আওয়ামীলীগের আমলে এসব কি হচ্ছে? নির্বাচন, নাকি নির্বাসন?

0
144

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম- কনগ্রেচুলেশনস! কিন্তু পরদিন শুক্রবার যুগান্তর শিরোনাম করেছে- ‘নিরুত্তাপ ভোটে মেয়র হলেন আতিকুল’।

অপরদিকে প্রথম আলো লিখেছে, ‘অনাগ্রহের ভোট, আতিক এগিয়ে’। নিন্দুকরা বলছে, পত্রিকা দুটি খুবই বেরসিক, সবকিছুতেই খুঁত না ধরলে পেটের ভাত হজম হয় না। আমরা সাধারণ মানুষ তা মনে করি না। আমরা মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করি, আমেজ-উদ্দীপনা-অংশগ্রহণ-স্বতঃস্ফূর্ততার বিচারে নির্বাচনকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে। এতে আপাত লাভালাভির বিষয় হয়তো থাকতে পারে; তবে ভবিষ্যৎ বিচারে তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। সমালোচনাকে উড়িয়ে দিতে সরকারি তরফ থেকে অনেকেই ‘নাথিং হ্যাপেন্ড’ বলতে পারেন; কিন্তু তা হবে দায়সারা মন্তব্য।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ২ হাজার। তার মধ্যে ভোট পড়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ২৬, যা শতাংশের হিসাবে ৩১.৫। ছোটবেলায় শুনেছি ক্লাসের পরীক্ষায় পাস মার্কস ৩৩%। ৩১% পেলে স্যার দয়া করে ২ মার্কস দিয়ে দিতেন- সেটাকে বলতাম ‘গ্রেস মাকর্স’। সিইসির দয়া আছে; কিন্তু গ্রেস মার্কস দেয়ার ক্ষমতা নেই। অতএব ফেল মার্কসই সই।

এই ৩১-কেও অনেকে বিশ্বাস করতে চান না, তাদের মতে, এ হার ২৮ শতাংশের বেশি নয়। তবে এ তর্কে না গিয়েও বলা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল সর্বনিু। সাম্প্রতিক সময়ে আরও চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়ে গেছে। রাজশাহীতে ভোট পড়েছিল ৭৮ শতাংশ, গাজীপুরে ৫৭ শতাংশ, খুলনায় ৬২ শতাংশ এবং সিলেটে ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ সব কটিতেই ৫০ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ ছিল। আগামী দিনগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও কমে যাবে বলে সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ভোটারদের এ অনাগ্রহের কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ২ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিকে এ নির্বাচনে কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না।

অন্যদিকে গত সাধারণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় জনগণের মনে হয়েছে, তারা ভোট দিল কী দিল না, তাতে ফলাফলের কিছু যাবে আসবে না। ক্ষমতাসীনরা যে ফল চায়, তা তারা কোনো না কোনোভাবে তৈরি করবে। তাই জনগণ নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা না হলেও অহিংসতার ভেতর দিয়ে এমন কিছু ঘটেছে যা ভোটারদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করেছিল যে, নির্বাচনের আগের মধ্যরাতে ৬০ শতাংশ ভোট সরকারি দল ‘সিল’ মেরে নিয়েছে; ভোটের দিন ভোটারদের গোপনে ভোট দেয়ার পরিবর্তে নৌকার এজেন্টদের সামনে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে; বিরোধী দলের প্রচার কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমনমূলক আচরণ করেছে; আগের রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে ইত্যাদি।

সরকারি দল এসব অভিযোগ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশন কোনো আমলেই নেয়নি; কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে ‘ডাল মে বহুত কালা হায়’।

এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে ভোটার না আসার দায় নির্বাচন কমিশনের নয়। এ দায় রাজনৈতিক দলগুলোর এবং প্রার্থীদের’ (যুগান্তর, ০১.০৩.১৯)। দায় কার সে কথায় আমরা নাইবা গেলাম। কিন্তু ‘না আসার’ যে একটা দায় কারও না কারও আছে সেটা সিইসির মন্তব্যে বেরিয়ে এসেছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের মাঠে তো এখন নির্বাচন কমিশন আর আওয়ামী লীগ- অন্য কোনো প্রাণী তো ডিসেম্বরেই ক্ষান্ত!

