সেটা দেখেছেন।

খসরু বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির সামনে আজকে তাদের (আওয়ামী লীগ) টিকে থাকার সুযোগ নেই। আজকে আমরা (বিএনপি) অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের নেতাকর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা তারা বারবার প্রমাণ করেছে এবং ইদানীং যেসব নির্বাচন হয়েছে সেখানেও তারা প্রমাণ করেছে। বর্তমান সংকটে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নাগরিক কর্তব্য জোরদার করার আহ্বানও জানান তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুরের ভিপি পদ গ্রহণ নিয়ে যা বললেন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল


ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হলে শুধু নুর আর আখতার না, কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরও অনেকেই জিততো বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতি-বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোটা সংস্কার আন্দোলনের অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে দেখতে বলেন।
তাহলে ভিপি পদে নুর ও আখতার কীভাবে জিতল সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক।

গতকাল (১২ মার্চ) ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর চমক দেখান কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর।

জালভোট, কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া আর বাকি সব প্যানেল ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করলেও পরদিন সকালে দেখা যায় সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন কোটা আন্দোলনকারী নুরুল হক নুরু ও এই প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কোটা আন্দোলনকারী আখতার হোসেন।

ফলাফল প্রকাশের কিছুক্ষণ পর সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে ড. আসিফ নজরুল এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেইজে ‘নুরের বিজয়, নুরের শপথ’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে নুরুল হকের ভিপি পদ গ্রহণ করা উচিত হবে কি-না সে বিষয়েও নিজের মন্তব্য দেন।

তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

‘কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফল ভালো করে লক্ষ্য করুন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ব্যালট ভরা বাক্স উদ্ধারের পর ছাত্রীদের তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়লে নতুন প্রভোষ্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ ছিল না সেখানে। ফলাফল? ১৩টির সব আসনে পরাজিত ছাত্রলীগ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে ডাকসু ও বাকী সব হলের ফলাফল হয়তো তাই হতো। ডাকসুতে শুধু নুর আর আখতার না, জিততো কোটা আন্দালনের আরো অনেকে।

বিভিন্ন আলামত দেখে এটা মনে হয় যে কোটার অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নুর আর আখতারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান এতো বিশাল ছিল যে কারচুপি করেও তাদের হারনো যায়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুরের কি ডাকসু ভিপি পদ গ্রহন করা উচিত?

আমার মতে কোটা আন্দোলনের নেতারা সবাই যদি রাজী থাকে তাহলে তার ডাকসু ভিপির পদ গ্রহন করা উচিত। ডাকসু ভিপি হিসেবেই হয়তো ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করা সম্ভব।

তবে নুরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোটা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে। বাম বা ছাত্রদলের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতো যদি তারা কোটার নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করতো। তারা এটি করেনি।

নুরের মধ্যে আমি দেখি তরুন বয়েসের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারন ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই নেই।’

(ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু’র ফলাফল গণভবন থেকে নির্ধারিত: শামসুজ্জামান দুদু


ভোট ডাকাতি, জবরদখল ও হামলা-হুমকির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন থেকে নির্ধারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারমান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

বুধবার ( ১৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্যোগে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম তম কারাবন্দি দিবস ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল উৎপাদনের ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডাকসুতে কোন নির্বাচন হয়নি মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন তো হয় নাই। এখানে আবার ভোটের সংখ্যা কি? কে বেশি, কে কম, কার কত ভোট এসব আলোচনা কেন? ভোট তো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যা চে‌য়ে‌ছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (গণভবন) যা চেয়েছে তাই হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা কি আমাদের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা কি বায়ান্নোর আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা কি ঊনসত্তরের বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তরের বিশ্ববিদ্যালয়, নব্বইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা শেখ হাসিনার আমলের বিশ্ববিদ্যালয়।’

দুদু প্রশ্ন রেখে বলেন,‘ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সর্বশেষ যত বড় মিছিল করেছে এত বড় মিছিল ছাত্রলীগ করতে পেরেছে কি? ১২ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল যত বড় মিছিল করেছে ১২ বছর ছাত্রলীগ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে না পারতো তাহলে ছাত্রলীগ নামের কোন সংগঠনই থাকত না।’