তাহলে দায়টা হয় নির্বাচন কমিশনের, না হয় সরকারি দলের, উভয়ের বাইরে তো যাওয়ার সুযোগ নেই। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনকে আওয়ামী ঘরানার না বলতে পারেন; কিন্তু আওয়ামীবিদ্বেষী নিশ্চয়ই বলা যাবে না।

এ নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহ সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে যায়নি। কারণ, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মানুষ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে’ (প্রথম আলো, ০১.০৩.১৯)। যে কোনো দল চাইবে যে কোনোভাবেই হোক ভোট অনুকূলে আনতে। সে জন্য যা যা করা দরকার (তা যত অনাকাক্সিক্ষতই হোক) তাই করতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে তার বাহিনী মেধা, সততা আর দক্ষতা দিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। যদি সেটা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সারা নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।

‘নির্বাচন আসে, এবং মনে করা হয় যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিণামে যা পাওয়া যায় তা মোটেই গণতন্ত্র নয়, সেটা হচ্ছে নির্বাচিত স্বৈরাচার। আর সাধারণ অভিজ্ঞতা এটাই যে স্বৈরাচার যদি নির্বাচিত হয়, অর্থাৎ নিজেকে বৈধ করে নেয় তবে তা অবৈধ স্বৈরাচারের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে।

কেননা বৈধ স্বৈরাচার নিজেকে বৈধ মনে করে, ভাবে সে জনগণের রায় নিয়ে এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে, যতটা সম্ভব আইন চালাবে, পাঁচ বছর পর দেখা যাবে জনগণ তাদের কাজ পছন্দ করেছে কী করেনি’ (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ‘গণতন্ত্রের অভিমুখে’, পৃষ্ঠা : ১১০)।

গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ আশাব্যঞ্জক উন্নয়ন করেছে- এ কথা কেউ বললে আমি তার সঙ্গে নিশ্চয়ই দ্বিমত করব না। আবার কেউ যদি বলেন, গত দশ বছরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আশঙ্কাজনক অবনমন হয়েছে তাতেও দ্বিমত করার সুযোগ থাকবে না। অনেকেই বলতে পারেন, গত চার দশকের কথা বিবেচনায় নিলে চীনের তুলনায় ভারতে অধিকতর গণতন্ত্রের চর্চা হয়েছে; কিন্তু ভারতের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে চীন এগিয়েছে চোখ-টাটানোর মতো।

তাই আওয়ামী লীগ শুধু উন্নয়নের গানটাই বেশি গাইতে পছন্দ করে। অন্যদিকে বিএনপি আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে আমলেই নিতে চায় না, শুধুই রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি সামনে আনছে।

অথচ গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একই সঙ্গে চলতে কোনো বাধা নেই বরং চলাই উচিত। এ বিষয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘উন্নয়নকে যদি বৃহত্তর অর্থে দেখি, তাহলে তার কেন্দ্র হচ্ছে মানুষের জীবন। এভাবে দেখলে এটা পরিষ্কার হয় যে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্কটাকে শুধু তাদের বাহ্যিক সম্পর্কের দিক থেকে দেখলে চলবে না, বরং দুটোর অন্তর্নিহিত ঐক্যকেও দেখতে হবে।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা ‘উন্নয়নের জন্য অনুকূল’ কিনা- কখনও কখনও এ প্রশ্নও তোলা হয়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে উন্নয়নের ‘অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ’ (‘নীতি ও ন্যায্যতা’; পৃষ্ঠা: ৩৮৫-৮৬)। সুতরাং একটাকে আরেকটার প্রতিপক্ষ ভাবার কোনো কারণ নেই।

অনেকেই হেঁয়ালি করে বলেন, সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এটা কোনো গৌরবের কথা নয়। একজন মানুষ সম্পর্কে যদি মূল্যায়ন করা হয়, তার দ্বারা একটি নিষ্পাপ শিশুকে আদর করাও সম্ভব আবার ঠাণ্ডা মাথায় শিশুটিকে খুন করাও সম্ভব- এ চরিত্রের মানুষ আমাদের কাম্য নয়। অবশ্যই আপনার একটা পজেটিভ আইডেন্টিটি থাকতে হবে। কথায় বলে, বসার জায়গা চষতে হয় না।

আপনাকে কোনো না কোনো বিষয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ এর আগে ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর দেশ শাসন করেছেন। অনেকে তাকে স্বৈরাচারের তকমাও দিয়েছেন। তবে সাধারণভাবে বলা হতো, মালয়েশিয়ায় মাহাথিরের কথাই শেষ কথা। ১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মিচেল রকার্ড মালয়েশিয়ায় মাদক চোরাচালানের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ফ্রান্সের নাগরিক মিস বেট্রিসে সাওবিনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদকে একটি অনুরোধপত্র পাঠান।