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘নূরকে আনা হয়েছে এটা নিয়ে এত সম্মান করার কিছু নেই। এটা ছাত্রলীগেরই একটা অংশ। সকালে এক কথা দুপুরে বলে আরেক কথা বিকেলে আবার আরেক কথা বলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমরা ছিলাম যা বলেছি তাই করেছি। ৯০ এর আগে ডাকসু নির্বাচনে কারা জিতেছিল? জিতেছিলো ছাত্রদল। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকতে দেয়া হয়নি। যারা সর্বশেষ ডাকসুর পদে ছিল তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ১২ বছর ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন,‘ছাত্র সমাজকে উঠে দাঁড়াতে হবে ফ্যাঁসিবাদের বিরুদ্ধে। আমি বলছি না এটা খুব সহজ লড়াই। এ লড়াইটির প্রতিটি পদক্ষেপ হবে হিসাবি, প্রতিটি কৌশল হতে হবে সুচিন্তিত, প্রতিটি লড়াই হবে ভয়হীন, তাহলে আপনারা জয় লাভ করতে পারবেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন,‘তারেক রহমানকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে এই সরকারের পরিবর্তন ছাড়া তা সম্ভব নয়। যদি বেগম জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে হয় এই সরকারের পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব না। কেউ যদি মনে করেন অনুনয়-বিনয় করে ভারতের কাছে গিয়ে এই সরকারের কাছে গিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন ,এটা সম্ভব নয, লড়াই ছাড়া গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব না।ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে দুদু আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়া যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ হাসিনা তখন দেশে ফিরে এসেছে। খন্দকার মোশতাক যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ হাসিনা তখন কিন্তু দেশে ফিরে আসতে পারেনি। তার (শেখ হাসিনা) আজন্মের চাচা ছিলেন খন্দকার মোশতাক। তার আমলে কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি।খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী পরিষদের ৪০ জনের ৩৯ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের। শেখ মুজিবের কাছের লোক। তখনো কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন নাই। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় ফিরে এসেছেন। আর সেই শেখ হাসিনার আমলে তারেক রহমান দেশের বাহিরে, বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের ভাষায় কারাদণ্ডিত হয়ে কারাগারে। এটাই হচ্ছে শেখ পরিবার ও জিয়া পরিবারের পার্থক্য।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী,নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মইনুল ইসলাম,আলিম হোসেন, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন,আব্দুর রাজি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

রকে ভিপি করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা!


নজিরবিহীন দখল, জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, জালভোট আর বিরোধী প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যদিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। এরমাধ্যমে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আরেকটি প্রহসন দেখলো দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের ভোটডাকাতি ও জাল জালিয়াতির ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঢাবি প্রশাসন ও সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ঢাবির ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটার মধ্যেও ভোটডাকাতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তারা অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করে নতুন করে তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন। ঢাবি ভিসি, প্রোভিসি ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ কথা বলছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচনকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় বলে আখ্যাদিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম সংস্করণে সংবাদ ছাপা হয়েছে যে, ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। কেউ আবার শিরোনাম করেছে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল। কিন্তু, রাত ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করছেন, ব্যাপক জালিয়াতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে সীমাহীন ভোটডাকাতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় সরকার। শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগকে জেতানো। ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠবে এটা সরকারেরও ধারণা ছিল না। ছাত্রলীগ ছাড়া সবগুলো ছাত্রসংগঠন ভোট বর্জন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুপুর থেকেই আন্দোলনে নামে। ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মনিটর করা হচ্ছিল। কখন কি হচ্ছে সব কিছুর আপডেটই প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।

এরপর রাত ১ টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। হয়তো নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে অন্যাথায় আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপরই আ.লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এ নিয়ে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই সময়ই কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ভিপি পদ দিয়ে ছাত্রআন্দোলন দমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বামজোটের অবস্থা ভাল না। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এজন্য কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে শান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকেও এ নিয়ে চুপ থাকতে বলেন শেখ হাসিনা । আর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি রাব্বানীকেও বলা হয়েছে প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভ অবরোধ করার জন্য। এরপরই রাত সাড়ে ৩ টায় নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাবি ভিসি। এ ঘোষণার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগ।