জবাবে অপারগতা প্রকাশ করে মাহাথির লেখেন, ‘…আর তাছাড়া পরবর্তী সময়ে (সাওবিন) আবার ক্ষমার আবেদন করা হলে পেনাং রাজ্যের পার্ডনস বোর্ড (Pardon’s Board) আবেদন নাকচ করে দেয়। খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, মিস সাওবিনের ব্যাপারে কোনোরকম সাহায্য করতে পারছি না। বিচার বিভাগীয় কাজে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার আমার নেই’ (ডা. মাহাথির’স সিলেক্টেড লেটার্স টু ওয়ার্ল্ড লিডার্স; পৃষ্ঠা: ৪৩)। তার মানে হল ডা. মাহাথির যা খুশি তাই করতে পারেননি; কিন্তু আমরা মনে হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘যা খুশি তা করে’ ফেলেছি। এটা কেউ স্বীকার করুন বা না করুন।

আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিএনপির তুলনায় অনেক বেশি সংহত। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একটি দলের অস্তিত্ব ধরে রাখতে জবরদস্তির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। নিজেদের দুর্বলতাগুলো আস্তে আস্তে কাটিয়ে তুলে মানুষের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাস্তব উপলব্ধির দ্বারা নির্বাচনবিমুখ আমজনতাকে নির্বাচনমুখী করার সব দায়িত্ব এখন সরকারকেই নিতে হবে। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

লেখকঃ মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আগের রাতে সিল মারা বন্ধ করতেই ইভিএম ব্যবহার হবেঃ সিইসি নুরুল হুদা</h3

পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে * রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করতে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার শুরু করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে শুক্রবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, সমাজের মধ্যে একটার পর একটা অনিয়ম অনুপ্রবেশ করে, আবার সেটি প্রতিহত করতে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আমরা এখন চিন্তা করছি, এগুলোর দরকার নেই। ইভিএম শুরু করে দেব, তাহলে সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।

রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, কারা সেজন্য দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা কমিশনের নেই। কী কারণে, কাদের কারণে এগুলো হচ্ছে, কারা দায়ী তা বলারও কোনো সুযোগ নেই। সবাই মিলে বিষয়টি দেখতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি হবে।

কেএম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনে গোপনীয় কাগজ নেই, গোপনীয় শলাপরামর্শ নেই, গোপনীয় কোনো বিষয় নেই। শুধু গোপনীয় একটি কক্ষ আছে, যেখানে ভোটাররা ভোট দেবেন। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। তথ্য-উপাত্ত, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু ভোটার ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

নির্বাচনে প্রক্রিয়ার ক্রমধারা তুলে ধরে সিইসি বলেন, সমাজে নানারকম অসাধু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের জালিয়াতি প্রক্রিয়া প্রতিহত করতে আবার একটি আইন বা নিয়ম তৈরি হয়। ভোট দিতে হতো আগে সামনে, তা না দিয়ে এখন ভোট দিতে হয় বাক্সে। তারপর হল- যিনি ভোটার না, ভোটার তালিকায় তার নাম দেয়া। এরপর এলো ছবিযুক্ত ভোটার, এখন তাতেও কাজ হয় না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আইন আরও কঠোর হচ্ছে। এখন আমাদের আচরণবিধি তৈরি করতে হয়, নির্বাচনে আইন প্রণয়ন করতে হয়, কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। তারপরও সামাল দেয়া যায় না। এ পরিস্থিতি ও অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার।

সিইসি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন দেশে আছে সেনাবাহিনী নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়োজিত হন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ পর্যায়ের ব্যবস্থা এটা। সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিষয়ে মোতায়েন করার কথা নয়। নির্বাচন করতে যাবে রাজনৈতিক দল, যারা দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ দেশের মালিক, তারা ভোট দিতে যাবেন এবং আমরা যারা দায়িত্বে থাকব, আমরা নির্বাচন পরিচালনা করব। ভোটাররা ভোট দেবে, ভোট দিয়ে চলে যাবে, কোনো সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এজন্য আইন-আচরণবিধি করতে হচ্ছে, কঠোর অবস্থায় যেতে হচ্ছে। তবুও সামাল দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষায় যে অবস্থায় আমরা রয়েছি, হাল ছেড়ে দিলে হবে না, যে যেখানে রয়েছে সেখান থেকেই প্রচেষ্টা নিতে হবে। আমরা সবাই মিলে দেখব, একদিন উন্নতি হবে, অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে আপনাদের ভূমিকা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার ভূমিকাও আপনাদের রয়েছে। আপনাদের আচারে, আচরণে, ব্যবহারে, কার্যক্রমে যখন একটা অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের কোনো পক্ষ নেই। তাদের পক্ষ হল- নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কে কোন দল করে, কার প্রভাব বেশি, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী- এসব মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে হবে।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে হেরে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যে জিতে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই হেরে যাওয়া আর জিতে যাওয়ার মাঝে আপনাদের দুর্বল থাকা চলবে না।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মেননের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মান্ধরা (হেফাজত) আবারও মাঠে নেমেছেঃ নাসিম

হেফাজতে ইসলামকে ধর্মান্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ সমাবেশকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের ‘ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তথাকথিত ধর্মান্ধ একটি দল’ আবার মাঠে নেমেছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছে মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাশেদ খান মেনন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। পার্লামেন্টে তিনি বক্তব্যে যে কথাটি বলেছেন, সেই কথাটির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আজকে একটি তথাকথিত ধর্মান্ধ একটি দল আবার মাঠে নেমেছে। তারা তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, রাশেদ খান মেনন একটি গণতান্ত্রিক দলের প্রধান। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি কোনোভাবে ধর্মকে নিয়ে কোনো কটাক্ষ করেন নাই। তিনি বরং প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এর মাধ্যমে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়া না হয়। কোনো ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করা না হয়, এটা তিনি স্পষ্ট বলেছেন। কিন্তু তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আজকে এই চেনা মহলটি আবার মাঠে নেমেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসিম বলেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই- এই ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। কারণ আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করি। যার যার ধর্ম সে পালন করবে, এটা বিশ্বাস করি। এটা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ একাংশের কার্যকরি সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল, জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা ও মেননের বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাকা (ভিডিও সহ)

আজ ঢাকায় কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এবং ইসলামি শিক্ষা, ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও কওমি মাদরাসা সম্পর্কে বিষদগার করায় বামনেতা রাশেদ খান মেননের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগরের আহবানে এই সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের, তাদের যারা কাফের মনে করে না তারাও কাফের। রাশেদ খান মেনন তাদের পক্ষ নিয়ে কওমি মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলেছে, তারাও তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত।

ভিডিওঃ কাদিয়ানীরা কাফের, তাদের সমর্থনকারীরাও কাফের। রাশেদ খান মেননরা মারা গেলে তাদের কোন জানাজা হবে না।


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, এ দেশে কওমি মাদ্রাসা সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং অন্যায়মুক্ত দেশ গড়তে অবদান রাখছে আলেমরা। তাদের নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানো সাহস তারা কীভাবে পায়।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করছি। না হলে এ দেশের তাওহিদি জনতা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন,শাহরিয়ার কবিরসহ মেননের মতো আরও যারা নাস্তিক রয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি জনতা কঠোর অবস্থানে যাবে।

তিনি আরও বলেন, রাশেদ খান মেনন মারা গেলে তার জানাজা ও মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। মেনন-ইনুদেরকে এ দেশের মাটি গ্রহণ করবে না।

কাদিয়ানীদের অমুসলিম দাবি হেফাজত মহাসচিব বলেন, কাদিয়ানীরা ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা তাদের এবাদত খানাকে মসজিদ বলতে পারবে না। এ দেশে হিন্দু, খৃষ্টান বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম নিয়ে নিরাপদে আছে। কাদিয়ানীরাও আলাদা ধর্ম হিসেবে থাকবে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে থাকতে পারবে না।

ভিডিওঃ হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা।


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত রক্ষা করতে বুকের তাজা রক্ত দিতে হলেও আমরা দেব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা রাশেদ খান মেননের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। ইসলাম ও ওলামাবিদ্বেষী মেনন ও ইনুদের এবারের মন্ত্রিপরিষদে না রাখায় সরকারকে স্বাগত জানানো হয় সমাবেশ থেকে।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ বিন হাফেজ্জি, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুরের পীর), মাওলানা আবদুল লতিফ নিজামী, মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সূত্রঃ যুগান্তর, ইসলাম টাইমস২৪

আরও পড়ুনঃ জাতির সাথে ‘প্রতারণা’ করেছেন সুলতান মনসুরঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর</h3

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোনো নেতা ছিলেন না। তার শপথ নেওয়ার ঐক্যফ্রন্টের কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া বিএনপি তাদের আগের সিদ্ধান্তেই রয়েছেন। তারা সংসদে যাচ্ছেন না।’