এদিকে, পুরো ঘটনাটিই যে সরকারের তৈরি খেলা ছিল সেটা মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেই ফেললেন যে, পরিবেশ ঠিক রাখতে কোনো কোনো সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। নেতাকর্মীদেরকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরই টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন। তাৎক্ষণিক আলোচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তারা। মূলত ছাত্রআন্দোলনকে থামাতেই সরকার এই নাটকটি করেছে।

কিন্তু, নুরসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ ছাত্ররা ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা অবিচল রয়েছেন। ইতিমধ্যে চারজন প্রার্থী নতুন নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। সাধারণ ছাত্ররাও লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অপরদিকে, ভোটডাকাতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা আজ একাধিক বৈঠক করেছেন। কারণ, নুরকে ভিপি করে স্বস্তি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলনের মতো এটা আবার ভিন্নদিকে মোড় নেয় কিনা এনিয়ে টেনশনে আছেন শেখ হাসিনা।

সরকার মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। এছাড়া সরকারবিরোধী মহল থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে উস্কে দিতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিটাকে সরকার একটা সংকট হিসেবেই দেখছে। তবে, পরিস্থিতি কখন কোন দিকে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা সব সময়ই খোঁজ খবর রাখছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছেঃ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার


ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা ঘটেছে, তা প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণেই ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, তা ঘটেছে। ব্যালট পেপারে ভোটের আগে সিল দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। যা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ডাকসু নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। যে কোনো নির্বাচন কর্তার ইচ্ছার কর্ম হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সঠিক পথে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাসন’ প্রতিষ্ঠা করে তাহলে সব সময় নির্বাচন ভালো হবে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ‘সুশাসন’ অনেক পরের ব্যাপার। আগে ‘শাসন’ নিশ্চিত করতে হবে। সেটি দেশেই হোক, প্রতিষ্ঠানেই হোক, সর্বাগ্রে তা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে হবে, আগামীতে যখন নির্বাচন হবে, অতীতের যে সব ব্যত্যয়, বিচ্যুতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে, ভবিষ্যতে যেন তা না ঘটে।

তিনি বলেন, দলের অনুগত, অনুসারী থাকবেন, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ দলের জন্য ক্ষতিকর। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যা ঘটেনি, এমনকি কোনো সামরিক স্বৈরাচারের আমলেও যা ঘটেনি, ভোটের আগে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এটি এখন শনাক্ত করা গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানাবিধ অনিয়মের কথা আমরা শুনেছি। বিশেষ করে উপাচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে যারা শিক্ষক পর্যবেক্ষক দলে ছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যার ফলে নির্বাচনে অনিয়ম এবং বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনের দৌরাত্ম্য, সব মিলিয়ে এই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেন অপছায়া যেন ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের তিলক দিয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবুও আশাবাদী হতে চাই, সর্বশেষ পরিস্থিতির বাস্তবে যে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা যেন সামগ্রিক পরিস্থির ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, একমাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন বর্জন যে কেউ করতেই পারে। কিন্তু কেন করেছে-সেটাই লক্ষ্যণীয়।

এটা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, এতদিন নেতা তৈরির কারখানাটি বন্ধ ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে সে কারখানা খুলে গেল। এই কারখানায় যারা শ্রমিক হিসেবে এলেন, তারা কেমন নেতা তৈরি করতে পারবেন? তারা কতটুকু নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ থেকে গেল।

প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বলেন, শুধু ডাকসুতে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়া দরকার। শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচন হওয়া দরকার। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো দল বা গোষ্ঠী ভিত্তিক নয়, সব ছাত্র সংগঠনের ছাত্রছাত্রী মিলে একটি সংগঠনে দাঁড়াবে। সেখান থেকে নির্বাচন হবে।

নির্বাচিত ভিপিকে ছাত্রলীগ সভাপতির অভিনন্দন জানানো এবং একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা ইতিবাচক রাজনীতির অংশ। নির্বাচন যাই হোক, নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতাকে আমি স্বাগত জানাই। এটা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত।

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here