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর সমধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী নির্যাতন, খুন ও গণধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে নারী দিবস এমন এক সময়ে আমাদের মাঝে এসেছে যখন বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি নিগগৃহীত হচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের কথা আজকে একজন নারী যিনি বাংলাদেশের নারী জাগরনের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছেন, মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই দখলদার সরকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, জনগণের অধিকারকে বঞ্চিত করে, ক্ষমতা দখল করেছে। এই সরকার আজকে সমস্ত জাতির উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা আজকে আমাদের মা বোনদেরো রেহায় দিচ্ছে না। তাদেরকে নির্যাতন করে কারাগারে পাঠাচ্ছে। আজকে আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি আমাদের নেত্রী বেগম জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনীতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। যিনি দীর্ঘকাল নারীদের জন্য সংগ্রাম করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা দখলদারী সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোন সরকার নয়। আজকে সম্পূর্ণ বেয়াইনীভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের মতো জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। জনগণের সমস্ত অধিকার বঞ্চিত করে তাদেরকে দমন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে তাদের লাঞ্চিত করা হচ্ছে। আজকে এই নারী দিবসে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, নারী সমাজের আন্দোলনকে আরো বেগমান করতে চাই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের গনতন্ত্রের মুক্তি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মুক্তির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। নারী সমাজের মুক্তিও বেগম জিয়ার মুক্তির সাথে জড়িত। তাই আসুন এই দিনে আমরা শপথ করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই। এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্টা করি। তাহলেই নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এসময় আরও বক্তব্য দেন-সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, সহ-সভাপতি জেবা খান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সুলতান মনসুরের শপথে ‘আওয়ামীলীগের টাকা-পয়সার লেনদেন’ দেখছেন ডা. জাফরুল্লাহ

ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অনৈতিক কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া এখানে আওয়ামীলীগের সাথে তার টাকা-পয়সারও লেনদেন থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ ধরনের মন্তব্য করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন, এখানে টাকা পয়সারও লেনদেন থাকতে পারে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথ পাঠ করান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মৌলভীবাজার -২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন গণফোরাম নেতা সুলতান মনসুর।

শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি সুলতান মনসুরের প্রাথমিক সদস্য পদও বাতিল করা হয়।

শপথ গ্রহণের পর সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর সাংবাদিকদেরকে জানান, জোটের শীর্ষ নেতাকে জানিয়েই শপথ নিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ চকবাজারে কেমিক্যাল গোডাউন থেকেই আগুনঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন</h3

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউন থেকেই সূত্রপাত হয়েছে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কিংবা বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে নয়- এমনই দাবি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে।

মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে তার দফতরে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে মোট ৩১টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ৫টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ২৬টি সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ওয়াহেদ মঞ্জিলের দোতলা ভবনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউনে কোনো লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কী ধরনের কেমিক্যালের কারণে এত অল্প সময়ের মধ্যে আগুন এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা নির্ধারণ করতে পারেনি তদন্ত দল। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।

কমিটির বিভিন্ন সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- কেমিক্যালসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স নতুন করে যেন আর ইস্যু না করা হয়। অবিলম্বে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকার সব ধরনের কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, পলিথিন, ব্যাটারি, জুতা, নকল ওষুধ ও প্রসাধন তৈরির কারখানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনের তালিকা তৈরি করা। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব এসব কারখানা এবং গোডাউনের সংখ্যা ও জনঘনত্ব বিবেচনায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত ব্যক্তি ও পরিবারকে সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় স্বল্পমেয়াদি সুপারিশে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার অবৈধ, অননুমোদিত এবং লাইসেন্সবিহীন কারখানার তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- জরুরি ভিত্তিতে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গুদামসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম বা কারখানা সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩ ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা। রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ, বাজারজাত এবং বিক্রির জন্য যেসব লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করা।

উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ওয়াহিদ ম্যানসন ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কেমিক্যাল বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই আগুনের ভয়াবহ লেলিহান পাশের ভবন ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরের দিন সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০০ কর্মী। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের দিনই প্রাণ হারান ৬৭ জন। আহত হোন প্রায় অর্ধশত।

আহতদের মধ্যে গুরুত্বর ৯ জনকে ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এনিয়ে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ নৌকার পক্ষ না নেওয়ায় আমাকে প্রত্যাহার করা হয়েছেঃ নাটোরের গুরুদাসপুরের ওসি

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন ও গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ওসি সেলিম রেজা বলেন, ‌‘নৌকার প্রার্থীর পক্ষ না নেয়ায় আমাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের দুজনকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুর রহিম।

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকার প্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত পরিপত্র মোতাবেক ইউএনও মোহাম্মদ মনির হোসেন ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি স্বাক্ষরিত পরিপত্রের নির্দেশ মোতাবেক গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে ইউএনও মোহাম্মদ মনির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ সারা দেশে ওষুধের দাম লাগামহীন! দেখার কেউ নাই;

১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ ও ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি * ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান খুচরা ব্যবসায়ী ও কোম্পানি প্রতিনিধিরা

নিয়ন্ত্রণহীন দেশের ওষুধের বাজার। ওষুধের প্যাকেটে খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই দামে বিক্রি হয় না। ১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ এবং ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশব্যাপী বৈধ-অবৈধ প্রায় ২ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দামে ওষুধ বিক্রি করছেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

এই চক্র দেশের সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যসন্ত্রাস চালালেও নির্বিকার সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। এ ছাড়া ওষুধের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিপণন খরচ মেটাতে সময়-অসময় দাম বাড়ায় ওষুধ কোম্পানিগুলো।

মাত্র ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের। ফলে কারণে-অকারণে ওষুধের দাম বৃদ্ধির নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক সৈকত কুমার কর যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। বিভিন্ন কোম্পানির দাম বৃদ্ধির কিছু আবেদন থাকলেও সেগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়নি।

তবে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে থাকলে বিষয়টি প্রশাসনের জানা নেই। এমনকি তারা কোনো অভিযোগও পায়নি। তিনি জানান, প্রশাসনের কাজ চালাতে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় দেশের সব ওষুধের দোকানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয় না।

অস্বাভাবিক দামে ওষুধ বিক্রির একাধিক তথ্য এসেছে যুগান্তরের কাছে। চলতি সপ্তাহে রাজবাড়ীতে ১২ টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশন ৮০০ টাকায় বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতার দাম ১৫-২০ টাকা।

ঢাকার শাহবাগের একটি দোকানে এই সুতার দাম নেয়া হয় ৬০০ টাকা। যশোরে একটি দোকানে বমির ওষুধ কিনতে গেলে দাম রাখা হয় ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা। এ ধরনের ঘটনা দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্যাটামিন ইনজেকশনের দাম ৮০-১১৫ টাকা কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধের দাম প্রতি পাতায় (ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে) লেখা থাকে না। লেখা থাকে ৫ পাতা বা ১০ পাতার একটি বাক্সে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতা প্যাকেটের গায়ের দাম দেখার সুযোগ পান না। অন্যান্য পণ্যের মতো ওষুধের দাম সম্পর্কে রোগীদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোগীদের মুখ দেখেই একশ’ থেকে দু’শ গুণ দাম বাড়াতেও দ্বিধা করে না অসাধু বিক্রেতারা।

বেশি দামে ওষুধ বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক ওই দোকান মালিককে জরিমানা করেন। রোগী অস্ত্রোপচার টেবিলে থাকায় মাত্রাতিরিক্ত দামে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য হন অভিযোগকারী।

গত মাসে শাহবাগে একটি ওষুধের দোকানে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতা কিনতে যান দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ওই দোকানি ১৫-২০ টাকা দামের সেলাই সুতা তার কাছে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। বোন বারডেম হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কক্ষে থাকায় তিনি দরদাম না করে সুতা নিয়ে হাসপাতালে ফেরেন। সেখানকার নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন দোকানি তাকে ঠকিয়েছেন। পরে ওই দোকানে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে দোকানি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

যশোরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বরে। যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মেসিতে অ্যাপোনসেট নামের একটি বমির ওষুধ কিনতে গেলে দোকানি ওষুধের দাম রাখেন ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা।

দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোনো ওষুধের দাম বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো। তবে ডিসেম্বরের আগে বেশকিছু ওষুধের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মার ওমিডন ২ থেকে আড়াই টাকা, স্কয়ার ফার্মার মোটিগার্ট আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার নিউসেপ্টিন-আর আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, এসিআই ফার্মার অ্যাবেক্যাপ ৫/২০ ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা ও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মার মাইক্রোফ্রি ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা দামে উন্নীত হয়েছে।

তবে এ ধরনের সাধারণ ওষুধের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির অভিযোগে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন বিষেশায়িত হাসপাতালের সামনে ওই সব রোগের ওষুধের চাহিদা অনুসারে দাম বাড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধের প্যাকেটে লেখা দামের কোনো পরিবর্তন হয় না। যখন যে ওষুধের চাহিদা বাড়ে তখন কোম্পানির প্রতিনিধি ও দোকানিরা মিলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার একটি ওষুধের দোকানে দেখা গেছে, ডক্সিভা ২০০ মিলিগ্রাম ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা হলেও একজন ক্রেতার কাছে ৮ টাকা এবং আরেকজনের কাছে ১০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।

ক্রেতাদের কাছে দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, ওষুধের সঠিক মূল্য তারা জানেন না বা জানার চেষ্টাও করেন না। কারণ হিসেবে বলেন, ওষুধ কেনা হয় সুস্থতার আশায়, তাই মূল্য ততোধিক গুরুত্ব পায় না। এ ছাড়া ওষুধ শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ওষুধের কাঁচামাল বা এপিআইয়ের দাম বাড়ার কারণে বাড়ে ওষুধের দাম। পাশাপাশি বিপণন খরচও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তারা জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। দাম বাড়লে কোম্পানিগুলো ঔষধ প্রশাসনে দাম বাড়ানোর আবেদন করে। কিন্তু দাম কমলে তারা আর ওষুধের দাম কমানোর কথা চিন্তা করে না।

এ ছাড়া বিদেশি ওষুধের কারণেও দামের তারতম্য দেখা যায়। যেমন ক্যান্সারের কেমোথেরাপির ওষুধের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। সম্প্রতি কিছু বিদেশি কোম্পানি ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে কমিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার একই কারণে কোনো কোনো ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমাতে হয়েছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত হারসেপ্টিন ওষুধের প্রতি পিসের দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্বাভাবিকভাবে সে ওষুধের দাম কমে বর্তমানে ৯০ হাজার ৪০০ টাকায় নেমেছে। এদিকে দেশে প্রস্তুতকৃত বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের একই ওষুধের আগে দাম ৮০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ওষুধ বিক্রেতারা জানান, দেশে পপুলার, ইনসেপ্টা, রেনেটা ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস ক্যাটামিন ইনজেকশন উৎপাদন করে। সরবরাহ সংকটে বর্তমানে বাজারে ৮০-১১৫ টাকার ইনজেকশনটি ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদনকারী চার প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ইনজেকশনটি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করে। গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত জি ক্যাটামিন ৫০ এমজির প্রতিটি ইনজেকশনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৮০ টাকা, পপুলার ফার্মার ক্যাটালার ৫০ এমজির এমআরপি ১১৫, ইনসেপ্টার ক্যাটারিডের এমআরপি ১১৫ ও রেনেটা কেইন ইনজেকশন প্রতি ভায়াল এমআরপি ১০০ টাকা। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো বেশি দামে ইনজেকশনটি বিক্রি করছেন। কোথাও ২০০ টাকা আবার কোথাও ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো যথেষ্ট কম দামে ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে দোকানিরা যদি নিজেদের মতো করে দামে বিক্রি করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। এটি ঔষধ প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওষুধের গায়ের দাম দেখে নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ কিনতে হবে।

এদিকে ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায়ও ওষুধের দাম বাড়ে। ১৯৯৪-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়- অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম নিজ নিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। ২৪ বছর আগের সেই নির্দেশনা বলে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের ছিল।

এদিকে ১১৭টি ওষুধ সরকারের কাছে রেখে বাকি ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো- এমন প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, দ্য ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ মতে, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। যেখানে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সরকারের কাছে রাখে। বাকি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এটা তো আইনের ব্যত্যয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আবারো সরকারের মিথ্যাচার!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আবারো চরম বেকায়দায় পড়েছে সরকার। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক অস্ত্রধারী যুবক স্ক্যানিং আর দেহ তল্লাশির মধ্য দিয়েই বিমানে উঠে যায়। শাহজালাল থেকে বিমানটি উড়াল দেয়ার পর দুবাইগামী বিমানটিকে ছিনতাই করার চেষ্টা করে ওই অস্ত্রধারী যুবক। এরপরই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বিষয়টিকে খুব ফলাও করে প্রচার করেছে। এঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়ে সরকার। সবশেষে ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকার চরম মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়। হঠাৎ করেই মধ্যরাতে সরকারের পক্ষ থেকে বলায় হয় যুবকের হাতে খেলনা পিস্তল ছিল। বিমানবন্দরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না। পরে সরকারের এই বক্তব্য নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠে।

কিন্তু, ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালে আবারো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের আহ্বায়ক ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন ভুল করে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি ব্যাগে করে বিমানবন্দরে চলে আসেন। কিন্তু, স্ক্যানিং মেশিনে দিলেও সেটা ধরা পড়েনি। পরে ইলিয়াস কাঞ্চন নিজ থেকেই বিষয়টি নিরাপত্তা কর্মীদেরকে জানালে এনিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্যানিংয়ের দায়িত্ব থাকা ৫ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এনিয়ে আবার সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।

ভিডিওঃ ‘বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ প্রবেশ নিয়ে যা বললেন ইলিয়াস কাঞ্চন (ভিডিও সহ)

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু, ঘটনার একদিন পর বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ওই ঘটনা প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন অসত্য কথা বলছেন। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইলিয়াস কাঞ্চনের ল্যাপটপের ব্যাগে থাকা পিস্তল ও গুলি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের অ্যান্টি হাইজ্যাকিং পয়েন্টে স্ক্যান করার সময় তা মেশিনে শনাক্ত হয়। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করেন। তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তাঁকে বিমানবন্দরের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পিস্তলটি বহন করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি ওই স্থান থেকে ফেরত যান। পরবর্তী সময়ে তিনি (কাঞ্চন) যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিমানে চট্টগ্রামে যান।

আর মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যকে অসত্য ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেছেন, স্ক্যানিং মেশিনে তার পিস্তলটি ধরা পড়েনি। তিনি নিজ থেকেই কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিমানবন্দরের ওই সময়ের সিটি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশেরও দাবি করেছেন তিনি।

এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলে কার দাবি সঠিক? সরকার নাকি ইলিয়াস কাঞ্চনের?

তবে, এ ঘটনায় ৫ কর্মীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনা প্রমাণ করে ইলিয়াস কাঞ্চনের দাবি সঠিক। বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক গণমাধ্যমকে বলেছেন, পিস্তল সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিন পার হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নাম এখনই প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রাতেই বরখাস্ত করা হয় বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিনের দায়িত্বে থাকা পাঁচ কর্মীকে।

এখন এনিয়ে জনমনে দুইটি প্রশ্ন বড় করে দেখা দিয়েছে। প্রথমত: ইলিয়াস কাঞ্চনের দাবি যদি অসত্য হয়ে থাকে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্যানিং মেশিনের দায়িত্বে থাকা পাঁচ কর্মীকে বরখাস্ত করা হলো কেন? কিসের ভিত্তিতে তাদেরকে বরখাস্ত করা হলো। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো- বুধবার সকালে ঘটনা ঘটলেও সারাদিন সরকারের পক্ষ থেকে কেন বলা হয়নি যে, ইলিয়াস কাঞ্চন অসত্য বলেছেন। দুইদিন বিষয়টি চাপা দিয়ে রাখা হলো কেন?

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে বলছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও এনিয়ে সরকার ইমেজ সংকটে পড়বে। এজন্য সরকার বিমান ছিনতাইয়ের মতো ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘটনাটিও চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে, মিথ্যাচারের মাধ্যমে বারবার এসব ঘটনা চাপা দিলে সমস্যা আরো দেখা দিতে পারে। এজন্য সরকারের উচিত হবে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল (ভিডিও সহ)

নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে মসজিদের আযান বন্ধ করে দিলো স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল। গত ৩ মার্চ রবিবার বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ রবিবার বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদের পাশেই স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো, এশার নামাজের আজানের সময় হলে ইমাম সাহেব আযান দিতে গেলে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আযান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নৃত্যানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা পৌর মেয়র সুভাস চন্দ্র শীল! তার নির্দেশেই আযান বন্ধ করা হয়।

ভিডিওঃ ‘নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষের ভিতর ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, গান-নাচের অনুষ্ঠানের জন্য আযান বন্ধ করে দেওয়া এটা একটি অন্যায়। এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।

এদিকে এই ঘটনা একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সাবেক একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ভিডিওটি শেয়ার করে “নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে মসজিদের আযান বন্ধ করা হলো” এই শিরোনাম দিয়ে লিখেছেন,

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩রা মার্চ বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদে! মসজিদের পাশেই স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো, এশার নামাজের আজানের সময় (৭:৩০) হলে ইমাম সাহেব আযান দিতে গেলে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আযান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়!

পেশী শক্তির ভয়ে আযান বন্ধ রাখা হলেও এলাকার সাধারন মানুষের পাশাপাশি আওয়ামিলীগের একাংশের মধ্যেও চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, এবং যেটার সম্পূর্ণ দায় গড়িয়েছে সরকারের উপর! কারন ঐ নৃত্যানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা পৌর মেয়র সুভাস চন্দ্র শীল! তার নির্দেশেই আযান বন্ধ করা হয়!

তবে, আমি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এর পুরো দোষ আওয়ামিলীগকে দিতে চাই না৷

ভিডিওঃ ‘নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যতদূর শুনি আপনি সব সময় অজু অবস্থায় থাকেন, সকালে কোরআন তেলওয়াত করেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদ নামাজও বাদ দেন না৷ এক কথায় আপনি একজন ধর্মভীরু মানুষ৷

এসব বাদ দিলেও আপনারাতো ভোট আর ক্ষমতার জন্যেই রাজনীতি করেন তাই না?

৯০ ভাগ মানুষের ভোটের জন্যে হলেও আশা করি আপনি অতিসত্বর এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিবেন৷ ভিডিওটি আমাদের কাছে যিনি পাঠিয়েছেন তাদেরকে সুভাষ চন্দ্র বেশি বাড়াবাড়ি না করবার হুমকি দিয়েছেন৷ যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা দিতে সাহস পায়নি৷

তাই আপনার কাছে প্রশ্ন আপনি কি আপনার দুএকজন নেতা কে বাঁচাবেন নাকি ৯০ ভাগ মুসলমানের জিম্মাদার হিসেবে আ্ল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় করবেন?

উৎসঃ ‌একুশে টিভির একুশে চোখের উপস্থাপক সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here